মাটির পিঞ্জর পর্ব ৪
নূরায়েশা মাহনূর
বেলা পেরিয়ে এখন একটায় এসে দাঁড়িয়েছে। সেই সকালের নাস্তার পর থেকে উজানরা বাইরে। আধা শহুরে, আধা প্রাকৃতিক এই এলাকাজুড়ে তাদের অবাধ চরণ। বিস্তৃত অঞ্চলের বুক চিরে বয়ে চলেছে এক অপার নদী। যার ধারের সরু কাঁচা পথ ধরেই যাতায়াত হয় স্থানীয় বাজারঘাটে। আজ তারা সবাই এসেছে সেই নদীর পাড়ে। নিসর্গ আর নির্জনতায় ভেজা এক নরম দুপুরের গহীন আহ্বানে সাড়া দিয়ে।
তুবা আর আফরা নদীর বুকে হেলে পড়া আলোকে ক্যামেরা বন্দি করতে ব্যস্ত । একপাশে জুতো খুলে বসে পড়েছে জিদান, নয়ন আর আফিস। তারা নদীর জলতরঙ্গ ছুঁয়ে ফিরে যাচ্ছে কোনো শৈশব স্মৃতির কাছে। যেখানে সময় ছিল ধীর, আর পৃথিবী খানিকটা কম জটিল।
আর তাদের সবার থেকে একটু দূরে নির্জনে দাঁড়িয়ে আছে উজান। চোখ তার দূরে জলে প্রতিফলিত আকাশের গভীরে। আপনমনে ভাবছে সে অনেক কিছুই। নদীর সৌন্দর্য বারবারই তাকে বিমুগ্ধ করে।
নদীর পাড়ে দাঁড়ালেই সময় আপন গতি বিস্মৃত হয়। নিভৃত কোনো প্রাচীন প্রহরের মতো থমকে থাকে নিরবে। তার স্রোত বয়ে চলে সুদূরের কোনো চিরন্তন ভাটিয়ালির সুরে এক নিঃসীম আত্মবিস্মৃতির অভিজ্ঞান ধারণ করে। নদীর জল পুরোনো দিনলিপির পাতায় রোদে ফ্যাকাসে হয়ে ওঠা প্রেমপত্র যার প্রতিটি অক্ষর আজও অনুভবে দগ্ধ, স্মৃতিতে উজ্জ্বল কিন্তু কালি ঝাপসা।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
পাড়জুড়ে বুনো ঘাস আর কাশফুলে বিছানো নরম নিসর্গের জাল; বাতাসের ছোঁয়ায় শাড়ির আঁচলের মতো দুলে ওঠে। প্রতিটি ঢেউ স্মৃতির গায়ে আলতো ছুঁয়ে দিয়ে যায়। নদীর কিনারে রাখা পাথরের ফাঁকে জন্ম নেওয়া ক্ষুদ্র সবুজ গাছেরা প্রমাণ দেয়, ধুলোর বুক চিরেও জীবন ছায়া খোঁজে আলো চায়।
এই নদী এক আধ্যাত্মিক সঙ্গী, এক গূঢ় শ্রোতা। যার কাছে অনুচ্চারিত কথারা শব্দের অনুরোধ ছাড়াই পৌঁছে যায়। সে শোনে, বুঝেও ফেলে কোনো উত্তর চায় না, কোনো বিচার দেয় না। যখন সন্ধ্যার ছায়া ধীরে ধীরে নদীর কোল ঘেঁষে নামে তখন তার জল রূপার চূর্ণ হয়ে ঝিকিমিকি করে উঠে। সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে নদীর ঢেউয়ের কাঁধে শেষ আলো ছড়িয়ে দিয়ে যায় এক রূপবতী বিদায়। সে সেজে ওঠে শেষবারের মতো কারও জন্য। আর ঠিক সেই মুহূর্তে দূরে কোথাও এক বাঁশির অস্পষ্ট সুর বয়ে আসে বাতাসে। কে জানে, নদীর মন কি সত্যিই শুনে ফেলে সেই সুর? নাকি সেও কোনো না বলা আকুলতার প্রতিধ্বনি হয়ে বেজে ওঠে?
উজানের আনমনা দৃষ্টি তখনও নদীর বুকে ভেসে থাকা সূর্যছায়ার সঙ্গেই কথোপকথনে মগ্ন। ঠিক সেই মুহূর্তে দৃশ্যপট ভেঙে হুট করে সেখানে হানা দিলো কয়েকজন অচেনা যুবক। হঠাৎই তাদের উপস্থিতিতে নদীর ধারে নেমে এলো এক বিশৃঙ্খলতা, শান্ত দৃশ্যপটে চিরে এলো অস্বস্তির আঁচ।
প্রথমে তারা এগিয়ে গেল তুবা আর আফরার দিকে। চোখে মুখে বেয়াদবির ভঙ্গি। তাদের মাঝখান থেকে একজন এগিয়ে এসে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিলো,
– কি মেম সাহেব ছবি তুলতেছেন? দেন না আমরা তুইলা দিই এত কষ্ট করতে হইবো না!
