Home বাদশাহ নামা তৃতীয় পরিচ্ছেদ বাদশাহ নামা তৃতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৬৮

বাদশাহ নামা তৃতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৬৮

বাদশাহ নামা তৃতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৬৮
রানী আমিনা

সে রাতে জমজমাট হৈ-হুল্লোড়ের ভেতর দিয়ে বিয়ে হয়ে গেলো লিও আর তার লুনার। আনাবিয়া ব্যাতিত সারা রাত কেউই প্রায় ঘুমোলোনা। শরীর সামান্য খারাপ বোধ হওয়ায় আনাবিয়া ঘুমিয়ে পড়েছিলো দ্রুতই। তার ওপর বাচ্চা গুলো আজকাল বড্ড বেপরোয়া হতে শুরু করেছে! ওর সামনে কোথায় কে কি বলে ফেলবে, করে ফেলবে তখন আনাবিয়াকেই সেসব অপ্রস্তুত পরিস্থিতির জন্য বিব্রত হতে হবে৷
বিয়েতে ইলহানকে আমন্ত্রণ করেনি সে, চায়নি ইলহান তার এই ব্যাক্তিগত গোপন স্থানটি সম্পর্কে কোনো ভাবে জানুক। আগামীকাল তাই নিজের রেস্টুরেন্টেই লিও লিন্ডার শুভবিবাহ উপলক্ষে আরেকটি পার্টি হোস্ট করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে এসেছে বাচ্চাদের৷ নইলে চাচাজি তার মন খারাপ করবে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের পায়ের কাছে তুলতুলে গরম কিছু অনুভব করে মাথা তুলে তাকালো আনাবিয়া। ফক্সি ঘুমিয়ে আছে সেখানে। রাতে সকলের সাথে সেও বাইরে ছিলো, কখন এখানে এসে ঘুমিয়েছে জানেনা আনাবিয়া।
উঠে বসে আড়মোড়া ভেঙে বিছানা থেকে নামলো। বাচ্চা গুলো কি করেছে, কোথায় ঘুমিয়েছে দেখার জন্য বাইরে বের হতেই দেখলো সারা রাত কেউ ম্যানরেই ঢোকেনি। বাইরেই ঘাসের ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে একটার ওপর আরেকটা এলোমেলো হয়ে ঘুমিয়ে আছে৷

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

আনাবিয়া ফোস করে একটা শ্বাস ছেড়ে ভেতরে ঢুকলো আবারও। নিজের কামরায় ঢোকার আগ মুহুর্তে আসেপাশের কামরায় কারো শব্দ পেতেই এগিয়ে গেলো সেদিকে।
শব্দটা লায়রার কামরা থেকে আসছে টের পেয়ে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই দেখলো মেঝেতে বসে বসে গোগ্রাসে গত রাতের খাবার খাচ্ছে একটি মেয়ে। গায়ে বস্ত্রের চিহ্ন মাত্র নেই। খাবারে এতই মনোযোগ আনাবিয়ার উপস্থিতি পর্যন্ত ঠাহর করতে পারেনি সে৷
আনাবিয়া গলা খাকারি দিলো, আচমকা শব্দে লাফিয়ে উঠলো মেয়েটি৷ মুখ ভর্তি খাবার নিয়ে আনাবিয়ার দিকে চোখ পড়তেই তড়িঘড়ি উঠে দাঁড়িয়ে আনুগত্য জানালো সে৷ আনাবিয়া দেখলো তাকে। অপ্রস্ফুটিত শরীর, সবে কৈশরে পদার্পন করেছে।

একদা সেও এমনই ছিলো, মীর বেঁছে বেঁছে পোশাক পরাতো তাকে! নিজের হাতে গোসল দিয়ে নিজের মনের মতো পোশাক পরিয়ে, চুলটি সযত্নে আঁচড়িয়ে বেধে দিয়ে পুতুলের মতোন সাঁজাতো আনাবিয়াকে। পুতুল আনাবিয়াকে পুতুল সাজানোর কর্মকান্ডের ভেতরেই যে কতশত চুমু খেতো হিসাব নেই আনাবিয়ার! মীরের আদুরে চুম্বনে সুড়সুড়ি পেয়ে খিলখিলিয়ে হেসে উঠতো আনাবিয়া। আর মীর ওর হাসিমুখেই আবার বসিয়ে দিতো শতসহস্র চুম্বন!
আনাবিয়ার নিজের তেমন কোনো পছন্দ ছিলোনা কখনো, মীর সবসময় তার জন্য সবচেয়ে সুন্দর, সবচেয়ে মূল্যবানটাই যে হাজির করতো! মীরের পছন্দের ওপর গিয়ে তার কিভাবে অন্য কিছু পছন্দ হতে পারে!

