Home মন পবনে বৃষ্টি মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৩২

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৩২

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৩২
তাসনিয়া নুর

চিত্রা যাওয়ার পর আহিরের স্মরন হয় তাকে তো মেয়ে উত্তর-ই দিল না ।আহির দৌড় দিয়ে চিৎকার করে,
— আরে চিতাবাঘ উত্তর তো দিয়ে যা।
বেডের উপর দু-হাতে ভর দিয়ে পা ছড়িয়ে বসে আছে আবইয়াজ। চোখ দুটো দরজার দিকে নিবদ্ধ ।অধির আগ্রহে তাকিয়ে আছে কখন মেহু আসবে আর তাকে জড়িয়ে ধরবে । আবইয়াজের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দরজা ঠেলে রুমে প্রবেশ করে মেহু। মেহুকে দেখতেই নিঃশব্দ হাসে আবইয়াজ । মেহুর দুহাত পিছনে। আবইয়াজ সেভাবেই বসে থেকে বলল,

— এসেছো বেবি ।
— বেবি না ছাই ।
কথাখানা শেষ করে নিজের পিছন থেকে ঝাড়ুটা বের করে মেহু। মেহুর হাতে ঝাড়ু দেখে ছলাৎ করে দাঁড়িয়ে পড়ে আবইয়াজ ।
— ঝাড়ু কেনো এনেছিস? আমার রুম তো একদম পরিষ্কার।
— রুম পরিষ্কার হলে কি হবে আপনি তো অপরিষ্কার তাই এখন আপনাকে পরিষ্কার করব আমি।
ঝাড়ুটা নিয়ে মেহু তেড়ে যায় আবইয়াজকে মারার উদ্দেশ্যে। মেহুর এমন রামচন্ডী রূপ দেখে আবইয়াজ লাফ দিয়ে বেডের উপর উঠে,
— আমি জানি তুই অতি সুখে পাগল হয়ে গিয়েছিস কিন্তু এর মানে এই না যে নিজের বরের গায়ে হাত তুলবি ।
মেহু ভ্রু কুঁচকে বলে,
— বর!! কার বর? কোন বর? কবের বর? আর কে বলেছে আমি হাত দিয়ে মারব আমি তো আপনাকে ঝাড়ুপেটা করব।
— আরে মেহু শুন।

আবইয়াজের কোনো কথা না শুনে মেহু ঝাড়ুটা নিয়ে তার দিকে দৌড়ে যায়। আবইয়াজ নিজের জান বাচাঁতে প্রাণপ্রনে দৌড় লাগায় ।আবইয়াজ দৌড়চ্ছে তার পিছন পিছন মেহু ছুটছে । কখনো বেডের উপর দৌড়চ্ছে কখনো খাটের চারপাশে । একটা সময় মেহু হাপিঁয়ে সোফার উপর বসে পড়ে। বুকে হাত দিয়ে বড় বড় শ্বাস নিচ্ছে । চোখ বন্ধ করে সোফার উপর শরীরটা এলিয়ে দিল। আবইয়াজ এক গ্লাস পানি এনে মেহুর সামনে ধরে বলল,
— পানিটা খেয়ে নে স্বস্তি পাবি। এতো দৌড়ানোর কি ছিল? এখন খারাপ লাগছে তো?
মেহু সেভাবে থেকেই আবইয়াজের হাত থেকে পানির গ্লাসটা নিয়ে ঢকঢক করে গিলে ফেলল। গ্লাসটা আবারো আবইয়াজের হাতে ধরিয়ে চোখ বন্ধ করে পড়ে রইল মেহু । আবইয়াজ মেহুর পাশে বসে খুব সর্তপনে হাতটা ধরল ।অতঃপর কোমল স্বরে জিজ্ঞেস করল,

— বেশি খারাপ লাগছে?
মেহু চোখ বন্ধ রেখে দুদিকে মাথা নাড়ে। কিছুক্ষন এভাবেই কেটে যায়, মুখ থেকে টু-শব্দ বের করেনি আবইয়াজ। ছোটবেলা থেকেই মেহু তেমন দৌড়াতে পারেনা তার শ্বাস-প্রশ্বাস ভারি হয়ে উঠে।
মেহু ধীরে চোখ খুলে আবইয়াজের দিকে তাকালো। পরপর আবইয়াজের হাতে মুষ্টিবদ্ধ হয়ে থাকা নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে ধীরে তা ছাড়িয়ে নিল। তারপর আবইয়াজকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বড়বড় কদম ফেলে রুম থেকে বেরিয়ে পড়ল।
আবইয়াজ কেমন শান্ত দৃষ্টিতে মেহুর যাওয়ার পানে তাকিয়ে থাকল। হুট করে মাথায় এসে বারি খেল মেহু তো তার চিঠির উত্তর-ই দিল না, পরক্ষণে আবার ভাবলো উত্তর দেওয়ার কি আছে সে তো জানে মেহু তাকে পছন্দ করে। পরবর্তিতে মনে একরাশ ভয় হানা দিল যদি মেহু তাকে আগের মতো আর পছন্দ না করে থাকে তাহলে? কথাটা ভাবতেই ভয় পেলো আবইয়াজ । অতঃপর কিছু একটা ভেবে শক্ত মুখে গম্ভীর স্বরে আওড়ালো,

