Home প্রণয়ের ঘোর রাত প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ৫

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ৫

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ৫
আরাফাত আদনান সামি

আকাশের একপাশ কালো মেঘে ঢেকে গেছে, যেন কেউ বিশাল ভাবে গভীর ছায়া এঁকে দিয়েছে। মৃদু হাওয়া বইছে চারপাশে, আকাশ বারবার হালকা গর্জন করে উঠছে। ছাদের এক কোণে সোফায় তখনও গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে মায়া। গাছের পাতাগুলো কাঁপতে শুরু করেছে, যেন মুহূর্তেই ঝরঝর করে বৃষ্টি নেমে আসবে। দূরে কোথাও বজ্রপাতের ক্ষীণ শব্দে আচমকাই ঘুম ভাঙলো মায়ার। ঘুম ভাঙতেই চোখের সামনে ধরা দিলো এক ভয়ংকর দৃশ্য, আকাশ কালো মেঘে ঢাকা, চারপাশে অদ্ভুত এক স্তব্ধতা। মাঝে মাঝে শুধু হালকা বাতাসের সুর কানে বাজছে। পাখিরা অস্থির হয়ে উঠেছে, কেউ ছুটছে আপন নীড়ে, কেউ আশ্রয়ের খোঁজে ডানা ঝাপটাচ্ছে। মানুষজনও তড়িঘড়ি করে নিজের কাজ গুটিয়ে নিচ্ছে। কেউ কেউ ছাতা নিয়ে ছুটে পড়েছে রাস্তায়।

এমন সময়েই আকাশে ঝরলো প্রথম বৃষ্টির ফোঁটা। ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির স্পর্শে কেঁপে উঠলো মায়ার দেহ। মনপাড়ায় দোলা দিলো অচেনা এক অনুভূতি। অদ্ভুত আকুলতা, কারও খুব কাছাকাছি যেতে ইচ্ছে করছে তার। চোখ বুজতেই হঠাৎ কৌশিকের স্নিগ্ধ মুখশ্রী ভেসে উঠলো মনের পর্দায়। মায়া ঘাবড়ে গেল। অনুভূতির সাগরে ডুবতে ইচ্ছে করছে, আবার সেই অতীত ও মনে করে ভয় পাচ্ছে।
চোখ মেলে নিচে তাকাতেই হৃৎস্পন্দন থেমে গেলো মায়ার। ছাদের নিচের বাড়ির পেছনের দিকটা স্পষ্ট দেখা যায় সেখান থেকে। কালো প্যান্ট আর ভেতরে গুঁজে দেওয়া সাদা শার্ট পরে দাঁড়িয়ে আছে কৌশিক।
মায়া কিঞ্চিৎ চমকে উঠলো। এ কি কেবল আমার কল্পনা? না কি সত্যি? চোখ দুটো দু’হাতে ডলে নিয়ে আবার তাকালো। না, ভুল নয় এই তো কৌশিক ভাই! তার দিকেই তাকিয়ে আছে সে। বৃষ্টির পানিতে ভিজে পাপড়িগুলো ভারী হয়ে আছে, তবু পলকহীন দৃষ্টিতে কেবল মায়াকেই দেখছে কৌশিক।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

মায়া কিছুক্ষণ নির্বাক দাঁড়িয়ে রইল। তারপর আচমকা পা বাড়িয়ে তড়িঘড়ি করে ছুটলো নিচে। বাড়ির পেছনে গিয়ে সত্যিই থমকে দাঁড়ালো, কৌশিক ভাই, সত্যিই এসেছে! অবিশ্বাসে চোখ ভরা বিস্ময় নিয়ে চেয়ে রইলো মায়া।
ধীরে ধীরে এক পা, দুই পা করে কৌশিক এগিয়ে আসছে মায়ার দিকে। দুইজনই ভিজে গেছে পুরোপুরি বৃষ্টিতে। তবু যেন কিছুই টের পাচ্ছে না কেউ। দু’জনের মাঝে এক হাত সামান্য দূরত্ব একা একা অজানা টান তাদের আরও কাছে টেনে আনছে।
কিছুক্ষণ তারা শুধু একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর হঠাৎ গভীর, নেশাগ্রস্ত ঘোরে কৌশিক বলে উঠলো,
“সুইটহার্ট…”
মায়া যেন আকাশ থেকে মাটিতে আছড়ে পড়লো এই শব্দে। পুরো শরীর কেঁপে উঠলো কৌশিকের ডাকে। হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলো মায়ার। কৌশিক মায়ার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মুহূর্তের ঘোর ভেঙে উঠে সে আবার বলল,

