Home বাদশাহ নামা তৃতীয় পরিচ্ছেদ বাদশাহ নামা তৃতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৫৩

বাদশাহ নামা তৃতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৫৩

বাদশাহ নামা তৃতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৫৩
রানী আমিনা

নিজের শক্ত পেশিবহুল দুহাতে দুটি রাইফেল সমানে চালিয়ে যাচ্ছে কোকো, গাঢ় সবুজ রঙ ধারণ করা চোখ জোড়াতে খুনো দৃষ্টি! তার সামনে টিকতে অপারগ ইলহানের সৈন্যরা৷ তাদের অ্যামো শেষ হওয়াই হয়ে উঠছে তাদের কাল, রাইফেল গুলো রিলোড করার সুযোগ টুকু পর্যন্ত কোকো দিচ্ছে না তাদের৷ ঝড়ো বেগে একের পর এক বুলেট গিয়ে বিঁধছে শত্রুপক্ষের শরীরে!
অবস্থা বেগতিক দেখে সৈন্যদের কয়েকজন যুদ্ধক্ষেত্রে এনে হাজির করলো একটি রকেট লঞ্চার। কোকো নামক জংলি টার শরীরে সাধারণ বুলেট পৌছচ্ছে না, একে এখনি সরিয়ে দিতে না পারলে সেই তাদের চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠবে৷

রকেট লঞ্চারটি তাক করে রইলো ওরা কোকোর দিকে, কিন্তু সুবিধে করতে পারলোনা। কোকো এক স্থানে স্থীর নেই, সে স্থীর না হওয়া পর্যন্ত আক্রমণ করা উচিত হবে না, আক্রমণ করে ব্যর্থ হলে এবং সে টের পেয়ে গেলে অবস্থা আরও খারাপ বৈ ভালো হবে না৷
কোকোর চোখে মুখে হিংস্রতা, ধারালো দাঁত খিচে সে চেপে চলেছে ট্রিগার। কাছাকাছি কেউ চলে এলে আর ট্রিগার চাপছে না, হাতেই খামচে মারছে৷ ইলহানের সৈন্যদের সংখ্যা কমে আসছে, যুদ্ধক্ষেত্রে এখন রাজ করে চলেছে রেড জোনের বাসিন্দারা। মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে দুই পক্ষের মৃত দেহ গুলো, কারো কারো মৃতদেহ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যাদেরকে সরিয়ে নেওয়া যায়নি তাদের নিথরদেহ মাড়িয়ে হয়ে চলেছে যুদ্ধ৷

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

হাইনা, জোভি দলবল নিয়ে অ্যামিউনিশনের খোঁজে বেরিয়েছে, কোকোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রাসাদের আন্ডারগ্রাউন্ডের নিচে আরও একটি গুপ্ত স্থান বিদ্যমান, সেখানেরই দরজা খুঁজে চলেছে তারা৷ এ দরজার খোঁজ কোকোর জানা নেই, একমাত্র হিজ ম্যাজেস্টি ছাড়া দরজার সঠিক অবস্থান কেউই বলতে পারে না! বর্তমানে আন্ডারগ্রাউন্ডের প্রতিটি কোণায় তন্নতন্ন করে খুঁজে চলেছে হাইনা আর জোভি, যেন কোথাও গিয়ে দরজার খোঁজ টা পাওয়া যায়! হিজ ম্যাজেস্টি কে জিজ্ঞেস করবারও কোনো রাস্তা নেই! তাই যা করার নিজেদেরই করতে হবে৷
কোকো ট্রিগার চাপতে চাপতে কানে থাকা লিসনিং ডিভাইসে নির্দেশনা দিয়ে চলেছে তাদের৷ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরেই আচমকা উত্তেজিত স্বরে চেচিয়ে উঠলো হাইনা, বলল,

“মনে হচ্ছে পেয়ে গেছি ভাইজান, এই জায়গাটা তোমার দেওয়া ডেসক্রিপশনের সাথে মিলছে৷”
“যেখানে দেখবি কালচে পাথরের ওপর দিয়ে একটা রেড লাইনিং দেওয়া আছে, সেটাই দরজা। সহজে চোখে মেলানো যাবে না, মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে৷ দ্রুত কর, আমার অ্যামো শেষের পথে৷”
তাড়া দিয়ে বলে উঠলো কোকো।
হাইনা জোভি আর তাদের দলবলেরা চোখ লাগিয়ে দেখতে শুরু করলো প্রতিটি কালচে পাথরের গা, কোথাও লাল রঙা রেখা দেখতে পাওয়া যায় কিনা!
কিছুক্ষণ দেখার পর জোভি হঠাৎ লালচে কিছু দেখতে পেয়ে সেখানে গিয়ে ভালো ভাবে দেখার জন্য পাথরের ওপর ঘষাঘষি করতেই কালচে পাথরের পর্দাটি হঠাৎ উবে গেলো, পরিবর্তে দৃষ্টিগোচর হলো একটি সাদা রঙা আলোকিত দরজা।
হাইনা চমকিত হয়ে এগিয়ে গিয়ে দরজার সামনে উৎসুক হয়ে দাঁড়াতেই দরজাটি ফিংগার প্রিন্ট চাইলো। হাইনা কোকোকে জিজ্ঞেস করলো,

