Home ম্যারিড লাইফ্ ‎ম্যারিড লাইফ্ পর্ব ৫

‎ম্যারিড লাইফ্ পর্ব ৫

‎ম্যারিড লাইফ্ পর্ব ৫
‎রঙ্গনা মৈত্র ঊর্মি

‎সালটা ২০১৬। রোদ্রোজ্জ্বল দিন । বাংলাদেশের অন্যতম বিখ্যাত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়।
‎গ্ৰীষ্মের সকালে ক্যাম্পাসটা হলুদ রোদে মোড়ানো খামের ন্যায় জ্বলজ্বল করছে । বিশাল একাডেমিক ভবনের কাঁচে সূর্যের আলো পড়ে চিকচিক করছে। পুরোনো কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে ছোট ছোট দলে দাঁড়িয়ে গল্প করছে ছাত্ররা। কোথাও হাসির শব্দ, কোথাও নতুন বন্ধুত্বের শুরু। বাতাসে কফির গন্ধ, নতুন খাতার গন্ধ, আর অচেনা একটা উত্তেজনা। এই কোলাহলের মাঝেই ধীর পায়ে হাঁটছে একটা ছেলে।
‎শেখ ইখতিয়ার আহমেদ।
‎বয়স কুড়ি। লম্বা গড়ন। গায়ের রঙ চাপা ফর্সা, যেন মেঘলা বিকেলের নরম আলো। সাদা শার্টের হাতা কনুই পর্যন্ত গোটানো। কাঁধে কালো ব্যাগ। চোখে পাতলা ফ্রেমের চশমা। ঘন কালো চুলগুলো একটু এলোমেলো হয়ে কপালে পড়ে আছে। মুখে কোনো বাড়তি ভাব নেই, তবু অদ্ভুত রকম ব্যক্তিত্ব আছে ছেলেটার মধ্যে। এমন এক ধরনের শান্ত সৌন্দর্য, যেটা হঠাৎ চোখে পড়ে না, কিন্তু একবার তাকালে দ্বিতীয়বার না তাকিয়ে থাকা যায় না।
‎তবু সে নিজেকে আড়াল করেই রাখে। ইন্ট্রোভার্ট মানুষগুলো সাধারণত ভিড়ের মাঝেও আলাদা থাকে। তারা খুব কম কথা বলে, কিন্তু অনেক বেশি অনুভব করে। হৈচৈ তাদের ক্লান্ত করে ফেলে। নতুন মানুষের সাথে সহজ হতে সময় লাগে। তাই তারা চুপচাপ নিজের ভেতরেই একটা ছোট জগৎ বানিয়ে নেয়। ইখতিয়ারও ঠিক তেমন।

‎কয়েকদিনের মধ্যেই ক্লাসের প্রায় সবাই কারও না কারও সাথে মিশে গেছে। শুধু শেখ ইখতিয়ার আহমেদ এখনো সেই আগের মতোই আলাদা। ক্লাসে আসে, চুপচাপ শেষ বেঞ্চে বসে, নোট করে, তারপর কারও দিকে না তাকিয়েই বেরিয়ে যায়। যেন পুরো পৃথিবীর সাথেই আড়ি তার।
‎ঠিক তখনই তার জীবনে অদ্ভুতভাবে জুড়ে গেল একটা মেয়ে। সিদরাতুল মুনতাহা।
‎ তাকে দেখে ইখতিয়ার খুব একটা খেয়াল করেনি। কিন্তু মেয়েটাকে না খেয়াল করে থাকাও যে কঠিন। মাথাভর্তি গাঢ় কালো হিজাব সবসময় পরিপাটি করে জড়ানো। চোখে সাদা ফ্রেমের চশমা। ফর্সা, কোমল মুখশ্রীতে অদ্ভুত এক প্রশান্তি। বড় বড় শান্ত চোখদুটো কথা বলার সময় চিকচিক করে ওঠে। হাসলে গালের পাশে ছোট্ট টোল পড়ে। তার সৌন্দর্যটা খুব চড়া নয়, বরং নরম— ঠিক ভোরবেলার রোদের মতো।
‎তবু ইখতিয়ারের অনুবন্ধী মেয়েটা থেকে যায় তার আশেপাশেই। যেন নীরব একটা দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও সে নিশ্চিত— একদিন না একদিন, দেয়ালটা একটু হলেও সরে দাঁড়াবে। মেয়েটার ইচ্ছাশক্তি প্রবল। তাই বোধ হয়…

