Home প্রণয় ব্যাকুলতা প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৫০

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৫০

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৫০
ইনান হাওলাদার

কাল রাতে হুট করেই পাত্রপক্ষ বলেছে তারা আসছে । একটা কিছু পরিয়ে রেখে যাবে ।তারপর ফিক্সড হওয়া ডেইট অনুযায়ী বিয়ে হবে । তাই সকাল থেকেই বিরাট রান্না-বান্নার আয়োজন চলছে চৌধুরী বাড়িতে।এসবের কোনো কিছুতে হাত লাগাচ্ছেন না মারুফা বেগম।তবে পারভিন বেগম নিজ হাতে সব কাজ করছেন। নিজের দায়িত্ব পালন করছেন।তবে সবটাই ক্ষো’ভ থেকে।
আহির ঘুম ভে’ঙেছে কিছুক্ষন হয়েছে।কিন্তু এখনো কম্বলের নিচে পড়ে আছে।আরেক দফা ঘুমের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঘুমে এখনো চোখ লেগে আসছে,চোখের পাতা ভারী হয়ে আছে তাঁকাতে পারছে না।আবার গভীর ঘুমও আসছে না।মহা মুছিবত !

ঘুম ব্যতীত সর্বক্ষণ মানব মস্তিষ্ক সচল থাকে।কিছু না কিছু ভাবতেই থাকে।এইযে আহি এখন তার আর তূর্যের সম্পর্কের শুরু থেকে ভেবে আসছে। সাপে – নেউলে সম্পর্ক ছিল তাদের। তূর্য ভাই সবসময় তাকে ব’কতেন।তারপর ভালোবাসার সম্পর্ক হলো । কিন্তু জনাবের ব’কাবকি আর কোথায় কমলো!ভালোবাসা একটু,অল্প একটু বাড়লো এই যা। তারপর একটা ভুল সিদ্ধান্তে সবটা এলোমেলো হয়ে গেল।তূর্য তার থেকে দূরে সরে গেল। সে যখন নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে তূর্য ভাইয়ের উচিত সবটা ভুলে যাওয়া।কিন্তু উনি না ভুলে গোঁ ধরে বসে আছেন। মন খারাপ হলো আহির। তবে থাক ,সমস্যা নেই।ভুল যখন তার নিজেরই,তাই তাকেই মানাতে হবে।কিন্তু তাহলে কি হলো? ঘুরে ফিরে সম্পর্কটা আবার আগের জায়গায় চলে এলো। এসব ভাবতে ভাবতে আরেক খেয়াল এলো ওর। মনে মনে বলল,

” তুই এসব ভাবছিস কেন আহি? আবার ম’রে-টরে যাবি নাকি? ” পরমুহুর্তেই আবার নিজের বিরোধিতা করে ভাবলো,
” তূর্য ভাইয়ের সাথে সংসার না করা অবধি ম’রছিস না তুই । ওনাকে না জ্বালিয়ে তো তুই ম’রে ও শান্তি পাবি না।সো, চিল থাক!”
আরো কিছুক্ষণ ধরে আজগুবি চিন্তা করার ইচ্ছা ছিল হয়তো মেয়েটার।কিন্তু মারুফা বেগমের ডাকের জন্যে আর পারলো না। ওড়া-মোড়া খেতে খেতে উঠলো। বি’রক্ত কন্ঠে বললো,
” কি হয়েছে আম্মু ? আরেকটু শুয়ে থাকি, প্লিজ? ”
বলে আবার ধপ করে শুয়ে পড়লো। মারুফা বেগম স্বাভাবিক গলায় বললেন,
” তৈরি হয়ে নে। পাত্রপক্ষ এসেছে ”
লাফ দিয়ে উঠলো আহি। তড়িঘড়ি কন্ঠে বললো,

