বিকেলের প্রণয় পর্ব ৫১
Arshi Ayat
ঠিক দু’দিন পর বিকেলে খুব সাবধানতার সাথে অনুরুপ মন্ত্রী’র সাথে দেখা করলো।যে প্ল্যান’টা ওর মাথায় চলছে সেটা মতিউর সাহেবকে ভালোভাবে বুঝিয়ে দিলো।অনুরুপের পরিকল্পনাটা ভীষণ ভালো লাগলো মতিউর সাহেবের।পরোক্ষভাবে যতটা প্রয়োজন সব সাহায্য করতে তিনি রাজি আছেন।অনুরূপ এটাই চেয়েছিলো এবং পরিকল্পনাটাও করেছিলো সেই অনুযায়ী।
অনুরূপের জন্য অপেক্ষা করতে করতে একসময় ঘুমিয়ে পড়লো মিলাত কিন্তু হঠাৎ পেটে পরিচিত স্পর্শ পেতেই ঘুম ভেঙে গেলো ওর,অনুভব করতে লাগলো একজোড়া ঠোঁটের পুরো পেট জুড়ে চষে বেড়ানো।মিলাতের কাতুকুতু লাগছিলো কিন্তু তবুও চুপচাপ শুয়ে ছিলো।অনুরুপ কিছুক্ষণ আপনমনে নিজের অস্তিত্বটা অনুভব করলো তারপর উঠে যেতে নিলেই মিলাত ওর হাত টেনে ধরে অভিমান ভরা স্বরে বলল,’মানুষ ঠিকই বলে বাচ্চা হলে ভালোবাসা কমে যায়।এতক্ষণ তো খুব আদর করা হচ্ছিলো বাবুকে।বাবুর মায়ের বেলায় কিচ্ছু নেই।’
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
কথাগুলো বলেই মিলাত অনুরুপের হাত ছেড়ে দিয়ে গাল ফুলিয়ে অন্যদিকে ঘুরে শুয়ে থাকলো।
অনুরূপ বুঝতে পেরেছিলো মিলাত জেগে গেছে তবুও ঘুমের ভান ধরে পড়েছিলো তাই জ্বালানোর জন্য এমনটা করেছিলো।মাঝেমধ্যে অভিমানী বউটা যখন অভিমানে,অনুরাগে গাল ফুলিয়ে বসে থাকে অনুরুপের কি যে ভালো লাগে!তখন আরও বেশিক্ষণ বুকে নিয়ে বসে থাকতে ইচ্ছে করে।
মিলাত ভেবেছিলো অনুরুপ এক্ষুনি ওকে জড়িয়ে ধরবে কিন্তু কোনো কথা না বলেই অনুরুপ যখন ওয়াশরুমে চলে গেলো তখন কান্নাই পেয়ে গেলো মিলাতের।ও ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।এদিকে অনুরুপ ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এমন অবস্থা দেখে দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো বউকে।মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে অপরাধী স্বরে বলতে লাগলো,’স্যরি,বউ।আমি ভেবেছিলাম ফ্রেশ হয়েই তোমার কাছে চলে আসব কারণ তোমাকে জড়িয়ে ধরলে আর ছাড়তে ইচ্ছে করে না।আ’ম স্যরি সোনা!কাঁদে না প্লিজ!’
মিলাতের কান্না থামলো তবুও অনুরুপের বুকের মধ্যে বিড়াল বাচ্চার মত গুটিশুটি মেরে শুয়ে থাকলো।
মিলাতের ঘুম চলে আসলে অনুরুপ ওকে সোজা করে বালিশে শুইয়ে দিলো।ফুলোফুলো মুখশ্রীতে তাকিয়ে আলতো হাসলো!কি মিষ্টি লাগছে বউটাকে!মুগ্ধ স্বামী তার রূপবতী বউয়ের কপালে আলগোছে চুমু খেয়ে বলল,’আর মাত্র কিছুদিন তারপরই তোমার ভয় শেষ করে দেব আমি চিরতরে।’
পরেরদিন মিলাতকে ডাক্তার দেখানোর তারিখ।গাইনি বিশেষজ্ঞ সুলতানা কামাল মিলাতের চেক-আপ করবেন।তিনি অনুরুপের সিনিয়র কলিগ।
সকালে নাস্তার টেবিলে কথা হচ্ছিলো কে মিলাতকে নিয়ে যাবে।অনুরুপের আজ ভীষণ ব্যস্ত শিডিউল আর ডাক্তার সুলতানা কামাল আসবেন সন্ধ্যায়।আমিনুল সাহেব একটা জরুরি দরকারে চট্টগ্রাম গেছেন।কলি বেগমও একটু অসুস্থ তাই মিলাত বলল,’এইখান থেকে এইটুকু জায়গা একাই যেতে পারব আমি।’
অনুরুপের কপালে চিন্তার ছাপ স্পষ্ট হলো।ও গাঢ় গলায় বলল,’না,,না একদমই না।একা এখন বের হওয়া যাবে না।’
তারপর দু’মিনিট চুপ থেকে কাজের মেয়ে লিপিকে ডাকলো।লিপি আসতেই অনুরুপ বলল,’আজ সন্ধ্যায় তোমার ভাবীর সাথে হাসপাতাল আসতে পারবে?’