পোশাক, অলঙ্কার, জুতা, প্রসাধনী যখন যা প্রয়োজন মীরই খেয়াল রাখতো। তার খাবার থেকে শুরু করে ঘুম সবকিছুতে ছিলো মীরের অলিখিত দখলদারি, সে না খাইয়ে দিলে খেতোনা আনাবিয়া, সে না ঘুম পাড়ালে জেদ ধরে বসে থাকতো, ঘুম পেলেও ঠাঁই বসে থাকতো দেয়াল ধরে। যতক্ষণ না কাঙ্খিত পুরুষটি এসে বুকের পরে না নিতো সে কোনো ভাবেই ঘুমোতো না, বেশি রাগ হলে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতো! বাহিরে বৃষ্টির শব্দ পেলেই টনক নড়তো মীরের, তাড়াহুড়োয় সব কাজ শেষ করে ছুটতো সে তার প্রাণের কাছে, এসে ওর চোখ মুছিয়ে বুকের পরে নিয়ে কত শত অবুঝ আদরে ভুলিয়ে ঘুম পাড়াতো, ওই এলোমেলো আদর টুকু আনাবিয়ার ওপর কাজ করতো ঘুমের ওষুধের মতোন!

এত যত্ন, এত আদর পাওয়া সে আজ ঘরছাড়া! ঝুম বৃষ্টির ন্যায় আদরের বর্ষণের পর তাকে যে অজান্তেই জলোচ্ছ্বাসের মতোন ভাঙচুর করা অনাদর দেওয়া হয়েছে সেটা আদরের মালিক বোঝেনি! বুঝলেও স্বেচ্ছায় অনাদরই করে গিয়েছে! ভেঙে ফেলেছে, টুকরো টুকরো করে দিয়েছে!
আনাবিয়া কেঁপে উঠলো যেন, পরক্ষণেই দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো একটা৷ ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে লায়রার জন্য তৈরি রাখা পোশাক বের করে দিতে জিজ্ঞেস করলো,
“পেট ভরেছে?”
লায়রা ইতস্তত, লাজুক ভঙ্গিতে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো। ঘাড় পর্যন্ত লম্বা জিঞ্জার হেয়ার গুলো মুখের সামনে এসে পড়লো তাতে। আনাবিয়া তা দেখে মিষ্টি হেসে বলল,
“গোসল খানায় গিয়ে গোসল দিয়ে আসো, আমি তোমার জন্য খাবারে ব্যাবস্থা করছি।”
লায়রা মাথা নেড়ে গোসল খানায় ঢুকলো, আনাবিয়া ওর পোশাক গুলো বিছানার ওপর রেখে চলে এলো বাইরে৷

নিজের কালো রঙা জান্তব গাড়িটির পেছনের সিটে শরীর এলিয়ে দিয়ে বসে আছে মীর৷ চোখ জোড়া বন্ধ। আজ আর সাম্রাজ্যের কাজে মন বসছে না তার। লিও কাঞ্জি আজকেও ছুটি চেয়ে দরখাস্ত দিয়েছে, মীর বিনা প্রশ্নে ডে অফ দিয়েছে ওদের আজও। তার মন বলছে সামথিং ইজ কুকিং, কিন্তু আপাতত এসব নিয়ে ভাবতে ইচ্ছা করছে না৷
গত কয়েক সপ্তাহের টুকরো টুকরো কিছু ঘটনায় সে এমনিতেই বেশ ডিস্টার্বড। তার এখন প্রয়োজন মেন্টাল পিস। সেদিনের অ্যালবামের ব্যাপারটা কিছুতেই মাথা থেকে বের করতে সক্ষম হচ্ছে না সে।
আরমান নামক ছেলেটা ড্রাইভ করছে। চোখে চশমা, গোবেচারা ভাব হলেও ছেলেটা বেশ ভালো ড্রাইভ করে৷ লিওর মতো পাঁকা হাত না হলেও খারাপ নয়৷
আরমান লুকিং গ্লাসে মীরকে আড়চোখে একবার দেখে নিয়ে ইতস্তত স্বরে জিজ্ঞেস করলো, “ইয়োর ম্যাজেস্টি, আমরা কোথায় যাবো?”

