Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩১

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩১

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩১
শানজানা আলম

নাসির ফিরেছে বেশ রাত করে। আভা ঘুমিয়ে পড়েছে। আভার বেডরুমে না ঢুকে নাসির নিজের ব্যক্তিগত কামরায় ঢুকলো৷ চেইঞ্জ করে বের হয়ে দেখল আভা বসে আছে। আভা তৈরি হয়ে এসেছে, নাসিরের সাথে রাত্রিযাপন করতে চায় বোঝা যাচ্ছে। নাসির বিছানার উল্টো দিকে বসল।
আভা উঠে সামনে গেল।
নাসির বলল, কি ব্যাপার,দেখলাম ঘুমাচ্ছ!
আভা বলল, অপেক্ষা করতে করতে চোখ লেগে এসেছিল।
ওহ আচ্ছা। যাও শুয়ে পড়ো।
নাসির অনাগ্রহ দেখালো।
আভা নাসিরের সামনে বসে বলল, আমার প্রতি তোমার কোনো আগ্রহ নেই তাই না?
নাসির বলল, আমি টায়ার্ড আভা!
নতুন কাকে পেয়েছ? বহুগামী পুরুষের স্ত্রীর প্রতি আকর্ষণ থাকবে না, সেটাই স্বাভাবিক।
নাসির বলল, অনেক রাত হয়েছে, বাজে কথা বলো না।
নিজের ঘরে যাও।

আভা অপেক্ষা করল না। তবে বের হয়ে যেতে যেতে বলল, যাদের প্রতি তোমার আগ্রহ, তাদের তোমার জন্য কোনো ভালোবাসা নেই, শুধু তোমার টাকায় লাক্সারি লাইফ লিড করে আর তোমার শয্যসঙ্গীনি হয়।
নাসির বলল, তুমি ভালোবাসো আমাকে?
আভা বলল, বাসতে চাই না, তবে স্বামী তো, দূরে যেতেও পারি না।
নাসির বলল, দুবাইয়ের ফ্ল্যাট নিজের নামে করে নেওয়া, ব্যবসার পার্সেন্টেজ ব্যাংকে ঢোকানো, ছয় মাসে লেটেস্ট গাড়ি আর ফোনের মডেল! প্রতি মাসে দামী দামী গয়না কেনা- এসব নিয়েই ভালো থাকো। আমার ব্যক্তিগত জীবনে ঢুকতে এসো না।
আভা থেমে বলল, এগুলো কি তোমার স্ত্রী হিসেবে আমার প্রাপ্য নয়? তাহলে কাগজ ঠিক করো আমি লিখে দিচ্ছি। আমার ছেলে নিয়ে আমি চলে যাব।
নাসির উঠে গিয়ে বলল, আমি ঘুমাব। যাও এখন।
আভা চলে গেল। নাসির শুয়ে পড়ল।

একটা অভিজাত নাইট ক্লাবে লেট নাইট পার্টিতে সুবহানা এসেছে। ড্রিংক নিয়ে গানের তালে তালে একটু
কোমড় দোলাচ্ছিল।
এক ফ্রেন্ড স্যান্ডি সুবহানাকে ডাকলো, সুবা, একটু সাইডে এসো তো।
সুবাহানা এগিয়ে গেল।
হাইই, কি খবর?
খবর তো খুব ভালো, তুমি কেমন আছ?
সুবহানা বলল, খুব ভালো!
সুবা, মিট মাই ফ্রেন্ড, নায়েব পাশা, ওর বাবা পূর্ত মন্ত্রী,
এনায়েত শরীফ খান।
হাইই, নাইস টু মিট ইউ!
নায়েব হাত বাড়িয়ে দিলো।
সুবা, তোমার সাথে একটা বিষয়ে আলাপ করতে চাই।
হ্যা বলো!

নাসিরের প্রেজেন্ট গার্লফ্রেন্ড, তোমার বান্ধবী, রাইট?
সুবাহানা একটু ড্রাংক, বলল, গার্লফ্রেন্ড না ছাই, কেপ্ট করে রেখেছে।
সে যাই হোক, তুমি ওকে আলাপ করিয়ে দিতে পারবে নায়েবের সাথে?
ঝেড়ে কাশো তো, কি বলতে চাও?
না একটা বিজনেস ডিলিংয়ের বিষয়ে আর কি!
ঐশি তো একটা গাধা, ও বিজনেস কি বুঝবে?
স্যান্ডি বলল, নাইট স্টে তো বুঝবে নাকি? নাহলে নাসিরের সাথে ব্যাংকক ঘুরে এলো!
মানে? বুঝিয়ে বলো!
সহজ করে বলি, নাসিরের সাথে পাশার একটা পুরনো বোঝাপড়া আছে, সো ওর গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে একটা ট্রাপ করা যায় কিনা! তুমি আমাদের হেল্প করলে লস হবে না।
কত দিবে? -সুবহানা জিজ্ঞেস করল।

কত চাও বলো?
ফাইভ লাখস!
এই শুধু আলাপ করাতে বেশি হয়ে যাচ্ছে না?
আলাপ তো না, মোটিভেটও করতে হবে। সে আবার সতী সাধ্বী রক্ষিতা! স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে এখন নাসিরকে…
আচ্ছা চার লাখ নিও, কাজ হলে পুরোটা পেয়ে যাবে।
না হাফ এডভান্স করে দাও।
ঠিক আছে, কাজ হচ্ছে তাহলে!
হুম, দায়িত্ব নিলাম।
ঐশি এমনিতেও বেশি উড়ছে, ওর এত কিছু সহ্য হচ্ছে না। পড়ুক ট্রাপে! অসহ্য একটা মেয়ে! – সুবহানা মনে মনে ভাবে।

ঐশির ভালো লাগছিল না। নাসিরকে তাই মেসেজ করল, ঘুমিয়েছ?
নাসির মেসেজ দেখল!
হুম!
ভালো লাগছে না। তোমাকে মিস করছি।
নাসির বলল, ঠিক আছে, কাল শহরের বাইরে একটা রিসোর্ট থেকে ঘুরে আসব!
আজ থাকলে ভালো লাগত! এখন তো আমার তুমি ছাড়া কেউ নেই! মন খারাপ লাগছে খুব। তোমাকে কখনো পুরোপুরি পাব না আমি!
ঐশির এরকম ধরনের কথাবার্তা দেখে নাসির একটু নমনীয় হলো, বিষয়টা কিছুটা সত্য, ঐশি সব কিছু ছেড়েই এসেছে।
ওকে বেবি, কাল সময় দেবো তোমাকে! নাউ সেন্ড মি ইউর ন্যুডস! ওয়াননা সি ইউ…..
ঐশি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বিবসনা হয়ে ছবি তুললো বিভিন্ন এঙ্গেলে। নাসিরকে পাঠিয়ে দিলো ছবিগুলো। টেক্সট বক্স উত্তপ্ত হতে শুরু করল! আর নাসির বিষয়টা এনজয় করতে শুরু করল।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩০

এহসান এসেছে বড় ভাইয়ার বাসায়। অফিসে জয়েন করেছে আজ। ভাইয়া আর মায়ের সাথে কিছু কথা খোলামেলা হওয়া প্রয়োজন, অথৈয়ের বিষয়টা জানিয়ে রাখতে হবে। হুট করে কিছু হলে তারা মেনে নিতে পারবে না৷ কয়েকটা দিন পরেই এহসান বিয়ের বিষয়ে কথা বলতে পারবে। সে দেরী করবে না একদম।
তবে ভাইয়ার বাসায় আরেক কাহিনী অপেক্ষা করছিল এহসানের জন্য।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩২