ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ১৭
ছায়া
চারপাশ নিস্তব্ধ গরম বাতাসটা যেন হঠাৎ ঠাণ্ডা হয়ে গেছে।সবাই তাকিয়ে আছে সেই ছেলেটার দিকে যে একাই চারজন ছেলেকে থামিয়ে দিয়েছে। পরি, হালিমা ইলার কাছে এসে দারালো কারো নিঃশ্বাস নেওয়ারও সাহস নেই। ছেলেটা ধীরে ধীরে ব্যাটটা কাঁধ থেকে নামালো চোখে একদম তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, মুখের ভেতর হালকা রাগের রেখা ইলা চিনে ফেলেছে এটা আরিয়ান খান। ঠিক সেই ছেলেটা যে কয়েকদিন আগে রাস্তায় ওকে টেনে বাঁচিয়ে একটা চড় মেরেছিলো। আরিয়ান সোজা এগিয়ে গিয়ে ইলার সামনে দাঁড়ালো সিনিয়ররা তখনো চুপ। কেউ সাহস করে কিছু বলছে না।
আরিয়ানঃ- তোদের ভার্সিটিটা নিজের বাসর ঘর মনে হয়ে যে মেয়েদের হাত ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছিস। আমি এখনই ডিনের কাছে নিয়ে যাবো তোদের।
একজন সিনিয়র গলা নামিয়ে বলল
“ভাই ভুল হয়ে গেছে”
আরিয়ান ব্যাটটা সেই সিনিয়র এর বুকের সামনে ঠেলে দিলো ঠাণ্ডা গলায় বলল
আরিয়ানঃ- ভুল তো সবাই করে কিন্তু সবাই তোদের মত নোংরামি করে না।
তারপর আরিয়ান ঘুরে ইলার দিকে তাকালো চোখে এখনো রাগ, কিন্তু ভিতরে কোথাও যেন একটা দোষী নরমতা নিয়ে বলল
আরিয়ানঃ- আপনি ঠিক আছেন তো?
ইলা কিছু বলতে পারলো না কণ্ঠে কোনো শব্দই বের হচ্ছে না শুধু মাথা নেড়ে জানালো“হ্যাঁ” বলল। পরি ধীরে ইলার পাশে এসে দাঁড়ালো ফিসফিস করে বলল
পরিঃ- কিরে কে এই ছেলে তোকে কিভাবে চিনে??
ইলাঃ- এটা সেই ছেলে যে আমাকে এক্সিডেন এর হাত থেকে বাচানোর পড়ে চড় মেরেছিলো। আর আজ সেই আবার আমাকে বাচালো।
হালিমা আর পরি তখনও অবাক মুখে তাকিয়ে আছে আরিয়ানের দিকে। হালিমা দুই গালে হাত দিয়ে বলল
হালিমাঃ- ওমা এত কিউট ছেলে আবার এমন ভয়ংকর রাগও করতে পারে।
পরিঃ- ইলা তুই এই হাতের মার খেয়েছিস তোর দাত গুলো ঠিক আছে?
পরির মুখে কথাটা বের হতেই ইলার মুখের কোণে হালকা এক রাগ জমে উঠলো। হালিমা তখন পাশেই দাঁড়িয়ে মুখ ঢেকে হেসে বলল
হালিমাঃ- ইলা আমি ভাবছিলাম তুইই ওই চারজনকে পেটাবি কিন্তু শেষে দেখি তোর জন্য নায়ক এসে হাজির।
আরিয়ান তখনো কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে রাগে তার ঘাড়ের রগ ফুলে উঠেছে,হাতে ধরা ব্যাটটা শক্ত করে ধরে আছে যেন এখনো কারও হাড় গুঁড়ো করে ফেলবে।চোখ দুটো লালচে, কিন্তু তাতে একটা স্থির আগুন যেটা ভয়ও দেখায়, নিরাপত্তাও দেয়। ইলা চুপ আছে মুখে কিছু না বললেও তার চোখে দেখা যাচ্ছে ঝড় পরি হেসে বলল,
পরিঃ- তুই এখন চুপ কেন রে ইলা তোর ওই ‘মিস অ্যাটিটিউড’ ভাবটা আজ গেলো কই?
