Home বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ২১

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ২১

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ২১
Muntaha jahan

এ্যাশ আর তাহার এনগেজমেন্ট হবে আজকে।যারজন্য তাহাকে আরেকটু গর্জিয়াস ভাবে সাজালো আরাবী।লেহেঙ্গার সাথে মিল রেখে ২ হাতে মোটা ২ টা বালা পড়ালো।গলায় বড় একটা নেকলেস পড়ালো।কানে লেহেঙ্গার সাথে মিল রেখে সবুজ পাথরের টানা ঝুমকা। নূরকে তখন সাথেই নিয়ে এসেছে আরাবী।ওকে ও আবার সুন্দর করে সাজিয়ে দিলো।নূরের পড়লে হালকা খয়েরী রঙের লেহেঙ্গা। তাহা আর নূরকে একরকম ভাবেই সাজালো আরাবী।শুধু দুজনের লেহেঙ্গা কালার আলাদা হয়েছে। আরাবী আর তিশা পড়েছে হালকা গোলাপি রঙের লেহেঙ্গা। আয়নার নিজেকে আরেকবার দেখলো আরাবী।তারপর তাকালো নূর আর তাহার দিকে।দুজকেই অসম্ভব সুন্দর লাগছে।নূরের গায়ের রং উজ্জ্বল ফর্সা থাকার ধরুন খয়েরী রঙের লেহেঙ্গায় মেয়েটাকে মারাত্মক লাগছে।তার ভাই দেখলে আজকে বউয়ের উপর ক্রাশ খাবে সিওর।কথাটা মনে মনে ভেবেই মুচকি হাসলো আরাবী।তার-পর বিড়বিড় করে “মাশাল্লাহ” বলে তাহা আর নূরকে একসাথে নিয়ে নিচে আসার জন্য রুম থেকে বের হলো!

রুমে বসে পায়চারি করছে অন্যন্যা।ছোট বেলা থেকেই এ্যাশকে ভালোবাসে সে। একটু আগেই মিনাল খানের মুখ থেকে তাহা আর এ্যাশের এনগেজমেন্ট হবে শুনে তার মনে অশান্তি শুরু হয়ে গেছে। সে ভেবেছে তাহার সাথে এ্যাশের ডির্ভোস হয়ে যাবে।তারপর সে এ্যাশকে বিয়ে করবে।কিন্তু এখন এনগেজড এর কথা শুনে তার রাগ লাগছে ভিষণ। সবকিছু ধ্বংস করে দিতে ইচ্ছে হচ্ছে। অন্যন্যা পায়চারি করতে করতে ওয়াশরুমে গেলো।চোখে মুখে পানি দিয়ে আয়নার দিকে তাকালো।আয়না হয়তো তার উপর হাসলো। তাকে জিজ্ঞেস করলো “তোর মধ্যে কি নেই? রুপ গুন সবকিছুই আছে।তাহলে এ্যাশ কেন তোকে পাওা দিলো না?তোর মতো রুপবতী,গুনবতী মেয়ে ছেড়ে কেনো ওই শ্যামলা তাহার প্রেমে মজলো? একজন পুরুষকে নিজের রুপের বশে রাখতে পারলি না?”
রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে গ্লাসে আঘাত করলো অন্যন্যা।যার দুরুন মুহুর্তেই হাত কেটে রক্ত বের হয়ে গেলো। অন্যন্যা সেই রক্তমাখা হাতটা শক্ত করে বেসিন চেপে ধরলো।রাগে চোখ দিয়ে পানি পড়ছে অন্যন্যার।গাল বেয়ে চোখের পানি বেসিনে পড়তেই সেদিকে তাকালো অন্যন্যা। হিসহিসিয়ে বললো,
—“এই বিয়ে আমি কিছুতেই হতে দিবো না।এ্যাশ আমার না হলে অন্য কারো ও হবে না।