“ফিংগার প্রিন্ট চায় ভাই! এবার কি করবো?”
কোকো দাঁড়িয়ে গেলো, কিছুক্ষণ ভেবে বলল,
“পাসওয়ার্ড দেওয়ার অপশন আছে কিনা চেক কর৷”
হাইনা দরজাটির সমস্ত অংশ মনোযোগী চোখে দেখে নিয়ে বার কয়েক দরজার ওপর হাতড়ালো, কোথাও পাসওয়ার্ডের অপশন ভেসে উঠে কিনা।
হাতড়াতে হাতড়াতেই এক কোণায় হঠাৎ পাসওয়ার্ডের জন্য ক্যি প্যাড ভেসে উঠতেই হাইনা উত্তেজিত স্বরে বলে উঠলো,
“পেয়েছি ভাইজান, কিন্তু পাসওয়ার্ড কি দিবো?”
কোকো মাথা চুলকালো, পাসওয়ার্ড তো সে নিজেও জানে না। হাইনা ওপাশ থেকে বলে উঠলো,

“শিনজো লিখবো?”
“হিজ ম্যাজেস্টি অত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এত সোজা পাস দিবেন বলে তোর মনে হচ্ছে?”
“দিতেও পারেন! মানুষ তোমার মতো ভাবতেই পারে যে তিনি সহজ পাস দিবেন না, তারপর হ্যাক করতে কঠিন কঠিন পাস দিয়ে ট্রাই করতে শুরু করবে, এদিকে দেখা গেলো হিজ ম্যাজেস্টি সহজ পাস দিয়ে বসে আছেন। তার চালচলনের কি কোনো ঠিক ঠিকানা আছে?”
“আচ্ছা, শিনজো দিয়ে চেষ্টা কর।”
হাইনা চেষ্টা করলো, কিন্তু কাজে দিলো না। হাইনা অসহায় স্বরে বলে উঠলো,
“কাজে দিচ্ছে না ভাইজান, এখন কি করবো?”

জোভি এদিক ওদিক পায়চারী করে পাসওয়ার্ড ভাবতে শুরু করলো। কোকো কিছুক্ষণ চিন্তা ভাবনা করে বলল,
“পাসওয়ার্ড আম্মার সম্পর্কিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, কিন্তু কি হবে সেটাই ভাবনার বিষয়। আচ্ছা, এমন কি আছে আম্মার সম্পর্কে, যা শুধু হিজ ম্যাজেস্টি জানেন, বা আমরা অল্প কজন জানি?”
“শেহজাদীর রামেন নুডলসের রেসিপি!”
ভাবুক স্বরে উত্তর দিলো জোভি, হাইনা ওর দিকে ধ্বংসাত্মক চাহনি দিলো। কোকো ওপাশ থেকে হাইনার উদ্দ্যেশ্যে বলে উঠলো,
“জোভিকে আমার হয়ে একটা লাথি মার৷”
হাইনা সত্যিই একটা লাথি মারলো জোভির পেছনে। তারপর ঘাড় চুলকে বলল,
“শেহজাদীর বার্থ ডেট দিয়ে চেষ্টা করে দেখবো? ওটা তো শুধু আমরা ছাড়া কেউই জানে না। আর বোধ হয়…. শেহজাদা ইলহান জানেন৷”
কোকো সম্মতি জানাতেই হাইনা ক্যি প্যাডে টাইপ করলো,
“23041945″
মুহুর্তেই সবুজ রঙ ধারণ করলো সাদায় মোড়ানো দরজাটি, ওপরে ভেসে উঠলো, —“অ্যাকসেস গ্রান্টেড”
হাইনা জোভি সোল্লাসে চেচিয়ে উঠলো, অবিলম্বে দরজা খুলে ঢুকলো ভেতরে, ওদের পেছন পেছন ঢুকলো অন্যান্য সৈন্যরা।
কোকো লিসনিং ডিভাইসে ওদেরকে আনন্দ ফূর্তি করতে শুনে খুশি হলো, হাইনা ওপাশ থেকে উৎফুল্ল গলায় বলে উঠলো,

