মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৪
তাসনিয়া নুর
— আরে ভাইয়া তুমি গাধাকে ঘোড়া কেনো বলছো এইভাবে বলে তুমি বেচারা ঘোড়ার অপমান করলে ছে ছে।
অন্যদিন হলে আহির দুচারখানা কথা শুনিয়ে দিতো এই মেয়েকে কিন্তু আজকে তার মনে ভয় তাই চুপ থাকাকে নিজের জন্য মঙ্গল বলে মনে হলো । গিয়ে ভদ্র ছেলের মত সবার মাঝে বসে পরে কেউ ব্যাপারখানা খেয়াল না করলেও চিত্রা করেছে কিন্তু সে আর বিষয়টাকে নিয়ে মাথা ঘামালোনা, তার মাথায় ঘুরছে আপাতত অন্য কিছু। এর মধ্যে আবইয়াজ প্রশ্ন করে
– আজকে এতো বড় আলোচনা সমালোচনা সমাবেশ কারণটা কি??
– মেহু, বিষয়টা মেহুকে নিয়ে ।
সবেগে প্রতুত্তর চিত্রার । চিত্রার জবাবে আবইয়াজ একভ্রু উচিয়ে
– ওর কি হয়েছে?? সবতো ঠিকই আছে একটু আগে ও তো দেখলাম পা দিয়ে দিব্বি হাঁটছে ।
আবইয়াজের প্রশ্নে গত কয়েকদিনের সব ঘটনা খুলে বললো চিত্রা। সব ঘটনা শুনে আবইয়াজ চরম অবাক হয়, পাচঁ দিনের জন্য সে ট্যুর এ কি গেলো ঘরের আবহাওয়াই একদম বদলে গেলো। আজ সকালে মেহু যখন তাকে দেখে ও না দেখার মতো পাশ কাটিয়ে চলে গিয়েছিলো তখন আবইয়াজ কিছুটা অবাক হয় বটে কেননা যে মেয়ে আবইয়াজ বলতে পাগল সে কিনা তাকে ইগনোর করছে? তবে তখন আবইয়াজ মনেমনে খুশিই হয়, সে জানে মেহু তাকে মনে মনে পছন্দ করে কিন্তু সেতো সবসময় মেহুকে বোনের দৃষ্টিতে দেখেছে। অন্য চোখে মেহুকে সে কল্পনা ও করেনি আর না করতে চায় ।
আবইয়াজে কিছু একটা ভেবে আবারো প্রশ্ন করে
— তাহলে তোরা এখন কি করতে চাইছিস ?
প্রশ্নের প্রেক্ষিতে চিত্রা বাঁকা হাসি দিয়ে সবার দিকে দৃষ্টি তাক করে হাতের ইশারায় কাছে ডাকে। সবায় একে অপরের কাধে হাত রেখে গুল হয়ে বসে, চিত্রা ফিসফিস কন্ঠে কিছু বলে। চিত্রার কথা শুনে উপস্থিত কারো মনে কৌতহল তো কারো মনে ভয়ের সন্ঞার ঘটে । কিন্তু আহির ব্যস্ত নিজের পরিকল্পনা নিয়ে।
চিত্রা এবার নিজের হাত সামনে দিয়ে বলে
— mission tonight lamp, are you ready guys??
সকলে একে একে চিত্রার হাতে হাত মিলিয়ে চিৎকার দিয়ে বলে উঠে
— yessssssss!!!!!
মধ্য দুপুরে যে যার যার মতো রুমে বসে আছে । আহির সিরি দিয়ে নামার সময় চারদিক সতর্ক দৃষ্টি বুলালো, নাহ কাওকে দেখা যাচ্ছেনা। আহির সস্ত্বির নিশ্বাস ফেললো, দরজার সামনে যেই পা রাখলো অমনি কাধে কারো স্পর্শ পেয়ে পিছন ঘুরে তাকালো।
— এই ভরদুপূরে কোথায় যাচ্ছিস??
কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেসা করলো মাহির । আহির চেয়েছিল যাওয়ার সময় সে যেনো কারো সামনে না পরে শেষমেষ পড়লো তো পড়লো এই প্রশ্নের মেশিনের সামনেই পরতে হলো। আহির মাহির এর দিকে তাকিয়ে উত্তর দেয়
— তোকে কেনো বলব আমি ফার্মেসিতে যাচ্ছি?
— বলেই তো দিলি ফার্মেসি যাচ্ছিস।
নিজের কথায় নিজে এভাবে ধরা পরবে আহির বুঝতে পারেনি। ইশ হুট করে কেনো যে মুখ দিয়ে বের হয়ে গেলো আহিরের এখন ইচ্ছে হচ্ছে নিজের মাথা গরুর পিঠে বারি দিয়ে ফাটিয়ে দিতে। পরক্ষণেই নিজের কথায় অবাক হয়ে আহির ভাবে গরুর পিঠে বারি খেলে মাথা ফাটে বুঝি? কে জানে।
— বললি না যে কেনো যাচ্ছিস ফার্মেসি?
মাহিরের দ্বিতীয়বার প্রশ্নে আরেকটু বিরক্ত হলো আহির। আহির মুখ শক্ত করে বলে
— ওইসব পার্সোনাল ব্যাপার স্যাপার তোকে বলা যাবেনা।
— মায়ের পেটে ছিলাম একসাথে নেংটা কালে তোর যা দেখার দেখে ফেলেছি তোর আবার আমার কাছে পার্সোনাল কিরে?