“জানিনা, পিসফুল কোথাও যাও। যেখানে গেলে আমি কিছুক্ষণ নির্জনে সময় কাটাতে পারবো।”
আরমান কোথায় যাবে বুঝতে পারলোনা। সে যদি নির্জন স্থানে যায়ও, দেখা গেলো আচমকা নির্জনতা বিঘ্নিত হলো আর হিজ ম্যাজেস্টি রেগে গিয়ে ওকে তুলে একটা আছাড় মারলেন! আজ লিও কাঞ্জিও নেই যে বিপদে পড়লে বাঁচাবে ওকে!
একটা শুকনো ঢোক গিলে সে ইতস্তত স্বরে বলল,
“ইয়োর ম্যাজেস্টি, কিমালেবে….. মানে পূবের দিকের পাহাড়ি রাস্তার ওপরের দিকে একটা রেস্টুরেন্ট আছে, বেশ নামকরা। আমি যদিও যাইনি কখনো, কিন্তু অনেক নামডাক শুনেছি, দূর দূরান্ত থেকে সেখানে লোক আসা-যাওয়া করে৷ জায়গাটা অনেক নিরিবিলি হবে, আশা করি। আপনি বললে সেখানে যাই?”
মীর চোখ মেললো, বিকেল পড়ে গেছে। এখন রওনা দিলে পৌছুতে বেশ রাত হয়ে যাবে৷ কিন্তু কি ভেবে আসনে আবার গা এলিয়ে দিয়ে সে বলল,
“চলো।”

রাত নেমেছে কিছুক্ষণ আগেই। আনাবিয়ার রেস্টুরেন্টের কিচেন থেকে ভেসে আসছে সুস্বাদু খাবারের ঘ্রাণ। কাস্টমার আসা শুরু করবে কিছুক্ষণ পরেই। ব্যাকইয়ার্ডে আজকের পার্টির জন্য পুরোদম প্রস্তুতি চলছে, ইলহান সহ বাচ্চারা সব সেখানে। আনাবিয়া কিচেনে রান্নার তদারকি করছে।
রাত আরেকটু গাঢ় হলে ক্রমে ক্রমে ক্রেতারা ভিড় করতে শুরু করলো, বেশিরভাগ শখের বসে পর্বতারোহী যুবক যুবতীরাই দখল করে রেস্টুরেন্ট। কখনো কখনো বিজনেস ম্যানরা দল বেঁধে এখানে আসে নিরিবিলিতে ডিনার এবং মিটিং সারতে৷ আজও তার ব্যাতিক্রম হয়নি।
ইলহান ব্যাক ইয়ার্ড থেকে বেরিয়ে আনাবিয়ার নিকট এলো, পাশে ডেকে নিয়ে গিয়ে বলল,
“আজকের দিনটা রেস্টুরেন্ট ক্লোজ করে দিলেই তো পারতে।”
“হুট করে কাউকে কিছু না জানিয়ে বন্ধ রাখলে এত গুলো মানুষ এসে ফিরে যেতো, ব্যাপারটা খারাপ দেখাতো না বলুন! যারা এখানে আসে তাদের অধিকাংশই হাইকার্স, ওরা প্রচন্ড ক্ষুধার্ত থাকে। আশা নিয়ে এখানে এসে খাবার না পেলে ওদের মন ভেঙে যাবে।”

“অন্যদের নিয়ে যেমন ভাবো অমনটা নিজের জন্য ভাবলে অনেক উন্নতি করতে জীবনে৷”
বলে আনাবিয়ার গাল টিপে দিয়ে চলে গেলো ইলহান। আনাবিয়া ম্লান হাসলো তাতে।
সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে খুব দ্রুতই এসব ছেড়ে দূরে কোথাও চলে যাবে। এই জীবন, এই পরিবেশ তার আর ভালো লাগছে না। তার বাচ্চারাও এখন যার যার মতোন ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে, তাদের এখন সংসার হয়েছে, সেই ছোট্টটি নেই কেউ। সকলে নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছে, নিজে চলতে শিখে গেছে৷ এখন আর তাদের আনাবিয়াকে প্রয়োজন হবে না৷ কোকোটাও এখন আর আগের মতোন খাবার বায়না ধরেনা, সে যে এখন অনেক ব্যাস্ত, আর্মি চিফ! দীর্ঘজীবন আশীর্বাদের থেকে বোধ হয় অভিশাপই বেশি। খুব দ্রুতই সে এই সবকিছু ছেড়ে একটু নিজের জন্য, নিজের মতো করে বাঁচবে। মুক্ত স্বাধীন পাখির মতোন ডানা মেলে উড়বে আকাশে৷

