Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮৯

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮৯

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮৯
সুরাইয়া জিয়াসমিন

নাবিল পরির লম্বা চুল গুলো টেনে নিজের দিকে ঘুরালো,,পরপর পরিকে দেখে তার মনটা তৃপ্তি পেলো,,,নাবিল ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ আসসিস(এসেছিস) তাইলে,,,
পরির নাবিলের দিকে ফিরেও তাকালো না,,ঘৃনায় শরীর রিরি করছে তার,,,পরি দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_আমার আব্বুকে এরকম জানোয়ারদের মতো কেন মেরেছেন,,
নাবিল আফসোসের সুর টেনে বললো
_ তোর কথা এতো জিগ্গেস করলাম তাও বললো না,,পরে দু একটা কেলানি দিয়েছি বুইড়া চু,,,,,*** কেলায় পড়েছে,, আমার কি দোষ আগে বলে দিলেই তো পারতো,,,
কথা শেষ হতেই নাবিল পরিকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে ঠাস ঠাস করে ২ থেকে তিনটা থাপ্পর মারলো,,পরির ফর্সা গাল লাল হয়ে গেলো,,,তবে প্রতিবাদ করতে পারলো না সে,,,নাবিল পরির চুলের মুঠি আরো শক্ত করে ধরে বললো

_ তোর লাইগা যত জ্বালা আমার,,,তোর লাইগা ৩/৪ টা খুন করতে হইছে আমার,,কত চাই তোরে আর তুই পালাই পালাই তাই না,,
পরি বিষাক্ত চোখে নাবিলের দিকে তাকিয়ে ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_ আমার বোন কোথায়,,, আপনার তো আমাকে দরকার,,, আমার মা বোনকে ছড়ে দিন,,,,
নাবিল এগিয়ে এসে পরির গালের সাথে নাক ঘষলো,,পরপর সে খুব আবেশে শাশ নিলো যেনো নেশা ধরে যাচ্ছে তার,,,নাবিল সরে আসলো পরির থেকে,,পরি কাঁদল না কারণ কেঁদে এদের মতো অমানুষের মন গলানো যায় না,,,পরি শুরু দাঁতে দাঁত খিচে চুপ রইলো তবু চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,,,,
একটু পরেই পরির ছোটো বোন প্রিউ কাঁদতে কাঁদতে ছুটে আসলো তার কাছে,,,বোনের অগুলাছো মুখ দেখে পরিরর কলিজা কেঁপে উঠলো,,,নাবিলকে দুই হাত দিয়ে ধাক্কা দিলো সে পরপর হাঁটুর সাহায্যে হামাগুড়ি দিয়ে বোনের কাছে এগিয়ে গেলো,,
ছোট্ট প্রিও এসে পরিকে জরিয়ে ধরে কেঁদে উঠলো,,,প্রিউর হাত পা কাঁপছে,,,পরি অশান্ত হলো,,বোনের পুরো মুখে অজস্র চুমু খেলো,,পরপর দুই গালে হাত দিয়ে কান্না রত কন্ঠে বললো

_ তুই ঠিক আছিস তো বনু,,ওরা কিছু করেনি তো , হ্যাঁ,,
প্রিউ নাক টেনে কেঁদে মাথা ঝুঁকিয়ে না বুঝালো সে তারা কিছু করেনি,,,পরি প্রিউকে শক্ত করে বুকের সাথে জরিয়ে ধরলো,,,পিছন থেকে ফ্লোরে বসা নাবিল “ছ্যে ছ্যে” শব্দ করে বললো
_ আমগো রুচি এতোও খারাপ না এই টুকু বাচ্চারে বিছানায় নিমু,,,,
পরির বুকটা কেঁপে উঠলো,,,,প্রিউকে বুকের সাথে জরিয়ে ধরে গুনগুন করে কেঁদে উঠলো,,, কিছু বলতে পারবে না সে,, কিচ্ছু না,,পরি অস্থির হলো,,, বিচলিত কন্ঠে বললো
_ আম্মু,, আম্মু কোথায়,,,
প্রিউ ডাইনিং রুমের দিকে তাকালো,,,প্রিউর চোখের ইশারা দেখে পরি পাশ ফিরে ভালো মতো দেখতেই খেলায় করলো তার মাকে চেয়ারের সাথে হাত,পা মুখ বেঁধে ফেলে রাখা হয়েছে,,,
পরির দুনিয়ার অন্ধকার হয়ে আসলো,,, কাকে রেখে কার কাছে যাবে সে,,,পরপর এগিয়ে যেতে লাগলো সে তার মায়ের কাছে তবে নাবিল পরির লাম্বা চুল গুলো টেনে ধরে উঠে দাঁড়িয়ে বললো
_ দাঁড়া মা*** আগে আমার কথা শুন তুই,,তোর family drama দেখতে আমি নাবিল তো এখানে আসেনি তাই না,,,

