প্রেমের বাজিমাত পর্ব ৩৭
রোজ ও রুশা
– মল চত্বরের সামনের লেকটার
সিরির ধাপে পাশাপাশি বসে আছে অধীর, সৃজন আর ঝিনুক। অধীর এক হাতে চিপস খাচ্ছে আরেক হাতে ফোন ঘুরাচ্ছে। সৃজন গম্ভীর মুখে লেকের পানির দিকে তাকিয়ে আছে। আর ঝিনুক বিরক্ত চোখে দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে।
“তোরা দুইটা মানুষ না… একটা বাঁদর আর একটা প্যাঁচা।”
অধীর সঙ্গে সঙ্গে সোজা হয়ে বসলো।
“আমি প্যাঁচা না, আমি অত্যন্ত হ্যান্ডসাম পাখি।”
“হুম।
ঝিনুক ঠান্ডা গলায় বললো,
“রাতে ডাকাডাকি করা হ্যান্ডসাম পাখি। বাদর গুলা নাভান কে আটকাতে পারিস নি দুজন দুই সাইডে থাকিস তার পরো!
– সৃজন গম্ভির মুখে বলে।
” দেখ তুষার পাত এর বউ, তার ঘরে যেতে দেয় না। কিক দিয়ে বের করে দিছে । এখনো পিছন জ্বলে, সালার কি জোর শরীরে,, বাপ রে বাপ!! জ্বর নিয়ে পড়ে থাকার পর একটু সুস্থ হতেই আবার কাজে ডুবে গেছে। মিটিং, শো, বাইক রেসের প্র্যাকটিস, বিজনেস ডিল— যেনো একটা মানুষ না, পুরো দশটা মানুষ একসাথে।
অধীর দীর্ঘশ্বাস ফেললো।
“ আমি আজও বুঝলাম না একটা মানুষের কয় দিক থেকে ইনকাম করা লাগে! একটা কর— সিংগার, নয়তো বাইক চ্যাম্পিয়ন, নয়তো বিজনেসম্যান। নয়তো জব, কিন্তু না… ভাই সব করবে। কালকে দেখবি নাসায় চাকরিও নিয়ে ফেলছে।”
সৃজন হেসে বললো—
“ এই কথা নাভানকে গিয়ে বল।
অধীর সঙ্গে সঙ্গে নাভানের গলা নকল করে বললো—
“ জীবনে সফল হতে গেলে পরিশ্রম করতে হবে। ইডিয়ট, অলসের দল।
তারপর আবারো নিজের গলায় নাটকীয়ভাবে বললো—
“ আর জীবনে টাক হতে গেলে নাভান হতে হবে।
– ঝিনুক এবার হেসে ফেললো অধীরের কাহিনি দেখে। আজ বেচারার মন ফুরফুরে, রুশার সাথে সেই ভাব হয়েছে। মেয়েটা মাঝে মাঝে বেশি করে ফেলে,,আজ তো ভুলে রুশার সামনে একটা মেয়েকে, সেই মাল বলে সম্মোধন করেছিলো। রুশা শুনে কটমট চোখে তাকিয়ে ছিলো। পরর্বতীতে অনেক কষ্টে বুঝিয়েছে, মাল বলতে এক লোক সামনে দিয়ে ভেনগাড়ী করে ডাব বিক্রি করতে করতে গিয়েছিলো। সে ডাব দেখে বলেছিলো উক্ত কথা। * সেই মাল **আর সেই ডাব বিক্রেতার ভেনের সামনে জিন্স টপস পরা একটা মেয়ে ছিলো। ভাগ্য ভালো পাবলিকে ক্যালানি দেয় নি রুশা। শুধু কটমট চোখে তাকিয়ে ছিলো। আজ বড় বাচা বেচে গেছে। তাই মন ফুরফুরে। অধীর হেসে নাভান কে মনে করে বলে!
“ এই ছেলে একদিন দেখবি মাথার চুল সব সাদা করে ফেলবে। তারপর বাচ্চারা মেডেল ঝুলাইয়া কাঁধে উঠে বলবে—দাদুভাই ঘোড়া ঘোড়া!
সৃজন এবার হেসে কাশি দিলো।
“ তারপর?
অধীর বুক ফুলিয়ে বললো—
“তারপর ভাবি বলবে! এই বুড়ো মানুষটা আমার না। চায়না কম্পানি। কিনলাম দাম দিয়ে, কিন্তু ভাগ্য সহায় হয় নি। ঠিক মতো ইউস করার আগেই লাল বাত্তি।
ঠিক তখনই সৃজনের চোখ অন্যদিকে আটকে গেল। হেরা নিজেদের হল থেকে এসেছে। সাদা-নীল ড্রেসে চুপচাপ হাঁটছে মেয়েটা। সৃজনের এই মেয়েকে দেখলেই বোন বোন ফিল আসে। মনে হয় কতো বছরের চিনা এই মেয়েটা । চোখদুটো অস্থিরভাবে চারপাশে খুঁজছে কাউকে।
কিন্তু কাছে এসেও কিছু জিজ্ঞেস করলো না।
শুধু একবার লেকের দিকে তাকালো… তারপর এদিক-ওদিক চোখ ঘুরিয়ে ধীরে ধীরে চলে যেতে লাগলো। অধীর ঠোঁট কামড়ে হাসি চাপলো।
“ ওই দেখ কিউটিপাই ভাবি বোন … সিআইডি অফিসার সেজে এসেছে।
ঝিনুক কনুই মারলো।
“ চুপ বাদর!
সৃজন মুচকি হেসে বললো—
“ কাউকে খুঁজছে মনে হয়।
অধীর নাটকীয় মুখে উঠে দাঁড়িয়ে চারপাশে তাকালো। হেরাকে বললো!
” কিউটিপাই ভাবি বোন এখানে কি করছো?
হেরা থতমত খেয়ে যায় অধীর এর কথায়। কি বলবে বুঝতে না পেরে নক কাটতে থাকে দাত দিয়ে। মুচকি হেসে বলে উঠে –
” এই তো একটু বাতাস খেতে আর গাছ পালা দেখতে এসেছি। ওদিকে কেমন বাতাস ও অসুদ্ধ মনে হচ্ছে।
অধীর টিপকুনি কেটে বলে।
“ ওওওও” আমাদের ক্যাম্পাসের বাতাস দেখতে এসেছো, আজকাল গাছপালা বাতাস ও খুজে মানুষ ?
হেরা শুনেও শুনলো না, ভান করে হাঁটতে লাগলো।
কিন্তু কান লাল হয়ে গেছে।
সৃজন গলা উঁচু করলো—
“ হেরা বনু, নাভানকে খুঁজছো নাকি ?”
হেরা সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে তাকালো।
“ না তো!
“ ও আচ্ছা।
অধীর মাথা নেড়ে বললো —
“ আমরা ভাবলাম কেউ একজন চারদিন ধরে একটা গিটারওয়ালার খোঁজে ঘুরতেছে।
হেরা এবার চোখ ছোট করে তাকালো।
“ কি আজোব কথা বলছেন ভাইয়া!
বলেই দ্রুত হাঁটতে হাঁটতে চলে গেল—
ও যেতেই তিনজন একসাথে হেসে উঠলো।
ঠিক পাঁচ মিনিট পর দূর থেকে কালো গাড়িটা এসে থামলো। নাভান নামলো। কালো শার্টের হাতা কনুই পর্যন্ত গোটানো। ভিতরের সাদা গেঞ্জি ফুটে উঠেছে বডিতে। আর তিল টা বরাবরের মতো উকি দিচ্ছে সবার আগে,চোখে ক্লান্তি… তবুও সেই চিরচেনা ভাব।
সে চারপাশে একবার তাকালো। সবাই কেমন তার দিকে তাকিয়ে আছে! লেকের পাশে… সিঁড়ির দিকে… মলের সামনে বসে …সব গুলা মিটি মিটি হাসছে। ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে সামনে যায় নাভান । তারপর স্বাভাবিক গলায় বললো—
“ কি রে? সবাই এমন তাকিয়ে আছিস কেন?
অধীর ঠোঁট বাঁকালো।
“ কাউরে খুঁজতেছিস নাকি ভাই?
“ না। ( নাভান )
“ ও আচ্ছা।
অধীর মাথা নেড়ে বললো—
“ আমরা ভাবলাম কেউ একজন চারদিন পর এসে ক্যাম্পাসের বাতাস চেক করবে। বাতাসে কি ঘ্রাণ পাওয়া যায় নাকি কারো।
নাভান চোখ সরু করলো। বিরক্ত নিয়ে বললো!
“ অধীর!
“ হুম!
“ জানিস তো মার খাওয়ারও কোনো বয়স নেই। ভন্ডামি ছেড়ে ভালো হ!
ঝিনুক হঠাৎ নাভানের কপালে হাত দিলো।
“ তোর এখনো জ্বর আছে!
নাভান বিরক্ত হলো।
“ No
ঝিনুক ব্যাগ থেকে মেডিসিন বের করে হাতে ধরিয়ে দিলো।
“ খা।
অধীর সঙ্গে সঙ্গে গান ধরলো নাটকীয় গলায়—
“ভাইয়ের গায়ে প্রেমের জ্বর~
দে না ভাবিরে খবর~
কেউ জানে না ভাবি ভাইয়ের—”
সৃজন সিরিতে চাপড় মেরে বিট দিলো।
“শীতেরই চাদররর~
ঝিনুক হেসে কুঁকড়ে গেল। নাভান কপাল চেপে ধরলো।
“Are you even human?
