Home ভয়েজের মায়াজাল ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৩

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৩

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৩
ছায়া

দুইদিন যেন স্বপ্নের মতো কেটে গেল, ইলার চোখে মুখে শুধু একটাই জ্যোতি শাওন, ভোর বেলা উঠেই নদীর ধারে দৌড়াতে গেলো পরির সাথে। খালি পায়ে ভেজা ঘাসে দৌড়াতে দৌড়াতে হঠাৎ থেমে গিয়ে বলল
ইলাঃ- দেখিস পরি একদিন আমিও শাওনের মত ভিডিও বানাবো। তখন সবাই বলবে এই যে ইলা তালুকদার ভয়েজ কুইন।
পরিঃ- আহা গো শখ কত আগে কলেজের হোমওয়ার্ক শেষ কর তার পর কুইন হওয়ার স্বপ্ন দেখিস।
দুজনেই হো হো করে হাসে,বিকেলের দিকে ইলা পাড়ার ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে মাঠে গিয়ে ক্রিকেট খেলে। বাচ্চারা বল ছুড়লেই ইলা ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে যেত আর শট মারলেই বল গড়িয়ে চলে যেত মাঠের বাইরে। একটা ছয় মারতেই বাচ্চারা চিৎকার করে উঠল

বাচ্চারাঃ- ইলা আপু ছক্কা,
ইলাঃ- দেখ আমি যদি আর্মি হইতাম সবাই ভয় পেত।
ইলার মনে মনে ভেসে আসে সেই আর্মি অফিসার শাওনের কাল্পনিক মুখ যাকে সে বাস্তবে কখনো দেখেনি শুধু অনুভবে পেয়েছে।
খেলা শেষ করে সন্ধার আগে আগে বাড়ি ফিরলেই আবার মায়ের বকুনি খাওয়ার জন্য রেডি হয়ে যায়। পা টিপে টিপে বাড়ি আসতেই ইলার মা চিল্লায় উঠলো,
সাবিহাঃ- এই মেয়ে এত বড় হয়েছিস এখনো মাঠে ঘাটে বাচ্চাদের সাথে খেলবি লজ্জা করে না?
ইলা মাথা নিচু করে থাকে ঠোঁটের কোণে ছোট্ট হাসি।সে জানত মায়ের এই বকা আসলে তাকে সামলানোর চেষ্টা।কিন্তু তার ভেতরকার আলোটুকু কেড়ে নিতে পারবে না কেউই।
ইলার বাবা রাশেদ তালুকদার পাশে দাঁড়িয়ে সব শুনছে আর কিছু না বলে শুধু মৃদু হাসছে।
পরের দিনের সকাল হালকা রোদ আকাশে পাখি উড়ছে শাওন নতুন ভিডিও আপলোড করল একটা মাঠে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে সে শুধু বলল

শাওনঃ- “কখনো কিছু না বলেও সব বলা হয়ে যায়”
ক্যাপশনে লিখল “অর্থহীন নয়” ভিডিও আপলোড হতেই অনেক কমেন্ট। এর ভেতর মায়ার একটা কমেন্ট ইলার চোখে পড়ল
মায়া: “@Ila_Talukdar এই লাইনটা মনে হয় তোমার জন্যই।
ইলা কিছু বুঝে ওঠার আগেই নোটিফিকেশন চলে গেল। আর শাওন তার আইডি থেকে ইলাকে ব্লক করে দিলো। ফোনটা হাতে নিয়ে ইলা হকচকিয়ে গেল।
ইলাঃ- আজব হঠাৎ কেনো ব্লক করে দিলো আমি তো কিছুই করলাম না।
ইলার গলা শুকিয়ে গেল বুক ধকধক শুরু করল কয়েক মিনিট পরেই কান্নায় ভেঙে পড়ল। ইলা মেসেজ দিল মায়াকে
ইলাঃ- মায়া শাওন আমাকে ব্লক মেরে দিলো…”
মায়াঃ- কি সত্যি নাকি ? আমি তো কিছুই জানি না এই বিষয়ে।
(কিন্তু আসলে মায়ার বুকের ভেতর হিংসার আগুন ছিলো শাওন যে ইলাকে লক্ষ্য করেছে এটুকু মায়ার সহ্য হয়নি। সে ভেতরে ভেতরে খুশি হলো “অবশেষে বাঁধা দিলাম)

