Home মাটির পিঞ্জর মাটির পিঞ্জর পর্ব ৬

মাটির পিঞ্জর পর্ব ৬

মাটির পিঞ্জর পর্ব ৬
নূরায়েশা মাহনূর

দুপুরের শরীর গড়িয়ে বিকেলের কাঁধে মাথা রাখছে সময়। আকাশে এখন রোদের জৌলুশ ম্রিয়মাণ, তার জায়গা দখল করে নিয়েছে রঙিন মেঘের মিছিল। জানালার ফাঁক গলে ঢুকে পড়ছে বিকেলের কোমল হাওয়া, নিরবে ঘরের চারপাশ ছুঁয়ে যাচ্ছে এক অদৃশ্য স্নেহে।
সবাই নিজের মতো করে খেয়ে নিয়েছে শুধু দুজন খায়নি। কারো অবশ্য এটা নিয়ে মাথাব্যথাও নেই। অরুনা এখনও জানে না পুরো ঘটনা। কেউ তাকে বলেনি কিছু। ছেলে এতদিন পর এসেছে আর এসেই ঝামেলায় জড়িয়ে গেছে এটা শুনলে অরুনার চিন্তা আরো বেড়ে যাবে তাই দৃষ্টিও বলেনি কিছু।

– কী রে ডেকেছিস কেন?
উজানের ঘরে পা রাখতেই প্রশ্নটা ছুড়ে দিল আফরা। স্বাভাবিক কণ্ঠ, তবু কোথাও একটা ক্ষীণ রূঢ়তা লুকিয়ে আছে । উজান খাটে হেলান দিয়ে বসে ফোনে কিছু একটা দেখছিলো। আফরার কণ্ঠে সাড়া দিয়ে সে উঠে সোজা হয়ে বসল। সীমানা লঙ্ঘন না করে সাবধানে আফরাও এসে বসলো খাটের এক কোণায়। বিনাবাক্যে একটা বক্স এগিয়ে দিল উজান। সাদামাটা প্লাস্টিকের, পরিচিত আকৃতি।
– এটা তো ফাস্টএইড বক্স! আমি এটা দিয়ে কী করব?
উজান স্থির কণ্ঠে বলল,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

– দৃষ্টির হাতে ব্যান্ডেজ করে দিয়ে আয়।
স্মৃতির গায়ে ধাক্কা খেয়ে থমকে গেল আফরা। মুহূর্তেই দুপুরের ঘটনা সব মনে পড়ে গেল তার। চোখ সরিয়ে উজানের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল,
– আমাকে কেন বলছিস? তোর হবু বউ তো তুই নিজেই ব্যান্ডেজ করে দে না।
– আফরা তুইও মজা নিচ্ছিস!
আফরা ঠান্ডা গলায় জবাব দিল,
– আজব! মজা কেন নেব? যেটা সত্যি সেটাই তো বললাম।
উজান গভীর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। কিছু একটা আটকে আছে বুকের মধ্যে। ধীরে মাথা ঘুরিয়ে জানালার বাইরে তাকাল। সামনের ঘরে দৃষ্টির দরজা বন্ধ, জানালাও নিঃসাড়। আফরার দিকে ফিরে তাকিয়ে থেমে থেমে বলল,
– কথাটা তখন… এমনি বলেছিলাম আফরা। ওই ছেলেগুলো রাস্তায় দৃষ্টিকে হ্যারেস করে।
আফরা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। তারপর অভিজ্ঞ কাউন্সেলরের মতো মাথা নাড়িয়ে বলল,

– হুঁ, বুঝলাম!
তবে সে বুঝলাম শব্দের নিচে যে কতখানি না-বোঝার ভার চাপা সেটা আদৌও জানে না দুজনের কেউই।
– এবার যা, ব্যান্ডেজটা এক্ষুনি করে দিয়ে আয় ওকে।
– যাচ্ছি।
বলে সোজা হয়ে উঠে দাঁড়াল আফরা। কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে দরজার কাছে পৌঁছে থেমে গেলো। হঠাৎ কিছু মনে পড়ল। ঘাড় ঘুরিয়ে আবার জিজ্ঞেস করল,
– দৃষ্টির ঘরটা কোনটা?
উজান চুপচাপ হাত তুলে জানালার ওপারে বারান্দা বরাবর একটি ঘরের দিকে ইশারা করল। আফরা হালকা হেসে মাথা নাড়ল। ইশারার সঙ্গে সঙ্গে অনেক অনুচ্চারিত কথাও বুঝে ফেলেছে সে। তারপর শব্দহীন পায়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলো।

