Home বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১৭

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১৭

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১৭
Muntaha jahan

ভার্সিটি থেকে বেরিয়ে আনমনে হাঁটছে আরাবী। আশেপাশের কোনো কিছুতেই তার খেয়াল নেই। ভাইয়ের চিন্তায় সে ব্যাস্ত। চিন্তা করতে করতে যে চোখে ও পানি টলমল করছে সেদিকে ও কোনো ধ্যান নেই। একমনে সে হাঁটতেই ব্যাস্ত। একটা সময় ছিলো যখন আরাবী এ্যাশের নামটা ও মাথায় আনতো না। সব সময় মা বাবা আর ইহানকে নিয়ে পড়ে থাকতো। কিন্তু যখন এ্যাশ প্রতিদিন নিয়ম করে তাকে ফোন দিতো। মাস শেষেই এটা সেটা গিফট পাঠাতো। তার সকল আবদার পূরণ করতো। তখন থেকেই এ্যাশের প্রতি টান চলে আসে তার। ভাইকে কখনো সামনাসামনি না দেখার পরও ওকেই সবথেকে বেশি ভালো বাসতে শুরু করে। এ্যাশের কাছে সব আবদার বলতে থাকে। আর এ্যাশ ও তা বিনা বাক্য বায় পূরণ করতো।

এমন কোনো চাওয়া আরাবীর নেই যেটা এ্যাশ পূরন করে নি। বাবার উপর গোপনে অভিমান করে যে এ্যাশ ২৫ বছরে ও বাড়িতে পা রাখে নি। সেই এ্যাশ ও বোনের আবদার রাখতে চলে এসেছে। সেই থেকে আরাবীর মনে এই পৃথিবীতে যদি কেউ থাকে সবথেকে বেশি ভালো বাসে সেটা এ্যাশ। এ্যাশের মতো করে কেউ আর কখনো তাকে ভালো বাসে নি। ভাই কাছে না থেকে ও তার সব আবদার পূরণ করেছে ইহান ও করেছে তবে এ্যাশের মতো না। আরাবী যে এ্যাশকে পেয়ে ইহানের প্রতি দুরত্ব বাড়িয়েছে এটা ইহান কখনো বুঝতে ও পারে নি। পারবেই বা কি করে। ইহান সব সময় তার ডাক্তার পড়ার চাপে থাকতো। এখানে সেখানে যেতে হতো যারজন্য ইহান কখনো তার পরিবারকে সময় দিতে পারে নি। আর আয়ুুশ সে তো সব সময় তিশা আর তার কাজ নিয়েই ব্যাস্ত থাকতো। তাহার কথা আর না বলি,সে তো সব সময় তার পড়াশোনা নিয়েই ব্যাস্ত থাকতো।

এগুলো ভাবতেই ভাবতেই আরাবীর চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়লো। আরাবী তা হাত দিয়ে মুছে ফাহাদকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো। যে ফাহাদকে এতদিন এতো ফোন দিয়েছে কিন্তু পায়নি আজকে সেই ফাহাদকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো আরাবী। চোখ তুলে দেখার ও চেষ্টা করলো না কাকে পাশ কাটালো।
আরাবীর ভার্সিটির পাশে গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো ফাহাদ। এতক্ষণ আরাবীকেই পর্যবেক্ষন করছিলো।আরাবীর চোখ জল দেখে ভাবছে হয়তো ভার্সিটিতে কিছু হয়েছে। কেউ বিরক্ত করেছে তাই কাঁদছে। ভেবেছিলো ফাহাদকে দেখেছে আরাবী তার কাছে এসে দাঁড়াবে কিন্তু আরাবীর চলে যাওয়াতে আশাহত হলো ফাহাদ। একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে ফাহাদ আরাবীর দিকে আগাবে তখনই কেউ তার কাঁধে হাত রাখলো। ফাহাদ পিছনে তাকিয়ে দেখলো আয়ান। ফাহাদ একটু হাসার চেষ্টা করে বললো

