Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ১৩

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ১৩

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ১৩
শানজানা আলম

এহসানের অফিসে কিছু ঝামেলা হচ্ছে। ইন্টার্নাল পলিটিক্সে সে কিছুটা চাপে আছে। রিপোর্টিং বস তাকে সাবধান করেছে, একটু বুঝে চলতে।
আসলে এহসান কাজে মন দিতে পারছে না। ঐশি তাকে একদম এলোমেলো আর বিপর্যস্ত করে দিয়েছে।
আজও একটা রিপোর্টে বেশ ভালোই সমস্যা হলো। এহসানের কলিগ সাফায়েত বলল, ভাই, কি সমস্যা, আপনাকে এত টেনসড লাগছে, কয়েকদিন ধরে ঠিক মত খাওয়া দাওয়াও করছেন না, চেহারায় একদম ছাপ পড়ে গেছে, চোখের নিচে কালি, কি হয়েছে?
এহসান শুকনো হাসি হেসে বলল, লাইফ নিয়া খুবই পেরেসানিতে আছি ভাই।
কি হইছে?- সাফায়েত আগ্রহী হয়।
আছে কিছু সমস্যা, এহসান হঠাৎ জানতে চাইল, আপনি দেখেন তো, এই নম্বরটা দিয়ে, এর ডিটেল বের করতে পারেন কিনা?

হোয়াটসঅ্যাপ থেকে নাসিরের নম্বরটা দিলো এহসান।
সাফায়েত নম্বরটা ডায়াল করে বলল, এ তো নাসির গ্রুপের এমডি, টাকার কুমির, বাপের কোম্পানিই দেখে!
দাড়ান, ফেসবুক থেকে প্রোফাইল চেক করি!
সাফায়েত প্রোফাইল চেক করে বলল, এখানে তেমন কিছু নেই, জাস্ট ফ্যামিলি পিকচার।
এহসান বলল, ওর ওয়াইফের আইডি ট্যাগ করা আছে?
না, কিছুই নেই, বের করা যাবে? কেন?
এহসান বলল, আমার ওয়াইফ কিভাবে যেন এর সাথে বন্ধুত্ব করছে, সারাক্ষণ বাইরে থাকে, পার্টি খরচ শপিং, সংসারে মন নাই! কয়েকটা ফ্রেন্ড আছে, তাদের সাথে এইসব করে বেড়ায়!
ভাই, এইসব লোক তো মেয়েদের নিয়ে টাইমপাস করে, এদের টাকার অভাব নাই, কেপ্ট রাখতেও সমস্যা হয় না। ভাবী কি বোকা, সে বুঝতেছে না?
বোকা না, লোভী, উচ্চাভিলাষী! – এহসান নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল। সে এখন আমার সাথে থাকবে না, ডিভোর্স চায়।

সাফায়েত বলল, জোর করে আপনি সংসার টিকালেও শান্তি পাবেন না। যাদের চাহিদা বেশি, আপনি কোনোভাবেই তাদের হ্যাপি করতে পারবেন না।
এহসান বলল,হুম, আমার অপরাধটা কি সাফায়েত, সেটাই বুঝলাম না। আমি তাকে জেলা শহর থেকে ঢাকায় নিয়ে আসছি। ভাইয়ের সাথে ছিলাম, আলাদা সংসার করে দিলাম। এমবিএ ভর্তি করে দিলাম, শখ আহ্লাদ সবই পূরণ করার চেষ্টা করেছি!
সাফায়েত বলল, বাদ দেন, সরে আসেন। একটু ব্রেক নিয়ে আবার মুভ অন করেন! সব ঠিক হয়ে যাবে!
এহসান বলল, আমাকে ভেঙেচুরে দিয়েছে, এত সহজে ছেড়ে দিব? খু★ন করে বস্তায় ভরে ফেলে দিতে মন চায়!
-ভাই একটু শান্ত হোন, মাথা ঠান্ডা রাখেন, এরকম করলে কি আপনি শান্তি পাবেন, জেলে পচে মরতে হবে, আপনাকে চিন্তা করতে হবে কিভাবে নিজে ভালো থাকবেন।
এহসান বলল, হুম, ভেবে দেখি!

ঐশিকে সরিয়ে দেওয়ার চিন্তাটা কয়েকদিন ধরেই মাথায় ঘুরছে এহসানের। ওকে একদম সহ্য হচ্ছে না। প্রতারকের কোনো ক্ষমা নেই!
এহসান বের হয়েছিল অফিস থেকে। হঠাৎ অথৈ ফোন করল।
হ্যালো, ভাইয়া, কেমন আছেন?
-যেমন রাখছে তোমার বোন!
এহসান তাচ্ছিল্য করে বলল।
অথৈ বিব্রত হয়ে বলল, ভাইয়া একটু ধৈর্য্য ধরেন, আমরা আসব কালই। আব্বার সব কিছু গোছাতে একটু সময় লেগে গেল আর কি!

