Home পদ্মপ্রিয়া পদ্মপ্রিয়া পর্ব ২৭

পদ্মপ্রিয়া পর্ব ২৭

পদ্মপ্রিয়া পর্ব ২৭
ঈশিতা রহমান সানজিদা

বৈশাখ ও জৈষ্ঠ্য মাসে গাছে গাছে কৃষ্ণচূড়া ফোটে, লাল হয়ে থাকে গাছগুলো। ঠিক সেরকম লাল আভায় ছেয়ে গেছে নূরের মুখটা। মুখ লুকানোর জায়গা খুঁজল সে। এখান থেকে দৌড়ে চলে যেতে পারলে বেশ হতো। অগত্যা সে মুখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে ফিরলো। এই মুখ কিছুক্ষণের জন্য আর দেখাবে না আজমাঈন কে। আজমাঈন একটু দূরে সরে গিয়েছে। পকেটে হাত গুজে দিয়ে আরামে দাঁড়িয়ে আছে। নূরকে এমন লজ্জা দিয়ে নিজেকে বীরপুরুষ ভাবছে। কিন্তু বউয়ের লজ্জায় রাঙা মুখটা তো দেখতে পেলো না এখনও। আজমাঈনের পরনে কফি ব্রাউন কালারের ক্যাজুয়াল বাটন-ডাউন শার্ট এবং কালো রঙের স্ট্রেইট ফিট ট্রাউজার। ব্ল্যাক চেলসি বুট পায়ে, সটান হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে নূরের দিকে তাকিয়ে আছে। পুল সাইডে অল্প আলো। এখানের সব লাইট গুলো জ্বালানো হয়নি। পুল সাইডে আসা মাত্রই নূর নেকাব খুলে ফেলেছিল। সেজন্যই মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে। পরনে লাইট ব্লু রঙের গাউনটা খামচে ধরে আছে। মাথা নিচু করে নিজের পায়ের পাকিস্তানি নাগরা জুতোর দিকে তাকিয়ে রয়েছে। পুতি, স্টোন ও সূক্ষ্ম কারুকাজ দেখছে। মাথা তুলে তাকানো দায়।

মেয়েটার এমন অবস্থা দেখে আজমাঈনের হাসি পাচ্ছে, উচ্চস্বরে হাসতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু নাহ, হাসা যাবে না। নাহলে মেয়েটা আরো গলে যাবে। আজমাঈন আরো সামনে এগিয়ে গেল। যেতে যেতে প্রসঙ্গ ঘোরায়। বলে,’এই হোটেল আমার স্বপ্নের প্রজেক্ট, ভার্সিটিতে পড়াকালীন সময়ে স্বপ্ন দেখতাম। ভাবতাম কবে পূরণ হবে।’ আঙ্গুল দিয়ে ডান পাশে দেখিয়ে বললো,’বাইরের ওই দিকটায় রেস্টরন্ট হবে, সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি, এটা অবশ্য আমি ঠিক করেছি। সেখানে গেস্টদের জন্য বুফে থাকবে। লনের রাস্তার দু’পাশে ফুলের গাছ লাগাব ভেবেছিলাম। কিন্তু এখন তা ক্যান্সেল করেছি।’ আজমাঈনের কথা শুনে ততক্ষণে ঘুরে দাঁড়িয়েছে নূর। আজমাঈন ও ওর দিকে ফিরেছে। দূরের গেইট দেখিয়ে বলে,’হোটেলের দরজা থেকে মেইন গেইট পর্যন্ত লম্বা সরু লেক হবে। সেখানে অনলি পদ্মফুল থাকবে। আর কোন ফুলের স্থান সেখানে হবে না।’
মন্ত্রমুগ্ধের মতো কথা গুলো শোনালো, নূরের গাঁয়ে কাটা দিয়ে উঠল। ছেলেটা ওর প্রতিটা পছন্দ অপছন্দ নোটিশ করে রেখেছে, মুখস্থ বিদ্যার মতো। আপনমনেই নিজেকে শুধায়,’এরই নাম কি সুখ? আমি কি এই সুখ চেয়েছিলাম? আল্লাহ আমাকে কোন ক্ষতিপূরণ হিসেবে এত সুখ দিলো? নাকি এখনও সেই ক্ষতি হয়নি?’
দোটানায় এদিক ওদিক তাকায় নূর। ওর কথাগুলো আজমাঈনের কান অবদি পৌঁছায়নি। সে উচ্চস্বরে বলে উঠলো,’এবার বলো তুমি কি চাও? তোমার ইচ্ছে মতো এই হোটেলের কাজ করতে পারো। আমার প্রতিটি জিনিসে তোমার হক আছে।’