ইলাঃ- আমার অ্যাটিটিউড কেউ কিনে খায় না,আমি চুপ মানেই আমি ভয় পেয়েছি এমনটা না।
পরি আর হালিমা একে অপরের দিকে তাকিয়ে হেসে উঠলো।
ঠিক তখনই আরিয়ান সামনে এগিয়ে এল সিনিয়র দের তার কণ্ঠস্বর এ রাগ প্রতিটা শব্দ ছুরি কেটে যাওয়ার মতো ধারালো। আরিয়ান সিনিয়র দের কে বলল
আরিয়ানঃ- আমি যদি আর নেক্সট টাইম এমন কিছু দেখি, তাহলে আর ওয়ার্নিং দিবো না। ডিরেক্ট সবার হাড্ডি গুড়ো করে ফেলবো এখন তোমরা আসতে পারো।
সিনিয়ররা তখন মাথা নিচু করে চুপচাপ জায়গা ছাড়লো।পুরো ক্যাম্পাসে মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়লো “শহীদ জননী হলের তিনটা মেয়েদের সঙ্গে ঝামেলা করতে গিয়ে চারজন সিনিয়র আরিয়ান খানের কাছে ওয়ার্নিং খেয়ে পালিয়েছে।
রোদ ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছে বাতাসে অদ্ভুত একটা স্বস্তি। ইলা,পরি আর হালিমা তিনজনেই হলের দিকে হাঁটছে। তাদের মুখে এখন হাসি, কিন্তু চোখে ঝিলিক আছে অন্যরকম এক উত্তেজনার পরি কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে বলল,
পরিঃ- ইলা আজ তুই যেভাবে থাপ্পড় মারছিলি না আমি শিউরে উঠছিলাম।
ইলাঃ- আমি কে সেটা ওদের জানিয়ে দিলাম একটু, ইলা তালুকদার এর সাথে লাগতে আসলে তার পরিস্থিতি কি হতে পারে।
হালিমাঃ- আরিয়ান ভাইয়া সময় মত এসে না পড়লে আজকে তো আমাদের হিরোইনকে হাসপাতালে নিতে হতো।
ইলাঃ- আসছে আমার হিরো হইতে রে আমার হিরো হওয়া এত সহজ না। তবে ঐ বেয়াদবটারে থাপ্পড়ের সুধটা ফেরত দিবোই।
পরিঃ- ইলা এটা কেমন কথা ছেলেটা দুইবার তোকে বাঁচিয়েছে আর তুই কি না এখনো মারতে চাস?
