নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮৭
সুরাইয়া জিয়াসমিন
নুবার এরকম আচরণ দেখে আরহাম নিজেই অগুছালো আচরণ করতে শুরু করলো,নুবাকে নিজের থেকে আলাদা করে বললো
_ এই মেয়ে কি হয়েছে,,,
নুবা ছলছল চোখে আরহামের দিকে তাকালো,,,নুবার চোখে পানি দেখে আরহাম আদুরে গলায় বললো
_ আমায় বলো কি হয়েছে,,বলো,,, এমন অস্থির হচ্ছো কেন,,,
নুবা হিচকি তুলতে লাগলো,,এভাবে নুবাকে কাঁদতে দেখে আরহাম তাকে শান্ত করার জন্য নিজের সাথে জরিয়ে নিলো,,পরপর নুবার কাঁপাতে থাকা ওধর দখল করে নিজের বিচরণ চালালো,, অস্থির নুবা আরহামের সান্নিধ্যে পেয়ে আরো তেতে উঠলো,,,দুই হাত দিয়ে আরহামের গলা জরিয়ে ধরে আরহামের লোয়ার লিপ আঁকড়ে ধরলো,,, আরহাম নুবাকে রেসপন্স করতে দেখে আরো আগ্রহ পেলো,,দুই জন অস্থির হয়ে পড়লো,,,
মিনিট খানিক পর আরহাম নুবাকে ছেড়ে দিলো,,দুই জন হাঁপিয়ে উঠলো,,নুবা বিচলিত কন্ঠে বললো,,,
_ আয়রার পাপা আমি আপনাকেই চাই,, আমার অন্য কাউকে লাগবে না,,
আরহাম নুবাকে ছটফট করতে দেখে বলে উঠলো
_ হ্যাঁ,,,আমি তোমার,,,আয়রা,,আয়রার পাপা তোমার,,, শুধু নুবুর,,
নুবা নাক টেনে ফুঁপিয়ে উঠলো,,,নিজের বাম হাত আরহামের সামনে ধরলো,,,তবে সে বুঝে উঠতে পারলো না কথাটা কিভাবে বলবে আর বলার পর কিরকম ঝামেলা হবে,,
নুবা কি বলবে বুঝে উঠার আগেই হাজেরার হুংকার ভেসে আসলো এই মাত্র মেয়েকে রুমে না পেয়ে খুঁজতে বেড় হয়ে আরহামের সাথে দেখে রেগে গেলেন হাজেরা বেগম,,,
নুবা একটু ভয়ে কম্পিত হলো,,ভীতু চোখে মায়ের দিকে তাকালো,,,,হাজেরা এগিয়ে এসে নুবার হাত ধরে অদ্ভুত কন্ঠে সুধালো
_ তোমাদের কি বলা হয়নি দুইজন দুইজনের থেকে দূরে থাকবে নাকি,,
আরহাম হাজেরাকে প্রচন্ড বিরক্ত হলো,,তবে কিছু বলার আগেই হাজেরা নুবাকে নিয়ে চলে গেলো,
নুবা এক পলক পিছন ফিরে তাকালো,, আরহাম কিছু একটা ভাবতে শুরু করলো,,একটা না একটা ঝামেলা হয়েছে,,,তবে ঝামেলা কি সেটাই খুঁজে বেড় করতে হবে,,,
নুবা গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,হাজেরা রাগি চোখে মেয়ের দিকে তাকিয়ে হাঁসফাঁস করতে করতে সুধালো
_ লজ্জা করে না তোর,,কিরে লজ্জা করে না,,,
নুবার ঠোঁট দুটো কম্পিত হলো,,, মৃদু কন্ঠে বললো
_ আমি ওই মানুষ টার সাথে ভালো থাকবো মা,, তুমি আমাকে বোঝার চেষ্টা করছো না,আমি উনাকে ভুলতে পারবো না,,,
হাজেরা এগিয়ে এসে রাগি কন্ঠে বললেন,,
_ যেভাবে আরাফকে ভুলে গেছিস সেভাবেই আরহামকেও ভুলে যাবি,, সাময়িক আবেগ এই সব,,,আবেগ শেষ হলে সব অশান্তি লাগবে,,এই বিষয় নিয়ে আমি আর একটাও কথা বলতে চাইছি না,,ওই ছেলে থেকে দূরে থাকবি না হলে,,,না হলে আমি কি করবো তোর ধারনাও নেই,,,
পরপর থেমে হাজেরা সুধালো
_ তুই কি ভাবিস আমি কিছু জানি না,,আমি সবি জানি,,তাই তোর ভালোর জন্য এই সব করছি,,
বলেই হাজেরা ওখান থেকে সরে গেলো,,,নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,”আরাফ” এই নামটা,,,নুবা কিছু সময়ের জন্য স্তব,,,তার মানে হাজেরা সব জানে তবে কিভাবে,,
