Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৪২

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৪২

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৪২
শানজানা আলম

এহসান অথৈকে নিয়ে বের হয়ে গেলে তাহিরা বেগম কাঁদতে শুরু করলেন। অথৈ এর বাবা বললেন, নিজেকে সামলাও ঐশির মা।
চোখ মুছতে মুছতে তাহিরা বেগম বললেন, মোজাফফর ডাক্তার ভাইকে একটু ফোন করো। তোমার প্রেশার চেক করে যাক।
সমস্যা নেই, আমি ঠিক আছি।
কি করল অথৈ এটা, আমি মানতে পারতেছি না।
মানতে কি আমিও পারতেছি, তবে একটা বিষয় হলো, মনে হচ্ছে অথৈ এর সমস্যা হবে না। এহসানের সাথে ওর বোঝাপড়া ভালো। বাকি রইল ঐশি, ও খুব রিয়াক্ট করবে, আপাতত কাউকে কিছু বলার দরকার নেই।
কিন্তু সবাই তো জানবে, আজ অথবা কাল!

জানুক, যখন জানবে তখন, মানুষের কথা এত ভেবে নিজেদের অশান্তি বাড়াতে হবে না। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলো, অথৈ ঢাকায় আছে।
আর মেয়েরা বড় হয়েছে, এখন তোমার জন্য আমি আর আমার জন্য তুমি, যে কদিন বাঁচি, নিজেরা ভালো থাকি। বিয়ে হয়ে গেলে এমনিতেও মেয়েরা কাছে থাকত না৷
তাহিরা বেগম বুঝতে পারলেন, নিজেকে স্বান্ত্বনা দিতে অথৈ এর বাবা এসব বলছে।
অথৈ এর বাবা বললেন, এহসান যেভাবে অথৈকে নিয়ে গেল, এভাবে জোর সে ঐশির জন্য করে নি। ঐশিও ওর সাথে থাকতে চায় নি। এটা খেয়াল করেছ?
তাহিরা বেগম বললেন, অথৈ এর সাথে কথা বলবে না?
বলব, সন্তান তো, ফেলে দিতে তো পারব না, মেয়েটার বিয়েটা দিতে পারলাম না ঠিক মত, এমন কান্ড করল, বাধ্য হতে হলো!
অথৈ এর বাবা চোখ মুছলেন। জীবনে অসংখ্য ঝড় আসে, ঝড়ের মুখে কিছু সময় নিজেকে নিজে সামলাতে হয়, কেউ পাশে থাকে না বা কাউকে পাওয়াও যায় না৷

বাসা থেকে অথৈ চোখ মুছতে মুছতে বের হলো। এহসান হাতের মুঠোয় অথৈ এর হাত ধরে রেখেছে।
ফিরোজ ভাই বাসায় যেতে বলেছিলেন কিন্তু এহসান যাবে না। সে একটা গাড়ি খুঁজতে বলেছে। হুট করে মফস্বলে প্রাইভেট কার পাওয়া যায় না। আগে থেকে রেন্ট করে রাখতে হয়।
ফিরোজ ভাই খোঁজাখুজি করছেন। এহসান আস্তে করে বলল, থ্যাংকস অথৈ, তুমি আজকে আমার জন্য যা করেছ, আমি আমার শেষ নিঃশ্বাস অবধি তোমার কাছে কৃতজ্ঞ থাকব।
অথৈ মাথা নিচু করে রইল।
এহসান বলল, তোমার বিয়েটা হয়তো খুব যেন তেন ভাবে হলো, কিন্তু আমাকে একটু সময় দাও, আমি তোমাকে খুব ভালো রাখতে চেষ্টা করব।
অথৈ উত্তর দিলো না।

ফিরোজ ভাই এগিয়ে এসে বললেন, গাড়ি একটা পাওয়া গেছে, ট্রিপে আছে। ফিরে এসে রওনা দিতে পারবে। রাত বারোটা বেজে যাবে।
এহসান বলল, ছয়টার বাস ধরতে পারলে আমরা বারোটায় বাসায় পৌঁছে যাব।
বাসে যাবি?
হুম, এতক্ষণ অপেক্ষা করা সম্ভব নয়।
শোন, আমাদের বাসায় চল, ছোট করে একটা প্রোগ্রাম করি। সবাই আসুক, জানুক।
এহসান বলল, সুযোগ নেই, একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট হাতে। আজই অফিস ড্রপ করা ঠিক হয় নি, কাল অফিস করতেই হবে।
এহসান, এরকম সিনেমাটিক বিয়ে করে নতুন বউয়ের সামনে অফিসের কথা বলছিস। যাই হোক, অথৈ, অনেক অভিনন্দন। তোমার নতুন জীবন সুন্দর হোক।
এখন এহসান আমাদের বাসায় যাবে না, কিন্তু কিছুদিন পরে বেড়াতে এসো ওকে নিয়ে।
অথৈ ঘাড় নাড়ল।

এহসান কাউন্টারে ফোন করে টিকিট কনফার্ম করে বাসস্ট্যান্ডের জন্য অটো নিয়ে নিলো। ফিরোজ ভাই ওদের পৌঁছে দিলো বাস অবধি।
অথৈকে বসিয়ে এহসান নিচে নেমে পানি কিছু শুকনো খাবার কিনে নিলো। সারাদিন অথৈ খায় নি। কাজী সাহেবকে শরবত দেওয়ার মানসিকতাও বাসায় ছিল না, ফিরোজ ভাই কাজীকে ম্যানেজ করিয়ে এনেছিলেন। উনি দ্রুততার সাথে কাজ শেষ করে খেজুর খেয়ে বিদায় নিয়েছেন।
অথৈ ভাবছে, এ কেমন ভাগ্য, এটাই তার কপাল!

অন্য কাউকে বিয়ে করলে তার বিয়ে হতো ধুমধাম আয়োজনে। এহসানও অন্য কাউকে বিয়ে করলে পারিবারিক সাপোর্ট পেতো। সবাইকে দূরে ঠেলে এহসান তাকে নিতে এলো। আর অথৈও সবাইকে অগ্রাহ্য করল। দুটো মানুষকে কাছাকাছি আসতে সারা পৃথিবী দূরে সরাতে হলো। তারা কি ভালো থাকতে পারবে! নাকি বিয়ের পরে এহসান পাল্টে যাবে! আপুর কথাই সত্য হবে!

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৪১

বাস ছাড়ার সময় হয়ে গেছে। এহসান উঠে এলো। বাসে
এই স্টপেজে যাত্রী কম, ফাঁকা ফাঁকাই। এহসান একটা বেলি ফুলের গাজরার মালা আর দুটো টকটকে লাল গোলাপ অথৈ এর হাতে দিলো।
এতক্ষণে অথৈ একটু হাসল।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৪৩