Home প্রিয় রাগিনী প্রিয় রাগিনী পর্ব ৬০

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৬০

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৬০
লামিয়া ইসলাম শাম্মী

সাদা পর্দা ভেদ করে সূর্যের আলো চোখে পড়তেই চোখ মুখ কুঁচকে ফেললো লামিয়া। বিরক্ত হয়ে একটু নড়াচড়া করতে চাইলো কিন্তু সাপের মতো কেউ তাকে পেঁচিয়ে ধরায় নড়াচড়া করতে পারলো না। পিটপিট করে চোখ মেলে তাকাতেই চোখ ছানাবড়া হয়ে গেলো তাঁর। শুভ্র তাঁকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। লামিয়া তা দেখে ফুস করে শ্বাস ফেলে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষণ। তারপর কিছু একটা ভেবে আতংকে চিৎকার করে উঠতেই শুভ্র লামিয়া কে ছেঁড়ে ধরফর করে ঘুম থেকে উঠে বসলো। লামিয়া শুভ্রর কাছ থেকে ছাড়া পেয়ে তড়িঘড়ি করে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াতেই শুভ্র লামিয়ার দিকে তাকিয়ে অস্থির গলায় বললো ” কি হয়েছে, কী হয়েছে ভ্রমর তোর??”

লামিয়া শুভ্রর কথায় পাত্তা না দিয়ে পাগলের মতো আশেপাশে তাকিয়ে তাঁর উড়না খুঁজতে লাগলো। শুভ্র লামিয়া কে এমন পাগলের মতো আশেপাশে তাকাতে দেখে ভাবলো হয়তো কেউ লামিয়া কে আবারো অ্যাটাক করার জন্য এসেছিলো তাই আর কিছু না ভেবে দৌড়ে লামিয়ার কাছে আসতেই লামিয়া শুভ্রর থেকে ছিটকে দূরে সরে দাঁড়ালো। শুভ্র তা দেখে এক পা এগিয়ে যেতেই লামিয়া আবারো চেঁচিয়ে উঠলো ” অসভ্য লোক একদম আমার কাছে আসবে না।”
শুভ্র লামিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো ” কি হয়েছে ভ্রমর আমাকে বলল। এমন করছিস কেনো তুই??”
বলেই লামিয়ার দিকে এগিয়ে যেতেই লামিয়া পিছিয়ে গিয়ে বললো ” কী হয়েছে জানেন না আপনি, নাকি জেনে ও না জানার ভান করছেন কোনটা??”
লামিয়ার কথা শুভ্র বুঝতে পারছে না। তাই কপালে ভাঁজ ফেলে বললো ” কী বলছিস এসব?? আমি তোর কথা বুঝতে পারছি না।”

” বুঝতে পারছেন না নাকি বুঝেও নাটক করছেন??”
” তুই সোজাসুজি কথা বলবি প্লিজ?? তোর কথা আমি সত্যি বুঝতে পারছি না। কী হয়েছে আমাকে বল।”
” কি হয় নি সেটা বলুন আমাকে??”
শেষের কথাটা বেশ শক্ত করে বললো লামিয়া।
লামিয়ার কথা শুনে শুভ্র ভ্রু কুঁচকে বললো ” কী হয়নি মানে??”
শুভ্রর কথা শুনে লামিয়া এবার বেশ রাগান্বিত কন্ঠে চেঁচিয়ে উঠলো ” আপনি বাচ্চা হ্যাঁ?? আপনি কি কিছু বুঝতে পারছেন না?? নাটক করছেন আমার সাথে?? আমি আপনার ঘরে, এক বিছানায় কী করছি?? উত্তর দিন আমাকে।”
শুভ্র লামিয়ার কথা শুনে এবার বেশ শান্ত দৃষ্টিতে লামিয়ার রাগান্বিত মুখের দিকে তাকালো। সকাল সকাল এই মেয়ে এতো ক্ষেপেছে কেনো তা এখন বুঝতে পেরেছে শুভ্র। তাই মনে মনে হেঁসে বলল ” আমরা একসাথে ঘুমোচ্ছিলাম।”
শুভ্রর কথা শুনে লামিয়া এবার আরো ক্ষেপে গেলো। ক্ষেপে গিয়ে এগিয়ে গিয়ে শুভ্রর সামনে দাঁড়িয়ে শুভ্রর পায়ের উপর ভর দিয়ে টিশার্ট এর কলার টেনে ধরে বললো ” মশকরা করছেন আমার সাথে?? আমি এখানে কীভাবে এসেছি উত্তর দিন।”
লামিয়ার এমন কান্ডে শুভ্রর ঠোঁটের কোণে হাঁসি ফুটলো। তারপর ঠোঁটে হাঁসি নিয়েই সোজাসুজি উত্তর দিলো ” আমি নিয়ে এসেছি।”