ঠক ঠক….
– কে?
দরজার ওপারে টোকা দিতেই ভেতর থেকে ভেসে এলো এক নরম কণ্ঠ।
– আমি আফরা দরজা খুলো।
আবছা পায়ে এগিয়ে এসে ধীরে দরজা খুলে দিলো দৃষ্টি। কাঁচের মত স্বচ্ছ চোখ দুটোতে একরাশ বিষণ্ণতা জমে আছে। মুখখানেও ক্লান্তির ছাপ। আফরা চুপচাপ ঢুকে পড়লো ভেতরে। ঘরের ভেতরে ঢুকতেই অদ্ভুত এক গুমোট ভাব। দরজা-জানালা সব বন্ধ করে রাখা, বাইরের আলোও ঢুকতে পারেনি ঠিকমতো। হঠাৎ করেই থমকে দাঁড়িয়ে সে বলল,

– আরে, এত অন্ধকার কেন ঘরটায়? একটু আলো জ্বালাও তো!
দৃষ্টি চুপচাপ জানালার দিকে এগিয়ে গেল। জানালার শিক খুলতেই এক চটাক হাওয়া অপেক্ষায় ছিল বহুক্ষণ। সে এক দারুণ দমকা, ফুস করে ঢুকে পড়ল ঘরের নিঃশ্বাসে। ঘরটা হঠাৎ করে জীবন্ত হয়ে উঠল।
দৃষ্টি জানালার গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে। হাওয়ার ঝাপটায় তার শরীরটা একটুখানি কেঁপে উঠল, চোখ দুটো নিজের অজান্তেই বন্ধ হয়ে এলো। সাথে সাথে তার দীর্ঘ, দীঘল রেশমি চুল উড়ে উঠল হাওয়ার মাতাল শিসে।
পেছন থেকে এই দৃশ্য দেখে কিছুক্ষণ থমকে দাঁড়িয়ে থাকল আফরা। এতদিন দৃষ্টিকে সে পুরোপুরি দেখেনি।দুটি কেবল চেনা চোখের দেখা, তারও মাঝে ছিল নিজেকে আড়াল করার প্রবল অভিপ্রায়।
কিন্তু আজ? আজ আকাশী নীলের কোমল ঢেউয়ের উপর হাটুর কাছাকাছি নেমে আসা ওই চুলের স্রোত অপরূপ বিমুগ্ধতা এনে দিল আফরার মনে। অপরূপ, অনাহুত এক মুগ্ধতা।

দৃষ্টি জানালার ছায়া থেকে সরে এসে তাকালো আফরার চোখে। আর তাতেই আফরা খানিক নড়েচড়ে উঠল। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না আফরা। আফরা স্থির দাঁড়িয়ে আছে তবু মনে হচ্ছে তার চেতনা হেঁটে যাচ্ছে কোনো দূর, অজানায়। এই দৃশ্যটা কি চোখের ভ্রম? সে কি সত্যিই এক রক্ত-মাংসের মানুষকে দেখছে? নাকি ঠিক তার সামনে, বিকেলের আলোয় দাঁড়িয়ে আছে আকাশের বুক থেকে ঝরে পড়া একটা আসমানী পরি?
এমন রূপ, এমন নির্মল বিভা তার কল্পনার পাশ কাটিয়েও কখনও আসেনি। আসমানী রঙের ঢেউখেলা কাপড় তার গায়ে ঝুলে আছে ধীর বাতাসের মতো। ভিতরে পরা সাদা ব্লাউজে তাকে আরও নির্মল, আরও উজ্জ্বল লাগছে। চুলগুলো আধা ভেজা, আধা শুকনো। তাতে বাতাস লাগতেই রূপকথার ঝর্ণাধারার মতো ওড়ে উঠল একেকটা আলগা পাঁজর ভেদে ঢুকে যাওয়া শিহরণ হয়ে।

