ভালোবাসার সীমানা পেরিয়ে পর্ব ৯৮
প্রিয়স্মিতা তেহজীব রাই
প্রিয়তাকে কোলে নিয়ে পায়ে হেঁটে ফেরীঘাট অবধি পৌঁছতে পৌঁছতে সন্ধ্যা নেমে যায়।
অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে। চারদিকে অন্ধকার নেমে আসছে ধীরে ধীরে।
ব্যাঙ ও ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকে মুখরিত হচ্ছে চারপাশ।
দৃশ্যমান সমুদ্রের শেষ প্রান্তে এক ফালি লালচে সূর্যের অবশিষ্টাংশও ডুবন্ত প্রায়।
প্রিয়তাকে কোলে নিয়ে একটা ছোট্ট নৌকায় এসে বসে শুদ্ধ।
ফেরী ঘাটে ছোট ছোট নৌকা ব্যতীত একটা বড়ো ট্রলার কিংবা জাহাজ কিছুই নেই।
আজ হয়তো কোনো জাহাজই যাবে নাহ্ কেরালা।
দলে দলে মাঝিরা ফিরে আসছে নৌকা নিয়ে।
ডিঙি নৌকার এক কোণে পানিতে পা ডুবিয়ে বসে আছে শুদ্ধ। তার কাতর দৃষ্টি আটকে আছে বুকের উপর।
যেখানে চড়ুই পাখির মতো একটা ছোট্ট মেয়ে চুপটি করে পড়ে আছে।
এক সেকেন্ডের জন্য ও চোখের পলক ফেলতে পারছে নাহ্ শুদ্ধ।
কী যেনো একটা মায়াবী টান তাকে আটকে রেখেছে।
কেবল মনে হচ্ছে এক মুহুর্ত না দেখা মানে এক মুহূর্তের অপচয়।
এই বিশাল ক্ষতি আর কিছুতেই ভরাট হবে নাহ্ কখনো।
দেখতে দেখতে ধূসর বর্ণ নয়ন জোড়া ক্লান্ত হয়ে যায় এক সময়।
কিন্তু ক্লান্ত হয় নাহ্ শুদ্ধ। প্রতিদিন লুকিয়ে চুরিয়ে দেখার প্রচেষ্টায় ক্লান্ত শুদ্ধ আজ প্রাণ ভরে নয়ন জুড়িয়ে দেখতে চায়।
মেয়েটার ছোট্ট খাট্ট মুখের আদল খানা কতো মায়াবী, কতো স্নিগ্ধ।
মায়াবী মুখের আদলে লেপ্টে আছে সৃষ্টির সমস্ত মায়া। অন্তত শুদ্ধর মতে তো তাই।
দিনের শেষ এক ছিটে রক্তিম আলো এসে আঁচড়ে পড়েছে মায়াবতীর নরম গালে।
এই দৃশ্য কী কয়েক মুহূর্তের দেখায় কী প্রাণ জুড়ায়?
এই স্বপ্নরাজ্যের মায়াবতী হৃদয়হরণী স্বপ্নচারিণী তার নয়—এই কথাটা মানতে হবে তাকে?
এই নারী নাকি তার জন্য চির নিষিদ্ধ!
এই নারীকে কোথাও সে নিজের করে পাবে নাহ্।
নাহ্ দুনিয়াতে না আখেরাতে—দুই জগতেই এই নারীকে তার পরনারী মানতে হবে?
আশ্চর্য! এটা কী এক নিরপরাধের উপর ঝুলুম নয়?
এই নারী নাকি অন্য কারো পাঁজরের হাড় থেকে তৈরি?
তাহলে এই নারীকে দেখলে তার পাঁজরে এত টান লাগে কেনো? কেনো এতো আপন মনে হয়?
ভাবনার অতলে হারিয়ে শুদ্ধ আবিষ্কার করলো তার সাথে অন্যায় করা হয়েছে।
অবিচার হয়েছে তার উপর।
এই সুন্দর মায়াবী মুখের মেয়েটা তার নয়—এই নিষ্ঠুরতম সত্যটা কেনো মানতে হবে তাকে?
এতো ভালোবাসার পরে ও কেনো দূরে থাকতে হবে? কেনো ভালোবাসা যাবে নাহ্?
কেনো?
নিজের করা বোকা বোকা প্রশ্নে নিজেই হেসে উঠলো শুদ্ধ। নিজেই উত্তর করলো।
— “কারণ তুমি আমাকে চাও নাহ্!
তুমি আমাকে ভালোবাসলে নাহ্ নীল চোখের মেয়ে।
একটাবার সুযোগ দিলে না নিজেকে প্রমাণ করার।
জীবনে একটাবার আমার চোখে চেয়ে দেখলে নাহ্। যদি একটাবার দেখতে তবে ও কী পারতে আমার ভালোবাসাকে উপেক্ষা করতে?
আমার ভালোবাসাকে এতো অবজ্ঞার সহিত ছুড়ে ফেলতে কী তোমার বুকে বাঁধতো নাহ্?
এক তোমাকে চাইতে চাইতে আমি সর্বস্বান্ত হয়ে গেলাম। নিজের পরিচিতি, নিজের ঘরবাড়ি, কে আমি, কী আমি—সব ভুলে গেলাম কেবল তোমাকে চাওয়ার নেশায় মত্ত রইলাম।
আমি জানি আমি তোমাকে পাবো নাহ্। তবু ও দেখো, সবটা জেনেও বেহায়ার মতো চেয়ে বসি বার বার।
এই তুমি আবার আমাকে বেহায়া ভাবো নাহ্ তো?
ভাবলে ও ভাবো। সত্য স্বীকার করতে আমার কোনো কালে দ্বিধা নেই।
এক তোমাকে পাওয়ার লোভে কী আমি কী হয়ে গেলাম, কিন্তু পেলাম কী?
সবাই বলে তোমার অনুকরণে কেউ এসেছে তাকে কেনো আপন করি নাহ্? তোমাকেই কেনো লাগবে?
সে সকল নির্বোধ হতবুদ্ধিদের কীভাবে বুঝাই—কমলা আর মালটা কী এক?
চেহারার সাদৃশ্য দ্বারা কী কখনো অনুভূতির স্থানান্তর সম্ভব।
সেই অবুধ প্রাণীদের কিভাবে বুঝাই—তুমি কাছ এলে বুকের ভেতর যে চিনচিনে ব্যাথাটা হয়, ওই ব্যাথাটা খুব এডিক্টেবল। সেটা অন্য কারো কাছে পাওয়া সম্ভব নয়।
লজ্জায় কথা তোমার কাছে কী গোপন করবো বলো?