পরি ফিরে তাকালো নাবিলের দিকে অনুনয় করে বললো
_ আপনি যা বলবেন আমি তাই করবো,,, আগে আব্বু কে হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে,,,দয়া করে,,,,,
পরির কথা শেষ হওয়ায় আগেই তাকে থামিয়ে দিলো নাবিল,, মুখ দিয়ে চু চু শব্দ বেড় করে বললো
_ একি ভুল নাবিল বারবার করে না সোনা,,,আগের বারো তুমি আমাকে ডপ মেরে পালিয়ে এসেছিলে তবে এবার না,,,আগে আমার কাজ হবে তারপর বাকি সব,,,
পরির ঠোঁট দুটো তিরতির করে কেঁপে উঠলো,,,পরপর নাবিল এসে পরির হাত ধরলো,,পরি ছটফট করে উঠে বললো
_ আগে আমার বাবার চিকিৎসা করতে হবে,,
নাবিল মাথা ঝুঁকিয়ে না করলো,,,পরির হাত টেনে সামনের রুমে টেনে নিয়ে যেতে যেতে বললো
_ ওই মহিলার হাত পা খুলে পানি খাওয়া,,, উফ্,,হাত পা খুলতে বলছি দেখে সত্যিই হাত পা খুলে ফেলিস না,,আমি বলছি হাত পায়ের বাঁধন খুলে দিতে,,, বুঝলি
সামনে থাকা চেলা মাথা ঝুঁকিয়ে হ্যাঁ বললো,,
নাবিল পরির দিকে তাকিয়ে বললো
_ একটু বুঝিয়ে দিতে হলো,,আসলে বেশি বুঝে,,যা বলি তাই করে তো,,,
পরি হাত হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে বললো
_আগে‌ আব্বুকে হসপিটালে পাঠান,,তার পর আপনি যা বলবেন আমি তাই করবো,,,

নাবিল মাথা ঝুঁকিয়ে না করলো,,,পরি ফুঁপিয়ে উঠলো,,,নাবিল পরিকে টেনে হেঁচড়ে সামনে থাকা কক্ষে নিয়ে ফেললো,,,যেই‌‌ রুমটা পরির বাবা মায়ের ছিলো,,,নাবিল পরিকে এনে বিছানায় ফেললো,,পরি নিজেকে গুটিয়ে নিলো,,
হঠাৎ করেই তীব্র ব্যথায় পরির পুরো শরীর কেঁপে উঠল,, তলপেটে মোচড় দিয়ে ওঠা যন্ত্রণায় সে কুঁকড়ে গেল,,ঠিক সেই মুহূর্তেই উষ্ণ রক্ত ধীরে ধীরে গড়িয়ে তার পা বেয়ে নিচে পড়তে শুরু করল,, চোখে আতঙ্ক আর যন্ত্রণার ছাপ আরও গাঢ় হয়ে উঠল তার,
নিঃশ্বাস নিতে পর্যন্ত কষ্ট হচ্ছে পরির , যেন প্রতিটি মুহূর্ত তাকে আরও অসহায় করে তুলছে,, শরীরের শক্তি ক্রমশ নিঃশেষ হয়ে আসছে, তবুও সে শেষটুকু সাহস আঁকড়ে ধরে টিকে থাকার চেষ্টা করলো,,তার মনে হচ্ছে, এই দীর্ঘ যন্ত্রণার যেন আর কোনো শেষ নেই,,,
পরির শরীর কাঁপতে লাগলো,,,বিছানা থেকে উঠার চেষ্টা করলো,,,তবে যন্ত্রনায় আবারো লুটিয়ে পড়লো সে,,,, বিছানায় ঝুলে থাকা এক পাশের পা গড়িয়ে কয় এক ফোঁটা তরল পদার্থ ফ্লোরে পড়লো,,,হালকা ধূসর রঙের পালাজো(পেলাজু) লাল হয়ে ভিজে উঠলো,,,
নাবিল দেখলো পরি যন্ত্রনায় ছটফট করছে তবে তার এতে কোনো যায় আসে না,,,,দরজা ভিতর থেকে লক করে এগিয়ে আসলো সে,,,পরি কাত হায়ে দুই হাত পেটে চেপে ধরে চোখ মুখ খিচে নিলো,,পরপর সে কেমন করে নিঃশ্বাস ফেললো,,, চোখের সামনে ঝাঁপসা নাবিলকে দেখে আরো কেঁদে উঠলো,,,কোনো মতে উঠে পিছিয়ে গেলো পরি,,,বিছানা দেওয়ালে সাথে লাগানো তাই তার পিঠ যেএ শেষ পর্যন্ত দেওয়ালে যেএ ঠেকলো,,,

