Home প্রিয় বেলিফুল প্রিয় বেলিফুল পর্ব ৭

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ৭

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ৭
উম্মে হাবিবা

~~দুপুর গড়িয়ে এখন প্রায় বিকেল। সোনালি রোদ পর্দার ফাঁক দিয়ে রুমি উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছে। রুদ্র এখনো আসেনি। তখন সোহাকে বাসায় দিয়ে চলে গিয়েছো কাজ আছে বলে। দুপুরে সবাই এক সাথে খাবার খেয়ে যে যার রুমে রেস্ট নিচ্ছে।
হঠাৎ সোহার ফোন খানা বেজে উঠে। রাইসা কল দিচ্ছে। সোহার বেস্ট ফ্রেন্ড। কল রিসিভ করে কানের কাছে নিতেই ফোন খানা ছিটকে পড়ে যায়।
সোহার বাচ্চা এটা কিভাবে করতে পারলি তুই।
পাগলের মতো চিৎকার করে আমার মাথা না খেয়ে সোজা সুজি বল কি করছি আমি?
তুই কি করছিস তুই জানিস না?
আরে বোইন আমার কি করছি সেটাতো বল।

তুই নাকি বিয়ে করে পেলছিস। আমি মাত্র কয়েকদিনের জন্য ঘুরতে গেছি এর মাঝে আমাকে পর করে দিলি।
পর কোথায় করে দিলাম তুই এখনো আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। বিয়ে তো হঠাৎ করে হয়ে গেছে।
হঠাৎ করে! কিন্তু আমিতো শুনছি তুই আগে থেকেই জানতি।
হুম আমি জানতাম তারা দেখতে আসবে। কিন্তু দেখতে এসে যে বিয়ে হয়ে যাবে এটা জানতাম না।
কিন্তু বিয়ের পর তো জানাতে পারতি। তাও তো করিস না।
ফোন নিয়ে আসিনি। আজকে নিয়ে আসছি ফোন।
হইছে বাহানা বাদ দিয়ে এটা বল আমাদের দুলাব্রো কই।
উনি বাসায় নেই এখন দুপুরে বেরিয়েছে এখনো আসেনি।
উনি বাহ বাহ সেই উন্নতি। এমন উন্নতি তো সরকার ও আজ পর্যন্ত করতে পারে নাই।
এক মাগে শীত যায় না বোইন। সময় আমার ও আসবে।
হুম হুম দেখা যাবে। আচ্ছা এসব বাদ দে আমাকে বল দুলাব্রো কেমন?
ভালো।

শুধু ভালো! আর কিছু না?
মানে, আর কি থাকবে?
আরে ভাইয়ার নাম দেখতে কেমন কি করে বাসা কই এসব।
রুমে কেউ প্রবেশের শব্দে সে দিকে তাকায় সোহা৷ রুদ্র এসেছে। পরনের শার্ট ঘামে ভিজে শরীরের সাথে লেপ্টে আছে।ঘামার্ত মুখ টার দিকে তাকায় সোহা। সামনের চুল গুলো কপালে লেপ্টে আছে।
কিরে কথা বলছিস না কেনো? কোন চিন্তায় হারালি।
কালকে কলেজে এসে বলবো। এখন রাখি আল্লাহ হাফেজ।
রুদ্র নিজের হাতের ব্যাগ টা রেখে ফ্রেশ হতে চলে যায়। আজকে যেনো রুদ্র কে একটু বেশি ক্লান্ত মনে হচ্ছে । কি মনে করে সোহা উঠে রুমের বাহিরে চলে যায়।একটু পর ফিরে আসে হাতে এক গ্লাস শরবত নিয়ে। রুমে প্রবেশ করে দেখে রুদ্র একহাতে ফোন নিয়ে কিছু করছে আরেক হাত দুয়ে চুল মুছতেছে৷
এই নিন।
রুদ্র দেখে সোহা তার দিকে এক গ্লাস শরবত বাড়িয়ে দিয়ে দাড়িয়ে আছে। এটা সত্যি ওর দরকার ছিলো এই মূহুর্তে। একটু মুচকি হেসে বলে,_