অধীর থামছে না।
“ভাই চারদিন ধরে জ্বরে পুড়তেছে—
কিন্তু ওষুধে কাজ হয় না।
কারণ রোগের নাম— হেরা ভাইরাস।
ঠিক তখনই একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা হেরা সব শুনে ফেললো। তার চোখ বড় বড়।
“ What the আজেবাজে কথা!
অধীর সঙ্গে সঙ্গে তাকে দেখে আরও জোরে গান ধরলো—
“ভাইয়ের গায়ে প্রেমের জ্বররর—দে না ভাবিরে খবর, কেউ জানে না ভাবি ভাইরের শিতেরি চাদর।
— ভার্সিটিতে এসেও শান্তি নেই নাভানের।
সকাল থেকেই ফোনের পর ফোন। কারও জরুরি কাজ, কারও মিটিং, কারও আবার এক্সিডেন্টাল ঝামেলা। ক্লাস শেষ হতেই বিরক্ত মুখে ফোনটা কানে চেপে ধরে বেরিয়ে গেল সে। হাতে হেরার পরীক্ষার রুটিনটা দিয়ে বলেছিল শুধু—
“Please look these over carefully.
(এগুলো ঠিকমতো দেখে নিও)
তারপর তাড়াহুড়োয় একটা কথাই বলছিলো —
Missile Girl, Niloy থেকে distance maintain করবে” I mean serious distance. At least ten hand away, got it?
বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকের পাশের সিঁড়িগুলো বিকেলের আলোয় অদ্ভুত শান্ত লাগছিল। চারপাশে ছাত্রছাত্রীদের ছোট ছোট দল। কেউ আড্ডা দিচ্ছে, কেউ ছবি তুলছে, কেউ আবার ক্লাসের নোট মিলাচ্ছে।
হেরা সিঁড়িতে বসে রুটিনটা দেখছিল। পাশে রোজ আর রুশা।
কিন্তু একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা একটা ছায়া বারবার তাকিয়ে ছিল তাদের দিকে।
নিলয় তার চোখে সেই অদ্ভুত অপেক্ষা।
নাভান কখন যাবে। যেই না নাভানের গাড়িটা গেট পার হলো, নিলয় ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো তাদের দিকে। মুখে চাপা হাসি, কিন্তু চোখের ভিতর জমাট অস্থিরতা।
রোজ প্রথমেই বিরক্ত হয়ে ভ্রু কুঁচকালো।
কারণ তারা এখন নিলয়কে অন্য চোখে দেখে।
একসময় তারা নিজেরাই চাইতো হেরা আর নিলয় এক হোক। নিলয় ভদ্র, শান্ত, কেয়ারিং—এই ভাবমূর্তিটাই দেখেছিল সবাই। কিন্তু পরে বুঝেছে—
নাভানকে ছোট করে, মিথ্যে বলে, হেরার সামনে খারাপ প্রমাণ করে নিজেকে ভালো বানানোর চেষ্টা করেছিল সে। আর নেন্সির ব্যাপারেও জেনেছে সৃজন আর অধীর এর কাছ থেকে।
রোজ বলে উঠলো—
“ কি ব্যাপার চুইংগাম হিরো? আপনি এখানে কেনো?
নিলয় হালকা হেসে তাকালো।
“ কেনো রোজ? আমি কি নতুন তোমাদের সাথে কথা বলতে এসেছি?
রুশা এবার অস্বস্তি নিয়ে চারপাশ দেখলো।
“ তা না ভাইয়া… কিন্তু নাভান ভাই দেখলে আবার ঝামেলা হবে।
নাভানের নাম শুনতেই নিলয়ের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। চোখের রঙ বদলে গেল মুহূর্তেই।
“নাভান… নাভান… নাভান! আর কত সহ্য করবো আমি, বলো তো?”
গলা ভারী হয়ে উঠলো তার।
“ ওর জন্য আমি আমার ভালোবাসার মানুষটাকে হারাবো কেনো? কি দোষ করেছি আমি?”
রুশা এবার ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো।
“ দেখুন ভাইয়া… আমরা জানি আপনি হেরাকে ভালোবাসেন। কিন্তু এখন হেরা নাভান ভাইয়ার স্ত্রী।
“ এনাফ!
হঠাৎ গর্জে উঠলো নিলয়। চারপাশের কয়েকজন ঘুরে তাকালো।
“ হেরা শুধু আমার!
তার চোখ রক্তিম হয়ে উঠেছে।
“ দশটা বিয়ে করলেও হেরা আমারই থাকবে!
