Home মেজর কারদার মেজর কারদার পর্ব ৭

মেজর কারদার পর্ব ৭

মেজর কারদার পর্ব ৭
ফিনারা ঝুমুর

মিষ্টি এক মুহূর্তের এই অযাচিত ডাক শুনে চরম বিরক্তি নিয়ে পেছন ঘুরে তাকাল শীর্ষ। ছাদের দরজার সামনে সূচিকে হতবিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তার ভেতরের রাগটা চাড়া দিয়ে উঠল। সে দাঁত কিড়মিড় করে বলল,
​“কী ব্যাপার সূচি? তুমি এই অসময়ে ছাদে কী করছ?”
​কথাটা বলার সাথে সাথেই মেঘকে নিজের চওড়া পিঠের পেছনে আড়াল করে দাঁড়াল শীর্ষ। সূচিকে দেখে মেঘ মনে মনে ভয় না পেলেও ভীষণ অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। সে নিজের নেত্রপল্লব ঝেড়ে শীর্ষর আড়াল থেকে সূচির দিকে তাকিয়ে রইল।​সূচি রাগে কাঁপতে কাঁপতে ওদের দিকে এগিয়ে এসে বলল,
“আমারও একই প্রশ্ন, অঙ্কন ভাইয়া! তুমি এই কালিনী মেয়ের সাথে একা একা ছাদে কী করছ?”
​মেঘকে সবার সামনে ‘কালিনী’ বলে অপমান করায় শীর্ষর মাথা গরম হয়ে গেল। সে ধমকের সুরে গর্জে উঠে বলল,

​“নিজের ভাষা সংযত করো, সূচি! ভুলে যেও না, মেঘ আমাদের অতিথি। তাকে তুমি এভাবে অপমান করার কোনো অধিকার রাখো না। ফারদার যদি কোনোদিন ওকে এভাবে কিছু বলেছ, তবে আমি ভুলে যাব যে তুমি আমার মামাতো বোন! ভুলে যেও না, শাসনের সময় কে মেয়ে আর কে ছেলে—আমি ওসবের তোয়াক্কা করি না!”
​শীর্ষর সেই অগ্নিসুলভ চোখ জোড়ার দিকে তাকিয়ে সূচি রাগে নিজের হাত মুষ্টিবদ্ধ করে চিৎকার করে বলল,
“একশত বার বলব! ও একটা কালিনী! ও তোমাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিতে চাইছে!”
​“আমি তোমার ছিলাম কবে?”
​শীর্ষর এই বাজখাই গলার চিৎকারে মেঘ আর সূচি—উভয়ই কেপে উঠল। পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে মেঘ এবার শীর্ষর আড়াল থেকে পুরোপুরি বের হয়ে এল। সে শান্ত কিন্তু দৃঢ় গলায় বলল,
​“আমার জন্য আপনারা নিজেদের মাঝে অহেতুক ঝামেলা করবেন না। আমি এমন কেউ নই যে আমার জন্য আপনাদের ঝগড়া করতে হবে!”
​কথাটা বলেই মেঘ আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না। সে চুপচাপ ছাদ থেকে নেমে গেল। নিচে নামার সময় ওর কানে বারবার সূচির বলা ‘কালিনী’ শব্দটাই বাজতে লাগল। বুকের ভেতর এক অদ্ভুত কষ্ট মোচড় দিয়ে উঠল ওর। ও কি আসলেই দেখতে এতটাই খারাপ? শ্যামবর্ণ হওয়া কি এতটাই দোষের? কিন্তু সূচির মতো নাক-উঁচু মানুষের কাছে তো এটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ।
​ওদিকে মেঘকে চলে যেতে দেখে সূচি এক গাল বিগলিত হাসি ফুটিয়ে শীর্ষর দিকে এগিয়ে গেল। ওর থেকে এক হাত দূরত্ব বজায় রেখে আদুরে গলায় বলল,