‎রাতের বৃষ্টির পরে পুরো আকাশ ধুয়ে মুছে পরিষ্কার হয়ে গেছে। জানালার কাঁচে জমে থাকা ছোট ছোট পানির ফোঁটায় সকালের রোদ পড়ে চিকচিক করছে। দূরে নারকেল গাছের পাতায় হালকা বাতাস লাগছে। পাখির ডাক ভেসে আসছে কোথাও থেকে।
‎ মুগ্ধার ঘুম ভাঙল অনেক বেলায়। পাঁচটায়।
‎ঘুম ভাঙতেই কয়েক সেকেন্ড কিছু বুঝতে পারল না সে। মাথাটা ভারী লাগছে। চোখদুটোও জ্বালা করছে।
‎ঘরের পর্দা আধখোলা। সকালের আলো বিছানার একপাশে এসে পড়েছে। ইখতিয়ার রুমে নেই।
‎ঠিক তখনই ওয়াশরুম থেকে পানির শব্দ ভেসে এলো। মুগ্ধা চুপ করে বসে রইল।
‎কাল রাতের ইখতিয়ারকে আজও ঠিক বুঝতে পারছে না সে।
‎লোকটা কখনো বরফের মতো ঠান্ডা। আবার হঠাৎ এমন কিছু কথা বলে, যেটা বুকের ভেতর গিয়ে আটকে থাকে। কাল রাতে কিসব বলল তাকে।
‎মুভ অন? কিসের থেকে? কার থেকে? মুগ্ধার ভ্রু কুঁচকে গেল।
‎তার ভেতর কৌতূহল কাজ করছে। অদ্ভুত এক টান। হয়তো বিবাহ নামক সুতাটার জন্য। মানুষটা এমন কেন? তার চোখে এত ক্লান্তি কেন? মাঝে মাঝে এমন কেন লাগে যেন ইখতিয়ার নিজের ভেতরে কোনো ভারী পাথর নিয়ে হাঁটে। কেন?

‎মুগ্ধা হাঁটু জড়িয়ে বসে রইল।
‎তার মন খারাপ লাগছে ঠিকই, কিন্তু আজ অদ্ভুতভাবে রাগ লাগছে না। বরং ইখতিয়ারের জন্য কেমন মায়া লাগছে। ওয়াশরুমের দরজা খুলল।
‎মুগ্ধা তাকালো। ইখতিয়ার ভেজা চুলে বেরিয়ে এলো। সাদা শার্ট হাতে। মুখে সেই স্বাভাবিক শান্ত ভাব। যেন রাতের ঘটনাটা কখনো ঘটেইনি।
‎লোকটা আলমারির সামনে দাঁড়িয়ে জামা বের করতে লাগল। মুগ্ধা কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে বিছানা থেকে নামল।
‎ইখতিয়ার শার্টের বোতাম লাগাচ্ছিল তখন। হাতঘড়িটা টেবিল থেকে নিয়ে পড়ল। চুলগুলো এখনো ভেজা।
‎মুগ্ধা সময় নিয়ে কি একটা ভাবল। সামনে গিয়ে দাঁড়াল।