অসহায় পরি অগুছালো ভাবে মাথা ঝুঁকিয়ে না করলো তবে নাবিল কি শুনবে কখনোই না,,,পরির গুছিয়ে নেওয়া পা দুটো থেকে এক পা ধরে টান দিলো,,,সাথে সাথে পালাজো টা কিছুটা উপরে উঠে গেলো,,, লজ্জায় আর সম্মানহানি কথা টুকু স্বরনে আসতেই পরি হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো,,সে জানে বাঁচানোর মতো কেউ নেই তবু চিৎকার করে নিজেকে শান্তনা দিলো যে বাঁচানোর জন্য কেউ যদি ছুটে আসে,,,
নাবিল পরির পা ধরতেই তার হাতে চিপচিপে কিছু লেগে গেলো,, প্রচন্ড বিরক্ত হলো সে,,,হাতের দিকে তাকাতেই লাল বর্ন দেখে পরির পায়ের দিকে তাকালো,,, ফর্সা পা তাজা রক্তে কেমন মিশে আছে,,,,
নাবিল কান্না রত পরির দিকে তাকিয়ে বললো
_ এরকম আছার মাইরা যে ফালাইলাম আবার কিছু ফাইট্টা মাইট্টা গেলোনি,,
পরির শরীর কাঁপতে লাগলো,,,,নাবিল পরির সুন্দর পুতুলের মতো টান টান চামড়ার পা গুলুতে হাত বুলিয়ে দিলো,,,কি সুন্দর পায়ের তলা গুলো লাল হয়ে আছে,,সাথে নিখুঁত পায়ের সুন্দর নক গুলো যা মিষ্টি রং ধারন করেছে,,,তার লোভ আরো বাড়লো,,,আর এক টান দিয়ে পরিকে নিজের কাছে নিয়ে আসলো,,পরি কান্ত কন্ঠে বললো

_ আল্লাহ আপনার মতো অমানুষকে কোনো দিনও মাফ করবো না,,,
নাবিল smirk করে বললো
_ তোর মতো মা**গি পাইলে ওরকম মাফ আমার লাগবে না,,,
পরি চাইতে পারলো না নাবিলের দিকে,,তার সানে একজন খুনি,, ধর্ষক ,,,একটা আস্ত শয়তান,, অমানুষ,,, মানুষ রুপে জানোয়ার দাঁড়িয়ে আছে,,, কিন্তু পরি সব জানা শর্তেও চুপ,,নিজে একা হলেও নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করতো সে তবে তার সাথে তিন তিনটা মানুষের জীবন বাঁধা,,,সে কিছু করলে বাইরে তার মা বোন আর বাপেকে সেই আঘাত ফিরিয়ে দেওয়া হবে,,,
পরি ছটফট করে উঠলো,,নাবির পরির বক্ষ স্থল থেকে ওরনা সরাতে সরাতে বললো
_ মাসিক হইছে নি তোর,,,
পরি নিস্তব্ধ রইলো,,,নাবিল হেসে বললো,,,
_ একটুও কষ্ট দিমু না,,, শুধু আমারে আটকাইস না,,,

পরি চেষ্টা করলো সব মেনে নেওয়ার চুপ থাকার তবে যখনি শরীরে অমানুষের হাত পড়লো পরির মস্তিষ্ক তাকে জানান দিলো তার সাথে কি হতে যাচ্ছে,,,পরি শেষ বারের মতো একটু চেষ্টা করতে চাইলো এই জঘন্য কলঙ্ক থেকে মুক্তি পাওয়ার,,,,মুখ দিয়ে বিকট শব্দ বেড় করে শরীরের সকল শক্তি দিয়ে নাবিলকে দুই হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফ্লোরে ফেলে দিলো,,,
নাবিল হঠাৎ আক্রমনে নিজে চম্কে উঠলো,,পরি কম্পিত শরীর নিয়ে উঠে দাঁড়ালো,,নাবিল মুখ দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে সুধালো
_ চুত*** আমি জনতাম তুই যে তেজ দেখাবি,,,

পরি আশে পাশে চোখ বুলালো,,,পরপর Showcase এর দিকে তার নজর গেলো,,ভিতরে ছুরি আর ধারালো কিছু দেখা যাচ্ছে,,,পরি সেদিকে ছুটে গেলো,,ফ্লোরে তার রক্তে মাখা পায়ের ছাপ গুলো ছেপে গেলো,,,নাবিল সেদিকে তাকিয়ে মুখ দিয়ে গালি দিলো উঠে দাঁড়ালো সে,,
পরি এক টানে শোকেস খুলতে গেলো তবে ভাগ্য খুবি খারাপ থাকায় দেখা গেলো শোকেস লক করা,,,পরির চোখে পড়লো নাবিল এদিকে আসছে,,, পরি আর কিছু ভাবতে পারলো না,,,পাশে থাকা পানি ভর্তি পানির বোতল দিয়ে শোকেসের কাচ ভেঙে পড়লো,,ছোটো ছোটো টুকরো পরির হাতে গেঁথে গেলো,, ব্যথায় ককিয়ে উঠলো সে তবু শোকেসে হাত ঢুকিয়ে কোনো মতে একটা নতুন ছুরি বেড় করে আনলো,,,
ততখনে নাবিল তার মুখোমুখি,,পরি মৃদু কেঁপে উঠলো,,একটু এগিয়ে গেলো সে,, কাঁচের টুকরো তার দুধে আলতা পায়ে গেঁথে রক্ত ঝড়তে লাগলো,,
তবু পরি শেষ চেষ্টা করে নাবিলের দিকে ছুরি বাড়িতে চেঁচিয়ে উঠে বললো,,,