আনাবিয়া একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মন দিলো কাজে৷
কিছুক্ষণ পর ফ্যালকন এসে জানিয়ে গেলো কাস্টমার বিশ জন পূর্ণ হয়ে গেছে, আনাবিয়া ওকে বলে দিলো রেস্টুরেন্টের বাইরে ক্লোজড ট্যাগ লাগিয়ে দিতে৷
ফ্যালকন বাইরে গেলো, কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে এসে বলল,
“শেহজাদী, বাইরে একটা লোক এসেছে। বলছে তার সাথে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যাক্তি এসেছেন এইখানে রাতের খাবার খেতে৷ কি করবো?”
“বিশ জন বিশ জনই ফ্যালকন, তাকে বলে দাও আগামীকাল আসতে।”
“ঠিক আছে শেহজাদী।”

ফ্যালকন বাইরে বেরিয়ে এলো। আরমান দাঁড়িয়ে সেখানে, ফ্যালকন এসে ঝাঝালো গলায় বলল,
“আজ হবে না, কাল আসুন। মালকিন বলেছেন বিশ জন বিশ জনই৷”
“মালকিনের সাথে একটু কথা বলা যাবে?”
“একদমই না, তিনি ব্যাস্ত আছেন৷ আর তিনি কাস্টমার দের সাথে দেখা করেন না।”
“দয়া করে একটু ব্যাবস্থা করুন, আমার সাথে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একজন আছেন৷ আপনি তাকে কোনোভাবেই রাগাতে চাইবেন না। একটু তাকে গিয়ে বলুন!”
“অসম্ভব, এখন পঞ্চদ্বীপের বাদশাহ এলেও তাকে অ্যালাও করা হবে না।”
মুখ বাড়িয়ে আঙুল নাড়িয়ে বলল ফ্যালকন। আরমান গলা খাকারি দিয়ে বলল,
“তিনিই এসেছেন!”
মুহুর্তেই ফ্যালকনের মুখের নকশা বদলে গেলো। নিশ্চিত হওয়ার জন্য জিজ্ঞেস করলো,

“কি বললেন?”
“পঞ্চদ্বীপের বাদশাহ নামীর আসওয়াদ দেমিয়ানই এসেছেন!”
ফ্যালকন একটা শুকনো ঢোক গিলে দ্রুত পায়ে ছুটে ভেতরে যেতে চাইলো। তখুনি বাহিরের আঁধারের ভেতর থেকে কারো গুরুগম্ভীর স্বরে ভেসে এলো তার নাম,
“ফ্যালকন!”
ফ্যালকন থেমে গেলো সাথে সাথেই, ঘুরে দাঁড়িয়ে অন্ধকারের ভেতর জ্বলজ্বল করতে থাকা স্বর্ণাভ চোখ জোড়া দেখা মাত্রই জড়সড় হয়ে মাথা নুইয়ে আনুগত্য করলো। মীর এগিয়ে এলো, স্ট্রিট লাইটের মৃদু আলো পড়লো তার মুখের ওপর, দৃষ্টিগোচর হলো তার শ্যামরঙা সৌম্য মুখখানা।

“তুমি এখানে কি করছো?”
“ই-ই-ইয়োর ম্যাজেস্টি! আম- আমি এ-এখানে… এখানে… মানে আমি এখানে…”
মীর ধীর পায়ে উঠে এলো ধাপ বেয়ে। ফ্যালকনের সামনে এসে দাঁড়ালো। মীরের বিশাল বপুর সামনে ফ্যালকন হারিয়ে গেলো যেন। ভয়ে জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো সে, না চাইতেও কাঁপতে লাগলো তার সার শরীর। মীর ওর দিকে কিছুক্ষণ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে ডাকলো,
“আরমান!”
আরমান মীরের ইশারা টের পাওয়া মাত্রই ঢুকে গেলো রেস্টুরেন্টের ভেতর।

“আমার সাথে এসো।”
বলেই নেমে গেলো সে। ফ্যালকন যন্ত্রের ন্যায় অনুসরণ করলো তাকে। বড় বড় পা ফেলে পার্কিং লটে নিজের গাড়ির নিকট এসে তাতে ঠেস দিয়ে দাঁড়ালো মীর৷ ফ্যালকন তার সামনে এসে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো চুপচাপ।
মীর সিগারেট ধরালো একটা। ধোঁয়া ছেড়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

“সে এখানে?”
“প্‌-পজিটিভ ইয়োর ম্যাজেস্টি।”
“মালকিন?”
“ই-ইয়েস ইয়োর ম্যাজেস্টি।”
“কবে থেকে?”
“অ-অনেক দিন, ইয়োর ম্যাজেস্টি।”
“সকলেই জানে?”
ফ্যালকন চুপ করে রইলো। গলা শুকিয়ে এলো তার। মীর এবার সরাসরি তাকালো ফ্যালকনের পানে। তার ক্ষুরধার দৃষ্টি অনুধাবন করে ফ্যালকন দ্রুতস্বরে বলে উঠলো,
“ইয়েস, ইয়েস ইয়োর ম্যাজেস্টি!”
“বিট্রেয়াল!”
“ক্‌-কখনোই না, ইয়োর ম্যাজেস্টি। আমরা সকলেই আপনাকে সর্বোচ্চ মান্য করি, আপনার আদেশই আমাদের শিরোধার্য! আপনার সাথে বিশ্বাসঘ্‌……”