“ওহ! অঙ্কন ভাইয়া, তুমি শুধু শুধু রাগ করছ। দুদিন পর তো তুমি আমার স্বামীই হবে। বড় ফুফি নিজের মুখে তোমার সাথে আমার বিয়ে ঠিক করেছে।”
​সূ
চির মুখে বিয়ের কথা শুনেও বিন্দুমাত্র বিচলিত হলো না শীর্ষ। সে ঠোঁটের কোণে এক রহস্যময় বাঁকা হাসি ফুটিয়ে সূচির দিকে তাকিয়ে বলল,
“তাই–?”
​“হ্যাঁ!”
সূচি বেশ ডাঁটের সাথে মাথা নাড়ল।​সূচির আত্মবিশ্বাস দেখে শীর্ষ আবারও একটু হাসল। নিজের ধারালো চোয়ালে হাত বোলাতে বোলাতে অত্যন্ত ঠান্ডা গলায় বলল,
“কিন্তু, আমি যে অলরেডি অর্ধবিবাহিত–”
​শীর্ষর মুখে ‘অর্ধবিবাহিত’ শব্দটা শুনে সূচি যেন আকাশ থেকে পড়ল! সে স্তব্ধ হয়ে শীর্ষর কথার আগা-মাথা খোঁজার চেষ্টা করল, কিন্তু কিছুই বুঝল না।
​“মানে?”

​“সময় হলেই সব উত্তর পেয়ে যাবে। তবে আপাতত এটা মনে রেখো সূচি, তুমি আমার স্ত্রী হচ্ছো না—ব্যাস!”
​কথাটা শেষ করেই শীর্ষ আর এক সেকেন্ডও সেখানে দাঁড়িয়ে সূচির ফালতু কথা শোনার প্রয়োজন মনে করল না। সে কড়া পায়ে ছাদ থেকে নেমে চলে গেল।
​এদিকে সূচি ছাদে একাকী স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। শীর্ষর শেষ কথাটি—‘তুমি আমার স্ত্রী হচ্ছো না!’ তার মাথার ভেতর হাতুড়ির মতো পিটতে লাগল। মনে হলো সমগ্র আসমানটা বুঝি এক পলকে ওর মাথার ওপর ভেঙে পড়েছে! ফুফিমণির দেওয়া প্রতিজ্ঞা তবে কি ভুল ছিল?
​“একমাত্র আমি ছাড়া এই দুনিয়ায় অন্য কেউ তোমায় পাবে না, শীর্ষ! যেভাবেই হোক, আমি তোমায় আমার করেই ছাড়ব!”
​ক্রোধে আর হিংসায় শরীর জ্বলতে লাগল সূচির। সে রাগ সামলাতে না পেরে ছাদবাগানের টবে থাকা সুন্দর পাতাবাহার গাছের পাতাগুলো টেনে টেনে ছিঁড়ে একাকার করে ফেলতে লাগল। তার চোখের মণি দুটো তখন মেঘের প্রতি তীব্র হিংসায় কুচকুচে কালো হয়ে উঠেছে।

বিকেল প্রায় ম্লান হতে চলল। চারদিকের আলো ফুরিয়ে এসে আকাশের কোণে গোধূলির আবছায়া রঙ লেগেছে। কারদার বাড়ির এই অলস সময়ে কিঞ্জার রুমে ছোটদের আস্ত একটা গ্যাং জড়ো হয়েছে। আর রুমে ঢুকেই সবাই মিলে একসাথে হামলা করেছে মেঘের ওপর।​কিঞ্জা তো বিছানায় লাফিয়ে উঠে চেঁচিয়ে বলেই ফেলল,
“এই মেঘ! আমরা কিন্তু নোমান ভাইয়ার মুখে শুনছি তুই নাকি খুব ভালো অভিনয় করতে পারিস! আয়নার সামনে যেয়ে একটু ঢং করে দেখা তো আমাদের, দেখি কেমন পারিস!”
​“শুধু কি ঢং? এই ছেড়ি আরও অনেক কিছু পারে! বাঘা বাঘা মানুষদের নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাতেও এর জুড়ি মেলা ভার!”
কিঞ্জার কথায় বাঁধ সেধে মিথিলা চোখ নাচিয়ে এই কথা বলতেই ঘরের সবাই হেসে কুটিপাটি।
​রুমে তখন আদর আর রাহাতও বসে আড্ডা দিচ্ছিল। আদর আর কিঞ্জা মূলত টুইন ভাই-বোন, কিঞ্জার ঠিক দুই মিনিট আগে আদরের জন্ম হয়েছে। আর রাহাত হলো পিংকি বেগমের মেঝো ছেলে। ওরাও মেয়েদের সাথে এই আড্ডায় তাল মেলাচ্ছিল।
​সবার হাসাহাসি দেখে মেঘ দুই হাত নাড়িয়ে বলল,
“আমি বাপু ওসব ঢং-ঢং করতে পারব না। পরে মা যদি কোনোমতে দেখে ফেলে, তবে সব ঝাড়ুর বাড়ি এই পিঠে এসে পড়বে!”