দুপুরের দিকে ইলা সব বলল পরিকে কান্না করে করে চোখ ফুলে গেছে ইলার,
পরিঃ- বোকা কান্না করিস না। তুই সেকেন্ড আইডি থেকে মেসেজ দে জিজ্ঞেস কর কেনো ব্লক দিল।
ইলা পরির কথা শুনে তাই করল সেকেন্ড আইডি দিয়ে একটা ভিডিওর নিচে লিখল
ইলাঃ- আপনি কাজ টা ঠিক করেননি কোনো কারণ ছাড়াই ব্লক করেছেন।
কিছুক্ষণ পরেই দেখল এক ভিউয়ার কমেন্ট করেছে”ছেলেরা এমনি হয়” ইলা “হুম ” লিখে বিরক্ত হয়ে ফোনটা রাখল। কিন্তু তার কিছুক্ষণ পরেই এই আইডিটাকেও ব্লক করে দিয়েছে শাওন।
ইলার রাগ চরমে উঠল ফোনটা তুলে নিয়ে আছাড় মেরে ভেঙে ফেলল। ড্রেসিং টেবিলের সব জিনিস ছুঁড়ে ফেলল মেঝেতে।গ্লাস ভাঙার শব্দ আয়নার টুকরো লিপস্টিক গড়িয়ে পড়ছে
ভাঙাভাঙির শব্দ শুনে ইলার বাবা-মা দৌড়ে এলেন।
বাবা রাশেদ তালুকদার এসে ইলাকে জিগ্যেস করলো,

রাশেদঃ- কি হলো ইলা মা কেনো এসব করছিস?
ইলা কোনো উত্তর দিল না শুধু চেপে রাখা কান্নায় বুক ভেঙে যাচ্ছিল। মা সাবিহা ফ্লোরে পড়ে থাকা ফোনটা দেখে চিৎকার করে উঠলেন
সাবিহাঃ- অত বড় মেয়ে হয়েছিস আর এখনো জিনিসপত্র ভাঙিস লজ্জা নেই তোর।
ঠাস করে এক চড় দিলেন ইলার গালে চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগল। ইলার মা ইলাকে গালাগালি করতে থাকলেন,
সাবিহাঃ- তুই আমাকে লজ্জায় ফেলবি একদিন তুই মরবি তুই ভালো হবি না।
বাবা রাশেদ তালুকদার মেয়েকে টেনে পাশের রুমে নিয়ে গেলেন। চুপচাপ তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। বাবা মৃদু স্বরে ইলাকে জিগ্যেস করলো,

রাশেদঃ- কি হয়েছে মা বল তো আমাকে কার সাথে কি হয়েছে?
কিন্তু ইলার ঠোঁট আটকে গেল শুধু কাঁদতে কাঁদতে হাঁপাচ্ছিল। শব্দ আটকে যাচ্ছিল হিচকির ভেতরে। মনে হলো তার ছোট্ট দুনিয়াটা এক নিমিষে ভেঙে গেল। একদিকে শাওনের ব্লক অন্যদিকে মায়ের রাগ, বাবার অসহায় ভালোবাসা সব মিলিয়ে ইলা একাকী হয়ে পড়ল।
অন্যদিকে শাওন তার মতই আছে যেন কিছুই ঘটেনি,প্রতি দিনকার মতো ভিডিও বানাচ্ছে আপলোড করছে। তার কাছে কয়েকজন ফলোয়ার কমে যাওয়াটা একেবারেই তুচ্ছ কে গেলো কে আসলো তার কাছে এটা মেটার করে না। ইলার কথা শাওনের মাথায় কখনো আসেই নাই। শাওন জানে না তার একটা ব্লক কতটা গভীর ক্ষত রেখে গেছে এক কিশোরী মনের ভেতর।