–কি রে?কেমন আছিস?
–ভালো নেই বিয়ে করবো আমি।
ফাহাদ একটু ভরকে গেলো।তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো আয়ানের দিকে। আয়ানের মুখে কখনো এমন কথা শুনে নি ফাহাদ তাই একটু চমকিত সে। ফাহাদ আয়ানের কাঁধে চাপড় মেরে বললো
–তো মেয়ে পছন্দ হলে করে নে। প্রবলেম কি?
–মেয়ে রাজি না।মেয়েকে তুলে নিয়ে বিয়ে করবো আমি। রাতে সবকিছু ঠিক করে রাখিস। আজকেই বিয়ে করবো ওই মেয়ে অনেক বাড় বেড়েছে।
কথাটা বলেই হনহনিয়ে আবার চলে গেলো আয়ান। আয়ানের চোখে মুখে রাগের আভাস স্পষ্ট দেখলো ফাহাদ। আয়ান যে কোনো কারনে রেগে আছে এটাও বুঝলো। তবে এখন আয়ানের জন্য মাথা ঘামালো ফাহাদ। চোখ ঘুরিয়ে আরাবীর দিকে তাকালো। আরাবি অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। ফাহাদ গাড়িতে উঠে স্পিডে চালিয়ে সোজা গিয়ে আরাবির পাশে গাড়ি দাঁড় করালো। তখনো ফাহাদকে খেয়াল করেনি আরাবি। আনমনে হাঁটছে সে। ফাহাদ নেমে লাফিয়ে গিয়ে আরাবীর সামনে দাঁড়ালো। এমন আকস্মিক ঘটনায় হকচকিয়ে গেলো আরাবী। বুকে হাত দিয়ে পিছনে সরে গেলো। নাক মুখ কুঁচকে রাগি গলায় বললো

–কি সমস্যা? এমন কে…
আর কিছু বলার আগেই ফাহাদকে দেখে থেমে গেলো আরাবী। ফাহাদকে এখানে দেখে অবাক হলো প্রচন্ড। পর মুহুর্তে আবার খুশি ও হলো। ফাহাদের দিকে একটু এগিয়ে এসে বললো
–ভাইয়ার খোঁজ পাননি?কোথায় ভাইয়া?আর আপনিই বা কই হারিয়ে গিয়েছিলেন?কতো ফোন দিয়েছি আমি জানেন?কিন্তু আপনাকে একবার ও ফোনে পাই নি।
লাস্টের কথা গুলো উদাস গলায় বললো আরাবী। ফাহাদ আরাবীর চোখের দিকে তাকিয়ে। আরাবীর সব কথাই সে মনোযোগ দিয়ে শুনলো। ফাহাদ একটু ঝুঁকে গেলো আরাবীর দিকে, মুখের উপর পড়ে থাকা চুল গুলোতে ফু দিয়ে বললো
–আপনার ভাই ঠিক আছে। বাকিসব নাহয় পড়ে বলবো। এখন চলুন আমার সাথে। যাবেন?
–কোথায়?
–বলতে হবে?আমাকে বিশ্বাস করেন না?
–না না তেমন কিছু না,দেরী হলে বাবা চিন্তা করবে তাই আরকি।
–বেশি সময় লাগবে না।এই পাশেই যাবো। আপনাকে নিয়ে ঘুরবো একটু। চলুন?
–ঠিক আছে চলুন।

সোফায় উপর হাত পা ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছে তাহা। রাগে নাক ফুলাচ্ছে বারবার আর এদিক সেদিক তাকাচ্ছে। প্রচন্ড রাগ হচ্ছে যে কারণে কিছু ভাঙতে মন চাচ্ছে মনমত একটা জিনিস ই সে এদিক সেদিক তাকিয়ে খুঁজছে।খেয়াল করলো এখানের সবকিছুই অনেক দামী।যেকোনো কিছু ভাঙলেই লোকটার কলিজায় ছ্যাত করে উঠবে সিওর।কিন্তু এটা তার বাড়ি কি না এটা জানে না তাহা। যদি না হয়ে থাকে তাহলে ভাঙলে তো আর তার কলিজায় লাগবে না।তাহলে ভেঙে মজা লাগবে নাকি?আশ্চর্য। এই লোকটা তাকে এখানে বসিয়ে কই গেলো? জিনিস ভাঙার কথা ভুলে গলা ফাটিয়ে এ্যাশকে ডাকলো তাহা