এ্যাশকে জোর করে পাঞ্জাবি পড়িয়েছে নিল,আয়ান। তাও কালো।নিল,আয়ান ভেবেছিলো তাহার সাথে মিল রেখে সবুজ পড়াবে কিন্তু এ্যাশের এক কথা—”পাঞ্জাবি পড়লে কালো পড়বো,নয়তো পড়বো না”— ব্যাস এ্যাশের কথা মানেই এটাই শেষ কথা।এই সিদ্ধান্তের আর নড়চড় হবে না।তাই তারা ও আর জোর করে পাঞ্জাবি পড়িয়ে এ্যাশকে নিচে নিয়ে এসেছে কিন্তু বিপদ ঘটেছে আরেক জায়গায়।এ্যাশ পাঞ্জাবি পড়লে জনসম্মুখে নিজের মুখ দেখাতে নারাজ।তার মনে এখানের সবাই তার মুখ দেখলে এখানে আর থাকবে না,তাই সে মাস্ক পড়ে আছে।কিন্তু এতে করে নারাজ নিল আর আয়ান।তারা বারবার এ্যাশের দিকে তাকাচ্ছে মাস্ক খুলার জন্য। আরেকবার আড়চোখে এদিকে ওদিকে তাকিয়ে ফাহাদকে খুঁজছে। ফাহাদই এ্যাশকে রাজি করাতে পারবে মাস্ক খুলাতে। কিন্তু তাদের সেই আশা পূরন হলো না।না ফাহাদকে পেলো আর না এ্যাশ তার মাস্ক খুললো।তাদের ফাহাদকে খুঁজাখুঁজির মধ্যেই হঠাৎই সিঁড়ির দিকে চোখ গেলো নিলের।সেদিকে চোখ রেখেই নিল এ্যাশের কাধ ঝাঁকিয়ে বললো,

—“এ্যাশ দেখ দেখ ভাবী।কি সুন্দর দেখাচ্ছে ভাবিকে। আমিতো ক্রাশ খাইছি রে ভাই।
নিলের দিকে বিরক্ত চোখে তাকিয়ে তারপরই নিলের দৃষ্টি অনুসরণ করে ভ্রু কুঁচকে সিঁড়ির দিকে তাকালো।তাকাতেই এ্যাশের ভ্রুশকানোর ভ্রু শীতল হয়ে গেলো।বিরক্তি মাখা চোখে নেমে এলো মুগ্ধতা। মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসা তাহার দিকে।হঠাৎই এ্যাশের মনে হলো “এই মেয়েটা সুন্দর,ভূবনময়ী সুন্দর এই মেয়েটা” এ্যাশের হাতটা আপনা আপনি চলে গেলো বুকের পা পাশে। আনমনে ঠোঁট দিয়ে বেরিয়ে এলো গুটি কয়েক শব্দ,
—“কখনো কোনো মেয়ের দিকে চোখ তুলে না তাকানো আমি টাও,আজকে একটা মেয়ের থেকে চোখ সরাতে পারছি না।হৃৎস্পন্দন থেমে যাচ্ছে। হৃৎস্পন্দন সাভাবিক করতে এই বুকে এখন এই “হৃদয়হরণীকে” প্রয়োজন। খুব প্রয়োজন।
সিঁড়ির দিয়ে নামাতে গিয়ে তাহার ও চোখ পড়লো এ্যাশের উপর।এ্যাশকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে লাজুক হাসলো তাহা।মাথাটা নুইয়ে ফেললো।একজন পুরুষের চোখের ভাষা একজন নারী খুব সহজেই বুঝতে পারে।এই মুহুর্তে এ্যাশের চোখের ভাষা ও বুঝতো পারলো তাহা।তাই তার লজ্জাটা দিগুন হলো।যার কারণে নুয়ানো মাথা আরেকটু নুইয়ে গেলো।
তাহাকে লজ্জা পেতে দেখে ঠোঁট কামড়ে হাসলো এ্যাশ।তারপর নিল আয়ানকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো সিঁড়ির কাছে।একবারে শেষ সিঁড়িতে এসে থামলে নূর তাহা।পিছনে থামলো।তিশা,আরাবী।তাহা মাথা তুলে এ্যাশের দিকে তাকাতেই এ্যাশ তার হাতটা বাড়িয়ে দিলো।তাহা মুচকি হেঁসে হাত বাড়িয়ে দিলো।এ্যাশ তাহার হাতটা শক্ত করে ধরলো।তারপর তাহার হাত ধরে সিঁড়ি থেকে নামাতে নামাতে মনে মনে বললো,

