বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১৯
Muntaha jahan
নূরের রির্পোট হাতে নিয়ে স্তব্ধ হয়ে বসে আছে ইহান। হাতটা অনবরত কাঁপছে। বিশ্বাস করতে পারছে না সে কিছুই। পাশেই তাহা উশখুশ দৃষ্টিতে ইহানের দিকে তাকিয়ে আছে রির্পোট টা সত্যি কি না জানার জন্য। কিন্তু ইহান কিছুই বলছে না। চুপ করে বসে আছে। তাহা আর ধৈর্য ধরতে পারলো না।ইহানের হাত ঝাঁকিয়ে জিজ্ঞেস করলো–
—“রির্পোট টা কি সত্যি ভাইয়া?বলো না?চুপ করে আছো কেনো?
ইহান রির্পোট থেকে চোখ সরিয়ে তাহার দিকে তাকালো। জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বললো–
—“হ্যাঁ রির্পোট পজিটিভ। নূর পেগন্যান্ট। 🤰
কথাটা শুনা মাএই লাফিয়ে উঠলো তাহা।ইহানের কাছ থেকে দৌড়ে চলে গেলো নূরের কাছে। তখনই হসপিটালে প্রবেশ করলো আয়েশা খান,সাইফা বেগম তিশা,আয়ুশ।সবার মুখেই চিন্তার চাপ। আয়েশা বেগম ইহানের কাছে এসে চিন্তিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করেলেন–
—ইহান বাবা। কি হয়েছে মিষ্টির?সিরিয়াস কিছু?
—“নূর পেগন্যান্ট মা।
কথাটা কানে যেতেই মুখে হাত দিলেন আয়েশা বেগম। খুশিতে চোখে পানি চলে এসেছে। তার ছেলে বাবা হবে,সে দাদী হবে,প্রথম বংশদর আসবে তাদের। কথাটা জেনো বিশ্বাস হলো না,তাই ইহানকে আবার ও প্রশ্ন করলেন–
—“কি বলছিস?সত্যি?সত্যি মিষ্টি পেগন্যান্ট?
ইহান উপর নিচ মাথা নাড়ালো।তারমানে সত্যি। আয়েশা বেগম খুশি হলেন প্রচন্ড,সাথে খুশি হলেন সাইফা বেগম ও,তিশা ভাইকে কংগ্রেস করলো,তারপর তিনজন লাইন বেঁধে চললেন নূরকে দেখতে। শুধু দাঁড়িয়ে রইলো আয়ুশ।তার চোখে মুখে বিষময়। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো ইহানের দিকে। তারপর অবাক কন্ঠে বললো–
—“আমার যতদূর ধারণা ছিলো তুই তাহাকে মনে মনে ভালো বাসতি। তাহলে তুই এতো তাড়াতাড়ি মুভ অন কি করে করলি ইহান?
ইহান করুন চোখে তাকালো আয়ুশের দিকে।এই মূহুর্তে সে এরকম প্রশ্ন আশা করে নি।তাই প্রচন্ড অসহায় লাগছে নিজেকে।
—“নূরের নামে কবুল পরার পরই। সমস্ত নারী আমার জন্য পরনারী হয়েছে। বউ থাকা সত্বেও অন্য কাউকে ভালোবাসা মানে পরিকীয়া।আর ইহান খানের সাথে সেটা কখনোই যায় না।
দীর্ঘ শ্বাস ফেললো আয়ুশ।তারপর পরিস্থিতি ঠিক করতে দুষ্টমী করে বললো
—“তুই বিয়ে করে বাপ হয়ে গেলি। এ্যাশ ও বিয়ে করে নিলো,অথচ দেখ আমি এখনো সিঙ্গেল। ফাটা কপাল আমার।
তখনই বের হলো তিশা।শুনতে পেলো আয়ুশের সব কথা।তিশা ও দুষ্টমী করে বললো
—“মামনিকে কি মেয়ে দেখতে বলবো?আয়য়য়য়য়ুশশশশশ ভাইয়াআআআআ?
