Home প্রিয় রাগিনী প্রিয় রাগিনী পর্ব ২১

প্রিয় রাগিনী পর্ব ২১

প্রিয় রাগিনী পর্ব ২১
লামিয়া ইসলাম শাম্মী

সকাল পাঁচটা বেজে পাঁচ চল্লিশ মিনিট।
সকাল সকাল খান বাড়িতে যেনো খুশির উৎসব ছড়িয়ে পড়েছে।
আজ সকালে কাউকে না জানিয়ে তাদের বাসায় চলে এসেছে সাবরিনা বেগমের ভাইয়ের ছেলে সামির। তাকে দেখে সাবরিনা বেগম খুশিতে আটখানা হয়ে গেছে।
– যা বাপ, ফ্রেশ হয়ে আয়, আমি নাস্তা রেডি করছি।
বেশ খুশি হয়ে বললো সাবরিনা বেগম।
সামির মাথা নাড়িয়ে সাফওয়ানের রুমে ব্যাগ নিয়ে চলে গেলো।
সাবরিনা বেগম দ্রুত নাস্তা বানাতে রান্না ঘরে চলে গেলেন।
সামির ফ্রেশ হয়ে রুম থেকে বেরিয়ে হাঁটা ধরলো শারমিনের রুমের দিকে। আসার পর থেকে এই মেয়েকে দেখেনি এখনো।

তাই তার সাথে দেখা করতে তাঁর রুমে গিয়ে দেখলো শারমিন ঘরে নেই। তখন ফারিয়াকে জিজ্ঞেস করতেই ফারিয়া জানালো শারমিন বাগানে গিয়েছে।
সামির আর কিছু না ভেবে তাড়াতাড়ি করে বাগানের দিকে রওনা হলো।
বাগানে দাঁড়িয়ে গাছে পানি দিচ্ছে শারমিন। ইসলাম বাড়ির ফুলের বাগান দেখে তাঁর ও শখ হয়েছে বাগান করার। তাই সে নিজ হাতে একটু একটু করে গড়ে তুলছে ফুলের বাগান।
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই বাগানে চলে আসে গাছগুলোর যত্ন নিতে। আজও তাই করলো। বেশ যত্ন সহকারে পানি দিতে লাগলো।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

কিন্তু সে জানে না, প্রতিদিন সকালে পর্দার আড়ালে লুকিয়ে কেউ তাঁর দিকে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে থাকে।
রাশেদ আজও ঘুম থেকে উঠেই পর্দার আড়ালে লুকিয়ে দেখতে লাগলো শারমিনকে।
সামির চুপচাপ শারমিনের পিছনে এসে দাঁড়ালো। শারমিন তা খেয়াল করলো না।
পিছন থেকে আচমকা কোমর পেঁচিয়ে ঘোরাতে শারমিনকে।
আচমকা এমন হওয়াতে শারমিন ভয় পেয়ে চিৎকার করে উঠলো। সামির হেসে উঠলো।
তারপর কোমর ছেড়ে দাঁড়ালো। শারমিন চোখ তুলে সামির কে দেখতেই খুশিতে জড়িয়ে ধরলো।
কতোদিন পর তার বেস্ট ফ্রেন্ডকে দেখছে সে।
এতো খুশি হচ্ছে তার, তা কী করে বোঝাবে তাকে!

– তুই কখন আসলি? আর আমাকে জানালিও না একবার।
বেশ অভিমান কন্ঠে বললো শারমিন।
– আরে যদি বলেই আসি তাহলে সারপ্রাইজ কীভাবে দিতাম তোকে।
বলে উঠলো সামির।
তারপর দুজন হাসিমুখে কথা বলতে বলতে বাড়ির দিকে চলে গেলো।
কিন্তু দূর থেকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাদের দিকে কেউ তাকিয়ে আছে, তা তারা জানলো ও না।
রাশেদ ভয়ংকর রেগে গিয়েছে এই দৃশ্য দেখে।
রেগে দাঁতে দাঁত চেপে হাত মুষ্টিবদ্ধ করলো।
তা আড়চোখে শুভ্র দেখলো।
এগিয়ে এসে শুভ্র রাশেদের কাঁধে হাত রেখে বললো

