ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৭
ছায়া
ইলার মা সেই খেপে আছে ইলার উপরে রাগে ফেটে যাচ্ছে, হন্তদন্ত হয়ে ইলার রুমে দরজার সামনে এসে ইলার মা ইলাকে বলল
সাবিহাঃ- এই মেয়ে তুই কি করলি আজ মানুষজন তোকে দেখতে এলো, আর তুই এমন কাণ্ড করলি? মুখে কি একটুও লজ্জা নেই তোর?
ইলা কিছু বলল না সে নিজের মেকাপ উঠানোতে ব্যস্ত, আরো বেশি চিল্লানোর কারনে ইলা তার মায়ের মুখের সামনে দরজা বন্ধ করে দিলো। ইলার মা রাগে চিৎকার করে দরজায় ধাক্কা দিতে লাগলো কিন্তু তখনই রাশেদ তালুকদার এসে স্ত্রীর হাত থামিয়ে দিলেন।
রাশেদঃ- চুপ করো অতিথিরা চলে গেছে, এখন আর বাড়িতে হট্টগোল কোরো না। মেয়ে বেয়াদবির মতো কাজ করেছে ঠিকই কিন্তু এভাবে তো সমাধান হবে না।
ইলার মা দাঁতে দাঁত চেপে রাগ সামলালেন কিন্তু ভেতরে ভেতরে গর্জে উঠলেন
সাবিহাঃ- আজ যদি তুমি না থাকতে তাহলে আমি মেয়েটাকে এমন শিক্ষা দিতাম।
কথা শেষ না করেই তিনি রান্নাঘরের দিকে চলে গেলেন ইলা বিছানায় গা এলিয়ে শুয়ে ছিলো ঠোঁটের লাল লিপস্টিক এখনো ঝকঝক করছে মুখে সাদা মেকআপ শুকিয়ে এক অদ্ভুত ছোপ ছোপ দাগ হয়ে গেছে। আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখে আবারও অদ্ভুত এক তৃপ্তি পেলো। ঠিক তখনই দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো পরি।পরি দরজা বন্ধ করেই হো হো করে হেসে উঠলো
পরিঃ- ওফফফ ইলা তুই আজ কি কাণ্ডটাই না করলি আমি তো হাসতে হাসতে মরে যাচ্ছি। ভাবছিস সেই ধার্মিক আংকেল আর আন্টির মুখের চেহারা ছেলেটার চোখ ও দেখার মতো ছিলো হাহাহাহা।
ইলাঃ- হাসবি না আমি চাইছিলাম ওরা যেনো আমাকে অপছন্দ করে আর দেখেছিস না কেমন করে পালালো।
পরি এসে বিছানায় বসে ইলাকে বলল
পরিঃ- কিন্তু শোন এভাবে তোকে কেউ বুঝবে না তোর মা তো রেগেই মরবে।
ইলাঃ- আমার মায়ের রাগ আমি সামলাবো কিন্তু আমাকে না জিজ্ঞেস করে বিয়ে ঠিক করবে এটা আমি কোনোদিন মেনে নেবো না।
পরি একটু চুপ করে রইলো তারপর মজা করে বললো
পরিঃ- তবে তোর কাণ্ডে মজা আছে বটে এমন মেয়ে কোথাও আছে নাকি নিজের বিয়ে ভাঙতে ভূতের সাজ।
দুজনেই হেসে ফেললো ঠিক তখন দরজায় টকটক শব্দ হলো। রাশেদ তালুকদার দাঁড়িয়ে আছেন পরি উঠে দাঁড়িয়ে আস্তে করে বললো
পরিঃ- ইলা থাক আমি পরে আসবো।
বলেই বাইরে বের হয়ে গেলো রাশেদ তালুকদার দরজা বন্ধ করে ভেতরে এলেন তার চোখে কোনো রাগ নেই, বরং একধরনের কষ্ট মিশ্রিত কঠিন দৃষ্টি।
রাশেদঃ- কি হলো ইলা তুই এমন করলি কেন আমাকে কি এভাবে লজ্জা দেওয়ার জন্যই জন্ম নিয়েছিলিস?