কপালের উপর কয়েকটা চুল গড়িয়ে এসে একটা বুনো আবেশ ছড়িয়ে দিয়েছে মুখে। আর সেই মুখ!দুধে-আলতা গায়ের গড়নে রক্তজবা ছুঁয়ে থাকা এক চিরন্তন রাঙা। দৃষ্টির বড় বড় চোখ দুটো দেখে মনে হচ্ছে নিখিলের সব গল্প লুকিয়ে আছে সেখানেই। পাপড়িতে গাঢ় রাতের ছায়া। চোখের মণিদুটো একা বসে চন্দ্রমুখী ফুলের মত চেয়ে আছে আফরার চোখে চোখে।ঠোঁটজোড়া নব কুঁড়ি গোলাপের পাপড়ির মতো, হালকা কাঁপছে নীরব বাতাসে।
এই মুখে, এই চোখে, এই স্তব্ধতাজুড়ে যে কী অপার মায়া, তা আর বিশ্লেষণ করতে পারল না আফরা। এত সৌন্দর্য, এত মায়া এক শরীরের মধ্যে কীভাবে ধারণ করে রেখেছে দৃষ্টি!

তার বুকের ভিতর দিয়ে এক অনুচ্চারিত ঢেউ বয়ে গেল। এক মুহূর্তে মনে হলো, সে যদি মেয়ে না হয়ে কোনো পুরুষ হতো তবে এই দৃষ্টিকে দেখে সে নির্ঘাৎ প্রেমে পড়ে যেতো। না, প্রেমে না, সে হয়তো সরাসরি লুটিয়ে পড়তো এই রূপের কাছে।
নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলো না আফরা। শব্দগুলো গলায় আটকে ছিল অনেকক্ষণ ধরে, অবশেষে মুক্তি পেয়ে দোলা দিয়ে উঠলো চারপাশে।
– মাশাল্লাহ… মাশাল্লাহ… দৃষ্টি, তুমি… তুমি এতটা সুন্দর!
আফরার কণ্ঠে বিস্ময়ের চেয়েও বেশি বিহ্বলতা, যেমন করে কেউ হঠাৎ চাঁদের খুব কাছাকাছি চলে গেলে বলে ওঠে এ চাঁদ, এত কাছে!

কথাগুলো সরাসরি গিয়ে পড়লো দৃষ্টির নরম হৃদয়ের উপর। সে লজ্জায় একটু চমকে উঠলো। অন্তর্গত স্নিগ্ধতার ঢেউয়ে মুখটা নিচু করে ফেললো। তবু তার সেই অনুচ্চারিত জবাব উঠে এলো নাকের ঢগাটায়। ধীরে ধীরে লাল হয়ে উঠছে তার সারা মুখ। ঠিক স্নো-হোয়াইটের গালচুম্বন করা গোলাপের পাঁপড়ি।
আফরার মনে হলো, সে সত্যিই কোনো মোমের পুতুলকে দেখছে। যাকে স্পর্শ করলেই গলে যাবে…ভেঙে পড়বে কাঁচের মতো হিমশীতল কোমলতায়।
– কি বলছেন আপনি, আপু?
দৃষ্টি অস্থির স্বরে বলে উঠলো কথাটা। কখনো কারো প্রশংসা পেতে সে অভ্যস্ত নয়। তবু আফরার চোখে তার প্রতি যে নির্ভেজাল বিস্ময় তা তাকে লজ্জায়-ভীতিতে জড়িয়ে ধরেছে।

– ঠিকই বলছি দৃষ্টি। তোমার মত রূপ আমি এর আগে দেখিনি । তুমি যেন চুপ করে থাকা কোনো জলজ ফুল,
যাকে কেউ ছুঁতেও ভয় পাবে, আবার একটাবার স্পর্শ করার তাগিদে হাসফাস করবে।
দৃষ্টি চুপ করে থাকেলো কিছুক্ষণ। ভাষাহীন হয়ে শুধু মৃদু হাসির ছায়া খেলে গেলো তার ঠোঁটে। চোখে জমে উঠলো একরাশ অবাক ভাব আর নাকের ঢগাটা ততক্ষণে গোলাপি ছায়া ছুঁয়ে ফেলেছে।
আফরা বুঝে গেলো আর কথা বাড়ালে মেয়েটা পুরোটাই গলে যাবে অস্থিরতায়। সাবধানে এগিয়ে এসে তার হাত ধরে টেনে বসিয়ে দিলো খাটে। এরপর হেসে বলে উঠলো,