“নতুন ফিলিংসের সাথে পরিচয় হও, আমার জঙ্গলি মেয়াও।”
মায়া কোনো কথা বলছে না। শুধু স্থির হয়ে কৌশিকের দিকে তাকিয়ে আছে। কৌশিকের চোখে কী আছে? কেনো বারবার মায়া নিজের মনকে হারিয়ে ফেলছে? মায়া ধীরে দীরে আরো স্পষ্ট চোখে তাকাল কৌশিকের দিকে। কিন্তু যতই চেষ্টা করুক না কেনো, কৌশিকের চোখের ভাষা বোঝা তার পক্ষে সম্ভব হলো না।
কৌশিক হালকা মুচকি হেসে বলল,
“সুইটহার্ট, আমার জঙ্গলি মেয়াও, চোখ দিয়ে কি এখনি গিলে খাবি নাকি আমাকে? একে তো আমি তোর চোখের নেশা কাটিয়ে উঠতে পারি না, তার উপর এইভাবে দৃষ্টি ফেলে আমাকে দেখছিস!”
কৌশিকের কথায় মায়া হকচকিয়ে উঠল। এতক্ষণে সে মনে হয় বাস্তবে ফিরল। নিজের অজান্তে এক পা পিছিয়ে গেলো। কণ্ঠে কাঁপা স্বরে অনুনয় করল,
“আ… আপনি এখানে কেন এসেছেন? আপনি এখান থেকে চলে যান। প্লিজ কৌশিক ভাই, আপনি এখান থেকে চলে যান।”

মায়া এমন করে আরো নানা ভাবে একটানা বকবক করে বলেই যাচ্ছে, আর কৌশিক এদিকে একপলকে তাকিয়ে দেখেই চলেছে তাকে। পড়নে গাঢ় নীল রঙের একখানা গোল জামা। বৃষ্টির ভেজায় জামাটা শরীরের সাথে লেপটে গেছে। সেই মুহূর্তে কৌশিকের দৃষ্টি যেন মায়ার উপরই থমকে গেলো। দেহের প্রতিটি কোণায় বৃষ্টির ফোঁটা ঝলমল করছে। নীল জামার ঝিকিমিকি পুতিগুলো বৃষ্টির আলোয় যেন মায়াকে নীল পরির মতো সাজিয়ে তুলেছে। মনে হচ্ছিল, যেন আকাশ থেকে সত্যিই নেমে এসেছে এক নীল পরি, আর জমিনে এসে বৃষ্টির ভেজায় নিজের নীলাময় রূপের জাদু বিলিয়ে দিচ্ছে চারপাশে। সেই জাদুর ঘোরে কৌশিক আরও গভীরভাবে ডুবে যাচ্ছে। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা যেনো মায়াকে আরও সৌন্দর্যমণ্ডিত করে তুলছে। জামার নীলা পুতিগুলো বৃষ্টির ঝাপটায় রং পাল্টে চকচক করছে, যেনো মায়ার পরীরূপের খবর দিচ্ছে। কৌশিক সব অনুভব করছে তার হৃদস্পন্দন ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে, মায়ার ঘোরের নেশায় ডুবে।
ঠিক তখনই মায়া কিছুটা জোরে বলে উঠল,

“আমি কী বলছি, আপনি শুনতে পাচ্ছেন না? এক্ষুনি এখান থেকে চলে যান!”
কৌশিক যেন ঘোর থেকে আচমকা বাস্তবে ফিরে এল। ঠোঁট কিঞ্চিৎ ফাঁক করে গভীর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল সে। তারপর ধীর পায়ে এগিয়ে গেল মায়ার দিকে। মায়ার কানের কাছে সামান্য ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল,
“মাই জঙ্গলি মেয়াও…”
মুহূর্তেই মায়া থমকে গেল। এতক্ষণ যে নিরন্তর বকবক করছিল, কৌশিকের এই ফিসফিসানি যেন তাকে স্তব্ধ করে দিল। শরীর হালকা কেঁপে উঠল তার। পেছন ফিরে পালাতে চাইলো, কিন্তু হঠাৎই আটকা পড়ল বলিষ্ঠ হাতের বাঁধনে। সে বাঁধন থেকে ছিনিয়ে বেরিয়ে আসার সাধ্য নেই তার। একটানে কৌশিক মায়াকে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে ফেলল। মায়া শক্তপোক্ত বুকের সাথে ধাক্কা খেয়ে মৃদু শব্দ করে উঠল,