‘জ্বে, ভাইজান।’
‘ঠিকাছে,যাও।’
লিপি যাওয়ার পর অনুরুপ বলল,’সন্ধ্যায় ওকে নিয়ে চলে এসো।’
মিলাত অনুরুপের এত চিন্তা দেখে কপাল কুঁচকে বলল,’আপনিও না!শুধু শুধু চিন্তা করেন।’
অনুরুপ হাসলো কেবল।
নাস্তা শেষ করে হাসপাতালে চলে গেলো অনুরুপ আর মিলাত গেলো ঘরে।রান্নাঘর থেকে উঁকি দিয়ে লিপি সম্পূর্ণ ঘরটা দেখে নিয়ে নিজের ফোনটা হাতে নিয়ে ফোন করলো চৈতিকে।ও রিসিভ করতেই বলল,’আইজ সইন্ধ্যায়।’
‘ওকে।’
চৈতি ফোন রেখে দিলো।লিপি মেয়েটাকে হাত করা এত সহজ ছিলো না।অতঃপর ওর মা’কে জিম্মি করে ওকে হাতের মুঠোয় আনতে হয়েছে।
চৈতি সবরকম প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে।আজই মিলাতের আর ওর বাচ্চার পৃথিবীতে শেষ দিন।
তারপর রেভানকে নিয়ে পাড়ি দেবে দূরে কোথাও,ভালোবাসার দেশে!
এসব ভেবেই চৈতি সারা ঘর কাঁপিয়ে হেসে উঠলো।
আজ সকালে ঘুম থেকে হঠাৎ করেই নুহা রেভানকে প্রশ্ন করলো,’চৈতি নামের কাউকে চেনেন?’
রেভান সচেতন হয়ে উঠলো।তীক্ষ্ণ স্বরে প্রশ্ন করলো,’এই নাম কোথায় শুনেছো?’
‘আগে আপনি বলুন চেনেন কি না!’
‘চিনি।’
‘কি হয় আপনার?’
‘কিছু না।’
‘কিন্তু আমি তো প্রমাণ পেয়েছি আপনি চৈতিকে বিয়ে করেছেন।ও আপনার স্ত্রী।’
‘ছিঃ’রেভানের মুখ থেকে আপনাআপনিই বেরিয়ে গেলো কথাটা।
‘কি হয়েছে আমাকে বলুন।’
‘তোমাকে পরে বলব।’
নুহা জেদ ধরলো,’না এখনি।’
রেভান বিছানা ছাড়তে ছাড়তে বলল,’ট্রাস্ট মি!তুমি ছাড়া আমার দ্বিতীয় কেউ নেই।তুমিই প্রথম,তুমিই শেষ।এইটুকু শিউরিটি দিতে পারি।বাকিটা আমি তোমাকে পরে বলব আমাকে একটু সময় দাও প্লিজ।’
নুহা আর কিছু বলল না।মুখ গোমড়া করে রইলো।
চেক-আপ শেষে ডাক্তার দেখিয়ে আসার সময় মিলাত ড্রাইভারকে বলল,’ড্রাইভার গাড়ি ঘুরিয়ে মতিঝিল নাও।’
লিপি বলল,’মতিজিল ক্যান ভাবী?’
‘মায়ের সাথে দেখা করতে মন চাইছে।’
‘ও,আপনে কি থাকবে আইজকা হেনে?’
‘না,দশমিনিট শুধু বসব।তারপরই চলে আসব।’
‘আইচ্ছা।’
লিপি প্রত্যেকটা আপডেট একে একে দিতে থাকলো চৈতিকে।ও সেই অনুযায়ী প্ল্যান বানিয়ে নিলো।
মিলাত মায়ের বাড়ি গিয়ে মায়ের সাথে দেখা করলো।মিনারা বেগম আর হারুন সাহেব খুব করে বলল আজ থেকে যাওয়ার জন্য কিন্তু মিলাত থাকলো না।বাবা,মায়ের কাছে কিছুক্ষণ বসে আবার যাওয়ার জন্য রওনা হলো।গাড়িতে এসে দেখলো লিপি নেই গাড়িতে।মেয়েটাকে কত করে বলল ওর সাথে আসার জন্য কিন্তু আসলোই না।সে নাকি গাড়িতেই বসবে,এখন এসে দেখে নেই।
বিকেলের প্রণয় পর্ব ৫০
ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করতেই ড্রাইভার বলল লিপির কি এক জরুরি কাজ পড়েছে তাই তাকে যেতে হচ্ছে।ড্রাইভারকে বলেছে যেন তাকে জানায়।মিলাত বিরক্ত হলো কি এমন জরুরি যে এভাবে চলে যেতে হলো!একবার কি বলে যাবার প্রয়োজনবোধ করলো না!
ড্রাইভার আবারও গাড়ি ঘুরালো।এরমধ্যেই মিলাতের কেমন যেনো ঘুম পেয়ে গেলো।ও চাদর গায়ে ভালোভাবে জড়িয়ে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো।