নুবার এবার প্রচন্ড লজ্জা লাগলো,,,এটা ভাবতেই পারলো না সে তার মা সব জানে,,,নুবা ফুঁপিয়ে উঠলো,, চুপচাপ ওখানেই বসে পড়লো,,নুবার চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করলো
_ আমি যা আরাফের থেকে না পেয়েছি,,যেই ভরসা যেই আস্তা টুকু না পেয়েছি তা আয়রার পাপার থেকে পেয়েছি,,,আরাফের সাথে আমার যেই সম্পর্ক না ছিলো তা আয়রার পাপার সাথে আছে,,,কি করে বলবো তোমাকে আমি,,,
২৪ ঘন্টারও নুবাকে আটকে রাখতে পারলো না তার মা,,এতো বুঝানোর পড়েও অবুঝ নুবা শুধু আরহামের নাম জপলো,,,
সকাল সকাল হাজেরা রুম থেকে বেড় হতেই নুবা ফ্রেশ না হয়েই রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,,তখন প্রায় ৮:৩০ নাগাত,,,নুবা আশে পাশে তাকিয়ে ছুটে চললো সিরি বেয়ে,,তার উদ্দেশ্য আরহামের রুম ছিলো তবে করিডোরে এসে পা রাখতেই দেখলো আরহাম এদিকেই আসছে,,পিছনে আমিনা বেগম,,,
সকাল সকাল আরহামকে দেখে নুবার বুকে রাখা পাথর সরে গেলো,,,ছুটৈ গেলে আরহামের কাছে তবে আশ্চর্য যখন ভাবে তাকে আঁকড়ে ধরার আগেই আরহাম নুবার গাল বরাবর একটা বসিয়ে দিলো,,নুবা চম্কে উঠলো,,গালে হাত দিয়ে থ মেরে আরহামের দিকে তাকালো,,,
আমিনা বেগম হঠাৎ থাপ্পরের শব্দ কেঁপে উঠলেন,,,তিনি কিছু বলতে যাবে তার আগেই নুবা মার খেএ মনের দুঃখে কেঁদে উঠলো,,গাল থেকে হাত সরিয়ে আরহামকে জরিয়ে ধরতে গেলো যেনো এটাই তার শান্তির স্থান,,,
নুবার একটু দেরি হয়ে গেছে,,,সারা রাত আরহামকে বিষয়টা না বলতে পারলেও সকাল সকাল আর এই বিষয় আমিনা বেগম চেপে রাখতে পারলো না,,, হারুন মির্জা যখন শাওয়ার নিতে ওয়াশ রুমে ঢুকেছেন তখনি আমনি বেগম ছুটে ছেলের কাছে গেলো,,,
আরহামো কালকের বিষয়টা নিয়ে বেশ চিন্তিত ছিলো,,সে ভেবেছিলো তার মায়ের কাছে জিগ্গেস করবে কিন্তু তার আগেই আমিনা বেগম এসে ছেলেকে সব কিছু খুলে বললো,,
নুবার engagement এর কথা শুনে আরহামের কলিজা কেঁপে উঠলো,,চোখ বন্ধ করতেই কাল রাতে বারবার নুবার হাত সামনে এনে কথা বলার দৃশ্য ভেসে উঠলো,,,তার যেনো বিশ্বাসি হচ্ছিলো না তার সাথে এতো বড় জালিয়াতি করা হয়েছে,,,রাগে গজগজ করতে থাকা আরহাম রুম থেকে বেড় হয়ে কলিডোরে আসতেই দেখলো নুবা আসছে,,তার জন্য একটা থাপ্পর বরাদ্দ ছিলো,, প্রচন্ড অবাধ্য সে,,,তাই তো থাপ্পর টা দিয়ে বসলো,,
নুবা মার খাওয়ার পড়েও আরহামের কাছে আসতে চাইলো,,, আরহাম নুবাকে ঝাড়া মেরে সরালো,,পরপর তার বাম হাত টেনে নিজের সামনে নিয়ে আসলো,,পরপর নুবার হাতের অনামিকা আঙ্গুলে Ring দেখে আরহামের মাথায় রক্ত উঠে গেলো,,,,
আরহাম নুবার দিকে ক্ষিপ্ত চোখে তাকিয়ে সুধালো
_ ওই ছেলেটা পড়িয়ে দিয়েছে,,
আরহামের কথার টন শুনে নুবা শুকনো ঢোক গিলে মাথা ঝুকালো,,”হ্যাঁ” শব্দ টা আরহামের কাছে এতো বিষাক্ত লাগলো যা বলার মতো না,, আরহাম নুবার অনামিকা আঙ্গুল চেপে ধরলো পরপর ক্ষিপ্ত কন্ঠে সুধালো,,,
_ তুই ও ওই ছেলেকে ring পড়িয়েছিস,,,
নুবা ছলছল চোখে মাথা ঝুঁকিয়ে “হ্যাঁ” বললো,,
