Home শেহেজাদার আদর শেহেজাদার আদর পর্ব ৬২

শেহেজাদার আদর পর্ব ৬২

শেহেজাদার আদর পর্ব ৬২
সুমাইয়া ইসলাম নূর

ভোরের প্রথম সোনালি রোদ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়েছে বিশাল চৌধুরী ভিলার প্রতিটি কোণে। শিশিরভেজা ঘাসের ওপর সূর্যের কোমল আলো পড়তেই পুরো বাগানটা যেন ঝলমল করে উঠল। আজ চৌধুরী ভিলার সকালটা অন্য সব দিনের চেয়ে আলাদা। চারদিকে উৎসবের আমেজ, ব্যস্ততা আর আনন্দের উচ্ছ্বাস।
বাগানের মাঝখানে গায়ে হলুদের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশাল এক রাজকীয় স্টেজ। আধুনিক সাজসজ্জার মাঝেও রয়েছে বাঙালিয়ানার মিষ্টি ছোঁয়া। হলুদ আর সাদা গাঁদা ফুলের মালা দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো মঞ্চ। মঞ্চের চারপাশে রঙিন আলপনা আঁকা হয়েছে মেঝেজুড়ে। বাঁশের তৈরি নকশা করা খুঁটির সঙ্গে গাঁদা, বেলি আর রজনীগন্ধার মালা ঝুলছে। ফেয়ারি লাইটের ঝলকানিতে পুরো বাগানটা যেন রূপকথার কোনো রাজ্যের মতো লাগছে।

ইতোমধ্যেই নুসরাত চৌধুরী,ও রেশমা চৌধুরী বাড়ির অতিথিরা চলে এসেছে বাড়ির বাকি সদস্যরাও এসে উপস্থিত হয়েছেন। কেউ অতিথিদের অভ্যর্থনা জানাতে ব্যস্ত, কেউ শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা দেখছেন, আবার কেউ গায়ে হলুদের আয়োজন ঠিকঠাক হচ্ছে কি না তা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন।
বাগানের একপাশে ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা করে হলুদের গোসলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফুল দিয়ে সাজানো দুটি পৃথক স্থান, চারপাশে সাদা পর্দা আর সুগন্ধি ফুলের সৌরভে জায়গাটা আরও মোহনীয় হয়ে উঠেছে।।
এদিকে ইউভি সে এখনো বাড়ির সবার ওপর ভীষণ রেগে আছে, বিশেষ করে নুসরাত চৌধুরীর ওপর। মাঝরাতে তার বউকে তার রুম থেকে নিয়ে গেছেন, আবার শর্তও জুড়ে দিয়েছেন—
এই দুই রাত তাদের আলাদা থাকতে হবে!

কথাটা মনে পড়তেই ইউভির মুখ আরও গম্ভীর হয়ে উঠল।মনে মনে বিড়বিড় করে বলল, মোগের মুল্লুক পেয়েছে নাকি! নিজের বউকে নিজের রুমে রাখতেও এখন অনুমতি লাগে
এদিকে ভিলা থেকে পিয়াসা আর ইনায়াকে নিয়ে আসা হলো বাগানে।দুজনকে পাশাপাশি দেখে উপস্থিত সবাই কয়েক মুহূর্তের জন্য মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল।দুজনের পরনেই একই রকম হলুদ-সোনালি রঙের রাজকীয় পোশাক। একই গয়না, একই ফুলের সাজ, এমনকি চুলের স্টাইলটাও একদম একই।দূর থেকে দেখলে মনে হবে—একই আয়নার দুটি প্রতিবিম্ব।কিন্তু বিষয়টা দেখে ইনায়া বেশ অবাক হয়ে গেল।
সে কয়েকবার নিজের পোশাকের দিকে তাকাল, তারপর পিয়াসার দিকে।ভ্রু কুঁচকে ধীরে ধীরে রিমঝিমের কাছে গিয়ে বলল, ফুপিমণি… ব্যাপারটা কী? আমাকে বেবির মতো একইভাবে সাজানো হয়েছে কেন?রিমঝিম ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি টেনে ইনায়ার দিকে তাকালেন।তারপর খুব নরম গলায় বললেন, কারণ আজ শুধু পিয়াসার গায়ে হলুদ নয়, তোর ও গায়ে হলুদ, নূর
কথাটা শুনে ইনায়া যেন মুহূর্তেই পাথর হয়ে গেল।
চোখ দুটো বিস্ময়ে বড় হয়ে উঠল।