–ব্রাশশশশশশশ?কই আপনিনিনিনিনিইইইিিিিি? তাড়াতাড়ি নিচে আসুন।
তাহার চিৎকার হয়তো ঢাকা থেকে সিলেট অব্দি গেছে কিন্তু এ্যাশের কান অব্দি না।তাহার এতো বড় গলার চিৎকারে ও এ্যাশ উপর থেকে বের হলো না। সেই কখন তাকে ভার্সিটি দেখে তুলে নিয়ে এসে যে উপরে গেছে আর নামার নাম গন্ধ নেই। তাহার রাগের মাএা বেড়ে গেলো। জিনিস ভাঙার পরিকল্পনাটা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো। এদিক ওদিক তাকাতেই সোফার পাশে অনেক বড় একটা ফুলদানি চোখ পড়লো। আর কিছু না ভেবেই তাহা সেদিকে এগিয়ে গেলো। ফুলদানি টা তুলে দিলো এক আচার।মুহুর্তেই ঝঙ্কার তুলে শব্দ করলো সেটা।কিন্তু আফসোস এখনো এ্যাশ বের হলো না। তাহা একবার উপরে তাকিয়ে আরো কিছু ভেঙে একটু ঠান্ডা হলেো। কিচেনে গিয়ে ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি বের করে খেলো। জলের বোতলের পাশে আরো কিছু জুসের বোতল দেখলো তাহা।কিন্তু বোকা তাহা বুঝলো না এগুলো জুস না ম**দ না বুঝেই একটা বোতল হাতে তুলে নিলো। একটু খেয়ে দেখো টেস্ট কেমন।টেস্ট ভালো পেতেই টগটগ করে এক বোতল ম**দ গিলে ফেললো তাহা। বোতলটা জুড়ে বাড়ি দিয়ে কেবিনেটর উপর রেখে মাথায় হাত দিলো। কেমন ঘুরছে মাথাটা। তাহা টলমল পায়ে আবার ও সোফার কাছে আসলো। তখনো এ্যাশকে না দেখতে পেয়ে আবার চিৎকার করলো

–জামাইইইইই?কই তুমি? তাড়াতাড়ি নিচে আসো বলছি।
এ্যাশকে তখনো আসতে না দেখে এবার নিজেই উপড়ে উঠতে গেলো তাহা। অর্ধেক সিঁড়ি উঠতেই থেমে গেলো। সিঁড়ির মধ্যে কারো ফর্সা পা দেখেই থেমেছে তাহা।সেই পা থেকে একটু একটু করে উপরে তাকাতেই এ্যাশের বিরক্ত মাখা চেহেরাটা সামনে এলো। দুই হাত পকেটে গুঁজে বিরক্ত নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এ্যাশ।
–কি সমস্যা এমন চিৎকার কেনো করছো? আর এই ড্রয়িং রুমের এমন অবস্থা কেনো করেছো?
দুই হাত কোমড়ে রেখে তাহা বললো
–দেখুন আপনি আমাকে বকবেন না একদম। আমাকে এখানে কেনো তুলে এনেছেন?আমি বাড়ি যাবো। আর এই এতো বড় বাড়িটা কি আপনার?
দুই হাত দুইদিকে মেলে বাড়ি দেখাতে গিয়ে সিঁড়ি থেকে বেলেন্স হাঁড়িয়ে পড়ে যেতে নিলেই তাহার কোমড় জরিয়ে ধরলো এ্যাশ। ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বললো