ইলা মাথা নিচু করে বসে রইলো চোখে অশ্রু কান্নায় বুক ফেটে যাচ্ছে কিন্তু ইলা কিছু বলল না। ইলার বাবা নরম গলায় বললেন
রাশেদঃ- আমি তোকে কিচ্ছু বলিনি এতদিন পড়াশোনা করতে দিয়েছি নিজের মতো থাকতে দিয়েছি। কিন্তু আজ তুই যা করলি সেটা ভদ্র সমাজে মানায় না মা।
ইলার বুক ভার হয়ে এলো সে হঠাৎ বলে উঠলো
ইলাঃ- তাহলে তোমরা কেনো আমাকে না জানিয়ে আমার বিয়ে ঠিক করতে গেলে। আমার কি কোনো মতামত নেই? আমি কি খেলনা যে পছন্দ হলো কি হলো না সেটা নিয়ে শুধু তোমরাই সিদ্ধান্ত নেবে।
রাশেদঃ- মারে এই বয়সটা ভুলের তাই আমি আর তোর মা ভেবেছিলাম তোকে বিয়ে দিবো।
ইলাঃ- আমি এখন বিয়ে করতে চাই না আব্বু আমি পড়াশোনা করতে চাই আমি নিজের মতো করে বাঁচতে চাই। আমার বয়স হয়েছে মানেই কি এখনই আমার ঘাড়ে বিয়ে চাপিয়ে দিতে হবে?
রাশেদঃ- আজ মনে হলো আমি তোকে চিনিই না তুই এত রেগে গিয়ে এমন কাণ্ড ঘটাবি আমি ভাবিনি।
ইলাঃ- আমি ভুল করিনি আব্বু আমি শুধু দেখিয়েছি যে আমি রাজি নই।যদি তোমাদের মনে হয় আমি অপরাধ করেছি, তাহলে শাস্তি দাও কিন্তু আমি আমার কথা বলবোই আমি এখন বিয়ে করতে চাই না।
রাশেদ মেয়ের দৃঢ় কণ্ঠ শুনে গভীরভাবে তাকিয়ে রইলেন। বুকের ভেতরে কেমন যেনো একটা গর্ব আর কষ্ট একসাথে খেলে গেলো। তিনি ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন দরজার দিকে হাঁটলেন। দরজা খুলে বের হওয়ার আগে থেমে শুধু একটাই কথা বললেন
রাশেদঃ- তোর মা বুঝবে না কিন্তু আমি তোর মনের কথা বুঝতে পারছি। তবে মনে রাখিস এই জেদ যেনো তোর ভবিষ্যৎ নষ্ট না করে।
ইলার বাবা চলে গেলো দরজা বন্ধ হয়ে গেলো বিছানায় বসে থাকা ইলা চোখ বন্ধ করে গভীর নিঃশ্বাস ফেললো। মনে মনে ভাবলো
ইলাঃ- হয়তো আব্বু আমাকে পুরোপুরি বোঝেনি কিন্তু অন্তত আমার কথা শুনেছে। আমি এখনো স্বাধীন আমার জীবন এখনো আমার হাতে।
ইলা বিছানায় বসে নিস্তব্ধ হয়ে রইলো কিছুক্ষণ কিন্তু বাইরে থেকে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে তার মায়ের গজগজানি আর রাগে ভরা বকাবকি
সাবিহাঃ- এই মেয়ে একেবারে নষ্ট হয়ে গেলো এভাবে সাজতে লজ্জা করলো না। মানুষজন তাকে দেখতে এলো আর সে ভুতের মতো সেজে সবাইকে হাসির খোরাক বানালো। দিন দিন বেয়াদব হয়ে যাচ্ছে, ইলার চোখ হালকা লাল হয়ে উঠলো। মনে হলো বুকের ভেতরে যেনো একটা আগুন জ্বলছে। কানে ঢুকছে প্রতিটা শব্দ কিন্তু সে চায় না এসব শুনতে। হঠাৎ উঠে গিয়ে ইলা তার রুমের কোণে রাখা হোম সাউন্ড সিস্টেম অন করলো।এক নিমিষে ভেতরটা কেঁপে উঠলো চারিদিকে ভেসে গেলো একেবারে সাউন্ড ইলা আর কিছু শুনতে পাচ্ছে না।
O billo teri akkh qatal, Kare lakh qatal
Jadon move kare,Kare lakk qatal
Asla vi load kare,Talja talja
Shad akkhaan naal karne, Tu bas qatal
O billo teri akkh qatal, Kare lakh qatal
Jadon move kare, Kare lakh qatal