— কী…?তার ঠোঁট কেঁপে উঠল। আমার… গায়ে হলুদ?সে যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না। মনে মনে বললো তাহলে মা কী রাতে আমাদের বিয়ের কথা বলেছিলো।
কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল ইনায়া চারপাশের সব শব্দ যেন তার কানে পৌঁছানো বন্ধ হয়ে গেছে।তারপর কাঁপা কণ্ঠে বলল, কী বলছো ফুপিমণি?রিমঝিম মায়াভরা চোখে তার গালে হাত রেখে মৃদু হেসে বললেন, হ্যাঁ, নূর আজ শুধু পিয়াসার নয়, তোরও গায়ে হলুদের আয়োজন করা হয়েছে।ইনায়ার চোখ মুহূর্তেই ভিজে উঠল।সে অবিশ্বাস নিয়ে একবার চারপাশে তাকাল, তারপর নিজের সাজের দিকে এই জন্যই কি বড় চাচ্চু আমাদের দুজনের জন্য সেম সেম ড্রেস অ্যারেঞ্জ করেছে।তার কণ্ঠে বিস্ময়, আনন্দ আর অবিশ্বাস একসঙ্গে মিশে গেল।সে যেন এখনও বিশ্বাস করতে পারছে না, এই পরিবারের মানুষগুলো তাদের বিষয়টা এতটা গুরুত্ব দিয়েছে।মুহূর্তের মধ্যেই তার বুকটা অদ্ভুত এক ভালো লাগায় ভরে উঠল।
এদিকে রেদোয়ানকে প্রস্তুত করে গার্ডেনে নিয়ে আসা হলো। তার সঙ্গে আছে অর্ক, আদিল, রাজ্য, রেসহব আর আলভি।আজ গাঢ় হলুদ রঙের রাজকীয় পাঞ্জাবিতে রেদোয়ানকে একেবারে রাজপুত্রের মতো লাগছে। মুখে আগের সেই কষ্টের ছাপ থাকলেও চোখের কোণে আজ একটু একটু করে ফিরে এসেছে প্রশান্তি।কিন্তু পুরো গার্ডেনে একজনেরই দেখা নেই—

ইউভি।
রাশেদ মির্জা চারপাশে একবার তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন, এই ছেলেটা আবার কোথায় গেল?
বলে তিনি সোজা ইউভির রুমের দিকে চলে গেলেন।রুমে ঢুকতেই দেখলেন, মহাশয় এখনো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। বিছানার ওপর একেবারে এলোমেলো হয়ে ঘুমিয়ে আছে।রাশেদ মির্জা এগিয়ে গিয়ে বললেন, ইউভি! ওঠো বাবা।ইউভি বিরক্ত হয়ে চোখ না খুলেই বলল, মাত্রই তো ঘুমালাম, ফুপা…
রাশেদ মির্জা গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, কেন রে? রাতে কী করছিলি?
ইউভি এবার চোখ মেলে একদম নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলল, বউকে ছাড়া ঘুম আসছিল না। তাই… বসে ছিলাম।কথাটা শুনেই রাশেদ মির্জা উচ্চস্বরে হেসে উঠলেন। এই যে, বেটা! আমি তোর ফুপা! এসব কথা আমাকে বলতে হয়?তারপর আবার বললেন,

ওঠ, দ্রুত রেডি হতে হবে। আজ কিন্তু তোরও গায়ে হলুদ।ইউভি হঠাৎ উঠে বসে বিস্মিত গলায় বলল,
কী বললেন, ফুপা? আমারও গায়ে হলুদ?তখন রাশেদ মির্জা তাকে পুরো বিষয়টা খুলে বললেন।
সব কথা শুনে ইউভির ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটে উঠল।মনে মনে বলল, বাবা… তুমিও না!
এরপর রাশেদ মির্জা নিজ হাতে ইউভিকে প্রস্তুত করে নিচে নিয়ে এলেন।আজ দুই ভাইয়ের গায়ে হলুদ।এদিকে একে একে পুরো চৌধুরী পরিবার, আত্মীয়-স্বজন আর প্রতিবেশীরা গার্ডেনে এসে উপস্থিত হলেন।চারদিকে হাসি, গল্প, কোলাহলে মুখর পুরো পরিবেশ।কিন্তু ইউভির চোখ যেন কাউকে খুঁজছে।তার দৃষ্টি বারবার চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে।সে শুধু তার বউকে খুঁজছে।ঠিক তখনই পাশে এসে দাঁড়ালেন লিখন চৌধুরী।মুচকি হেসে বললেন,কী রে? কাকে খুঁজছিস? হবু বউকে?
ইউভি কোনো দ্বিধা না করেই উত্তর দিল,
সে আমার বিয়ে করা বউ। হবু বউ বলছ কেন?
কথাটা শুনে লিখন চৌধুরী কাশি দিয়ে বললেন,