আরহাম রাগে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো পরপর এতো জোরে স্বর্নের Ring টা চেপে ধরলো যে নুবার হাতে গেথে গেলো,,নুবা ব্যথায় ককিয়ে উঠার আগেই সেই আন্টি আরহাম টান দিয়ে খুলে ছুরে ফেললো,,,, ring হাতের সাথে বেঁধে থাকায় ফের ফের করে নুবার নরম মাংশ কেটে রক্ত বেড় হয়ে আসলো ,,,নুবা হা হয়ে গেলো,,,সাথে সাথে ব্যথায় সে চোখ মুখ খিচে আর্তনাদ করে উঠলো,,, আরহাম নুবার কাটা আঙ্গুল চেপে ধরলো,,,নুবার মনে হলো কাটা জায়গায় কেউ লবনের ছিটা দিচ্ছে,,,
নুবাকে কাঁদতে দেখে আরহাম ধমকে উঠলো
_ চুপ,,একদম কাঁদবি না,,,না হলে গলা দিয়ে বাঁশ ঢুকাবো,,
নুবা কান্নার শব্দ বন্ধ করে হিচকি তুললো,,,ঘটনাটা এতোটাই তাড়াতাড়ি ঘটলো যে আমিনা বেগম কিছু করার বা বলার সুযোগ পেলেন না,,,পরপর আমিনা বেগমের হুস ফিরতেই পিছন থেকে বলে উঠলেন,,
_ ওর কি দোষ আরহাম,,সব তোর বাপ আর শাশুড়ি মিলে করেছে,,,
আরহাম অনুভব করলো আসলেই ওর কি দোষ,,,যেখানে এই দুই ব্যক্তি মিলে তার মতো মানুষ কে বলদ বানিয়ে ফেলেছে সেখানে নুবা সামান্য গুটি মাত্র,,,তবু তার কথা হচ্ছে সে কেনো তার নামের Ring অন্য কারো হাতে পড়াবে,,,ওই ছেলেকা নিশ্চয় নুবার পড়িয়ে দেওয়া ring এখনো পড়ে আছে ভেবেই আরহামের শরীর জ্বলে উঠলো,,,
নুবার হাত কাঁপতে লাগলো,,,এক পলক আরহামের দিকে তাকিয়ে মাথা নিচু করে নিলো,,পরপর এগিয়ে যেএ রক্তাক্ত কম্পিত হাত দিয়ে আরহামকে জরিয়ে ধরে ফুঁপিয়ে উঠে বললো
_ বিশ্বাস করুন,,আপনি ব্যতিত আমার কারো দরকার নেই,,আমি ইচ্ছা করে কিছু করিনি,,
আরহাম নুবার মাথা নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে দাঁতে দাঁত পিষে বললো
_এই আমার সাথে ষড়যন্ত্র মারায়,,সব কয়টা কে গেঁথে রাখবো,,
নুবা আরহামের বুকে মুখ গুজে মিনমিন করে বলে
_ কোনো ঝামেলা করবেন না,,, please,,,
লিভিং রুমের বাতাস যেন মুহূর্তেই ভারী হয়ে উঠেছে। চারদিকে চাপা গুঞ্জন, সবার চোখেমুখে স্পষ্ট রাগ আর বিরক্তির ছাপ। কেউ কারও কথা শুনতে রাজি নয়, একের পর এক তর্কে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। যে-ই কিছু বলতে যাচ্ছে, তাকে উল্টো কঠিন কথার মুখে পড়তে হচ্ছে। পুরো পরিবেশ এমন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যে কাউকে শান্ত করা যেন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। মনে হচ্ছে, সামান্য একটি ভুল পদক্ষেপেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে,,,
_ কোন সাহসে,, আমার সাথে এরকম বাজে একটা খেলা খেললেন আপনারা,,,
আরহামের চিৎকারে পুরো লিভিং রুম কেঁপে উঠলো,, হারুন মির্জা জানতেন এমন কিছু হবে তবে এতো তাড়াতাড়ি আশাও করেননি তিনি,,,,
আরহামের চিৎকারে হাজেরা কিছুটা তেতে উঠে বললো
_ আমার মেয়ে,,আমি দিবো না তোমার সাথে বুঝলে,,,
হাজেরার কথায় আরহাম রুখে গেলো তার দিকে,,, পিছন থেকে নুবা চিৎকার করে উঠলো
_ আরহাম,,আপনি কি করছেন,,,
আরহামের পা থমকে গেলো,,আসলেই তার মস্তিষ্ক কেমন স্তব হয়ে গেছে কি করবে না করবে কিছুই বুঝতে পারছে না,,
হাজেরা নুবার দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে উঠে সুধালো
_ যেই ছেলে তোর মায়ের গায়ে হাত তুলতে রুখে আসে সেই ছেলের জন্য তুই আমার সাথে বেইমানি করলি,,,