—“আমার অন্ধকার জীবনে আপনার স্বাগতম মিসেস আরিশা এ্যাশ খান।কথা দিচ্ছি এই যে হাত ধরলাম।এই হাত মৃত্যুর আগ অব্ধি ছাড়বো না।আজীবন আমার মনের রানী করে রাখবো আপনাকে,আপনার জীবনের অন্ধকার কাটিয়ে আলোয় নিয়ে আসবো,নতুন করে পৃথিবী সাজাবো,যেখানে শুধু আমি আপনি আর আমাদের একটা সংসার হবে,সেখানে অতীতের কোনো স্হান নেই।
এ্যাশ তাহাকে নিয়ে নামতেই নূর নামলো।আশেপাশে চোখ ঘুরিয়ে খুঁজলো ইহানকে।কিন্তু পেলো না।আয়েশা বেগম দূরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন।ভেবেছিলেন তাদের কাছে আসবেন,কিন্তু এ্যাশকে দেখে আর এগুলেন না,এখন এ্যাশ সরে যেতেই তিনি নূরের কাছে আসলেন,নূরকে নিয়ে সোফায় বসিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,

—“মিষ্টি তোমার কি কোনো অসুবিধা হচ্ছে?
নূর মাথা নাড়িয়ে না বুঝালো।তারপর তার দিকে তাকিয়ে বললো
—“ডাক্তার সাহেব কেথায় আম্মু? দেখতে পাচ্ছি না যে?বাসায় নেই?
নূরের চোখের কোণায় স্পষ্ট জল দেখতে পেলেন তিনি। মেয়েটার মনোভাব বুঝলেন।আজকাল মেয়েটা ইহানকে ছাড়া একটু সময় ও থাকতে পারে না।কেমন অস্হির হয়ে যায়।কিন্তু এখন ওকে অস্হির হতে দেওয়ায় যাবে না।এমনি অসুস্থ তারউপর এতো সাজগুজ।সবকিছুর ধকল একসঙ্গে কি করে সামলাবে?তাই তিনি নূরের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন,
—“ইহান এখানেই আছে মিষ্টি। কাজ করছে।কাজ শেষ হলেই ও তোর কাছে আসবে।চিন্তা করিস নাহ।
কিন্তু তাতে শান্ত হলো না নূর।তার কেমন জানি অস্হির লাগছে।কেমন মনে হচ্ছে কিছু ঠিক নেই। কিছু সর্বনাশ হয়েছে তার।কিন্তু কি?

আস্তে আস্তে বাড়িতে আরো লোক প্রবেশ করলো।মেহমানে চারপাশ গিজগিজ করছে।এতো লোকের মধ্যে এ্যাশের বর্ডিগাডই পায় ৪০ জন হবে।সবাইকে লুকিয়ে থাকতে বলেছে এ্যাশ।সবার সেফটির জন্য। পরিবার নিয়ে সে কোনো রিস্ক নিবে নাহ। এই মুহুর্তে এ্যাশ দাঁড়িয়ে আছে তার বাবার সামনে।মিনাল খান তখন থেকে পাগল করে দিচ্ছেন এনগেজড শুরু করার জন্য। ইহানের অপেক্ষা না করতে।ইহান আসতে দেরী হবে।কিন্তু এ্যাশ শুনছে না।এ্যাশ ঠায় তার বাবার সামনে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে গেটের দিকে।জেনো অপেক্ষা করছে কারো। মিনাল খান এতক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিলেন,এবার তিনি তিরিক্ষি মেজাজে এ্যাশকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
—“এ্যাশ দেরী হচ্ছে তাহা মা কে আন্টি পড়াও।
এ্যাশ চোখ ঘুরিয়ে তার বাবার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আবার গেটের দিকে তাকালো।তাকাতেই তার ঠোঁটের কোণায় ফুটলো বাঁকা হাসি।যেটা মাস্কের নিচে থাকায় দেখলো না কেউ। এ্যাশ আবার তার বাবার দিকে তাকালো।দুই পা এগিয়ে এসে ফিসফিস করে বললো,

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ২০

—“আপনার জন্য সারপ্রাইজ আছে,সামনে তাকান।
মিনাল খান এ্যাশের কথা বুঝলেন না।ভ্রু কুঁচকে এ্যাশের কথা মতো তাকালেন সামনে।তাতেই তার মুখটায় আতংক ছেয়ে গেলো।তিনি চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলেন সামনে দিয়ে হেঁটে আসা ব্যাক্তির দিকে। এ্যাশ বাবার এমন রিয়াকশন থেকে আরেকটু হাসলো।আকাশের পানে তাকিয়ে বিড়বিড় করলো,
—“সব কষ্ট কি আপনি আমার ভাগ্যেই লিখে ছিলেন?

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ২২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here