আজ গায়ে হলুদ। বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত তুমি আমার মেয়েটার থেকে একটু দূরে থাকো। নিজেকে একটু সংযত করো।ইউভি অবিশ্বাসের চোখে বাবার দিকে তাকিয়ে বলল, লাইক… সিরিয়াসলি? তুমি আমার বাবা তো?লিখন চৌধুরী কোনো উত্তর না দিয়ে রাতিব চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বললেন,
— আসছি, বেয়াই।বলে দ্রুত সেখান থেকে চলে গেলেন।আর ঠিক তখনই ইউভির চোখ গিয়ে থামল এক হলুদ পরির ওপর।গাঢ় হলুদ রঙের রাজকীয় লেহেঙ্গা পরা মেয়েটা যেন সকালের রোদকে হার মানিয়েছে। খোলা চুলগুলো হালকা কার্ল করা, কোমর ছুঁয়ে নেমে এসেছে। কপালে ছোট্ট টিপ, কানে ঝুমকা, হাতে ফুলের গয়না।মনে হচ্ছে, হলুদের সাজে কোনো আকাশের পরী নেমে এসেছে।ইউভি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।
তার ঠোঁটের কোণে অজান্তেই হাসি ফুটে উঠল।
মনে মনে বলল, আমার বউ… আমার বেয়াদব বউ…
এত সুন্দর লাগতে হয় না কাও কে জানো না
কেন বুঝো না?ইশ! কী মারাত্মক সুন্দর লাগছে তোকে, আদর।ঠিক তখনই লিখন চৌধুরী গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন, আজ থেকে পুরো চৌধুরী পরিবার দুই ভাগে বিভক্ত। কনে পক্ষ আর ছেলে পক্ষ।সবাই অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল।

তিনি আবার বললেন, ছেলেরা, কবুল বলার আগে আমাদের মেয়েদের আশেপাশে যেন তোমাদের কাউকে না দেখি!কিন্তু ইউভি কোনো কথার তোয়াক্কা না করে বলল, সরি। আমি পারব না।
সবাই একসঙ্গে তার দিকে তাকাল।ইউভি সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত গলায় বলল, সে আমার একমাত্র বিয়ে করা বউ। তাকে ছাড়া আমি এক মুহূর্তও থাকতে পারব না। তাই আমি এই কথা দিতে পারছি না, লিখন চৌধুরী। আই অ্যাম রিয়েলি সরি।তার কথা শুনে সবাই হেসে উঠল।
লিখন চৌধুরী গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন,
আচ্ছা, ঠিক আছে। যে যার কাজে যাও।এদিকে রাজ্য আড়চোখে তুবার দিকে তাকিয়ে ইশারা করে বলল, তুমি আমার কাছে আসো। তুমি ছেলে পক্ষ।
তুবা ভেংচি কেটে বলল স্বপ্ন দেখো এরপর সোজা মেয়েদের দলে গিয়ে দাঁড়াল।রাজ্য বুকের ওপর হাত রেখে নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল, আহা!
এরপর একে একে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হলো।প্রথমে বড়রা এগিয়ে এলেন।
কাঁসার থালায় সাজানো হলুদ নিয়ে নুসরাত চৌধুরী স্নেহভরে ইউভির গালে হলুদ মাখিয়ে দিলেন। তারপর রেদোয়ানের গালেও।এরপর রেশমা চৌধুরী, —একজন একজন করে সবার গায়ে হলুদ মাখাতে লাগলেন। হাসির শব্দে মুখর হয়ে উঠল পুরো বাগান।তারপর শুরু হলো নাচ, গান, ঠাট্টা আর আনন্দের আসর।

এদিকে পুরো চৌধুরী ভিলা যখন গায়ে হলুদের আনন্দে মুখর, তখন সবার অগোচরেই ভিলা থেকে বেরিয়ে গেল তিয়া।তার মুখে অদ্ভুত এক নীরবতা, চোখে জমে আছে অচেনা এক অন্ধকার।
কিছুক্ষণ পর শহরের কোলাহল পেরিয়ে তার গাড়ি এসে থামল এক নির্জন এলাকায়। জায়গাটা প্রায় জনমানবশূন্য। চারদিকে ভাঙাচোরা গুদামঘর, পুরোনো লোহার গেট আর আধো অন্ধকার।তিয়া ধীরে ধীরে গাড়ি থেকে নেমে সামনে এগিয়ে গেল।
একটি পরিত্যক্ত গুদামঘরের ভেতর থেকে ক্ষীণ আলো বেরিয়ে আসছে।ভেতরে ঢুকতেই কয়েকজন রুক্ষ চেহারার লোক উঠে দাঁড়াল।ঘরের মাঝখানে একটি কাঠের চেয়ারে বসে ছিল মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি। মুখভর্তি দাড়ি, হাতে মোটা সোনার আংটি, চোখে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি।লোকটা ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি টেনে বলল,
এখানে আসার কারণ?তিয়া ধীরে ধীরে সামনে গিয়ে দাঁড়াল।তার চোখে তখন কোনো ভয় নেই, বরং এক অদ্ভুত দৃঢ়তা।সে শান্ত গলায় বলল, তোমাদের একটা কাজ করতে হবে।লোকটা ভ্রু উঁচু করল।
কেমন কাজ?তিয়া কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইল। তারপর ধীরে ধীরে বলল, একজনকে আমার জন্য নিয়ে আসতে হবে।