“ভাইজান! এ যদি তুমি দেখতে! বাপের জন্মে এত এত অস্ত্র দেখেছি কিনা আমার মনে পড়ে না৷”
কোকো ওদের হুটোপুটির শব্দ শুনে হাসলো। এ অস্ত্রাগার সে আগেই দেখেছে, হিজ ম্যাজেস্টির সাথে গিয়ে। হিজ ম্যাজেস্টি শুধু তাকেই এই গুপ্ত ভাণ্ডার দেখিয়েছেন, এমনকি তার আম্মাও এর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানেন না। অস্ত্রাগারের বিপুল বিস্তৃতি এবং অস্ত্রের বিশাল সংগ্রহ দেখলে যে কারো মাথা খারাপ হওয়া জায়েজ।
সেই মুহুর্তেই হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে উঠলো কোকোর চারপাশ! নিজের পাশেই ব্লাস্ট হতে দেখে চমকে চোখ তুলে তাকালো সে। তাকাতেই দেখলো দূর থেকে তাকে লক্ষ্য করেই তাক করা হয়েছে রকেট লঞ্চার।
রকেট গ্রেনেডের আঘাতে কোকোকে ঘিরে রাখা শক্তিশালী বলয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এলো মেলো হয়ে গেলো মুহুর্তেই, আর কোকো তাকানো মাত্রই দ্বিতীয় গ্রেনেডটি ঝড়ো গতিতে এসে আঘাত করলো কোকোর ডান দিকের কাধের নিকট!

মুহুর্তেই বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হলো গ্রেনেডটি, বিস্ফোরণের তীব্রতায় ডান হাত খানা কাধ হতে বিচ্ছিন্ন, ছিন্নভিন্ন হয়ে ছিটকে পড়লো কোথাও! প্রচন্ড ধাক্কায় ক্ষতবিক্ষত কোকো আছড়ে পড়লো দূরের মাটিতে। ডান দিকের মাটি সঙ্গে সঙ্গে ভিজে উঠলো লাল রক্তে, কলকলিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করলো বিচ্ছিন্ন স্থান হতে।
ভীষণ যন্ত্রণায় অবশ হয়ে উঠলো কোকোর সমস্ত শরীর, সজোরে বুক ওঠানামা করতে শুরু করলো তার! অবিলম্বে চোখের সামনে ঘনিয়ে এলো আঁধার, পিপাসায় মুহুর্তে শুকিয়ে এলো গলা, শরীরের সমস্ত শক্তি যেন মুহুর্তেই নিঃশেষ হয়ে গেলো তার!

হাইনা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা মাত্রই জোভির দিকে একবার আতঙ্কিত চোখে তাকিয়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে চলল প্রাসাদ হতে বেরিয়ে যাওয়ার উদ্দ্যেশ্যে। জোভি ওর যাওয়ার পানে চেয়ে বাকিদের দ্রুত হাতে অস্ত্র নিতে বলে নিজেও ব্যাগ ভর্তি অস্ত্র আর অ্যামো নিয়ে ছুটলো বাইরের দিকে।
লাইফট্রির কোলে বসে থাকা আনাবিয়া কেঁপে উঠলো তৎক্ষনাৎ, অস্ফুটে কোকোর নাম খানা একবার উচ্চারণ করলো সে। পরমুহূর্তেই আর্তনাদ করে নিজেকে লাফট্রির আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরা ডালপালা গুলো থেকে ছাড়িয়ে নিতে টানা হ্যাচড়া শুরু করলো, কিন্তু লাইফট্রি ছাড়তে চাইলো না তাকে! আনাবিয়া যে দুর্বল, সে কিভাবে এখন যুদ্ধক্ষেত্রে যাবে? কিভাবেই বা লড়বে!
কিন্তু মানতে নারাজ আনাবিয়া, চিৎকার করে কান্নাকাটি জুড়ে দিলো সে, টানা হ্যাচড়ার জেরে মুহুর্তেই ক্ষতবিক্ষত হলো তার শরীর, তাকে আঘাত পেতে দেখা মাত্রই নিজের বন্ধন মুক্ত করলো লাইফট্রি।
ছাড়া পেতেই আনাবিয়া ঝড়ের বেগে ছুটলো যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে, ছুটতে ছুটতেই আঘাত করলো নিজের বুকে, মুহুর্তেই শরীর আবৃত হয়ে গেলো সফেদ, সোনায় মোড়া আর্মরে। ক্ষিপ্র বেগে শূন্যে উঠলো সে, তারপর ঝড়ো গতিতে ছুটে চলল কোকোর উদ্দ্যেশ্যে!