” কেনো??”
” আমার বউ কে আমি নিয়ে এসেছি। তাঁতে তোর কী হ্যাঁ??”
” আমি আপনার বউ নই।”
শুভ্র লামিয়ার চোখে চোখ রেখে একটু ঝুঁকে বললো ” তুই আমার বউ। আমার বিয়ে করা বউ।”
” মানে?? ফাজলামি করছেন আমার সাথে?? আমি আপনার বউ কবে থেকে হলাম??”
” সেইই ছোট্ট থেকে তুই আমার বউ। আমি তোকে বউ হিসেবে মানি। আর এখন তুই আমার বিয়ে করা বউ বুঝলি??”
শুভ্রর কথা শুনে লামিয়া ভ্রু কুঁচকে বললো ” বিয়ে করা বউ মানে?? কী বলতে চাইছেন?”
শুভ্র লামিয়ার কোমড় জড়িয়ে ধরে নাকে নাক ঘষে আস্তে করে বললো ” বিয়ে করা বউ মানে বিয়ে করা বউ। আমাদের বিয়ে অনেক আগেই হয়ে গিয়েছে বউ।”
শুভ্রর কথা শুনে লামিয়া বেশ আশ্চর্য চোখে তাকিয়ে বললো
” বিয়ে হয়ে গিয়েছে মানে??”
শুভ্র বিরক্ত হয়ে বললো ” উফফ কি তখন থেকে মানে মানে করছিস?? একটা কথা বলছি তোর মাথায় কী যাচ্ছে না, আমি কী জাপানি বলেছি যে তুই বুঝতে পারছিস না??”

” মজা করছেন আমার সাথে??”
” একদম নয়।”
” তাহলে, এসব কী বলছেন?”
” সত্যি বলছি।”
” আমি বিশ্বাস করি না।”
” করতে হবে।”
” করি না বিশ্বাস আপনি মজা করছেন। তাই না?”
” উঁহু, একটু ও মজা করছি না।” বলেই লামিয়া কে আরো কাছে টেনে নিয়ে বললো ” তোর মনে আছে সেদিন বাবাই যে তোকে একটা কাগজে সই করতে বলেছিলো??”
লামিয়া শুভ্রর দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ালো। অর্থাৎ তাঁর মনে আছে। শুভ্র তা দেখে হালকা হেঁসে বললো ” সেটা আমাদের বিয়ের রেজিস্ট্রি পেপার ছিলো।”

” কিন্তু সেটা তো চেক বই ছিলো।” বেশ অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো লামিয়া।
” হুম তবে চেক বইয়ের বদলে রেজিস্ট্রি পেপারে সই করে ছিলি তুই।”
” কী???”
” জ্বী..!”
” আমি বিশ্বাস করি না।”
” এই মেয়ে তুই কী বাপ্পারাজ নাকি যে কথায় কথায় বলিস আমি বিশ্বাস করি না??”
” আপনি মিথ্যা বলছেন।”
” আমি মিথ্যে বলছি??”
” হ্যাঁ।”
বলেই শুভ্রর থেকে দূরে সরে যেতেই চাইলো কিন্তু শুভ্র লামিয়ার কোমড় শক্ত করে চেপে ধরে বললো
” ওয়েট তোকে প্রমাণ দিচ্ছি।” বলেই লামিয়া কে ছেঁড়ে পা ফেলে টেবিল থেকে ফোন তুলে কাকে জানি কল করত করতে লামিয়ার সামনে এসে দাঁড়ালো।
লামিয়া চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে মুখে কোনো কথা নেই। তাঁর মাথায় শুধু একটাই কথা ঘুরপাক খাচ্ছে এই লোকটার সাথে কী তাঁর সত্যি বিয়ে হয়ে গিয়েছে নাকি এই লোকটা মিথ্যে বলছে।

” হ্যালো বাবাই কেমন আছো??”
হঠাৎ শুভ্রর কথা শুনে লামিয়ার ধ্যান ফিরলো। চোখ তুলে শুভ্রর দিকে তাকাতেই দেখলো শুভ্র তার দিকে তাকিয়ে ফোন কানে তুলে কথা বলছে।
” জ্বী আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি বাবাই আমরা। বাসার সবাই কেমন আছে??”
ওপাশ থেকে কী উত্তর আসলো লামিয়া শুনতে পেলো না। তবে এইটুকু বুঝতে পেলো যে শুভ্র তাঁর বাবা কে কল করেছে।
” বাবাই আমার একটা কথা ছিলো।” বলেই শুভ্র ফোষ স্পিকারে দিলো। তারপর ওপাশ থেকে হামিদ সাহেব এর কন্ঠ শোনা গেলো
” হ্যাঁ বল কী বলবি??”
” বাবাই সেদিন রাতে তোমার মেয়ে কী চেক বইয়েই সই করে ছিলো নাকি রেজিস্ট্রি পেপারে ??”
” হঠাৎ এই প্রশ্ন কেনো??”
” আরে বাবাই বলো না।”
” হ্যাঁ ওও তো রেজিস্ট্রি পেপারেই সই করেছিলো। চেক বইয়েই নিচে রেজিস্ট্রি পেপার ছিলো। মায়ের কথা শুনতে শুনতে লামিয়া সেখানেই সই করে দিয়েছিলো। এটা তো তোর প্ল্যান ই ছিলো। কিন্তু কেনো এই কথা জানতে চাইলি??”