Asla vi load kare, Talja talja
Shad akkhaan naal karne, Tu bas qatal
সাউন্ডের তীব্রতায় জানালার কাচ কেঁপে উঠলো, পর্দা উড়তে লাগলো। ইলা মিউজিকের তালে শরীর নাচাতে শুরু করলো। হাত উঁচু করে ঘুরছে, চুল উড়ছে, পায়ের শব্দ মেঝেতে প্রতিধ্বনি তুলছে।যেনো সে দেখিয়ে দিচ্ছে “আমি আমার মতো করেই বাঁচবো।
বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা ইলার মা আরো খেপে উঠলেন চিৎকার করলেন
সাবিহাঃ- এই মেয়ে গান বন্ধ কর নাহলে তোর কপালে খারাপ আছে আজ।
কিন্তু ইলা কোনো উত্তর দিলো না শুধু স্পিকারের ভলিউম আরো বাড়িয়ে দিলো। রাশেদ তালুকদার ইলার কান্ড দেখে বাড়ি থেকে বের হচ্ছিলেন। তখন কিছু একটা ভেবে পেছনে তাকিয়ে দেখে স্ত্রীকে রান্নাঘরের দিকে যাচ্ছে । তিনি বুঝতে পারলেন আজ কোনো কথায় কাজ হবে না। এক নিঃশ্বাস ফেলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেন।
অন্যদিকে ইলার মা প্রচণ্ড রাগ নিয়ে রান্নাঘরে গিয়ে হাঁড়ি-পাতিল নেড়েচেড়ে শব্দ করতে লাগলেন। মনে মনে গজগজ করতে লাগলেন
সাবিহাঃ- আমার কথা না শুনে দেখাই যাক কেমন চলে ও।
আর ইলা সে তখনও স্পিকারের সামনে ঘুরছে, ঠোঁট মিলাচ্ছে গানের সাথে চোখ বন্ধ করে দুনিয়ার সব ঝামেলা ভুলে যাচ্ছে।
রাত প্রায় সাড়ে দশটা বাজে সারা বাসা নিস্তব্ধ হয়ে আছে। নিচের ঘরে ইলার মা এখনো কাজ সারছেন,আর ইলার বাবা ড্রয়িংরুমে টিভি চালিয়ে বসে আছেন।কিন্তু ইলার মাথায় এখনো দিনের সব ঘটনা ঘুরপাক খাচ্ছে। মায়ের বকাঝকা, বাবার অভিমান ভাঙানোর চেষ্টা, পরির সাথে খুনসুটি সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত অনুভূতিতে বুকটা ভারী হয়ে আছে। চোখে ঘুম আসছে না বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েও মনে হলো কারো সাথে কথা বলতে হবে নাহলে বুকের ভেতরের কথাগুলো যেন গলাটাই চেপে ধরবে। ইলার হাত প্রায় অজান্তেই ফোনের দিকে এগোল। স্ক্রল করতে করতে শাওনের নামটা চোখে পড়তেই ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটলো। অনেক দিন ধরে তেমন কথা হয়নি অথচ ওর সাথে একটু কথা বললেই মনটা অনেক হালকা লাগে। একবার ভেবে নিলো মেসেজ দেবে নাকি দেবে না। অবশেষে বুকের ভেতর সাহস জোগাড় করে একটা মেসেজ টাইপ করলো
ইলাঃ- হ্যালো জেগে আছেন নাকি?
কিছুক্ষণ পর রিপ্লাই এলো
শাওনঃ- জেগে আছি কিন্তু এত রাতে কি মনে করে মেসেজ দিয়েছো।
ইলা চোখ বড় করে ফোনের দিকে তাকালো হার্টবিট বেড়ে গেলো ইলা সঙ্গে সঙ্গে লিখলো
ইলাঃ- আপনার কথা মনে পড়েছে তাই।
শাওন- আমি তোমার কে যে আমার কথা মনে পড়ে?
ইলার ভেতর হালকা হাসির ঢেউ বয়ে গেল তারপর একটু থেমে সাহস করে লিখলো
ইলাঃ- আপনার সাথে একটা কথা বলতে চাইছিলাম।
শাওনঃ- বলো।
ইলার আঙুল কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে রইলো কীবোর্ডে তার পর হঠাৎ করেই টাইপ করলো
ইলাঃ- আমরা কি বন্ধু হতে পারি?