আনমনে নূর এগিয়ে গেল আজমাঈনের দিকে, তা দেখে আজমাঈন পা থামিয়ে দেয়। দু’কদম এগিয়েও আসে, তবে ও চায় নূর নিজ থেকে এগিয়ে আসুক। নূর যখন থামলো তখন আজমাঈনের সাথে সামান্য দূরত্ব। ওর শান্ত চাহনি আজমাঈনের বুকে ঝড় তোলে। ইচ্ছে করে দৌড়ে গিয়ে জাপটে ধরতে। আদুরে স্পর্শে ভরিয়ে দিতে, কিন্তু এখন তা করাটা বোকামি। নূরকে স্বাভাবিক জীবন দিতে হলে এতটুকু সহ্য করতেই হবে। কিছু সময়ের দূরত্ব যদি সারাজীবনের জন্য কাছে টানে তাহলে ওই দূরত্ব সয়ে নেওয়াই ভালো। আজমাঈন অপেক্ষা করছে সেই সময়ের জন্য। এখন শুধু শুকিয়ে চৌচির হয়ে যাওয়া বুকে এক পশলা বৃষ্টি নামার অপেক্ষায়। আজমাঈন বড্ড আশা করে আছে, সে দিনটা ওর প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সুন্দর হবে। এই আশায় দিন কাটে ওর।
নূরের ঠোঁট কিঞ্চিত প্রসারিত হয়, চট করে দেখলে বোঝা যাবে না। বলে ওঠে,’সময় যে এখনও বহু দূরে, ইচ্ছেরা ঘন কুয়াশায় মিলিত হয়েছে। ছোঁয়া বড্ড কষ্টকর।’

হুট করেই বাকি দূরত্ব মেটালো আজমাঈন, তবে ছোঁয়া লাগলো না। আকুল কন্ঠে বলে উঠলো,’আমি থাকতে আর কখনোই ঘন কুয়াশারা আসবে না। দু’হাতে আড়াল করে দেব।’
নূরের ধ্যান ভাঙল। সে চমকে উঠে চোখ সরায়।পুলের পানি ঝলমল করছে। বাতাসের ধাক্কায় মৃদুমন্দ ঢেউ খেলে যাচ্ছে। হাঁটু মুড়ে বসে উষ্ণ পানিতে হাত ডোবায় নূর। হাতে কালো রঙের হাত মোজা ভিজে গেল তৎক্ষণাৎ। আজমাঈন নিজেও ওর পাশে হাঁটু মুড়ে বসে। ডান হাতটা পানিতে হাত ডুবিয়ে বলে, ‘নামবে?’
‘ছোটবেলায় সাঁতার শেখার সময় নেমে ছিলাম। তারপর আর কখনো নামা হয়নি।’
‘তাহলে চলো!!’ কথাটা শেষ করেই পকেট থেকে ফোনটা বের করে সাইডে রাখলো। হাত ঘড়িটা খুলে নামিয়ে রাখলো। চেলসি বুটের চেইন টেনে খুলে দ্রুত জুতো মোজা খুলে ফেললো। ঝাঁপ দিলো পুলে, নূর থতমত খেয়ে মুখ ঢাকে। পানির ঝাপটা এসে মুখে লেগেছে। উঠে দাঁড়িয়ে পড়লো তখনই। আজমাঈন মাথা তোলে কয়েক সেকেন্ড পর। ততক্ষণে মাথার চুল ভিজে জবজবে হয়ে গেছে। পরনের শার্টটা গাঁয়ে লেপ্টে গেছে। খুব বেশি পানি নেই পুলে, আজমাঈনের কোমড় ছাড়িয়ে একটু উপরে উঠেছে পানির শেষ সীমানা। সে পেছন ফিরে নূরকে ইশারায় নামতে বললো। নূর দু’হাত নেড়ে বললো,’এভাবে ঝাঁপ দিয়ে নামা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’
‘তাহলে সিঁড়ি দিয়ে নামো।’