এই উপলব্ধিটা করতে আমার অনেক দেরি হয়েছে।
তুমি অন্যকারো হচ্ছ—এই হতাশায় জর্জরিত হয়ে তাদের মতো আমি ও এক সময় ভেবে ছিলাম যে তোমার মতো দেখতে সে নিশ্চই তোমার মতোই হবে।
তাকে আপন করে নিলে হয়তো তোমার অভাবটা আমাকে আর পুড়াবে নাহ্। সব ব্যাথা এবার নিশ্চই ঘুচে যাবে।
আলাদা কিছু অনুভব হবে নাহ্—এই আশায় অন্যকাউকে আপন করে নেওয়ার চেষ্টা করে ছিলাম।
ভালোবাসার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু বিশ্বাস, এই ভুলধারণা আমার প্রথম কয়েক মুহূর্তেই ভেঙে গেছে।
কিভাবে জানো?
এই যে তোমাকে ছুঁয়েছি, তুমি আমার বুকে আছো, তোমার নিঃশ্বাসের গরম ভাব আঁচড়ে পড়ছে আমার বুকে—বিশ্বাস করো, তোমার উপস্থিতিতে ধীরে ধীরে শরীরের কার্যক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে আমার।
নিঃশ্বাস নিতে পারছি নাহ্। নিজেকে হাঁপানি রোগী মনে হচ্ছে আমার।
হাত পা কাপছে।
পুরো শরীর কাঁপিয়ে জ্বর আসছে আমার। প্রতিটি শরীরের শিরায় শিরায়, রক্তের প্রতিটি ফোঁটায় ফোঁটায় অনুভব করছে তোমাকে।
কিন্তু অন্যকারো সাথে ঘনিষ্ট হয়েও দেখেছি আমার নার্ভগুলো ডিফরেন্ট কিছু ফিল করে নাহ্।
অন্যকারো স্পর্শে এই অনুভূতি নেই, এই টনটনে জ্বালাটা নেই। তুমি ব্যতীত কৃত্রিম লাগে সবকিছু। নারীসঙ্গ লাগে অসহ্যকর।
আমি অন্ধ হলেও হয়তো তোমাকে ঠিক চিনে নিতাম।
তাই তো তাকে শুধু শুধু মিথ্যে মায়ার বাঁধনে ধরে রাখিনি।
ভালোবাসা নেই তাই ভালোবাসার ছলনা করিনি। মুক্ত করে দিয়েছি তাকে। কারণ আমি বুঝে গেছি—এই ভুবনে আমার পক্ষে আর দ্বিতীয় কোনো নারীর প্রেমে পড়া কোনোদিন ও সম্ভব নয়।
দ্বিতীয় নারীর স্পর্শ আমাকে আঘাত করে। আমার দেহ আমাকে চিৎকার করে বলে—আমি বিশ্বাসঘাতক।
আমি তোমার প্রতি একনিষ্ঠ আচ্ছন্ন।
আমার কাছে ভালোবাসা অর্থ শুধুই তুমি।
তুমি আমাকে নাইবা ভালোবাসলে, আমি তো বাসি।
তোমাকে এই জীবনে নাইবা পেলাম।
এই জীবনে নাইবা হলো তোমার আমার লাল নীল সংসার।
নাই বা হলো আমাদের এক ঝাঁক ছানাপোনা।
তবু ও শেষ অবধি আমার ভালোবাসা তুমি।
তুমি আমার অপেক্ষা!
যার অবসান দুনিয়াতেও নেই, কেয়ামতেও নেই।
চিরন্তন তপস্যা তুমি আমার—যার ফল নেই, কেবল সাধনা আছে।”
কথা গুলো বলার সময় টপ টপ করে ফোঁটা ফোঁটা অশ্রু ঝরে পড়তে লাগলো প্রিয়তার নরম গালে।
চাঁদের রূপোলী আলোয় পানির বিন্দু গুলো চকচক করছে।
প্রণয়ের সতর্কবাণী বেমালুম ভুলে বসে শুদ্ধ।
প্রিয়তার মাখনের ন্যায় তুলতুলে গালে বৃদ্ধাঙুল বুলাতে বুলাতে ব্যাথাতুর কন্ঠে বলে।
— “তুমি যে আমার নও, মাঝে মাঝে এই ব্যাপারটা বড়ো অবিশ্বাস্য ঠেকে আমার কাছে জানো?
তুমি যখন শাড়ি পড়ো, চোখে কাজল দাও—কোনদিক কী লক্ষ্য করেছো, কতটা তৃষ্ণা নিয়ে আকুল চোখে দেখি তোমার।
তোমার কপালের ছোট্ট কালো টিপটা যখন বেখেয়ালিতে মাঝে মাঝে বেকে যায়, তখন বড্ড লোভ হয় হাতটা নিশপিশ করে টিপটাকে তোমার টানানো দুই ভ্রুয়ের মাঝখানে স্থাপন করতে।
ঠোঁটের উষ্ণ স্পর্শে তোমার ভুলটাকে শুধরে দিতে।
তোমার পেলব গাল দুটোতে ভালোবাসার উষ্ণ আলপনা আঁকতে।
তোমার উপর অধিকার ফলাতে।
কিন্তু আমার অধিকারের সীমাবদ্ধতা আমাকে মনে করিয়ে দেয়—তোমার উপর এক চুল অধিকার আমার নেই।
তুমি আমার নও। তোমার সমস্ত সাজ সজ্জা, সকল আয়োজন কিছুই আমার জন্য নয়।
তুমি শাড়ি পড়ো অন্যকারো জন্য।
আলতা পরো অন্য কারো জন্য।
তুমি রোজ নিজেকে সাজাও অন্যকারো জন্য।
তোমার সমস্ত রূপ লাবণ্য তৃপ্তি নিয়ে ভোগ করার অধিকার অন্যকারো।
তোমার জীবনে আমার ভূমিকা একজন নিরব দর্শক মাত্র।
রাতে ঘুমাতে পারিনা জানো। রাতের পর রাত জেগে থাকি। যদি কখনো ক্লান্তিভরে তন্দ্রা নামে, মাঝরাতে চিৎকার দিয়ে জেগে উঠি—মনে পড়ে যায়।
এখন হয়তো তুমি অন্যকারো বাহুডোরে নিশ্চিন্তে তন্দ্রা মগ্ন আছো। নয়তোবা…”
এতটুকু বলে থেমে যায় শুদ্ধ।
বুকে ব্যাথা হচ্ছে প্রচুর। সমুদ্র পারের তরতরে হওয়া, কিন্তু তবু ও অক্সিজেন কম মনে হয়।
চাঁদের নরম আলোয় ফর্সা মুখটা ঝিলিক দিচ্ছে। মস্তিষ্কের কঠোর শাসন বাণী উপেক্ষা করেও মন চাচ্ছে ভুল ত্রুটি করে হলে ও একবার ওই চকচকে কপালে ঠোঁট ছোঁয়াতে।
চোখ বুঝে লম্বা লম্বা নিঃশ্বাস টানলো শুদ্ধ।
অবুঝ মনের পাগলাটে ইচ্ছাখানা বরাবরের ন্যায় পদতলে পৃষ্ঠ করলো।
সে তার সীমানার এক চুল ও লঙ্ঘন করতে চায় নাহ্। এখানে সামান্য তম সীমা ছড়ানো মানে নিশ্চিত মৃত্যু।
পবিত্রতার প্রতীককে সে হারাম স্পর্শ কখনো দিতে চায় নাহ্।
শুদ্ধ কান্না ভেজা কন্ঠে ফের বিড়বিড় করে।
— “নিজেকে বুঝাতে পারি নাহ্—তুমি অন্য কারো স্ত্রী, অন্যকারো অর্ধাঙ্গিনী, অন্যকারো সয্যাসঙ্গিনী।
তুমি যেই পাশটায় মাথা রেখেছো, ওই পাশটায় কী অসহ্য একটা ব্যাথা হয়—এই ভাবনাটাই অর্ধেক আমার জান নিয়ে নিচ্ছে।
দুনিয়া জ্বালিয়ে দিয়ে ইচ্ছে করে যখন মনে হয় তুমি অন্য পুরুষের বুকে আছো, অন্য পুরুষ তোমাকে স্পর্শ করছে, অন্য পুরুষ তোমার নিখুঁত দেহের ভাঁজে নিজের সুখ খুঁজছে।
অন্য পুরুষ তোমায় কামনার নজরে দেখছে, তোমাকে দিয়ে তৃপ্ত করছে নিজের পুরুষত্ব।
এসব ভাবনা আমাকে মৃত্যু দেয় নাহ্, তবে জীবন্ত শরীরে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করায় তিলেতিলে প্রতি মুহূর্তে।
আর তোমার রোজ সকালের ভেজা চুল?
