যে পাখি মন বোঝে না পর্ব ২০
মুন্নি আক্তার প্রিয়া
“প্রিয়তা আপু এখন কোথায়?”
জীবন স্থির হয়ে বসে আছে। চোখের দৃষ্টি আটকে আছে প্রীতির মুখের দিকে। তার চোখেমুখে এমন এক বিস্ময়, যেন হঠাৎ করে বহু বছর আগের কোনো বিস্মৃত অধ্যায়ের দরজা আচমকা খুলে গেছে তার সামনে। এখনো যেন সে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না কীভাবে, কোথা থেকে, এত বছর পর প্রিয়তার কথা আবার ফিরে এলো! নিজেকে কোনোরকম স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে নড়েচড়ে বসল। তারপর ধীর গলায় বলল,
“আপনি প্রিয়তাকে কীভাবে চেনেন, বললেন না তো!”
“ডায়ারি থেকে।”
“ডায়ারি থেকে?” জীবনের কণ্ঠে এবার স্পষ্ট বিস্ময়।
“হ্যাঁ।”
বলে প্রীতি নিজের ফোনটা হাতে নিল। গ্যালারি থেকে একটা ছবি বের করে ফোনটা জীবনের হাতে এগিয়ে দিল। কয়েক মুহূর্ত নিরবে ছবিটার দিকে তাকিয়ে থেকে জিজ্ঞেস করল,
“এই ডায়ারিটা আপনি চেনেন?”
জীবনের বিস্ময়ের যেন আর কোনো সীমাই রইল না। সে ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইল কয়েক সেকেন্ড। তারপর অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে চোখ তুলে তাকাল প্রীতির দিকে। বলল,
“হ্যাঁ! এটা তো প্রিয়তার ডায়ারি। আপনি পেলেন কীভাবে?”
প্রীতি একটু গুছিয়ে বসে বলল,
“চট্টগ্রামের একটা লাইব্রেরিতে। কিছুদিন আগে আমি ভার্সিটির বান্ধবীদের নিয়ে চট্টগ্রাম ট্যুরে গিয়েছিলাম। বই পড়া আমার শখ। কোথাও বই দেখলে না কেনা পর্যন্ত শান্তি পাই না। একদিন পুরনো একটা ছোট্ট লাইব্রেরি চোখে পড়ল। বেশিরভাগ বইগুলোই ছিল বেশ পুরনো আর দামও কম। আমি বইয়ের তাক থেকে বই নিয়ে চেক করছিলাম। তখন একটা বই বের করতে গিয়ে এই ডায়ারিটা সেল্ফ থেকে পড়ে গিয়েছিল। কয়েকটা পেইজও ছুটে গিয়েছিল। সেগুলো তুলতে গিয়েই একটা লাইন চোখে পড়ে, যেখানে প্রিয়তা আপু নিজের কষ্টের কথা লিখেছিল। পরে আমি ডায়ারির কয়েক পাতায় চোখ বোলাতেই খুব ইন্টারেস্টিং লেগেছিল। কী ভেবে যেন আমি ডায়ারিটা নিয়ে আসি। বইয়ের দোকানদার অবশ্য এটা আমাকে ফ্রি-তেই দিয়ে দিয়েছিলেন বাকি বইগুলোর সঙ্গে। শুরুর দিকে এটা কারও লেখা নিছক একটা গল্পই মনে হয়েছিল। কিন্তু পরে মনে হলো, এটা যদি কোনো গল্পই হয়, তাহলে একেক পেইজে আলাদা আলাদা তারিখ কেন লেখা? আমার কনফিউশানকে তখন দূর করে দেয় প্রিয়তা আপুর একটা কাপল ছবি।”
কথাগুলো বলতে বলতে প্রীতি জীবনের হাত থেকে ফোনটা নিয়ে ছবিটা স্ক্রল করে বের করল। তারপর ছবিটা দেখিয়ে বলল,
“এই যে, এই ছবিটা। আমি যদি ভুল না হই, তাহলে এটাই রাহাত ভাইয়া। প্রিয়তা আপুর হাজবেন্ড।”
ফোনটা জীবনের হাত থেকে পড়ে যেতে নিলেই প্রীতি তাড়াতাড়ি ধরে ফেলল। জীবন যেন হঠাৎ করেই বাক্শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। শেষ কথাটা শোনার পর তার মুখের সমস্ত স্বাভাবিকতা কোথায় যেন মিলিয়ে গেছে। চোখের সামনে থাকা মানুষটাকে দেখেও যেন সে অন্য কোনো সময়ের ভেতর চলে গেছে। কিছুক্ষণ পর অবিশ্বাসে ভরা কণ্ঠে বলল,
“রাহাত ভাইয়া প্রিয়তার হাজবেন্ড ছিল?”