হামিদ সাহেব এর কথা শুনে লামিয়া স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে ফোনের দিকে। তাঁর বাবা তাঁকে রেজিস্ট্রি পেপারে সই করিয়েছিলো সেদিন। আর ওই বুড়ি তাঁর মানে ইচ্ছে করেই এসেছিলো?? এসব তাদের প্ল্যান। আর, আর তাঁর যে বিয়ে হয়েছে এটা সবাই জানে শুধু সে বাদে। লামিয়া স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
শুভ্র তা দেখে মুচকি হেসে বলল
” তেমন কিছু না বাবাই এমনি। আচ্ছা রাখি হ্যাঁ। সাবধানে থেকো।” বলেই ফোন কেটে দিয়ে পকেটে রেখে এক পা এগিয়ে গিয়ে লামিয়ার সামনে দাঁড়ালো। তারপর একটু ঝুঁকে লামিয়ার কানে ফিসফিস করে বললো ” কী এবার বিশ্বাস হলো তো মিসেস শাহরিয়ার??” বলছি কানের লতিতে চুমু খেলো।
কানে ঠোঁটের স্পর্শ পেতেই লামিয়া কেঁপে উঠলো। চোখ তুলে শুভ্রর দিকে তাকাতেই শুভ্র এবার লামিয়ার নাকে চুমু খেলো। লামিয়া শুভ্রর চোখের দিকে শক্ত চোখে তাকাতে চাইলো কিন্তু আজ লামিয়ার কী হলো কে জানে সে আজ শুভ্রর চোখে চোখ রাখতে পারলো না। তাঁর পুরো শরীর কাঁপছে শুভ্রর স্পর্শে। মুখ থেকে কোনো কথা বের হচ্ছে না। শুভ্র লামিয়ার আরো কাছে আসতেই লামিয়া বহু কষ্টে কাঁপা কাঁপা গলায় বললো ” আ…আমি আ..মার রুম…রুমে যাবো। সরুন প্লিজ।”
শুভ্র লামিয়ার দিকে এক পা এগিয়ে যেতে যেতে বললো ” এটাও তোর রুম।”
শুভ্র কে নিজের দিকে এগিয়ে আসতে দেখে লামিয়া এক পা দু পা পিছিয়ে যেতে যেতে কাঁপা কাঁপা বললো

” এ…এভাবে কা…কাছে আসবেন না বলে দিচ্ছি নয়তো খুব খারাপ হবে।”
শুভ্র অধরে হাঁসি নিয়ে বললো
” তুই কী আমাকে ভয় পাচ্ছিস।”
বলতে বলতে লামিয়ার হাতের কব্জি টেনে নিজের সাথে মিশিয়ে নিতেই বুঝলো লামিয়ার পুরো শরীর কাঁপছে। তা দেখে শুভ্র ভ্রু কুঁচকে বললো
” আজব এভাবে কাঁপছিস কেনো?? আর ভয় পাচ্ছিস কেনো আমাকে??”
সত্যি তো আজ সে কাঁপছে কেনো?? সে তো ভীতু মেয়ে নয়। এই লোকটার সাথে তাঁর বিয়ে হয়েছে শুনে তাঁর আজ খুশি হওয়ার কথা তাহলে?? খুশির বদলে সে এমন কাঁপা কাঁপা করছে কেনো?? এটা কী ভয়ে কাঁপছে নাকি লজ্জায় কাঁপছে সে বুঝতে পারছে না লামিয়া।
হঠাৎ শুভ্র লামিয়া কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরতেই লামিয়া চমকে উঠলো। তা দেখে শুভ্র লামিয়া কে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো ” তুই কী খুশি না ভ্রমর??”
লামিয়া শুভ্রর বুকে লেপ্টে আছে কোনো কথা বলছে না দেখে শুভ্র লামিয়ার মাথা তাঁর বুক থেকে তুলে বললো ” কথা বলছিস না কেনো, তুই কী খুশি না??”
লামিয়া নিশ্চুপ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। শুভ্র তা দেখে লামিয়ার থুতনি ধরে মুখটা উঁচু করতেই লামিয়া চোখ বন্ধ করে ফেললো। তা দেখে শুভ্র কপালে ভাঁজ ফেলে রাগি কন্ঠে বললো