“শাট ইট!”
গর্জে বলে উঠলো মীর। ফ্যালকন কেঁপে উঠলো তাতে। মাথা আরও নুইয়ে ফেললো ভয়ে, আনুগত্যে! মীর হিসহিসিয়ে বলে উঠলো,
“শাট ইয়োর ফাকিং মাউথ!”
পরক্ষণেই গর্জানো গলায় বলে উঠলো,
“বিশ্বস্ততা! বিশ্বস্ততা মাই ফুট! এই তোমাদের তথাকথিত বিশ্বস্ততার নমুনা? আমার আদেশ লঙ্ঘন করে, শেহজাদীকে আমার হাতে সমর্পণ না করে, তার সাথে মিলে তোমরা আমার বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র করছো? কে কে আছে সেখানে, তোমাদের বিশ্বাসঘাতকের মহলে? ঠিক কাদেরকে নিয়ে তৈরি হয়েছে সেই বেঈমানের দলটি? বলো আমাকে! জবাব দাও!”

ফ্যালকন বলতে পারলোনা কিছুই, গলা ধরে এসেছে তার। ভয়ে, লজ্জায় চোখ জোড়া পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে আছে। মীর আর এক মুহুর্ত দাঁড়ালো না সেখানে। বেরিয়ে সোজা এগোলো রেস্টুরেন্টের দিকে।
আরমান বাহিরেই দাঁড়িয়ে ছিলো মীরের অপেক্ষায়। মীর বড় বড় পা ফেলে জোর কদমে এগোলো ভেতরে৷
আনাবিয়া কিচেনেই ছিলো। ফ্যালকন টা এখনো এলোনা দেখে কিচেন থেকে বাহিরে উঁকি দিলো সে। কিন্তু সমস্ত রেস্টুরেন্ট নিশ্চুপ ঠাহর করে এগিয়ে আসতেই জনমানব শুণ্য আসন দেখে ভ্রু কুচকে এলো তার।
কিছুক্ষণ আগেই যে রেস্টুরেন্টের সবগুলো আসন পরিপূর্ণ ছিলো, অর্ডারও নেওয়া হয়নি তখনো তাদের। তবে কোথায় গেলো সকলে?

চিন্তিত মুখে, ধীর কদমে বাইরে আসতেই বুকের ভেতর হৃৎপিণ্ডটা লাফিয়ে উঠলো ধড়াস করে!
আনাবিয়া তড়িতে হাত চাপলো বুকের ওপর। কোন অজানা আশঙ্কায় দ্রুত পায়ে ব্যাক ইয়ার্ডের দিকে এগোলো ফ্যালকনকে খুঁজতে। বাচ্চারা তখন ব্যাস্ত ব্যাক ইয়ার্ডের ফার্নিচার সাজাতে। আনাবিয়া ছুটে আসতেই চমকে তাকালো ওরা, আনাবিয়াকে এমন আশঙ্কিত দেখে কোকো কাজ ফেলে এগিয়ে এলো, জিজ্ঞেস করলো,
“কি হয়েছে আম্মা? আপনাকে এমন দেখাচ্ছে কেন?”
“ফ্যালকন এসেছে এখানে?”
শঙ্কিত স্বরে জিজ্ঞেস করলো আনাবিয়া। পেছন থেকে শার্লট বলল,
“ফ্যালকন ভাইজান তো এখানে অনেক ক্ষণই আসেনি, ভাইজান বলল আপনি তাকে কাস্টমারদের তদারকির জন্য ডেকেছেন।”