চারদিক থেকে ভেসে আসছে বুলেট ছোড়ার তীব্র শব্দ, তলোয়ারের ঝনঝনানি। হঠাৎ করেই বাচ্চাদের শরীরে থাকা সুরক্ষা বলয় হারিয়ে গেছে, ফিরে এসেছে তারা আবার নিজেদের সাধারণ অবস্থায়৷ ইলহানের সৈন্যরা সুযোগ পেয়ে আবারও দ্বিগুণ বেগে তেড়ে আসছে তাদের দিকে৷
যুদ্ধক্ষেত্রের এক কোণে একলা পড়ে আছে কোকো, ঢোক গিলছে বারংবার, চোখে পলক পড়ছে থেকে থেকে, কাধ হতে রক্ত ঝরছে অনবরত। চোখের সম্মুখে ঝাপসা, কোথায় আছে, কিভাবে আছে কিছুই অনুভব করছে না সে। হাত পা যেন অবশ হয়ে আসছে ধীরে ধীরে! নিচ থেকে শীতল হতে শুরু করেছে, ধীরে ধীরে উপরে উঠতে উঠতে মস্তিষ্কের দিকে এগোচ্ছে যেন ঠান্ডা অনুভূতিটি।

ইলহানের সৈন্যরা রাইফেল হাতে এগিয়ে এলো তৎক্ষনাৎ, কোকোর মৃত্যু নিশ্চিত না করে তাদের আর কাজ নেই। বন্দুক রিলোড করে মাটিতে চিৎ হয়ে পড়ে থাকা অর্ধজ্ঞান লুপ্ত কোকোর দিকে তাক করলো সকলে। ট্রিগারের ওপর আঙুল রেখে অপেক্ষা করলো একত্রে ট্রিগার চেপে কোকোকে হত্যা করার কৃতিত্ব নিতে।
সেই মুহুর্তেই তাদের পশ্চাতে, শূন্য থেকে ভেসে এলো এক ক্ষিপ্ত ক্রুদ্ধ মেয়েলি গর্জন! চমকে ঘাড় ফেরানোর আগেই শূন্য হতে আনাবিয়ার উৎক্ষিপ্ত পায়ের তীব্র আঘাতে ছিটকে পড়লো সৈন্যদের কয়েকজন।
পরমুহূর্তেই লাফিয়ে মাটিতে নামলো আনাবিয়া, ওর লম্বা খোলা চুল গুলো সর্পের মতোন ফুসে উঠলো যেন। শরীরের লতাপাতার ন্যায় সফেদ, উজ্জ্বল নকশা গুলো দৃশ্যমান হলো মুহুর্তেই! নকশা বেয়ে ফুটে উঠলো ক্ষুদ্র, ধারালো ক্রিস্টাল কণা! সৈন্যরা ইযানের কড়া নিষেধাজ্ঞার কারণে ওর দিকে রাইফেল তাক করতে সাহস পেলোনা, কোকোকে ছেড়ে পিছিয়ে গেলো তৎক্ষনাৎ।

কিন্তু ওদের দিকে চেয়ে আহত বাঘিনীর ন্যায় গর্জে উঠলো আনাবিয়া, পরক্ষণেই বজ্র গতিতে ছুটে গেলো সে সৈন্যদের দিকে। তীব্র ক্রোধে রক্রিম হয়ে উঠলো তার তুষার শুভ্র মুখখানা, বিদ্যুতের ন্যায় নিমিষেই সে অস্ত্র ছাড়াই ঝাপিয়ে পড়লো সৈন্যদের ওপর৷
দুহাতে গজানো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ক্রিস্টাল কণা গুলোর সাহায্য মুহুর্তেই ক্ষতবিক্ষত করে ফেললো সে সৈন্যদের শরীর! একের পর এক শক্তিশালী, ধারালো আঘাতে ওরা হারাতে রইলো প্রাণ, পালটা আক্রমণের সুযোগটুকু পর্যন্ত পেলোনা!
আনাবিয়ার সুক্ষ্ম, স্ফটিকের ন্যায় ধারালো চুলগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছুটে গিয়ে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে টেনে হিঁচড়ে ফেঁড়ে ফেললো কারো কারো দেহ। মুহুর্তেই সৈন্যগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে আনাবিয়া ছুটে এলো কোকোর কাছে। দুহাতে টেনে কোলের ওপর তুললো কোকোর ভারী মাথাটা। বন্ধ হয়ে আসতে থাকা চোখ জোড়ার দিকে তাকিয়ে ফ্যাকাসে হয়ে আসা অমসৃণ, দৃঢ় চোয়ালে আলতো করে চাপড় দিতে দিতে কান্না জড়ানো স্বরে ডেকে উঠলো,
“কোকো…. কোকো, স্ট্যে উইদ মি! আমি এসেছি, আমি চলে এসেছি! কিছুই হবে না তোর!”
কোকো শুনতে পেলো আনাবিয়ার কন্ঠস্বর, ঠোঁটের কোণে বাক পড়লো ওর, ফিসফিসে সুরে ডেকে উঠলো,
“আম্মা…!”