নুবা বুঝতে পারে না কি বলবে,,এখন তার নিজের মাথার চুল নিজেরি ছিরতে ইচ্ছা করছে,,এই লোকটা কেনো এরকম কাজ করে,,,
হারুন মির্জা ছেলের কান্ড দেখে এগিয়ে এসে ছেলের কলার চেপে ধরে পিছনে ধাক্কা দিয়ে হুংকার ছেড়ে বললেন
_ বাড়ি থেকে বেড় হয়ে যা,,এক্ষনি,,
আরহাম দিগুন হুংকার ছেড়ে বললো,,
_ যাবো না আমি কি করবে তুমি,,এটা আমার বাড়ি,,,
হারুন মির্জা ছেলের কথায় আরো রেগে উঠে সুধায়
_ তুই বেড় হবি নাকি ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বেড় করবো,,,
আরহাম রাগে ফুঁসতে থাকে,,,পরপর পাশে থাকা সোফায় বসায় এক লাথি,,,সোফা কিছুটা সরে যায়,, আরহাম এগিয়ে এসে নুবার হাত ধরে আর তেজি কন্ঠে সুধায়
_তুই কি আমার সাথে যাবি,,,
নুবা কিছু বলার আগেই হারুন মির্জা বলে উঠে
_ নুবা কোথাও যাবে না তুই বেড় হ এখান থেকে,,,
আরহাম হারুন মির্জার কথা উপেক্ষা করে নুবার দিকে কঠিন দৃষ্টিতে তাকিয়ে গর্জে উঠে বলে
_ কি হলো,,যাবি না তুই,,,
হাজেরা এগিয়ে এসে মেয়ের সাত ধরে আরহামের চোখে চোখ রেখে বলে
_ আমার মেয়ে কোথাও যাবে না,,,
নুবা পড়ে যায় বিপাকে,,,না এদিকে যেতে পারছে না ওদিকে,,,নুবা পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে আরহামের দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে উঠে বলে
_ আপনি কেনো এমন করছেন,,, আপনার সাথে আমার কথা ছিলো আপনি সবাইকে এই বিষয়ে বুঝাবেন,,,তা না করে আপনি চিল্লাচিল্লি করে এরকম পরিস্থিতি তৈরি করছেন,,,,
নুবার কথায় আরো রেগে উঠে আরহাম হুংকার ছেড়ে বলে
_ তাহলে তুই যাবি না আমার সাথে,,,
নুবা উত্তর দিতে পারে না,,,হাজেরা এক টানে মেয়েকে আরহামের থেকে সরিয়ে নিয়ে এসে রাগি কন্ঠে বলে
_ যাবে না ও তোমার সাথে,,,যাবে না,,,
_ যাবে না তো,,ওর বাপো যাবে,,,
বলেই আরহাম এগিয়ে যেএ নুবার হাত টান দেয়,,বেচারি নুবা মায়ের থেকে ছুটে আরহামের বুকে যেএ পড়ে,, হারুন মির্জা এগিয়ে আসে,,রাগি কন্ঠে বলে
_ ওর হাত ছাড়,,,
এদিকে বাড়ির সবাই হতভম্ব,,কি থেকে কি হয়ে গেলো,,,, আরহাম হাত ছাড়ে না নুবার,, বরং আরো চেপে ধরে বলে
_ ও আমার সাথেই যাবে,,, যাবে মানে যাবে,,,
হারুন মির্জা ছেলেকে ধাক্কা দিয়ে সরায়,, আরহাম প্রচন্ড রেগে যায়,,, অভদ্র আরহাম বাপের কলার চেপে ধরে হুংকার ছেড়ে বলে
_ আমি নুবাকে নিয়ে যাবো,,আর মাঝখানে যে আসবে তাকে শেষ করবো,,সেটা তুই হোস না কেন,,,
আমিনা বেগম ছেলের কান্ডে হতভম্ব হয়ে যায়,,, এগিয়ে এসে চিৎকার করে বলে
_ কি করছিস আরহাম,,,মাথা ঠিক আছে,,
হারুন মির্জা ছেলের এরকম অভদ্র আচরণে প্রচন্ড খেপে উঠে,,পরপর ছেলেকে ধাক্কা দিয়ে গালে থাপ্পড় বসায়,,, হঠাৎ আক্রমনে সবাই চম্কে উঠে,,, আরহাম হুস হারিয়ে তেরে আসলে হারুন মির্জার দিকে,,,,
এতো সময় আরাফ চুপচাপ ইশিতার হাত ধরে দাঁড়িয়ে ছিলো,,নাটক দেখছিলো সে তবে হঠাৎ আরহামের এরকম তেরে আসা দেখে হুংকার ছাড়ে সে,, কারণ বাপ হয় তার,,,
আরাফ এগিয়ে এসে স্বজরে আরহামের বুকে ধাক্কা মেরে গর্জে উঠে বলে,,
_ এই সামান্য মেয়ের জন্য তুই আমার বাপের গায়ে হাত তুলবি,,,,