তিশার কন্ঠ শুনে তিশার দিকে তাকালো দুজনেই। আয়ুশ মুচকি হেসে বললো
—“মেয়ে দেখা আছে,শুধু তার মুখ থেকে হ্যাঁ এর অপেক্ষায় আছি। একবার হ্যাঁ বলে দিলেই সোজা কাজী অফিস।তারপর বাসরঘর।তারপর পুরো এক মাসের জন্য হানিমুনে। তারপর একেবারে বউকে পেগন্যান্ট করেই ফিরবো।
আয়ুশের কথা শুনে কেশে উঠলো ইহান।বোনের সামনে অসস্তিতে পড়লো। তিশা আয়ুশের কথায় লজ্জা পেলো সামান্য। চোখ গরম করে তাকালো আয়ুশের দিকে।আয়ুশ সেদিকে পাওা দিলো না।ইহানের কাশি শুনে ওর দিকে তাকালো,তারপর খুঁচা মেরে বললো–
—“নিজে বিয়ে করে ৫ মাসের মধ্যে বাবা হয়ে গেলি,আর আমার বিয়ে বাচ্চার কথা শুনতেই তোমার কাশি শুরু হয়ে গেলো?শালা শয়তান।
তাদের হাসি ঠাট্টার মধ্যে নূরের কেবিন থেকে বেরিয়ে আসলো সকলে। আয়েশা বেগম ইহানের দিকে তাকিয়ে হেঁসে হেঁসে বললেন–
—“যা নূরের সাথে দেখা করে আয়।
ইহান মায়ের কথা মতো চলে গেলো নূরের কাছে। আয়েশা বেগম ফোন দিলেন স্বামীকে।তারপর বললেন নূরের মা হওয়ার কথা। খুশি হলেন তিনি ও। নাতী/নাতনী আসবে শুনে তার রাগটা পড়ে গেলো। ফোন রেখে নিহান খান শিপা বেগমকে নিয়ে বের হয়ে গেলেন হাসপাতালের উদ্দেশ্যো।
নূর মুখ ঘুড়িয়ে তাকিয়ে আছে অন্যদিকে।ইহানের সাথে কথা বলবে না ঠিক করেছে।সার্থপর লোক তার সাথে কথা বলে না।দূরে দূরে থাকে,রাগ দেখায় মারে। যারজন্য অভিমান করেছে নূর।আর সেটা কখনো ভাঙবে না সেটা পণ করেছে।এতে যা কিছুই হোক। ইহান নূরের পাশেই দাঁড়িয়ে নূরের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।বউয়ের অভিমানী মুখটা উপভোগ করছে বড্ড। বউ তার এখন অভিমান করতে ও শিখে গেছে। ইহান ঠোঁট কামড়ে হাসলো।তারপর নূরের বেডে বসে নূরকে তুলে নিজের বুকে নিলো।তবুও ও কোনো প্রতিবাদ করলো না নূর।চুপ করে ঘাপটি মেরে বসে রইলো। ইহান নূরের চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো–
—“রাগ করেছো সোনা?
নূর তবুও চুপ করে থাকলো। ইহান আবার ও বললো–
—” অভিমান করেছে অভিমানী?এই অভিমান তার স্বামী কি করে ভাঙাবে শুনি।কি করলে মহারানীর অভিমান ভাঙবে?হু?
—“কোনো কিছু করলেই ভাঙবে না।দূরে যান আমার কাছ থেকে।আমার কাছে কি?হসপিটাল নেই এখন?
—“উহুম।।এখন সময় বউয়ের। বউয়ের আদর খাওয়ার,করার।একটু আদর করো আদর খাই।
—“আমার কাছে আদর নেই।
—“তাহলে আমি করি?