“উফ্…”
কৌশিক মায়ার কোমরে এক হাত রেখে টেনে নিলো কাছে। এক হাতে উঁচু করে মায়ার দিকে তাকিয়ে বলল,
“কত বকবক করিস রে তুই! এক নম্বরের বাচাল কোথাকার!”
মায়া তৎক্ষণাৎ জবাব দিলো,
“আমার মুখ, আমি যা ইচ্ছা…”
কিন্তু বাকিটুকু বলার আগেই কৌশিক তার আরেক হাত দিয়ে মায়ার ঠোঁটে আঙুল রাখল। এক মুহূর্তের নীরবতা। এরপর ধীরে ধীরে আঙুল সরিয়ে নিলো সে। এখন কৌশিক পুরোপুরি মায়ার ঘোরে ডুবে আছে। চোখে এক অদ্ভুত নেশা। ধীরে ধীরে সে মায়ার ঠোঁটের দিকে ঝুঁকতে লাগল। মায়া আতঙ্কে কৌশিকের ঘাড়ে নিজের ধারালো নখ বসিয়ে দিলো। ব্যথায় কৌশিক সামান্য কেঁপে উঠল, মুখটা কিছুটা উপরে তুলে নিল।
মায়া ঝড়ের মতো বলে উঠল,

“ছাড়ুন আমাকে!”
কৌশিক ঠান্ডা স্বরে জিজ্ঞেস করল,
“না ছাড়লে?”
“আমি চিৎকার করব!”
“কর তাহলে।”
“মানুষ দেখে ফেললে খারাপ বলবে, ছাড়ুন আমায়।”
কৌশিক ঠোঁটে একরাশ তাচ্ছিল্যের হাসি টেনে নিল,
“হব খারাপ।”
“এইসব অসভ্যতামি আমার একদম পছন্দ নয়,ছাড়ুন আমায়!”
“আমি তো ছাড়ছি না। নিজে ছুটতে পারিস না? তোর হাত নেই?”
মায়া প্রাণপণে চেষ্টা করেও কৌশিকের বলিষ্ঠ হাতের বাঁধন থেকে মুক্ত হতে পারল না। হতাশ হয়ে বলে উঠল,

“প্রতিনিয়ত আপনি আমার সাথে এভাবে জোরজবরদস্তি করতে পারেন না।”
কৌশিকের চোখ দুটো রক্তবর্ণ আগুনের মতো জ্বলে উঠল। দাঁত চেপে বলল,
“অবশ্যই করতে পারি। তোর উপর সম্পূর্ণ অধিকার আছে আমার।”
মায়া চোখ বড় বড় করে তাচ্ছিল্যের মতো একটা হাসি দিয়ে বলল,
“অধিকার? কোন অধিকারের কথা বলছেন আপনি? আমি ঠিক বুঝতে পারছি না। অধিকার মানে কী আপনি সেটা বোঝেন? কৌশিক ভাই, ওহ সরি, সরি,কৌশিক নীর চৌধুরী।”
এমন নামের উচ্চারণে যেন কৌশিকের বুকের ভেতর আগুন জ্বলে উঠল। বৃষ্টির ঝাপটা সত্ত্বেও তার চোখ থেকে যেন বিদ্যুৎ ঝরে পড়ছে। মায়া সেটা বেশ ভালো করেই বুঝতে পেরলো। মায়া ভয় পেয়ে মনে মনে বলে উঠল,
“যাব্বা,বেশি বলে ফেললাম নাকি? যদি আবার ওইদিনের মতো না’না’না’ননানানা…”
তার ভাবনা শেষ হওয়ার আগেই কৌশিক আরও শক্ত করে মায়ার কোমর আঁকড়ে ধরল। ঝড়ের মতো টেনে নিল নিজের বুকের সাথে। তারপর ফিসফিস করে বলল,

“কী বললি তুই? আমি অধিকার মানে বুঝি না? আজ তোকে দেখাচ্ছি, অধিকার কাকে বলে আর কীভাবে তা আদায় করে নিতে জানে কৌশিক নীর চৌধুরী।”
কৌশিকের এমন কথায় মায়ার চোখে ভয় স্পষ্ট। বুকের ভেতর ধুকপুক ধ্বনি যেন বাইরে পর্যন্ত শোনা যাচ্ছে। কৌশিক এবার ধীরে ধীরে মায়াকে ছেড়ে দিয়ে নিজের শার্টের বোতাম একে একে খুলতে শুরু করল। প্রতিটি বোতাম খোলার সঙ্গে সঙ্গে তার পেশিবহুল বুক, দৃঢ় বক্ষপাঁজর আর জিমে গড়া শরীর স্পষ্ট হয়ে উঠল। বৃষ্টির ফোঁটা সেই গাঢ় ত্বকে গড়িয়ে পড়ছে, যেনো বজ্রঝলকানি আলোয় ঝিকিমিকি করছে।কৌশিকের দৃষ্টি এক মুহূর্তও মায়ার উপর থেকে সরছে না। সে এগোচ্ছে ধীরে, আর মায়া আতঙ্কে ভয়ে ভয়ে এক’টা, দু’পা পিছিয়ে যাচ্ছে। যখন মায়া দৌড় দিয়ে পালাতে উদ্যত, তখনই কৌশিক এক ঝটকায় তাকে নিজের উন্মুক্ত বুকের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল। কৌশিকের শক্ত বাঁধনে মায়ার বুক কেঁপে উঠল। বক্ষপটে তীব্র কম্পন সৃষ্টি হলো তার। হঠাৎই মায়া কেঁদে দিল। চোখ ভিজে গেল অশ্রুতে। কণ্ঠ কাঁপতে কাঁপতে অনুনয় করল,