উফফফ।
আমি চাই তুমি সুখে থাকো।
কিন্তু অন্যকারো সাথে সুখে আছো এটাও মানতে পারি নাহ্। ভালোবাসিতো খুব, তাই হয়তো কষ্ট হয়।
কিন্তু তোমার সুখে একটু ও নজর দিতে চাই নাহ্—বিশ্বাস করো। আমি চাই তুমি সুখে থাকো। সুখের এক কঠিন অসুখে বার্ধক্য কাল অবধি ভোগো।
কখনোই যেনো তোমার অসুখের নিরাময় না হয়।
দোয়া করি—তোমার এই সুখটুকু অক্ষয় হোক। তোমার ভালোবাসা দীর্ঘায়ু হোক।
তোমার এই সুখ টুকু বাঁচিয়ে রাখার জন্য এই অধম নিজেকে অবশিষ্ঠ প্রাণটুকু ও দিয়ে দেবে।
তোমার কাছে একটা আবদার করলে তুমি কী বেশি রাগ করবে হৃদয়হরণী?”
কোনো উত্তর ভেসে এলো নাহ্।
শুদ্ধ ফের বললো।
— “আমি তোমার চোখের পাতায় একটা চুমু খাই। খুব আস্তে করে খাবো। তুমি রাগ করো নাহ্ কেমন?”
এবারও উত্তর এলো নাহ্।
কাপা কাপা ঠোঁট দুটো চোখের অনেক কাছে নিয়ে গিয়ে ও স্পর্শ করলো নাহ্ শুদ্ধ।
খুব কাছে এগিয়ে গিয়ে ও নিজেকে গুটিয়ে নিলো। তাচ্ছিল্য হেসে বিড়বিড় করে বললো—
— “আমানতের খেয়ানত করতে পারবো নাহ্।
তোমাকে স্পর্শ করা বারণ প্রিয়া।”
— “তোমায় দেখতে দেখতে আমি যেনো অন্ধ হয়ে যায়। দুনিয়াতে তুমি ছাড়া কিছু দেখার তো আর নাই। তোমার ভালোবাসা ছাড়া কোনো কিছুই এমন সায়না।
আমার হৃদয় একটি আয়না। সেই আয়নায় তোমার মুখটি ছাড়া কিছুই দেখা যায় নাহ্।”
সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত অনেক হচ্ছে।
এখনো ফিরছে নাহ্ প্রণয়।
সময় বাড়ার সাথে সাথে চিন্তা বাড়ছে হুরহুর করে।
রাত কতো হবে বলতে পারবে নাহ্ শুদ্ধ। ফোনের ব্যাটারি খতম হয়ে গেছে কবেই।
পুরো ফেরীঘাট জনমানব শূন্য। যে দুই একজন মাঝি কিংবা জেলে জেগে ছিলো, তারাও নৌকা কিংবা ট্রলারের ভেতর চলে গেছে।
চাঁদনী রাত। দূরের প্রান্তর থেকে জংলী শেয়ালের আওয়াজ ভেসে আসছে।
প্রিয়তাকে বুকের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে ধরে বসে আছে শুদ্ধ। মাথার উপর জ্বলজ্বল করছে থালার মতো বিশাল চাঁদ।
শুদ্ধ চাইলে প্রিয়তাকে ফেলে প্রণয়ের খুঁজে যেতে পারবে নাহ্। আর সাথে নিয়ে যাওয়া তো সম্ভবই নয়। তাহলে এখনো কেনো আসছে নাহ্ ছেলেটা?
সব ঠিক আছে তো?
একের পর এক খারাপ চিন্তা শুদ্ধকে ঘিরে ধরছে চারপাশ থেকে।
চোখ বুঝে পড়ে আছে শুদ্ধ।
হটাৎ বাতাসে ব্লেডের ঘুরঘুর আওয়াজ কানে আসতেই তড়াক করে চোখ মেলে তাকায়।
উপরে দৃষ্টি পাত করতেই দেখে কালো একটা হেলিকপ্টার বাতাসের চাদর বেদ করে নিচে নেমে আসছে।
হেলিকপ্টার টা চোখে পড়তেই বুকের উপরে থাকা চাপটা নেমে শুদ্ধর দুশ্চিন্তার কালো মেঘ কেটে যায়।
হেলিকপ্টারের দরজা ঠেলে বেরিয়ে আসে প্রণয়। সারা শরীর টাটকা রক্তে জুবুথুবু। চোখের দৃষ্টি শান্ত, আগের মতোই।
প্রণয় কে দেখে উঠে দাড়ায় শুদ্ধ। প্রিয়তার দিকে হাত বাড়ানোর পূর্বেই চরম অধিকারবোধের সাথে প্রিয়তাকে কেড়ে নেয় প্রণয়।
ছুঁ মেরে প্রিয়তার অবচেতন দেহখানির ভার নিয়ে নেয় নিজের অস্তিত্বে।
বলিষ্ঠ দুই হাতের উপর তুলে গটগট করে চলে যায়।
শুদ্ধর বুকের ভেতরটা রক্তাক্ত হয়ে যায়। তবে মুখে টু শব্দ করে নাহ্। নিজের জিনিসের উপর মানুষের অধিকার তো এমনই হয়।
হেলিকপ্টারের ভেতরে থেকে প্রণয়ের ভারী গমগমে কন্ঠ ভেসে আসে—
— “তুই কী যাবি নাহ্? না গেলে থাক।”
শুদ্ধ আর ভাবে নাহ্। গিয়ে বসে প্রণয়ের পাশে।
প্রণয়ের পুরো শরীর থেকে লোহিত রক্তের উৎকট বিশ্রী গন্ধে গা গুলিয়ে আসছে। সে ভালো মতো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে—প্রণয়ের শরীরে আঘাতের কিংবা জখমের কেনো চিন্হ নেই।
কেবল জামা কাপড় বেয়ে টপটপ করে রক্ত পড়ছে।
— “তুই কী রক্তে স্নান করে এলি?”