তারপর অস্ফুটে বলে উঠলো,
“আমি জানতাম আপনি আসবেন…..”
আনাবিয়া ফুপিয়ে উঠলো, দ্রুত হাতে কোকোর পোশাকের একাংশ ছিড়ে শক্ত করে বেঁধে দিলো কোকোর কাঁধ। আশেপাশে তাকাতেই চোখে পড়লো কোকোর ছিন্নভিন্ন ডান হাত খানা। দ্রুত এগিয়ে গিয়ে দুহাতে কুড়িয়ে নিলো সে হাতের টুকরো গুলোকে, ফিরে এসে এক হাতে কোকোকে টেনে তুললো নিজের কাঁধের ওপর।
হাইনা ছুটতে ছুটতে এসে পৌছলো তখনি। ওকে দেখা মাত্রই আনাবিয়া শক্ত গলায় বলে উঠলো,
“আমি কোকোকে নিয়ে যাচ্ছি, যুদ্ধ ক্ষেত্র এখন তোদের। তোদেরকে সেইফটি দেওয়া হয়তো আমার পক্ষে আর সম্ভব হবে না, নিজেদের সমস্তটা দিয়ে চেষ্টা করবি আজ। আমি ফিরে আসবো আবার, তোদের জন্য৷”
হাইনা সবেগে মাথা নাড়ালো ওপর নিচে, কোকোর স্থীর দেহের দিকে একবার তাকিয়ে দৃঢ় গলায় বলল,
“আপনার যেমন আদেশ শেহজাদী, শ্বাস থাকতে আমরা এই যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করবো না।”
আনাবিয়া হাইনার ঝাকড়া চুলের ভেতর হাত বুলিয়ে দিয়ে চুমু খেলো ওর কপালে। তারপর আবারও উড়াল দিলো শূন্যে।

কোকোকে নিয়ে এসে আনাবিয়া তড়িঘড়ি ফেললো লাইফট্রির সম্মুখে। কোকোর ছিন্নভিন্ন হাতখানা পাশে রেখে কোকোর রক্তশূণ্য মুখে বার কয়েক চাপড় দিয়ে অনুনয়ের স্বরে বলে উঠলো,
“এখুনি আসছি আমি, আরেকটু সহ্য কর বাবা আমার।”
তারপর লাইফ ট্রির দিকে ফিরে উচ্চস্বরে, শঙ্কিত গলায় বলে উঠলো,
“ডু সামথিং!”

বলেই ছুটে গেলো সে জঙ্গলের ভেতরের দিকে। লাইফট্রি নিজের কাছে টেনে নিলো কোকো কে, সাথে টেনে নিলো কোকোর ছিন্নভিন্ন হাতের টুকরো গুলোকে, নিয়ে নিলো সেগুলো নিজের ভেতরে৷
বার্ডি এসে হাজির হলো এমন সময়, ফ্যালকন পাঠিয়ে দিয়েছে তাকে। শেহজাদীর কোনো প্রয়োজন পড়লে যেন সাহায্য করতে পারে৷ বার্ডি এসে আতঙ্কিত মুখে বসে পড়লো কোকোর পাশে৷ কাঁধ থেকে এখনো রক্ত পড়েই যাচ্ছে, কাপড়ের টুকরোটা রক্ত বন্ধ করতে পারেনি।
বার্ডি কি করবে ভেবে পেলোনা৷ তড়িঘড়ি নিজের গায়ের পোশাক ছিড়ে রক্তে ভিজে ওঠা কাপড়ের ওপর দিয়েই আবার বেঁধে দিলো৷ বেঁধে দিতে গিয়ে দেখলো ঠান্ডা হয়ে গেছে কোকোর শরীর, শ্বাস পড়ছে খুব ধীরে।
দুঃশঙ্কায় শিউরে উঠলো বার্ডি, কান্না পেলো তার। কোকো ভাইজানের কিছু হলে কি হবে সকলের? ফ্যালকনের কি হবে? কোকো ভাইজান যে তার সবচেয়ে প্রিয়, তাকে যে সে চোখে হারায়! শেহজাদীর কি হবে? সে যে শেহজাদীর সবচেয়ে প্রিয় সন্তান!