ইলা ব্যাগ নামিয়ে বসে পড়লো বেঞ্চে শান্ত গলায় বলল,
ইলাঃ- বাঁচানো আর চড় মারা এক জিনিস না পরি, সে পারত আমাকে বাচানোর পরে সুন্দর করে বুঝিয়ে বলতে। তা না করে কি করলো আমাকে থাপড় মেরে দিলো। আমি কৃতজ্ঞ সেটা কিন্তু আমি ভুলিনি। কিন্তু তুই ভালো করে জানিস কেউ আমাকে মারলে সেটা আমি ১০ বছর পরে হলেও শোধ তুলি।
( ইলার ছোট থেকে একটা বদভ্যাস আছে সেটা হচ্ছে ইলাকে কেউ মারলে ইলা সেটা কখনো ভুলে না সে যে কোনো দিন সেই মার এর প্রতিশোধ তুলে, গুরুজন বাদ দিয়ে সবাই ইলার এই শোধ এর শিকার)
হালিমাঃ- ইলা তুই মনে হয় ঐ ছেলের খুব তারাতাড়ি প্রেমে পড়ে যাবি।
ইলাঃ- প্রেমে পড়বো আর আমি সেটা আর এই জন্মে সম্ভব না আমার মনে তালা মেরে রেখেছি এই তালা আর কেউ খুলতে পারবে না।
ইলার কথাগুলো শুনে পরি থমকে গেলো ইলা অনেক বদলে গেছে। আগের সেই চুপচাপ, কাঁদুনে মেয়েটা এখন আর নেই তার চোখে দৃঢ়তা, মুখে আত্মবিশ্বাস, আর কণ্ঠে একরাশ আগুন।
সন্ধ্যার নরম আলোয় তিনজন বসে চা খাচ্ছিলো বাইরে তখন হালকা বাতাস বইছে। পরি জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,
পরিঃ- ইলা তুই জানিস আজকে তোদের ঝামেলার ভিডিও কেউ নাকি রেকর্ড করে সোস্যাল মিডিয়াতে আপলোড করে দিয়েছে। আর ভিডিও টা ভাইরাল ও হয়ে গেছে
ইলাঃ- হোক ভাইরাল জানুক সবাই ইলা তালুকদার কোনো অন্যায় সহ্য করে না।
পরিঃ- ভাইরাল তুই হস নি আরিয়ান ভাইয়া ভাইরাল হইছে।
হালিমাঃ- এই তোর সাহস আমারে খুব ভয় পাইয়ে দেয় মাঝে মাঝে।
ইলাঃ- যতদিন ভয় আছে ততদিন মানুষ বেঁচে আছে।
রাত তখন প্রায় ১১টা ছুঁইছুঁই শহীদ জননী হলের করিডোরে হালকা আলো ঝুলছে। ঘড়ির কাঁটা থমকে গেছে যেন, কিন্তু ইলার চোখে ঘুম নেই। বিছানায় চুপচাপ শুয়ে আছে, কানে হেডফোন, কিন্তু গান চলছে না। হেডফোনের ভেতরে শুধু নীরবতা।
তার পাশে পরি আর হালিমা গভীর ঘুমে, মুখে ক্লান্তির রেখা। দিনের ঘটনাগুলো যেন এক সিনেমার দৃশ্য হয়ে ইলার মাথায় ঘুরছে। সিনিয়রদের মুখ, সেই থাপ্পড়, আরিয়ান… সব কিছু একটা অদ্ভুতভাবে গেঁথে গেছে মনে।
ইলা কাঁথা সরিয়ে উঠে বসলো জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো, বাইরে চাঁদের আলো পড়ছে ক্যাম্পাসের গাছপালায়। ইলা চিন্তা করছে ঢাকায় আসার পরে দুইবার এই ছেলে আমাকে বাচালো কিন্তু কেনো ইলার বুকের ভেতর হালকা কাঁপুনি লাগলো একরকম অজানা কৌতূহল ইলা ভাবছে “এই ছেলেটা এমন কেন সবসময় রাগে টগবগ করে অথচ চোখ এমন শান্ত কেনো। আবার পরবর্তীতে আবার ভাবলো আজ বাঁচালো আবার কাল মারবে হয়তো আজ রাগের কারণে মারতে ভুলে গেছে।