আরহাম আরাফের উপর রেগে যায়,,,বাপকে তো মারবে পারবে না তবে ভাইকে ঠিকি পারবে সেই জন্য এগিয়ে এসে সব জেদ ফলিয়ে আরফের নাক মুখে লাগায় এক ঘুষি,,,
হারুন মির্জা একটু অবাক হননি ছেলের ব্যবহারে কারণ সে জানতেন আরহামের রাগ উঠলে সে জেদে পাগল হয়ে যায়,,বাপ মা কিছুই দেখে না,,,
হঠাৎ আরাফের গায়ে হাত তুলায় ইশিতার কলিজা চুপসে আসে,,,চোখ বড় বড় করে চেঁচিয়ে উঠে বলে
_ কি করছেন,,,
এক পর্যায়ে পরিস্থিতি এক দম বিগরে যায়,,, চিল্লাচিল্লি মারামারি,,,আমিনা বেগমের কোলে থাকা আয়ারার কান্না,,,নুবার কান্না আর চিৎকার,,হাজেরার আহাজারি,,আমিনার হাঁসফাঁস করা,,,সব কিছু মিলিয়ে পরিবেশটা ভয়ংকর হয়ে উঠে,,
এদিকে পরি চুপচাপ এক কোনায় দাঁড়িয়ে আছে কারণ সে নিরপেক্ষ,,তার জিবনী ঠিক নেই এদের ঝামেলায় কেন পড়তে যাবে সে,,,
ইতি মধ্যেই আরাফ অনেক কেলানি খেএ ফেলেছে,, আরহাম যতো জেদ ছিলো সব আরাফের উপর উঠিয়েছে তবে আরফ কম যায় নাকি সেও বাপের দিকে রুখে যাওয়ায় আরহামকে আঘাত করেছে,,
এদিকে ইশিতা হাউমাউ করে কাঁদছে,, কারণ তার প্রান প্রিয় স্বামীর নাক মুখ দিয়ে রক্ত ঝডছে,,,কেউ পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না,,নুবা বারবার চিৎকার করে সবাইকে থামতে বলছে তবে না কেউ তার কথা কানে নিচ্ছে না,,তার নিজেকে দোষী মনে হচ্ছে,,মনে হচ্ছে তার জন্য এই সব হলো,,নুবার নিজের প্রতি লজ্জা হচ্ছে,,,মায়ের কথা শুনতে হয়তোবা তার একটু কষ্ট হতো তবে এই সব ঝামেলা হতো না,,,
হারুন মির্জাও এদের থামাতে পারছে না,, আরাফ হুংকার ছেড়ে বললো
_ তোর সাহস কি করে হয় এই মা** জন্য আমার বাপের দিকে রুখে আসার,,,
ভাই এর মুখে নিজের প্রিয়তমার নামে এতো বড় গালি শুনে আরহাম আরো খেপে গেলো,,আরাফকে ফ্লোরে ফেলে তার উপর উঠে বসলো,,,আনাবরত তার মুখে আঘাত করে বললো
_ শুয়ে,,,র তোর সাহস কি করে হয় ওকে গালি দেওয়ার,,,
আমিনা বেগম এগিয়ে এসে দুই ছেলেকে থামতে বলেন তবু তারা থামে না,,, হারুন মির্জা সিরিতে বসে আছেন,,,ইশিতা কান্না করছে,,,পরি নিশ্চুপ,,হাজেরাও এদের থামোর চেষ্টা করছে তবে উপায় হচ্ছে না,,,
নুবার চিৎকার করতে করতে গলা ব্যথা হয়ে গেলো,, আরহামকে ধরতে যেএ ৩/৪ বার তার শরীরের ঝাড়ি খেএ পড়লো সে,,তবে তাদের থামাতে পারলো না,,, আরহাম এখন আরো বেশি রেগে গেছে নুবার নামে বাজে মন্তব্য শুনে,,,
এক পর্যায়ে নুবা অতিষ্ঠ হয়ে গেলো ,,,রাগে পাশ থেকে টি টেবিল উঠিয়ে ফ্লোরে ছুরে মারলো,,, হঠাৎ বিকট শব্দে পুরো লিভিং রুম ঝনঝন করে উঠলো,,,
সেই শব্দে আরহাম আর আরাফ থেমে গেলো,,,চোখ তুলে তাকালো নুবার দিকে,,,পুরো পরিবেশ ঠান্ডা হতেই নুবা চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ বন্ধ করুন এই সব,,,
নুবা আরহামের কলার চেপে ধরে ঠাস ঠাস করে সবার সামনে ৩ থেকে ৪ টা চর বসিয়ে তবেই শান্ত হলো,,সে জানে না এরপর কি হবে নির্ঘাত আরহাম তাকে তুলে এক আছার মারবে,,,, হয়তোবা গায়ে হাত তুলবে তবে এই সবের তুয়াক্কা করলো না নুবা,, থাপ্পর মেরে হাঁপিয়ে উঠলো সে,,,,
ইশিতা আঘাত প্রাপ্ত স্বামীকে ধরে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে আর আরহামকে গালি দিচ্ছে,,সবার উপর রাগ তার ,কেউ থামালো না কেন,,,