– সব রাগ অভিমান ভুলে প্রিয় মানুষটিকে কাছে টেনে নিয়ে আয় সময় থাকতে।
রাশেদ পাশ ফিরে শীতল দৃষ্টিতে তাকালো শুভ্রর দিকে।
রাশেদের চোখের ভাষা বুঝতে পেরে শুভ্র হেসে বললো
– তুই আর তোর বোন দুইটাই এক রকম বুঝলি। তোদের বুক ফাটবে, কিন্তু মুখ ফুটে না।
রাশেদ কিছু না বলে চুপচাপ চলে গেলো। তার রাগ কন্ট্রোল করতে হবে এখন।
শুভ্র তা দেখে মুচকি হেসে জানালার বাহিরে তাকাতেই দেখলো লামিয়া জ্যাকির সাথে দৌড়াদৌড়ি করছে বল নিয়ে। সাথে পিছন পিছন ব্ল্যাকি ও আছে।
তা দেখে শুভ্র হাসলো।
কয়েকদিনে ব্ল্যাকি আর জ্যাকি কে লামিয়া ভালোই ট্রেনিং দিয়েছে। আর দুজন ভালোই লামিয়াকে চিনে ফেলেছে।
লামিয়া হাঁপিয়ে ঘাসে শুয়ে পড়লো। তার পাশে জ্যাকি ঘেউ ঘেউ করছে। আর ব্ল্যাকি লামিয়ার পেটের উপর বসে আছে।
শুভ্র চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখতে লাগলো তাদের।

লামিয়া ঘাস থেকে উঠে জ্যাকির মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো, আবার ব্ল্যাকির মাথায়ও হাত বুলিয়ে দিলো।
লামিয়া জ্যাকির দিকে তাকিয়ে হাত দিয়ে ঘাসের উপর হালকা থাপ্পড় দিয়ে ইশারায় বসতে বললে জ্যাকি আস্তে ধীরে চার হাত পা গুটিয়ে মাথা নিচু করে বসলো।
তা দেখে শুভ্র আরেক দফা হাসলো।
লামিয়া বসা থেকে উঠে গেটের কাছে যেতেই চোখ পড়লো খান বাড়ির বাগানের দিকে।
লাবিব খালি গাঁয়ে দাঁড়িয়ে হাপাঁচ্ছে। মনে হচ্ছে ব্যায়াম করে উঠলো।
লাবিব কে বেশ সুন্দর লাগছে দেখতে। সিল্কি চুল গুলো কপালে লেপ্টে আছে তার।
লামিয়া হা করে তাকিয়ে আছে লাবিবের দিকে।

ছেলেরাও সুদর্শন হয় তা লাবিব কে না দেখলে..ওয়েট ওয়েট এসব কি ভাবছি আমি লাবিব সুদর্শন পুরুষ হলে আবরার তো সুদর্শন এর চেয়েও সুদর্শন। লাবিবের চেয়ে আবরার সুন্দর দেখতে । ও মাই খোদা আবরার কে দেখলে মনে হয় খেয়ে ফেলি। ছিঃ ছিঃ এসব কি ভাবছে সে। ও খোদা নষ্ট মনটা মনে হয় না আর ঠিক হবে। ভাবতে ভাবতে নিজের মাথায় নিজে থাপ্পড় বসিয়ে দিয়ে পিছনে ঘুরতেই চোখ রসগোল্লার মতো হয়ে গেলো। এ…একি… দেখছে সে আবরার খা…খালি গাঁয়ে বাগানে কেনো? ও খোদা আমি কি স্বপ্ন দেখছি নাকি সত্যি? ভেবেই শুভ্রর দিকে আস্তে ধীরে এগিয়ে গেলো।