আল্লাহ বাচাও আমাকে ঐ রাক্ষস এর সামনে যেনো আর না পরতে হয় অন্তত ১ বছর যাতে সব ভুলে যায় সাথে আমাকেও।
অন্যদিকে আরিয়ান নিজের বেডে শুয়ে চাঁদের আলোয় দেখছে আর ভাবছে সেই মেয়েটা যাকে আজ নিয়ে দুইবার বাচালো কিন্তু কেনো ঐ মেয়ে কিভাবে তার সামনে আসে বার বার। তখন আরিয়ান এর ইলার সেই রাগি চোখের কথা মনে পরলো আরিয়ান নিজের অজান্তেই হেসে দিয়ে আরিয়ান মনে মনে বললো,
আরিয়ানঃ- অদ্ভুত মেয়ে, আজকাল এমন মেয়ে খুব খুব কম দেখি।
পরের দিন সকাল ক্যাম্পাসে ঢুকেই তিনজনকে সবাই চিনে ফেলছে ওরা সেই মেয়েরা যারা সিনিয়রদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল ছেলেরা ফিসফিস করছে, মেয়েরা মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে। হালিমা তো এখন পুরো স্টার হয়ে গেছে সবাই তাকে “ভিডিওর তৃতীয় মেয়ে” বলে ডাকছে “ওই যে ভাইরাল গার্লস” বলে কেউ কেউ পাশ দিয়ে হেসে যাচ্ছে।
পরিঃ- ইলা তুই এখন ভার্সিটির ক্রাশ সবাই তোর নাম জানে।
ইলাঃ- জানুক তাতে আমার কি আমি কাউকে পাত্তা দেবো।
কথাটা শেষ হতে না হতেই পিছন থেকে গম্ভীর গলায় কেউ বলল “তবুও কেউ যদি ভাবতে চায়”
তিনজন একসাথে ঘুরে তাকালো আরিয়ান দাঁড়িয়ে আছে কালো টি-শার্ট, জিন্স, আর চোখে আগের মতোই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি।
পরি কনুই দিয়ে ইলাকে খোঁচা দিলো,
পরিঃ- দ্যাখ দ্যাখ তোর নায়ক হাজির।
আরিয়ানঃ- কালকের ঘটনার রিপোর্ট আমি ডিনের কাছে জমা দিয়েছি তোদের নাম আসবে না আমি হ্যান্ডেল করে ফেলেছি। আর সেই ভিডিও সবাই ডিলিট করে দিয়েছে।
ইলাঃ- থ্যাংকস কিন্তু আমার নামে কিছু আসলেও সমস্যা নেই আমি ভয় পাই না।
আরিয়ান ইলার দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ, ইলা ইলা মাস্ক পড়ে আছে চোখ দুটো ছাড়া কিছু দেখা যাচ্ছে না। ইলার চোখে কিছু ক্ষণের জন্য হারিয়ে যায় আরিয়ান। ইলা বুঝতে পেরে আঙুল দিয়ে তুরি মারে আরিয়ানের হুস ফিরে।
আরিয়ানঃ- ভয় না পাওয়া ভালো কিন্তু বেয়াদবি আর সাহস এক জিনিস না।
ইলা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল আরিয়ানের দিকে ইলার মনে হলো আরিয়ান তাকে অপমান করলো
ইলাঃ- আপনি একটু বেশি জাজ করেন আমাকে।
আরিয়ানঃ- আমি খুব তারাতাড়ি মানুষ চিনতে পারি এটা আমার বদ অভ্যাস।
ইলাঃ- তাহলে একটা টিয়া পাখি নিয়ে বসতেন মানুষের ভবিষ্য বানি করে দিতেন।
আরিয়ান কয়েক সেকেন্ড চুপ করে তাকিয়ে রইলো মেয়েটার দিকে ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটলো।