নুবা এতো গুলো আঘাত করার পড়েও আরহাম পাল্টা জবাব দিলো না বরং রাগে ফুঁসতে লাগলো,,,নুবা আরহামের রাগ দেখে তার কলার চেপে ধরে চিৎকার করে বললো
_ আপনার সাহস কি করে হয় সামান্য কারনে বড়দের গায়ে হাত তুলতে যাওয়ার,, আপনার কি বিবেক বলতে কিছু নেই,, হ্যাঁ,,এতোটা অমানুষ কেন আপনি,,আজ আপনার জন্য এই সব হয়েছে,,আপনি যদি ভালো হতেন তবে না আমার মা মাঝখানে আসতো না এই সব হতো,,,,
নুবা চেঁচিয়ে কথা টুকু বলে থেমে গেলো,,, কেঁদে উঠলো নুবা,,সবকিছুর জন্য তার নিজেকে দোষী সাব্যস্ত মনে হচ্ছে,,,কি করবে সে,,তার জন্য,, শুধু তার জন্য আজ হারুন মির্জা সবার সামনে এতো বড় অপমানের সম্মুখীন হলেন,,,তার মা এতোটা অপমানিত হলো,,,
নুবার নিজের মুখে নিজে জুতা মারলেও যেনো রাগ কমছে না,,,নুবা ফুঁসতে থাকা আরহামের দিকে তাকিয়ে নাক টেনে চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ সব আমারি দোষ,,,আমি কেন যে বারবার ভুল পথে চলে যাই,, আমার বুঝা উচিত ছিলো যে আপনার মতো তার ছিরা পাগল কখনো কাউকে সম্মান করতে পারবে না,,, আমার মা ঠিকি বলেছিলো আপনি একটুও ভালো না,,আপনি একটা অভদ্র,, অমানুষ,,,না হলে কেউ এভাবে বড়দের গায়ে হাত তুলতে রুখে যায়,,এখন আমার নিজের উপর রাগ হচ্ছে যে আমি কেন আপনার মতো মানুষকে দ্বিতীয় বার আমার জীবনে আসতে দিলাম,,,আমারি ভুল ছিলো,,,
নুবার কথায় আরহাম আরো ফুঁসতে লাগলো,,নুবা নিজের দোষে নিজে ফুঁপিয়ে উঠলো,,,কপাল চাপড়াতে লাগলো,,কি করলো সে,,তার কারনে সব অশান্তি,,,
নুবা আরহামকে ছেড়ে দিয়ে নাক টেনে ফুঁপিয়ে উঠে বললো
_ আপনার মতো অভদ্র মানুষ আমার লাগবে না,,, এরকম বেয়াদব নিয়ে দুনিয়ায় চলা যায় না যার মিনিমাম সেন্স টুকু নেই,,, আমার প্রয়জন নেই আপনার,,,এতো অশান্তি ভালো লাগে না,,, আমাকে মাফ করেন,,,
বলেই নুবা দুই হাত জোর করলো আরহামের সামনে,,,পরপর এক পলক সবার দিকে তাকিয়ে চোখে পানি মুছে বললো,,,
_ আমি সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী,,সব আমার জন্য হয়েছে,,আমি অনেক বড় পাপ করে ফেলেছি,,দয়া করে সবাই আমাকে মাফ করে দিও,,আমি চাই না এই অশান্তি আর বাড়ুক,, আমার প্রয়োজন নেই এরকম আদব কায়দা হীন মানুকে,, আমাকে যেখানে দিবে আমি খুশি খুশি ওখানে চলে যাবো,,,,এর থেকে বেশি কিছু আর বলার নেই,,,, আমার অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে,,,এর জন্য আমি আবারো মাফ চাইছি,,,
কথা টুকু শেষ করে নুবা এক পলক আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ আমার আয়রার পাপাকে দরকার নেই,, শুনলেন আপনি,,, কোনো অমানুষকে আমার প্রয়জন নেই,, যেহেতু আমার জন্য এই ঝামেলা শুরু হয়েছে তাই আমি সত্যিই দুঃখিত,,তবে দ্বিতীয় বার আর এরকম ঝামেলা হবে না,,
কথা টুকু বলেই,,নুবা আর এক মুহূর্ত দাঁড়ালো না, রুমে চলে গেলো,,,,
আরহাম রাগে হাত মুঠো বদ্ধ করে নিলো,,, দাঁতে দাঁত পিষে রইলো,,,
আরহাম দাঁতে দাঁত চেপে বসে আছে,,কারো সাথে আলাপ করছে সে,,,
_ হুম,, আচ্ছা,,বাকি কাগজ পত্র আমি ওখানে যেএ বানিয়ে নিবো,,,
_????