কিন্তু এদিকে ইলা যেন ভেঙে পড়েছে ভেতর থেকে। ফোনটা আছাড় মেরে ভাঙার পর থেকেই সে প্রায় নিশ্চুপ হয়ে গেছে।চোখে জল জমে থাকে বারবার। মায়ের দেয়া খাবার স্পর্শই করে না। মা সাবিহা খাবার নিয়ে এসে বলে,
সাবিহাঃ- খা মা খিদে পেয়েছে তো এত রাগ করে বসে আছিস কেন?
ইলাঃ- খিদে নেই।
বড় আশ্চর্যের ব্যাপার যে ইলা আগে প্রতি আধা ঘণ্টায় খিদে পেত, রান্নাঘরে উঁকি দিত, চিপস-চকলেট চাইত, সেই ইলাই এখন একটুও খাচ্ছে না ইলার মা কিছুই বুঝতে পারছিলেন না।শুধু পরিই বোঝে পরি জানে ইলার মনের এই কষ্টটা শাওন নামের মানুষটার কারণেই।
বিকেলে পরি ইলাকে নিয়ে গেল নদীর পাড়ে গেলো আকাশে মেঘ জমেছে বাতাস বইছে শীতল।যেই জায়গাটা ইলার সবচেয়ে প্রিয় সেখানে গিয়ে বসলো ইলা কিছুক্ষণের মধ্যেই পাড়ার বাচ্চারা এসে ডাক দিল
বাচ্চারাঃ- আপু আপু চল খেলি।

কিন্তু ইলা চুপচাপ বসে থাকল তার চোখ যেন নদীর পানির সাথে কোথাও মিলিয়ে গেছে। ইলা মৃদু স্বরে বললো
ইলাঃ- তোরা খেল আমার আজ মনটা ভেঙে দিয়েছে রে।
একটা ছোট বাচ্চা অবাক হয়ে বলল
মাসুঃ- আপু মন আবার কিভাবে ভাঙে?
বাচ্চাদের নির্দোষ প্রশ্নে ইলার বুকটা হুহু করে উঠল সে উত্তর দিতে পারল না। পরি হাসতে চেষ্টা করে বলল
পরিঃ- তোরা খেল ওর আজ মন খারাপ।
বাচ্চারা ছুটে গেল খেলতে শুধু পরি রইল পাশে। ইলার কাধে হাত রেখে বললো,
পরিঃ- শোন ইলা যার জন্য এত কান্না করছিস, সে কি আদৌও এই কষ্টের দাম বোঝে? উনি হয়তো জানেই না তুই তার জন্য কাঁদছিস।

ইলা চোখের জল মুছে ফিসফিস করে বলল পরিকে বললো,
ইলাঃ- আমি তো অকে কিছুই বলিনি রে পরি, শুধু দূর থেকে ভালোবেসেছি তাহলে কেনো এমন করল?
পরি ইলার কান্না সজ্য করতে পারছে না পরি ইলাকে জড়িয়ে ধরে বলল
পরিঃ- চুপ কর আর কেঁদিস না বোন আমার।
কিন্তু ইলার কান্না থামছিল না চোখের জল গড়িয়ে পড়ছিল নদীর বাতাসে।
সন্ধ্যার আগে ইলা ঘরে ফিরল ইলা আর পরি আজ আর সাবিহা বেগম তাদের কোনো গালি দিলো না ইলাকে দেখে হাসি মুখে বললো,

সাবিহাঃ- আজ অনেক আয়োজন করেছি তোর জন্য চিংড়ি মাছ, মুরগি, হাস পুরো রান্নাঘর ভরে গেছে সুগন্ধে।
পরিঃ- আজ তো তাহলে ইলার ঈদ যাবে ছোট মা।
সাবিহাঃ- দেখ তোর জন্য কি কি বানিয়েছি আজ তো তোর পাঁচ মিনিট পর পর খিদে লাগবে তাই না ইলা।
কিন্তু ইলা মায়ের কথা বা পরির কোনো কথার উত্তর না দিয়ে।মাথা নিচু করে নিজের রুমে ঢুকে গেল। মায়ের বুক কেঁপে উঠল এ কেমন বদলে গেলো তার মেয়ে তার?
রাত আটটার সময় বাবা রাশেদ তালুকদার রুমে ঢুকলেন তার হাতে একটা শপিং ব্যাগ। ইলার কাছে এসে তার বাবা মৃদু স্বরে বলল,