–কি করছো? এক্ষুনি তো পড়ে যেতে,,,এই কি খেয়েছো তুমি? মুখে এটা কিসের গন্ধ?
তাহার ঠোঁটের কাছে নাক নিয়ে গন্ধ শুকতেই চমকালো এ্যাশ।তড়িতে তাকালো তাহার মুখের দিকে। তাহা এ্যাশের চুল গুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করছে। ঠোঁট বাচ্চামীর একটা হাসি। তাহাকে এই প্রথম হয়তো হাসতে দেখলো এ্যাশ।ভালো লাগলো হাসিটা। তাকিয়েই রইলো একমনে। এ্যাশ খেয়াল করলো তাহা একটু কালো হয়ে গিয়েছে,মুখে ব্রনের দাগ ও আছে সাথে। ঠোঁটটাও কেমন ফেকাসে। দেখেই মনে হচ্ছে অনেকদিন যত্ন নেয় না নিজের।
তাহার ঠোঁটের চারপাশে পানি লেগে ছিলো এ্যাশ সেগুলো হাত দিয়ে মুছে দিয়ে তাহাকে নিয়ে উপরে চলে গেলো। নিজের রুমে নিয়ে এসে তাহাকে বসিয়ে উঠতে নিতেই আবার ও এ্যাশের চুল কামচে ধরলো তাহা। সেগুলোতে হাত বুলাতে বুলাতে বললো
–আপনার চুল গুলো অনেক সুন্দর। আমার অনেক দিনের ইচ্ছেছিলো আপনার চুলে হাত বুলাবো।
এ্যাশ আর নড়লো না তাহার পায়ের কাছে হাটু ভেঙে বসলো। তাহার মুখের দিকে তাকিয়ে বললো
–ম**দ কেনো খেয়েছো আরু?এগুলো খাওয়া ঠিক না।
–আমি ম**দ খাইনি তো। জুস আর পানি খেয়েছি।
–আচ্ছা?
–হুম।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে তাহা এ্যাশের চুল ছেড়ে এ্যাশের মুখের উপর ঝুঁকে গেলো। এ্যাশের চোখের দিকে তাকিয়ে বললো

–আপনি অনেক সুন্দর মাফিয়া সাহেব।
এ্যাশ একমনে তাকিয়ে রইলো তাহার। তাহার মতিগতি ভালো লাগছে না তার কাছে। কেমন এগিয়ে আসছে তার দিকে। এ্যাশ সরে যেতে নিলো কিন্তু পারলো না। তাহা এ্যাশেকে টেনে বিছানায় বসালো। এ্যাশের গলা জড়িয়ে ধরে বিছানায় দপ করে শুয়ে গেলো। তাহার দুই পাশে হাত দিয়ে নিজেকে সামলালো এ্যাশ নয়তো তাহার উপর পড়তো। তাহা খিলখিল করে হাসছে আর এ্যাশের গলা জড়িয়েই এ্যাশের চুল গুলো নিয়ে খেলছে। কখনো শূন্য বানাচ্ছে কখনো লাভ।আবার কখনো ভিন্ন কিছু। সেগুলো নিয়ে খেলা করতে করতেই তাহা অন্য রকম গলায় বললো
–আমি আপনাকে অন্নেক ভালোবাসি মাফিয়া সাহেব।সেই দুই বছর আগ থেকে।
–তাই? তাহলে আমার কাছ থেকে দূরে দূরে কেনো থাকো?আমার তো মনে হয় না তুমি আমাকে ভালোবাসো।
–না বাসি তো অনেক ভালোবাসি।জানেন আমি কতো চিন্তা করেছি আপনার জন্য?কিন্তু কাউকে কিছু বলতে পারি নি।আমি তো কারো সাথে কিছু শেয়ার করতে পারি নাহ।