প্রীতি কয়েক সেকেন্ড জীবনের মুখাবয়ব লক্ষ করল। তার নিজেরও অবাক লাগছে ,জীবন এতটা অবাক হলো কেন? সে ধীরে ধীরে উত্তর দিল,
“হ্যাঁ। কেন, আপনি জানতেন না?”
জীবন মাথা নাড়ল। বলল,
“না! ডায়ারিতে এটা লেখা ছিল?”
“হ্যাঁ। আপু তো কাউকে না জানিয়ে শুধু তার সার্কেল আর রাহাত ভাইয়ার কয়েকজন কলিগকে নিয়ে বিয়ে করেছিল। ওহহো! ডায়ারিতে তো আপনার নাম লেখা ছিল না তখন। তার মানে আপনি জানতেন না। কিন্তু পরেও কি আপনাকে কেউ বলেনি?”
“না। প্রিয়তার সার্কেলের সঙ্গে আমার এত ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল না। আর ওরা প্রিয়তার খুব বিশ্বস্ত বন্ধু ছিল। একা যেহেতু বিয়ে করেছিল, সেহেতু ওরা কাউকে কিছু বলবে না, এটাই স্বাভাবিক। আর এইচএসসির পর আমরা সবাই আলাদা হয়ে গিয়েছিলাম। যোগাযোগও নেই আমাদের।”
জীবনের কথাগুলো শুনতে শুনতে প্রীতি কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর যেন এতদিন ধরে বুকের মধ্যে জমিয়ে রাখা প্রশ্নটা আর আটকে রাখতে পারল না। আবার জিজ্ঞেস করল,
“কিন্তু প্রিয়তা আপু আর রাহাত ভাইয়া এখন কোথায়?”
কণ্ঠটা অজান্তেই একটু কেঁপে উঠল ওর। নড়েচড়ে বসে বলল,
“ঐ ডায়ারিতে আপুর চট্টগ্রামে যাওয়া পর্যন্ত শুধু লেখা আছে। এরপর কী হয়েছিল, আর কিছুই লেখা নেই। জানেন, শত চেষ্টা করেও আমি মাথা থেকে এই ঘটনা নামাতে পারছিলাম না। প্রতিটা মুহূর্তে আমার এত আফসোস হচ্ছিল! আমি জানতাম যে, এটা পুরো অসম্ভব বিষয়। আমি কখনো জানতে পারব না পরে কী হয়েছিল। অসম্ভব জেনেও মনে মনে আল্লাহকে বলতাম, কোনোভাবে কি জানা সম্ভব নয়!”
একটু থেমে প্রীতির চোখে হঠাৎ আশার ঝিলিক ফুটে উঠল। উৎফুল্ল হয়ে বলল,
“আর দেখুন, আল্লাহ্ কীভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করে দিয়েছেন! এখন বলুন না, প্রিয়তা আপু কোথায়?”