— কে সে?
তিয়ার ঠোঁটে ধীরে ধীরে শীতল এক হাসি ফুটে উঠল। ইনায়া। ইনায়া নূর চৌধুরী কে নামটা শুনে ঘরে উপস্থিত সবাই একবার একে অপরের দিকে তাকাল।তিয়া ফোন থেকে একটি ছবি বের করে লোকদের দেখালো লোকটা গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
— এই মেয়েটাই কি তোমার টার্গেট?
তিয়া মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।তারপর খুব ধীরে, কিন্তু স্পষ্ট স্বরে বলল, কারণ এ শুধু আমার শত্রু নয়… সে আমার শত্রুর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।তার চোখে দেখা গেলো তখন অদ্ভুত এক ঝলক।
ওই মানুষকে হারাতে চাইলে তার সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটাকেই তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে হবে গুদামঘরের ভেতর কয়েক মুহূর্ত নীরবতা নেমে এল। দিয়া ব্যাগ থেকে একটি কালো পেপারে মোড়ানো কিছু টাকার বান্ডিল লোকটির হাতে তুলে দিল এরপর সে ধীরে ধীরে পেছন ফিরে দরজার দিকে হাঁটতে লাগল।
দরজার কাছে গিয়ে থেমে শুধু বলল,
এখন কিছু করবে না। বিয়ে শেষ হোক… তারপর আমি নিজেই তোমাদের খবর দেব।কথাটা বলে সে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।

নাচে-গানে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো চৌধুরী বাড়ি। গানের তালে তালে হাসি, আনন্দ আর উল্লাসে যেন চারপাশ ভরে গেছে। একে একে সবাই হলুদ ছোঁয়াতে ব্যস্ত। ঠিক তখনই হঠাৎ ইউভি সবার সামনে এক ঝটকায় ইনায়াকে নিজের কাছে টেনে নিল। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিজের গালে লাগানো হলুদ আলতো করে ইনায়ার গালে মেখে দিল। তারপর সামান্য ঝুঁকে তার কপালে একটুখানি চুমু এঁকে ফিসফিস করে বলল,
—”কেউ একজন ঠিক এভাবেই ফুপির বিয়ের আবিরের প্রোগ্রামে আমার মুখে আবির দিয়েছিল। আজ সুদে-আসলে তা ফিরিয়ে দিলাম, বউ।”
ইনায়ার বুকটা কেঁপে উঠল। সে ধীরে ধীরে উভির শেরওয়ানির কলার চেপে ধরে তাকে নিজের আরও কাছে টেনে এনে মৃদু স্বরে বলল,

—”প্রিয় মানুষের মুখে ‘বউ’ ডাক শুনলে মেয়েদের হৃদয় কেঁপে ওঠে। ভালোবাসা তাদের আস্তে-পৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে। সব সময় ‘বউ, বউ’ বলবেন না মিস্টার… আমি যে ভীষণ এলোমেলো হয়ে যাই।”
উভির ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি ফুটে উঠল।
“যাক, আমার কাছে থেকে একটু হলেও আমিষ হয়েছো।
ঠিক তখনই রাজ্য গলা খাঁকারি দিয়ে বলে উঠল,
ব্রো… সবাই কিন্তু দেখছে!ওদের কথা শুনে চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সবাই এমন ভাব করল যেন কেউ কিছুই দেখেনি। কিন্তু প্রত্যেকের মুখেই চাপা হাসি।
ঠিক সেই সময় তুবা আর সাম্মি হাতে হলুদ নিয়ে দৌড়াচ্ছিল। রাজ্য হঠাৎ চিৎকার করে উঠল,
—”ওই পিচ্চি! সাবধানে যাও, পড়ে যাবে তো!”
কথাটা শুনে রাজ্যের মা-বাবা আর টুবার মা-বাবা একসাথে রাজ্যের দিকে তাকালেন। কিন্তু রাজ্যের সেদিকে কোনো খেয়ালই নেই।সে আবার চিৎকার করে বলল,সাবধানে, তুবা! তুবা ভেংচি কেটে বলল,আরেহ! কিছু হবে না। তুমি সব সময় আমাকে নিয়ে বেশি ভাবো। এই বলে আবার দৌড় শুরু করল সে। কিন্তু বিপত্তি ঘটল তখনই। রাজ্যের দিকে তাকাতে গিয়ে হঠাৎ হোঁচট খেয়ে পড়ে যেতে নিল তুবা। ঠিক সময়ে রাজ্য এগিয়ে এসে তাকে ধরে ফেলল।রাজ্য রাগী গলায় বলল,ঘাড়ে রগ একটা ছেরা নাকি? এত ঘাট-তেরো কেন তোমরা মেয়েরা?”

