Home প্রিয় বেলিফুল প্রিয় বেলিফুল পর্ব ২

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ২

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ২
উম্মে হাবিবা

~~ জেদের বসে নেয়া সব সিদ্ধান্তই ভুল হয়।
মনে পড়ে যায় কিছুদিন আগের ঘঠনা। নিজের ভালোবাসার মানুষকে নিজের ঐ ফুফাতো বোনের সাথে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে অবাক এর সাথে সাথে অনেক কষ্টও পায়।
সোহার বাবারা দুই ভাই এক বোন।
বউ ভাইয়ের নাম আশরাফ শেখ।তার স্ত্রী তমা শেখ। তার এক মেয়ে এক ছেলে। তার ছেলের নাম তমাল শেখ বয়স ২৫। আর মেয়ে আহিয়া শেখ বয়স ১৬।
মেজো মানে সোহার বাবা সামিউল শেখ। তার স্ত্রী লামিয়া শেখ। তাদের দুই মেয়ে বড় মেয়ে সোহা শেখ বয়স ১৮ বছর। ছোট মেয়ে সামিয়া শেখ বয়স ১৬।

সোহার ফুফু নাজমা চৌধুরী,, স্বামি মোশারফ চৌধুরি । তার এক মেয়ে এক ছেলে।
মেয়ে মাইশা চৌধুরী। বয়স ২০ বছর আর ছেলে নাহিদ চৌধুরী বয়স ১৫ বছর৷
তাদের বংশের সবাই ফর্সা হলে ও সোহা একমাত্র শ্যাম বর্ণের অধিকারী। অবশ্য এই নিয়ে ছোট থেকেই অনেক কথা শুনতে হয়েছে, বিশেষ করো তার ফুফুর থেকে।
যখনি কেউ সোহা কে তার গায়ের রং নিয়ে কটু কথা শুনাতে আসতো তখনি ডাল হয়ে দাঁড়া তো তমাল। এই উজ্জল শ্যাম বর্ণের অধিকারী কিশোরী কন্যা নিজের অজান্তেই প্রেমে পড়ে তমালের। তমাল ও তাকে ভালোবেসে ছিলো।
কিন্তু হঠাৎ যেনো সব বদলে গেলো। সেদিন ফুফুরা এসেছিলো সোহা দের বাড়ি। সন্ধ্যার পর খুব ইচ্ছে করছিলো নিজের গাছের বেলিফুল দিয়ে একটা গাজরা বানাতে। যেই ভাবনা সেই কাজ হাতে সুই আর সুতো নিয়ে সোজা চলে যায় ছাদে।
ছাদে পা রাখতেই সোহা স্বাক্ষী হয় এক জঘণ্য দৃশ্যের। তার সামনে দোলনায় বসে তারই ভালোবাসার মানুষ আর তার আপন ফুফাতো বোন মাইশার মধ্যে চলছে নোংড়া খেলা। সোহার চোখ জোড়া ঝাপসা হয়ে আসে। সে কাঁপা স্বরে ডাকে তমাল ভাই।

সঙ্গে সঙ্গে দুজন দু দিকে ছিটকে সরে যায়।দুজনেই হাত দিয়ে নিজের ঠোঁট জোড়া মুছতে থাকে।
সোহা আস্তে আস্তে এগিয়ে যায়।ঠিক তমালের সামনে দাঁড়িয়ে ধরে আসা গলায় বলে___
কেনো করলেন এমন টা, কেনো আমাকে ঠকালেন? মাইশা আপু তুমি তো সব জানতে তুমি কিভাবে পারলে। তোমার মতো নোংরা মেয়েকে আমার আপু ডাকতেও ঘৃণা হচ্ছে।
তমাল গর্জে উঠে বলে একদম ওকে কিছু বলবি না। আর ভালোবাসা কিসের ভালোবাসারে। নিজের দিকে তাকিয়ে দেখেছিস। ভাবলি কি করে তোর মতো কালো কুৎসিত একটা মেয়েকে আমি ভালো বাসবো।
ভালো হয়েছে তুই সব জেনে গেছিস৷ না হলে আমাকেই কষ্ট করে এসব জানাতে হতো।