” কিন্তু আব্বু যে আমায় বলেছিল বিয়ের নাটক করতে?” তারপর আবার কিছু একটা ভেবে বলল,
” ও বুঝেছি ! আচ্ছা যাও আমি রেইডি হয়ে আসছি ”
বিছানা থেকে উঠে আলোর গতিতে ফ্রেশ হলো আহি। মারুফা বেগম এখনো ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছেন।ও ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে উৎফুল্ল চিত্তে বলল,
” আমাকে তাড়াতাড়ি শাড়ি পরিয়ে দেও আম্মু। ”
মারুফা বেগম কিছুক্ষণ মেয়ের দিকে তাঁকিয়ে রইলেন।আহির ভাব দেখে বুঝলেন ও হয়তো অন্যকিছু ভাবছে ।মায়ের এমন চিন্তাগ্রস্ত মুখ দেখে আহি সন্দিহান গলায় বলল,
“পাত্রপক্ষ তূর্য ভাই না?”
” না ,তূর্য না। ”
” তাহলে?” এতক্ষণ ধরে থাকা মুখের উজ্জ্বলতা উধাও হয়ে গেল মেয়েটার। মারুফা বেগম ওর কথার উত্তর না দিয়ে গম্ভীর গলায় বললেন,

” তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নিচে আয় ওদের আসার সময় হয়ে এসেছে ”
আহি কিছুক্ষণ মায়ের দিকে তাঁকিয়ে রইলো।তারপর বলল,
” এসব কি আম্মু ? আব্বু আমাকে বলেছিল শুধু মিথ্যা বিয়ের নাটক করতে। পাত্রপক্ষ মানে কি ?”
” সেটা তোর বাপকে গিয়ে বল।এখন এত কথা বলে তৈরি হয়ে নে” রে’গে বললেন মারুফা বেগম।
তে’জি কন্ঠে বলতে আরম্ভ করলো আহি,
” আব্বুকে তৈরি হতে বলো।যাবো না আমি তাদের সামনে ।যাও ,তোমার স্বামীকে গিয়ে বলো। কি শুরু করে দিয়েছেন উনি? সেদিন তোমাদের বেছে নেওয়াই আমার ভুল হয়েছে। যার জন্যে এই দেড়টা মাস ধরে আমি ধুঁকে ধুঁকে ম’রছি। ভেবেছিলাম তোমরা মেয়ের কষ্ট বুঝবে ।কিন্তু সেটা আর হলো কই। স্বা’র্থপর তোমরা । আমারও সেদিন স্বা’র্থপর হওয়া উচিত ছিল। তাহলে আজকে আর এই পরিস্থিতি হতো না। ”

” এত কথা না বলে যা বলছি তাই কর ”
চেঁ’চিয়ে উঠলো মেয়েটা। রাগে রীতিমতো গলা কাঁপছে ওর,
” করবো না আমি।পারলে করাও আমাকে দিয়ে।তোমার স্বামীকে ডাকো ”
কথাটা বলে দম ফেলার আগেই ওর গালে একটা চ’ড় এসে পড়ল।মারুফা বেগম রে’গে আগুন হয়ে আছেন।
বললেন,
” আমার স্বামী তোর কি হয় , কু’ত্তার বাচ্চা? তখন থেকে বে’য়াদবি করে যাচ্ছিস ”
আহি সামলে নিলো নিজেকে।গলার সুর পরিবর্তন না করে বলল,
” মে’রে ফেলো আমায় তবুও আমি তৈরি হবো না।আর তূর্য ভাই কোথায়? উনি জানেন না বাড়িতে কি হচ্ছে? ”
কথাটা শেষ হতে না হতেই দরজা নক করে ভিতরে প্রবেশ করলো তূর্য। ওকে দেখে শুধু আহি না , মারুফা বেগমের রুহু অবধি কেঁ’পে উঠলো।এ কি অবস্থা হয়েছে ছেলেটার! মাথার চুল উস্কোখুস্কো,মুখ শুকিয়ে এইটুকুন হয়ে গিয়েছে,চোখ কেমন লাল হয়ে গর্তের মধ্যে চলে গিয়েছে, ট্রাউজারের কিছু অংশ পায়ের নিচে গড়াগড়ি খাচ্ছে,কপালে ক্ষ’ত।সেখানে রক্ত জমাট বেঁধে শুকিয়ে আছে।দেখেই বোঝা যাচ্ছে কোনো প্রকারে ট্রি’টমেন্ট নেওয়া হয়নি। ও এগিয়ে আসতে আসতে সাবলীল গলায় বললো,