— “বলতে পারিস।”
ছোট্ট উত্তর প্রণয়ের। সে কেবল প্রিয়তার মসৃণ ললাটে নিজের তপ্ত ওষ্ঠ চেপে ধরে বড়ো বড়ো নিঃশ্বাস ফেলছে।
প্রিয়তার চিকন আঙুলের ভাঁজে নিজের বড়ো বড়ো আঙুল গুলো গুঁজে দেয় প্রণয়।
নরম তুলতুলে হাতের উল্টো পিঠে সময় নিয়ে গভীর চুমু খায়। কানের লতিতে ঠোঁট চেপে ফিসফিসিয়ে বলে—
— “আমি ফিরে এসেছি জান! তোকে কথা দিয়াছেলমা নাহ্ ফিরবো আমি? ফিরেছি?
তোকে পাওয়ার লোভ আমি ছাড়তে পারবো নাহ্।
তোকে হারানোর ব্যাথা আমি সইতে পারবো নাহ্।
তাই শেষ অব্দি লড়বো।
আমাদের পথে আসা প্রত্যেকটা কাঁটা একটা একটা করে উপড়ে ফেলবো। জান, তোকে আমি হারাতে পারবো নাহ্।
খুব নিরুপায় না হলে মৃত্যুকে আমি স্বীকার করবো নাহ্।”
হায় আল্লাহ, এ আমার কী সর্বনাশ হলো গো!
কে কোনায় আছো গো, দেইখ্যা যাও কোন ডাইনির নজর লাগলো আমার সংসারে!
পঞ্চাশ ঊর্ধ্ব ভদ্র মহিলার জোর গলায় চিৎকারের হুরহুর করে মানুষ জড়ো হতে শুরু করেছে মোল্লা বাড়িতে।
সত্তর ঊর্ধ্ব কাশেম আলীর পুত্র, পুত্রবধূ, নাতি, নাতনী—সকলের চোখ চানা বড়া দোয়ারে সটান মাথায় ঘোমটা দেওয়া নতুন বউকে দেখে।
কাশেম আলীর স্ত্রী রোকেয়া বানু উঠোনে পড়ে গড়াগড়ি খেয়ে চিৎকার করতে করতে অস্থির।
তার কান্নার শব্দে আশপাশের বাড়িগুলো থেকে প্রতিবেশীরা ছোটে বেরহচ্ছে।
মোল্লাবাড়ি বেশি বড়ো নয়, ছোট থেকে মাঝারি আকারের টিন শেডের কাঁচা বাড়ি। বাড়ির চারদিকে ঘিরে সুপারির খোলের বেড়া।
উঠোনের এক কোণে বস্তার চটে ঘেরা স্নানাগার।
পাড়া-প্রতিবেশীরা খোলের বেড়ার ফাঁক ফুকোর দিয়ে উকি দিচ্ছে।
মুখরোচক পারিবারিক কেচ্ছা দেখার প্রলোভন সামলাতে না পেরে কেউ কেউ তো ঢুকেই পড়েছে বাড়ির ভেতর।
কেউ কেউ আবার ছি ছি দিয়ে বলছে—
মোল্লা বাড়িতে এমন কেচ্ছা ছিঃ।
রোকেয়া বানু উঠোনের মাটিতে পড়ে পড়ে মাথা খুঁটে খুঁটে কাঁদছেন। এলাকার মহিলারা ঘিরে ধরেছে তাকে চারদিক থেকে সান্তনা দেওয়ার চলে। কেউ কেউ তো বলছে—
— “আরে রহিমের মা, শান্ত হও, নিজের মনডারে ফাতর বানাও গো বুবু। পুরুষ মানুষ তো সুন্দরী মাইয়্যা দেখছে, তয় কী আর বিয়া না কইরা পারে। এবার সত্যি সত্যি তোমার কপালডা বুঝি পুড়লো গো বুবু।”
— “হ্যাঁ গা বউ, এমন চিল্লা পাল্লা করণের কী আছে? পুরুষ মানুষ দুইডা কেনো, চাইরডা বিয়া করবো এইডা তার অধিকার। পুরুষ মানুষের ওইসব বয়স কী আবার গোনায় ধরতে আছে। সত্যি গা এখনকার বউদের মোটে ধৈর্য সহ্য নাই।”
এলাকার এক বৃদ্ধা পানের তালি থেকে পান সেজে গালে পুরতে পুরতে বিরক্তি মাখা কণ্ঠে বললেন।
পাশ থেকে এক মহিলা বৃদ্ধার কথার তীব্র বিরোধিতা জানালো—
— “হ্যাঁ গো জেডি, এগলা কী কও আমরা মাইয়্যা মানুষ বইল্লা কী এতই ফেলনা?
সোয়ামীর ভাগ কী দেওন যায়?
আর কাশেম চাচার কী এহন বিয়া করার বয়স তুমি কও? ঘর ভর্তি পোলা, বউ, নাতি, নাতনী, চাচীর তো দুঃখ হইবোই।”
— “আরে চুপ করতো ছেমরি।”
এই বাড়ির চৌকাঠে পা রাখার সাথে সাথে সেই যে মরা কান্না শুরু হয়েছে, এখনো ,চলছে তো চলতেই।
বিরক্তি এবার তুঙ্গে উঠেছে প্রহেলিকার। তার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে পড়ছে ধীরে ধীরে। এই মেলোড্রামা দেখতে সে আএসতে চায়নি।
ছোট্ট উঠোনের এক কোণে গোয়াল ঘর।
এক গাদা গরু ছাগল হাঁস মুরগি যত্র তত্র হাস মুরগির পায়খানা গ্রামীণ নিম্নবিত্ত জীবন।
এদের পরিবেশ দেখে মনে মনে নাক সিটকায় প্রহেলিকা। মুখ বিকৃত করে ভাবে—
“ছি, এটা বাড়ি, নাকি চিড়িয়াখানা! এখানে কোনো সুস্থ মানুষ বাস করে?
এই দুর্গন্ধযুক্ত নরকে সে কক্ষনো আসতো না। যদি না কলে পড়তো।
অনেক চিন্তা ভাবনার পর আসতে বাধ্য হয়েছে। নাহলে এতো বছরের অর্জিত রেপুটেশন সব ধুলোয় মিশে যেত।
যদি একবার মিডিয়া ব্যাপার টা জেনে যায়?
