ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩৯
শানজানা আলম
এহসানের বাস ছিল রাত সাড়ে দশটায়। অথৈ ঐশির এলাকা নন্দীপুর ঢাকা থেকে ছয় সাত ঘন্টার বাস জার্নি করতে হয়৷ এহসান বাস থেকে নামল ভোর ভোর সময়ে। এত সকালে বাসস্ট্যান্ডে কিছু হোটেল রেস্টুরেন্ট খুলেছে, ধোঁয়া মোছা চলছে, পরোটার খামির মাখামাখি করছে, চুলায় আগুন দিচ্ছে।
এহসানের মামাতো ভাই ফিরোজ ভাই বাসস্টান্ডে অপেক্ষা করছিলেন। বাসে উঠেই ফিরোজ ভাইকে ফোন করেছিল এহসান।
-ভাইয়া, জরুরি দরকারে আসতেছি, সকাল সকাল আইসেন স্টান্ডে।
-কি হইসে রে?- ফিরোজ ভাই কৌতূহল নিয়ে জানতে চাইলেন।
-ফোনে বলা যাবে না। আপনি আইসেন অবশ্যই।
-আচ্ছা, টেনশনের কিছু নাই তো?
-না না, আপনি আইসেন।
ফিরোজ ভাই সকালে এসে অপেক্ষা করছিলেন। এহসান একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকে চোখে মুখে পানির ঝাপটা দিলো।
-এই এহসান, কি হইছে, বাসায় চল তো?
-না ভাইয়া, কথা আছে, বাসায় বলা যাবে না। ইনফ্যাক্ট অন্য কাউকেই বলতে চাই না। আপনাকে শুধু ডাকলাম
একা একা একটু নার্ভাস লাগছে।
-কি ইস্যু? ঐশিকে নিয়ে ঝামেলা? আবার কিছু হইছে নাকি?
-এহসান বলল, কাছাকাছি গেছেন। ভাইয়া, আমি অথৈকে বিয়ে করব। এজন্যই এসেছি!
ফিরোজ ভাই আকাশ থেকে পড়লেন, মানে? এটা কেমন কথা হলো? দেশে কি মেয়ের অভাব পড়ছে?
ডিভোর্স দেওয়া বউয়ের ছোট বোন!
এহসান বলল, ভাইয়া, অনেক মেয়ে আছে, কিন্তু আমি অথৈকেই বিয়ে করতে চাই।
ফিরোজ ভাই সন্দিহান হয়ে বললেন, তার মানে তোর সাথে ওর একটা সম্পর্ক ছিল, এজন্যই এইসব এত কাহিনী হইলো?
এহসান ঈষৎ হেসে বলল, একদম না ভাইয়া, ওর সাথে আমার কথা হয়েছে আমার ডিভোর্স হওয়ার পরে।
তাছাড়া আমি যতদূর চিনি, ও ঐশির মতন না।
সংসার করার মতন মেয়ে।
ফিরোজ ভাই বললেন, ঐশি তো পাংকু ছিল, ফুপু আম্মাকে বলতে গেছিলাম, চেহারা দেইখা শুনলেনই না। তোর এই কথাটা না হয় আমি বিশ্বাস করলাম, মানুষকে তুই বোঝাতে পারবি? বড় ভাইজান, ফুপুআম্মা তারা রাজী? তোর কাছে মেয়ে দিবে অথৈ এর বাপ? মানুষের কথায় ছাল চামড়া উঠে যাবে। সহ্য করতে পারবি তো!
কেউই রাজী না- এহসান হালকা ভাবে বলল।
এখন তাহলে কি করতে চাস?
এহসান বলল, নাস্তা করব, তারপর আপনাকে নিয়ে অথৈদের বাসায় গিয়ে ওর আব্বাকে বিয়ে প্রস্তাব দিব।
রাজী না হলে?
ম্যানেজ করার চেষ্টা করব।
অথৈ জানে? এসব করবি?
না, কিছুই জানে না। ওর একটা বিয়ের আলাপ আসছে, মন্ত্রীর ছেলে নাকি৷ এটা আলোচনা হওয়ার আগেই আমাকে যেতে হবে।
এহসান, জেনে শুনে এইরকম ঝামেলায় মানুষ যায়, আমার মনে হয়, তুই ঐশির ব্যবহারে ইনসাল্ট ফিল করছিস, এজন্য একটা রিভেঞ্জ গেম খেলার প্ল্যান করেছিস। এটা ভালো হবে না ভাই আমার। আসছিস, বাসায় চল, বেড়া দুয়েকদিন, হালকা লাগবে।
ফিরোজ ভাইয়ের কথায় এহসান বলল, আমি সব ভাবছি ভাইয়া৷ আমার ফিরে যাওয়ার উপায় নেই।
আমার অথৈকেই চাই, ওকে নিয়েই ফিরব।
এহসান শান্ত ভাবে বসে রেস্টুরেন্টে পরোটা, ডিম ভাজি, মিষ্টি অর্ডার করলো। পরোটা ভাজি মিষ্টি দিয়ে ব্রেকফাস্ট শেষ করল। ফিরোজ ভাই বরং খেতে পারলেন না। সামনে ভেজাল অপেক্ষা করে আছে, এহসান শান্তভাবে খাচ্ছে। ওর মনে হয় একটা সাইকিয়াট্রিস্ট দেখানো দরকার ছিল৷ সুন্দরি বউ ডিভোর্স দিয়া মাথা আউলাইয়া গেছে।
ব্রেকফাস্ট শেষ করে বের হয়ে, এহসান অথৈকে ফোন করল, অথৈ ঘুমাচ্ছিল, পিক করতে পারল না।
ফিরোজ ভাই বললেন, অথৈ তো ফোন ধরল না।
এহসান বলল, আরেকটু পরে যাই, ওদের বাসার ব্রেকফাস্ট শেষ হোক। নয়টার পরে ঢুকব।
তোর ডাকে আইসা তো ভেজালে পড়ে গেলাম। এরকম ঝামেলা করে টিন এজার পোলাপান, প্রেম কইরা আইসা বলে, বিয়া করায়া দেন, নয়তো ভাইগা যায়, বুড়া বয়সে আইসা কি শুরু করলি! ঝামেলা কি একটা, ফুপু আম্মা আমারে কি বলবে আল্লাহ মালুম, আব্বাও চেতব।
ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩৮
এহসান হাসতে হাসতে বলল, পড়লেন না হয় একটু ভেজালে ছোটভাইয়ের জন্য।
এহসান একটা স্যালুনে ঢুকে একটু ফ্রেশ হয়ে নিলো। টিশার্ট বদলে পাঞ্জাবীটা গায়ে ঢুকিয়ে নিয়ে বের হলো।
ফিরোজ ভাই বললেন, বিয়া করার জন্য রেডি?
এহসান হাসল৷
অথৈদের বাসায় এহসান ঢুকলো দশটা বাজতে দশ মিনিট বাকি তখন।