” আপনি যান মেজো মা।ও যাচ্ছে ”
চোখ মুছতে মুছতে চলে গেলেন মারুফা বেগম। আহি কিছুক্ষণ নিষ্পলক দৃষ্টিতে সামনে থাকা ক্ষ’ত – বি’ক্ষত হৃদয়ের পুরুষটিকে দেখলো।তারপর অস্পষ্ট স্বরে আউড়ালো,
” আপনার এই অবস্থা কেন তূর্য ভাই? কি হয়েছে ? কপাল কাঁ’টলো কিভাবে? ”
কোনো উত্তর দিলো না তূর্য।এসে আহির সম্মুখে দাঁড়ালো।আহি হাত বাড়িয়ে ওর কপাল ছুঁতে গেল।তূর্য তার মাথা কিছুটা পিছনে হেলে মেয়েটার হাতের নাগালের বাইরে চলে গেল।আহি ভাবলো তূর্য হয়তো অভিমান থেকে এগুলো করছে।সে তূর্যকে একটু অপেক্ষা করতে বলে এক ছুটে ওর রুমে গেল।ফার্স্ট এইড বক্স এনে সেখান থেকে স্যাভলন বের করে তুলায় ঢালতে ঢালতে আশ্বাস দিয়ে বলল,

” আরে কি ভাবছেন আপনি? আমি সত্যি সত্যি বিয়ে করছি?তাই রাগ থেকে এ কথা বলছেন ,তাইতো? ধুর ,না! আমার একটা প্ল্যান আছে ,শুনুন…..”
কথা শেষ করতে দিলো না তূর্য।ওকে থামিয়ে দিয়ে বলল,
” রেইডি হয়ে নিচে যা ”
তূর্য তাকে নিজে থেকে তৈরি হতে বলছে? বিশ্বাস করতে পারলো না মেয়েটা।অবিশ্বাস্য গলায় হালকা চেঁচিয়ে উঠলো আহি,
” পাগল হয়ে গেছেন আপনি? রেইডি হবো মানে কি ? ম’রে গেলেও রেইডি হবো না। ”
” টাইম ওয়েস্ট করিস না আহি ” স্বাভাবিক কন্ঠস্বর তূর্যের।
আহি তূর্যের এমন ব্যবহার কিছুতেই নামতে পারছে না। রে’গে বললো,
” আপনি তো আপনার চাচার চেয়ে বড় হি’টলার তূর্য ভাই। ভালোবাসি একজনকে,আর বিয়ে করবো আরেকজনকে?”

” কাউকে ভালোবাসলে তাকেই বিয়ে করতে হবে কোথায় লেখা আছে? ”
” ওহ বুঝেছি! যেই দেখেছেন বড় আব্বু সুন্দর সুন্দর মেয়ের সমন্ধ এনেছে ওমনি পল্টি মা’রছেন, না ? আরে আপনি তো ভালোই বাসতে জানেন না। ভালোবাসার মর্ম কি বুঝবেন! ”
রা’গের মাথায় মুখে যা আসছে তাই বলছে আহি।
” হ্যাঁ,ঠিক ধরেছিস।আমি জানি না,তুই জানিস।নাউ হ্যাপি?”
এবার নরম হলো আহির কন্ঠ। তূর্যের বুকের কাছের টিশার্ট দুই হাতে খাঁ’মচে ধরে অসহায়ত্ব নিয়ে বলল,
” আপনার কি হয়েছে তূর্য ভাই? আব্বু কি বলেছে বলুন না আমাকে। ”
আহির হাত ছাড়াতে ছাড়াতে শান্ত কন্ঠে তূর্য বলল,
” ভালোবাসি না তোকে , তাই এমন করছি । ছাড় ! ” শেষ কথাটা ধমকে বললো সে।
আহি ছেড়ে দিলো তূর্যকে। কান্নাটুকু গিলে বলল,

” আপনি বললেই কেন মেনে নিবো আমি? আমি জানি আপনি আমাকে ভালোবাসেন। আচ্ছা ,মেনে নিলাম সবটা। আমি এই বিয়েও করবো।তার আগে আমাকে আগের আহি করে দিন। যে সব সময় আপনার পিছনে লাগতো, বকা শোনানোর জন্যে সুযোগ খুঁজে বেড়াতো।আর…..আর এতদিন আমাদের মধ্যে যা কিছু হয়েছে সবটা ভুলিয়ে দিন।”
” মনে রাখার মতো কিছুই হয়নি আমাদের মধ্যে ”
আহির প্রতিটা কথার উত্তর এক প্রকার য’ন্ত্রের মতো দিচ্ছে তূর্য। যেন মনে হচ্ছে মনে কোনো অনুভূতি নেই লোকটার। এতক্ষণে একটা বারের জন্যে মেয়েটার চোখের দিকে তাঁকায়নি ও। আহি তাচ্ছিল্য হেসে বলল,
” ওহ , সত্যি ? ভালো কথা!আপনি অন্যদিকে তাঁকিয়ে কেন আছেন ? আমার দিকে তাঁকান , আমার চোখের দিকে তাঁকিয়ে কথা বলুন ”
তূর্য রক্তিম চোখ জোড়া সামনে থাকা মানবীর দৃষ্টিতে স্থির করে পুনরায় বলল,

” কিছু হয়নি আমাদের মধ্যে ”
” কিছুই হয়নি ? তাহলে সেদিন ছাদে আমার গলার ক্ষ’ত কিভাবে হয়েছিল? কে করেছিল ওই ক্ষ’ত? বলুন,আপনি করেন নি ? ” আস্তে আস্তে উচ্চ হলো ওর কন্ঠ ।
” আহি প্লিজ! এমনিতেই ঘৃণা লাগছে নিজের উপর। তুই আর সেটাকে বাড়িয়ে দিস না, ফর গড সেক ”
এতক্ষণে গলার সুর উঁচু করলো তূর্য।
” আর আমার শরীরে যে ক’লঙ্ক লাগলো?”
” হোয়াট ন’নসেন্স ! ‘ ক’লঙ্ক ‘ মিন’স হোয়াট ? ক’লঙ্ক কাকে বলে বুঝিস? ” ধ’মকে বলল তূর্য।
আহি রে’গে-মেগে উল্টা পাল্টা আরো কিছু বলতে যাচ্ছিল।কিন্তু পারলো না। তার আগেই ড্রয়িং রুম থেকে মা’ত্রাতিরিক্ত শোরগোলের আওয়াজ ভেসে আসছে। ত’র্কাতর্কি হচ্ছে কারো মধ্যে।তূর্য ব্যস্ত পায়ে হেঁটে নিচে নামলো।আহিও ওর পিছুপিছু গেল।বাড়ির প্রতিটা সদস্য সেখানে উপস্থিত থাকলেও কথা কা’টি’কা’টি হচ্ছে আসলাম চৌধুরী এবং মারুফা বেগমের। এত বছরের সাংসারিক জীবনে প্রথমবারের মতো স্বামীর সাথে এত উচ্চ কন্ঠে কথা বলছেন মারুফা বেগম।এই পর্যায়ে আসলাম চৌধুরী বি’দ্রুপের সহিত বললেন,