আরিয়ানঃ- আপনার মুখটা খুব বিপজ্জনক কেউ তাকালে ভুলে যাবে কাকে মারতে এসেছিল।
পরি আর হালিমা একে অপরের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল। ইলার মুখ লাল হয়ে গেলো রাগে আর অজানা লজ্জায়।
ইলাঃ- আপনি যা খুশি ভাবুন আমি যাচ্ছি। পরি, হালিমা চল তোরা।
ইলা দ্রুত হেঁটে চলে গেলো পরি আর হালিমা ইলার পিছু পিছু যাচ্ছে আর আরিয়ান ইলার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে পরি হালিমাকে চুপিচুপি বলল,
পরিঃ- এই রাগ, এই জেদ প্রেমে পড়ার একদম শুরু মনে হচ্ছে।
হালিমাঃ- আরিয়ান ভাইয়া একটু ভয়ংকর হলেও অনেক কিউট তো। ইলার জন্য কিন্তু পারফেক্ট, এত দিনে কেউ আসছে ইলার রাগ দমানোর জন্য।
আরিয়ান তখনও দাঁড়িয়ে ছিলো চোখে এক অদ্ভুত দৃষ্টি। সে জানে এই মেয়েটার ভেতরে আগুন আছে, কিন্তু সেই আগুনের ভেতরেই হয়তো এমন কিছু আছে যা একদিন তার নিজের হৃদয়ও জ্বালিয়ে দেবে।
Time skip
সন্ধার ঠিক আগে আগে ইলা,পরি,হালিমা একটা নদীর ধারে বসে আছে। হালিমা আর পরি ইলাকে ডাকছে ফুসকা খাওয়ার জন্য কিন্তু ইলা যাচ্ছে না পরিও জোর করছে ইলা তখন হালিমাকে বলল,
ইলাঃ- তোরা দুইজন যা আমি এখানে আছি আমার ভালো লাগছে না।
পরি আর হালিমা আর কিছু না বলে চলে গেলো কারণ তারা দুইজন জানে রাগিনীর রাগ উঠলে অবস্থা খারাপ আছে। পরি হালিমা চলে গেলে ইলা চুপচাপ হাঁটতে লাগলো নদীর ধার দিয়ে হালকা বাতাস বইছে ইলা একটা বেঞ্চে বসল।
মনটা অদ্ভুত ভারী হয়ে আছে সে জানে না কেন সে এখানে এসেছে। কাউকে মিস করছে এখন কেমন আছে কি করছে সব কিছু চিন্তা করছে। আর আজ ইলার এখানে আসার কারণ ও সেটা দিয়া বাড়ির এই নদীর ধারে শাওন প্রায় সময় আসতো বসে থাকতো।
শাওন বলতো এটা তার পছন্দের জায়গা মাঝে মাঝেই আসতো আসে পাশের লোকজন দেখতো। শাওন বলতো এখানে অনেক মানুষ আসে কিন্তু আমাকে কেউ চিনে না এটাই আমার ফেস না দেখানোর বেনিফিট। আমি যখন মন চায় যেখানে খুশি যেতে পারি।
এই সব কিছু ভাবছিলো ইলা বসে বসে একটু পরেই পেছন থেকে পরিচিত কণ্ঠস্বর শোনা গেলো।” এই মেয়ে আপনি এই সময় এখানে কেনো তাও একা??
ইলা তাকিয়ে দেখলো আরিয়ান দাঁড়িয়ে আছে হোয়াইট টি-শার্ট, সাথে ব্লু জিন্স এক হাতে ঘড়ি আর অন্য হাতে একটা হেন্ডব্যাগ আর ফোন কিন্তু চোখে সেই একই তীক্ষ্ণতা।
ইলাঃ- কেনো একা আস্তে পারি না, নাকি মেয়ে বলে একা বের হওয়া বারণ আছে।
ইলার এই কথা শুনে আরিয়াদের রাগ উঠে গেলো, এই মেয়ে সব সময় দুই লাইন বেশি বুঝে বলি একটা বুঝে আরেকটা। আরিয়ান হাতের মুস্টি শক্ত করে ধরলো। ইলার মনে হলো এই বুঝে কালকের আর আজকের পাওনা মার টা দুই গালে পড়বে। তাই ইলা দুই হাত দিয়ে গাল চেপে ধরলো,