—”আমি আবার কী করলাম?”
—”সব সময় দৌড়াতে হবে?”
—”আপনার সমস্যা কী?”
এক কথায় দুই কথা… শুরু হয়ে গেল রাজ্য আর তুবার মিষ্টি ঝগড়া।এরপর শুরু হলো ছেলেদের আর মেয়েদের নাচের প্রোগ্রাম। ডিজের তালে তালে নাচছে সবাই। ছেলেদের দলে রাজ্য, রেদোয়ান, রিসব, ইউভি, অর্ক, আলভি আর রিদ।
রাজ্য গাইতে শুরু করল—
“লেফটে যদি যেতে বলি যাবে ওরা রাইট,
আমরা যদি সকাল বলি বলবে ওরা নাইট।”
রেদোয়ান সুর মেলাল—
“লেফটে যদি যেতে বলি যাবে ওরা রাইট,
আমরা যদি সকাল বলি বলবে ওরা নাইট।”
ইউভি হাসতে হাসতে বলল—

“করবে শপিং সারাটা দিন, আর কিছু না চাই,
লাইফ ওদের চাপ টা কিসে জানতে আমি চাই!”
তারপর সবাই একসাথে গেয়ে উঠল—
“মেয়েদের মন বোঝা নয় রে নয় সোজা…
ওওও… মেয়েদের মন বোঝা নয় রে নয় সোজা!”
“মেয়েদের মন বোঝা নয় রে নয় সোজা…
এবার মেয়েদের দল এগিয়ে এলো।
পিয়াসা গেয়ে উঠল—
“করলে শুরু শেষ হবে না
ছেলেদের গুণের কাহিনি,
যখন জড়ো হয় একসাথে,
মনে হয় যে বানর বাহিনী!”
ইনায়া হেসে বলল—
“মুখে কথার ফুলঝুরি,
কাজের বেলায় কাঁচকলা।
করবে ক্রিকেটে সেঞ্চুরি,
বড় কঠিন ‘আই লাভ ইউ’ তার বলা!”
টুবা এবার কোমরে হাত দিয়ে বলল—
“বড্ড বোকা, বড্ড খোকা,
মানতে পারে না…
ছেলেদের মন বোঝা হা রে খুব সোজা!”
সবাই একসাথে গেয়ে উঠল—

“ছেলেদের মন বোঝা হা রে খুব সোজা,
“ছেলেদের মন বোঝা হা রে খুব সোজা,
মেয়েদের মন বোঝা নয় রে নয় সোজা!”
মেয়েদের মন বোঝা নয় রে নয় সোজা!”
বড়রা মুগ্ধ হয়ে নিজেদের ছেলে-মেয়েদের দেখছিলেন। তুবার মা-বাবা আর রাজ্যের মা-বাবা একে অপরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে দিলেন। যেন তারা কিছু একটা আন্দাজ করে ফেলেছেন।
এদিকে ভিড়ের মাঝেই রেদোয়ান হাতে সামান্য হলুদ নিয়ে খুব কৌশলে পিয়াসার পেটের কাছে আলতো করে ছুঁইয়ে দিল।হঠাৎ স্পর্শে পিয়াসা চমকে পেছনে তাকাল।রেদোয়ান তখন সানগ্লাসটা একটু নিচে নামিয়ে চোখ টিপে দিল। তারপর কিছুই হয়নি এমন ভাব করে হেঁটে চলে গেল।
বেচারি পিয়াসা হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। কী হলো, কীভাবে হলো—সে কিছুই বুঝে উঠতে পারল না। কিন্তু তার গাল দুটো লজ্জায় টকটকে লাল হয়ে উঠল।