ওদিকে শুভ্র ভিতরে ভিতরে ফুসাচ্ছে। এতোক্ষণ লামিয়া লাবিবের দিকে তাকিয়ে ছিলো তা দেখে শুভ্র ভিতর ভিতর জ্বলে ওঠে। লাবিবের মধ্যে কী আছে? যেটা তার মধ্যে নেই।
তাই সে নিজেও টিশার্ট খুলে বাগানে এসেছে। তাঁর ভীষণ রাগ লাগছে লামিয়া লাবিবের দিকে তাকিয়ে ছিলো তা মনে করতেই রাগ লাগছে তার।
লামিয়া আস্তে আস্তে শুভ্রর দিকে এগিয়ে যেতেই দেখলো শুভ্র push up করছে। লামিয়া কোমড়ে হাত দিয়ে শুভ্রর সামনে এসে দাঁড়ালো।
দেখলো ফর্সা চেহারা লাল টুকটুকে হয়ে আছে তা দেখে লামিয়া ভ্রু কুঁচকালো।

– আপনার চেহারা লাল টুকটুকে হয়ে গেছে কেনো?
শুভ্র লামিয়ার কথায় কোনো পাত্তা না দিয়ে চুপচাপ থাকলো।
তা দেখে লামিয়া আর কিছু না বলে চুপচাপ আবার চোখ ঘুরিয়ে লাবিবের দিকে তাকালো তারপর আবার শুভ্রর দিকে তাকিয়ে লাবিবের দিকে চেয়ে বলে উঠলো
– লাবিব ভা..
লামিয়ার কন্ঠ শুনে লাবিব পিছন ফিরে তাকিয়ে ইসলাম বাড়ির বাগানে তাকালো। কাউকে না দেখে ভ্রু কুঁচকে বাড়ির দিকে চলে গেলো।
ঠোঁট কামড়ে রাগি চোখে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে পা ধরে বসে আছে লামিয়া।
তাঁর সামনেই বসে শুভ্র চুপচাপ তাকিয়ে আছে তার দিকে। মনে হচ্ছে কিছু হয়নি এমন ভাব করে তাকিয়ে আছে।
– আপনি আমাকে চিমটি কেটেছেন কেনো?
বেশ রাগি কন্ঠে বললো লামিয়া।
– প্রমাণ আছে কোনো ? যে আমি আপনাকে চিমটি কেটেছি। পিঁপড়া বা অন্য পোকাও তো কামড়াতে পারে।
বেশ শান্ত কন্ঠে বললো শুভ্র।

– প্রমাণ চাই আপনার তাই না? দাঁতে দাঁত চেপে বললো লামিয়া।
– হ্যাঁ।
লামিয়া রেগে ঠোঁট চেপে সেদিনের মতো শুভ্রর নাক বরাবর আবার ঘুষি দিতে চাইলো কিন্তু আজকে আর পারলো না।
শুভ্র তার আগেই এক হাত দিয়ে লামিয়ার হাত হাত ধরে অন্যহাত দিয়ে লামিয়ার চুল শক্ত করে চেপে ধরে নিজের মুখের সামনে নিয়ে আসলো।
লামিয়া বড় বড় চোখ করে ছটফট করতে লাগলো ছোটার জন্য। তারপরও তাকে ছাড়ছে না দেখে লামিয়া কিছু বলার জন্য মুখ খুলতেই শুভ্র লামিয়ার ঠোঁট শক্ত করে কামড়ে ধরলো।
লামিয়া নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলো কিন্তু পারলো না। অনেক কষ্টে হাত ছুটিয়ে শুভ্রর বুকে জোড়ে ধাক্কা দিলো কিন্তু তারপরও ছাড়লো না।