“তবে.. তবে ও কোথায় গেলো? বাহিরে কেউ নেই, রেস্টুরেন্ট সম্পুর্ন ফাঁকা!”
ইলহান পেছন দিকে ছিলো। লুসিকে কোল থেকে নামিয়ে দিয়ে এগিয়ে এসে বলল,
“আমি আসছি চলো, হয়তো আশেপাশেই কোথাও গেছে।”
ইলহান আগে আগে চলল। আনাবিয়া দ্রুত পায়ে এগোলো ওর পেছন পেছন। কোকো লিওরা ক্ষণিকের জন্য দাঁড়িয়ে রইলো চুপচাপ, বাইরে টা নিস্তব্ধ অনুভব করে ওদের মনে ভালো বললোনা। শেষ পর্যন্ত ওরাও এগোলো সেদিকে।
ইলহান এসে দেখলো রেস্টুরেন্টে কেউই নেই। পুরোপুরি ফাঁকা। আনাবিয়া এসে দাঁড়ালো ওর গা ঘেঁষে। ইলহান এগিয়ে গেলো বাইরেটা দেখার জন্য। সেই মুহুর্তেই বিকট শব্দে দরজা খুলে ঝড়ো গতিতে ভেতরে ঢুকলো মীর৷
ওর হঠাৎ আগমনে ইলহান বেশ অবাকই হলো, কিঞ্চিৎ ভড়কালোও বোধ হয়। আনাবিয়া ইলহানের আঁড়ালে দাঁড়িয়ে রইলো স্তব্ধ হয়ে। নিজের অজান্তেই ভয়ে, আশঙ্কায় বুক দুরুদুরু করতে রইলো তার!
মীর দাঁতে দাঁত চেপে এগোলো ইলহানের দিকে। ওর সামনে এসে দাঁড়িয়ে হিসহিসিয়ে বলল,

“তোকে জীবিত রেখে আমি মারাত্মক ভুল করেছি, আমার উচিত ছিলো তোকে সেদিনই শেষ করে দেওয়া। রক্তটা তো খুব সুবিধার নয়! তাকিয়ে দ্যাখ, ঠিক তোর পেছনেই দাঁড়িয়ে আছে আমাদের বাবার খুনির গ্রাণ্ডচাইল্ড! এখন ক্রাইম করার জন্য পুরোনো সঙ্গীকে না পেয়ে তার রক্তের সাথে হাত মিলিয়েছিস!”
“না জেনে কথা বলবিনা। বড় ভাই আমি তোর, সম্মান দিয়ে কথা বলবি। আর আনাবিয়াকে নিয়ে বাজে কথা বলবিনা। ও তোর আদর্শে বড় হয়েছে, তুই ওকে যেমন গড়তে চেয়েছিস ও তেমনই হয়েছে। তাই ওকে যদি তোর কোনো ভাবে অযোগ্য বা দোষী মনে হয় তবে সেটা ওর দোষ নয়, তোর শিক্ষার দোষ।”
সেই মুহুর্তেই ব্যাক ইয়ার্ড থেকে বেরিয়ে রেস্টুরেন্টের ভেতর হাজির হলো কোকো সহ সকলে। কোকো হঠাৎ এই অসময়ে এখানে মীরকে দেখে চমকালো। পেছন পেছন লিও কাঞ্জি এসে মীরকে দেখা মাত্রই দাঁড়িয়ে গেলো নিজেদের স্থানে। অপরাধ বোধে মাথা নিচু হয়ে গেলো ওদের৷
মীর সেদিকে চেয়ে তাচ্ছিল্য ভরে হেসে উঠলো হঠাৎ। বলল,

“ট্রেইটর দের গ্রাণ্ড মিট আপ!
আমার আশেপাশে আমি এত গুলো ট্রেইটর নিয়ে ঘুরেছি এতদিন! এমনকি আমার রাষ্ট্রের বড় বড় পদেও তাদের অধিষ্ঠিত করেছি! দিনের পর দিন আমার বিবেচনা, বিচারশক্তি বিলুপ্ত হচ্ছে বোধ হয়! অন্যথায় এত বড় ভুল আমি কিভাবে করি? বিশ্বাসঘাতকদের চিহ্নিত করার মতোন সামান্য বোধ টুকুও আমি কিভাবে হারাই?”
শেষোক্ত কথাটা কোকোর দিকে চেয়ে বলল মীর। কোকো অপরাধী ভঙ্গিতে মাথা নামিয়ে নিলো তৎক্ষনাৎ! ইলহান গলা খাকারি দিয়ে নরম স্বরে বলে উঠলো,
“তুই যেমন ভাবছিস তেমনটা ন্‌….!”
“ইনাফ!”
গর্জে উঠলো মীর আবারও, ক্রোধের স্বরে বলল,

“আর একটা কথা বলবিনা তুই! এই মুহুর্তে আমার চোখের সামনে থেকে বেরিয়ে যাবি, শুধু তুই না সকলেই!”
ইলহান ফোস করে শ্বাস ছাড়লো একটা। তারপর বেরিয়ে গেলো বাইরে, ওর পেছন পেছন এলোমেলো পায়ে একটু একটু করে এগোতে রইলো আনাবিয়া। মীর ওকে দেখে গমগমে স্বরে বলল,
“তুমি এক পাও নড়বে না, এইখানে এসে দাঁড়াও, আমার সামনে।”
আনাবিয়া যন্ত্রের মতোন মীরের সামনে এসে দাঁড়ালো। মাথা নিচু করে তাকিয়ে রইলো মেঝের দিকে। বাকিরা দ্রুত পায়ে বেরিয়ে গেলো ইলহানের পেছন পেছন।
মীর রেস্টুরেন্টের চতুর্দিকে চোখ বুলালো, তাচ্ছিল্যভরে বলল,