কথাটা শুনে রোজ বিরক্তিতে মুখ ঘুরিয়ে নিলো।
রুশা হতবাক। আর হেরা… সে কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে রইলো নিলয়ের দিকে।
তারপর ধীরে ধীরে হাতে ধরা রুটিনটা ভাঁজ করে ব্যাগে রাখলো। সিঁড়ি থেকে নেমে এসে নিলয়ের সামনে দাঁড়ালো। শান্ত, অস্বাভাবিক শান্ত”
“ দেখো নিলয় “আমি তোমাকে সবসময় বন্ধুর চোখে দেখেছি। কখনো প্রতিশ্রুতি দেইনি। কখনো বলিনি আমি তোমাকে ভালোবাসি।
নিলয়ের চোখ কেঁপে উঠলো। হেরা থামলো না।
“ আমাদের মধ্যে কখনো প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্ক ছিল না। তুমি আমার ভালো বন্ধু ছিলে। শুধু বন্ধু।
“ তার মানে তুমি বিয়েটা মেনে নিচ্ছো?
হেরা দীর্ঘশ্বাস ফেললো
“ কথা সেটা না। তোমরা দুজন আমাকে নিয়ে রীতিমতো টানাটানি শুরু করেছো। একজন নিজের অধিকার দেখায়, আরেকজন বলে দশটা বিয়ে করলেও ছাড়বে না। ভালোবাসা কি জানো তোমরা? আমার তো মনে হয় তোমরা ভালোবাসাটাই বুঝো না। আমি রক্তে-মাংসে গড়া মানুষ নিলয়। আমাকে পাওয়ার জন্য বাজি ধরবে, টানবে, নিজের কাছে রাখতে চাইবে—আমি কি ট্রফি?
নিলয় যেন আঘাত পেল কথাগুলোতে।
তার চোখ নরম হয়ে এলো।
“ আমি সব করবো তোমার জন্য…”
নিচু স্বরে বললো সে। “তুমি প্লিজ নাভানকে ছেড়ে দাও। ও তো তোমার ভাই…”
রোজ বিরক্তিতে ফিসফিস করলো—
“ আবার শুরু করলো…
নিলয় থামলো না।
“ আমি সারাজীবন তোমার কথা মতো চলবো হেরা ফুল। তুমি যা বলবে তাই করবো। শুধু চলে আসো আমার কাছে।
হেরা তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। তার চোখে মায়া আছে। কিন্তু প্রেম নেই। এক ফোঁটাও নেই।
“ ভালোবাসা এমন জিনিস না নিলয়… “এটা চেয়ে পাওয়া যায় না।
এই কথাটাই যেন নিলয়ের ভিতরের শেষ সুতো ছিঁড়ে দিলো। সে হঠাৎ হেরার হাত শক্ত করে ধরে ফেললো।
“ তো নাভানের মতো জোর করতে হয়?! তার গলায় উন্মাদনা। ও যা করেছে তাই করতে হবে তাহলে পাবো ?!
হেরা চিৎকার করে বলে উঠলো —
“ নিলয়!
ব্যথায় কেঁপে উঠলো হেরা। নিলয় ঝুঁকে এলো তার কাছে। চোখে ভয়ংকর হিংসা।
“ কি এমন মজা দিয়েছে নাভান? যে আমাকে দেখতে পারছো না? আমি কি নাভান এরথেকে কম? ও যা দিতে পারবে তার থেকে বেশি আমি দিবো!
– কথা টা শুনার সাথে সাথে” ঠাসসস “নিলয় এর গালে দাবাং মার্কা থাপ্পড় পরে।
” হেরার থাপ্পড়ে অনেক কষ্টে নিজেকে কন্ট্রোল করছে নিলয় । অনেকেই দেখছে দূর থেকে। এই প্রথম দ্যা স্টাইলিশ বয়, নিলয় চৌধুরীকে কেউ থাপ্পড় মেরেছে। অনেক মেয়েরা হা হয়ে আছে। তাদের সম্পর্ক কেমন তা অনেকেই জানে। হেরা যে নিলয় কে থাপ্পড় মারবে এটা অকল্পনীয় ছিলো!এদিকে এমন বাজে কথার সম্মুখীন হয়ে হেরা রিতিমত কাপছে। নিলয় কে বন্ধুর চোখে দেখে এসেছে সব সময়। সেই বন্ধুর মুখে এমন কথা শুনে হেরা হতবাক হয়ে গেল। এই ছেলেটাকে সে চিনে না । এই চোখ…এই ভাষা…এই আগ্রাসন…সবই হেরার অচেনা।
” ছি নিলয়, আমি তোমাকে আমার ভালো বন্ধু ভাবতাম! যে সকল বিপদ আপদে আমার পাশে থেকেছে। এমন ধারনা আমাকে নিয়ে তোমার ছি নিলয় ছি! এটা সেই প্রথম দিনের নিলয় না! দিন দিন তোমার ব্যাবহারে আমি তোমাকে চিনতে পারছি না নিলয়।
হেরার কথায় নিলয় উন্মাদের মতো হেরার হাত ধরে বলতে থাকে —
“I love you so much, Hera.. I can’t live without you. And I’m sorry. I never wanted to hurt you or say anything painful to you. Please try to understand my feelings.