_ আজকের ভিতরে এখান থেকে বেড় হবো,,, তুমি শুধু সব কিছু রেডি রেখো,,,
পরপর কল রেখে দিলো আরহাম,,, পার্সোনাল হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করেছে সে,,আজ রাতের ভিতরে এখান থেকে বেড় হবে সে তাও নুবাকে নিয়ে,,সেই প্রস্তুতি নিচ্ছে,,নুবা যাবে নুবার ঘাড়ো যাবে,,,
_ এতো কিছুর পড়েও আপনি আবারো একি কাজ করবেন,,,
হারুন মির্জা শান্ত দৃষ্টিতে আমিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_ তো কি করবো,,, তুমি কি বলতে চাইছো
_ নুবাকে আরহামের সাথে বিয়ে দিলেই তো সমস্যার সমাধান হয়ে যায়,,ওরা দুইজন দুইজনকে ভালোবাসে,,এর ভিতরে আপনারা কেনো বাঁধা হচ্ছেন,,,
_ তোমার ছেলে যে অমানুষ এটা তোমার জানা নেই,,
_ হ্যাঁ আমি জানি তবে নুবা তো সব দেখেই সম্পর্কে জরিয়েছে,,তাহলে কেনো ওকে আরহামের থেকে আলাদা করেছেন,,
তাদের কথা বার্তার ভিতরে হাজেরা তাদের রুমে কড়া নাড়লো,,আমিনা বেগম কাঠকাঠ কন্ঠে বললো
_ ভিতরে আসো,,
হাজেরা ভিতরে ঢুকে মাথা নিচু করে সুধালো
_ আপনার সাথে কথা ছিলো ভাইজান,,,
আমিনা বেগম হাজেরার দিকে তাকিয়ে কান্ত কন্ঠে বললো
_ আর কতো হাজেরা,,,গত ২/৩ দিন ধরে ঝামেলা লেগেই আছে আর কত,, এবার অন্ততপক্ষে ওদের ভিতরে বাঁধা হয়ে দাঁড়িও না,,,
হাজেরা বেগম আমিনার কথায় একটু রেগে গেলেন,,,আমিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে শক্ত কন্ঠে বললেন
_ আপনি কেনো বুঝতে পারছেন না আপা,,,আজ আমাকে মারতে রুখে আসলো,, এমন কি নিজের বাপকেও,,আপনি কি কিছু বুঝতে পারছেন না,,আপনি কেনো বুঝার চেষ্টা করছেন না,,, কিছু মূহূর্তের জন্য আমার জায়গায় এসে দাঁড়ান আপা,,তাহলে বুঝতে পারবেন,,যদি ওদের ভিতরে বাঁধা হলে আমি খারাপ হয়ে যাই তবে হলাম আমি খারাপ,,তবু কেন আপনার পাগল ছেলের হাতে আমার সুস্থ মেয়েটাকে তুলে দিবো,,,
আমিনা বেগম কিছু বলতে পারলেন না,,হাজেরার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,,, আহাজারি করে বললেন,,,
_আপনি নিজের মুখে স্বীকার করেন আপা যে আপনার ছেলে পাগল না,,,সবাইকো না সে,,, সামান্য কারনে বাপের গায়ে হাত তুলতে যায় যেই ছেলে সে ভবিষ্যতে আমার মেয়েটাকে যে শেষ করে দিবে না এটার কি ভরসা আছে,,আমি মা হয়ে চোখের সামনে এই সব হতে দেখবো,,,,
কথা টুকু বলে হাজেরা থামলো পরপর চোখের পানি ফেলে বললো
_ এখানে একা শুধু আপনার ছেলের দোষ নেই,,নুবারো দোষ আছে,,আমি সব থেকে বেশি দোষ ওকেই দিচ্ছি,,ও যদি সুযোগ না দিতো তাহলে এমন কিছু হতো না,,তাই বলে এখন ভুলের মাশুল এভাবে দিতে বলবেন,, আপনার ছেলেকে কি শান্ত ভাবে সব কিছু মিটাতে পারতো না,,,এতো যখন নুবাকে তার লাগবে তালহে তার জন্য নিজেকে একটু বদলানো কি যেতো না,,,ভালো ভাবে দুটো কথা বলেও এই সমস্যার সমাধান হতো তবে আপনার ছেলে ওমন অভদ্র কাজ কেনো করবে,,সে তো ভদ্র তাই আজ এই সব হলো,,,
আমিনা বেগম ভেজা কন্ঠে বললেন
_ হ্যাঁ আমি মানছি আরহাম খারাপ,,তাই বলে কি ভালোবাসা পাপ,,,দুই জন এক সাথে থাকতে,,,
আমিনা বেগমের কথা শেষ হওয়ায় আগেই হাজেরা হেসে বলে উঠলো,,