অবশেষে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে।
বাড়ির ছেলেরা এখনো গার্ডেনেই বসে আছে। আগামীকালের বিয়ে উপলক্ষে ইউভি আদরের আশ্রমের সব বাচ্চাদের জন্য তাদের প্রিয় খাবারের ব্যবস্থা করবে, সঙ্গে থাকবে ছোট ছোট উপহারও। এই বিষয়টা নিয়ে সে ভীষণ খুশি। তার জীবনের আনন্দের দিনগুলোতে সে সবসময় বাচ্চাদের সঙ্গে কিছু সুন্দর মুহূর্ত ভাগ করে নিতে চায়, যেন তারা কোনোদিনও তাদের প্রিয় মানুষের অভাব অনুভব না করে।
বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা করার পর সবাই বিশ্রাম নিতে যে যার রুমে চলে গেল।
আর ইনায়াকে আজও আলাদা রুমে রাখা হয়েছে। ফলে আমাদের প্রেমিক পুরুষটি রাগে একেবারে বোম হয়ে আছে। তার মতে, তার বিয়ে করা বউকে তার থেকে এক সেকেন্ডও আলাদা রাখার অধিকার কারও নেই। সেই দিক থেকে টানা দুই রাত বউকে কাছে আসতে না দেওয়া—এটা তার কাছে একেবারেই অন্যায়।
উভি বিছানায় শুয়ে হাজারবার ফোন দিল, কিন্তু ইনায়ার কোনো সাড়াশব্দ নেই।
ইউ বি বিরক্ত হয়ে বলল ধুর! কিছুই ভালো লাগছে না। আদর, তুই কি বুঝতে পারছিস? আমার ভেতরটা ছটফট করছে।”কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার নিজেই বিড়বিড় করে বলল,বেয়াদবটা মনে হয় মনের সুখে ঘুমিয়ে আছে। আর থাকবে না-ই বা কেন? আমি থাকলেও কী, না থাকলেও কী!”
এরপর ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি ফুটিয়ে বলল,

—”But I know how to find my own medicine… I’m coming, sweetheart.”
বাইরে রাত অনেকটা গভীর হয়েছে। চারপাশে নীরবতা নেমে এসেছে দূরে কোথাও ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে। পুরো বাড়িটা ঘুমের রাজ্যে ডুবে গেলেও একজনের চোখে ঘুমের লেশমাত্র নেই।
ইউভি ধীর পায়ে করিডোর দিয়ে হেঁটে সোজা ইনায়ার রুমের সামনে এসে দাঁড়াল।দরজাটা আলতো করে ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই তার ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠল।মেয়েটা পুরো রুম এলোমেলো করে রেখেছে। হলুদের ভারী লেহেঙ্গাটা একপাশে খুলে রাখা, গয়না আর সাজসজ্জার জিনিসপত্র এদিক-ওদিক ছড়িয়ে আছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে ভীষণ ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে রমণী।
উভি চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে দৃষ্টি স্থির করল ইনায়ার ওপর।
হালকা আকাশি রঙের একটি টি-শার্ট পরে আছে সে। ঘুমের ঘোরে টি-শার্টটা একটু সরে গেছে। এলোমেলো চুলগুলো মুখের ওপর এসে পড়েছে। নিষ্পাপ শিশুর মতো গুটিসুটি মেরে ঘুমিয়ে আছে সে।ইউভি কিছুক্ষণ মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল।

এই রমনী যে তার সাথে অন্যায় করে দুই রাত তাকে দূরে রেখেছে, সে কথা বোধহয় ঘুমন্ত রমণীর মনেই নেই।
ধীরে ধীরে ইনায়ার পাশে গিয়ে বসে সে মনে মনে বলল,বেয়াদবটা চুরি করতেও শিখে গেছে। আমার ঘুম, আমার শান্তি, সব চুরি করে নিয়েছে।”এরপর কোনো দ্বিধা না করে সে আলতো করে ঝুঁকে পড়ল। ইনায়ার কোমল পেটে প্রথমে নিজের ঠোঁট ছোঁয়াল, তারপর দুষ্টুমি করে হালকা করে দাঁতের স্পর্শ করল—যেন ভালোবাসার অধিকার মিশে থাকা এক মিষ্টি দুষ্টুমি।ইনায়া চমকে উঠে বসে পড়ল।চোখ মেলে ইউভিকে বিছানার একপাশে বসে থাকতে দেখে সে আরও অবাক হয়ে গেল।
আপনি! এখানে? কিছু কি হয়েছে?”ইউভি নির্বিকার ভঙ্গিতে উত্তর দিল,
—”হুম, হয়েছে তো।”
ইনায়ার মুখে সঙ্গে সঙ্গে দুশ্চিন্তা নেমে এলো।
—”কি হয়েছে?”