এই ছেলে ওকে নামিয়ে ছাড়বে দেখছি। সরাসরি মুখের উপর না করতে পারছে না নূর। এই সুযোগেরই সদ্ব্যবহার করছে আজমাঈন। নূর সিঁড়ি দিয়ে ধীরে ধীরে পা ফেলে নামলো। পানি অতোটাও ঠান্ডা না। পানি বুক ছুঁয়েছে, শরীর ইতিমধ্যে দ্বিগুণ ভারি হয়ে গেছে। আজমাঈন পানি ঠেলে এগিয়ে এসে বলে, ‘তোমার মাথার ওড়না আর গাউনের ভারে তো নড়তেই পারবে না, সাঁতার কাটা তো দূরে থাক।’
‘সমস্যা নেই এভাবেই ঠিক আছি।’
‘তাহলে প্রতিযোগিতার কি হবে?’
নূর পড়লো বিপাকে, অতিরিক্ত কথা বলা ছেলেটাকে থামানো মুশকিল। এখন কি বলবে? নূরের এমন অসহায় মুখ দেখে মায়া হলো আজমাঈনের। সে বললো,’আচ্ছা বাদ দাও। জলে না হলো, ডাঙায় তো হবে। দৌড় প্রতিযোগিতা করব।’

মৃদু রাগ দেখা গেল নূরের চেহারায়। ঠোঁটজোড়া হালকা ফুলে উঠলো। বললো,’আমি কোন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারব না। আপনি যেসব খেলায় জিতে যাবেন সেসব খেলা নির্বাচন করছেন।’
আজমাঈন অবাক হলো, ওরে বাবা!! বউ দেখি রাগ করতেও জানে। এই ব্যাপারে ধারণা ছিল না। আজমাঈন হাসলো, শার্টের হাতা ফোল্ড করে এগিয়ে এসে বললো,’কোন গেইম খেলতে চাও বলো, যেসব খেলা হারাম তা তো খেলা যাবে না। তুমিই কোনো গেইমের নাম বলো।’
নূর মাথা নিচু করে বলে,’জানি না, কখনোই খেলিনি।’
‘ফয়েজের সাথে পুশ আপ দেওয়ার প্রতিযোগিতা করতাম। কে বেশি পুশ আপ দিতে পারে, কিন্তু তুমি তো তাও পারবে না।’

‘আমি ভালো কোরআন তেলোয়াত করতে পারি।’
এবার আজমাঈনের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল। এই প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হওয়া ইম্পসিবল। নূরের মতো করে সে কখনোই তেলোয়াত করতে পারবে না। নূর ফের বললো,’জিতলে কিছু নেব না আর হারলে,,,,,।’
চোখের চাহনির পরিবর্তন হয় নূরের। কিছু একটা ভেবে বলে,’তাহলে আপনাকে তেলোয়াত শেখাতে পারি।’
নূর অজান্তেই কি বলে ফেলল তা বোঝেনি। এই কথার পরিণাম কি হতে পারে একবারও ভাবেনি। অপরদিকে আজমাঈন হাসি মুখে বলে উঠলো,’আমি হার স্বীকার করলাম। তুমি আমাকে শিখিয়ে দিবে, অর্থাৎ আজ থেকে তুমি আমার টিচার।’