জীবনের মুখের ভাবভঙ্গি মুহূর্তেই বদলে গেল। এইমাত্র যে মুখে বিস্ময় ছিল, সেখানে হঠাৎ নেমে এলো গভীর বিষণ্ণতা। চোখদুটো মুহূর্তেই রক্তিম হয়ে উঠল। যেন বহুদিন ধরে বুকের ভেতর চাপা পড়ে থাকা কোনো স্মৃতি হঠাৎ করে জেগে উঠেছে। সে দৃষ্টি সরিয়ে নিল। কণ্ঠটা অদ্ভুত রকম নিচু হয়ে গেল। নিস্তেজ স্বরে বলল,
“শী ইজ নো মোর!”
শব্দগুলো খুব স্বাভাবিকভাবেই উচ্চারিত হলো। অথচ প্রীতির কাছে মনে হলো, শব্দগুলো যেন চারপাশের সমস্ত বাতাস থামিয়ে দিয়ে সরাসরি এসে তার বুকের মাঝখানে আঘাত করেছে। মুহূর্তেই তার হাসি-হাসি মুখটা নিস্তেজ হয়ে গেল। চোখের সামনে যেন অমাবস্যার ঘন অন্ধকার নেমে এলো।
প্রিয়তা নেই! কী আশ্চর্য! সে প্রিয়তাকে চেনে না। কখনো সরাসরি দেখেওনি। এমনকি এই পৃথিবীতে প্রিয়তা নামের মেয়েটা কোনোদিন সত্যিই ছিল কি না, সেটাও এতদিন তার কাছে নিশ্চিত ছিল না। অথচ এই একটা সংবাদ তার বুকটাকে কেন এভাবে এফোড়-ওফোড় করে দিচ্ছে? হয়তো একটা গল্পের শেষ জানার অপেক্ষায় ছিল সে এজন্য। তবে প্রিয়তার গল্পটা অসমাপ্ত থাকলেও হয়তো একসময় মেনে নিতে পারত। কিন্তু এভাবে? একটা জীবনের শেষ দিয়ে? এর থেকে যদি সারাজীবন গল্পটা অসমাপ্তই থেকে যেত, তাও বুঝি এতটা কষ্ট হতো না। সে মানতেই পারছে না। কথা বলতে পারছে না। শুধু একদৃষ্টিতে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে জীবনের মুখের দিকে। কোনোরকমে নিজেকে সামলে নিয়ে কাঁপা কণ্ঠে বলল,
“আপনি কি আমার সঙ্গে মজা করছেন?”
জীবনও নিজেকে সামলে নিল। চোখ নামিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
“প্রিয়তাকে নিয়ে এই ধরনের মজা আমি জীবন আমার জীবন থাকতে কখনো করতে পারব না।”
প্রীতির বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। জিজ্ঞেস করল,
“কিন্তু! কিন্তু কীভাবে কী হলো?”
জীবন ধীরে ধীরে বলল,
“প্রিয়তার মৃ’ত্যুর পর জানতে পেরেছি, ও সায়রার সঙ্গে সায়রার বাড়িতে চট্টগ্রাম ঘুরতে গিয়েছিল। পরেরদিন ও একা ফিরে আসছিল কোনো জরুরি দরকারে। তখন…”
প্রীতির বুকের ভেতরটা হঠাৎ ধক করে উঠল। ভয়ে তটস্থ কণ্ঠে বলল,
“তখন?”
জীবন কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল,
“সেদিন তখন ও যে ফ্লাইটে ছিল, সেই ফ্লাইট ক্র্যাশ করে!”
“হোয়াট!”