হাটু গেরে বসে দুই হাত জোড় পাগলের মতো বলতে থাকে কথা গুলো নিলয় —
প্রতি উত্তরে হেরা বলে—
“আমার বাবা তোমাকে কখনো মেনে নেবে না।”
নিলয় আবারো বললো —
“আমি সব ছেড়ে দিবো! সব সম্পর্ক মুছে ফেলবো দরকার হয়। তাও আমার তোমাকেই লাগবে হেরা ফুল! প্লিজ কাম ইন মাই লাইফ” প্লিজ!
হেরার চোখ ভিজে উঠলো এবার। হেরা কি বলবে কিছু বুঝতে পারছে না। নিলয় কেনো বুঝতে চাইছে না ভালোবাসা জোর করে হয় না। এটা মনের অনূভুতি। বাবার সম্পর্ক ছিন্ন করবে এই কথা শুনার পর হেরা স্তব্দ হয়ে যায়। নিলয় কে বুঝানোর জন্য বলে উঠে।
“ কি বলছো নিলয়… এসব হয় না। ভালোবাসা কাউকে পরিবার থেকে আলাদা করতে শেখায় না।
চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে গেছে। লেকের পানির ঢেউ পর্যন্ত যেন থমকে আছে। আর দূরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা কালো গাড়িটার ভিতর থেকে কেউ একজন সব দেখছে।
গভীর, ঠান্ডা চোখে।
রাজধানীর অভিজাত রাজনৈতিক সম্মেলন।
বিশাল হলরুমজুড়ে আলো, ক্যামেরা, ক্ষমতাবান মানুষের ভিড়। মঞ্চের সামনে বড় বড় নেতারা বসে আছে, সাংবাদিকদের ব্যস্ত আনাগোনা। এই ভিড়ের মাঝেও একটা মানুষকে আলাদা করে চোখে পড়ে।
***অ্যাডভোকেট এম এল এ কাজল খান***
কালো শাড়ির সাথে সাদা মুক্তোর গয়না, চোখে তীক্ষ্ণ আত্মবিশ্বাস। দেশের অন্যতম পরিচিত আইনজীবী। রাজনীতির অন্দরমহলেও তার প্রভাব কম না। আর ঠিক তার পাশেই দাঁড়িয়ে শামসুল। চোখেমুখে অদ্ভুত এক অধিকারবোধ।
“ তুমি কি আমার কথা একবারও শুনবে না সুন্দরী!
কাজল বিরক্ত চোখে তাকালো।
“ এটা রাজনৈতিক মিটিং, ব্যক্তিগত নাটক করার জায়গা না শামসুল, দূরে থাক আমার থেকে!
“ নাটক কি সুন্দরী?
শামসুল হেসে উঠলো।
“ তুমি যেভাবে আমায় এড়িয়ে চলছো, তাতে মনে হচ্ছে আমি তোমার শত্রু!!
“ তুই কী, সেটা তুই নিজেই ভালো জানিস ”
চারপাশের কয়েকজন নেতা কৌতূহলী চোখে তাকালো। শামসুল এবার একটু ঝুঁকে নিচু স্বরে বললো—
“ তাকে ফিরিয়ে দিয়েছো তো?
তাহলে সমস্যা কোথায়?
কাজল ভ্রু কুঁচকালো।
“ আমি কাউকে কৈফিয়ত দিই না।
“ ডিভোর্স পেপারে সাইন করো।
কাজলের চোখ এবার ঠান্ডা হয়ে গেল।
“এটা তোর বাপ-দাদার সম্পত্তি না শামসুল।
কোর্টের আইন আছে।
“ আইন?
শামসুল তাচ্ছিল্যের হাসি দিল।
“ তুমি ভুলে যাচ্ছো, এই শহরে আইনও ক্ষমতার দিকে তাকিয়ে চলে।
“ আর তুই ভুলে যাচ্ছিস আমি অ্যাডভোকেট কাজল খান। আইনকে ভয় দেখিয়ে থামানো যায় না। তখন জেলে ঢুকতে হবে। আর আমাকে সম্মান দেখালেও তোকে কিন্তু দেখাবে না। তোকে ছাগলের দড়ি দিয়ে টেনে হিচড়ে নিয়ে যাবে—
চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠলো এডভোকেট এম এল এ কাজল খান এর কথায়।
বিঃদ্র ——
ডিভোর্স** শব্দটা শুনলেই সমাজের চোখে যেন প্রথমে একজন অপরাধী খোঁজা শুরু হয়।
আর সেই অপরাধী যদি নারী হয়, তাহলে বিচারটা আরো নির্মম হয়ে যায়।
“মেয়ে হয়ে সংসার রাখতে পারলো না?