না না না আর ভাবতে পারে নাহ্ প্রহেলিকা।
বাধ্যতামূলক যেমন করেই হোক কিছুদিন এই চিড়িয়াখানায় তাকে সারভাইব করতেই হবে। আর, এই ঘাটের মড়া বুড়োটার সঙ্গে ও সংসার সংসার খেলতেই হবে।
‘ডিসকাস্টিং’—
বিরক্তির বহিঃপ্রকাশস্বরূপ উচ্চস্বরে শব্দটা বেরিয়ে আসে মুখ দিয়ে। এই গরমের মধ্যে সে অনেক সহ্য করেছে মেলোড্রামা। আর নয়।
প্রহেলিকা এতোগুলো দৃষ্টি জাস্ট গোনায় ধরলো না। ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে গটগট পায়ে কাশেম আলীকে ফেলে ঢুকে গেলো বাড়ির ভেতর।
রোকেয়া বানুকে পাশ কাটিয়ে চলে যায় বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা কাশেম আলীর পুত্রবধূর নিকট।
জড়োসড় হয়ে দাড়িয়ে থাকা বউটির দিকে তাকিয়ে প্রহেলিকা তার স্বভাবসুলভ দেমাগী কণ্ঠে বলে—
— “আমার ঘরটা কোন দিকে?”
নতুন শাশুড়ির প্রশ্ন শুনে ভড়কে যায় বউটি। ভয়ভয় তাকায় নিজের শাশুড়ির দিকে।
অর্ধ শতাধিক কৌতূহলী দৃষ্টি এক যোগে তাকিয়ে প্রহেলিকার মুখপানে।
তাতে প্রহেলিকার কী?
প্রহেলিকা এবার ধমকে উঠলো—
— “কী হলো, বয়রা নাকি? হ্যাঁ, তোমাকেই বলছি, কোন ঘরটা আমার? এসব পড়ে আর থাকতে পারছিনা, গা চুলকাচ্ছে আমার। ফ্রেশ হবো আমি।”
— “জ-জ্বী—”
— “খবরদার বউ! এই মাইয়্যারে একদম আমার সংসারে ঢুকতে দিবি নাহ্। নাহলে তোর কপালে কিন্তু মন্দ আছে এই আমি কইয়া রাখলাম?”
শাশুড়ির হুমকিতে ভয়ে তটস্থ হয়ে যায় বউটি। কাটা হয়ে দাড়িয়ে রয়। ভয়ভয় তাকায় প্রহেলিকার পানে।
রোকেয়া বানুর কথায় ভ্রু কুঞ্চিত হয়ে যায় প্রহেলিকার। সে অযথা ঝামেলা ঝঞ্জাট পছন্দ করে না। কিন্তু কেউ সেধে আসলে প্রহেলিকা শিকদার আসলে কী, বুঝিয়ে দিতে ও দুই মিনিট লাগবে।
— “আমি কোন ঘরে থাকবো? বলো?”
— “আমি… আমি আসলে—”
— “বউ, খবরদার!”
এবার মেজাজ হারালো প্রহেলিকা। লম্বা লম্বা পা ফেলে দুই কদমে চলে যায় রোকেয়া বানুর সম্মুখে।
সটান প্রশ্ন করলো—
— “কী সমস্যা?”
তেতে উঠলেন রোকেয়া বানু চওড়া গলায় চেচিয়ে বললেন—
— “এই মাইয়্যা এই, একদম গলা উঁচিয়ে আমার সাথে কথা বলবি নাহ্। নষ্টা, চরিত্রহীন ! অন্যের সংসারে উড়ে এসে জুড়ে বসতে লজ্জা করলো নাহ্? একদম দাগ দিয়ে দেবো।”
উত্তেজনা বাড়তে থাকে। দুই সতীনের মুখরোচক কোন্দল দেখার জন্য আগ্রহী জনতা আর গুছিয়ে বসে।
কাশেম আলী এক কোণে দাঁড়িয়ে দুই বউয়ের ভয়ে থরথর করে কাঁপছেন।
— “কী বললি বুড়ি? কী করবি?”
— “কাঁচি পুড়ে শা*ও*য়া”য় দাগ দিয়ে দেবো।”
ভদ্র মহিলার কথা বলতে দেরি, কিন্তু খপ করে মহিলাটির চুলের মুঠি ধরতে দেরি হলো না প্রহেলিকার।
মহিলাটির চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে হিসহিসিয়ে বললো—
— “আর আমি কী তোকে ছেড়ে দেবো? তুই জানিস নাহ্ আমি কে? তুই চিনিস নাহ্ আমায়!
সাপের লেজে পাড়া দেওয়ার ভুল একদম করবি নাহ্।
তোর কতদূর স্পর্ধা প্রহেলিকা শিকদারের সাথে এমন ভাষায় কথা বলার সাহস আজ পর্যন্ত কেউ দেখায়নি।”
— “বে*শ্যা ম্যা*গী! তাজা শা”ও”য়া আছে দেইখ্যা আমার জামাইর গলায় ঝুইল্যা পড়ছস? তোরে কী সালাম দিয়া কথা কওন লাগবো?
তুই ও আমারে চিনস নাহ্? আমিও মাতব্বরের মাইয়্যা।”
“কাশেমের ছোট বউডারে দেখছো, আইসাই কেমন বড়ো বউয়ের চুলের মুডিডা ধরে ফেলছে।”
“হেইডাই তো দেখছি। আহাগো, কাশেমডার কপালডাই খারাপ।
দুই বউ আইলো, দুই বউই দজ্জাল। ছুডুটা বোধহয় বড়ডার থেকেও বেশি দজ্জাল গো। দেহনা, আইসাই কেমন সতীনের চুলের মুডি ধরলো।”
— “দেখ, তোর সাথে আমার কোনো লেনাদেনা নেই। অযথা আমার সাথে লাগতে আসলে এক্কেবারে ঘটি বেঁকিয়ে দেবো। আমি যেখানে আমার রক্তের বোনকেই ছাড় দেইনি, সেখানে তুই তো!”
রোকেয়া বানুও কম কিসে। তিনিও খপ করে প্রহেলিকার বান করা চোখের মুঠিতে থাবা বসিয়ে দিলেন। রাগে গজরাতে গজরাতে বললেন—
— “আর তোরে কী আমি ধুনা দিমু। দেখি তুই কী করতে পারিস, ঘরজ্বালানি মেয়েছেলে।”
— “আরে আরে, কী হয় এই হানে। আল্লাহ আল্লাহ, আমার বাড়িডারে পুরা লেংটা বাড়ি বানাইয়া দিলো গো।”
হায় হায় করতে করতে কাশেম আলীর বৃদ্ধা মা নাজনীন নাহার বানু লাঠি ভর দিয়ে দিয়ে বেরিয়ে এলেন ভেতর থেকে।
বয়সের ভারে নুয়ে পড়া বৃদ্ধার মুখের হাতের মাংসপেশীগুলো লটকে গেছে।
চেহারায় মাকড়সার জালের মতো বয়সের বলিরেখা দৃশ্যমান।
নব্বই ঊর্ধ্ব বৃদ্ধার এসব দেখে কাঁপল হাত।
তিনি খুক খুক কেঁশে বললেন—
— “আরে রহিম, করিম, তোরা এহনো খাড়াইয়া কী তামাশা দেহস? তাড়াতাড়ি ছুডা ওগোরে।”
দুজনে চুলাচুলি বন্ধ করতে সবাই ততক্ষণে লেগে পড়েছে। দুজন মহিলার শক্তির কাছে অনেককেই বেগ পেতে পেতে হচ্ছে।
উত্তেজনা চরমে। উপস্থিত জনতা নিঃশ্বাস আটকে তাকিয়ে আছে।
অবশেষে দুজনকে আলাদা করতে সক্ষম হলো রহিম, করিম ও অন্যান্যরা।
নাজনীন নাহার বানু লাঠি ভর দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে দুই বৌমার মাঝে এসে দাঁড়ালেন।
ছানি পড়া চোখে নতুন বউয়ের দিকে তাকালেন।
— “বউডা দেখতে শুনতে বেশ টাটকা। গায়ের রঙ এক্কেবারে দুধে আলতা। এমন একখান সুন্দরী মাইয়্যা পোলার জুয়ান কলে কতো খুঁজেছেন বউ বানানোর লাইগ্যা। সে মেলাদিন আগের কথা। যাই হোক, পুরুষ মাইনষের আবার বয়স কী। এই মরণকালে এমন একখান বউ দেইখা মনে মনে বেজায় খুশ হয়ে গেলেন নাজনীন নাহার বানু।”
তিনি বিরক্ত চোখে তাকালেন বড়ো বউয়ের দিকে। কড়া গলায় বললেন—
— “কী লা বউ, এমন কোন্দল করস কিল্লাই? তোর জামাই আরেকডা বিয়া করছে, তয় কী অইছে? তোরে কী খেদাই দিছে?”