” কী সমস্যা চোখ বন্ধ করেছিস কেনো?? আর কথা বলছিস না কেনো??”
লামিয়া শুভ্রর রাগি কন্ঠ শুনে এক বুক সাহস নিয়ে আস্তে ধীরে চোখ খুলে শুভ্রর চোখে চোখ রাখলো। শুভ্র তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে তাঁর উত্তরের আশায়। লামিয়া শুভ্রর দিকে তাকিয়ে নিজেকে শক্ত করলো, তারপর শক্ত গলায় বললো ” আমি আমার রুমে যাবো। ছাড়ুন আমাকে।”
” যতোক্ষণ পর্যন্ত আমার কথার উত্তর না দিবি ততক্ষণ পর্যন্ত আমি তোকে যেতে দিবো না।”
” সব প্রশ্নের উত্তর থাকে না।”
” উত্তর তোকে দিতেই হবে।”
” আমার কাছে কোনো উত্তর নেই।” বলেই অন্য দিকে তাকালো।
” কেনো?? তাঁর মানে কী তুই খুশি না?? এখনো ঘৃণা করিস আমাকে??” বেশ নরম গলায় বললো শুভ্র।
শুভ্রর কথা শুনে লামিয়া শুভ্রর দিকে তাকালো। এই বেডা বলে কী?? আমি নাকি এই বিয়ে তে খুশি না। আরে ভাই তোর চেয়ে আমি বেশি খুশি এই বিয়েতে, কিন্তু মুখে যে আমি প্রকাশ করতে পারছি না এটা তোকে কীভাবে বুঝাই?? মেয়েরা কী নিজেদের মনের কথা প্রকাশ করে নাকি?? আরে ছেলেদের সেটা বুঝে নিতে হয়। আনরোমান্টিক বেডা। এই আনরোমান্টিক বেডা ই কপালে জুটলো তাঁর। ইচ্ছে করছে তাঁর নিজের মাথায় একটা বারি দিতে। মনে মনে কথাটা বলে বেশ আফসোস করলো লামিয়া।

” আমি জানি তুই আমাকে এখনো ঘৃণা করিস প্লিজ সব কিছু ভু….।”
শেষের কথাটা আর বলতে পারলো না শুভ্র তার আগেই লামিয়া শুভ্রর অধর আঁকড়ে ধরলো। শুভ্র অবিশ্বাস্য চোখে তাকালো লামিয়ার চোখের দিকে। শুভ্র কে তাঁর দিকে তাকাতে দেখে লামিয়া সঙ্গে সঙ্গে চোখ বন্ধ করে ফেললো।
একটু পর শুভ্রর অধর ছেঁড়ে দিয়ে বললো ” সব কিছুর উত্তর মুখে বলতে হয় না। ভালোবাসলে ভালোবাসার মানুষের চোখের দিকে তাকালেই সব উত্তর পাওয়া যায়।” বলেই শুভ্র কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে বিছানা থেকে উড়না গাঁয়ে জড়িয়ে দরজা খুলে বেরিয়ে গেলো। শুভ্র ঠোঁটে হাত রেখে অবিশ্বাস্য চোখে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে লামিয়ার যাওয়ার দিকে। তাঁর বিশ্বাস ই হচ্ছে না এই মেয়ে তাকে কিস করে চলে গেলো। সে কী স্বপ্ন দেখছে নাকি সত্যি?? ভাবতে লাগলো শুভ্র।

তখনই রুমে প্রবেশ করলো মাহির,তায়েব আর লাবিব। শুভ্র আর লামিয়া কে তাঁরা খাবারের জন্য ডাকতে এসে দেখলো শুভ্র মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে। তাঁরা আশেপাশে তাকিয়ে লামিয়া কে খুঁজলো লামিয়া কে কোথাও না দেখে তিনজনের ভ্রু কুঁচকে গেলো। তারপর এগিয়ে গিয়ে লাবিব শুভ্র কে বললো ” এই শুভ্র লামিয়া কোথায়?? ওর কী জ্বর ভালো হয়েছে??”
শুভ্রর মুখে কোনো কথা নেই সে নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তা দেখে লাবিব বিরক্ত হয়ে শুভ্র কে হালকা ধাক্কা দিতেই শুভ্র অন্যমনস্ক হয়ে বললো ” আমি কী স্বপ্ন দেখেছি নাকি সত্যি?? একটা চিমটি কাট তো জোরে।” বলেই হাত বারিয়ে দিলো লাবিব এর দিকে। লাবিব মাহির, তায়েব এর দিকে তাকালো ভ্রু কুঁচকে। মাহির আর তায়েব ও লাবিব এর দিকে তাকালো। শুভ্রর কী হয়েছে আর কি বলছে বুঝতে পারছে না তাঁরা। তাই মাহির আর তায়েব আর কিছু না ভেবে শরীরের পুরো শক্ত দিয়ে শুভ্রর হাতে চিমটি কাটতেই শুভ্র চেঁচিয়ে উঠলো ” আআআ এতো জোরে চিমটি দিচ্ছিস কেনো তোরা??”
মাহির আর তায়েব কপালে ভাঁজ ফেলে বললো ” তুমি তো বললে চিমটি কাটতে। ”

” তাই বলে এতো জোরে??” বলেই হাত ঘষতে লাগলো শুভ্র।
মাহির, তায়েব আর লাবিব তিনজন একে উপরের দিকে চাওয়া চাওয়ি করে লাবিব শুভ্রর দিকে ভ্রু কুঁচকে বললো ” কী সমস্যা তোর, বল তো কী হয়েছে??”
” কিছু না।”
” তাহলে এমন করছিস কেনো?? আর লামিয়া কোথায়??”
” ওর রুমে চলে গিয়েছে।”
” ওও, আচ্ছা খেতে আয় তাহলে।”
” আসছি তোরা যা।”
লাবিব আর কথা না বাড়িয়ে চলে গেলো রুম থেকে তার পিছন পিছন তায়েব আর মাহির ও ।
তাদের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে শুভ্র ঠোঁট কামড়ে হেঁসে গামছা নিয়ে চলে গেলো বাথরুমে।

আবির লামহার কাঁধ ধরে বেশ সাবধানে তাঁকে সিঁড়ি দিয়ে নামাচ্ছে। লামহা ও আবিরের এমন কাজে হেঁসে হেঁসে নামছে। টেবিলের কাছে আসতেই কোথা থেকে লামিয়া দৌড়ে এসে আবির কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে লামহা কে জাপটে ধরে বললো ” উফফ মেজো আপা কী খবর শোনালে তুমি। দিল তো গার্ডেন গার্ডেন হো গেয়ি।”
লামহা হেঁসে বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো ” এখন কেমন আছিস তুই??”
” একদম বিন্দাস।”
লামহা লামিয়ার কপালে হাত রেখে বললো ” এখনো কী ব্যাথা করছে??”
” আরেহ না আপা একটু ও ব্যাথা নেই। আর তুমি আমার চিন্তা না করে তোমার আর আমাদের নতুন বাবুর কথা চিন্তা করো বুঝলে।” বলেই লামহার হাত ধরে এগিয়ে গিয়ে লামহা কে চেয়ারে বসালো। তারপর কথা বলতে বলতে লামহার পাশের চেয়ারে বসতেই দেখলো আবির জহুরী চোখে তাকিয়ে আছে দু বোনের দিকে। লামিয়া ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে তাকাতেই আবির বড় বড় পা ফেলে কাঁধ দিয়ে লামিয়া কে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে বললো ” তুই সর তো আমার বউয়ের পাশে বসছিস কেনো?? আমার বউয়ের পাশে আমি বসবো সর তুই।” বলেই লামিয়া কে সরিয়ে নিজে বসে পড়লো।

লামিয়া আবিরের দিকে কপাল কুঁচকে তাকিয়ে বললো “এখন ই বসে নেন বলা তো যায় না পরে বসতে পারবেন কি না।”
আবির লামিয়ার কথায় মুখ বাঁকিয়ে বললো ” আমি সবসময় বসতে পারবো তুই পারবি না বুঝলি।”
আবিরের কথায় লামিয়া সয়তানি হেঁসে বলল ” ঠিক আছে দেখা যাক। কে বসতে পারে আর কে না পারে।” বলেই সামনের চেয়ার টেনে বসলো।
এর মধ্যেই বাড়ির সবাই হৈই হৈই করতে করতে খাবার টেবিলে এসে যোগ দিলো। হামিদা এগিয়ে এসে লামিয়ার মাথায় হাত রেখে বললো

” এখন কী ভালো লাগছে??”
পাশ থেকে আজমেরী বেগম এসে বললো ” এহন কেমন লাগতাছে তোর??”
আজমেরী বেগম এর কথা শেষ হতেই পাশ থেকে আয়না বললো
” তোমার কী কপালে এখনো ব্যাথা আছে লামিয়া??”
একে একে সবাই লামিয়া কে প্রশ্ন করতে লামিয়া বিরক্ত হয়ে বললো
” উফফ তোমরা থামবে?? সবাই এমন ভাব করছো মনে হচ্ছে আমি মরতে মরতে বেঁচে গিয়েছি। আরেহহ বাবা আমি হলাম স্ট্রোং গার্ল। আমার এসব অল্পতে কিছু যায় আসে না বুঝলে??” শেষের কথা বলে মুখ বাকালো লামিয়া।
আরিফ পিছন থেকে এসে লামিয়ার মাথায় গাট্টা মেরে বললো
” ওরেএএ আমার স্ট্রোং গার্ল রে, তাঁর জন্য ই তো কাল জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলি রক্ত দেখে।”
আরিফের কথা শুনে লামিয়া নাক ফুলিয়ে বললো ” খবরদার ছোট্ট ভাই একদম মিথ্যা বলবা না। আমি মোটেও রক্ত দেখে জ্ঞান হারাই নি আমাকে কেউ ঘুমের ইনজেকশন পুশ করেছিলো।”
” ওওও তাই নাকি?? তুই না বললে তো আমরা জানতাম ই না।” পাশ থেকে লাবিব ঠোঁট ভেটকে বলে উঠলো।
লাবিব এর মুখের আকৃতি দেখে লামিয়া বেশ বিরক্ত হয়ে চ শব্দ করে উঠলো।

” ওকে কেনো তোরা বিরক্ত করছিস??” চেয়ারে বসতে বসতে রাশেদ বলে উঠলো।
লাবিব ফলের ঝুড়ি থেকে একটা কমলা নিয়ে সেটার খোসা ছাড়াতে ছাড়াতে বললো ” ওও নিজেই একটা বিরক্ত। ওকে আমরা কীভাবে বিরক্ত করবো বল??”
বলেই এক টুকরো কমলা মুখে তুলতে নিতেই ধাম করে পিঠে এক কিল এসে পড়লো। লাবিব চোখ মুখ কুঁচকে পিছনে তাকাতেই দেখলো শুভ্র দাঁড়িয়ে আছে। তা দেখে লাবিব রেগে বললো ” মারলি কেনো??”
শুভ্র চেয়ারে বসতে বসতে বলল