“দেমিয়ান পদবী ছেড়ে বাবুর্চিগীরি শুরু করেছো বুঝি?”
“আমার যা ভালো লেগেছে তাই করেছি। আমি আমার কাজের জন্য কারো কাছে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নই।”
“আচ্ছা!”
মীর বাকা হেসে চেয়ার টেনে বসলো সেখানে। পায়ের ওপর পা তুলে জিজ্ঞেস করলো,
“কি খাওয়াবেন আমাকে আজ? বাবুর্চিনি?”
আনাবিয়া মেন্যুকার্ড এগিয়ে দিলো মীরের দিকে। মীর সেটা ছুড়ে ফেলে দিলো কোথাও, বলল,
“আমার পছন্দ অপছন্দ নিশ্চয় তুমি জানো, জানার কথা। কিচেনে গিয়ে আমার যা পছন্দ তাই রান্না করবে। আমি এখানে অপেক্ষা করছি।”

আনাবিয়া মীরের অগোচরে ফোস করে একটা শ্বাস ছড়ে থমথমে মুখে এগোলো কিচেনের দিকে। সেখানের শেফ গুলো এতক্ষণ ভয়ে কাঁচুমাচু হয়ে চুপটি করে দাঁড়িয়ে ছিলো ভেতরে। আনাবিয়া ওদের কে পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যেতে বলল। তারপর প্রস্তুতি নিলো মীরের জন্য পোলাও আর রোস্ট রান্নার।
ক্ষণিক পর মীর এসে দাঁড়ালো দরজায়। চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো আনাবিয়ার রান্না শেষ হওয়া পর্যন্ত! তার শাণিত দৃষ্টি কখনো ক্রোধ, কখনো মায়া, কখনো কৌতুহল, কখনো বা অবুঝ হয়ে ঘুরে ফিরলো আনাবিয়ার প্রতিটি গতি, প্রতিটি চলন, প্রতিটি অঙ্গভঙ্গিতে!

আনাবিয়াকে সামনে বসিয়ে রেখে মীর যখন খাওয়া শেষ করলো তখন রাত বারোটা পেরিয়ে একটার দিকে ঝুকেছে। আনাবিয়া বসে ছিলো চুপচাপ। পুরোটা সময় মেঝের দিকে চেয়ে ছিলো সে, মীরের দিকে একটিবারের জন্যও চোখ তুলে চায়নি!
তাকালেই দেখতে পেতো মীরের শীতল দৃষ্টি তার মুখপানেই নিবদ্ধ। পুরোটা সময় সে আনাবিয়ার মুখে চেয়েই কাটিয়েছে, খাবারের পাত্রের দিকে তাকানোর প্রয়োজন বোধ করেনি।
কিন্তু বহুদিন পর সে যে খুব তৃপ্তি নিয়ে খেয়েছে সেটা তার শান্ত, তৃপ্ত মুখশ্রী দেখলেই টের পাওয়া গেলো। পুরো দুইটি কিং সাইজের প্ল্যাটার সাফ করে তৃপ্তির ঢেকুর তুললো মীর৷ ফ্যালকন এসে টেবিল ক্লিন করে চলে গেলে মীর জিজ্ঞেস করলো,

“রান্না রোজ তুমি করো?”
আনাবিয়া মাথা নাড়ালো দুদিকে।
“সামটাইমস?”
“এখনো করিনি কখনো। চাচাজির নিষেধ ছিলো।”
“নিষেধ না থাকলে করতে?”
আনাবিয়া চুপ রইলো। মীর চেয়ারে পিঠ ঠেকিয়েছিলো। আনাবিয়ার নিরুত্তরে সোজা হয়ে বসলো সে, তারপর ঝুঁকে এসে বলল,
“একজন দেমিয়ান শেহজাদী হয়ে বাইরের মানুষকে রান্না করে খাওয়ানোর স্পর্ধা তুমি কোথায় পেয়েছো? কে দিয়েছে তোমাকে?”
আনাবিয়া ঢোক গিললো। বুক কাঁপতে শুরু করলো হঠাৎ। অস্ফুটস্বরে বলল,
“শ্‌-শখ থেকে করেছি।”