রোকেয়া বানু মনে চটে গেলেন। সারাটা জীবন এই বুড়ি তার হাড়মাস জ্বালিয়ে খেয়েছে। এখন শেষকালে এক ঠ্যাং কবরে চলে গেছে, তবুও জ্বালাতে ভুলছে নাহ্। রোকেয়া বানু ঝাঁঝালো কণ্ঠে বললেন—
— “দেখেন আম্মা, আমার সংসারে আপনি আর ঢুইকেন নাহ্! আপনার জামাই তো সতীন নিয়া আহে নাই, তয় আমার জ্বালা কেমনে বুঝেন?”
— “মুখে মুখে চোপা করিস নাহ্ বউ! এই সংসার এহনো আমার। আমি কারে রাখুম আর কারে খেদামু, আমি বুঝমু। তুই যা এহন!”
রোকেয়া বানু কিছু বলতে গেলে রহিম এগিয়ে এলো। মায়ের হাত ধরে বললো—
— “আহ্ আম্মা, যে আপনার কথা না ভাইব্বা আরেক বিয়া করলো, তার লাইগা ঝামেলা করার কোনো মানেই হয় নাহ্। আপনে আমার মা, আমি একাই যথেষ্ট আপনার ভরণপোষণের জন্য।”
রোকেয়া বানু আপাতত চুপ করে গেলেন। তবে প্রহেলিকার দিকে এমন দৃষ্টিতে তাকালেন, যার অর্থ প্রহেলিকা দেখার সাথে সাথেই বুঝে গেলো—
ওই যে রতনে রতন চিনে।
রোকেয়া বানু মনে মনে বললেন— এই বাড়িতে তুই ঠিক্কা থাকোস কেমনে, হেইডা আমিও দেইখ্যা লমু।
আচমকা সবাইকে অবাক করে দিলেন রোকেয়া বানু। এক কোণে দাঁড়িয়ে কাঁপতে থাকা কাশেম আলীর হাত ধরে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে গেলেন ঘরের ভেতর। বাহিরে সবাইকে দ্বিতীয় দফায় অবাক করে দিয়ে ধড়াম করে লাগিয়ে দিলেন ঘরের দরজা।
কাশেম আলীর সাথে এখন কী হবে, সেটা সবার জানা।
নাজনীন নাহার বানু নতুন বউয়ের দিকে তাকিয়ে শুধালেন—
— “কী লো মাইয়্যা, নাম কী তোমার?”
— “প্রহেলিকা শিকদার।”
ছোট্ট জবাব প্রহেলিকার। সে কাউকে নিজের বায়োডাটা দিতে আসেনি এখানে।
প্রহেলিকা ফের রহিমের বউয়ের দিকে তাকাতেই বউটা ভয়ে থরথর করে কেঁপে উঠলো। শাশুড়িকে আঙুলের ইশারায় দেখিয়ে দিলো উত্তর দিকের ঘরটা।
প্রহেলিকা কোনো কথা বললো না। ঝট করে গিয়ে খট করে দরজা লাগিয়ে দিলো।
— “নাটক দেহন শেষ। এইবার তোমরা যাও তো বাপু।”
নাজনীন নাহার বানু ভাগিয়ে দিলেন সকলকে।
একে একে সকলে চলে গেলো নিজ নিজ ঘরে।
প্রহেলিকার বিয়ে নিয়ে উত্তাল শিকদার বাড়ি।
বাড়ির কোনা কোনা থেকে শুরু করে রায়পুরের অলিতে গলিতে চায়ের আড্ডায় সব জায়গায় শুরু হয়েছে ফিসফাস।
আগুনের হলকার ন্যায় ছড়িয়েছে খবর।
তিলকে তাল করে নানা মুখরোচক কথা লোকের মুখে মুখে।
প্রকাশ্যে ছি ছি পড়ে গেছে।
লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে শিকদারদের।
সাদমান শিকদার রেগে মেগে আগুন বাড়িতে আবারো জমায়েত বসেছে।
সাদমান শিকদারের কর্তৃত্ব পরায়ণ কণ্ঠের হুংকারে তটস্থ সকলে কাটা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ড্রয়িং রুমে।
সকলে চুপচাপ নিরব দর্শক।
থমথমে পরিবেশ।
সর্বসম্মুখে মাথা নত করে দাঁড়িয়ে আছেন প্রহেলিকা। বড়ো আব্বুর মুখের উপর জবাব দেওয়া তো দূর, চোখে চোখ মিলাতেও লড়ছে নাহ্।
সাদমান শিকদার আবার গর্জে উঠলেন। প্রহেলিকাকে থাপ্পড় মারার উদ্দেশে হাত উঁচিয়ে আবার নামিয়ে নিলেন। ক্রুদ্ধ কণ্ঠে বললেন—
— “তোমরা বাবা নই বলে তোমার গায়ে হাত তুলতে পারলাম নাহ্। নাহলে তোমার মতো মেয়েকে জুতো দিয়ে পিটিয়ে সিধে করে দিতাম।”
— “বড়ো আব্বু—”
— “একদম চুপ! আমার যতটুকু মানসম্মান বেঁচে ছিলো সব ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছো তুমি! তোমার কাছ থেকে এটা আশা করিনি।”
— “তোমরা কী আমার মান-সম্মান ডুবানোর প্রতিজ্ঞা করে বসেছো? এক একটা কুলাঙ্গার পয়দা হয়েছে। বাড়ি থেকে বের হতে পারছি নাহ্। কোথাও মুখ দেখানোর বাঁচিয়ে রাখো নি।”
— “বড়ো আব্বু—”
— “একদম চুপ করো! তোমার যদি বিয়ের এতই তাড়া ছিল, আমাকে বলতে পত্রের লাইন লেগে যেতো। তোমার জন্য ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, মন্ত্রী, পলিটিশিয়ান, ওয়ার্ল্ডের টপ বিজনেসম্যান— কোনটা তোমার যোগ্য, তুমি যার সাথে বলতে তার সাথে বিয়ে দিতাম। সেসব না করে তুমি কী করলে? এদো গায়ের এক বুড়ো কাজীকে বিয়ে করলে? ওই লোকটার বয়স আমার থেকে ৮-৯ বছর বেশি। এটা তুমি কী করলে?”