” মনে চাইলো তাই।” বলেই লামিয়ার দিকে তাকালো।
তারপর খাবার বেরে খেতে লাগলো। আজ বেশ হৈই হৈই করে খাবার টেবিলে সবাই খাবার খাচ্ছে। লামহার ছেলে হবে না মেয়ে হবে এই নিয়ে এক প্রকার তর্কাতর্কি হয়ে গেলো। সবাই আজ বেশ খুশি। এর মধ্যে আনিসুল সাহেব ফ্যামিলি গ্রুপে ভিডিও কল করেছে। ভিডিও কলে বাপ – চাচা, মা- চাচি এবং খান বাড়ির কর্তা কর্তিরাও কলে এসেছে। তাঁরা নানা – নানী, দাদা – দাদী হবে ভাবতেই তাঁরা আনন্দে আটখানা হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যেই আনিসুল সাহেব বলে উঠলো তারা জানি কাল বাড়ি চলে যায়। লামহা কে নিয়ে এখন আর কোথাও ঘুরতে হবে না। কথা শুনে সবার ই এক প্রকার মন খারাপ হয়ে গেলো। কারণ এখনো তাঁরা পুরো গ্রাম ঘুরে দেখে নি। সবার মন খারাপ দেখে লামহা বলে উঠলো ” বড় চাচা আর কয়েকটা দিন থাকি প্লিজ।”
ফোনের ওপাশ থেকে আবিরের মা বলে উঠলো ” না, না যদি কিছু হয় তখন?? থাকতে হবে না তোমরা কাল ই চলে এসো।”

লামহা মাথা নিচু করে মিনমিন করে বললো ” থাকি না আম্মু আর আপনার ছেলে তো আছেই আমাকে দেখে রাখার জন্য। আমি কথা দিচ্ছি আর দু একদিন থেকে চলে আসবো।”
আবিরের মা ফোনের স্ক্রিনে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললো
” ঠিক আছে।” বলতেই খাবার টেবিলে সবাই হৈই হৈই করে উঠলো।
ছেলেমেয়েদের এমন আনন্দ দেখে বাড়ির বড় রা আর বাড়িতে যেতে আর জোর করলো না।
বেশ আনন্দ নিয়ে খাবার খেলো সবাই। আজমেরী বেগম সব নাতি – নাতনীদের দিকে তাকাতেই চোখ ভরে উঠলো তাঁর। আদরের নাতি – নাতনি রা জানি সুখে থাকে, সুস্থ থাকে এই দোয়াই করলো মনে মনে। আজ তাঁর জানি কেনো সুখী মনে হচ্ছে। দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী মানুষ যদি কেউ হয়ে থাকে তাহলে আজমেরী বেগম সেই সুখী মানুষ। ভাবতে ভাবতে হেঁসে উঠলো আজমেরী বেগম। তারপর সবার তালে তাল মিলিয়ে খেতে খেতে আড্ডা দিতে লাগলো।

জমিদার বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে আছে আশিক। খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে হিহি করে হেসে উঠলো তারপর একা একাই বলতে লাগলো
” আমার ফুল কোথায় ছিলে তুমি হ্যাঁ?? আমি কতো অপেক্ষা করেছি তোমার জন্য জানো?? আমার কেশবতী আমার প্রাণ দূরে কেনো দাঁড়িয়ে আছো?? আমার কাছে আসো।”
বলেই ঠোঁট উল্টালো আশিক। তারপর কী ভেবে এক পা দু পা এগিয়ে যেতে লাগলো রেলিংয়ের দিকে। হাঁটতে হাঁটতে আশিক চলে গেলো ছাদের একদম কিনারে। আর এক পা দিলেই পরে যাবে সে ছাদের থেকে। তখনই নূর কোথা থেকে দৌড়ে এসে আশিক কে টেনে ছাদের মাঝে আনতে লাগলো। কিন্তু আশিক নূর কে সরিয়ে সে যেতে চায় ছাদের একদম কিনারে। অনু তা দেখে দৌড়ে শিকল এনে দ্রুত আশিকের পায়ে শিকল পড়িয়ে দিতেই আশিক বাচ্চাদের মতো কেঁদে উঠলো।

” খুলে দাও এই আমাকে। আমি আমার কেশবতী ফুলের কাছে যেতে চাই। দেখো ওরা আমাকে ডাকছে। ছেঁড়ে দাও তোমরা আমাকে।” বলতে বলতে কেঁদে উঠলো আশিক।
” ওনার এমন অবস্থা কী করে হলো??”
কথাটা শুনে নূর আর অনু পিছনে ঘুরে তাকাতেই দেখলো তায়েব, তায়েবা, মাহির, লামিয়া দাড়িয়ে আছে। নূর তা দেখে ভ্রু কুঁচকে বললো ” তোমরা এখানে?? ”
লামিয়া এগিয়ে গিয়ে নূর এর সামনে দাড়িয়ে বললো ” আমি যা বলছি তার উত্তর দিন।”
নূর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতে লাগলো আজ থেকে তিন বছর আগের কথা।