কথা শেষ করেই নূরের কপালে শব্দ করে গাড়ো চুমু খেলো ইহান। তারপর নূরের পেটে চুমু দিয়ে কপালে কপাল ঠেকিয়ে কাঁপা কন্ঠে বললো–
—“বাবা হচ্ছি নূর।এই অনুভূতির সাথে পরিচয় করানোর জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ তোমাকে।
ইহানের কম্পিত স্বর শুনে আর অভিমান রইলো না নূরের। ইহানের মুখটা টেনে তুললো।ইহানের চোখের কণায় স্পষ্ট জল দেখতে পেলো নূর। নূর জাপ্টে ধরলো ইহানকে।ওর বুকে মুখ গুঁজে কান্না ভেজা সুরে বললো–
—“আপনাকে ও ধন্যবাদ আমাকে এতো সুন্দর জীবন দেওয়ার জন্য।
মানুষের জীবনে হাজার জন থাকলে তারা কখনোই একজনের অনুপস্থিতিতে মন খারাপ করে না।তাকে মনে করে না।তেমনই খান বাড়ির কেউ ও এ্যাশকে মনে করে না আর না কেউ তার নাম উচ্চারণ করে। খান বাড়ির কানায় কাণায় এখন আনন্দে ভরপুর। এমন আনন্দ রেখে কেউ আর ওমন এ্যাশের কথা মনে রাখে নাকি? তবে হয়তো একজনের মনে থাকে সে পুরুষটা সব সময়।ছটফট করে তাকে এক পলক দেখার জন্য। তার কন্ঠ শুনার জন্য। তবে সেটা সে প্রকাশ করে না।মনের কথা মনেরই ভিতরই চেপে রাখে।দিন টা ভালো কাটলেও তার রাত কাটে যন্ত্রণায়।প্রতি মুহুর্তে নিজের জীবন নিয়ে হিসেবে কষে।কিন্তু হিসেবে মিলে না।বারবার একটা জায়গায় এসে আঁটকে যায়।এই এলোমেলো জীবন থেকে কবে মুক্তি মিলবে তার?তার জীবন আর আগের মতো হবে না?সুখের মুখ কি সে আর দেখবে না?কেনো তার জীবনে ওমন একটা রাত সেদিন আসলো যার জন্য তার পুরো জীবন নষ্ট হয়ে গেলো?বাঁচার ইচ্ছে মরে গেলো?সংসার করার ইচ্ছে মরে গেলো?তার অনেক শখ ছিলো বউ হওয়ার।কারো আদরের বউ।এ্যাশকে মনে মনে কল্পনা করতে করতে তো গভীর ভাবে ভালোবেসে ফেলেছিলো যেটা এখন আরো ভয়ংকর রুপ দারণ করেছে। এ্যাশের বউ সে।বউ হয়েছে তার কল্পনার পুরুষের। তবে কেনো সে সুখী না?তার কেনো সংসার নেই? আর এ্যাশের মতো কাউকেই কেনো সে ভালো বাসলো?
কথাটা গুলো ভাবতেই ভাবতেই তাহার বুক চিঁড়ে বেরিয়ে এলো দীর্ঘ শ্বাস। চোখে কোণায় জল জমলো।সেগুলো আলতো হাতে মুছে নিলো। হাতে রাখা চায়ের কাপটা টেবিলের উপর রেখে আকাশের দিকে তাকালো। আবার ও তার পরিচিত নিড়ে ফিরে এসেছে সে।খান বাড়ি।সেদিন সকালেই নূরকে নিয়ে খান বাড়ি এসেছে ইহান। মিনাল খান মেনে নিয়েছেন নূরকে।বাড়ির বউয়ের সম্মান দিয়ে নূরকে নিয়ে এসেছেন। অথচ সে ও এই বাড়ির বউ।বড় বউ অথচ তার সেই স্থান নেই। আবার ও একটা দীর্ঘ শ্বাস বের হলো তাহার বুক চিঁড়ে। আকাশ থেকে চোখ নামিয়ে তাকালো বাড়ির গেটের দিকে।যেখানে ডেকোরেশনের লোকেরা সাজাচ্ছে। নূর আর ইহানের বড় করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে আবার। তারজন্য বাড়ি সাজানো হচ্ছে। ৩ দিন পর নূর আর ইহানের বিয়ে। তাই আজকে থেকেই বাড়ি সাজানো হচ্ছে।
—“এই তাহু?কি করিস বারান্দায়? নিচে চল দেখ কি সুন্দর করে সাজানো হচ্ছে।
কথাটা বলতে বলতে বারান্দায় তাহার কাছে আসলো তিশা। তাহার হাত টেনে বললো
—“চলরে বুড়ি।একটু ঘুরে আসি।লম্বা ছুটি নিয়েছি বুঝলি।এই এক সপ্তাহ চুটিয়ে আনন্দ করবো ঘুরবো। চল চল।
—“ভালো লাগছে না তুই যা আপু।
—“মারবো টেনে এক চড়।তুই কি বুড়ি?এমন বুড়িদের মতো গম্ভীর হয়ে কেনো থাকিস? চল নিচে গিয়ে আনন্দ করবি।
—“আপি প্লিজ তুই যা।
–” না নাআআআআআ মানবো না চল।
বলেই তাহার আর কোনো কথা শুনলো না তিশা।তাহার হাত ধরে টেনে নিয়ে নিচে গেলো।
—“কি হয়েছে নূর এমন ছটফট কেনো করছো?