কথা গুলো বলে এ্যাশের ডান গালে নিজের ঠোঁট বসিয়ে দিলো তাহা। এ্যাশ শান্ত চোখ শুধু তাহার দিকে তাকিয়ে ভাবলো এই মেয়ে যদি সজ্ঞানে থাকতো তাহলে এখন কি করতো?এভাবে এ্যাশের সাথে শুয়ে থাকতো?এ্যাশকে চুমু দিতো? জ্ঞান আসলে যদি এই তাহার সব কথা আর এই চুমু কথাটা বলে তাহলে এ বিশ্বাস করবে?জীবনে ও না। ঠোঁট কামড়ে হাসলো এ্যাশ। মাথা তুলে দেয়ালে লাগানো ক্যামেরার দিকে তাকালো।এ্যাশের রুমে ক্যামেরা লাগানো আছে। এ্যাশ মনে মনে ভাবলো এই মেয়ে শিকার না করলে এই ভিডিও ক্লিপ গুলো দেখাবে।
তাহার শরীল অনেক ক্লান্ত ছিলো বিদায় বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই ঘুমের দেশে পাড়ি দিয়ে দিলো । এ্যাশ নিজেকে ছাড়িয়ে ফোন নিয়ে নাম্বার ডায়াল করলো বাড়ির দারোয়ানের। রেস্টুরেন্টে থেকে আবার আনতে বলে নিচে গেলো সবকিছু পরিষ্কার করতে।

বাড়ির বাহিরে গার্ড রাখলে ও ভিতরে কাউকে আসতে দেয় না এ্যাশ। এই বাড়ির ভিতরে শুধু এ্যাশ,নিল,ফাহাদ,কেনায়া,আর আয়ান আসতে পারে। বর্ডিগাড দের জন্য বাড়ির ভিতরে প্রবেশ নিষেধ। বাংলাদেশে আসলে হোটেলে থাকতে হয়।তারজন্য এ্যাশ এখানে ছোট করে দুই তালা বিশিষ্ট একটা বাড়ি গড়েছে এ্যাশ বছর খানিক আগে। সবাই মিলে একসাথে আসলে এখানেই থাকে ওরা।
এ্যাশ সবকিছু ঠিক করে উপরে গেলো। তাহা গভীর ঘুমে। এ্যাশ তাহার কাছে গিয়ে কপালের উপরের পড়ে থাকা চুল গুলো কানের পিছনে গুঁজে দিয়ে ছোট্ট করে চুমু খেলো। তারপর ল্যাপটপ নিয়ে কাজে বসলো সোফায়।

বিকাল ৪ টা
আরাবিকে নিয়ে আরাবির বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ফাহাদ। এতক্ষণ ঘুরাঘুরি করে আরাবিকে এখন বাড়ি দিয়ে যেতে এসেছে। প্রায় অনেক্ক্ষণ দাঁড়িয়ে আছে এখানে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আরাবির ঘাড় ত্যাড়ামি দেখছে। ঘুরাঘুরি শেষে বাড়ি নিয়ে আসতেই এ্যাশের কাছে যাবে বলে বেঁকে বসে আরাবী। এ্যাশের সাথে দেখা না করে কথা না বলে বাড়ি যাবে না শপথ করে দাঁড়িয়েছে। ফাহাদের সাথে তর্ক বির্তক শেষ। এখন শুধু ঘাড় ত্যাড়ামি করে দাঁড়িয়ে থাকার পালা। ফাহাদ একমনে আরাবির দিকে তাকিয়ে আছে। বিরক্ত হচ্ছে না একদম। বরং এর জেদ দেখতে ভালোই লাগছে তার। ফাহাদ ফোন বের করে কল করলো এ্যাশকে,এ্যাশ মনোযোগ দিয়ে কাজ করছিলো ফোনের শব্দ স্কিনের দিকে তাকালো। বড় বড় অক্ষরে ফাহাদ নাম দেখেই কলটা রিসিভ করলো।