ছেলেটার কণ্ঠে মশকরা কিন্তু চোখে গা জ্বালানো স্পষ্ট দৃষ্টি। মুহূর্তেই সেই কটাক্ষ ধমকে থামিয়ে দিলো তাদের সামনে থাকা তাদের দলেরই একটা ছেলে । সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটি কপালে ভাঁজ ফেলে বলল,
– এই! চুপ কর আজেবাজে বকিস না!
তার কণ্ঠের কঠোরতায় খানিক স্তব্ধতা নামল বটে, কিন্তু সেই থেমে থাকা দীর্ঘ হলো না। এবার সে নিজেই তুবা আর আফরার দিকে তাকিয়ে এক গা-জড়িয়ে-আসা কৌতূহলে বলে উঠল,
– আপনারা কই থেইকা আইছেন? আগে তো দেখি নাই আপনাগো। থাকেন কই?
তুবার চোখে আগুন জ্বলে উঠল। কণ্ঠে ধাতব কড়ামতা এনে সে জবাব ছুঁড়ে দিল,
– আপনাকে কেন বলতে যাব? কে আপনি?
তুবার কণ্ঠস্বরের তীব্রতায় মুহূর্তেই জিদান, নয়ন আর আসিফের দৃষ্টি সেদিকে ছুটে গেল। তারা একটু দূরে বসে থাকলেও পরিস্থিতির ছায়া তাদের ছুঁয়ে যেতেই তড়িঘড়ি করে উঠে এসে তুবাদের পাশে এসে দাঁড়ালো।
– কি হচ্ছে ভাই? এসব কী? ওদের ডিস্টার্ব করছেন কেন?
কাছে এসেই দৃঢ় গলায় বলে উঠল আসিফ । তার প্রশ্ন শুনে যুবকগুলো খানিকটা হকচকিয়ে তাকাল। কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে সেই আগের ছেলেটা ফের ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে উঠল,
– আপনারা কেডা? এখানে কী চাই?
শব্দগুলো এতটাই কাঁচা ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ ছিল যে মুহূর্তেই পরিস্থিতির বাতাসে আগুন লেগে গেল। নয়ন ও জিদান দ্রুত পাশে এসে দাঁড়াল আসিফের। তুবার চোখেমুখে ক্ষোভের ঝড়, আর আফরার মুখে স্পষ্ট অস্বস্তি।
অন্যদিকে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা উজান এসমস্ত কিছু মুহূর্তকাল নীরব তাকিয়ে দেখছিল। চোখে তার সতর্কতা, কিন্তু যখন সে বুঝল পরিস্থিতি ফসকে যাচ্ছে তখন আর এক মুহূর্ত দেরি করল না। কিন্তু উজান আসার মাঝামাঝি সময়েই বিস্তর এক তর্কাতর্কি হয়ে গেলো আসিফ আর ছেলেগুলোর মাঝে। তর্কের সুর বেড়ে গিয়ে গালাগালিতে পরিণত হলো। তারপর এক ঝটকায় কেউ একজন অন্যকে ধাক্কা দিলো মুহূর্তেই তা গড়ালো হাতাহাতিতে। ধাক্কা, ধস্তাধস্তি, রাগে গর্জে ওঠা মুখ সব এক মুহূর্তে বিশৃঙ্খলায় ডুব দিলো। উজান দ্রুত এসে এক ধাক্কায় ছাড়িয়ে নিলো দুজনকে।
– হচ্ছে টা কি এখানে?
বজ্রপাতের মত চিৎকার করে কথাটা বলে উঠলো উজান। তার উপস্থিতিতেই মুহূর্তে থমকে গেল বাতাস। সবাই চুপ। নদীর ঢেউয়ের আওয়াজও দম আটকে এক পলকের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। তখনই ছেলেটা বিরক্তি নিয়ে তেড়ে এলো উজানের দিকে।
– আপনি কে? আর আমাদের মাঝে কথা কইতেছেন ক্যান? সরেন সামনে থেইকা!