​“আরেহ চিল! আলেয়া আন্টি এখন নিচে শিউলি আন্টির সাথে রান্নাবান্না নিয়ে গল্প করতেছেন, উনি জানতেও পারবেন না,”
আদরের এই অভয় দেওয়া কথায় মেঘও হেসে ফেলল।
​সে এক হাত কোমরে রেখে, হাততালি দিয়ে গোল হয়ে ঘুরতে ঘুরতে বলল,
“আচ্ছা ঠিক আছে, করব। কিন্তু আমার একটা মস্ত বড় শর্ত রয়েছে!”
​“কী শর্ত?”
সবাই একযোগে কৌতুহলী হয়ে প্রশ্ন করল।
​মেঘ ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলল,
“আমায় এই লুকে সুন্দর সুন্দর দেখে কয়েকটা রিলস বানিয়ে দিতে হবে। আমি ওগুলো টিকটক আর ফেসবুকে আপলোড দেবো!”
​মেঘের মুখে টিকটক আর রিলসের কথা শুনে বাকি সবাই চরম অবাক হলো। রাহাত আর আদর একত্রে হাঁ করে বলে উঠল,

“তোর টিকটক আর এফবি অ্যাকাউন্টও আছে নাকি?”
​মেঘ নিজের চুলগুলো হাত দিয়ে বাতাসে উড়িয়ে একটু ভাব নিয়ে বলল,
“সবই আছে আমার! জামানা বদলেছে না? যাকগে, এখন কথা না বাড়িয়ে দ্রুত কাজ শুরু করো।”
​মেঘের কথামতো মিথিলারা ক্যামেরাম্যান সেজে কাজে লেগে পড়ল। মেঘও আর দেরি না করে ড্রেসিংটেবিলের আয়নার সামনে গিয়ে বসল। ঝটপট চোখের ওপর গাঢ় করে কাজল আর আইলাইনার টেনে এক মায়াবী ঢং শুরু করল ও। গায়ের আনারকলি জামার ওড়নাটা টেনে এনে মুখের ওপর দিয়ে নাক অবধি এমনভাবে বাঁকা করে ঢাকল, যেন সে কোনো আরব্য উপন্যাসের রহস্যময়ী রাজকন্যা! এরপর ওড়নাটা সরিয়ে নিজের এক হাত দিয়ে মুখটা আলতো করে ঢেকে ক্যামেরার দিকে তাকাল। তার ডালিম দানার মতো ঠোঁট আর কাজল পরা গাঢ় বাদামী চোখ জোড়া এই অদ্ভুত আলোর খেলায় যেন এক স্বর্গীয় জ্যোতি ছড়াতে লাগল।​মেঘের এই অভাবনীয় রূপ দেখে মিথিলা মুগ্ধ হয়ে চিল-চিৎকার দিয়ে উঠল,
“মেঘরে! তোরে তো পুরো হূরপরী লাগতাছে রে! তোরে যেই দেখবে এই লুকে, হেই ই ক্রাশ খাইয়া সোজা বাঁইকা যাইবো!”

​মিথিলার এমন রসালো প্রশংসায় মেঘের মায়াবী শ্যামলা গালে লজ্জার এক লালচে আভা ফুটে উঠল। সে চোখ নামিয়ে নিল।​ঠিক তখনই, ঘরের দরজার আড়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে মেঘের এই লুকিয়ে থাকা রূপ আর চোখের ইশারা দেখছিল একজন। আর তাকে দেখা মাত্রই সেই শক্ত মনের পুরুষটা মুহূর্তের মধ্যে এক্কেবারে ফিদা হয়ে গেল! সেই একজন আর কেউ নয়, মেঘের সেই পাগলা প্রেমিক—শীর্ষ!
​মেঘের ওই কাজল কালো চোখের সরাসরি চাউনি আর হাত দিয়ে মুখ ঢাকার সেই মোহময়ী ভঙ্গি দেখে শীর্ষর বুকের ভেতর প্রেমের এক বিশাল সুনামি বয়ে গেল। সে পকেটে হাত রেখে, মুগ্ধ নয়নে চেয়ে থেকে নিজের মনেই ফিসফিসিয়ে বিড়বিড় করে বলে উঠল
​“তোমার ওই নিপুণ চোখের মায়ার জড়িয়েছি সর্বকায়া, ভাসিয়েছি নিজেকে অদৃশ্য প্রেমের জোয়ার-ভাটায়। আজ হোক বা কাল, তোমারই ওই চোখের মায়ায় সাঁতার কাটতে চাই, আমার মেঘমালা!”
​শীর্ষর সেই ধারালো আর কঠোর চোখ জোড়ায় এখন মেঘের জন্য কেবলই এক অগাধ মায়া আর তীব্র ভালোবাসার ঝলক স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। আর্মির কঠিন হৃদয়টা যে এই চঞ্চল মেয়ের মায়ায় পুরোপুরি বন্দি হয়ে গেছে, তা দূর থেকে দেখতে পাওয়া ওই চোখের চাউনিই বলে দিচ্ছিল।
মেঘ একদম জানতেও পারল না যে, কেউ একজন দূর থেকে তার এই কাজল-চোখের রূপ দেখে মনে মনে এক্কেবারে পাগল হয়ে যাচ্ছে। জানলে হয়তো এই চঞ্চল মেয়েটা তার ওই মায়াবী রূপের ধার দিয়ে মেজরের শক্ত বুকটাকে আরও ফালাফালা করে মেরে ফেলত!