“নিশ্চয়ই অন্য কারো সাথে সম্পর্ক আছে।
“স্বামী একটু রাগ করলেই কি ডিভোর্স দিতে হয়?
অথচ একই সমাজে একজন ছেলে যখন হুট করে স্ত্রীকে ছেড়ে দেয়, তখন অনেকেই বলে—
“ পুরুষ মানুষ, নিশ্চয়ই কারণ ছিল। স্ত্রী হয়তো ঠিকমতো চলতে পারেনি। এই দ্বিমুখী বিচারটাই সবচেয়ে ভয়ংকর। সংসার ভাঙা কখনো সহজ সিদ্ধান্ত না। না একজন মেয়ের জন্য, না একজন ছেলের জন্য। ডিভোর্সের কাগজে শুধু দুইটা স্বাক্ষর থাকে, কিন্তু তার পেছনে থাকে—
অগণিত কান্না, অপমান, চুপচাপ সহ্য করা রাত, আর শেষ হয়ে যাওয়া বিশ্বাস। কিন্তু আমাদের সমাজ একটা জিনিস ভুলে যায়, আইন ডিভোর্সকে অপরাধ বলে না। আইন এটাকে অধিকার বলে। কারণ এমন অনেক সংসার আছে যেখানে মানুষ প্রতিদিন মরতে মরতে বাঁচে। কেউ শারীরিক নির্যাতন সহ্য করে,
কেউ মানসিক অপমান, কেউ প্রতারণা,
কেউ আবার বছরের পর বছর অবহেলা।
সেখানে ডিভোর্স কখনো পাপ না,
বরং শেষ বাঁচার চেষ্টা। তবে এটাও সত্য—
আজকাল অনেক সম্পর্ক খুব তুচ্ছ কারণেও ভেঙে যাচ্ছে। একটু ইগো, একটু রাগ, একটু ভুল বোঝাবুঝি…আর মানুষ বলে ওঠে—থাকবো না আর।” এই জায়গাটাও ভয়ংকর।
কারণ সম্পর্ক শুধু ভালোবাসায় না, ধৈর্যেও টিকে থাকে। একটা সময় মানুষ সম্পর্ক বাঁচাতে কথা বলতো,
এখন মানুষ জিততে চায়।
স্বামী চায় সে ঠিক প্রমাণিত হোক,
স্ত্রী চায় সে হার মানবে না।
মাঝখানে ভালোবাসাটা হেরে যায়।
সমাজের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—
তারা ডিভোর্সের কারণ জানার আগে চরিত্র বিচার শুরু করে দেয়। বিশেষ করে মেয়েদের।
ডিভোর্সি মেয়েকে এখনো অনেকে “ঝামেলার মানুষ” ভাবে।
তার হাসি দেখলেও সমস্যা, চুপ থাকলেও সমস্যা।
সে আবার নতুন করে বাঁচতে চাইলে সমাজ কষ্ট পায়।
অথচ কেউ দেখে না—
একটা মেয়ে কতটা ভেঙে গেলে “বাবার বাড়ি ফিরে আসা”র মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়।
কারণ এই সমাজে বিবাহিত মেয়ের জন্য বাবার বাড়ির দরজা থাকলেও, শান্তিটা অনেক সময় থাকে না।
আর ছেলেদের দিকেও চাপ কম না।
একজন পুরুষ যদি সংসারে ব্যর্থ হয়, সমাজ তাকে “অযোগ্য” বলে।
কাঁদতে চাইলেও সে কাঁদতে পারে না।
কারণ ছোটবেলা থেকেই তাকে শেখানো হয়—
“পুরুষ মানুষ কাঁদে না।”
তাই সত্যিটা হলো—
ডিভোর্সে সবসময় একজন খলনায়ক থাকে না।
কখনো কখনো দুইজন মানুষ শুধু একসাথে ভালো থাকতে পারে না।
শিক্ষাটা এখানে—
ডিভোর্সকে ট্রেন্ড বানানোও ভুল,
আবার ডিভোর্সকে পাপ ভেবে মানুষকে আজীবন নির্যাতনে বাঁচতে বাধ্য করাও ভুল।
সম্পর্ক ভাঙার আগে হাজারবার চেষ্টা করা উচিত।
কথা বলা উচিত। সম্মান দেওয়া উচিত।
কাউন্সেলিং দরকার হলে সেটাও করা উচিত।
কিন্তু যদি সত্যিই সম্পর্ক মানুষকে শেষ করে দেয়—
তাহলে সম্মানের সাথে আলাদা হয়ে যাওয়াটা ভালো।
কারণ একটা অসুস্থ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেয়ে,
দুইটা মানুষকে মানসিকভাবে বাঁচিয়ে রাখা অনেক বেশি জরুরি।
বিশাল কনফারেন্স হলটা আজ অস্বাভাবিক রকম জমজমাট।