নিজের কথায় নিজেই ফেঁসে গেছে নূর, এই ছেলের সম্মুখীন হলে এতোটা পোহাতে হবে ভাবেনি। এখন জবাব দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না। আজমাঈন তর্জনী আঙ্গুল তুলে বলে,’মনে থাকে যেন।’
বলেই ডুব মারলো, নূর চমকে পেছনে সরে। গেল কোথায়? স্বচ্ছ নীল পানির নিচটা দৃশ্যমান। সামনের দিকে সাঁতরে গেছে আজমাঈন। পুলের অপর পাড় ছুঁয়ে আবার ব্যাক করতেই নূর পিছিয়ে গেল। সরতে সরতে পিঠ ঠেকলো পাড়ে। দুহাত বুকে জড়ো হলো, ভাবলো যে নামাটা ঠিক হয়নি। আজমাঈন মাথা তুলে হাঁপিয়ে উঠলো। চুলগুলো ঝেড়ে বললো, ‘আগের মতো জোর পাচ্ছি না, আসলে অনেকদিন ধরে সাঁতার কাটি না তো।’
তখনই খেয়াল করলো নূরের অবস্থান। মেয়েটা ওকে শত্রু ভাবে নাকি? দেখলে কেমন পালাই পালাই করে। আজমাঈন সিঁড়ির দিকে এগোতে এগোতে বলে, ‘আজ আর নয়, তুমি চাইলে থাকতে পারো।’
নূর আতঙ্কিত গলায় বললো,’আমিও যাব!’
আজমাঈন পেছনে ফিরলো, চোখমুখে পানি বিন্দু জমে আছে। চুলগুলো কপালে লেপ্টে আছে। চোখের চাহনির পরিবর্তন হলো ওর। ধারালো গলায় বললো, ‘আমার সাথে?’

ছেলেটার কথাবার্তার ধরন আলাদা। সাধারণ কথা এমন রহস্য করে বলবে যে, গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠবে। এখন নূর কি জবাব দিবে? সে তো আজমাঈনের সাথেই এসেছে, ওর সাথেই যাবে। এই প্রশ্নের জবাব দিলে আবার কোন কথা দ্বারা আটকে দিবে কে জানে। নূরের ভাবনার মাঝেই আজমাঈন ওর দিকে এগিয়ে এসেছে। নূর তখনও পাড় ঘেঁষে দাঁড়িয়ে। আজমাঈন পাড়ের দুপাশে হাত রাখলো, বাহুর আড়ালে ঢাকা পড়লো নূরের দেহ। এতে ও যেন আরো কুঁকড়ে গেল। তবে চোখ তুলে তাকালো আজমাঈনের দিকে। আজ কেন যেন সংকোচ বোধ করছে না। ওদের দূরত্ব ইঞ্চি দুয়েক হবে। তবে ছেলেটার গভীর শ্বাস মুখে লাগছে নূরের। আজমাঈন বলে উঠলো,’তুরষ্কে প্রেমে পড়া মানুষেরা তাদের ভালোবাসার মানুষ কে তুর্কি ভাষায় একটা কথা বলে থাকে। “রুহুন, রুহুম; রুহুম, রুহুন ওলসুন।” যার অর্থ হলো, তোমার আত্মা আমার হোক; আমার আত্মা তোমার হোক।’

বলেই একটু থামলো। চোখের চাহনির গভীরতা কয়েক গুণ বেড়ে গেল আজমাঈনের। নূর তখনও ওর চোখের দিকে তাকিয়ে। আজমাঈন ঘাড় ডান দিকে কিছুটা হেলিয়ে বলে,’তোমাকে একটা কথা বলি?’ প্রশ্নের জবাব কে উপেক্ষা করে বললো,”রুহুন, রুহুম; রুহুম, রুহুন ওলসুন।” ফিসফিস করে বলে আজমাঈন। ওর এই গলার স্বর শরীরে কাঁপন ধরিয়ে দিলো নূরের। মাথা নিচু করে নিজের হাত দুটো শক্ত করে ধরলো। মনে মনে আল্লাহকে ডাকছে সে। এই মুহূর্তে সময়টা স্তব্ধ হয়ে গেলে ভালো হতো বুঝি। আজমাঈন কে ফেলে রেখে দিব্যি দৌড়ে চলে যেতে পারত। ইচ্ছে করছে পানিতে ডুবে বসে থাকতে। আজমাঈনকে যাতে কিছুতেই মুখ দেখাতে না হয়।
মেয়েটাকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলে রেখে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলো আজমাঈন। হাঁক ছেড়ে বললো,’এই যে মিস লজ্জাবতী, আপনি উঠে আসুন। আপনার মুখখানা এই স্বচ্ছ পানি গুলো অনেকক্ষণ ধরে দেখছে।’