আপুকে নিয়ে আসব এখানে, একটু কয়েকটা দিন থাকুক আমাদের কাছে, আপনারা আলাদা থাকলে আবার দুজনের প্রতি টান অনুভব করতে পারবেন।
এহসান বলল, আর কিছু ঠিক হবে না অথৈ, আমি অলরেডি ব্রোকেন। তোমরা আসলে আমি ভাইয়াকে আর মাকে ডাকব, একসাথে বসে চূড়ান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
অথৈ বলল, ভাইয়া, আপনি যদি এমন বলেন, তাহলে কীভাবে হয়? মায়ের সাথে একটু কথা বলুন!
তাহিরা বেগম ফোনটা নিয়ে এহসানকে বললেন, আব্বু একটু ধৈর্য্য ধরো।
এহসান বলল, আম্মা আসলে সম্ভব না আর।
আপনি আসুন, এসে দেখুন কি অবস্থা!
তাহিরা বেগম বললেন, জানি আমি, ঐশি একটু এইরকমই, উগ্র মেজাজের। আমি ওকে বোঝাব।
এত ভালো একটা ছেলে এহসান, তার মেয়ে বুঝতে পারছে না, সে আসলে কি চায়! পরদিনই ফ্যামিলির সবাই আসার কথা, একসাথে বসলে হয়তো কিছুটা সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে।

ঐশির বাবা মা আর অথৈ এসেছে। এহসানের ভাইয়া ভাবী আর মা এসেছেন।
ঐশিদের বাসার ড্রয়িংরুমে পারিবারিক আলোচনায় বসেছে সবাই।
এহসানের ভাইয়া বললেন, ঐশি তোমার যা বলার আছে বলো।
ঐশি বলল, আমার পক্ষে এহসানের সাথে সংসার করা সম্ভব না।
ঐশির বাবা বললেন, তুমি চুপ করো। এহসান বাবা, তোমার কথা বলো।
এহসান বলল, আমার সমস্যাগুলো ঐশি বলুক, আমি দেখি আত্মপক্ষ সমর্থনে কি কি বলা যায়।
ঐশি বলল, এহসান আমার গায়ে হাত তোলে।
এহসান বলল, ওহ তাই, তা কবে তোমার গায়ে হাত তুলেছিলাম?
তোমার আম্মা যেদিন এলো অথৈ চলে গেল, আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলেছো!
এহসান বলল, সেদিন আমি তোমাকে নিষেধ করেছিলাম বাইরে যেতে।
ঐশি বলল, সব সময় সব সিদ্ধান্ত আমার উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে এহসান। আমার কোনো স্বাধীনতা নেই, আমি শুধু কিচেনে সময় কাটাব!

এহসান বলল, তা কিচেনে তুমি কতটুকু সময় কাটাও?
আর বাইরে কতসময় থাকো, কখন ফেরো?
নাসিরের সাথে তোমার কি কি সম্পর্ক?
ঐশি বলল, ছোটলোকের মতন কথা বলবে না এহসান, নাসির আমার বন্ধু!
কথাবার্তা খুবই বাজে পর্যায়ে চলে যেতে শুরু করল। এহসানের ভাইয়া বলল, আমরা একটু থামি, এরকম আসলে হওয়ার কথা না, ওরা না থাকতে চাইলে মিউচুয়ালি আলাদা হয়ে যাক। অহেতুক সময় নষ্ট করার দরকার নেই।
ঐশি বলল, হ্যা, আমি এটাই চাই।
ঐশির বাবা বললেন, ঠিক আছে, তাহলে তুমি আমাদের সাথে চলো৷ ওখানে বসে যা করার করা যাবে।
না, আমি ঢাকায়ই থাকব।

ঢাকায় থাকবে মানে?
বাসা নিব, বাড়িতে গিয়ে কি করব আমি!
ঐশির বাবা বললেন, না আমাদের সাথে তোমাকে যেতে হবে।
ঐশি বলল, সেটা হবে না। আমি আপাতত সুবহানার সাথে উঠব। তারপর নিজের ব্যবস্থা নিজে করে নিব!
অথৈ এ পর্যায়ে বলল, আপু, নিজের সাজানো সংসার রেখে তুই আরেকজনের কাছে কেন যাবি?
ঐশি চিৎকার করে বলল, ছোট, ছোটর মত থাকবি, একদম ফোড়ন কাটবি না!
অথৈ এর মুখটা চুপসে গেল। এরকম আপু তাকে বলবে, কল্পনায়ও ছিল না।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ১২

এহসান একটু চুপ করে থেকে বলল, আমার একটা কথা আছে। সবাইকেই বলতে চাই।
সবাই এহসানের দিকে তাকালো।
এহসান শান্ত স্বরে বলল, আমি ঐশিকে ডিভোর্স দিয়ে দিব। কিন্তু একটা শর্তে, আমি অথৈকে বিয়ে করতে চাই।
মনে হলো সভার মাঝখানে কেউ একটা বোমা বিস্ফোরণ করে ফেলল।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ১৪