প্রায় চিৎকার করে উঠল প্রীতি। তার চোখ বিস্ফারিত। মুখের রং মুহূর্তেই ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। জীবন ধীরে ধীরে বলল,
“হ্যাঁ। প্রিয়তা রাতের ফ্লাইটে ফিরছিল। সেদিন চট্টগ্রামে রাতে প্রচুর ঝড়বৃষ্টি হচ্ছিল। আবহাওয়া খারাপ থাকায় ফ্লাইটটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন প্লেনটা দুর্গম একটা পাহাড়ি এলাকায় ক্র্যাশ করে। দুর্ঘটনা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, উদ্ধারকারী দল যখন যায়, তখন আর লা’শ শনাক্ত করতে পারেনি, কাউকেই জীবিত পায়নি।”
জীবনের কণ্ঠ ধীরে ধীরে ভারী হয়ে আসছিল। নিজেকে সামলানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে বলল,
“সায়রা এই নিউজ পাওয়ার পর ওর বাবাকে নিয়ে এয়ারপোর্টে গিয়েছিল। খোঁজ নিয়ে দেখে, সেখানে যাত্রী তালিকায় এবং বোর্ডিং পাসেও প্রিয়তার নাম ছিল। এই দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে প্রিয়তা…”
বাকিটা আর বলতে পারল না জীবন। প্রীতি চেয়ারের সঙ্গে হেলান দিয়ে বসে পড়ল। মনে হচ্ছে, শরীরের সমস্ত শক্তি কেউ যেন এক মুহূর্তে শুষে নিয়েছে। প্রকৃতি এত কেন নিষ্ঠুর? এত কেন নির্দয়?
একটা মেয়ে যে তার ভালোবাসার মানুষটাকে জন্মদিনে চমকে দেওয়ার জন্য এতটা পথ পাড়ি দিয়ে ছুটে গেল, তার জন্য কি পৃথিবী এতটুকু সময়ও রেখে দিতে পারল না? প্রীতির কান্না পাচ্ছে। ভীষণ কান্না পাচ্ছে। চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠছে সেই ডায়ারির শেষ পেইজটা। চট্টগ্রামের উদ্দেশে বের হওয়ার আগের সেই উচ্ছ্বাস। সেই অপেক্ষা। রাহাতের বুকের নিরাপদ আশ্রয়ে মাথা রাখার স্বপ্ন। আর তারপর? তারপর একটা দুর্ঘটনা! একটা রাত! একটা ফ্লাইট! আর সব শেষ?
প্রীতি তাকিয়ে দেখল, জীবনের চোখেও পানি চিকচিক করছে। কান্নায় রুদ্ধ হয়ে আসা কণ্ঠে সে বলল,
“কিন্তু প্রিয়তা আপু তো চট্টগ্রাম গিয়েছিল নিজের জন্মদিনে নিজেই রাহাত ভাইয়াকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য। কারণ রাহাত ভাইয়া অফিসের জন্য ঢাকায় আসতে পারছিল না। এমন কী হলো সেদিন যে, পরেরদিনই সে ঢাকায় ব্যাক করছিল?”
জীবন মাথা নিচু করে বলল,
“আমি শিওর জানি না! আমি সায়রার থেকে এতটুকুই জেনেছি।”
প্রীতি কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। মনে হচ্ছিল, মাথার ভেতর অসংখ্য প্রশ্ন একসঙ্গে ঘুরপাক খাচ্ছে। জিজ্ঞেস করল,
“রাহাত ভাইয়া, তার পরিবার যায়নি আপুকে খুঁজতে?”
“হ্যাঁ, গিয়েছিল। আমরা বন্ধুরাও ছিলাম সেখানে। ওনারা সবাই অনেক কাঁদছিলেন। এমনকি রাহাত ভাইয়াও পাগলের মতো করছিলেন।”
প্রীতির বুকের ভেতরটা আবার কেঁপে উঠল। রাহাতও গিয়েছিল? তাহলে সে কতটা কেঁদেছিল? যে মানুষটা একদিন ফোনের ওপাশে দাঁড়িয়ে বলেছিল, ‘আমার প্রিয়কে বড্ড বেশি ভালোবাসি’ সেই মানুষটা যখন জানতে পেরেছিল তার প্রিয় আর কোনোদিন ফিরে আসবে না, তখন কী অনুভূতি হয়েছিল তার? প্রীতি থেমে থেমে বলল,
“আমার মাথা কাজ করছে না! সেদিন চট্টগ্রামের ঘটনা নিশ্চয়ই সায়রা আপু জানে?”