সে তাড়াতাড়ি ইউভির কাছে এসে তার গায়ে হাত রাখল।”জ্বর এসেছে? শরীর ঠিক আছে? একটু আগেও তো একদম সুস্থ ছিলেন!”সে আবার কপালে হাত দিয়ে বলল,এ কী! আপনার জ্বর এসেছে নাকি? আগে বলেননি কেন? ওষুধ খেয়েছেন?”ইউভি এক ঝটকায় তাকে নিজের বুকের ওপর টেনে এনে বলল,ওষুধ খেতেই তো এসেছি। খেতে দাও, ওষুধ এক্ষুনি ঠিক হয়ে যাবে।”
ইনায়া হতভম্ব হয়ে বলল,আমার কাছে তো কোনো ওষুধ নেই।”ইউভি তার ঘাড়ের কাছে মুখ নিয়ে পরিচিত মিষ্টি সুবাসটা নিতে নিতে ফিসফিস করে বলল,একটু আদর করতে দাও, বউ। দেখবে সব জ্বর হাওয়া হয়ে যাবে।”এবার ইনায়া সব বুঝতে পেরে মুখ গম্ভীর করে বলল,
—”আপনার জ্বরটা আপনার মতোই—অসভ্য, নির্লজ্জ, লুচ্চা জ্বর!”কথাটা শুনে ইউভি উচ্চস্বরে হেসে উঠল।আর এদিকে ইনায়া মুগ্ধ হয়ে তার সেই হাসি দেখছে।
মনে মনে বলল,

—”বাহ! এই মানুষটা এত সুন্দর করে হাসতেও পারে? ইসস… কী মিষ্টি!ইউভি এবার এক পা এক পা করে তার দিকে এগিয়ে এসে বুকের দিকে ইশারা করে বলল,
—”বেশ ঘুম দিচ্ছো, তাই না? কিন্তু এখানে ছাড়া ঘুম হচ্ছে কি ভাবে ? আমি তো ঘুমোতেপারছি না। ভীষণ শূন্য শূন্য লাগছে। শুধু আমি না, আমার রুমের প্রতিটা আসবাবপত্রও তোমাকে মিস করছে, বউ।”
ইনায়া লাজুক হেসে বলল,
—”মা তো আমাকে ওই রুমে যেতে মানা করেছে। বলেছে, বিয়ের পর একেবারে বাসর ঘরে যেতে।”
ইউভি সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল,
—”আমার কাছে রোজই বাসর রাত বউ। আমি তোমাকে রোজ নতুন নতুনভাবে ভালোবাসবো বাট এ কথা মনে হয় আমার শাশুড়ি জানে না।
তারপর ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি টেনে বলল,
—”ঠিক আছে, শাশুড়ি মা তোমাকে ওই রুমে যেতে মানা করেছে। কিন্তু আমাকে তো এই রুমে আসতে মানা করেনি

পরের দিন, পবিত্র শুক্রবার। জুমার দিনের বরকতময় দুপুরে আয়োজন করা হয়েছে চৌধুরী বাড়ির দুই রাজকীয় বিয়ের অনুষ্ঠান।
আজ যেন পুরো চৌধুরী ভিলা নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। চারদিকে বাহারি ফুলের সাজ, ঝলমলে আলোকসজ্জা আর জমকালো আয়োজনে পুরো বাড়িটাকে রূপকথার কোনো রাজপ্রাসাদের চেয়ে কম লাগছে না।
বাড়ির গিন্নিরা দুই মেয়েকে সাজাতে ব্যস্ত। মেকআপ আর্টিস্টরা নিখুঁত হাতে সাজিয়ে তুলছে দুই কনেকে। তবে শেষ ছোঁয়াটা দিচ্ছেন বাড়ির দুই গিন্নি রেশমা চৌধুরী আর নুসরাত চৌধুরী।
রেসমা চৌধুরী নিজের একমাত্র ছেলের বউ ইনায়ার গায়ে একে একে ভারী সোনার গহনাগুলো পরিয়ে দিচ্ছেন। চোখে-মুখে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে মমতা আর আনন্দ।
অন্যদিকে নুসরাত চৌধুরী ও স্নেহভরা হাতে পিয়াসাকে সাজিয়ে দিচ্ছেন। বারবার মুগ্ধ হয়ে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বলছেন,