ফুল নামের এক এতিম মেয়েকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলো আশিক। দেখতে বেশ সুন্দরী ছিলো ফুল। কোমড় ছেড়ে চুল ছিলো তার। ভাইয়া ভালোবেসে ভাবি কে কেশবতী বলে ডাকতো। ভালোই কাটছিলো তাদের সংসার জীবন। ভাবী ও আমাদের সবাইকে আপন করে নিয়েছিলো। বেশ আনন্দে দিন যাচ্ছিলো আমাদের। কিন্তু এই আনন্দ আমাদের মাঝে বেশিদিন টিকে নি। একদিন ভাইয়া ভাবী কে বাইকে করে ঘুরতে নিয়ে গিয়েছিলো। সারাদিন ঘুরোঘুরি করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে ট্রাক এর সাথে এক্সিডেন্ট হয় তাঁদের বাইক। গুরুতর ভাবে মাথায় আঘাত পায় দুজন ই। সেখানের কিছু মানুষ জন তাদের ধরে হসপিটালে নিয়ে যায়। আমরা সবাই খবর শুনে দৌড়ে যাই হসপিটালে। সেখানে যেতেই শুনি ভাবী আর আমাদের মধ্যে নেই। এ কথা শুনে সবাই ভেঙে পরি। ভাইয়ার জ্ঞান ফিরে নি তখন ও। ডক্টর বলে গেলো যদি আজকের মধ্যে ভাইয়ার জ্ঞান না ফিরে তাহলে সে কোমায় চলে যাবে। এ কথা শুনে সবাই আরো ভেঙে পড়লো। ভাবী কে বাড়িতে এনে দাফন করা হলো। ভাইয়া তখন ও হসপিটালের বেডে। প্রায় তিন মাস পর ভাইয়ার জ্ঞান ফিরতেই তাকে জানানো হলো ভাবী আর নেই। এইটাই হয়তো আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল ছিলো। সঙ্গে সঙ্গে ভাইয়া কে এই কথা জানাতেই ভাইয়া পাগলের মতো ভাবীর নাম ধরে ডাকতে লাগলো। ডক্টর রা তাকে ঘুমের ইনজেকশন পুশ করতেই ভাইয়া ঘুমের ঘোরে তলিয়ে গেলো। আমরা ভেবেছিলাম হয়তো ভাইয়া শান্ত হয়ে যাবে, হয়তো ভাবীর জন্য কান্না করবে, তারপর ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে ঘুম থেকে উঠার পর। কিন্তু আমাদের ভুল প্রমান করে ভাইয়া কেমন নীরব হয়ে গেলো। নিজেকে একা অন্ধকার রুমে আটকে রাখতো। কারোর সাথে মিশতো না। তারপর ধীরে ধীরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। তারপর থেকেই একা একা কথা বলে, ফুল ফুল বলে চিৎকার করে। এমন কী অনেক বার সু*ইসা*ইড করতেও গিয়েছিলো। তার জন্য আমরা দেখে শুনে রাখি আর কী।
সবাই এতোক্ষণ মনোযোগ দিয়ে নূর এর কথা শুনছিলো। অনুর চোখ বেয়ে পানি পড়ছে। লামিয়া, তায়েব, তায়েবা, মাহির নিশ্চুপ কোনো কথা বলছে না। তাদের চুপ থাকতে দেখে নূর বললো ” প্লিজ লামিয়া কালকের জন্য আমি সরি। ”

লামিয়া নূর এর দিকে তাকিয়ে বললো ” আপনি সরি বলছেন যে??”
নূর অপরাধী কন্ঠে বললো ” কালকে ভাইয়ার জন্য তুমি কষ্ট পেলে তাই। ”
” আমি কী একবারো বলেছি এসব এর পিছনে আপনার ভাই ছিলো??”
নূর লামিয়ার দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে। তার আগেই লামিয়া নূর কে থামিয়ে দিয়ে সব কিছু খুলে বলতে সবাই অবাক হলো। নূর অবাক হয় প্রশ্ন করলো ” কে?? কার এতো বড় সাহস?? ”
লামিয়া তা শুন বলে উঠলো ” তা জানি না তবে খুব দ্রুত বের করে ফেলবো। আসি। এখন। ” বলেই সামনে ঘুরে পা ফেলতেই আবার পিছন ঘুরে আশিক এর দিকে তাকিয়ে নূর এর উদ্দেশ্যে বললো
” আপনার ভাইয়ের খেয়াল রাখবেন। ” বলেই চল গেলো চারজন।