বাহিরে লোকদের সাথে কাজ করছিলো ইহান।ক্লান্ত শরীরে রুমে আসতেই দেখলো নূর সারাঘর ময় পায়চারি করছে।তখনই উক্ত কথাটা বললো ইহান। নূর ঠোঁট উল্টে বললো
—“আমার বিয়ে করতে ভাল্লাগছে না!
নূরের কথায় চোখ ছোট ছোট করে তাকালো ইহান।তারপর বিছানায় শরীল এলিয়ে বললো
—“এতো মুড সুইং তোমার কেমনে হয়?কালকে ও তো বিয়ে বিয়ে বলে লাফাচ্ছিলে।
—“এখন ভাল্লাগছে না। করবো না বিয়ে আমি।
—“আবার একটু পর তোমার মুড চেঞ্জ হয়ে যাবে।
—“একটু আচার এনে দিন।আমার এখন আচার খেতে মন চাচ্ছে।
দীর্ঘ শ্বাস ফেললো একটা ইহান।বিরক্ত হলো না একটু ও।এগুলো এখন তার প্রতিদিনের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।যখন পেগন্যান্ট জেনেছিলো তখন নূর ছিলো ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা আর এখন আরো ১ মাস পেরিয়ে। মাএ ৩ মাসেই মেয়েটা তার অবস্থা নাজেহাল করে দিয়েছে।এতো মুড সুইং হয় এই মেয়ের এখনো তো আরো ৬ মাস বাকি না জানি এই মেয়ে আরো কি কি করায় তাকে দিকে। ইহান ক্লান্ত শরীরেই উঠে আবার বাহিরে গেলো। কিছুক্ষণ পর হাতে আচারের বোমাম নিয়ে আসলো।নূর ততক্ষণে বিছানায় গিয়ে শুয়েছে। ইহান নূরের দিকে আচাচের বোয়াম বাড়িয়ে দিয়ে বললো
—“বেশি খাবে না কিন্তু!
তিশা আর তাহা আসলো একদম নিচে গেটের পাশে সেখানে আগে থেকেই নিল আয়ান দাঁড়িয়ে ছিলো।ডেকোরেশনের লোকদের কাজ বুঝিয়ে দিচ্ছিলো।তিশা আর তাহাকে দেখে নিল বললো
—“ভাবী আসসালামু আলাইকুম? কেমন আছেন?নিচে আসলেন যে?আপনি তো বি আই পি হয়ে গেছেন আপনার দেখা পেতে হলে এখন টিকিট কাটতে হবে।
তাহা কথা বললো না।এই দুজনকে তার আগে থেকেই সহ্য হয় না।তাহাকে কথা বলতে না দেখে নিল ঠোঁট প্রসারিত করে হেঁসে বললো
—“কথা বলাতে ও টিকেট কাটাতে হবে নাকি?
