ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮২
শানজানা আলম
ঐশি নার্সিংহোমে আছে, একটু ভালো বোধ করে সে এটেনডেন্টকে বলল, একটা ফোন করা দরকার।
মুখে মাস্ক পরা মেয়েটি বলল, ফোন দেওয়া যাবে না।
নিষেধ আছে।
ঐশি বলল, আমার সাথে তো কেউ আসে নি। বাড়িতে খবর দিতে হবে।
মেয়েটি বলল, আপনার স্টাফ মেয়েটি খোঁজ নিয়েছে, বিল পে করেছে। সে আসবে খবর দিলেই।
ঐশি বলল, তাকে খবর দিন, আসতে বলুন।
এটেনডেন্ট কোনো কথা না বলে একটা ইনজেকশন পুশ করে দিলো। কিছুক্ষণ ঘুমাক। এটা নরমাল কেস না। কড়া নির্দেশ আছে, ভেতরে কেউ যেন না আসে।
ঐশির ঘুম ভাঙল বিকেলে। জানালা দিয়ে শেষ বিকেলের আলো এসে ঢুকেছে।
ঐশি উঠে বসার চেষ্টা করল।
তখনি দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল নাসির! ঐশি হতভম্ব হয়ে গেল!
নাসির! এখানে! এত এত কাহিনী হয়ে গেল! নাসির এসেছে!
নাসিরের হাতে একটা ফুলের বুকে। সাদা লিলি।
ঐশির পাশে এসে বসল নাসির।
এখন কেমন আছ? – নরম স্বরে জানতে চাইলো।
ঐশির বিশ্বাস হচ্ছে না, এটা কি আসলেই নাসির! কিভাবে সম্ভব!
তুমি! অস্ফুট স্বরে ঐশি বলল।
কি চেহারা করেছ নিজের! দেখেছ?
ঐশি চোখ মুছল, বিশ্বাস হয় না নাসিরকে। নাসিরের বাড়িতে গিয়েই এত কাহিনী হলো।
সরি ঐশি, আমি খুবই সরি! আমার জন্য তোমাকে এত ঝামেলা ফেস করতে হলো।
ঐশি জানতে চাইল, এখানে তুমি নিয়ে এসেছ?
না, তোমার পিএ মেয়েটা কল করেছিল। জানালো তোমার কন্ডিশন ভালো না। তাই….
বাচ্চাটা নষ্ট করে ফেলেছ নাসির- ঐশি জানতে চাইলো।
না- নাসির বলল, আমি কিছুই করিনি।
তুমি চাও না ওকে, ও পৃথিবীতো আসুক!
ঐশি, আমি তোমাকে ভালোবাসি, আগেও বলেছি, আর এখনো বলছি। তুমি বোধহয় আমাকে ভালোবাসতে পারো নি, অন্য মেয়েদের মতন প্রেগন্যান্ট হয়ে আমাকে আটকাতে চাইছ, আর হাত মিলিয়েছ এমন কারো সাথে, যারা আমার শত্রু!
নাসিরের কথা শুনে ঐশি ভাবল, নায়েব পাশার কথা বলছে নাসির। নাসির সব জেনে গেছে তাহলে!
নাসির কিছুই জানে না। ঐশি ঠিক কোথায় জড়িয়েছে, সেটা জানতে নাসিরের আজকের আগমন।
ঐশি বলল, আমি কোথাও জড়াতে চাই নি নাসির। আমি দূরেই থাকতাম, আমার বাচ্চা নিয়ে আলাদা।
শুধু স্বীকৃতি চেয়েছিলাম।
-স্বীকৃতি তো তোমার আছেই, আমি বাচ্চাটা চাই না। তোমাকে আবারও বলছি। আমি চাই না নিজে কিছু করতে, তুমি বাচ্চাটা এবর্ট করে ফেলো। তোমার লাইফ সেটল করে দিচ্ছি আমি। মাঝে মাঝে আমি আসব তোমার কাছে!
ঐশি বলল, কেপ্ট!
নাসির বলল, মিডল ক্লাশ সেন্টিমেন্ট দূরে রাখো। যা করার দ্রুত করে ফেলো। আমি জোর করতে পারতাম, কিন্তু করি নি। এখানে সব ব্যবস্থা আছে। তুমি নিজেই সব করবে। তারপর তোমার বাসায় ফিরবে, তোমার বাবা মা কে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করছি, কিছুদিন সবাইকে নিয়ে ঘুরে এসো।
মায়ের কথা বলতেই ঐশি বলল, আমার একটা ফোন করা প্রয়োজন। মায়ের সাথে কথা হয় না অনেকদিন।
ওকে, ফোন পেয়ে যাবে, আজ কালের মধ্যে ঝামেলা ঝেড়ে ফেলে দাও। তারপর আবার নতুন করে ভাবো।
আজ আসছি-
নাসির উঠল৷ ঐশি ফোন হাতে পেয়ে মাকে ফোন করে ফেলল।
মাকে ফোন করার পরে ঐশি অথৈকে ফোনটা করল। অথৈ ফোন রিসিভ করতেই ঐশি বলল, অথৈ, আমি আপু!
অথৈ হু হু করে কেঁদে ফেলল।
আপু, কোথায় ছিলি তুই! আমি আর মা টেনশনে আধমরা হয়ে গিয়েছিলাম।-
কাঁদিস না, এহসান ভালো আছে?- ঐশি জানতে চাইল।
হুম, সংক্ষিপ্ত করে উত্তর দিলো অথৈ।
আচ্ছা আমি ভালো আছি, বাসায় ফিরব খুব তাড়াতাড়ি।
অথৈ বলল, আমি তোর বন্ধু নায়েব পাশাকে ফোন করেছিলাম।
উনি খোঁজ নিয়ে বললেন, তুই হসপিটালে। আমি আসলে আসতে পারি নি। একা বের হওয়া পসিবল না-
হুম, এহসান আসতেও দেবে না- ঐশি বলল।
অথৈ কিছু বলল না।
যাক, বাদ দে, আমি আছি ভালো। বাসায় ফিরে মাকে ঢাকায়
নিয়ে আসব, আমার কাছে এসে কয়েকটা দিন থেকে যাবে।
আচ্ছা- অথৈ বলল।
ভালো থাকিস, নিজের যত্ন নিস। রাখছি।
ঐশি ফোন রাখল।
ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮১
ঐশি ইতস্তত করছে, কি করবে সে, নাসিরের কথা মেনে নিলে লাইফে কোনো ঝামেলা থাকবে না। না মানলে অনেক রকম সমস্যা তৈরি হবে। নায়েব পাশা তাকে ব্যবহার করে নাসিরকে বিপদে ফেলতে চায়, সে ভেবেছিল চাপে ফেলে নাসিরকে বিয়ে করার কথা। নাসিরের অহংকারী মাকে যদি শাস্তি দেওয়া যেত! কিন্তু কিভাবে! ঐশির মাথা ঝিমঝিম করছে, আসলেই তো, কিভাবে কি করবে সে! মিডিয়ার সামনে যাবে? নাসির কত ক্ষমতাবান, তার কথা কেউ শুনবে না। নাসিরকে শাস্তি দিতে তাকেও নাসিরের মতন ক্ষমতাবান হতে হবে! অথবা নাসিরের চাইতেও বেশি!
কিন্তু কীভাবে!!