_ একদম মেরে ফেলবো আমি,,কাছে আসবি না,,
নাবিল কানে হাত দিয়ে কান পরিষ্কার করে আরো দুই কদম এগিয়ে এসে বললো
_ কি বললি,,
পরি কাঁপতে কাঁপতে বললো
_ বলছি না,,কাছে আসবি না,,,
নাবিল পরির মাথা থেকে পা পর্যন্ত দেখে বললো
_খা*** মেয়ে তুই তো ঠিক মতো দাঁড়াতেই পাড়ছিস না,,, আমাকে কি মারবি,,,
ছুরি ধরা দুই হাত কেঁপে উঠলো পরির,,,নাবিল ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ আমাকে মারলে তুই এখান থেকে বেঁচে বেড় হতে পারবি,,,
পরির চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,,হিচকি তুলতে শুরু করলো সে,,,পরির একবার মনে হলো যদি কোনো মতে নাবিলকে ঘায়েল বানিয়ে পাইলে আনা যেতো তবে সবাইকে হুমকি দিয়ে নিজের পরিবার নিয়ে বেঁচে বেড় কতে পারতো তবে এই ছোট্ট শরীর নিয়ে নাবিলের মতো হাতিকে কাবু করা তার দাঁড়া সম্ভব না,,এই জঙ্গলি কে দেখলেই মানুষ ভয় পেয়ে যাবে,,,পরি বুঝতে পারলো না কি করবে,,,
তবু সে নাবিলকে আঘাত করার চেষ্টা করলো তবে আঘাতের আ টাও করতে পাররো না সে,,,নাবিল হাত ধরে ফেললো তার,,,হুতসে পরি নাবিলের হাত কামড়ে ধরলো,,,নাবিল এতো জোরে কামড়ে ধরায় তাকে ছাড়তে বাধ্য হলো,,

পরি ছাড়া পেয়ে দূরে সরে গেলো পরপর কিছু একটা ভেবে,,নিজের গলায় ছুরি ধরে বললো
_ তুই আমি জীবন্ত থাকতে আমার শরীর পাবি না,,,মরে যাবো তার পর আমার লাশের সাথে যা ইচ্ছা তাই করিস,, অন্ততপক্ষে বলতে তো পারবো আমি তখন জিবিতো ছিলাম না,, নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা চেষ্টা করেছিলাম,,,
পরির কথায় নাবিলের মুখে একটু ফোঁটাও পরিবর্তন দেখা গেলো না,, বরং সে পরির দিকে তাকিয়ে বললো
_ দাঁড়িয়ে আছিস কেন,,, তাড়াতাড়ি কর,,,তোকে খেএ তার পর আবার আমার বাড়ি ফিরতে হবে,, Hurry up. ,,,
পরি ছুরির ধারালো অংশ গলার সাথে চেপে ধরে চোখের পানি ফেলে চোখ মুখ কুঁচকে নিলো,,হাত কাঁপছে তার,,,সাথে পুরো শরীর,,,পরি দাঁতে দাঁত চেপে যখনি মনে একটু সাহস জুগিয়ে ছুরি চালাতে শুরু করবে তখনি নাবিল চেঁচিয়ে উঠে বললো

_ওর ছোটো বোনটাকে দুই পা ধরে মাঝখান থেকে টেনে চিরে ফেল,,,আর ওর মাকে জেন্ত অবস্থায় টুকরো টুকরো কর,,,সাথে ওর অর্ধ মৃত্যু বাপকে কুপিয়ে শরীরের বোডি পার্ট আলাদা করে দে,,,,
নাবিলের চিৎকার শুনে বাইরে থেকে তার লোক চেঁচিয়ে বলে উঠলো
_ আচ্ছা ভাই,,,এহনি করতাছি,,,
বলেই অর্ধ জ্ঞান হারা মায়ের বুকে পরে থাকা প্রিউ কে টেনে হেঁচড়ে তার মায়ের থেকে আলাদা করে দিলো,,, অর্ধ জ্ঞান হারা জায়মা বেগম চিৎকার করে উঠে বললেন
_ আমার প্রিউরে ছেড়ে দেও,,
হঠাৎ টেনে হেঁচড়ে মায়ের থেকে আলাদা করায় প্রিউ আর্তনাদ করে চেঁচিয়ে উঠলো,,,
_ আম্মু,,, আম্মু,,,
সবি পরির কানে গেলো,,,ধুকে ধুকে কেঁদে উঠলো সে,,,ছুরিটা গলা থেকে সরিয়ে কান্ত হাতে নিচে নামালো,,, কিছু বলার শক্তি পেলো না সে,,,
নাবিল এগিয়ে যেএ পরির সামনে দাঁড়ালো,,,হাত থেকে ছুরিটা নিয়ে নিছে ফেলে দিলো,, পরপর আবার চেঁচিয়ে উঠে বললো

_ ওদের ছাইড়া দে,,,
কথা টুকু বলতেই প্রিউর কান্না থেমে আসলো,,তাকে আবার ফিরিয়ে দেওয়া হলো জায়মা বেগমের কাছে,,,জায়গা বেগম পড়ে থাকা স্বামীর দিকে তাকিয়ে আহাজারি করে উঠলেন,, একদিনে তার বড় মেয়ে অন্য দিকে,, স্বামী আর ছোটো মেয়ে,,,তিনি কল করতে চাননি তবে প্রিউ কে ছিরে খাওয়ার হুমকি দিচ্ছিলো নাবিল,,,ছোটো বাচ্চা তার,,,৫/৬ জনের হাতে পড়লে নির্ঘাত রুহ টুকু বেড় হয়েও যেনো শান্তি পাবে না,, স্বামীর নাজেহাল অবস্থা আর ছোটো মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে স্বার্থপর হয়ে পরিকে ফোন দিয়েছেন তিনি,,,,কি করবেন আর তখন পরিস্থিতিটাই এমন ছিলো,,এখন যদি পরি তার মাকে স্বার্থপর ভাবে তাহলে হলো সে স্বার্থপর,,, কারণ পরি সহ্য করতে পারবে একটা মানুষের ছোঁয়া,, কিন্তু তার ছোটো মেয়েটাকে যদি ৫/৬ জন চোখের সামনে ছিরে খায় তখন সে কি করবে,,,,তাই না চাইতেও বাধ্য হয়ে ডেকেছে পরিকে,,,না হলে কি কোনো মা চায় তার চোখের সামনে তার কলিজার টুকরা সন্তানের এই অবস্থা হোক,,
অবশ্য সে ভেবেছিলো পরি হারুন মির্জাদের সাহায্যের জন্য নিয়ে আসবে তবে পরি এলো খালি হাতে,, যতটুকু আশা করে মেয়েটাকে ডেকেছিলো তাও শেষ হয়ে গেলো,,,এখন চোখের সামনে এই সব দেখা ছাড়া কোনো উপায় নেই,,,

নাবিল পরিকে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ তুই এখানে নিজের ক্ষতি করবি তো তোর সাথে সাথে আরো তিনটা কবর খোঁড়া হবে,,,তোর বোন,,তোর মা আরা বাপ,,,খুব কষ্ট দিয়ে মারা হবে তাদের,,এখন তুই কি এতো পাষান,,যে এতো কষ্ট দিয়ে নিজের পরিবারকে মারবি ,,
পরি চুপ,, নিস্তব্ধ,,সব রাস্তা বন্ধ,,নাবির পরির শরীরে হাত মাখিয়ে বললো
_ তোকে বউ করতে চাইছিলাম রে মা** ,, কিন্তু তোর সেই যোগ্যতা হয়নি,, তুই ধর্ষিতা হওয়ারি যোগ্য কারণ তোর তো সেই ভালো রুচি নেই কারো বউ হয়েই বিছানায় শুবি,,,,,
পরির শরীর লুটিয়ে পড়তে নিলো,,,নাবিল তাকে ধরে ফেললো,,পরির ইচ্ছা হলো চিৎকার করে কাঁদতে,,,তার মনে হলো এই খুনির বউ হওয়ার থেকে ধর্ষিতা হওয়াও অনেক ভালো,,, অন্ততপক্ষে বলতে তো পারবে নিজে তাকে স্বীকৃতি দেয়নি,,,না হলে তার নামে কবুল বললে কবুলও পরিকে ধিক্কার জানাবে,,,
নবিল পরিকে নিয়ে যেএ বিছানায় ফেললো,,পরি ডুকরে কেঁদে উঠলো,,,

_ she is my wife,,,এই কথাটা আর কতবার বলবো,,,
নুবা নাক টেনে কাঁদছে,,আবার সেই এই ঝামেলা তার আর ভালো লাগছে না,,,,এখন প্রায় রাত ৩ টা নাগাত,,ভেবেছিলো আসার পর ঝামেলা হবে না তবে আরহাম পুরো বাড়ি মাথায় তুলে নিয়েছে,,, আবারো সেই চিৎকার চেঁচামেচি,,,নুবার বুক ফেটে কান্না আসছে,,,
হাজেরা আরহামের কথায় দিগুন যেতে উঠে বললো
_ মুখে বললেই ও তোমার বউ হয়ে যাবে না
আরহাম হাজেরার দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ ও‌ আমার রেজিস্টি করা বউ,,,এটাই সত্য,,,ও আমার বউ,,,
কথা গুলো নুবার কানে পৌঁছাতেই সে হতভম্ব হয়ে গেলো,,কত বড় মিথ্যা বলছে এই লোক তারা বিয়ে কবে করবো,,তবে নুবা রিয়েক্ট করলো না করন সে ভাবলো হয়তোবা আরহাম সব কিছু সমাধান করার জন্য এই কথা বলছে যাতে সবাই বাধ্য হয়ে মেনে নেয়,,
হাজেরা মেয়ের দিকে তাকালো,,,রাগি কন্ঠে বললো