নূর মনে মনে কপাল চাপড়ায়, কোন কুক্ষণে যে আজ পুলে নামলো। আজমাঈন কে বোঝা দায়। কখন কি বলে ধরা যায় না। নূর সিঁড়ির কাছে আসতেই হাত বাড়িয়ে দিলো আজমাঈন,’একা উঠতে পারবে না, হাত দাও।’
নূর নিজেকে সামলে হাত বাড়িয়ে দিতেই আজমাঈন হাত গুটিয়ে নিলো। আহত স্বরে বললো,’আমি সব সময় তোমার হক পূরণ করার চেষ্টা করি অথচ তুমি আমার দিকটা একটুও দেখো না? এমন বৈষম্য করাটা কি ঠিক?’
স্বামীর কথার ধরন দেখে আজ প্রথম নূর কিছুটা আঁচ করতে পারলো। ছেলেটা কি বোঝাতে চাইছে তা বোধহয় বুঝে গেছে নূর। বাম হাত দিয়ে ডান হাতের মোজা টেনে খুলে ফেললো। তারপর আবার হাত বাড়িয়ে দিতেই আজমাঈন নিজের হাত বাড়ায়। প্রথম স্পর্শ!! হ্যাঁ এটাই ওদের প্রথম ছোঁয়া। আজমাঈন নূরের কোমল, নরম হাত ধরে টেনে তোলে। কয়েক সেকেন্ডের এই ছোঁয়ায় আজমাঈনের ভালো লাগা বেড়ে যায়। ভেবছিল নূর বুঝি কিছুক্ষণ হাত ধরে থাকবে। তা আর হলো কই! উঠেই হাত ছেঁড়ে দিয়েছে। আজমাঈন বিড়বিড় করে বললো,’এরপর ধরলে শক্ত করে ধরে বসে থাকতে হবে।’

বড়বড় পা ফেলে এগিয়ে যায় আজমাঈন। পথে থেমে গিয়ে নূরকে বলে,’আমার ফোন আর ঘড়িটা নিয়ে আসো।’ সামনের দিকে পা বাড়িয়ে নিজেই নিজেকে বলে,’পিরিতের আলাপ করতে গিয়ে কানে পানি ঢুকেছে। কাজের কাজ তো কিছুই হলোনা, উল্টো কান তব্দা মেরে গেছে।’
কানে আঙ্গুল ঢুকিয়ে মাথা ঝাড়তে ঝাড়তে এগিয়ে গেল, দ্রুত রুমে গিয়ে আগে পরনের শার্ট খুলে ফেললো। তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে আয়নার সামনে এসে দাঁড়ায়। নূর আজমাঈনের জুতো জোড়াও নিয়ে আসছে। ভেজা কাপড়ে হাঁটতে পারছে না ঠিকমতো। বেশ কিছুক্ষণ পর রুমে এলো। দরজা হাট করে খোলা। সবে এক পা দিয়েছে। আজমাঈন কে উদাম গায়ে দেখেই ভুত দেখার মতো চমকে উঠলো। হাতে থাকা জুতো, ঘড়ি, ফোন সব পড়ে গেল। সাথে সাথে মুখ থেকে বেরিয়ে এলো, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ!’

পদ্মপ্রিয়া পর্ব ২৬

যথেষ্ট নিচু স্বরে বললেও আজমাঈনের কান পর্যন্ত তা পৌঁছে গেছে। সে অষ্ফুট স্বরে বলে উঠলো,’কিহ! আস্তাগফিরুল্লাহ!! আ’ম ইউর হাজবেন্ড, আমাকে দেখে মাশআল্লাহ বলবে তা না বলে আস্তাগফিরুল্লাহ! এও ছিলো কপালে!!’

পদ্মপ্রিয়া পর্ব ২৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here