— তুই নিজ থেকে আমার কাছে ধরা দিয়েছিস মেহু। এখন তোর মত থাকুক অথবা না থাকুক তোর আমার সাথেই থাকতে হবে। তুই চাইলে ও আমার না চাইলে ও আমার-ই ।
সারাদিন মেহু ও চিত্রার পিছনে ঘুরঘুর করেছে আবইয়াজ ও আহির । একে অন্যের অগোচরে। তবে ফলাফল শূন্য, না মেহু আবইয়াকে পাত্তা দিয়েছে আর না চিত্রা আহিরকে।
সূর্য প্রায় ডুবে গিয়েছে, তবে গোধূলির মায়াচ্ছন্ন আলো এখনো চারপাশটা রাঙিয়ে রেখেছে । মির্জা ভিলার পুকুরপাড়ে রাখা কাঠের বেঞ্চিতে বসে আছে আবইয়াজ ও আহির । তাদের মাঝখানের দূরত্বটা অনেক। দুজন দু-কর্নারে বসে আছে । কিন্তু দুজনের চোখ সামনে থাকা পুকুরের স্বচ্ছ পানির দিকে নিবন্ধ। এই তো কিছুক্ষণ আগে পুকুরের জল পরিষ্কার করা হয়েছে, তাই স্থির পানিতে গোধূলির আভাগুলো মুক্তর ন্যায় চিকচিক করছে । আহির দু-গালে হাত দিয়ে মনমরা হয়ে তাকিয়ে আছে; আর আবইয়াজ? সে নিবিষ্ট মনে কিসের যেনো হিসেব কষছে ।
সবেমাত্র ঘুম থেকে উঠেছে মাহির। শরীর টানটান করে বারান্দায় দাঁড়াল। চারদিক থেকে একটা ঠান্ডা বাতাস বয়ে আসছে, ভালোই লাগছে। শীত কমে এসেছে। চোখ বন্ধ করে স্নিগ্ধ পরিবেশ উপভোগ করছিল মাহির। উপভোগ করার সময় চোখ খুলতেই সামনে দেখতে পায় আহির ও আবইয়াজ বসে আছে ।বারান্দা থেকে তাদের পিঠ দেখা যাচ্ছে, এমন সময় ওদের এভাবে ভূতের মতো সং সেজে বসে থাকতে দেখে ভ্রু কুঁচকে আসে মাহিরের। কালক্ষেপণ না করে দ্রুত পায়ে বারান্দা থেকে বেরিয়ে পড়ে উদ্দেশ্য আহির ও আবইয়াজের কাছে যাবে।

— এখানে দেবদাস হয়ে বসে আছিস কেনো তোরা?
— রিজেক্ট মেরে দিছে।
আবইয়াজ ও আহির একসাথে বলে উঠে। মাহিরের কুঁচকানো ভ্রু আরো কুঁচকে বলল,
— মানে!! কে রিজেক্ট মেরেছে?
মাহিরের অকস্মাৎ প্রশ্নে সৎবিত ফিরে আসে আহির ও আবইয়াজের । দুজন একে অপরের দিকে শঙ্কিত দৃষ্টিতে তাকায় । নিজেদের দৃষ্টি সরিয়ে মাহিরের দিকে দৃষ্টি তাক করে। আবইয়াজ ও আহির ঠাস করে উঠা থেকে দাঁড়িয়ে পড়ে। আবইয়াজ মাহিরের কাছে এসে মাথায় চাপড় মেরে বলল,
— কিসের রিজেক্ট? কিসের কি? মাথা ঠিক আছে?
দ্রুত পায়ে স্থান ত্যাগ করে আবইয়াজ । মাহির আহিরের দিকে তাকিয়ে বলল,