তাহা চোখ ছোট করে তাকালো নিলের দিকে।তারপর অন্য দিকে ঘুরে যেতে যেতে বললো
—“জোর জবরদস্তি করা লোকদের সাথে কথা বলি না আমি।
নিলের হাসি হাসি মুখটা চুপসে গেলো।আয়ান ও শুনছিলে ওদের কথা তাহার কথা কানে যেতেই তার মুখ ও চুপসে গেলো।নিল আয়ান দুজনেই তাকালো দুজনের দিকে। নিল ঠোঁট উল্টে বললো
—“ভাই জামাই বউ দুটোই ডেঞ্জারাস। মুখ থেকে কথা নয় বিষ ঝড়ে।এই তোর টা কি রে?এমন নাকি? দেখ আগেই সাবধান করি এমন মেয়ে কিন্তু বিয়ে করবি না।আমি ২ জল্লাদ ভাবির জল্লাদি সহ্য করতে না পেরে পড়ে অকালে টপকে যাবো।আর আমার অবুঝ বউটা বিধবা হয়ে যাবে।
আয়ান বিরক্তির স্বরে বললো
—“মরে যা কে ধরে রেখেছে? তোর মতো আপদ বিদেয় হলেই শান্তি।
—” বাহ বাহ বউ পেয়ে আমার ভুলে গেলি?এই ছিলো তোর মনে?এক মুহুর্তে সম্পর্ক ছিন্ন করে দিলে?আল্লাহ এই দিন দেখার আগে আমায় তুলে নিতা তুমি।
বিরক্তি নিয়ে আয়ান চলে গেলো অন্য পাশে।আর নিল তার এক পাহাড় দুঃখ শুনাতে কল লাগালো মোহনার নাম্বারে।
আমেরিকা–!!
মিডিয়ার সামনে চেয়ারে পা তুলে আরাম করে বসে আছে এ্যাশ। চারপাশে এতো মিডিয়া এতো পুলিশ তবুও তার কোনো হেলদোল নেই। সে একমনে হাতে রাখা বন্দুক দেখতে ব্যাস্ত। তখনই মিডিয়ার একজন লোক সাহস করে প্রশ্ন করলো
—“আপনার নামের এতোগুলা কথা আসলেই কি সত্যি? আপনি কি সত্যি ই আপনার মামাকে বন্ধী করে রেখেছিলেন?কেনো রেখেছিলেন এর কারণ কি?
আরেকজন বললো
—“আপনার মামা আমাদের আরেকটা কথা বলেছেন আপনার নাকি তার মেয়ে অন্যন্যার সাথে সম্পর্কে আছে।আপনি তাকে বিয়ে করবে বলেও করেননি।কেনো করেননি?
—“আপনি এতো খু\ন করে কি লাভ পান?আপনা..
এভাবের প্রশ্ন করছিলো একজন মেয়ে যে নানান বাহানায় এ্যাশকে স্পর্শ করতে চেষ্টা করছিলো।আর তারমধ্যেই প্রশ্ন করছিলো।কিন্তু কথা শেষ করতে পারলো না।তার আগেই এ্যাশের হাতে থাকা বন্ধুকের গুলি চলে গেলো মেয়েটির মাথায়।আর মেয়েটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে গেলো। এ্যাশ বন্ধকুটা ঘুরাতে ঘুরাতে উঠে দাঁড়ালো। তারপর ভাবলেশহীন ভাবে বললো
—“এখন যে কারণে একে মারলাম তারজন্যই খু\ন করি আমি।মানসিক শান্তি। আশাকরি আপনাদের সব প্রশ্নের উওর আপনারা পেয়ে গেছেন? বাকি গুলোর উওর দিতে বাধ্য নই আমি।
আর হ্যাঁ এমন কোনো পুলিশের সাহস হয়নি আশতিয়াক এ্যাশকে গেপ্তার করার। নেক্সট টাইম এ ধরনের ঢং করলে একদম উপরের টিকেট ধরিয়ে দিবো।
গটগট পায়ে কিছুপথ হেঁটে এ্যাশ আবার পুলিশদের দিকে তাকিয়ে বললো