_ ও এই সব কি বলছে নুবা,,,
নুবা শুকনো ঢোক গিলে ছলছল চোখে বললো
_ হ্যাঁ,,, হ্যাঁ,,,উনি আমার husband এটাই সত্য,,
নুবা ভাবলো আরহাম মিথ্যা বলেছে সেও একি কথা বলুক অন্ততপক্ষে সবাই মেনে তো নিবে,, কিন্তু সে তো জানে না এটা সত্য,,,
হাজেরা কেমন করে কেঁদে উঠলো,,মেয়ে তার বড় হয়ে গেছে তাকে না জানিয়ে বিয়ে করে নিয়েছে,,ভাবলেই তার কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে,,হাজেরা ক্লান্ত কন্ঠে বললো
_ কবে,,কখন,, কিভাবে এই সব করলি,,,একবারো আমার কথা ভাবলি না তুই
হারুন মির্জা নুবার দিকে তাকিয়ে রাগি কন্ঠে বললো,,,
_ তোরা যে বিয়ে করেছিস প্রমাণ কোথায়,,
নুবার কলিজা ধুকধুক করে উঠলো,, মিথ্যা তো বলে দিলো তবে প্রমাণ পাবে কোথায়,,নুবা আরহামের দিকে তাকালো,, আরহাম তেজি কন্ঠে বললো
_ wait,,,
বলেই সিরি বেয়ে ছুটে গেলো,,২ মিনিট এর ভিতরে সে ফিরে আসলো হাতে একটা কাগজ নিয়ে পরপর হারুন মির্জার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো
_ This is our marriage certificate. ,,,
নুবার চোখ বড় বড় হয়ে গেলো এই লোকটা আবার কোন কাগজ এনে ফাঁসিয়ে দিবে আল্লাহই জানে,,,

হাজেরার হাত কাঁপছে,,,এতোটাও মূর্খ নয় সে যে পড়তে পারবে না,,,পেপারটা দেখে তার চোখ বেয়ে পানি পড়লো শরীর কাঁপলো,,নুবা এই কাজটা কি করে করলো,,হাজেরা ছলছল চোখে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললো
_ এই সব যখন করেই ফেলেছিস তবে আমার সামনে নাটক করার মানে কি ছিলো বললেই তো পারতি তুই নিজ ইচ্ছায় অনেক আগেই বিয়ে করে নিয়েছিস,,,
মায়ের কথায় নুবার কলিজা মুখে চলে আসলো,,,এই সব কি বলছে হাজেরা,,নুবা এগিয়ে গেলো,,, কাঁপতে থাকা হাতে পেপারটা নিজের হাতে নিলো,,,পরপর উপরের লেখা আর নিচে নিজের সাইন দেখে নুবার মনে হলো সে স্বপ্ন দেখছে,,এই সব কি,,,
নুবা আঁটকে যাওয়া নিঃশ্বাস‌ নিয়ে আরামের দিকে তাকালো,,এই মানুষ টা তার স্বামী,,,বুকে খিল লেগে আসলো তার,,,নেতিয়ে যাওয়া কন্ঠে বললো

_ এই কাগজ,,এই সব কি,,,
আরহাম এগিয়ে এসে শান্ত কন্ঠে বললো
_ বিয়ে হয়েছে আমাদের,,, তোমার exam আগে,,,এই বিষয়টা তোমারো জানা ছিলো না,,আমি শুধু বৈধতা দিতে চেমেছিলাম,,
বিষয়টা নুবার কাছে কেমন লাগলো নুবা কম্পিত কন্ঠে বললো
_ আমাকে না জানিয়ে,,, আমাকে না জানিয়ে আপনি এই সব কেন করলেন??‌
(‌জানে না সে প্রশ্ন টা কেনো করলো তবে মিথ্যাকে সত্য হতে দেখে সেও হতভম্ব আবার হয়ে প্রশ্ন টা করেই ফেললো একটু রাগো হলো,,হবে না তার তার মতামত ব্যতিত,,তখন তো তাদের সম্পর্কোও তৈরি হয়নি তাহলে কেন??)
নুবার কথায় হাজেরা টের পেলো মেয়ে তার এই ব্যাপারে কিছুই জানে না তখন আরহামের সাথে তাল মিলিয়ে ডপ মারছিলো,,,তাই শেষ চেষ্টা করে নুবার হাত থেকে কাগজ নিয়ে ছিরে ফেললো হাজেরা আর কঠিন কন্ঠে বললো