মেসেজ পাঠানোর পরপরই বুকের ভেতর ধুকপুকানি বেড়ে গেল।যেন পরীক্ষার রেজাল্টের অপেক্ষা করছে শাওনের রিড করলো কিন্তু রিপ্লাই আসতে সময় নিলো। সেই ক’টা মিনিট ইলার কাছে যেন ঘণ্টার মতো লাগলো অবশেষে রিপ্লাই এলো
শাওনঃ- একটা ছেলে আর একটা মেয়ে কখনো বন্ধু হতে পারে না।
ইলার চোখ কপালে উঠলো ইলা মনে মনে হাসলো তার পর সঙ্গে সঙ্গে লিখলো
ইলাঃ- কি বললেন কিন্তু কেন?
শাওনঃ- কারণ শেষ পর্যন্ত কোথাও না কোথাও একজনের মনে অন্যরকম কিছু জাগবে তখন আর বন্ধুত্ব থাকবে না।
ইলার ঠোঁটে এক চিলতে দুষ্টু হাসি খেললো ইলা দেরি না করে লিখলো
ইলাঃ- তাহলে সহজ উপায় আছে আমাকে বউ বানায় নেন। তখন তো আর কোনো সমস্যা থাকবে না।
মেসেজ সেন্ড করার পর ইলা নিজেই হেসে উঠলো মনে হলো যদি এখন ওর সামনে থাকতো তাহলে হয়তো চোখ কপালে তুলে তাকাতো। সত্যিই তাই হলো শাওন রিপ্লাই করলো
শাওনঃ- এই মেয়ে কি সব বলছো তুমি জানো তো কি লিখেছো?
ইলাঃ- আরে মজা করলাম আপনি তো একদম সিরিয়াস হয়ে গেলেন।
শাওনঃ- দেখো মেয়ে মজা করারও একটা সীমা আছে। এমন কথাগুলো নিয়ে হালকাভাবে ফাজলামি করবে না। এগুলো ছোটখাটো কথা নয় বুঝলে?
এইবার ইলার হাসি থেমে গেল ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপচাপ রইলো। শাওনের কথা গুলো যেন কানে বাজলো শান্ত অথচ গম্ভীর ওকে মনে হলো একেবারেই অন্যরকম। কিছুক্ষণ পরে সে শুধু লিখলো
ইলাঃ- ঠিক আছে আর বলবো না।
শাওন- ভালো তবে একটা কথা বলি তোমার সাথে কথা বলতে আমার ভালো লাগে। কিন্তু তুমি যদি এভাবে ফালতু মজা করো তাহলে একদিন হয়তো আর কথা বলবো না।
ইলাঃ- না না প্লিজ এমন কথা বলবেন না আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি এভাবে আর মজা করবো না।
কিছুক্ষণ পর রিপ্লাই এলো শুধু একটি ছোট্ট ইমোজি সেই ইমোজিটুকুই যেন ইলার সারা দিনের ক্লান্তি মুছে দিল। ঠোঁটে আবার হাসি ফুটলো চোখে ভেসে উঠলো অচেনা এক প্রশান্তি। রাত তখন গভীর হলেও ইলার মনে হলো আজকের রাতটা হয়তো নতুন কিছুর শুরু ইলা ঘুমিয়ে পড়লো।ভোরবেলা ঘুম ভাঙতেই ইলার প্রথমেই মনে পড়লো গত রাতের শাওনের সাথে কথোপকথনের কথা। ঠোঁটে হালকা হাসি খেলে গেল। জানালা খুলতেই সকালের ঠান্ডা হাওয়া এসে মুখে লাগলো একবার গভীর শ্বাস নিলো, তারপর বিছানা গুছিয়ে গোসল করতে চলে গেল। গোসল সেরে আয়নার সামনে দাঁড়ালো। হালকা নীল রঙের সালোয়ার কামিজ বের করে পড়লো, চুলগুলো খুলে রেখে হালকা করে ক্লিপ মেরে দিলো একেবারেই সাদামাটা লুক। ব্যাগ কাঁধে নিয়ে নাস্তার টেবিলে বসলো।