‎“শুনেন?”
‎ইখতিয়ার তাকালো। জামার ঠিক করতে করতে বলল,
‎“হুম?”
‎মুগ্ধা আঙুল মুচড়ালো একটু। তারপর আস্তে বলল,
‎“আমাকে একটু শপিংয়ে নিয়ে যাবেন?”
‎ইখতিয়ারের ভ্রু সামান্য নড়ল।
‎“কি কিনবা?”
‎“কিছু জিনিস লাগবে।”
‎“হুম।”
‎ব্যস। এক কথায় রাজি হয়ে গেল সে। মুগ্ধা একটু অবাক হলো। এত সহজে হ্যাঁ বলবে আশা করেনি সে।
‎ইখতিয়ার আবার ফোন হাতে নিল। খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে কারও নাম্বারে কল দিল।
‎“হ্যালো, রিয়াজ?”
‎গলাটা একদম অফিসিয়াল।
‎“আজকে আমি আসতেছি না। একটা পার্সোনাল কাজ আছে… হুম… মেইলগুলো দেখে নিও, স্যারকে বলে দিও প্লিজ!হুম.. ও….তুমি সবটা একটু দেখে নিও.. আচ্ছা।”
‎অপ পাশের কোন কিছু শুনতে পেলো না মুগ্ধা। ইখতিয়ার ফোনটা রেখে দিলো। মুগ্ধা স্থির হয়ে তাকিয়ে রইল।

‎লোকটা সত্যি সত্যি ছুটি নিয়ে ফেলল।
‎শুধু তাকে নিয়ে বাইরে যাওয়ার জন্য।
‎তার বুকের ভেতরে কেমন একটা শিহরণ ছড়িয়ে পড়ল।
‎ইখতিয়ার ফোন রেখে তাকালো তার দিকে।
‎“কখন যাইবা?”
‎মুগ্ধা তাড়াতাড়ি বলল,
‎“আপনার যখন ইচ্ছা।”
‎“নাস্তা করে বের হই।”
‎“আচ্ছা।”
‎মুগ্ধার ঠোঁটের কোণে ছোট্ট হাসি ফুটে উঠল। ছোট বাচ্চাদের মতো আমোদ করল। ইখতিয়ার সেটা দেখল। এক সেকেন্ড। দুই সেকেন্ড। তিন সেকেন্ড।
‎তারপর খুব আস্তে চোখ সরিয়ে নিল।
‎কেন যেন বুকের ভেতর অস্বস্তি হচ্ছে তার। মুগ্ধা একটু ভালোভাবে কথা বললেই কেন এত অপরাধবোধ হয়?সে জানে না। বা হয়তো জানে।
‎কিন্তু স্বীকার করতে চায় না।

‎সকাল গড়িয়ে তখন প্রায় সাড়ে নয়টা। মুগ্ধার গোছানো শেষ। শাড়ি পড়েছে সে। নীল রঙা শাড়ি। । তবে তার নজর সামনে। তার স্বামীর দিকে। সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট। শার্টের হাতা ফোল্ড করা। চুলগুলো ভেজা ভেজা। মুখে সেই চিরচেনা শান্ত ভাব। মুগ্ধা চোরা চোখে কয়েকবার তাকালো।মানুষটা এত কম কথা বলে কিভাবে! সে তো এক সেকেন্ড কথা না বললে মনে হয় দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
‎মুগ্ধা ঠোঁট কামড়ে হাসি চেপে রাখল। ইখতিয়ার সেদিকে তাকালো। ফোন পকেটে রেখে বলল,
‎“চলো?”
‎মুগ্ধা দ্রুত মাথা নাড়ল।
‎“জি।”
‎দুজন একসাথে রুম থেকে বের হলো। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় মুগ্ধার আঁচলের কোণা বাতাসে উড়ে ইখতিয়ারের হাতে ছুঁয়ে গেল। লোকটা এক সেকেন্ড থামল। তারপর আবার স্বাভাবিকভাবেই নিচে নামতে লাগল।

‎ড্রয়িংরুমে তখন সকালের হালকা আড্ডা চলছে।
‎ইসরায়েল শেখ বরাবরের মতো খবরের কাগজ পড়ছেন। ইন্তিয়া পারভীন ফল কাটছেন। স্নিগ্ধা পাশে বসে আছে। ইসরাফিল শেখ চা হাতে বসে। আর ইশতিয়াক সোফায় আধশোয়া হয়ে ফোন টিপছে।রাফেয়া প্রথম দেখল ওদের।
‎ভ্রু উঁচিয়ে বলল,
‎“কোথায় যাও তোমরা?”
‎মুগ্ধা উত্তর দেওয়ার আগেই ইখতিয়ার শান্ত গলায় বলল,
‎“ওকে একটু শপিংয়ে নিয়ে যাচ্ছি।”