–হ্যালো?
–বোনের সাথে কথা বলো।ঘাড় ত্যাড়ামি করে দাঁড়িয়ে আছে তোমার বোন।
আরাবির দিকে ফোনটা এগিয়ে দিতেই ছো মেরে ফোনটা নিলো আরাবী। কানে দিয়ে কান্না ভেজা কন্ঠে বললো
–আমাকে তুই আর ভালো বাসিস না তাই না?৮ দিনে একবার ও তো খুঁজ নিলি না।
এ্যাশ হাসলো বোনের কথায় । সময় নিয়ে বোনের সাথে কথা বললো, অভিমান ভাঙালো। তারপর বাসায় যেতে বলে ফোনটা কেটে দিলো। তাহা নড়াচড়া করছে নিশ্চিত কথা বলায় এমন করছে তাই এ্যাশ কলটা কেটে দিলো। ফোনটা রেখে এগিয়ে গেলো তাহার দিকে।
আরাবি ফোনটা ফাহাদের কাছে দিলো। ফাহাদ আরাবির দিকেই তাকিয়ে ছিলো। ভাইয়ের সাথে কথা বলতে বলতে কান্না করে দিয়েছে আরাবী। ফাহাদ ফোনটা নিয়ে আরাবির চোখটা মুছে দিলো। আরাবি তাকালো ফাহাদের দিকে। এই লোকটা ভিষণ যত্নশীল এটা বুঝে গেছে আরাবি।আজকে ঘুরাঘুরি সময় ওর পিছনে পিছনেই ছিলো।ব্যাথা পাবে ব্যাথা পাবে চিল্লিয়েছে। অনেক দিন পর ঘুরতে পেরে বাচ্চামী শুরু করেছিলো আরাবি।সারাক্ষণ শুধু দৌড়েছে আর ফাহাদ ওর পিছনে পিছনে বর্ডিগাডের মতো ঘুরেছে।
আরাবিকে নিজের দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে ফাহাদ দুষ্টমি করে বললো

–ম্যাডাম কি প্রেমে পড়লেন?এভাবে তাকিয়ে আছেন?নাকি আমাকে সুন্দর লাগছে?কোনটা?
ফাহাদের এমন কথায় লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিলো আরাবি। প্রশ্নের উওর না দিয়ে বাড়ির দিকে দৌড় দিলো। কিছুদূর গিয়ে আবার ফিরে তাকিয়ে চিৎকার করে বললো
–আপনি পুরুষ সুন্দর,প্রেমে পড়াই যায়।
ঠোঁট কামড়ে হেসে আরাবির দিকে তাকিয়ে রইলো ফাহাদ। আরাবি আবার দৌড় দিয়েছে। বাড়ির ভিতরে যেতেই ফাহাদ গাড়িতে উঠে বসলো,বিড়বিড় করে বললো
–প্রেমে তো তুমি পড়বেই,আজকে তো কেবল শুরু।
#বিষাক্ত_প্রেমের_অনুভূতি তে তোমাকে পড়তেই হবে।

তাহার মাথায় কাছে বসে রইলো এ্যাশ। তাহার মাথায় হাত বুলাতেই তাহা আবার ঘুমে তলিয়েছে সাথে আঁকড়ে ধরেছে এ্যাশের হাত। যে কারণে তাহার পাশ থেকে উঠতে পারলো না এ্যাশ।বসে রইলো তাহার মুখের দিকে তাকিয়ে। হঠাৎ মাথা ব্যাথা উঠতেই নিজের মাথা চেপে ধরলো এ্যাশ। তাহার সাথে এ্যাশের চেহারা ও পরিবর্তন হয়ে গেছে। আগের এ্যাশ আর নেই। ফর্সা এ্যাশ শার্ম বর্ণের হয়েছে মাথার চুল গুলো সব পড়ে যাচ্ছে। স্লিল্কি চুল গুলো এখন কেমম উষ্কখুষ্ক হয়ে গেছে। মুখটাও শুকনো। তবে এ্যাশ এসবে খুব একটা পাওা দেয় না।সুন্দর আজীবন থাকে না।বয়স বাড়ছে কমছে না।এখন সুন্দর্য নষ্ট হবেই। এ্যাশ বোর্ডে হেলান দিয়ে শুয়ে ভাবলো এই এক সপ্তাহে হওয়া কাহিনি গুলোর কথা।
সেদিন হসপিটালে তাহাকে ভর্তি করার পরই কল আসে ঈশানের।জানায় এ্যাশের বাংলাদেশের যে কোম্পানিতে কাজ চলছে সেখানে আগুন লেগেছে। ঈশান সেখানে আটকা পড়েছে। এ্যাশকে তাড়াতাড়ি যেতে বলে। এ্যাশ ও আর সময় ব্যায় না করে তাড়াতাড়ি ছুটে সেদিকে। তবে গিয়ে অবাক হয়।কারণ সেখানে কোনো আগুন নেই। চারপাশ সাভাবিক।তবে কাজের কোনো মানুষ নেই। পুরোটা ফাঁকা। এ্যাশ ঈশানকে ফোন দিবে তখনই পিছন থেকে আঘাত করা হয় তার মাথায়। হঠাৎ আক্রমণে তাল সামলাতে না পেরে মাটিতে পড়ে যায় এ্যাশ। আর সেটারই সুযোগ নেয় সবাই পিছন থেকে প্রায় ১০ জনের মতো ছেলে এ্যাশকে আঁটকে নেয়। টেনে তুলে দাঁড় করায়। এ্যাশ ধস্তাধস্তি করে ও নিজেকে ছাড়াতে পারে না কারণ লোকের সংখ্যা অনেক আর এ্যাশ মাথায় আঘাত পাওয়ায় দুর্ভবল হয়ে পড়েছে। এ্যাশ রাগে হিসহিসিয়ে বলে