এভাবেই কেটে গেলো দু দিন।
লাবিব মুখ ভার করে দাড়িয়ে আছে। তার পাশে ছবি রেগে তাকিয়ে আছে লাবিব এর দিকে।
লাবিব এর নীরবতা দেখে ছবি আর কিছু আ বলে এগিয়ে গেলো বাগানের দিকে। ছবিকে বাগানের দিকে এগিয়ে যেতেই লাবিব ও রেগে যেতে লাগলো ছবির পিছনে।
বেশ আরাম করে চেয়ারে বসে ফোন টিপছে ইসলাম বাড়ির চার বিখ্যাত সন্তান লামিয়া, তায়েব, মাহির আর তায়েবা। হঠাৎ লাবিব আর ছবির চেচামেচি শুনে ফোন রেখে সামনের দিকে ঘুরে তাকালো চারজন। তখন ই দেখলো লাবিব আর ছবির মাঝে কথা কাটা কাটি হচ্ছে। তা দেখ তারা কপাল চাপরালো। কারণ
লাবিব আর ছবির মাঝে তুমুল ঝগড়া হচ্ছে বাগান বাড়িতে আসার পর থেকে। ঝগড়ার কারণ হলো লাবিব ছবির সাথে থাকতে চাইছে কিন্তু ছবি তা চাইছে না। এই নিয়েই ঝগড়া চলছিলো বেশ।
তার সামনেই গালে হাত রেখে হতাশ সাথে বিরক্ত চোখে তাদের ঝগড়া দেখছে লামিয়া, তায়েব, তায়েবা, মাহির। তাঁরা তাঁদের ঝগড়া দেখে দুইজন কে থামাতে চাইলো কিন্তু উল্টো তাদের থামাতে না পেরে তাঁরা বিরক্ত হয়ে চুপ করে গেছে।
তায়েব এবার আর সহ্য করতে না পেরে তাদের মাঝে গিয়ে বললো

” চুপপপপপপপ তোরাআআআ কি ঝগড়া শুরু করেছিস??”
লাবিব রেগে বললো ” তোর বোন কে বল আমার কথা মানতে।”
লাবিব এর কথায় ছবি ঝাঁঝালো কন্ঠে বললো
” মানবো না আপনার কথা কী করবেন আপনি..?”
লাবিব ও ছবির কথার পৃষ্ঠে কথা বলতে লাগলো। এই নিয়ে আরো এক দফা ঝগড়া শুরু হলো তাদের মধ্যে।
ভীষণ চেঁচামেচি শুনে পাশের ঘর থেকে বেরিয়ে বাগানে এলো পুতু মিয়ার বউ জরিনা বেগম। হাতে তাঁর ডায়াপার। পিছনে কারোর উপস্থিতি টের পেয়ে লামিয়া পিছন ঘুরে তাকাতেই দেখলো জরিনা বেগম দাঁড়িয়ে আছে। লামিয়া তাঁকে দেখে এক নজর তার হাতের দিকে তাকালো, তারপর আবার চোখ ঘুরিয়ে ছবি আর লাবিব এর দিকে তাকালো। তারপর ফট করে জরিনা বেগম এর হাতে থেকে নিয়ে নিলো। জরিনা বেগম লামিয়া কে ডায়াপার নিতে দেখে বললো ” ওও আম্মাজান কী করেন এইডা তো আমি নর্দমাতে ফালাইবার লেইগ্গা আনছি।”

লামিয়া লাবিব আর ছবির দিকে দৃষ্টি রেখে বললো ” চাচি আপনাকে হেল্প করছি। নর্দমাতেই ফালাবো এইটা টেনশন করবেনা।” বলেই ডায়াপার ছুঁড়ে দিলো লাবিব এর দিকে। এইদিকে লাবিব ছবি কে কিছু বলার জন্য হা করবে তাঁর আগেই ডায়াপার উড়ে গিয়ে পড়লো লাবিব এর মুখে। মাহির, তায়েব, তায়েবা,ছবি, জরিনা বেগম মুখে হাত দিলো। লাবিব স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কী হলো আর তার মুখে কী এসে পড়লো বুঝতে না পেরে হাত দিয়ে মুখের ডায়াপার টা মুখ থেকে সরিয়ে সামনে আনতেই বড় বড় চোখ করে তাকালো লামিয়ার দিকে। এবার নাকে কিছু বাজে স্মেল পেতেই লাবিবের পেট গুলিয়ে এলো।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৫৯

ডায়াপার ফেলে ঠোঁট গোল করে ওয়াকক ওয়াকক করতে করতে চেঁচিয়ে উঠলো ” আমি তোকে দেখে নিবো লামিয়ার বাচ্চা। এই ডায়াপার এর প্রতিশোধ আমি নিবোই দেখে নিস।”
লামিয়া হাত দিয়ে নিজের কান ঝাঁকিয়ে ঠোঁট টা ভেটকিয়ে বললো ” এই মুখে গু নিয়ে আমার বাচ্চাদের দেখতে আসবেন না প্লিজ। মুখ আরে ডেটল সাবান নিয়ে ধুবেন তারপর না হয় আমার বাচ্চাদের দেখতে আসবেন।”
বলেই চলে গেলো লামিয়া।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৬০ (২)

1 COMMENT

Comments are closed.