_ কিসের ভালোবাসার কথা বলছেন আপনি, আপনার ছেলে আমার মেয়েকে কোনো ভালো টালো বাসে না,,যদি বাসতো তবে না আমার মেয়েকে অসম্মান করতে পারতো না এই বেয়াদবি কাজ গুলো করতো,,, আপনার ছেলের জেদ নুবা,,,কেন জানেন,,, ভালোবাসে মানুষ বদলায়,,,সব কিছু মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে,,,তবে আরহামের ভিতরে এমন কিছুই নেই,,,, আমার মাঝখানে এসেছি তাই জেদ ধরেছে আমাদের কথার অমান্য করার,,,এছাড়া কিছু না,,,বিয়ে হোক,,,জেদ মিটবে সখ মিটবে আমার নিষ্পাপ মেয়েটাকে ছুরে ফেলতে ২ মিনিট ও ভাববে না,, কারণ এগুলোকে ভালোবাসা বলে না,,এই সবকে জেদ,, আসক্তি,, আকাঙ্ক্ষা বলে,,, আমার এই সব বলতেও লজ্জা লাগছে তবে আপনারা তো বুঝেও না বুঝার ভান করবেন,, কারণ আপনাদের ছেলে তো,,,তার ভুল আপনাদের চোখে পড়বে না,,,
আমিনা বেগম কিছু বলতেই যাবেন তার আগেই হারুন মির্জা উঠে দাঁড়িয়ে শান্ত কন্ঠে বললেন
_ এতো দুঃখী হতে হবে না হাজেরা,,, আমার পাগল ছেলের সাথে তোমার সুস্থ মেয়ের বিয়ে দিবো না,,,নুবা আর তোমার কিছু কাপড় গোছগাছ করে নিও,,আজ রাতেই তোমাদের অন্য কোথাও দিয়ে দিবো,, অন্ততপক্ষে নুবার বিয়েটা হওয়ায় আগে,,,
বেশ চাপা কষ্ট নিয়ে হারুন মির্জা কথা গুলো বললেন,, হাজেরার কয় একটা কথা হারুন মির্জার বেশ খারাপ লেগছে,,, এতো কিছুর পর নুবার সাথে আরহামের বিয়ে সাজে না,,,
আরশি রিহানের শার্টের বোতাম লাগাতে লাগতে বললো
_ কালকে তো বউভাত ,,তবে আমি কি ১ মাস পর আবার এখানে আসবো,
রিহান ভুরু কুঁচকে বললো
_ what,,সেরফ ২ দিন,,তার পর আপনাকে নিয়ে আমি চলে আসবো,,
আরশির মুখ কালো হয়ে গেলো ভুরু কুঁচকে বললো
_ বড্ড খারাপ তো আপনি,
_ হ্যাঁ আমি খারাপি ভালো,এতো বাপের বাড়িতে থাকতে হবে না,,,
আরশি গাল ফুলিয়ে দূরে সরে গেলো,,চোখ মুখে অন্ধকার নামিয়ে বললো
_ অসভ্য লোক কোথাকার,,আমি অন্ততপক্ষে ১ মাস তো থেকেই আসবো,, আমার এখানে ভালো লাগে না,,
আরশির কথা শুনে রিহান এগিয়ে যেএ আরশিকে নিজের সাজে জরিয়ে নিলো,,আদুরে কন্ঠে বললো
_ আচ্ছা ঠিক আছে,, কথায় কথায় এতো রাগ দেখাতে হয়,,আমরা না হয় ১ সপ্তাহ থাকলাম,,তাও এতো রাগ করে না জানু,,,
আরশি হাত পা ছুরে সুধালো
_ মাত্র ১ সপ্তাহ,, চোখের পলকে কেটে যাবে,, না,২ সপ্তাহ please,, please বাবুর আব্বু,,, please
রিহান আরশির এরকম বাচ্চামো দেখে হাসলো,, মৃদু কন্ঠে বললো
_ আচ্ছা ঠিক আছে,,,
পরপর আরশিকে বুকের সাথে জরিয়ে ধরলো,, স্বামী ব্যতিত কার কাছে এরকম আদুরে আবদার করবে সে,,,নারীরা খুবি স্বল্প জিনিস চায় যা পূর্ন করা আহামরি কোনো সমস্যা না,,তবে পূর্ন না করতে পারলেও তাদের আদুরে কন্ঠে বুঝালে বুঝে যায়,,ধমক দিয়ে নয় আদুরে কন্ঠে,, কারণ একমাত্র বিয়ের পর স্বামীর কাছেই তো তারা ন্যাকামি,, বাচ্চামো আবদার করবে সেই আদার পূর্ন না করতে পারলে কেমন স্বামী তুমি,,
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮৬
রাতের ঘন অন্ধকার যেন চারপাশকে গিলে ফেলেছে। নিস্তব্ধতার বুক চিরে কোথাও চাপা পায়ের শব্দ ভেসে আসছে। ছায়ার আড়ালে কয়েকটি অবয়ব নিঃশব্দে নিজেদের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে, যেন কেউ টের পেলেই সব শেষ। দূরের বাতাসে অজানা আশঙ্কার গন্ধ মিশে আছে। এই রাতের নীরবতা সাক্ষী হতে চলেছে এমন এক ঘটনার, যার পরিণতি বদলে দিতে পারে অনেকের জীবন,,,
নুবা মায়ের দিকে তাকিয়ে শুকনো কন্ঠে বললো
_ আমি সবসময় কেন ভুল হই মা,,,কোনো দিনও কি সঠিক হতে পারি না,,,
নুবার প্রশ্ন উপেক্ষা করে হাজেরা _