‎এক মুহূর্তের জন্য পুরো ঘরে কেমন নরম নীরবতা নেমে এলো।
‎তারপর ইন্তিয়ার ঠোঁটে ধীরে হাসি ফুটল।
‎ইসরায়েল শেখ চশমার ভেতর দিয়ে তাকালেন। মুখে প্রশান্ত ভাব। রাফেয়া তো সরাসরি হেসেই ফেলল।
‎“বাহ! খুব ভালো।”
‎মুগ্ধা হালকা লজ্জা পেল। মাথা নিচু করে ফেলল।
‎ইশতিয়াক ধীরে ধীরে ফোন নামালো। তারপর এমন মুখ করল যেন পৃথিবীর সবচেয়ে আশ্চর্য ঘটনা শুনেছে।
‎“এক মিনিট…”
‎সবাই তাকালো তার দিকে।
‎সে নাটকীয় গলায় বলল,
‎“আমার ভাই নিজ ইচ্ছায় বউরে নিয়ে বাইরে যাইতেছে?”
‎ইসরাফিল কাশি চাপলেন।
‎ইশতিয়াক উঠে দাঁড়িয়ে ইখতিয়ারের সামনে এসে বলল,
‎“ভাই, তুমি ঠিক আছো তো? ”
‎ইখতিয়ারের কপালে হাত দিল,
‎“জ্বর টর আসে নাই তো?”
‎ইখতিয়ার শান্ত চোখে তাকালো।
‎” সমস্যা কি?”
‎“সমস্যা জন্ডিস ।”
‎মুগ্ধা হাসি চেপে রাখল।
‎ইশতিয়াক এবার মুগ্ধার দিকে তাকিয়ে বলল,
‎“বইন, সাবধানে যাইস। মানুষটা কথা কম বলে, রাস্তায় হারায়া গেলে খুঁজে পাইবি না বলো।”

‎মুগ্ধা চোরা চোখে তাকাল।সঙ্গে সঙ্গে বলল,
‎“না পাইলে তুই তো আছিস! টর্চ নিয়ে বেরোবি খুঁজতে।”
‎ইসরাফিল হো হো করে হেসে উঠলেন।
‎“এই জন্যই মুগ্ধারে আমার ভালো লাগে। ঠিক জায়গায় আঘাত করে।”
‎ইশতিয়াক বুক চেপে ধরল।
‎“এই বাড়িতে আমার দাম নাই,নির্ঘাত আমারে কুড়ায় আনছিলো।”
‎”পাশের ঐ ডোবার নালা থেকে”
‎ইখতিয়ায বলল। ইশতিয়াক চোখ কুঁচকে তাকালো। সবাই হেসে উঠল।
‎ঠিক তখন পাশের সোফায় বসা স্নিগ্ধার দিকে তাকালো ইখতিয়ার।
‎“তুমিও গেলে যেতে পারো।”
‎স্নিগ্ধা একটু চমকে তাকালো।
‎“না না, আমি যাব না ভাইয়া,আপনারা যান।”
‎“কেন? চল ”
‎মুগ্ধা জিজ্ঞেস করল।