–পিছন থেকে আক্রমণ কেনো করেছিস?সাহস নেই? সামনে থেকে আসতে পারলি না?
–তোর সামনে থেকেই তো তোকে আক্রমণ করলাম অথচ তুই বুঝতে ও পারলি না।
পরিচিত কন্ঠে অবাক হলো এ্যাশ। মাথা তুলে সামনে তাকালো। ঈশান রড হাতে দাঁড়িয়ে। পাশেই ঋত্বিক। ঈশানের কাঁধে হাত রেখে দাঁড়িয়ে বাকা হেসে ঋত্বিক এ্যাশের দিকেই তাকিয়ে আছে। এ্যাশ ঈশানকে ঋত্বিকের পাশে দেখে হুঙ্কার দিয়ে বললো
–বিশ্বাসঘাতক বেইমানি করলি আমার সাথে? কলিজা কাঁপলো না আশতিয়াক এ্যাশের সাথে বেইমানি করতে?এর পরিমাণ কতোটা ভয়ংকর হবে এটা তুই জানতি না বেইমান।
–গলা নামিয়ে কথা বল।তোর মতো লোককে ভয় পায় না এই ঈশান।তোকে শেষ করার জন্যই তোর সাথে ছিলাম আমি।আমার বাবাকে তুই আমার চোখের সাথে শেষ করেছিস সেই কথা ভূলে যাবো আমি?
ঈশানের কথায় প্রচন্ড হবাক হলো এ্যাশ। ঈশান এ্যাশের সাথে আছে আজকে ৬ বছর। ৬ বছর আগে এ্যাশ মেরেছিলো ঈশানের বাবাকে। সেদিন বাংলাদেশে এসেছিলো এ্যাশ বিজনেস ডিলের জন্য। ডিল সাহন করে হোটেল ফিরতে রাত হয় অনেক। ফিরার পথে এ্যাশের চোখে পড়ে একজন মধ্য বয়স্ক লোক ঝোপের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসছে পেন্টের বেল ঠিক করতে করতে। লোকটার চোখে মুখে রক্তের ছিটেফোঁটা লেগে ছিলো।আর তার পিছনেই একটা ছেলে একটা কাঁধে বস্তায় করে একটা মেয়েকে নিয়ে ট্রাকে তুলছে। এ্যাশের আর বাকি রয়না কিছু বুঝতে।সে তাড়াতাড়ি নেমে গিয়ে ওই লোক আর ছেলেটার সামনে দাড়ায়।কোনো কিছুর আগাম বার্তা না দিতেই হাতের চিকন রড দিয়ে লোকটাকে পিটাতে শুরু করে সাথে ছেলেটাকে। কিছুক্ষণ মারতেই লোকটা আর ছেলেটা নেতিয়ে পড়ে।এ্যাশ বন্ধুক বের করে লোকটার কপাল বড়াবড় ধরে হুকার দিয়ে বলে