” ওহ,তার মানে তোমরা তিনজনেই এসব কিছু আগে থেকে জানতে। তা মারুফা তুমি যে তূর্যের দুধ মা সেটা মাথায় ছিল না? তখন ছেলে মেয়েদের আটকাতে পারলে না ? ”
আসলাম চৌধুরীর কথা শুনে কিছু মুহূর্তের জন্যে সবাই থমকে গেল। পারভিন বেগম একবার নিচে নেমে আসা ছেলে-মেয়ে দুটোর মুখের দিকে চাইলেন ।আহি জড় বস্তুর ন্যায় দাঁড়িয়ে পড়েছে।যেন চোখের পলক ফেলতেই ভুলে গেছে। অস্বাভাবিক কায়দায় দুই ঠোঁট কাঁপছে এই বুঝি ডুকরে কেঁ’দে উঠবে। চোখের পানি গাল বেয়ে গলায় এসে ঠেকেছে।

আর তূর্য? ওর মুখ খুবই স্বাভাবিক।তাহলে ও কি আগে থেকেই সবটা জানতে পেরেছে? নিজেকে নিজে প্রশ্ন করলেন পারভিন বেগম। হয়তো এইজন্যেই সকালে তিনি ওকে বারবার ডেকেও সাড়া না পেয়ে যখন কলে আহির বিয়ের ব্যাপারে সবটা খুলে বলেন ছেলেটা তেমন কোনো গরজ দেখায় না। ওনার কথা শেষে শুধু ” আচ্ছা ” বলে কল কা’টে।
এতক্ষণে ছেলের দিকে পূর্ণ নজর দিলেন পারভিন বেগম।এভাবে কপাল কাঁ’টলো কি করে? দুই হাতের কনুইয়ের পাশটা নিয়েও ক্ষ’ত চিহ্ন। তিনি এগিয়ে গেলেন ওদের কাছে।
আজ থেকে প্রায় ত্রিশ বা ঊনত্রিশ বছর আগের ঘটনা —-

আহি-ই আসলাম চৌধুরী আর মারুফা বেগমের একমাত্র সন্তান নয়। এর আগে তাদের কোল জুড়ে এক পুত্র সন্তানের আগমন ঘটে। যে তূর্যের মাত্র ছয় মাসের ছোট।তূর্যের যখন আট মাস বয়স তখন সূর্য মাত্র দুই মাসের। হঠাৎ একদিন জরুরি কাজে আকবর চৌধুরীর সাথে বাইরে যেতে হয় পারভিন বেগমের। প্রচণ্ড রোদে ছেলেকে না নিয়ে জা’য়ের দায়িত্বে রেখে যান। খুব শীঘ্রই ফিরে আসার নিয়ত থাকলেও ঝা’মেলায় আটকে পড়েন। যার ফলস্বরূপ দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে যায়। তূর্য ঘুম থেকে উঠে কা’ন্না আরম্ভ করে।বাচ্চা ছেলে এতক্ষণ না খেয়ে কিভাবে থাকবে। এদিকে তখনো পর্যন্ত মাতৃদুগ্ধ ব্যতীত কোনো বাড়তি খাবার খেতে পারতো না সে। মুখে কিছু দিলেই গলগল করে ব’মি করে দিতো। মারুফা বেগম পাতলা করে সুজি রান্না করে খাওয়ানোর চেষ্টাও করেন কিন্তু ব্য’র্থ হন।তারপর অপারগ হয়ে আসলাম চৌধুরীকে কল করেন। ছেলেটাকে ফিডিং করানোর জন্যে অনুমতি চান।আসলাম চৌধুরী সাথে সাথে অনুমতি দেন।
সবাইকে অবাক করে দিয়ে মারুফা বেগম চেঁ’চিয়ে উঠলেন,