বার্ডি ফুঁপিয়ে উঠে কোকোর বা হাতের তালুতে জোরে জোরে ঘঁষতে শুরু করলো, যেন শরীর একটু গরম হয়! আনাবিয়া এসে হাজির হলো তখুনি। হাতে তার জঙ্গলের ওষধি লতা পাতা। বার্ডিকে দেখে আস্বস্ত হলো সে, তড়িঘড়ি কোকোর পাশে বসতে বসতে বলল,
“বার্ডি, এখুনি মসভেইলে গিয়ে রেক্সা আর লিন্ডাকে পাঠিয়ে দিবে, বলবে কোকো গুরুতর আহত হয়েছে৷ দ্রুত যাও!”
বার্ডি তখুনি উঠে ছুটলো মসভেইলের দিকে।
আনাবিয়া কোকোর কাঁধ থেকে আবরণ সরিয়ে, দুহাতে লতাপাতা গুলোর একাংশ হাতের মাঝে পিষ্ট করে লাগিয়ে দিলো কোকোর কাঁধের বিচ্ছেদ স্থানে৷ কোকোর চুলের ভেতর হাত বুলিয়ে কান্না জড়ানো গলায় বলে উঠলো,
“সব ঠিক হয়ে যাবে এক্ষুনি, আর যন্ত্রণা হবে না!”
কোকো জ্ঞানহীনের মতোন পড়ে রইলো মাটিতে, তার আম্মার কন্ঠস্বর যেন সুদূর থেকেও সুদূরে! আনাবিয়া দ্রুত টেনে নিলো ওকে কোলের ওপর, লতাপাতা গুলোর অন্য অংশ হাতে পিষে চেপে চেপে ঢুকিয়ে দিলো কোকোর মুখের ভেতরে।

ক্ষণিক পর রক্তক্ষরণ বন্ধ হলো কোকোর, শরীরে উষ্ণতার সঞ্চার হতে শুরু করলো ধীরে ধীরে৷ ক্রমে ক্রমে চেতনাও ফিরলো। কিন্তু শরীর তখনো রইলো নিথর, নড়াচড়া বিন্দুমাত্র শক্তি রইলোনা। এক হাতে আনাবিয়াকে আঁকড়ে ধরে চোখ বন্ধ করে নিশ্চিন্ত মনে পড়ে রইলো সে কোলের ওপর৷ কোকোকে দুহাতে জড়িয়ে নিয়ে ওর কপালের ওপর চোয়ালের ভর দিলো আনাবিয়া, ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো,
“কিচ্ছু হবে না, সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি আছি তো!”
আনাবিয়ার উষ্ণ কোল, আদুরে আলিঙ্গন পেয়ে কোকোর ঘুম পেতে লাগলো। লাইফট্রির শরীর জুড়ে তখন বয়ে চলল আলোচ্ছটা, কোকোর ডান হাতখানা কিভাবে কি করা যায় সেটাই প্রক্রিয়া করে চলল সে ভেতরে৷
মা ছেলেকে এভাবে দেখে নিজের সরু ডালপালা গুলো দিয়ে সে জড়িয়ে নিলো তাদের। আনাবিয়ার দুর্বল হয়ে পড়া শরীর শক্তি পেতে শুরু করলো ধীরে ধীরে৷

কিছু পরেই লিন্ডা আর রেক্সা এলো ছুটতে ছুটতে। দূর থেকে কোকোর স্থীর শরীর দেখা মাত্রই ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো রেক্সা। লিন্ডা ওকে সামলাতে সামলাতে এসে পৌছোলো আনাবিয়ার কাছে। হাতে ওদের ফার্স্ট এইড বক্স৷
আনাবিয়া ওদের উপস্থিতি টের পেয়ে মাথা তুললো কোকোর কপালের ওপর থেকে৷ কোকো ততক্ষণে ঘুম! আনাবিয়া ইশারায় ডাকলো রেক্সাকে। রেক্সা চোখ মুছে এগিয়ে এসে বসলো আনাবিয়ার পাশে। আনাবিয়া কোকোর মাথাটা রেক্সার কোলের পরে সন্তর্পণে তুলে দিয়ে চাপা স্বরে বলে উঠলো,
“ঘুমোচ্ছে এখন, ভয়ের কিছু নেই৷ তোমরা এখানেই থাকবে, এখানে থেকে কোথাও যাবে না। লিন্ডা আছে, কোনো বিপদ আপদ এলে ও-ই সামাল দিতে পারবে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই ওকে এই জায়গা থেকে সরাবেনা, ঠিক আছে?”

রেক্সা লিন্ডা দুজনেই মাথা নাড়ালো একই সাথে, বলল,
“আপনার যেমন আদেশ, শেহজাদী৷”
আনাবিয়া কোকোর ঘুমন্ত, ক্লেশপূর্ণ মুখখানার দিকে আরেকবার তাকিয়ে ঠোঁট ছোয়ালো কপালে। তারপরেই এগিয়ে চলল যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে৷