শুভ্র লামিয়ার ঠোঁট কামড়ে ধরেই আছে। যতো রাগ আছে সব লামিয়ার ঠোঁটের উপর ঝাড়ছে।
যখন লামিয়ার ঠোঁট কেটে রক্ত বের হলো তখন আস্তে করে লামিয়াকে ছেঁড়ে দিলো।
লামিয়ার ঠোঁট কেটে রক্ত গলগল করে বের হতে লাগলো। তা দেখে শুভ্র বাঁকা হাসলো। এইবার তার ভালো লাগছে।
লামিয়া মনে হচ্ছে ভীষণ রেগে গেছে। অগ্নি চোখে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো
– তোকে আমি দেখে নিবো।
বলতেই শক্তপোক্ত একটি হাতের চড় পড়লো তার গালে। লামিয়া হা করে তাকিয়ে আছে শুভ্রর দিকে।
শুভ্র শীতল দৃষ্টিতে হালকা তাকিয়ে বললো
– আর কি দেখতে চান বলবেন প্লিজ। আপনাকে আমার শরীরের সবচেয়ে দামি জিনিস ও দেখাতে প্রস্তুত মিস। বলেই মুচকি হেসে উঠলো।
তারপর আবার শান্ত চোখে তাকিয়ে গালে হাত বুলিয়ে বললো

– সরি মিস আমাকে তুই বলাতে আপনাকে আমি চর মেরেছি তার জন্য সরি। দ্বিতীয়বার ভদ্র ভাবে কথা বলবেন আমি ভদ্রভাবে আদর করবো। কিন্তু যদি আবার অভদ্র ভাবে কথা বলেন তাহলে আমি আবারো অভদ্র ভাবেই আদর করবো। বলেই চলে গেলো।
লামিয়া শীতল দৃষ্টিতে শুভ্রর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো।
লাবিবকে ডাক দিতেই শুভ্র লামিয়ার পায়ে জোরে চিমটি দিয়ে কেটেছে ।
সে কেনো এমন করেছে তা লামিয়ার জানা নেই। তারপর তার ঠোঁট আবার স্পর্শ করা আর তাকে চড় মারা লামিয়া যে তাকে এইবার ছেঁড়ে দিবে না। এর চরম মূল্য দিতে হবে ওই আবরারকে।
লামিয়া চুপচাপ উঠে বাড়ির মধ্যে চলে গেলো।

– সালা আমার বোন তোকে এইবার ছেঁড়ে দিবে ভাবছিস?
– ছেঁড়ে দিতে কে বলেছে? আমার উপর থেকে সব রাগ
অভিমান ভেঙে সারাজীবন জড়িয়ে রাখতে বল তোর বোনকে। আর ওই লাবিবের দিকে এইভাবে তাকায় কেনো? আমি কী লাবিবের থেকে কম নাকি?
বেশ বিরক্ত হয়ে বললো শুভ্র।
শুভ্রর কথা শুনে রাশেদ হো হো করে হেঁসে উঠলো। লামিয়া আর শুভ্রর পুরো কাহিনী রাশেদ ছাদে থেকে দেখেছে।
– কোথাও পুড়া পুড়া গন্ধ পাচ্ছি।
শুভ্র রাশেদের মুখে বালিশ ছুঁড়ে দিতেই রাশেদ তা ধরে নিয়ে আবার হেঁসে উঠলো।