ইলাঃ- দেখুন আপনি কোথায় কোথায় আমাকে মারতে পারেন না। আমার কিন্তু অনেক রাগ
আরিয়ানঃ- মার খাওয়ার কাজ করলে তো মার খাবেন।
ইলাঃ- আমি কোনো দোষ করিনি যে মার খাবো, আর আপনি আমাকে এত কিছু বলার কে আপনি কি আমার গার্ডিয়ান নাকি যে এভাবে বলবেন।
আরিয়ান না চাইতেও ইলার গালে আবার একটা ঠাস করে থাপ্পড় বসিয়ে দিলো, ইলা তাকিয়ে দেখে আরিয়ানের চোখ লাল হয়ে গেছে কিন্তু ইলার ও এবার রাগ উঠেগেছে তাই কোনো কিছু না ভেনেই ইলা আরিয়ান কে থাপ্পড় মারার জন্য হাত তুলে। পিছন থেকে পরি এসে ইলাকে আটকে নেয়,
পরিঃ- ইলা তুই কি করছিস বুদ্ধি কি আকাশে গেছে নাকি।
ইলাঃ- এই অসভ্য লোকটা কি পেয়েছে বার বার আমার থাপড় মারে।
পরিঃ- চুপ কর সিনক্রিয়েট করিস না মানুষ জন দেখছে।
ইলা এবার কান্না করে দেয় গালে হাত দিয়ে, হালিমা এসে ইলাকে শান্তনা দেয়। আরিয়ান পরিকে আর হালিমে দেখে বলে
আরিয়ানঃ- আপনি মার খাওয়ার কাজ করেন দেখেই বার বার মার খান।
ইলাঃ- এটা ঢাকা দেখে বেচে গেলেন আমার এলাকায় হলে আমার খুদে সেনাকে নিয়ে আপনার এমন হাল করতাম সে আর কাউকে মারার কথা ভুলে যাইতে।
বাতাসে হালকা সন্ধ্যার ছোঁয়া নদীর ধারে গাছের পাতাগুলো দুলছে মৃদু আলোয় ইলা তখনও দাঁড়িয়ে আছে গালে হাত, চোখে জল আর আরিয়ান স্থির কিন্তু তার মুখে স্পষ্ট রাগের ছাপ আরিয়ান ভ্রু কুঁচকে এগিয়ে এলো ইলার দিকে আর গলায় গর্জন নিয়ে বলল
আরিয়ানঃ- আপনার এই মুখটা বন্ধ রাখুন বেশি কথা বললে মানুষ আপনাকে পাগল ভাববে।
ইলাঃ- পাগল ভাবলে ভাববে সমস্যা কী? কিন্তু আমি কাউকে মিষ্টি কথা বলার জন্য জন্মাইনি। আমার কথা সবার তিতা লাগে।
আরিয়ান আর ইলার ঝগড়া শুরু হয়ে গেছে। পরি হালিমার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করলো,
পরিঃ- এবার তো ইলা গায়েব এই দুইজনের ঝগড়া থামানো মানে আগুনে ঘি ঢালার সমান।
হালিমাঃ- আরিয়ান ভাইয়া হাসলেও ভয় লাগে আমার আর এখন তো চোখ লাল হয়ে গেছে আল্লাহ রে… এবার কি হবে কে জানে। ইলা রে তোর কি হবে???
ইলাও কম না ইলা পিছু না হটে এক ধাপ এগিয়ে গেলো আরিয়ানের দিকে চোখে আগুন। ইলা চোখ বন্ধ করে বলতে লাগলো
ইলাঃ- আপনি নিজেকে কি ভাবে হিরো, মানুষের গায়ে হাত তুলে আপনি নিজের রাগ দেখান এটা হিরোইজম না বর্বরতা।
আরিয়ানঃ- আর আপনি ভাবেন আপনি খুব সাহসী?প্রশ্নের উল্টো পালটা জবাব দেন এটা সাহস না এটা সীমাহীন বেয়াদবি।
ইলাঃ- বেয়াদবি কি সেটা আমাকে শেখাচ্ছেন আমি কি আপনার স্টুডেন্ট নাকি?