“ইয়োর ম্যাজেস্টি, শেহজাদী এবার নিজেই যুদ্ধক্ষেত্রে নেমে পড়েছেন, এখন আমরা কি করবো?”
“যা-ই করো আমার মেয়ের গায়ে যেন একটা আঁচড়ও না পড়ে, ওকে ওর মতো করে ছেড়ে দাও৷ আর পারলে ওকে বন্দি করো, এতে সেও নিরাপদে থাকবে, আর আমরাও শান্তিতে থাকবো।”
“কিন্তু, ইয়োর ম্যাজেস্টি, তাঁকে কিভাবে বন্দি করবো? তাঁর কাছে কেউ গেলে তিনি কে কাউকে আস্ত রাখবেন? আর তার কাছে কেউ পৌঁছবেই বা কিভাবে?”
“আমি কিছু জানিনা ইযান, তবে আমার মেয়ের গায়ে যেন একটা ফুলের টোকাও না পড়ে। পড়লে আমি তোমার সাথে বোঝাপড়া করবো।”

বলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলো ইলহান। গায়ে তার ইস্পাত-দৃঢ় আর্মর। বুলেট, তলোয়ার কোনো কিছুই ভেদ করতে সক্ষম হবে না। কিন্তু সে মীরকে নিয়ে সন্দিহান৷ মীরের পশুর মতোন শক্তির সামনে টিকে থাকা তার জন্য দুষ্কর!
আড়ালে থেকে তাই নিজের শক্তি জমিয়ে রাখছে ইলহান, মীর তার পর্যন্ত পৌঁছাতে পৌঁছাতে নিজের শক্তি খুইয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়বে, আর সেটাই হবে ইলহানের জন্য মীরকে হারিয়ে দেওয়ার স্বর্ণ সুযোগ৷
পানীয়ের গ্লাসে চুমুক দিলো ইলহান, তারপর আবার যোগাযোগ করলো ইযানের সাথে, বলল,
“আনাবিয়াকে কোনোভাবে ব্যাস্ত রাখো, ওর কোনো বাচ্চাকে মেরে দাও। এতে ও দিশেহারা হয়ে পড়বে, ওয়ার জোন থেকে বেরিয়েও যেতে পারে।”

“ইয়োর ম্যাজেস্টি, ইতোমধ্যে আমরা কোকোকে মেরে দিয়েছি। যা সংবাদ পেয়েছি তাতে কোকো ওই আঘাতের পর বেঁচে থাকবে বলে মনে হয়না। এবার কি করবো? কাকে মারবো?”
“আনাবিয়ার রাইট নাও সিচুয়েশন বলো।”
“উনি বাকিদের নির্দেশনা দিচ্ছেন যুদ্ধে, নিজেও নেমেছেন। তাঁর দুহাতেই সোর্ড৷ নেকড়ে ছেলেটা তার পিছে পিছে এগোচ্ছে, বোধ হয় আঘাত পেয়েছে।”
“কোকো মরেনি ইযান। কোকো মরলে আনাবিয়া এত শান্ত থাকতোনা, এতক্ষণে কুরুক্ষেত্র বাধিয়ে দিতো, আর মীরও তার উপস্থিতির কথা জেনে যেতো। আনাবিয়া যেহেতু ততোটা অ্যাগ্রেসিভ হয়ে ওঠেনি সুতরাং সব ঠিক আছে। কোকোকে খুঁজে বের করো, ওর ওপর আবার হামলা চালাও। মেয়েকে ব্যাস্ত রাখো, আর ও একবার ব্যাস্ত হয়ে গেলেই যা করার করবে। তারপর বাকিটা পরে দেখা যাবে৷”
“আপনার যেমন আদেশ ইয়োর ম্যাজেস্টি।”

যুদ্ধক্ষেত্রে হতে ভেসে আসছে আনাবিয়ার কন্ঠস্বর, উগ্র গলায় সে দিয়ে যাচ্ছে নির্দেশনা। সৈন্যরা তার কমান্ড অনুসরণ করে রাইফেল হাকিয়ে চলেছে। অস্ত্রে পরিপূর্ণ তারা এখন, অস্ত্রের অগাধ মজুদ। চাইলেই যে কোনো সময়ে যে কোনো অস্ত্র চলে আসবে তাদের হাতে।
ওকামির বাহুতে গুলি লেগেছে, এই মুহুর্তে রাইফেল চালানো তার জন্য প্রচুর কষ্টসাধ্য। আনাবিয়া ওকে আড়াল করে নিয়েছে। মসভেইলে ফিরে যেতে বললে রাজি হয়নি ওকামি, সে এখানেই থাকবে, সবার সাথে৷ ভাইদের মৃত্যুমুখে ফেলে সে মসভেইলে গিয়ে বিশ্রাম করবে না মোটেও।
শত্রুপক্ষের সৈন্যরা আনাবিয়ার দিকে বন্দুক তাক করছে না, আনাবিয়া যেদিকে এগোচ্ছে সেদিক থেকে ওরা পালিয়ে যাচ্ছে অন্যদিকে। আনাবিয়া এবার দলছুট হলো স্বেচ্ছায়, ওকামিকে ওর দলবলের দায়িত্বে দিয়ে সে হঠাৎই গায়েব হয়ে গেলো যুদ্ধক্ষেত্র হতে।