আহির ও মাহির জমজ। মাহির আহিরের চেয়ে তিন মিনিটৈর বড়, তবে এদের দেখলে কেউ বলবেনা এরা জমজ কেননা এদের ফেস কাটিং সব কিছু সম্পন্ন আলাদা ।
— নির্লজ্জ পুরুষ মুখ দিয়ে আমার ইজ্জত হরন করচিস ।
— সেসব বাদদে আগে বল কেনো যাচ্ছিস?
আহির এবার মুখটাকে ভোতা করে উত্তর দেয়
— বললাম তো বলা যাবেনা এইসব কাউকে বলা যায় না।
মাহির কিছুক্ষন চুপ করে রইলো হুট করে কি একটা ভেবে প্রফুল্ল মনে আহির কে হালকা ধাক্কা দিয়ে বলে
— আরে এতে এতো লজ্জার কি আছে আমাকে বললে কি হতো? আমি না তোর ভাই, আগে বলবি না আমাকে।
মাহিরের কথায় আহির বেশ ভয় পেলো তাহলে কি মাহির সব বুঝে গেছে? এর মধ্যে মাহির জিজ্ঞেস করে
— তো ভাই কোন ফ্লেভার আনবি? চকলেট, স্ট্রবেরী নাকি কাশফুল??
— মানে এইসব এর আবার ফ্লেভার ও হয় নাকি??
মাহির মাথায় হাত দিয়ে অবাক হয়ে বলে উঠে
— তুই এইটা ও জানিস না?? তুই কিরে ভাই? তুই আসলেই পুরুষ তো? আমার কিন্তু সন্দেহ হচ্ছে।
আহির ভাবে আসলেই তার ভাই জানলে সে কেনো জানেনা। আহির একটু আমতা আমতা করে বলে
— আসলে আমি জানতাম না এখন তোর থেকে জানলাম ।
— আচ্ছা এখন বল কোন ফ্লেভার আনবি হু।
কথাটা বলে আবারো আহিরের কাধে মৃদু ধাক্কা দিলো । আহির মাথা চুলকে ভাবে কিভাবে তার ভাই জেনে গেলো একবার কি জিজ্ঞাসা করবে? পরমুহূর্তে ভাবলো না না থাক মাহির যখন কিছু বলছেনা সে কেনো বলে নিজের ইজ্জত ফালুদা করবে। আহির মাথা নিচু করে বলে
— স্ট্রবেরী। তুই তো জানিস আমার স্ট্রবেরি ফ্লেভার কত ভালো লাগে। আচ্ছা এখন আমি যাই তাহলে দেরি হয়ে যাচ্ছে।
— আচ্ছা যা।
আহির যাওয়ার পর মাহির এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তার ভাই কত দূর এগিয়ে গিয়েছে আর সে এখনও সিঙ্গেলই রয়ে গেলো । মাহির এবার নিজের কাঁধে হাত দিয়ে বলে
— থাক কাঁদিস না মাহির তোর ও কেউ স্ট্রবেরী হবে।
ভরদুপূরে রাস্তা দিয়ে হেঁটে ফার্মেসিতে আসে আহির । বাসা থেকে এখানে আসতে দশ মিনিট লাগে তাই আর গাড়ি আনেনি সে। দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আহির ইতস্তত করতে লাগলো কিভাবে বলবে দোকানিকে তার বড়দের ডায়পার লাগবে । আহির এগিয়ে সামনে যেতেই দোকানদারের ভুরি পেট দেখে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো। দোকানদার আহিরকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে প্রশ্ন করে
— কি চাই??
— আপনার পেট।
— মানে!!!!!
আহির দাঁত দিয়ে জিব কাটে । ভুল জায়গায় ভুল কথা বলে ফেলেছে। আহির কিছু একটা ভেবে দোকানদেরকে বলে
— আমাকে স্ট্রবেরি ফ্লেভার এর ওইটা দেন তো যেটা নিচে পরে। আর হ্যাঁ অবশ্যই বড়দের টা দিবেন।
দোকানদার আহিরের দিকে তাকিয়ে পিছন ঘোরে এগিয়ে গিয়ে বিড়বিড় করে বলে
— ওইটা আবার ছোট মানুষের হয় নাকি। কি আজব মানুষ।
দোকানদার যেতেই আহির জুড়ে এক শ্বাস ফেললো, বড় বাচা বাচলো যদি বেটা শুনে ফেলত?? আহিরের ভাবনার মধ্যে দোকানদার তার হাতে কিছু একটা দিলো। আহির অন্যমনস্ক থাকায় প্রথমে খেয়াল না করলেও হাতে ছোট কিছু অনুভব হতেই হাতের দিকে তাকায়। হাতে থাকা বস্তুটা দেখেই আহিরের চক্ষু চকরগাছ, আহির সেটাকে দূরে ফিক্কা মারে আর বুকে হাত দিয়ে বলে
মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৩
— আস্তাগফিরুল্লাহ, লা হাওলা, এইসব কি দেন ছি ছি ছি। আমি এক আবিয়াইত্তা পোলা।
— মিয়া আফনে না কইলেন বড়রার স্ট্রবেরি ফ্লেভার দিতে।
— আরে আমি আপনাকে ডায়পার দিতে বলেছি ডায়পার।
— থোরর মিয়া আফনে কি আমার মজা নেন ওইডা কি আবার কোনো ফ্লেভার হয় নাকি।
আহির কিছু বলতে যাবে তার আগেই তার কন্ঠস্বর রোধ হলো হঠাৎ করে কিছু একটা মাথায় আসতেই চোখ বড় বড় করে আহির ধীর কন্ঠে বলে উঠে
— তাহলে কি মাহির…. শিট শিট শিট ।