–তোর ঘরে মেয়ে নেই?একটা মেয়ের বয়সী মেয়েকে রে**প কি করে করলি তুই? জা*নো**য়ারের বাচ্চা।
কথা গুলো বলেই শুট করে দেয় এ্যাশ।মুহুর্তেই প্রাণ হারায় লোকটা। ছেলেটাকে মারার আগেই ছেলেটা ব্যাথাতুর কন্ঠে বলে
–আমি বাধ্য হয়ে তার সঙ্গ দেই। আমার কোনো দোষ নেই। আমি এগুলো না করলে বাবা আমায় অনেক মারে।প্লিজ মারবেন না আমায়।
ছেলেটা কথা সেদিন বিশ্বাস করে এ্যাশ।ছেলেটাকে বাচিয়ে রাখে।হসপিটাল ভর্তি করে।সুস্থ করে তুলে নিয়ে আসে নিজের সাথে আমেরিকায়।তারপর থেকেই বানায় নিজের এসিস্ট্যান্ট। বিশ্বাসযোগ্য ডান হাত বানায় তার। অথচ আজকে সেই ছেলেটাই সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতা করলো। এ্যাশ তাচ্ছিল্য হেসে বললো
–ভুল হয়েছিলো সেদিন মাফিয়ার শরীলে দয়া টুকিয়ে অনেক বড় ভুল করেছি।তোকে সেদিনই শেষ করা উচিত ছিলো। একদম ঠিক কাজ করে নি। তবে আজকে দ্বিতীয় বার আর সেই ভুল করবো না শেষ করবো তোকে।
এ্যাশ সবার সাথে আবার ধস্তাধস্তি শুরু করলো। ঈশান একবার ঋত্বিকের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেঁসে উঠলো। তারপর এগিয়ে গিয়ে রড দিয়ে আবার ও একটা বাড়ি বসালো এ্যাশের মাথায়। মুহূর্তেই এ্যাশ মাটিতে লুটিয়ে পরলো।আবার ও সুযোগ লুফলো ঈশান।এ্যাশকে ইচ্ছে মতো মারলো। এ্যাশ নিস্তেজ হতেই থামলো ওরা।এ্যাশ মারা গেছে ভেবে চলে গেলো সেখান থেকে । এ্যাশের চোখ বেয়ে সেদিন না চাইতেও পানি গড়িয়ে পড়লো তাকে এতল ভালো বাসলো বিশ্বাস করলো। সেই ধোঁকা দিলো।

এ্যাশ নিজের চোখ বন্ধ করার আগেই দেখলো আয়ান পাগলের মতো দৌড়ে আসছে।তার মাথায় কাছে বসে পাগলের মতো এ্যাশকে ডাকছে।অথচ এ্যাশ উওর করছে না।ধীরে ধীরে নিজের চোখ বন্ধ করছে।।
তাহা আবার নড়েচড়ে উঠতেই নিজের ভাবনা থেকে বেরিয়ে এলো এ্যাশ।তাহা এবার এ্যাশের বুকে নিজের জায়গা করে নিয়েছে। এ্যাশ চোখের কণায় জমা জল গুলো অতি সাবধানে মুছে ফেললো।তারপর তাহাকে টেনে ঠিক মতো নিজের বুকে মিশালো।ওর মাথায় নিজের গাল ঠেকিয়ে আনমনে বলে উঠলো

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১৬

–আমাকে কেউ কখনো ভালোবাসে নি আরু।তুমি কি আমাকে একটু ভালো বাসবে?আজকের মতই কি সব সনয় আমার কাছে থাকবে?একটু থেকে বিশ্বাস করো কখনো কষ্ট দিবো না তোমায়। কখনো কোনো মেয়েকে বালোবাসি নি।কিভাবে ভালোবাসে সেটা ও জানি না।তবে আমি চেষ্টা করবো।আমার মতো করে তোমাকে ভালো বাসবো। শুধু তুমি আমার হয়ে থেকো।কখনো ছেড়ে যেও না।

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here