আমি মাইশাকে ভালোবাসি, আজ থেকে না আর তিন বছর আগে থেকে আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি।
সোহার যেনো বিশ্বাস হচ্ছে না এসব কিছু। কেমন দুঃস্বপ্ন মনে হচ্ছে। এসব তুমি কি বলছো তমাল ভাইয়া।
সোহা এগিয়ে গিয়ে তমালের কলার ধরে। তাহলে এই দেড় বছর আমার সাথে কি ছিলো তোমার?
তুমি তো আমাকে ভালোবাসতে তাহলে এসব কেনো বলছো? মাইশা এগিয়ে এসে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেয় সোহা কে।
তোর সাথে সব নাটক ছিলো। তুই কখনো আমাকে তোর হাত টাও ধরতে দিস নাই একটু জড়িয়ে ধরতে গেলেও বলিস বিয়ের পর৷ কিন্তু মাইশা ঐ সব সুখ আমাকে দিয়েছে যা আমি চাইতাম। আর রইলো বিয়ের কথা তুই ভাবলি কি করো তোকে আমি বিয়ে করবো তোর সাথে যায় আমার? চলো মাইশা এসব নাটক দেখার সময় নেই আমাদের।
তারা চলে যায় আর সোহা সেখানেই বসে থাকে চুপ চাপ। সেই রাতে ভিষন জ্বর আসে সোহার।
সারা রাত লামিয়া শেখ মাথার কাছে বসে থাকে।

ঐ দিনের পর থেকে সোহা নিজেকে শক্ত করে তোলে। আর মাস দুইয়েক পর যখন বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব আসে সোহার। সে ছেলের ছবি না দেখেই রাজি হয়ে যায়।
আপনার কি সারা রাত এই ভাবেই বসে থাকার ইচ্ছে নাকি?
আলমিরার সাথে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে কথা টা বলে রুদ্র।
সোহা মাথা তুলে তাকাতেই রুদ্রের নজর পরে পানিতে টইটুম্বুর হয়ে থাকা চোখ দুটোর দিকে। মেয়েটা কাঁদছে নাকি। কি অদ্ভুত মায়া এই চোখ দুটোতে।
কোনো কথা না বলে সোহা নেমে পড়ে বিছানা থেকে পাশে রাখা ব্যাগ নিজের প্রয়োজনীয় কাপড় নিয়ে ফ্রেস হতে যায়।
অদ্ভুত মেয়েতো।

রুদ্র গিয়ে সুয়ে পড়ে বিছানায়৷ সারা দিন অনেক ধকল গেছে। কলেজ থেকে সোজা বাবার কল পেয়ে গিয়েছিলো তার পুরানো বন্ধুর বাসায়। আর তার বাবা দাদার ইমোশনাল ব্ল্যাকমেলের চাপে পড়ে বিয়েটা করতে হলো।
আরে মানলাম জোর করে বিয়ে করাবে, তাহলে আমার থেকে এতো বয়সে ছোট মেয়েকে কেনো। তার উপর আবার আমার নিজের ছাত্রী।
কি হবে এই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ। আদো আমি কখনো এই মেয়েকে বউ বলে মানতে পারবো। উফ আমার মাথা ধরে যাচ্ছে।
রুদ্র এসব চিন্তা করছে তখনি সোহা বেরিয়ে আসে।
ভেজা চুল মুখে পানির কনা গুলা চিকচিক করছে।
ভেজা চুলে কি সব মেয়ে কে এমন সুন্দর দেখায় নাকি শুধু এই শ্যাম কন্যাকে।
নিজের ভাবনায় নিজেই অবাক হয়, ছিঃ এসব কি ভাবছিস তুই রুদ্র।
সোহা এগিয়ে এসে প্রশ্ন করে। আমি কোথায় ঘুমাবো?
যেখানে খুশি ঘুমিয়ে পড়ো। শুধু লাইট টা অফ করে দিও। আলোতে আমার ঘুম হয় না।
লাইট অফ করে দিবো মানে।
মানে কি আবার। শুনো এটা আমার রুম আর আমি যা বলবো এখানে তাই হবে। সোজা যাও আর লাইট অফ করে শুয়ে পড়ো।

শুনুন এটা শুধু আপনার রুম না এটা এখন থেকে আমার ও রুম। তাই শুধু আপনার কথা চলবে না।
এই মেয়ে কি বললে তুমি? এসেছো এক দিন ও হয়নি এখনি আমার রুম দখল করার কথা ভাবছো?
এই আপনি আমাকে একবার আপনি আবার তুমি বলছেন কেনো?
তাতে কি বড় আমি তোমার থেকে বলতেই পারি।
সোহার হঠাৎ কিছু একটা খেয়াল হয়। এই লোকটা অনেক সময় থেকে তার সাথে কথা বলছে একটুও রাগ না করে কলেজে তো রাগের গোডাউন নিয়ে ঘুরে।

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ১

আপনার ফোন টা একটু দিবেন বাবা কে কল দিবো আমার ফোন ঐ বাসায় রয়ে গেছে।
রুদ্র কিছু না বলে ফোনটা এগিয়ে দেয়।
সোহা ফোন নিয়ে বারান্দায় চলে যায়।

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ৩