_ বিয়ে হয়েছে সেটা তো নুবা জানেই না,,,তবে এটা কিসের বিয়ে মানি না আমি,,,
আরহাম দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ সংসার করবো আমি আপনার মেয়ের সাথে এতে আপনার মানা বা না মানা দিয়ে আমার কি জায় আসে,,,
নুবা কথাটা বলে নিজেই আহাম্মক বনে গেলো,,কেনো বলতে গেলো সে,,সবাই একটু একটু মেনেই নিয়েছিলো,,এখন নুবরা নিজের মাথায় নিজের বারি দিতে ইচ্ছা করলো,,,
হাজেরা দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_এখন কোনো প্রমাণ আছে তোমার কাছে এই বিয়ের,,,
আরহাম একটু হেসে বললো
_ যেটা আপনি ছিরলেন এটা কপিটা ছিলো,, original টা আমার কাছে,,,লাগবে নাকি শাশুড়ি আম্মা,,,,

মশকরা করে বললো আরহাম,,, কিন্তু সত্যি বলতে তার কাছে কোনো কপি নেই এটাই আসলটা ছিলো বাঁচার জন্য ডপ মারলো সে,,,
তবু হাজেরা মানতে রাজি হলো না,,সে মেনে নিতেই পারছে না এই অভদ্র অসভ্য ছেলে তার মেয়ের জামাই হবে,,,তারো তো ইচ্ছা আছে মেয়েকে কেমন ছেলের হাতে তুলে দিবে,,,তাই সে হারুন মির্জার কাছে যেএ বললো,,
_ ভাইজান নিজের ছেলেকে সামাল দিন,,আমি দিবো না আমার মেয়েকে,,,
আমিনা বেড় পাশ থেকে বলে উঠলো
_ তোমার মেয়ে চাচ্ছে সংসার করতে তবে তুমি কেনো বাঁধা হচ্ছো,,,
হাজেরা কিছুটা গলে গেছেন তবে আরহামের দ্বিতীয় ব্যবহার তাকে আরো শক্ত করে দিলো,, আরহাম পকেট থেকে বন্ধুক বেড় করে দুটো সুট করলো উপর দিয়ে পরপর চিৎকার করে বলে উঠলো,,
_ আমার আর নুবার মাঝখানে সে আসবে তাকে আমি মেরেই ফেলবো,,সেটা নুবার মাই হোক না কেন,,
নুবা প্রচন্ড ভয় পেলো,,এই লোকটা সমাধান হয়ে যাবে যাবে এমন সময় এরকম কেন করলো,, ছেলের ছন্নছাড়া ব্যবহারে হারুন মির্জাও খেপে উঠলেন,, চিৎকার করে বললেন
_ অসভ্য ছেলে,, তোমার জন্য আজ আমার এতো কথা শুনতে হচ্ছে,,,

ঘুমন্ত আয়রা কেঁদে উঠলো,,আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললেন,,, এদিকে আরাফ আর ইশিতা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে তাদের এই ব্যপারে খবরো নেই তবে তানিয়া এই বিষয়টাকে বেশ এনজয় করছে,,, চুপচাপ ঘুমঘুম চোখে দেখে যাচ্ছে,,,
নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে দুই হাত মাথায় চেপে ধরলো,,কোন অকালে কুকালে এই লোকটাকে মনে জায়গা দিয়েছিলো কে জানে,,
ইতি মধ্যেই আবার সেই তর্কাতর্কি শুরু হলো,,হাজেরার কথা হচ্ছে
” যে আমাকে মেরে ফেলতে চায় তার কাছে আমার মেয়ে যাবে না,,”
হারুন মির্জার কথা
“আজ আরহামের জন্য হাজেরার এতো কথা শুনতে হলো তাকে”
আমিনা বেগমের কথা

” দুই জন রাজি তাহলে বাপ আর শাশুড়ি কেন মাঝখানে আসছে,,”
আর তানিয়ার কথা তোমরা ঝগড়া করো আমি দেখি,,বেচারি নুবা চুপচাপ কি করবে বুঝতেই পারছে না সে,,,
হারুন মির্জা চেঁচিয়ে উঠে বললেন
_ সে মেয়ে দিবে না তোমাকে তুমি কেনো জোর করছো,,মেয়েটা তো সে জন্ম দিয়েছে তাই না,,,
হাজেরা রেগে আরহামকে উদ্দেশ্য করে বললো
_ তুমি তোমার মেয়েকে তোমার মতো কোনো অসভ্যের হাতে তুলে দিবে,, তুমি যে আমার মেয়েটাকে নিয়ে টানাটানি করছো,,,
তাদের ঝগড়া এখন প্রচন্ড হাস্যকর হয়ে গেছে,,মাঝখানে ফেসে গেছে নুবা,, না মাকে ছাড়তে পারছে না আরহামকে,,,
এক পর্যায়ে তিক্ত হয়ে গেলো আরহাম,,, বন্দুক নিজের মাথায় চেপে ধরলো,,,
আমিনা বেগম ছেলের কান্ডে হতভম্ব হয়ে গেলো,, হারুন মির্জা রেগে উঠে বললো
_ মর তুই,, তাড়াতাড়ি তাও শান্তি পাবো,,,
আরহাম দাঁতে দাঁত চাপলো,সে জানে সে মরেও এই বিয়ে তার জাওরা বাপ হতে দিবে না,, আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো,,,পরপর নুবার কাছে এগিয়ে গেলো,,,এক টানে নুবাকে নিজের সামনে এনে দাঁড় করালো,,,নুবার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে বললো