– থাক, এত লজ্জা পেতে হবে না। দেখি তো কোথায় কেটেছে?
– আমি ঠিক আছি আপু… আপনি শুধু শুধু কষ্ট করছেন।
নরম গলায় আপত্তি করলো দৃষ্টি। আফরা এবার একটু কঠোর সুরে বলে উঠলো,
– বেশি কথা বোলো না তো! হাতটা বাড়াও দেখি।
বলেই দৃষ্টির হাতটা ধীরে ধীরে টেনে নিলো আফরা। হাতের ক্ষতটার জন্য একটা হাফ হাতার ব্লাউজ পরেছিল সে। তাই ক্ষতটা দেখতে অসুবিধা হলো না আফরার। দৃষ্টি একটা সুতির কাপড় বেঁধে রেখেছে সেখানে। আফরা সাবধানে সেই কাপড় খুলে দিলো। কাপড়টা সরাতে গিয়েই টানটান হয়ে ওঠা ত্বকের নিচ থেকে রক্ত ধীরে ধীরে ঝরে পড়তে শুরু করলো। নিষ্পাপ ক্ষতটা আবারও জীবন্ত হয়ে উঠেছে। আফরা হাত দিয়ে সযত্নে এন্টিসেপ্টিক লাগাতে লাগলো।

– এত খামখেয়ালি কীভাবে থাকতে পারো? এইভাবে রেখে দিলে তো ইনফেকশন হওয়ার কথা। বুঝতে পারো না? একটু সাবধান হতে হয়!
কথাগুলো তির্যক তীর হয়ে ছুঁয়ে গেলো দৃষ্টির মনে। আফরার এইটুকুনি যত্ন দৃষ্টির মন কাড়লো। এদিকে দৃষ্টি চোখ-মুখ টানটান করে শক্ত করে বন্ধ করে আছে। জ্বলনির বেদনায় পুরো শরীর ঝাঁকুনি খাচ্ছে। এই তীব্র জ্বালার ভয়ে হাতের ক্ষতটায় ব্যান্ডেজ দিতে অস্বীকার করেছিল সে। জানালার ফাঁক দিয়ে উজান চুপচাপ তাকিয়ে আছে। কেন দেখছে, নিজেও বুঝতে পারছে না। শুধু এক অদ্ভুত ঘ্রাণ-ভরা আনন্দ পাচ্ছে সে। কোনো নিষিদ্ধ সুখের ছোঁয়া মেলেছে তার মনে। নিজেকে বুঝাচ্ছে মেয়েটা যে তার জন্য আঘাত পেয়েছে। আদৌও যে অন্য কিছু তা ভাবতেই পারছে না সে।

দৃষ্টির ভয়ার্ত, ব্যথায় ভরা মুখমন্ডলও দেখতে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে উজানের কাছে। চোখের পাতাগুলো মৃদু স্পন্দিত হচ্ছে । শরীরের ভেতর থেকে একেকটি অনুভূতি আলতো করে ছুঁয়ে যাচ্ছে তার রূপরেখা। ঠোঁটের জোড়া হালকা খোলা, আর মৃদু একটা আওয়াজ ফিসফিস করে বয়ে যাচ্ছে। নাক আর গাল রক্তিম টমেটোর মতো লালিমায় রাঙিয়ে উঠেছে। নিঃসন্দেহে অসাধারণ এক রূপ, যার সামনে কোনো শিল্পীর পলক ঠেকবে না।
ইশ ইশ, এত সুন্দর কেন এই মেয়েটা? উজানের মনে প্রশ্নটি ঘুরপাক খেলো। আগে কখনো চোখে পড়েনি কেনো ? নাকি সে চোখের সামনে ছিলো, কিন্তু নিজের ইচ্ছামতো দেখতে চায়নি? আজ কেন হঠাৎ করে এত আকৃষ্ট হল তার মন? কেন এই অজানা সৌন্দর্যের সামনে সে হারাতে চায়, যুগ যুগ পার করে দিতে চায় শুধু তাকিয়ে?
সব মিলিয়ে, সে নিজের মনের ভেতর একটা অদ্ভুত ঝড় অনুভব করলো। যা তাকে নিজেও অবাক করে দিল। অমন এক অনুভূতি যা স্পষ্ট ভাষায় ব্যাখ্যা করা কঠিন। হঠাৎ আনমনে সে হাসি ছড়ালো। নিজের মধ্যকার গোলকধাঁধার সঙ্গে ঠাট্টা করলো খানিকটা।