​খুলনার বাসের সময় ঘনিয়ে এসেছে। আর মাত্র কিছু সময় পরেই মেঘেরা সপরিবারে কারদার বাড়ি থেকে বিদায় নেবে। যাওয়ার আগে মেঘ ঝটপট করে বাড়ির পেছনের বাগানের দিকে ছুটে গেল। গতকাল বিকেলে ওখানে চমৎকার একটা তাজা ফুল ফুটে থাকতে দেখেছিল ও। যাওয়ার আগে ওই ফুলটা ছিঁড়ে এনে নিজের কানের পিঠে গুঁজে একখানা মিষ্টি ছবি তোলার বড্ড শখ জেগেছে তার মনে।
​কিন্তু তাড়াহুড়ো করে ফ্রক দুলিয়ে দৌড়ে যেতে গিয়েই ঘটল চরম এক বিপত্তি! বাগানের ভেজা মাটির ওপর কার যেন ফেলে রাখা একটা কলার খোসায় পা পিছলে গেল মেঘের। সামলাতে না পেরে একদম ‘ধপাস’ করে সে আছড়ে গিয়ে পড়ল পাশের নরম, থকথকে কাদা-মাটির গর্তে! পড়ে যাওয়ার সাথে সাথেই তার সেই সুন্দর ধোয়া আনারকলি জামা আর শ্যামা মুখ-হাত মাখামাখি হয়ে এক্কেবারে কাদার ভূত হয়ে গেল।
​মেঘ ব্যথায় আর অপমানে মগজ গরম করে কাদার ভেতর বসেই সজোরে চিৎকার করে পা দাপাতে লাগল। চিরাচরিত পুরান ঢাকার ঢঙে চেঁচিয়ে গালিগালাজ জুড়ে দিল,
​“কোন শা\লার ব্যাটা এনে মাটি-পানি ফালাইয়া গেছে রে? হা\লার পুতরে যদি একবার সামনে পাইতাম, তবে আইক্কালা বাঁশ ভইরা দিতাম! হা\লা, দেইখা-হুইন্না কলার খোসা ফেলবি না? চোখ কি তোর পুট\কিতে আছিল?”