আরিয়ানঃ- না আমি এমন কেউ না যিনি আপনাকে শেখাতে যাবো কারণ আপনাকে শেখানো মানে নিজের শান্তি হারানো।
ইলা একদম মুখোমুখি গিয়ে দারালো আরিয়ানের,আরিয়ান ইলার পারফিউম এর স্মেল পাচ্ছে চুলে শ্যাম্পুর স্মেল পাচ্ছে। আরিয়ান ইলার থেকে কিছুটা পিছিয়ে এলো। ইলা আবার আরিয়ানের কাছে আসলো আরিয়ান রাগ করে বলল
আরিয়ানঃ- দূর থেকে কথা বলুন কাছে আসার দরকার নেই।
ইলাঃ- তাহলে আমার থেকে দূরে থাকুন আমাকে বাঁচানোর দায়িত্বও নেন নি আপনি আমি মরলে মরবো।
আরিয়ানঃ- আপনার মতো মেয়েকে বাঁচালে সমস্যা, আর না বাঁচালেও সমস্যা।
পরি আর হালিমা দেখছে এদের ঝামেলা বেরেই যাচ্ছে আসে পাশের লোকজন তাকিয়ে দেখছে পরি তাড়াতাড়ি এসে দুজনের মাঝে দাঁড়ালো।
পরিঃ- এই এই থামুন আপনারা মানুষ জড়ো হয়ে যাচ্ছে।
হালিমাঃ- দোস্ত চুপ কর তুই ওরা ঝগড়া কন্টিনিউ করুক কালকে আবার ভিডিও ভাইরাল হবে।
কিন্তু ইলা থামার নাম নিচ্ছে না তার চোখে রাগের অগ্নি। একটার পর একটা বল এর মত কথা বের হতেই আছে।
ইলাঃ- আপনি জানেন আপনি কী একদম রাক্ষস লোক সব সময় রাগে ফুঁসেন যেন মানুষ না আগুনের ফুল্কি।
আরিয়ান এবার একদম নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললো এক মুহূর্তের মধ্যে হাত উঠালো কিন্তু এবার মারলো না কারণ ইলা নিজের দুই হাত দিয়ে গাল ঢেকে ফেলেছে আগেভাগে
ইলাঃ- দেখুন আমি জানি আপনি আবার মারবেন তাই আগে থেকেই রক্ষার জন্য প্রটেকশন নিলাম।
পরি আর হালিমা এদের কান্ড দেখে অবাক পরি এক হাত দিয়ে মুখ ঢাকলো হাসি চেপে বলল,
পরিঃ- এই মেয়েটা পাগল রে।
হালিমাঃ- আরিয়ান ভাইয়া শান্ত হন দয়া করে।
আরিয়ান গভীর শ্বাস নিলো মুঠো খুলে ফেললো ধীরে ধীরে চোখে ক্লান্তি কিন্তু ঠোঁটে হালকা কাঁপা হাসি।
আরিয়ানঃ- আপনি একদিন নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনবেন।
ইলাঃ- আমার বিপদ আমি নিজেই ডেকে আনবো কিন্তু তবুও আপনার মতো রাক্ষস লোকের কাছে যাবো না হেল্পার জন্য।
আরিয়ান আর কিছু না বলে ঘুরে হাঁটতে লাগলো সোজা নদীর পাড় ধরে। তার পায়ের আওয়াজ মিলিয়ে গেলো দূরে আর ইলা তখনো দাঁড়িয়ে এক হাতে গাল চেপে চোখে একরাশ কান্না মুখে একরাশ জেদ।
ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ১৬
ইলাঃ- রাক্ষস লোক আর কখনো আপনার সামনে আসবো না।
পরিঃ- যে বলে ওর মুখ দেখবে না সেই কালকে প্রথমে দেখবো তার সামনে দারিয়ে আছে।
হালিমাঃ- এই দুইজনের মধ্যে প্রেম আর যুদ্ধের পার্থক্য বোঝা দায়।
তিনজন কথা বলতে বলতে হলে ফিরে যাচ্ছিলো কিন্তু ইলার চোখে তখনো এক অদ্ভুত কাঁপুনি। কি হচ্ছে কেনো হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছে না। কেই এই ছেলে যে বার বার তার সামনে আসছে আর থাপ্পড় মেরে চলে যাচ্ছে।