কিন্তু দৃষ্টি চোখ খুলতেই, দ্রুত সেখান থেকে কেটে পড়লো। যদি দৃষ্টি দেখে ফেলে তাহলে তার সম্মানের দফারফা হয়ে যাবে। দৃষ্টির সামনে এত ভাব দেখানো তখন লজ্জায় পরিনত হবে।
হাতে ভালোভাবে ব্যান্ডেজ করে দিয়ে উঠে দাড়ালো আফরা। তখনই দৃষ্টি বলে উঠলো,
– আপু, আপনারা এসেছেন কিন্তু একটুও সময় দিতে পারিনি আপনাদের । সেটার জন্য আমি খুবই দুঃখিত। কিছু লাগলে আমাকে অবশ্যই জানাবেন।
আফরা হেসে বলে উঠলো,
– আমাদের আপাতত কিছু প্রয়োজন নেই, হলে জানাবো।
– গল্প করতে চলে আসবেন কিন্তু।
বলেই হেসে উঠলো দৃষ্টি। আফরা একটু ভাবুক হয়ে বলে উঠলো,

– আচ্ছা এই বাড়িতে তোমরা কয়েকজন ছাড়া কি আর কেউ নেই?
– আছে তো, উজান ভাইয়ার একজন চাচা আছে। উনি দেশের বাহিরে থাকে। আর ওনার একটা মেয়ে আছে। উজান ভাইয়ের চাচী আর চাচাতো বোন বেড়াতে গেছে চলে আসবে ১/২ দিনের মাঝেই।
– ওহ, আচ্ছা আমি যাই পরে আসবো।
– আচ্ছা।
আফরা হেসে বেরিয়ে যাবে এমন সময় দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আবারো বলে উঠলো,
– একটা কথা বলি আবার তুমি লজ্জা পেয়ো না কেমন?
– কি কথা?
– তুমি আসলেই মাতাল করা সুন্দর! যে তোমার ভালোবাসা পাবে সে নিঃসন্দেহে জিতে যাবে। আজকে থেকে তোমাকে আমি রূপচন্দ্রিমা বলে ডাকবো।

আফরার মুখে কথাগুলো শেষ হতেই দৃষ্টি হেসে উঠলো। কী অপার্থিব সে হাসি! একমুহূর্তের জন্য চারপাশ থমকে গেল, সময়ও তার হাসিতে মোহিত। সেই হাসির আলোয় মুখখানা আরও দীপ্ত হয়ে উঠলো। তারপর চোখ তুলে এক গাঢ় দৃষ্টিতে আফরার চোখে চেয়ে দৃষ্টি ধীরে বলে উঠলো,

– রঙে রঙ, ছলে ছলনা,
ভালোবাসা কিন্তু সবার সয় না…
রুপের মাঝে যার চাঁদ ঝরে,
চোবল দেয় সে বিষের ঘোরে…
যেই রূপে সে রূপচন্দ্রিমা,
একই বিষে বিষচন্দ্রিমা…..!
আফরা অবাক নয়নে তাকিয়ে আছে দৃষ্টির দিকে। দৃষ্টির মুখে হাসি এখনো বিদ্যমান। একটুও কমেনি মুখের হাসি বরং আরো কিছুটা প্রশস্ত হয়েছে সেই হাসি। আফরাও এবার মৃদু হাসলো। তার কণ্ঠে খেলা করলো এক কিশলয় আত্মবিশ্বাস,

মাটির পিঞ্জর পর্ব ৫

– বিষচন্দ্রিমাটা ঠিক যায় না তোমার সাথে রূপচন্দ্রিমাই ঠিক আছে।
বলেই সেখান থেকে চলে গেলো সে। দৃষ্টি একবার আয়নার দিকে তাকালো। আয়নায় যে মুখ, তা সত্যিই অপূর্ব! এক আশ্চর্য রূপবতী, এক বেদনাদগ্ধ রূপকথা!

মাটির পিঞ্জর পর্ব ৭