— “আমি নিরূপায় ছিলাম বড়ো আব্বু। আমি বলবো নাহ্ আমাকে মাফ করে দাও। শুধু বলবো— তুমি তো জানো বড়ো আব্বু, আমি এমন মেয়ে নই।”
সাদমান শিকদার কিছু বলতে গিয়ে ও থেমে গেলেন। বড়ো বড়ো নিঃশ্বাস ফেলে নিজের উগড়ে আসা রাগ দমন করলেন। এই বয়সে এত উত্তেজনা ভালো নাহ্। স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সাদমান শিকদার এক পলক সবার দিকে তাকিয়ে প্রহেলিকার উদ্দেশে বললেন—
— “তুমি আমার ঘরে আসো।”
বলেই গটগট পায়ে ঘরে চলে গেলেন সাদমান শিকদার।
ছোট্ট একটা দম নিলো প্রহেলিকা। বড্ড অসহায় লাগছে নিজেকে। ঘাড় ঘুরিয়ে মা-চাচীর দিকে তাকাতেই দেখলো তারা ঘৃণাভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
প্রহেলিকা দৃষ্টি উপেক্ষা করে চলে গেলেন তারা।
প্রহেলিকা ভাইয়েদের দিকে তাকালো।
তারাও কিছু না বলেই চলে গেলো।
একেবারে একা হয়ে গেলো প্রহেলিকা। আজ তার পাশে কেউ নেই। এমন একটা মানুষও নেই যাকে সে বিশ্বাস করবে, যার কাঁধে একটু মাথা রাখবে, যে তাকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করবে, যে খুব দৃঢ়তার সাথে এইটুকু বলবে—
— “আমাকে কোনো এক্সপ্লানেশন দেওয়ার দরকার নেই। আমি বিশ্বাস করি তোমায় নিজের থেকেও বেশি।”
ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা ঠান্ডা আইস কিউব বের করে ঘোলে মেশাচ্ছে প্রিয়তা।
পাশে ইনায়া দাঁড়িয়ে আছে। তার কটমটে দৃষ্টি ড্রয়িং রুমের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা একাকী প্রহেলিকার উপর।
তার চাহনি এমন যেনো চোখ দিয়ে ভস্ম করে দেবে।
গ্লাসে ঘোল ঢালতে ঢালতে ভ্রু কুঁচকে দেখছে প্রিয়তা।
একটা গ্লাস ইনায়ার দিকে বাড়িয়ে দিলো প্রিয়তা। গ্লাসের উপর আঙুল দিয়ে গুল গুল চক্কর কাটতে কাটতে বললো—
— “কিরে, নাগিনের মতো এমন ফণা তুলে ফোঁসফোঁস করছিস কেনো? বিষ কী বেশি হয়ে গেছে?”
— “আমার মাথায় আগুন জ্বলছে প্রিয়! ঘোলটা আমার মাথায় ঢাল।”
— “কেনো? উত্তেজনা বেশি নাকি?”
— “মস্করা করিস নাহ্। সত্যি বলছি।”
— “তাহলে চল, শোধটা নিয়ে নেই।”
গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে বাঁকা হেসে বললো প্রিয়তা।
ইনায়া কপালে সূক্ষ্ম ভাঁজ পড়ল।
চাপা কৌতূহল মিশ্রিত কণ্ঠে শুধালো—
— “কী করে?”
এক চোখ টিপ দিলো প্রিয়তা।
ঠোঁটে শয়তানি হাসি ঝুলিয়ে বললো—
— “ভেরি সিম্পল।”
গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে প্রহেলিকার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো প্রিয়তা—
— “আমি জুয়ান একটা মাইয়্যা, বুড়া ব্যাটার কাছে আমায় বইনে দিছে বিয়া।
ও সে যৌবন জ্বালা মিটায় নারে, মরে কোকাইয়া বুড়া ব্যাটার কাছে আমার বৈনে দিছে বিয়া।”
চোখ কটমট করে তাকালো প্রহেলিকা।
চোয়াল শক্ত হয়ে এলো মুহূর্তেই।
— “আমার সাথে মজা নিচ্ছিস প্রিয়?”
শয়তানি হাসলো প্রিয়তা—
— “অবশ্যই। বড়ো বোনের সাথে মজা না নিলে কার সাথে নেবো শুনি? আচ্ছা, কাল রাতে ফুলশয্যা কেমন হলো? মানে দুলা ব্রো ঠিকঠাক… উহু উহু—”
— “প্রিয়!”
— “আহা আপা, ছেঁতে যাচ্ছো কেনো? যতই হোক তোমার বোন তো বুঝি তোমার দুঃখটা।”
বলেই হঠাৎ চুপ হয়ে গেলো প্রিয়তা। আশেপাশে নজর ঘুরিয়ে প্রহেলিকার গায়ের সাথে সেঁধে গেলো। ফিসফিস করে বললো—
— “একটা গোপন কথা শুনবে? তোমার জন্য অনেক উপকারী!”
— “কী?”
মাথাটা পেছন দিকে সরিয়ে নিলো প্রহেলিকা।
প্রিয়তা আরো চেপে এলো। আরেকবার আশেপাশে দেখে কানে বললো—
— “কাল আসার সময় গলির মুড়ে দেখছি একটা ব্যানারে বড়ো বড়ো করে লেখা— ‘ঘোড়ার মতো সতেজ যৌবন ফিরে পেতে মাত্র এক ফাইলই যথেষ্ট। দাম মাত্র ৬৫০ টাকা। অর্ডার করার জন্য নাম্বারও দেওয়া ছিলো।’ এটা দেখা মাত্রই আমার চট করে তোমার কথা মনে পড়ে গেলো। তাই নাম্বারের ছবি তুলে এনেছি। তোমার কচি নাশপাতি একদম পাকা তরমুজ হয়ে যাবে মাত্র এক ফাইলে। নাম্বারটা দেবো?”
রাগে প্রহেলিকার মুখখানা আগুনের চুল্লির মতো টকটকে লাল হয়ে যেতে দেখে মনে মনে হেসে কুটিকুটি হলো প্রিয়তা।
প্রহেলিকা তারস্বরে চেঁচিয়ে উঠলো—
— “বেয়াদব মেয়ে!”