—“সময় মাএ ৩ দিন।তারমধ্যে আমার কোম্পানি চালু না করলে আমেরিকা শহর ধ্বংস করে দিবো।
বলেই পুলিশদের সামনে দিয়ে হেঁটে বের হয়ে গেলো এ্যাশ।
সকাল হতেই খান বাড়িতে আসতে শুরু করলো কিছুসংখ্যক মেহমান।তাদের মধ্যে দিয়ে আসলো এ্যাশের মামা আর তার মেয়ে অন্যন্যা। এ্যাশের মামা বাংলাদেশে চলে এসেছে এক সপ্তাহ আগে। এতোদিন খান বাড়ির কারো সাথে যোগাযোগ করেননি। আজকে এই প্রথম আসলেন এখানে। এসেই বোনের সামনে মুখ ঘোমড়া করে বললেন
—“তোর বড় ছেলেটাকে মানুষ করতে পারলাম নারে আয়েশা।
আয়েশা বেগম চুপ করে রইলেন। ভাইয়ের হাতে শরবতের
গ্লাস তুলে দিয়ে সোফায় গিয়ে বসতেই মিজান রহমান কিছুটা ক্ষিপ্ত স্বরে বললেন
—“তোর ছেলে নাকি তাহাকে বিয়ে করেছে? দেখ তুই তোর ছেলের সাথে ডির্ভোস করাবি তাহার। আমি চাইনা মেয়েটার জীবন নষ্ট হোক। তোর ওই কুলঙ্গা…
—“আমার বউকে নিয়ে বেশি মাথা না ঘামালে ও আপনার চলবে মামু।কার লেজে পাড়া দিচ্ছেন ভুলে যাবেন না।
এ্যাশের কথা শুনে সকলে তাকালো মেইন দরজার দিকে।এ্যাশ হাতে লাগেজ হাতে দাঁড়িয়ে। অন্যন্যা এ্যাশকে দেখেই দৌড়ে গিয়ে জরিয়ে ধরলো ওকে।
—“উফ অনেকবছর পর তোর দেখা পেলাম।কেমন আছিস?
এ্যাশ অন্যন্যাকে ছাড়িয়ে নিয়ে বললো
—“তোর বাপে ভালো থাকতে দিচ্ছে যে ভালো থাকবো?
কথাটা বলেই অন্যন্যাকে ইগনোর করে ড্রয়িং রুমের মাঝে গেলো এ্যাশ।মিজান রহমানের দিকে তাকিয়ে বললো
—“একবার মারতে ব্যার্থ হয়েছি ভেবে ভাববেন না বারবার ব্যার্থ হবো।আপনার মৃত্যু আমার হাতেই লেখা আছে।
মিজান রহমান ভীতু নেএে তাকিয়ে রইলেন এ্যাশের দিকে।তারপর আশেয়া বেগমের দিকে তাকিয়ে বললেন
—“দেখ তোর ছেলে তোর সামনে আমাকে খু\ন করার হুমকি দিচ্ছে।
বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১৮
—“হুমকি কেন আপনার বোনের সামনে আপনাকে মেরে ফেলতে ও হাত কাঁপবে না আমার।
আর কোনো কথা বললো না এ্যাশ।লাগেজটা হাতে নিয়ে চলে গেলো নিজের জন্য বরাদ্দকৃত রুমে। এ্যাশ যেতেই মিজান রহমান আয়েশা বেগমের খান ভাংতে শুরু করলেন।অন্যন্যা বাবার কাজে বিরক্ত হয়ে চলে নিজের জন্য বরাদ্দকৃত রুমে। রান্নাঘেরর দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলো তাহা এ্যাশের বুকে হঠাৎই অন্যন্যাকে দেখে বুকে ব্যাথা অনুভব হলো।চোখ দিয়ে গড়ানো জল মুছে পা বাড়ালো নিজের রুমে।
—“ভালো তো বাসেন না তাহলে আমার বুকে অন্যকে দেখে কান্না কেনো করছেন ম্যাডাম?