” নাহহহ! আমি তূর্যের দুধ মা নই ”
আসলাম চৌধুরী বললেন,
” এখন তুমি মিথ্যা বলবে আহির মা।সেইদিন যে আমার থেকে অনুমতি নিলে । তারপর ? এসব মিথ্যা?”
” হ্যাঁ,মিথ্যা! আমি তোমার থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম ঠিকই । কিন্তু কল কাটার পর দেখি তূর্যটা ঘুমিয়ে পড়েছে। তাই আমি আর বাচ্চা ছেলেটার ঘুম ভাঙাই না।আর তূর্য ঘুম থেকে উঠার আগেই বড় বুবু ফিরে আসেন। ”
কল কাটার পরের কোনো কাহিনী-ই জানেতেন না আসলাম চৌধুরী। পুরোটা-ই অজানা ওনার। তূর্য এগিয়ে আসে মারুফা বেগমের নিকট। দুই হাতে ওনার মুখ আঁজলা করে ধরে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল,
” সত্যি মেজো মা? সত্যি বলছেন আপনি? মাত্র যা যা বললেন এই সবটা সত্য না? চাচ্চু ভুল জানতেন তাই তো? আহির সাথে আমার ওসব কোনো রিলেশন নেই ? ও শুধুই আমার কাজিন ? ”
তূর্যের এমন বাচ্চা সুলভ একের পর এক প্রশ্ন শুনে মারুফা বেগম উপর-নিচ মাথা নাড়াতে নাড়াতে কান্না মিশ্রিত গলায় বললেন,

” হ্যাঁ বাবা,হ্যাঁ ! আহি শুধু তোর চাচাতো বোন।ওর সাথে আর কোনো সম্পর্ক নেই তোর ”
তূর্য ওনার দিক থেকে চোখ সরিয়ে আহিকে ডাকলো ।বলল,
” আহি ,দেখ…” থেমে গেল ও। নেই! আহি কোথাও নেই ! ড্রয়িং রুমের চারিপাশ টা চোখ বুলালো ও।সাথে বাকিরাও। কোথায় গেল মেয়েটা ? সে যে অনেকক্ষণ আগেই জায়গা ছেড়েছে কেউ খেয়ালও করেনি।
হঠাৎ উপর থেকে কিছু একটা পড়ার আওয়াজ ভেসে আসলো।সবার যেন টনক ন’ড়লো।কিছু একটা বুঝতে পেরে একযোগে ছুটে উপরে গেল সবাই। সবার মন একই কথা ভাবছে।
যতক্ষনে সবাই উপরে পৌঁছালো ততক্ষণে অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে। বাড়ি শুদ্ধু লোক হাঁ’হাকার করে উঠলেন। আর মারুফা বেগম এক পলক তাঁকিয়েই জ্ঞান হারালেন। বাকিরা কাকে রেখে কাকে সামলাবে বুঝতে পারছেন না। তাহি হা’উমাউ করে কাঁ’ন্না শুরু করে দিয়েছে।

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৪৯ (২)

ফ্যানের সাথে ঝুলে আছে আহি। জীবন বাঁ’চানোর তাড়নায় দুই পা প্রচণ্ড রকমে দাপাদাপি করছে।হয়তো মৃ’ত্যু য’ন্ত্রণায় ছটফট করছে।চাইছে না পৃথিবীর মায়া ছেড়ে যেতে।তূর্য দৌঁড়ে গিয়ে ম’রণ যন্ত্র’ণায় কাঁ’তরাতে থাকা প্রেয়সীর পা উচুঁ করে ধরলো।ও নিজের শরীরেই বল পাচ্ছে না। হাত-পা ঠাণ্ডা বরফ হয়ে গেছে।যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে-ই কষ্ট হচ্ছে। উপরওয়ালার কাছ থেকে এ কি ভাগ্য চেয়ে নিয়ে এসেছিল ওরা? তাদের ভাগ্য কেন এত নিষ্ঠুর ! শেষ পর্যন্ত তাকে নিঃ’স্ব এভাবে ছেড়ে যাচ্ছে মেয়েটা।

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৫১