—”মাশাআল্লাহ! আমার বউমাকে আজ রাজকন্যার মতো লাগছে।”
এদিকে বাড়ির কর্তারারা জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়েছেন। নামাজ শেষ হলেই শুরু হবে বিয়ের মূল অনুষ্ঠান।
চৌধুরী ভিলার গার্ডেনের একপাশে সাধারণ মানুষের জন্য বিশাল খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। নামাজ শেষে সেখানে সবকিছু দেখাশোনা করছে ইউভি, রেদোয়ান, রাজ্য, আলভি, আদিল, অর্ক, লিখন চৌধুরী আর রাশেদ মির্জা।
অন্যদিকে অতিথিদের জন্য করা আয়োজনের দায়িত্বে আছেন রাতিব চৌধুরী, রবিউল চৌধুরী আর রাইহান চৌধুরী।
সব খাবারের আয়োজন শেষ হলে সবাই একে একে বাড়ির ভেতরের মূল অনুষ্ঠানের স্থানে চলে গেল।
বিয়ের মঞ্চটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন কোনো রাজদরবার। সাদা, লাল আর সোনালি ফুল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিশাল ফুলের তোরণ। মাঝখানে দুটি সুদৃশ্য আসন, যার চারপাশে ঝুলছে স্ফটিকের ঝাড়বাতি। অসংখ্য ফেয়ারি লাইটের আলোয় পুরো জায়গাটা ঝিকমিক করছে।
ইউভি আর রেদোয়ান দুজনকেই পরানো হয়েছে দুধ-সাদা রঙের রাজকীয় শেরওয়ানি। সাদা কাপড়ের ওপর সোনালি সুতোর নকশা, বুকের ওপর রাজকীয় ব্রোচ, হাতে ঘড়ি আর মাথায় পাগড়ি—দুজনকেই যেন রাজপুত্রের মতো লাগছে।

সবাই এখন শুধু অপেক্ষা করছে দুই কনের জন্য।
ঠিক কিছুক্ষণ পর চারপাশের আলো যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসছে ইনায়া আর পিয়াসা।দুজনের গায়েই ভারী লাল-খয়েরি রঙের লেহেঙ্গা। গলার হীরে বর সোনার গহনা
পিয়াসার কোমর ছুঁয়ে থাকা কুচকুচে কালো চুলগুলোকে সুন্দর করে স্টাইল করা হয়েছে। আর ইনায়ার লালচে চুলগুলোকে হালকা কার্ল করে খোলা রাখা হয়েছে। দুজনকেই যেন জীবন্ত পুতুলের মতো লাগছে।
না, পুতুল বললেও ভুল হবে।
মনে হচ্ছে রূপকথার দুই রাজকন্যা আজ নেমে এসছেতাদের মাথার ওপর ফুল দিয়ে সাজানো ওড়নার ছাউনি ধরে আছে তুবা, সাম্মি, রানি আর রিমঝিম। চারজন ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে, আর তাদের মাঝখানে ধীরে ধীরে হেটে নিচে নেমে আসছে ইনায়া আর পিয়াসা।
পেছনে সিঁড়ির ওপর দাঁড়িয়ে আছেন রেসমা চৌধুরী, নুসরাত চৌধুরী আর সাবিহা চৌধুরী। তিনজনের চোখেই আজ আনন্দের জল চিকচিক করছে। আয়াত আতিকা ও লেহেঙ্গা পড়ে ছোট ছোট পায়ে নিচে নামছে
ঠিক তখনই চারপাশে ভেসে উঠল সুর—

Hai woh handsome sona sabse,
Meri dil ko gaya lekar,
Meri neend chura li usne,
Aur khwaab gaya dekar…
Hai woh handsome sona sabse,
Meri dil ko gaya lekar,
Meri neend chura li usne,
Aur khwaab gaya dekar…
Ab ye naina bole yaar,
Bole yahi lagataar,
Koi chahe kitna roke,
Karungi pyaar…
Mere saiya superstar,
Mere saiya superstar,
Main fan hui unki,
Mere saiya superstar…
Mere saiya superstar,
Mere saiya superstar,
Main fan hui unki,
Mere saiya superstar…

শেহেজাদার আদর পর্ব ৬১

গানের তালে তালে নাচতে নাচতে এগিয়ে আসছে ইনায়া আর পিয়াসা।
আর এদিকে ইউভি আর রেদোয়ান যেন চোখের পলক ফেলতেও ভুলে গেছে।
ইউভির দৃষ্টি শুধু তার লাল পরীর ওপর স্থির।
মনে মনে বলল,
—”ইয়া আল্লাহ… এ কি আমার বউ, নাকি আসমান থেকে নেমে আসা কোনো হুর? এত সুন্দর লাগতে হয় না, বেয়াদব মেয়ে। আর রেদোয়ানও মুগ্ধ হয়ে পিয়াসার দিকে তাকিয়ে আছে।আজকের এই মুহূর্তে চারপাশের সব আলো, সব সাজসজ্জা যেন ম্লান হয়ে গেছে।কারণ পুরো অনুষ্ঠানের আসল সৌন্দর্য হয়ে উঠেছে—দুই রাজপুত্রের সামনে হেঁটে আসা তাদের দুই রানী।

শেহেজাদার আদর পর্ব ৬৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here