_ ও যদি আমার না হয় তবে ওর মৃত্যুই যথার্থ,,,
নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,, আশ্চর্য সে আরহাম কি করছে,,,আরহামের হাত টিগারে চাপলেই নুবা এক সেকেন্ডে শেষ,,, আরহাম আরো চেপে ধরলো নুবাকে নুবা মৃত্যুর ভয়ে কিছুটা কম্পিত হয়ে বললো
_ কি,,কি করছেন,,,??
হারুন মির্জা এগিয়ে এসে বললো
_ আরহাম ছাড়ো ওকে,,
_ মেরে ফেলবো তাও অন্য কারো হতে দিবো না,,নুবা আমার ছিলো আমার আছে আর আমার থাকবে,,এই বাক্য দুনিয়া উল্টে গেলেও কেউ এদিক থেকে ওদিক করতে পারবে না,,
হাজেরা বেগম আরহামের কান্ড দেখে ভয় পেলো,,কলিজা যেনো মুখে চলে আসলো তার,,,নুবা চোখ মুখ খিচে বললো

_ ছাড়ুন,,,আমি মরতে চাই না,,,,
আরহাম সবার দিকে তাকিয়ে বলে
_ আমাকে ওর সাথে বিয়ে দিবে কি না,,, হ্যাঁ অথবা না,,,,
ছেলের রাগ দেখে হারুন মির্জা শুকনো ঢোক গিলে দুই হাত বাড়িয়ে ইশারা করে বললেন,,
_ আচ্ছা,, তুই যা বলবি তাই হবে,,ওকে ছাড়,,, মরে যাবে তো আরহাম,,,
আরহাম দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ এক্ষনি এই মূহুর্তে,,,,
_ এই সময় কজি কোথায় পাবো,, কালকে,,,
_ না,,,এক্ষনি,,এক্ষনি না হলে ওকে তো মরাবো সাথে তোমাদেরো,,,
আরহমের এরকম পাগলের মতো ব্যবহার করে হারুন মির্জা হাজেরার দিকে তাকালেন,,,হাজেরা কিছু বলতে পারছে না তার মাথা ঘুরছে,,,তার কলিজা কাঁপছে,,,সে ভাবেনি সত্যি সত্যি আরহাম নুবার মাথায় বন্দুক ঠেকাবে,,,

জায়মা বেগম প্রিউ কে বুকে জরিয়ে হাউমাউ করে কাঁদছেন,,,তার কানে ভেসে আসছে তার সন্তানের হৃদয় বিদারক আর্তনাদে শব্দ,,,, চোখের সামনে সহ হচ্ছে তাও প্রতিবাদ করার সুযোগ নেই,,,,আশে পাশে ৫ জন বসা,,সবার হাতে বন্দুক,,, একটা উল্টো কাজ তাদের সবার জীবন নিয়ে নিবে,,তাই জায়মা বেগম বেহুঁশ স্বামীর সামনে বসে হু হু করে কাঁদছেন তবে আফসোস কারো মায়া হচ্ছে না,,,
পরির দুধে আলতা ফর্সা মুখটা লাল হয়ে গেছে,,, মনে হচ্ছে একটা টোকা দিলেই রক্ত ঝড়বে,,,গাড়ো মিষ্টি রংএর ঠোঁটটা ফেটে রক্ত গড়িয়ে পড়লে,,,মাথার লম্বাচুল গুলো অর্ধেক বেনি খুলে এলোমেলো হয়ে বিছানায় পড়ে আছে,,,

নাবিল পরির সুন্দর সরু পুতুলের মতো আঙ্গুলোকে নিজের কালচে হাত দিয়ে আঙ্গুলের ফাঁকে ফাঁকে আঁকড়ে ধরলো,,,পরির ছটফট করে উঠলো,,গোলাপি হাতের তালুটা লাল বর্ন ধারন করলো,,,নাবির পারছে না পরির সুন্দর ফুলের ন্যায় হাতে গুলো দুমরে মুচড়ে নষ্ট করে ফেলতে,,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮৮

নাবিলের ভাবতেই অবাক লাগছে সেটা তার বহু দিনের স্বপ্ন ছিলো,,আজ সেই স্বপ্ন তার হাতের মুঠোয়,,,কতবার এই জিনিস টা পেতে পেতে সে ফিরে গেছে তবে আজ পরি তার শরীরের সাথে মিশে আছে,,, যেখান থেকে এক ফোঁটা নড়ার শক্তি টুকু পরির নেই,,,
পরি কোনো মতে নিঃশ্বাস নিচ্ছে,,,নাবিলের দেহের চাপে তার শরীরে,,হাতে ফোঁটা ছোট্ট ছোট্ট কাঁচের টুকরো গুলো আরো ভিতরে গেঁথে যাচ্ছে,,, যন্ত্রনায় পরি আর্তনাদ করছে,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here