“বাহিরে এসে কামলা দিতে চাওয়া কোন ধরণের শখ? একজন শেহজাদী হয়ে তোমার এ ধরণের শখ কিভাবে হয়? তুমি দান করতে পারো, তুমি চাইলে সমস্ত পঞ্চদ্বীপ বাসিকে বিনামূল্যে আহার করাতে পারো৷ কিন্তু কোন কারণে তুমি রেস্টুরেন্ট ওপেন করার মতো একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছো? হোয়াই?”
“আমি সময় কাটানোর একটা মাধ্যম চেয়েছিলাম মাত্র।”
মীর শকুনি চোখে তাকিয়ে রইলো ওর দিকে। ভেতর থেকে বেরিয়ে আসতে থাকা ক্রোধকে গলাধঃকরণ করে সে শ্বাস ছাড়লো একটা। তারপর চেয়ার ছেড়ে উঠে বলল,
“তোমার রেস্টুরেন্ট থাকছে না, এবং তুমি আমার সাথে যাচ্ছো।”
আনাবিয়া উঠে দাঁড়ালো তৎক্ষনাৎ, আহত হরিণীর মতোন চেয়ে বলল,
“আপনি এমন করতে পারেন না, আমি অনেক যত্ন নিয়ে গড়ে তুলেছি এটা। এটা এখানেই থাকবে, আর এর মালিকানাতেও আমিই থাকবো৷”

মীর বাহিরে যাওয়ার উদ্দ্যেশ্যে পা বাড়িয়েছিলো, আনাবিয়ার কথাতে ঘুরে তাকালো আবার, বলল,
“তুমি হয়তো ভুলে যাচ্ছো, আমি কে। আমি যা ইচ্ছা তাই করতে পারি। তোমার রেস্টুরেন্ট থাকছে না, এটাই আমার শেষ কথা। দ্বিতীয় কোনো কথা আমি শুনতে চাইনা।”
“আমি এখান থেকে কোথাও যাবো না!”
আর্তনাদ করে বলে উঠলো আনাবিয়া, পরমুহূর্তেই আবার বলল,
“আপনি আমাকে এভাবে জোর করতে পারেননা! আপনার কোনো অধিকার নেই এমন করার! আমি আপনার কোনো ক্ষতি করিনি, আমি আমার মতো আছি, ভালো আছি। আপনি কেন বারবার আমাকে ওই প্রাসাদে নিতে চাইছেন? কেন আমার শান্তি নষ্ট করছেন? আমি বেরিয়ে এসেছি তো এসেছিই না? তবে কেন আবার আমাকে ওই জাহান্নামে নিতে চাইছেন? কি প্রয়োজন আপনার আমাকে?”

“অনেক প্রয়োজন। আমি তোমার কাছে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নই, তুমি বাধ্য৷ আ’ম ইয়োর সোল গার্ডিয়ান অ্যান্ড মেইবি আরও অনেক কিছুই৷”
“কেউ নন আপনি আমার! আমার বাবা মারা গেছেন আমার জন্মের আগেই, মা মারা গেছেন জন্মের সময়, দাদাজানকে মেরে ফেলেছেন আপনি! আমার কেউ নেই! আর আমার কাউকে প্রয়োজনও নেই। আর আপনাকে তো না-ই!”
আহত বাঘিনীর ন্যায় বলল আনাবিয়া। মীর শান্ত ভঙ্গিতে শুনলো ওর সব কথা, বলল,
“চিৎকার করবে না, জোরে কথা বলা মেয়ে আমি পছন্দ করিনা৷ তোমার যত অভিযোগ আমি প্রাসাদে ফিরে শুনবো, এখানে নয়৷ এসো।”
আনাবিয়া পিছিয়ে গেলো, জোর গলায় বলল,

বাদশাহ নামা তৃতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৬৭

“আমি কোথাও যাচ্ছিনা৷”
মীর দাঁতে দাঁত পিষলো। জোর কদমে এগিয়ে এলো আনাবিয়ার দিকে। আনাবিয়া ভয় পেয়ে পালাতে চাইলো তৎক্ষনাৎ, কিন্তু তার আগেই মীর দুহাতে শক্ত করে ধরে টেনে নিলো ওকে নিজের দিকে, পরমুহূর্তেই উঠিয়ে নিলো কোলে। তারপর ভারী পায়ে বেরিয়ে গেলো রেস্টুরেন্ট থেকে। আনাবিয়ার হাজার আঘাত, ছটফটানি, ছাড়া পাওয়ার কসরত একচুল টলাতে পারলোনা তাকে!

বাদশাহ নামা তৃতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৬৯