রাশেদঃ- মা এটা তোর জন্য।
ইলা অবাক হয়ে বাবার দিকে তাকাল চোখ ভেজা, কিন্তু তবুও কৌতূহল ঝিলিক দিল
ইলাঃ- কি আছে আব্বু?
রাশেদঃ- আগে খুলে দেখ।
ইলা ব্যাগ থেকে একটা ছোট্ট বক্স বের করল বক্সটা খুলতেই তার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল। ভেতরে চকচকে নতুন আইফোন একেবারে লেটেস্ট মডেল।ইলা স্তব্ধ হয়ে গেল তার বুক ভরে গেল অদ্ভুত এক আবেগে। ইলার বাবা হেসে বললেন
রাশেদঃ- মা রে তোকে দুঃখী দেখতে পারি না আমি, তোর যেটা চাই সেটা পাবি তবুও এভাবে কান্না করিস না জীবন ছোট তাই খুশি হয়ে থাক সারা জীবন।
ইলা চোখ নামিয়ে ফেলল ভেতরে ভেতরে কান্না জমে উঠছিল।কিন্তু বাবার মন রাখার জন্য সে ঠোঁটে ছোট্ট এক মুচকি হাসি আনল।

ইলাঃ- ধন্যবাদ আব্বু।
বাবা মেয়ের মুখে সেই হাসি দেখে তৃপ্ত হলেন সাবিহা বেগম কিন্তু ইলার অন্তরে তখনও ঝড় বইছে। সে জানে নতুন ফোনে হয়তো ছবি তোলা যাবে গান শোনা যাবে কিন্তু ভাঙা হৃদয়ের দাগ মুছে যাবে না। বিছানায় শুয়ে ফোনটা বুকে জড়িয়ে ধরল চোখ বেয়ে নেমে এল অশ্রু।
পরের দিন সকালে কলেজে গেল ইলা চোখে লালচে ভাব সারারাত ঘুম হয়নি। হাতের খাতাটা ব্যাগে রেখেছে ঠিকই কিন্তু তার মনটা যেন কোনো অদৃশ্য শূন্যতায় আটকে আছে। ক্লাসে ঢুকেই সে জানলার পাশে বসে গেল। বাকি সবাই গল্প করছে হাসাহাসি করছে কিন্তু ইলা নিঃশব্দ। বান্ধবীরা খেয়াল করল ইলার এই নিস্তব্ধতা,
এক বান্ধবীঃ- কি রে ইলা এত চুপ কেন, কিছু হয়েছে নাকি?
ইলাঃ- না কিছু না।
কিন্তু তার চোখ সব বলে দিচ্ছিল যে চোখ একসময় সবসময় ঝলমল করত আজ তা নিভে গেছে ক্লাস শুরু হলো।শিক্ষক পড়াচ্ছেন ছাত্রীরা খাতায় লিখছে। কিন্তু ইলার খাতায় কোনো লেখা নেই, সে শুধু শূন্য চোখে তাকিয়ে আছে বোর্ডের দিকে অথচ কিছুই ঢুকছে না মস্তিষ্কে। হঠাৎ শিক্ষক খেয়াল করলেন ইলা ক্লাসে অমনোযোগী ক্লাস টিচার কঠিন স্বরে ইলাকে বলল,
ক্লাস টিচারঃ- ইলা কি হয়েছে তোমার ক্লাসে মনোযোগ নেই কেন তোমার খাতাটা দেখাও।
ইলা খাতা বাড়িয়ে দিল টিচারের দিকে কিন্তু খাতায় কিছু নেই শূন্য পাতা। টিচারের চোখ রাগে লাল হয়ে গেলো টিচার রাগ করে বলল
ক্লাস টিচারঃ- এটা কি পড়াশোনার জায়গা নাকি দিবাস্বপ্ন দেখার জায়গা ?এত অবহেলা করলে পরীক্ষায় লিখবে কিভাবে?

ইলা কিছু বলল না শুধু নিঃশব্দে ব্যাগটা তুলে নিল,সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। কোনো কথা না বলে ক্লাস থেকে বের হয়ে গেল ইলা, সরাসরি কলেজ থেকে বাড়ি চলে এলো।
মুখটা মলিন চোখে অদ্ভুত অশ্রুর ছাপ। ঘরে ঢুকতেই মা সাবিহা বেগম খেয়াল করলেন ইলা আজকেও চুপ চাপ।ইলার মা চিৎকার করে বলল,
সাবিহাঃ- এত তাড়াতাড়ি চলে এলি কেনো ক্লাস বাদ দিয়ে আবার কি কান্ড করছিস?
ইলা কিছু বলল না চুপচাপ রুমে ঢুকে গেল, মা রাগ সামলাতে না পেরে তার পিছু নিলেন।
সাবিহাঃ- বল তোর আবার কি হলো কার সাথে ঝগড়া করেছিস নাকি কোনো ফাজলামি করেছিস?
কিন্তু ইলা নির্বাক চোখ নামানো ঠোঁট সিল করা, মা আরও রেগে গেলেন।
সাবিহাঃ- চুপ করে আছিস কেন উত্তর দে।
কোনো উত্তর নেই শুধু ভেতরে জমে থাকা দমবন্ধ কান্না অবশেষে মা বিরক্ত হয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেলেন। পাশের দরজাটা ধপ করে বন্ধ করে দিলেন। ইলা দরজা লক করে দিল ভেতর থেকে। তারপর বিছানায় বসে হঠাৎ ভেঙে পড়ল কান্নায়। হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে অশ্রু আটকে রাখার চেষ্টা করল কিন্তু পারল না। ইলা ফিসফিস করে বলল