কিন্তু ইলার মা তখনো রেগে আছেন চোখাচোখি হলেও একটা কথাও বললেন না শুধু নাস্তার প্লেটটা সামনে এগিয়ে দিলেন। ইলাও চুপচাপ খেতে লাগলো ভেতরে একটু খারাপ লাগলেও মুখে কিছু প্রকাশ করলো না। খাওয়া শেষ করেই রিকশা নিয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে গেল। কলেজে ঢুকতেই ভিন্ন একটা পরিবেশ ক্লাসে আজকে নতুন চ্যাপ্টার শুরু হলো। ইলা মনোযোগ দিয়ে খাতা খুলে নোট নিচ্ছিলো।তার বন্ধুদের কেউ কেউ খুনসুটি করলেও ইলা তেমন পাত্তা দিলো না। আজকে ওর ভেতর অন্যরকম এক সিরিয়াসনেস কাজ করছিলো। মনে মনে ভাবছিলো যদি জীবনটা একটু নিজের মতো করে গড়া যেতো।
ক্লাস শেষ হলো দুপুর নাগাদ কলেজ ক্যান্টিনে কয়েকজন বান্ধবীর সাথে লাঞ্চ করলো। হাসাহাসি চললেও ইলা আজ তেমন অংশ নিলো না।খাবার খেতে খেতেই মনে হচ্ছিলো বাড়ি গেলে আবার হয়তো মায়ের সাথে ঠান্ডা যুদ্ধ চলবে। বিকেলে বাসায় ফিরে ফ্রেশ হয়ে টেবিলে বসলো পড়াশোনায় মন দিলো। গাণিতিক অংক থেকে শুরু করে ইংরেজি প্রবন্ধ সবকিছুতেই আজ মনোযোগী। মনে হলো যতটা সম্ভব বইয়ের ভেতর ডুবে থাকা দরকার বাইরের ঝামেলা থেকে দূরে থাকতে।
সন্ধ্যায় লিভিংরুমে সবাই মিলে চা খাচ্ছিলো সেই সময় ইলার বড় বাবা এসে বসলেন স্নেহভরা কণ্ঠে বললেন
করিম উদ্দিনঃ- ইলাবাবু কালকের ওই কান্ডটা ঠিক করোনি কিন্তু অতিথিরা কী ভাবলো বলো তো তুই তো আমাদের সবার মান-সম্মানের জায়গা।
ইলা চুপ করে রইলো কিছুক্ষণ তারপর মুচকি হেসে তার বড় বাবাকে বললো
ইলাঃ- তাহলে তোমরাও আর এমন কাজ করবে না আমার কাছ থেকে কিছু না শুনে যদি ছেলে দেখতে আনো, আমি তো নিশ্চয়ই চুপ করে বসে থাকবো না।
কলিম উদ্দিনঃ- আরে বাবা ওর তো মস্তিষ্ক খারাপ না, পুরো বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর।
ইলা চোখ ঘুরিয়ে দিলো তারপর একটু দুষ্টুমি ভরা গলায় বললো
ইলাঃ- আর একটা কথা আমি পরির থেকে ছোট পরিকে আগে বিয়ে হতে দেখবো, তারপরে আমি বিয়ে করবো। না হলে কিছুতেই রাজি হবো না।
ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৬
এই কথা শুনে পরি হেসে লুটোপুটি খেলো বাকিরাও হাসিতে ফেটে পড়লো। ইলার মা যদিও ভেতরে ভেতরে রেগেই আছেন তবুও হাসি চেপে রাখতে পারলেন না।
সেদিন সন্ধ্যার পর থেকেই যেন ঘরের ভেতরকার টেনশনটা একটু হালকা হয়ে গেল। ইলা নিজের ঘরে ফিরে গান শুনতে শুনতে পড়াশোনা চালিয়ে গেলো। মাঝে মাঝে শাওনের কথা মনে পড়লো কিন্তু সে আর কোনো মেসেজ করলো না। শুধু মনে মনে হাসলো। দিনটা শেষ হলো একধরনের তৃপ্তি আর দুষ্টু মেজাজের সাথে। ইলার কাছে মনে হলো ওর জীবনটা ঠিক নিজের মতো করেই চলবে কেউ জোর করে কিছু চাপিয়ে দিতে পারবে না।