— আরে তোরাই তো বললি রিজেক্ট মেরেছে।
এবার আহির এসে মাহিরের মাথায় মেরে বলল,
— তোর মাথা, কানটা আসলেই গেছে যা গিয়ে ভালো ডাক্তার দেখা।
মাহিরকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে আহির ও চলে গেল। মাহির মাথা চুলকে ভাবতে থাকে সে কি আসলেই ভুল শুনেছে? কিন্তু দুজন যে একসাথে বলল?
ভাবতে ভাবতে মাহিরের নজর যায় কিছুদূর দাঁড়িয়ে থাকা ননীর উপর। যে ফোনে কার সাথে যেনো হেসে হেসে কথা বলতে ব্যস্ত। গত কিছুদিন ধরে ননী মাহিরকে দেখে ও না দেখার ভান করে। আগের মতো আর তার পিছন পিছন ঘুরে না, আর না নিজ থেকে এসে কথা বলে। কিন্তু এসবে তো তো তার খুশি হবার কথা ছিল, কিন্তু কিছুতেই খুশি হতে পারছেনা। মেয়েটা কেমন বদভ্যাসে পরিনত হয়েছে।
মাহির বড় একটা শ্বাস টেনে ননীর কাছে এগিয়ে যায়। মাহিরকে নিজের কাছে আসতে দেখে এতক্ষণের হাসি-খুশি চেহারাটা গম্ভীরতায় পরিনত হয় ননীর। সে দ্রুত পায়ে ঘরে ঢুকে পড়ে। মাহির সেদিকে কেমন ব্যাক্কল বনে তাকিয়ে রয়।

আবইয়াজ বুকে হাত দিয়ে ফুস করে শ্বাস ফেলে ভাবে আজ জোড় বাচাঁ বেঁচেছে, আরেকটু হলে বোধহয় ধরা পরে যেতো। আবইয়াজ আহিরের দিকে তাকিয়ে বলল,
— বেঁচে গিয়েছি ।
— হুম ।
আবইয়াজ এবার ভ্রু কুঁচকে আহিরের দিকে তাকিয়ে সন্দিহান স্বরে বলল,
— তুই কিসের রিজেক্ট খেয়েছিস?
আহির এবার পাল্টা প্রশ্ন করে,
— তুই কিসের রিজেক্ট খেয়েছিস?
আবইয়াজ হন্তদন্ত হয়ে যেতে যেতে বলল,
— কোথায়, কখন? যা রুমে গিয়ে ঘুমা তোর মাথা ও গেছে।
আহির ও তার সাথে তাল মিলিয়ে বলল,
— হ্যাঁ হ্যাঁ তোর মাথা ও গেছে যা গিয়ে ঘুমা।
দুজন দুদিকে সিঁড়ি বেয়ে উঠে যার যার রুমে ঢুকে ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দিল।
চারদিক অন্ধকারাচ্ছন্ন । ঘড়ির কাটা টিকটিক শব্দ করে জানান দিচ্ছে রাত ১টা। মির্জা ভিলার সদস্যরা ঘুমে বিভোর। বাহির থেকে কখনো কখনো কুকুরের আওয়াজ ভেসে আসছে । এর মাঝে শুনা যায় কারো ফিসফাস কন্ঠস্বর।
অর্ক পিছন থেকে মাইরাকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে। মাইরার ঘাড়ে মুখ গুঁজে রেখেছে । মাইরা হালকা কম্পিত কন্ঠস্বরে বলল,

— রাতের আধারে এসব কি করছেন, কেউ দেখে নিলে?
— দেখলে কি হবে? ভালোই হবে তোমাকে আরও তাড়াতাড়ি নিজের করে পাবো।
কথা বলতে বলতে মাইরার ঘাড়ে মুখটা আরো দাবিয়ে দিল। মাইরার শরীর ঠকঠক কাপছেঁ।কিছু বলতে যেয়ে ও কথা গলায় দলা পাকিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে মাইরাদের আরেকটু সামনে করিডরে দাঁড়িয়ে আছে আহির ও চিত্রা। চিত্রা এখনো গাল ফুলিয়ে রেখেছে। বহু কষ্টে চিত্রাকে রুম থেকে বের করেছে আহির। তাই যা বলবে ভেবে চিন্তে বলতে হবে। সামান্য শুষ্ক ঢোক গিলে গলাটা ভিজিয়ে নিল আহির ।
— আমার চিতাবাঘ পাখি আই অ্যাম সরি ।আর কখনো হুতুম পেঁচা গলা ভাঙা কাউয়া ডাকব না।এবার তো অন্তত নরমাল হয়ে যা প্লিজ । সরি তো।
চিত্রার অভিব্যক্তি বোঝার জন্য তার দিকে ভালো করে তাকাল আহির। কিন্তু অন্ধকারে তেমন বুঝা যাচ্ছে না। আহির নিজ মনে বিড়বিড়য়ে বলল,
— ছেড়ি এতো সুন্দর হয়ে লাভ কি হলো যদি অন্ধকারে তোর চেহারাই না দেখা যায় । এতো সুন্দর হয়ে কি লাভ যদি তোর চেহারা অন্ধকারে লাইট হিসেবে ব্যবহার-ই না করতে পারি।