কথাটা বলতে দেরি ছেলেটার গাল বরাবর এক তীব্র আঘাত পড়তে দেরি হলো না। শটান শব্দটা গোটা নদীপাড়ে ধ্বনিত হয়ে উঠল। এক তীব্র, নির্দ্বিধা, নির্মম চড় ছুঁড়ে দিল উজান। নিঃশব্দ বজ্রের মতো আছড়ে পড়ল সেই চড় ছেলেটার গালে। মুখটা সরে গেল এক পাশে চোখেমুখে এক অপ্রস্তুত বিস্ময়। সে খানিকটা কেঁপে দাঁড়িয়ে থাকলেও, উজান তার সামনে একচুলও নড়লো না।
মুহুর্তেই ছেলেটার গালে লালচে রঙ ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষোভে ফোঁসফোঁস করে নিঃশ্বাস নিচ্ছে সে। কিন্তু তার চেয়েও ভয়ংকর উজানের চোখের ভাষা। দাবানলের মতো উত্তপ্ত হচ্ছে তার ভিতরে। রক্তচক্ষু নিয়ে উজানের দিকে তাকাল ছেলেটা। চারপাশ নিস্তব্ধ। বাতাসও থমকে দাঁড়িয়ে আছে। নদীর ঢেউয়ের ছলাৎ ছলাৎ শব্দটা অনেক দূরে সরে গেছে।
দূর থেকে সবকিছুই নিরব সাক্ষীর মতো দেখছে দৃষ্টি।
কলেজ থেকে ফিরতে তার প্রতিদিনের পথ এই নদীপাড়ের সরু রাস্তা। প্রথমে সে বুঝতেই পারেনি কী ঘটছে। দূর থেকে হট্টগোল জটলা দেখেছে তবে এই এলাকার জন্য এমন চিত্র খুব একটা নতুন না। সে ভাবলো, হয়তো সাধারণ কোনো ঝামেলা। পাশ কাটিয়ে চলে যাবার সিদ্ধান্তও নিয়েছিল।
কিন্তু হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল। নির্বাক এক মুহূর্তে আফরাকে নজরে এলো তার। আসিফের পাশে ভয়ে কুঁকড়ে আছে। সেই এক পলকেই থেমে গেল দৃষ্টি।
পায়ের গতি স্তব্ধ, হৃদয় হঠাৎ করে একটু বেশি শব্দ করে ধুকপুক করতে লাগলো। চারপাশে এত কোলাহল, অথচ দৃষ্টির চাহনি কেবল আফরার উপরই আটকে রইলো।
সামান্য কাঁপা কাঁপা হাতে কাঁধের ব্যাগটা শক্ত করে চেপে ধরল সে। চোখ সরাতে পারছিল না। এক অন্তত দ্বিধার ভিতরে তার মনে হলে দাঁড়িয়ে থাকা উচিত না। তাই আর আগপিছ না ভেবেই সেদিকেই এগিয়ে গেলো।
চড় খাওয়া ছেলেটা তেড়ে এসে দুই হাতে চেপে ধরল উজানের কলার। উজান ধীরে চোখ নামিয়ে তাকালো ছেলেটার হাতের দিকে। পরক্ষণেই, নির্ভুল নিশানায় ছেলেটার নাক বরাবর সজোরে এক ঘুষি ছুঁড়ে দিল উজান। এক মুহূর্তে ছেলেটার মাথা দুলে উঠল। পা টাল খেলো কিন্তু সে থামল না। ছেলেটাকে দেখে মনে হচ্ছে সে রক্ত লেহনকারী ক্ষুদ্র এক দানব পকেট থেকে বের করল ছোট্ট একটা ছু/রি। এলাকার পাতি নেতাদের কাছে এমন ছোট জং ধরা দুচারটা ছু/রি চা/কু থাকেই।
চুরিটা উঁচিয়ে ছেলেটা ঝাঁপিয়ে পড়ল উজানের দিকে।
ধাতব ঝলক চোখে পড়ে গেল উজানের কিন্তু নিজের প্রতিক্রিয়া দেবার আগেই… এক দমকা হাওয়া, এক তীব্র ধাক্কা এসে ওলট-পালট করে দিল মুহূর্তটাকে।উজান পেছনে হেলে পড়লো।
উজানকে একটা ধাক্কা দিয়েছে দৃষ্টি। তার ফলস্বরূপ ছুরির আঁচড়টা এসে লেগেছে ঠিক তার ডান বাহুতে। এক মুহূর্ত স্তব্ধ হয়ে গেলো দৃষ্টি। উজান হতবিহ্বল, অসাড় চোখে তাকিয়ে আছে দৃষ্টির দিকে। উজান নিজেও বুঝতে পারলো না কি হলো। সব কিছু এতটাই আকস্মিক হলো যে তা কারো বোধগম্যই হলো না। হাতে চাপ দিয়ে রক্ত থামানোর কোনো চেষ্টা নেই দৃষ্টির। শুধু তার জ্বলন্ত দৃষ্টিতে আটকে আছে ছেলেটা।রক্তচক্ষু নিয়ে দৃষ্টি তাকিয়ে আছে ছেলেটার দিকে।নিকাবের আড়ালে তার চোখজোড়া উত্তপ্ত লাভার মত টগবগ করছে। দৃষ্টিকে দেখে ছেলেটা থমথমে মুখে বলে উঠলো,
– দৃষ্টি ভাবি আপনি এখানে কী করেন?
দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে কথাটা বলে উঠতেই দৃষ্টি কষিয়ে একটা চড় লাগালো ছেলেটার গালে । এইদিকে নিকাবের আড়ালে এটা দৃষ্টি শুনতেই সকলে বিষ্ময় নিয়ে তাকালো তার পানে। তারা কেউ চিনতেই পারেনি দৃষ্টিকে। আর চিনার কথাও না, আগায় গোড়ায় তার কালো দিয়ে মোড়ানো। এই অবস্থায় তাকে বাড়ি থেকে বের হতেও দেখে নি কেউ। কিন্তু এতকিছুর বাহিরে গিয়ে একটা কথা উজানের মস্তিষ্কে হানা দিলো, ভাবি!
বাকি সব কোলাহল, সব সংঘর্ষ, এমনকি দৃষ্টির রক্তাক্ত হাতটাও হারিয়ে গেলো উজানের ভাবনার পেছনে। দৃষ্টিকে ওরা ভাবি ডাকছে! ভাবি? কে ভাবি? কেন?কাকে?
– ভাবি এটা কিন্তু আপনি ঠিক করলেন না ভাইয়ের কাছে বিচার দিব আমি।
ছেলেটা গাল ঢলতে ঢলতে আওয়াজ করে বলে উঠলো কথাটা। ততক্ষণেই উজান হঠাৎ তেড়ে এলো ছেলেটার দিকে।
– এই কে তোর ভাবি? কে তোর ভাবি?
– উনি আমাগো ভাইয়ের পছন্দ করা মেয়ে আমাগো ভাই এনারেই বিয়ে করবো, তাই আমাগো ভাবি।
– কে তোর ভাই? নাম বল, নাম বল!
বলেই ছেলেটার গায়ে ঝাপিয়ে পড়লো। তৎক্ষণাত আশেপাশে চোখ বুলিয়ে একটা মাঝারি সাইজের ঢাল দেখতে পেলো সে। আগ-পিছ না ভেবেই ঢালটা তুলে নিলো উজান। ঢাল হাতেই ধরা, রাগে উত্তেজিত হয়ে সে ঝাঁপিয়ে পড়লো ছেলেগুলোর ওপর। বেধড়ক মারতে মারতে নিজের ভেতর থেকে কাঁপা গলায় গুঞ্জরিত করলো,
– ওরে ভাবি বলার এত সাহস কই পাস তোরা কু/*র বাচ্চারা! আজকে তোদের মে/রে/ই ফেলবো। ও আমার হবু বউ! ওর সাথে আমার বিয়ে হবে! আর আমার বউয়ের দিকে তাকালে তোদের চোখ তুলে ফেলবো!
উজান কি বলছে এসব! উজানের কথা শুনে তাকে থামানো তো দূর আরো আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে রইলো সবাই। দৃষ্টি তো এখন একেবারেই স্তব্ধ।জিভে জব্বল করছে হাজার কথার খামোশী, কিন্তু মুখ খুলছে না।তবে উজান যেভাবে আগুন ঝরাচ্ছে মনে হচ্ছে আজ এই জায়গায় কিছু না কিছু হয়ে যাবে। পাশের গলিতে, মাটির ওপর চারপাশে মানুষ জড়ো হতে লাগলো। কেউ এগোচ্ছে না শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছে।একসময় আর অপেক্ষা করতে না পেরে দৃষ্টি চোখ তুলে তাকালো আফরার দিকে,
– আপু আপনার বন্ধুকে থামতে বলুন লোকজন জমছে পরে ঝামেলা হবে।
দৃষ্টির কথা শুনে আসিফ, নয়ন, আর জিদান একসাথে এগিয়ে এসে শক্ত হাতে উজানকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলো। তিন জন মিলে যতই টানাকানি করুক উজানের চোখ থেকে এখনও আগুন ঝরছে। এরপর কোনো রকমে টেনে নিলো উজানকে। পিছনে ছেলেগুলো রাস্তার মাঝখানে লুটোপুটি খাচ্ছে। মাথা তুলে ওঠার আগেই উজান আবারো জোর গলায় বলে উঠলো,
মাটির পিঞ্জর পর্ব ৩
– শু/য়ো/রের বাচ্চারা, যদি তোদের ভাইয়ের কলিজায় দম থাকে তাহলে বলিস আহমির উজান চৌধুরীর হবু বউয়ের দিকে হাত বাড়াতে। ওই হাত যদি আমি কেটে টুকরো টুকরো করে কুকুর দিয়ে না খাইয়েছি তাহলে আমার নামও উজান না।