ইলাঃ- কেনো… কেনো আপনি আমাকে ব্লক করলেন? আমার কি দোষ ছিলো আমি কি ভুল করেছি?
কথাগুলো যেন দেয়ালে আছড়ে পড়ল কোনো উত্তর এল না।শুধু কানে ভেসে আসছিল নিজের কান্নার শব্দ।দুপুরের রোদ্দুর তখন ম্লান হয়ে ঘরে ঢুকছে জানলার ফাঁক দিয়ে,ইলা দরজা বন্ধ করে চুপচাপ বসেছিল। চোখ লালচে কাঁদতে কাঁদতে ক্লান্ত হয়ে গেছে, ঠিক তখন দরজায় টোকা পড়ল।
রাশেদঃ- ইলা মা দরজা খোল।
ইলা কিছু বলল না কিন্তু ভেতর থেকে তালা ঘোরার শব্দ শোনা গেল,ভেতরে ঢুকলেন রাশেদ তালুকদার। হাতে একটা ট্রে ভাত, ডাল, ভাজি আর একটু মাছ মেয়েকে এমন অবস্থায় দেখে তার বুকটা কেঁপে উঠল।তিনি বিছানার পাশে বসলেন ধীরে ধীরে বললেন

রাশেদঃ- খেয়ে নে মা সারাদিন না খেলে তো শরীর খারাপ হবে।
ইলা মুখ ঘুরিয়ে নিল চোখে পানি চিকচিক করছে। রাশেদ তালুকদার মেয়ের হাত ধরে নরম গলায় বললেন
রাশেদঃ- দেখ আমি খাইয়ে দিচ্ছি এক চামচ খা। তুই না খেলে আমিও খাব না।
বাবার এমন কথায় ইলার চোখ আরও ভিজে গেল, আর কিছু না বলে বাবার হাতে খেতে লাগল ধীরে ধীরে। প্রতিটা কণা যেন গলার ভেতর দিয়ে নামছিল কষ্টের সাথে। খাওয়া শেষ হলে বাবা তার মাথায় হাত রেখে বললেন,
রাশেদঃ- মা বল তো কি হয়েছে তোর কে তোকে এত কষ্ট দিলো? আমি তোর বাবা আমার কাছেও বলবি না?
ইলা ঠোঁট নড়াল কিন্তু কিছু বলতে পারল না শুধু চোখ নামিয়ে চুপচাপ বসে রইল। রাশেদ দীর্ঘশ্বাস ফেললেন তারপর নরম স্বরে বুঝাতে লাগলেন

রাশেদঃ- শোন ইলা মা জীবনে সবকিছু সহজে পাওয়া যায় না।কোনো কিছু যদি না পাওয়া যায় তার মানে এই নয় যে সব শেষ। বারবার চেষ্টা করতে হয় ধৈর্য রাখতে হয়। তাহলেই সফলতা আসে তুই এখনো ছোট অনেক কিছু শিখতে হবে।এই কান্নাকাটি তোকে মানায় না।
ইলা বাবার কথা শুনছিল নিঃশব্দে চোখের ভেতর আবারো অশ্রু জমে উঠল কিন্তু বাবাকে আর কিছু বলল না। রাশেদ মেয়ের কপালে হাত রেখে ফিসফিস করে বললেন,

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ২

রাশেদঃ- তুই আমার গর্ব ইলা মা ভুলে যাস না।
কথাগুলো যেন ইলার বুকের ভেতর শক্তি হয়ে জমা হলো।
হয়তো এই প্রথমবার ইলা বুঝল কেউ একজন আছে যে তাকে নিঃশর্তে ভালোবাসে।

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৪