শত্রুপক্ষের সৈন্যরা ওর হঠাৎ অন্তর্ধানে যারপরনাই অবাক হলো। ক্ষনিক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে বেশ খুশি হয়ে ওরা দ্বিগুণ শক্তিতে আক্রমণ করলো বাচ্চাদের ওপর৷
বাচ্চারাও ওদেরকে এগিয়ে আসতে দেখে বন্দুক রিলোড করে এগিয়ে গেলো সবেগে। কিন্তু সৈন্য সংখ্যা কম থাকায় সহজেই ওদের ঘিরে ফেললো শত্রুপক্ষের সৈন্যরা। কিন্তু তাতে দমে গেলোনা কেউ, নিজেদের সর্বোচ্চ টা দিয়ে চালিয়ে গেলো যুদ্ধ।
শত্রুপক্ষ যখন তাদেরকে কোণঠাসা করার উদ্দ্যেশ্যে চারদিক থেকে চাপ প্রয়োগ করতে শুরু করলো, সেই সংকটময় মুহুর্তেই আবির্ভাব ঘটলো আনাবিয়ার। বাচ্চাদের ভিড়ের ভেতর হঠাৎই দৃষ্টিগোচর হলো তাকে, স্থির দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে শত্রুপক্ষের দিকেই।

তাকে দেখা মাত্রই ভূত দেখার মতো চমকে উঠলো শত্রুপক্ষের সৈন্যরা, আনাবিয়া ঠোঁটের কোণে এক চিলতে মিষ্টি হাসি ফুটিয়ে ঝড়ো বেগে ধাবিত হলো শত্রুপক্ষের দিকে।
তাকে দেখে আতঙ্কিত হয়ে শত্রুরা পালিয়ে যাওয়ার আগেই আনাবিয়ার হাতের তরবারি সবেগে কোপ বসালো তাদের ওপর! ক্ষিপ্র বেগে, তুখোড় দক্ষতায় একের পর এক সজোর আঘাতে ছিন্নভিন্ন করে চলল সে শত্রুর দেহ।
বাচ্চারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আগ্রহভরে দেখতে রইলো আনাবিয়ার দুর্দান্ত তলোয়ার দক্ষতা। একে অপরের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট উলটে নিরব প্রশংসা করলো তাদের শেহজাদীর৷ পরমুহূর্তে নিজেরাও সবেগে ধাবমান হলো শত্রুপক্ষের দিকে।

সেই মুহুর্তেই হঠাৎ বার্ডিকে দেখা গেলো যুদ্ধক্ষেত্রের আকাশে, স্থীর ডানায় উড়তে উড়তে সে তারস্বরে ডেকে উঠে ঘুরে নেমে এলো মাটিতে। নেমেই নিজের হিউম্যান ফর্মে ফিরে দ্রুত পায়ে আনাবিয়ার কাছে এসে আতঙ্কিত স্বরে হাঁফাতে হাঁফাতে বলে উঠলো,
“শেহজাদী, রয়্যাল ফ্লোরে হিজ ম্যাজেস্টির প্রাণনাশের জন্য ফাঁদ পাতা হয়েছে। তিনি সেখানে পৌছোনো মাত্রই চারদিক থেকে স্নাইপাররা বুলেট ছুড়বে, বুলেটের আঘাতে আহত হওয়ার পর কমান্ডোরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাবু করবেন। তারপর…. তারপর হয়তো শেহজাদা ইলহানই তাকে হত্যা করবেন।”
আনাবিয়া থমকালো ক্ষনিকের জন্য। তারপর পিছিয়ে বাচ্চাদের কাছে গিয়ে ওদেরকে যুদ্ধক্ষেত্র সামলাতে বলে সে ছুটলো প্রাসাদের দিকে, যাওয়ার আগে বার্ডিকে বলল,

বাদশাহ নামা তৃতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৫২

“এখানে থেকোনা, এখনি ওয়ার জোন ছেড়ে বেরিয়ে যাবে। ওরা সামলে নিবে, আমি কাজ শেষ করেই আবার ফিরে আসবো।”
বার্ডি মাথা নাড়ালো ওপর নিচে। আনাবিয়া তৎক্ষনাৎ প্রস্থান করলো যুদ্ধক্ষেত্র থেকে, বার্ডি নিজেও বার্ড ফর্মে এসে উড়াল দিলো রেড জোনের উদ্দ্যেশ্যে।
কিন্তু সেই মুহুর্তেই নিচ হতে শত্রুপক্ষের তাক করা মেশিনগানের অজস্র বুলেটের আঘাতে ঝাঝরা হয়ে গেলো তার শরীর, মুহুর্তেই মুখ থুবড়ে পড়লো সে শক্ত মাটির ওপর……

বাদশাহ নামা তৃতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৫৪