“ছেড়ে দিন বলছি…”
কৌশিক ঠান্ডা অথচ ভয়ার্ত স্বরে উত্তর দিল,
“ছাড়ার জন্য তো ধরিনি তোকে। আজ আমি আমার সব অধিকার নিয়েই ছাড়ব।”
মায়া ভয়ে এবার আরও জোরে কেঁদে উঠল। ভাঙা ভাঙা স্বরে বলতে লাগল,
“অসভ্য,বাদর, ইতর,শয়তান নীর চৌধুরী। ছা..ছাড়ুন আমাকে,ছাড়ুন বলছি…”
কৌশিক কোনো উত্তর দিল না। ধীরে ধীরে তার হাত উঠল মায়ার গালের দিকে। ভেজা আঙুলে গাল ছুঁয়ে নিলো সে। সেই স্পর্শে মায়া কেঁপে উঠল, শরীরের প্রতিটি শিরা উপশিরায় শিহরণ খেলে গেল। আঙুলটা গাল থেকে আস্তে আস্তে নেমে এলো গলার দিকে। মায়া চোখ শক্ত করে বুজে ফেলল।
চোখ বন্ধ করেই কণ্ঠরুদ্ধ স্বরে বলল,
“কী চাইছেন আপনি?”
কৌশিকের ঠোঁটে মৃদু এক বাঁকা হাসি ফুটে উঠল। গভীর কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,
“তোকে।”

কৌশিকের স্পষ্ট স্বীকারোক্তি শুনে মায়া মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। চোখ দুটো বিস্ফোরিত হয়ে উঠল অবিশ্বাসে।কৌশিক ধীরে ধীরে তার দিকে ঝুঁকে এলো। মায়ার বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দ আরও বেড়ে উঠল। হঠাৎই সে মায়ার নাকে নিজের নাক আলতো করে ঘষে দিল। মায়ার শরীর কেঁপে উঠল এক অদ্ভুত অনুভূতিতে। তার ভারী নিঃশ্বাস পড়ছে মায়ার মুখের উপর, গাল বেয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে সেই উষ্ণতার ছোঁয়া। চারপাশে শুধু ঝরঝরে বৃষ্টির শব্দ, অথচ দু’জনের মাঝখানে যেন আরেকটা ঝড় বয়ে যাচ্ছে। মায়া দিশাহারা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল কৌশিকের চোখে। ওই চোখে ভয়ও আছে, আবার এক অদ্ভুত আকর্ষণও, যেখান থেকে মায়া বারবার পালাতে চাইছে, অথচ পারছে না।
কৌশিক তার দু’হাতে দিয়ে মায়ার দুই গালে হাত রেখে কপালের সাথে কপাল ঠেকিয়ে ঘোর লাগা কণ্ঠে বলল,
“মাই ওয়াইল্ড মেয়াও, ইউ নো, ইউ লুক সো বিউটিফুল, সুইটহার্ট। টুডে আই রিয়ালি ওয়ান্ট টু হ্যাভ ইউ। বিলিভ মি, আই ক্যান্ট কন্ট্রোল মাইসেল্ফ এনি‌মোর।”

এটা বলে যেই কৌশিক মায়ার ঠোঁটের দিকে আস্তে আস্তে তার ঠোঁট এগোতে লাগল ঠিক তখনই মায়া হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে কৌশিকের বুকে হেলিয়ে পড়ল। কৌশিক একটু অবাক হয়ে মায়ার দিকে তাকিয়ে রইল। মায়ার এই বাচ্চামো স্বভাবগুলো কৌশিকের খুব ভালো লাগে তার বকবকানি, আর তার ছোটখাট দূরে সরে যাওয়ার বাহানাগুলো কৌশিককে অদ্ভুত আনন্দ দেয়। তাই নিজেকে হাসি থেকে আটকাতে পারল না। কৌশিক জোরে করে হেসে উঠল।
হাসতে হাসতে সে মায়ার দিকে তাকিয়ে বলল,

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ৪

” যাব্বা এইটুকুতেই অজ্ঞান। বা*স*র রাতে না কয়বার পানি দিয়ে জ্ঞান ফেরাতে হয় আল্লাহ’ই জানে। পাগলী মেয়ে একটা!”
বলেই আবার ফোঁপফোঁপ করে হাসতে লাগল।

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ৬