চারদিকে সাংবাদিক, ঠিকাদার, রাজনৈতিক নেতা, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা— সবাই ব্যস্ত। ক্যামেরার ফ্ল্যাশ বারবার জ্বলে উঠছে। সামনে লম্বা টেবিলের উপর সারি সারি ফাইল সাজানো। দেয়ালের বড় ব্যানারে লেখা—
“ ঢাকা-উত্তরাঞ্চল মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্প হস্তান্তর অনুষ্ঠান”
হলরুমের একদম মাঝখানে, নিজের বরাদ্দকৃত চেয়ারে বসে আছে এডভোকেট এম এল এ কাজল খান। চোখে কালো ফ্রেমের চশমা, হাতে দামি ঘড়ি। এক পায়ের উপর আরেক পা তুলে এমন নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বসে আছে যেন চারপাশের বিশাল আয়োজনও তাকে বিচলিত করতে পারছে না। কিন্তু ভেতরে ভেতরে তার মাথায় ভয়ংকর ঠান্ডা হিসাব কষছে। টেবিলের উপর রাখা প্রতিটা ফাইলের দিকে তার নজর।
কোন পাতায় কী আছে, কোথায় কোন কাগজ, কোন হিসাবের সাথে কোন অনুমোদন জুড়ে দেওয়া হয়েছে— সব মুখস্থ তার। কারণ সে জানে…আজকের অনুষ্ঠান শুধু রাস্তার কাজ হস্তান্তরের অনুষ্ঠান না। আজ শামসুল এর কিছু একটা করবে!
এত বড় প্রজেক্ট, এত টাকার হিসাব… এখানে সামান্য ভুল পেলেই মিডিয়ার সামনে অপমান, মন্ত্রীর সামনে প্রশ্ন, আর রাজনৈতিকভাবে ধস নামানো— সব সম্ভব।
আর শামসুল?
সে তো বহু বছর ধরেই এই সুযোগ খুঁজছে।
কাজল খান ধীরে ধীরে টেবিলে আঙুল ঠুকতে থাকে। তার চোখ একবার ঘুরে যায় হলরুমের ডান পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শামসুলের দিকে। সাদা পাঞ্জাবি, মুখে ভদ্র হাসি, পাশে দু-তিনজন লোক।
দেখতে শান্ত। কিন্তু সেই হাসির আড়ালে বিষ আছে— সেটা কাজল খান বহু আগেই শিখে গেছে।
শামসুল মাঝেমধ্যে তাকাচ্ছে কাজল খানের দিকে।
চোখে এমন এক আত্মবিশ্বাস যেন আজ কিছু একটা ঘটবেই। কাজল খান মুচকি হাসলো।
“খেলা খেলতে নামছো? খেলো…
তার সামনে রাখা মোটা ফাইলগুলো সে আবার খুলে দেখে। প্রতিটা বিল, প্রতিটা অনুমোদন, প্রতিটা জমির কাগজ— সব নিখুঁত। কিন্তু শুধু নিখুঁতই না। সে ইচ্ছে করেই আরও কিছু কাগজ ঢুকিয়েছে ভেতরে। খুব সাধারণ দেখতে কয়েকটা পেপার।
যেগুলো প্রথম নজরে কারও চোখে পড়বে না।
কিন্তু সেগুলোতে এমন কিছু তথ্য আছে— যেগুলোতে সাইন হয়ে গেলে পরে অস্বীকার করার সুযোগ থাকবে না। এক ধরনের ফাঁদ। আইনের ভাষায় অবৈধ। রাজনীতির ভাষায় মারাত্মক।
কাজল খান চেয়ারে হেলান দিলো। তার ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে হাসি ফুটে উঠলো। ঠিক তখনই মন্ত্রী শামসুল চৌধুরী প্রবেশ করলেন। চারপাশে হৈচৈ শুরু হয়ে গেলো। সাংবাদিকরা ক্যামেরা তাক করলো। সবাই দাঁড়িয়ে সম্মান জানালো। শামসুল দ্রুত এগিয়ে গেলেন সবার সামনে । কাজল খানও উঠে দাঁড়ালো। ভদ্র, নিয়ন্ত্রিত হাসি। কিন্তু তার চোখ তখনও ঠান্ডা। অনুষ্ঠান শুরু হলো। একজন কর্মকর্তা মাইকে পুরো প্রকল্পের বিবরণ পড়তে লাগলেন।
কোটি কোটি টাকার বাজেট, উন্নয়ন পরিকল্পনা, নির্মাণ ব্যয়, রাস্তার দৈর্ঘ্য— সব একে একে বলা হচ্ছে। তারপর এলো সাইন করার মুহূর্ত। হলরুম নিস্তব্ধ। শামসুল নিজেই ফাইলগুলো হাতে নিলো।