​মেঘ যখন আপন মনে মনের সুখে কাদার ভেতর বসে চোদ্দো গুষ্টি উদ্ধার করতে করতে গালিগালাজ করছিল, ঠিক তখনই ওপর থেকে এক জোড়া মজবুত, ফর্সা হাত তার সামনে এসে বাড়ল।​উপর থেকে এক গম্ভীর কিন্তু রসাত্মক কণ্ঠস্বর ভেসে এল,
“কী মিস কাদারানী? সাঁঝসন্ধ্যায় কাদার পুডিংয়ে হাবুডুবু খেতে কেমন লাগছে আপনার?”
​এমনিতেই মেঘ রেগে আগুন হয়ে আছে, তার ওপর আগুনে ঘি ঢালার মতো শীর্ষর এই আগ বাড়িয়ে বলা টিপ্পনী শুনে তার মাথার সব কটা রগ একসাথে দপ দপ করে উঠল। সে কাদার ভেতর থেকেই চোখ রাঙিয়ে দাঁত কিড়মিড় করে বলল,
“আফনারে বুঝাইতাসি কেবা লাগতাসে! দাঁড়ান!”
বলেই মেঘ ঝট করে নিজের কাদামাখা হাতটা দিয়ে শীর্ষর বাড়িয়ে দেওয়া সেই হাতটা খুব শক্ত করে খপ করে ধরে ফেলল। শীর্ষ আর্মির লোক, সে খুব ভালো করেই মেঘের মতলবটা বুঝতে পেরেছিল। চাইলে সে এক ঝটকায় নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে পারত, কিন্তু সে নিজেকে সরাল না। বরং ঠোঁটের কোণে এক রহস্যময় বাঁকা হাসি ফুটিয়ে মেঘের দিকে গভীর চোখে তাকিয়ে রইল।
​মেঘ এক খ্যাপা বাঘিনীর মতো শীর্ষর দিকে তাকিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে একটা জবরদস্ত টান মারল। শীর্ষ নিজের শরীরের ভারসাম্য ইচ্ছা করেই একটু আলগা করে দিয়েছিল, আর অমনি তাল সামলাতে না পারার ভান করে সে-ও সটান গিয়ে আছড়ে পড়ল সেই নোংরা কাদাপানির গর্তে!
​আর্মির সেই ফিটফাট মেজরের ধবধবে কালো টি-শার্ট আর ট্রাউজার এক সেকেন্ডে কাদায় জুবুথুবু হয়ে গেল। মেঘ নিজের মিশনে সফল হয়ে কাদার মধ্যেই দুই পা ছড়িয়ে বসে খিলখিল করে হেসে উঠল। তারপর দুই হাত দিয়ে পাশ থেকে আরও এক দলা কাদা তুলে নিয়ে ‘টাস’ করে লেপে দিল শীর্ষর দুই ফর্সা গালে!​হাসতে হাসতে বলল,

“এবা কেবা লাগতাসে, হুহ? মেজরের কাদা মাখা চেহারা খাসা হইসে!”
​শীর্ষ কিন্তু এতটুকু রাগ করল না। সে মুখে এক কৃত্রিম, মিষ্টি রাগ দেখিয়ে কাদার মধ্যেই মেঘের আরও সামান্য কাছে ঘেঁষে গেল। মেঘের দিকে কিঞ্চিৎ ঝুঁকে আসতেই মেঘের হাসিমুখটা এক সেকেন্ডে লক হয়ে গেল। সে থতমত খেয়ে, নিজের ভেজা ওড়নাটা চেপে ধরে কাঁপা গলায় বলল,
​“কী–. কী করছেন আফনে? দূরে যান!”
​“আফনে দুষ্টামির আসল মুজা বুঝাইতাসি, কাদুনীবতী!”

শীর্ষ মেঘের পুরান ঢাকার টোনটাই নকল করে ফিসফিসিয়ে বলল।​বলেই সে আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে, নিজের কাদা মাখা শক্ত গালটা আলতো করে ঘষে দিল মেঘের নরম, ভেজা গালে! যেন নিজের গালের কাদাটা মেঘের গালে উপহার দিল।​মাসের পর মাস কড়া ট্রেনিং নেওয়া এক শক্ত পুরুষের গালের এমন আচমকা ও ঘনিষ্ঠ স্পর্শে মেঘের পুরো শরীরটা মুহূর্তের মধ্যে শিউরে উঠল। তার বুকের ভেতর যেন এক হাজারটা ড্রাম একসাথে বাজতে লাগল। ভয়ের চেয়েও এক অদ্ভুত, চেনা-অচেনা নেশায় তিরতির করে কাঁপতে লাগল মেঘের গোলাপি ঠোঁটযুগল।

মেজর কারদার পর্ব ৬

​শীর্ষ কাদার মাঝে এত কাছ থেকে মেঘের সেই কাঁপতে থাকা ঠোঁট আর তার চোখের অতল মায়া দেখে নিজের ভেতরের পুরুষটাকে কোনোমতে সামলাল। সে মনে মনে একটা শুকনো ঢোক গিলে নিজেকেই নিজে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বিড়বিড় করে আউড়ে উঠল,
​“খবরদার শীর্ষ! এই মেয়ের ঠোঁটের মায়ায় এখন একদম পড়িস না চান্দু! এই ড্যাঞ্জারাস মাইয়া তোমারে নিজের প্রেমের জালে এক্কেবারে কুপোকাত কইরা ছাড়ব! চোখ সামলা অঙ্কন!”

মেজর কারদার পর্ব ৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here