– কিন্তু যাই বলিস এইভাবে আমার বোনকে মারা তোর উচিত হয়নি।
– বেশ করেছি মেরেছি, আগে কি কম মারতাম নাকি। আর সাহস কতো লাবিবের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকে। আর জানিস তোর বোন আমার অনুপস্থিতিতে আরেক ছেলের সাথে রিলেশন পর্যন্ত গিয়েছিলো।
– জানি কিন্তু হাবিবের সাথে সিরিয়াস ভাবে রিলেশন করে নি। শুধু তোর উপর অভিমান করে গিয়েছিলো।
– তার মানে তুই ও জানতি?
– হ্যাঁ। বলেই জিহ্বা কামড়ে ধরলো।
শুভ্র রেগে তাকালো রাশেদের দিকে। রাশেদ তা দেখে ভয়ে ঢোক গিললো। শুভ্র পাশ থেকে ঝাড়ু নিয়ে রাশেদকে তাড়া করলো।
রাশেদ আর শুভ্র পুরো রুম জুড়ে দৌড়াচ্ছে।
– দেখ শুভ্র শান্ত হ।
– কি শান্ত হবো তোর বোন রিলেশনে করেছে আর তুই আমাকে বলিসনি। তুই ওকে লাই দিয়েছিস।
– না দেখ এমনটা নয় বিষয় টা।
– তাহলে কেমন বিষয় বল আমাকে।
বলেই রাশেদের পিছনে দৌড়াতে শুরু করলো।

সময়টা সকাল দশটা।
নদীর পারে বসে আছে আবির আর লামহা।
আবির বেশ রেগে আছে, হাত মুষ্টিবদ্ধ করে চুপচাপ নিজের রাগ কন্ট্রোল করছে। কিন্তু পারছে না।
তার সামনে গোলাপ ফুলের তোড়া নিয়ে বসে শান্ত চোখে আবিরের দিকে চেয়ে আছে লামহা।
– ওই ছেলে কে লামহা? বেশ গম্ভীর কন্ঠে বললো আবির।
– আমার প্রেমিক।
বলতেই লামহার গালে থাপ্পড় এসে পড়লো। সঙ্গে সঙ্গে ঠোঁট কেটে রক্ত বেরিয়ে গেলো।
থাপ্পড় টা আর কেউ না আবির দিয়েছে।
লামহা বেশ শীতল দৃষ্টিতে তাকালো আবিরের দিকে। আবির রেগে লামহাকে কিছু বলতে যাবে, লামহার ঠোঁটে রক্ত দেখে রাগ উধাও হয়ে গেলো। সে ভাবতে পারেনি থাপ্পড় এতো জোরে লাগবে।
আবির অপরাধ দৃষ্টিতে তাকালো লামহার দিকে।

লামহা সেই শীতল দৃষ্টিতেই তাকিয়ে আছে আবিরের দিকে।
আবিরের কোনোদিন এমন রাগ হয় না। কিন্তু আজকে যখন লামহাকে অন্য একটি ছেলে ফুলের তোড়া দিয়েছে সেটা দেখে সে নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারছে না।
আবির দ্রুত লামহার গাল ধরতে গেলে লামহা সরে যায়।
আবির লামহার দিকে এগিয়ে গেলে লামহা ওখানে আর না দাঁড়িয়ে দ্রুত হেঁটে গাড়িতে বসে পড়লো।
আবির মাথা নিচু করে চুপচাপ গাড়িতে এসে বসতেই লামহা বলে উঠলো
– ভালোবাসেন আমাকে?
হঠাৎ লামহার এমন প্রশ্নে আবির অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো

– মানে?
– আমাকে ভালোবাসেন আপনি?
– হ্যাঁ ভালোবাসি, অনেক ভালোবাসি, সেই ছোট্ট থেকে ভালোবাসি তোকে।
– প্রমাণ কী যে ভালোবাসেন আমাকে?
বলেই আবিরের চোখের দিকে তাকালো লামহা।
আবির ও লামহার চোখের দিকে তাকিয়ে বললো

প্রিয় রাগিনী পর্ব ২০

– প্রমাণ লাগবে তোর?
– হ্যাঁ, প্রমাণ লাগবে। তাহলে কীভাবে বিশ্বাস করবো যে আপনি আমাকে ভালোবাসেন?
আবির লামহার চোখ থেকে চশমা টা খুলে গালে হাত বুলিয়ে ঠোঁটের রক্ত মুছে দিয়ে বাঁকা হেঁসে বললো
– চল তোকে আমার ভালোবাসার প্রমাণ দেই।
বলেই গাড়ি স্টার্ট দিলো।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ২২