মুখে আত্মবিশ্বাসী হাসি। প্রথম কয়েকটা পৃষ্ঠা খুব মনোযোগ দিয়ে চেক করলো সে।
হিসাব মিলালো।
তার পাশে থাকা লোকেরা মাথা নেড়ে কিছু ইশারা দিলো।
কাজল খান স্থির চোখে তাকিয়ে আছে।
একদম স্থির। যেন সে শুধু অপেক্ষা করছে।
শামসুল আরও কয়েকটা পৃষ্ঠা উল্টালো।
সব ঠিক।
তার মুখের হাসি আরও চওড়া হলো।
হয়তো সে ভাবলো—
আজ কাজল খানকে ধরতে পারবে না।
তারপর বিরক্ত ভঙ্গিতে শেষের দিকের পেপারগুলো আর ঠিকমতো না দেখেই কলম তুলে সাইন করতে শুরু করলো। একটা… দুইটা, তিনটা… টুপটাপ শব্দে সিগনেচার পড়তে লাগলো কাগজে। ক্যামেরার ফ্ল্যাশ জ্বলছে।
চারপাশে হাততালি। আর সেই মুহূর্তে…
কাজল খান মাথা সামান্য নিচু করে হাসলো।
খুব ক্ষীণ একটা হাসি। যেটা কেউ দেখলো না।
কারণ সে জানে—
শামসুল নিজ হাতে এখন এমন কিছু কাগজে সাইন করে ফেলেছে…
যেগুলো কয়েকদিন পর তার নিজের গলার ফাঁস হবে।
কাজল খান ধীরে ধীরে চশমা খুলে টেবিলে রাখলো।
তার চোখে তখন ভয়ংকর শান্তি।
যেন বহুদিন ধরে পাতা দাবার চাল অবশেষে ঠিক জায়গায় বসেছে।
কাজল খান কখনো সরাসরি আঘাত করেন না।
তিনি মানুষকে শেষ করেন প্রমাণ দিয়ে।
আর শামসুলের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল—
সে কাজল খানকে শুধু একজন সাধারন এডভোকেট ভেবেছিলেন যাকে দূর্বল যায়গা দেখিয়ে নত করা যায় ।
রাত প্রায় সাড়ে বারোটা। নিজ অফিসের ব্যক্তিগত কক্ষে একা বসে আছেন কাজল খান।
চারপাশ অন্ধকার। শুধু টেবিল ল্যাম্পের আলোয় তার মুখের অর্ধেক দেখা যাচ্ছে।
সামনে খোলা কয়েকটা ফাইল।
এক পাশে ল্যাপটপে কিছু সিসিটিভি ফুটেজ paused অবস্থায়।
তার বিশ্বস্ত কর্মকর্তা তন্নি নিচু গলায় বললো—
“ম্যাডাম… সব কনফার্ম। ড্রাগসের চালানগুলো রাস্তার নির্মাণ সামগ্রীর ট্রাকে ঢুকানো হতো।
কাজল খান চুপচাপ শুনলেন। তার চোখ স্থির।
“প্রমাণ?
তন্নি টেবিলে একটা পেনড্রাইভ রাখলো।
“ বন্দর এলাকার ফুটেজ, ব্যাংক ট্রানজেকশন, বিদেশি অ্যাকাউন্ট… সব আছে। এমনকি অবৈধ গুদামের ছবিও।
কাজল খান ধীরে ধীরে পেনড্রাইভটা হাতে নিলেন।
তার ঠোঁটে ক্ষীণ হাসি ফুটলো।
“ শামসুল নিজেকে খুব চালাক ভাবে…”
তন্নি নিচু স্বরে বললো—
“ শুধু ড্রাগস না ম্যাডাম… অস্ত্রও ঢুকিয়েছে সীমান্ত দিয়ে।
কাজল খান এবার চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন।
জানালার সামনে গিয়ে থামলেন। বাইরে শহরের আলো ঝলমল করছে। তিনি ধীরে বললেন—
প্রেমের বাজিমাত পর্ব ৩৬
“রাজনীতিতে চোর অনেক দেখেছি… কিন্তু দেশের যুবকদের বিষ খাইয়ে যারা টাকার পাহাড় বানায়… তাদের আমি ছাড়ি না।। আমার জীবনে কাছের মানুষ কে কষ্ট দেয়ার আমার লাইফ থেকে দুই যুগ কেড়ে নেয়া আমার সন্তান কে এতিমের মতো জীবন দেয়া,আমার পরি মায়ের জীবন নিয়ে টানা হেচড়া করা আমার ভাই কে অপরাধী বানানো আমার সই এর মৃত্যু,
পাই পাই করে হিসাব নেব আমি… not a single soul will be spared.
And trust me… when I start the game, nobody can stop me.”