— এভাবে হ্যাবলার মতো তাকিয়ে আছো কেনো?
— না কিছু না, মাফ করেছিস?
— ইমমম, আগে সুন্দর করে প্রপোজ করে দেখাও তাহলে কিছু ভাবতে পারি।
— আজকে সকালে না করলাম।
আহিরের উত্তরে চিত্রা রেগে,
— ওটা প্রপোজ ছিল নাকি তোর মাথা ছিল।
—- আচ্ছা তুই বল কিভাবে কি করতে হবে।
—- সেটা ও আমাকেই বলে দিতে হবে? তাহলে তুই কি করবি? ঘাস কাটবি?
আহির বিড়বিড়য়ে বলল,
— বেত্তুমিজ লেডি খালি তুই-তুকারি করে ।
— কিছু বললে?
— কই না তো।
আহির ও চিত্রার আরেকটু সামনে মেহু ও আবইয়াজ । আবইয়াজ গম্ভীর মুখে মেহুর দিকে তাকিয়ে আছে। অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশে গম্ভীরতা আরো ভার হয়ে উঠল। সেই নিস্তব্ধতা ভেদ করে ভেসে এল মেহুর কন্ঠস্বর,

— আমাকে কেনো ডেকেছেন ।
— তোকে একটা লেটার দিয়েছিলাম, সেটার উত্তর নিতে ।
—- অপমানের উত্তর চাইছেন?
— অপমান কখন করলাম। ভালোবাসা ব্যক্ত করেছি। এখন তার উত্তর চাচ্ছি।
মেহু এবার বুকে হাত গুঁজে তির্যক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,
— যদি বলি উত্তর না। আমি আপনাকে ভালোবাসিনা।
আবইয়াজ হালকা হেসে মেহুর কাছে এগিয়ে এল। দুহাত গ্রিলের উপর রেখে মেহুকে বাহুডরে বন্দি করে নিল। অতপর মুখের কাছে মুখ এনে হিসহিসিয়ে বলল,
— ভালোবাসিনা বললে তো হবে না ম্যাডাম। আগে আপনি আমার কাছে এসেছেন আমি যাইনি, এখন যখন পাগল হয়েছি এখন মুখ ফিরিয়ে নিলে তো চলবে না। দরকার পরলে জোর করে বেঁধে আমার কাছে রেখে দিব ।
মেহু হালকা হেসে আবইয়াজের গলা জড়িয়ে বলল,

— তাই নাকি?
আবইয়াজের রোমান্সের বারোটা বাজিয়ে ভেসে এল কারো চিৎকার । বিরক্তিতে আবইয়াজ ‘চ’ শব্দ বের করে,
— বালের এক ঘরে জন্ম নিছি। চিৎকার দেওয়ার আর সময় পেলনা।
ভয়ের চোটে কান ধরে চিৎকার করে যাচ্ছে মাইরা। অর্ক কেবল হা হয়ে তাকিয়ে আছে। তাদের সামনে মাথা থেকে পা পর্যন্ত কালো কাপড়ে আবৃত একজন দাঁড়িয়ে আছে। কাপড়ের উপরে কঙ্কাল হাড়ের কাঠামো আর্ট করা ।মাইরার চিৎকারের সাথে সাথে সামনে দন্ডয়মান ব্যক্তিটি চিৎকার করে যাচ্ছে। অতিরিক্ত ভয়ের চোটে মাইরা সুবোধ হারিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অর্ককে মারতে আরম্ভ করে।

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৩১

মাইরার চিৎকারে এতক্ষণে চিত্রা ও আহির এসে হাজির। মাইরার দেখাদেখি কোনো কিছু না ভেবেই তারা ও মাইরার সাথে তাল মিলিয়ে অর্ককে মারা আরম্ভ করে। মেহু দৌড়ে এসে তাদের সাথে তাল মিলায়। কালো কাপড়ে আবৃত মাহির চিৎকার থামিয়ে ভাবে সবাই যখন মারছে সে কেনো বাকি থাকবে? তাই মাহির ও ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মতো কোনো কিছু না জেনেই অর্ককে মারতে শুরু করে। এদিকে মাঝরাতে সবার থেকে গড়নপিটোনি খেয়ে বেচারা অর্কের অবস্থা নাজেহাল।

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৩৩