‎“এমনি… তোমরা যাও।”
‎ইশতিয়াক সঙ্গে সঙ্গে সোজা হয়ে বসল।
‎“হ্যাঁ, না যাওয়াই ভালো।”
‎সবাই তাকালো তার দিকে।
‎সে গম্ভীর মুখে বলল,
‎“বাইরে অনেক গরম। মানুষের কষ্ট হবে।”
‎ইসরাফিল ধীরে চায়ের কাপ নামালেন।
‎“হুম… কিছু মানুষ অন্যের কষ্টে কষ্টীত হয়ে যায়য।”
‎ইশতিয়াক চোখ কুঁচকাল।
‎“চাচ্চু, আপনি সকালে সকাল আমার পিছে লাগছ ক্যান?”
‎“আমি কিছু কইলাম?”
‎“আপনার কথা সন্দেহজনক।”
‎স্নিগ্ধা মুখ নিচু করে হাসছে।
‎ইসরাফিল সেটা দেখেই আরো মজা পেলেন।
‎“ না ইশতিয়াক, তোরে দেখি আজকাল খুব দায়িত্ববান লাগতেছে।”
‎“আমি সবসময়।”

‎“না আগে তো শুধু খাইতি আর ঘুমাইতি।”
‎ইশতিয়াক গেন্জির গলার দিকটা উচিয়ে বলে,
‎“মানুষ পরিবর্তন হয়।”
‎“কোন ঠেকায়?”
‎ইশতিয়াক এবার দাঁত চেপে বলল,
‎“চাচ্চু, একদিন কিন্তু আমি বিদ্রোহ করব তোমার বিরুদ্ধে।”
‎মুগ্ধা ফিক করে হেসে ফেলল।
‎“ভাই গেঞ্জিতে কলার নেই,ছেড়ে দে”
‎“তুই চুপ থাক।”
‎“না থাকব না ।”
‎ইখতিয়ার চুপচাপ দাঁড়িয়ে সব দেখছে। ঠোঁটের কোণে খুব ক্ষীণ একটা হাসি ফুটেছে।
‎ইন্তিয়া সেটা খেয়াল করলেন। বুকের ভেতর হালকা শান্তি লাগল তার। এমন দৃশ্য তিনি অনেকদিন পরে দেখছেন। মুগ্ধা ধীরে ইখতিয়ারের পাশে এসে দাঁড়াল।

‎“চলেন?”
‎ইখতিয়ার মাথা নাড়ল।
‎“হুম।”
‎দুজন পাশাপাশি দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
‎মুগ্ধার ওড়নার কোণা বাতাসে দুলছে। ইখতিয়ারের হাঁটার ভঙ্গি শান্ত, স্থির। পাশে পাশে হাঁটতে ওদের অদ্ভুত মানিয়ে যায়।
‎পেছন থেকে ইশতিয়াক চেঁচিয়ে উঠল,
‎“ভাই!”
‎ইখতিয়ার ঘুরে তাকালো।
‎ইশতিয়াক ভ্রু নাচিয়ে বলল,
‎“আমার একটা মাত্র ভাবি, রাস্তায় ফেলে এসো না যেন।”
‎মুগ্ধা লজ্জায় চোখ বড় করল। ইখতিয়ার চোখ বড় করে বলল,
‎“ছাগল!”
‎মুগ্ধা হেসে মাথা নাড়ল। যেন ইখতিয়ারের জবাবে সে বেশ খুশি। তারপর দুজন মেইন দরজা পেরিয়ে বাইরে বেরিয়ে গেল।

‎ম্যারিড লাইফ্ পর্ব ৪

‎সকালের রোদ তখন একটু উজ্জ্বল হয়েছে। গেটের বাইরে রাস্তা ভেজা। বাতাসে নরম ঠান্ডা ভাব।
‎দূরে দাঁড়িয়ে সব দেখছিলেন রহিমা খাতুন। চোখদুটো স্থির। বড় নাতি আর তার বউ পাশাপাশি হাঁটছে। মুগ্ধার মুখে লাজুক হাসি। ইখতিয়ার যদিও চুপচাপ, তবু আজ দূরে দূরে লাগছে না।
‎বৃদ্ধার বুকের ভেতর কেমন নরম শান্তি নেমে এলো।
‎এই দৃশ্যটাই তো তিনি দেখতে চেয়েছিলেন।
‎তার শুকনো বৃদ্ধ ঠোঁটে ধীরে হাসি ফুটল।
‎খুব আস্তে বললেন,
‎“মাশাআল্লাহ…”

‎ম্যারিড লাইফ্ পর্ব ৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here