— “আরে আরে, কী করো আপু! আসতে বলো আর আমি ভুলটা কী বললাম শুনি? তোমার ভালোর জন্যই তো ছবি তুলে আনলাম। তোমার চিনি বাবা… থুক্কু! কচি নাশপাতির জন্য এক ফাইল তো লাগবেই।”
কথার জবাব দিলো নাহ্ প্রহেলিকা। রাগে গজগজ করতে করতে চলে গেলো সাদমান শিকদারের ঘরের দিকে।
প্রহেলিকা যেতেই ফিক করে হেসে উঠলো ইনায়া।
হাসতে হাসতে চলে গেলো।
— “উচিত শিক্ষা দিয়েছিস বান্ধবী।”
মনে মনে বিজয়ী হাসলো প্রিয়তা। অদৃশ্য হাতে নিজেই নিজের পিঠ ছাড়ালো।
পরক্ষণেই “আহ্” করে উঠলো প্রিয়তা।
চোখ-মুখ কুঁচকে মাথা ডলতে ডলতে পেছন ফিরে তাকালো।
বুকে হাত ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে আছে প্রণয়।
গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওর দিকেই।
গাল ফুলালো প্রিয়তা—
— “উফফ! আমার মতো শিশু একটা মেয়েকে এতো জোরে মারতে পারলেন?”
— “কান টেনে ছিঁড়ে নেবো! সারাদিন মানুষের পিছে লাগা ছাড়া কোনো কাজ নেই তোর?”
চোখ পিটপিট করে তাকালো প্রিয়তা। মনে মনে ঢোক গিললো—
সব শুনে ফেলল নাকি।
— “মা-মানে কার পিছে লেগেছি?”
— “ঢংগী!”
বাইরের দিকে যেতে ধরলো প্রণয়।
আঁতকে উঠলো প্রিয়তা। দৌড়ে গিয়ে প্রণয়ের পথ আটকালো। সামনে দুই হাত মেলে দরজা আগলে বললো—
— “ক-ক… কোথায় যাচ্ছেন?”
— “অফিসে!”
— “অফিসে কেনো?”
— “কাপড় কাচতে যাচ্ছি!”
— “এ্য্যহ্—”
— “নিচে তাকিয়ে দেখ, তোর কিছু একটা পড়ে গেছে!”
— “কোথায়?”
প্রণয়ের কথা মতো আশেপাশে খুঁজতে লাগলো প্রিয়তা।
— “কোথায়? কিছুই তো নেই।”
— “ওমা, পেলি নাহ্? তাহলে হয়তো রুমে ফেলে এসেছিস।”
— “কী ফেলে এসেছি?”
আগা-মাথা ছাড়া কথায় বেকুব বনে গেলো প্রিয়তা।
— “কাণ্ডজ্ঞান!”
— “এ্য্যহ্—”
— “হ্যাঁ, তোর কাণ্ডজ্ঞান কোথায়? অফিসে নিশ্চয়ই আমি বিরিয়ানি বানাতে যাচ্ছি নাহ্। আহাম্মক।”
বলে আবার যেতে প্রণয়।
প্রিয়তা বোকার মতো তাকিয়ে রইলো। যখন অনুভব করলো প্রণয় চলে যাচ্ছে, আবার লাফিয়ে উঠলো প্রিয়তা। দৌড়ে চলে গেলো প্রণয়ের কাছে।
প্রণয়ের পায়ে পা মেলাতে মেলাতে আহ্লাদী কণ্ঠে ডাকলো—
— “ও প্রণয় ভাই!”
জবাব দিলো নাহ্ প্রণয়।
প্রিয়তা গলার স্বর দ্বিগুণ নরম করে আবার ডাকলো—
— “প্রণয় জামাই!”
পার্কিং এরিয়ায় চলে এলো দুজন। গাড়ির ডোরটা খুলতে গিয়েও দাঁড়িয়ে পড়লো প্রণয়। ভ্রু কুঁচকে তাকালো।
প্রণয়ের সাবলীল দৃষ্টি দেখে একটা বেককেল মার্কা হাসি দিলো প্রিয়তা। চেহারাটা একদম ইনোসেন্ট করে বললো—
— “আমি আপনার হাতের তেহারি খাবো প্রণয় ভাই। প্লিজ!”
মুখটা এবার কাঁদো-কাঁদো করে ফেললো প্রিয়তা।
মেয়েটার এতো তালবাহানা দেখে মায়া লাগলো প্রণয়ের। বুক চিরে চাপা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো।
মনে মনে বললো—
আমাকে আটকাতে তোর এতো আয়োজন। আমি কী বিফলে যেতে দিতে পারি জান?
প্রিয়তার হাত টেনে ধরে কাছে নিয়ে এলো প্রণয়।
প্রিয়তার মখমলে গালে আঙুল বুলিয়ে মোহনীয় কণ্ঠে বলল—
— “তেহারি খাবি?”
উপর-নিচ মাথা দুলালো প্রিয়তা!
— “চল, আজ আমি নিজে রান্না করবো তোর জন্য।”
খুশিতে চোখের মণি ঝিলিক দিয়ে উঠলো প্রিয়তার।
ঝাঁপিয়ে পড়লো প্রণয়ের বুকে।
আহ্লাদী কণ্ঠে আবারো বায়না জুড়ে দিলো প্রিয়তা—
— “রান্না পরে হবে। আগে আমাকে কোলে নিয়ে সারাবাড়ি ঘুরান প্রণয় ভাই! আপনার কোলে চেপে ঘুরবো আজ।”
সুখের আবেশে প্রণয়ের হৃৎপিণ্ড ভরে উঠলো কানায় কানায়। ছোট্ট দেহটা বুকে পিষে ধরলো প্রণয়।
চুলে আলতো চুমু এঁকে বললো—
— “আমার আদুরে হাঁসের বাচ্চাটা।”
— “আমার দামড়া প্রণয় ভাই!”
বলেই খিকখিক করে হেসে উঠলো প্রিয়তা।
বেচারার রোমান্টিক মুডের দফারফা।
— “শয়তান্নি!”
— “নিন কোলে নিন?”
হাত বাড়িয়ে দিল প্রিয়তা।
— “নেবো নাহ্।”
ভেংচি কেটে আবার বাড়ির দিকে হাঁটা ধরলো প্রণয়।
— “কী? নেবেন নাহ্? আপনাকে নিতেই হবে।”
পেছন থেকে গিয়ে লাফিয়ে পিঠের উপর চড়ে বসলো প্রিয়তা।
হাসতে হাসতে পুরো বাড়ি ঘুরতে লাগলো দুজন।
বাড়ির ছোট-বড়ো প্রত্যেকে মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করতে লাগলো সেই দৃশ্য।
ভালোবাসার সীমানা পেরিয়ে পর্ব ৯৭
পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রিয়তা।
পাশে শিকদার বাড়ির বহু পুরনো কর্মচারী রহমান চাচা।
সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে এক দৃষ্টিতে পুকুরের পানে তাকিয়ে রইলো প্রিয়তা। পুকুরের কালচে জল একটু পর পর নড়ে উঠছে।
— “আমাকে ডেকেছিলেন ছোট আপামনি?”
— “হ্যাঁ!”
ছোট্ট উত্তর প্রিয়তার।