Thanks.
বিনিময় সোহা ও হালকা হাসে।
সব অনুভূতিকে তো আর ভালোবাসা নাম দেওয়া যায় না। কিছু কিছু ভালো লাগা থাকে শরতের মেঘের মতো—অকারণে আসা, আবার অকারণে মনের আকাশটা দখল করে নেওয়া। তার নামটা মনে পড়লেই কেন জানি অগোচরে একটা হাসির রেখা ফুটে ওঠে।
রাতে সবাই এক সাথে খেতে বসেছে। তখন রেদোয়ান সাহেব বলেন_
তা রুদ্র বউমা কে নিয়ে কোথায় যাবে ভাবছো?
রুদ্র ভ্রুকুচকে বললো_
কোথায় যাবো মানে।
মানে তোমাদের নতুন বিয়ে হয়েছে বউমা কে নিয়ে কোথায় ঘুরতে যেতে চাও?
তুমি কি ইনডাইরেক্টলি হানিমুনে যাওয়ার কথা বলছো?
রুদ্রের এমন ঠোঁট কাটা কথা শুনে সোহার মুখের খাবার হঠাৎ যেনো মাথায় উঠে যা।সে কাশতে থাকে। রুমিয়া বেগম তারাতারি পানি খেতে দেয় আর মাথায় হাত বুলাতে থাকে। সবার নজর তার দিকে।
ভাবি তুমি ঠিক আছো?

কি হয়েছে নাত বউ?
কি-কিছু না হঠাৎ করে আরকি।
রুমিয়ে বেগম হেঁসে বললো আস্তে আস্তে খাও কোনো তাড়া নেই মেয়ে।
সোহা লজ্জা পেলো। সামনে তাকিয়ে দেখে রুদ্র তার দিকে তাকিয়ে আছে।
এই লোক এমন খেয়ে পেলা দৃষ্টিতে আমাকে দেখছে কেনো?আচর্য আমি কি করেছি।
তো রুদ্র কি বলছিলে। ও হ্যাঁ হানিমুন,,,বউ মা তুমি বলো কোথায় যেতে চাও?
আমি?
হ্যাঁ ভাবি লজ্জা পেয়ো না বলো বলো।
ঐ আসলে বলছিলাম কি _
এখন কোথাও যাওয়া সম্ভব না বাবা।আমি এখন কলেজ থেকে ছুটি নিতে পারবো না আর তা ছাড়া ওর কিছু দিন পর পরিক্ষা তাই এখন কোথাও যাওয়া সম্ভব না।
সোহা যেনো হাপ ছেড়ে বাঁচলো।
আরে দুই দিনের তো ব্যাপার যা না ঘুরে আয়।
না ওর পরিক্ষা শেষ হোক এক সপ্তাহের জন্য নিয়ে যাবো। হানিমুনে কেউ দুইদিনের জন্য যায়? দুই দিনে পোষাবে না।

আমার খাওয়া শেষ আমি উপরে যাচ্ছি।
তারপর সোহার দিকে তাকিয়ে বলে_
তুমি তারাতারি শেষ করে উপরে আসো।
রুদ্রের এমন লজ্জাহীন কথা শুনে রেদোয়ান সাহেব আর কিছু বলতে পারে না। তার ছেলে যে দিন দিন খোলশ ছেড়ে বেরিয়ে আসছে তিনি বেশ বুঝতে পারছে।
আশরাফ সাহেব জোরে হেসে উঠেন এই দিকে রুদ্রের কথা শুনে সোহার গাল দুটো লাল হয়ে উঠছে কান দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে।
এই লোক এতো নির্লজ্জ আগে জানতাম না। কোনো মতে নিজের খাবার শেষ করে সোহা। সবার খাও শেষ যে যার রুমে চলে যাচ্ছে। রুনিয়া বেগম কিচেনে সব কিছু ঠিক করে রাখছে। সোহা টেবিলের পাশে এখনো দাড়িয়ে ভাবছে।
কি করে ঐ নির্লজ্জ পুরুষটার সামনে যাবে সে। এই ভাবে কেউ বাবা মার সামনে কথা বলে।
কি হলো মা তুমি দাঁড়িয়ে আছো কেনো উপরে যাও।

এই ত তো মা যাবো।
পাঁচ মিনিট হলো রুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে সোহা।
তুমি ভিতরে আসবে নাকি আমি লাইট অফ করে দরজা লক করে দিবো।
সোহা তারাতারি রুমে প্রবেশ করে।
এতো সময় কি করছিলে নিচে।
ঐ আম্মুকে সাহায্য করছিলাম।
তোমাকে কি আম্মু বলছে করতে?
না।

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ৬

তাহলে? শুনো মেয়ে কাল থেকে কলেজে যাবে। সামনে পরিক্ষা তোমার আগের রেজাল্ট মোটামুটি। তবে সামনে আরো ভালো করতে হবে।
এখন যাও ঘুমিয়ে পড়ো। আর শুনো আমাদের সম্পর্কের কথা কলেজে যাতে কেউ না জানে। আমি চাই আমার পার্সোনাল আর প্রফেশন লাইফ দুইটা আলাদা রাখতে।
সোহা বিছানার কাছে যেতেই রুদ্রের কথা শুনে তার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ে।

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ৮+৯