জীবন কিছুক্ষণ ভেবে বলল,
“হয়তো হ্যাঁ, হয়তো না। আমি তো শিওর হয়ে কিছু বলতে পারছি না।”
প্রীতি এবার একটু এগিয়ে বসে বলল,
“আচ্ছা, আমার সঙ্গে সায়রা আপুর কথা বলিয়ে দিতে পারবেন?”
জীবনের মুখে এবারও হতাশা। প্রলম্বিত শ্বাস নিয়ে বলল,
“ওর সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। ইভেন ওদের সার্কেলের কারও সঙ্গেই আমার কোনো যোগাযোগ নেই আজ অনেক বছর। আর আমি যতটুকু জানি, সায়রা এখন দেশেও থাকে না হয়তো। এইচএসসির পরপর ও দেশের বাইরে চলে গিয়েছিল পড়াশোনার জন্য। এরপর আর দেশে ফিরেছিল কিনা জানি না।”
প্রীতি নিরাশ চোখে তাকিয়ে রইল জীবনের দিকে। এত কাছে এসে যেন বারবার সবকিছু তার হাত ফসকে যাচ্ছে। প্রিয়তার গল্পের একেকটা দরজা খুলছে, অথচ প্রতিটি দরজার ওপাশে গিয়ে আবার নতুন একটা বন্ধ দরজা সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে। হঠাৎ-ই যেন অন্ধকারের মধ্যে ক্ষীণ একটা আলোর রেখা দেখতে পেল সে। আশা ফিরে পাওয়া মানুষের মতো বলল,
“আমি ডায়ারিতে পড়েছিলাম, আপনি প্রিয়তা আপুর চাচ্চুর বাসা চেনেন। তাকে অনেকবার বাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিয়েছিলেন। আমরা তো ওখানে গেলে রাহাত ভাইয়াকে পাব। তার কাছেই তো তাহলে সব জানতে পারব।”
জীবন এবার আরও হতাশ হয়ে তাকাল। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,
“প্রিয়তার মৃ’ত্যুর বছর দুয়েক পরই ওর চাচ্চু মা’রা যায়। এরপর ওরা বাড়িটা বিক্রি করে অন্য কোথাও চলে যায়। আমার কখনো তাদের খোঁজখবর জানার প্রয়োজন হয়নি বলে খোঁজও রাখিনি।”
কিছুক্ষণ থেমে সে বলল,
“একদিন ঐ বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় বাড়িটা দেখে প্রিয়তার কথা খুব মনে পড়ছিল। তাই বাড়ির ভেতরে গিয়েছিলাম। বাড়ির নতুন মালিকদের কাছেই তখন জানতে পেরেছিলাম যে, ওনারা বাড়িটা বিক্রি করে দিয়েছেন।”
প্রীতি আর কোনো কথা বলল না। তার ঠোঁটের কোণে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠল। নিজের ওপর তাচ্ছিল্য। এতদিন ধরে যে সত্যের পেছনে ছুটছিল, যে সত্যকে জানার জন্য আল্লাহর কাছে অসম্ভব প্রার্থনা করেছিল, সেই সত্যের এত কাছে এসে আজ সে এমন এক তিক্ত বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে, যার জন্য সে মোটেও প্রস্তুত ছিল না।
প্রিয়তা নেই। রাহাত কোথায়, সে জানে না। সায়রা কোথায়, তাও জানে না।
যে পাখি মন বোঝে না পর্ব ১৯
প্রিয়তার পরিবার কোথায়, কেউ জানে না। শুধু পড়ে আছে একটা পুরনো ডায়ারি। কয়েকটা হলদে হয়ে যাওয়া পেইজ, কিছু অমলিন স্মৃতি আর একটা অস্পষ্ট কাপল ছবি। তাহলে কি সত্যিই এভাবেই শেষ হয়েছিল সবকিছু? প্রিয়তার মৃ’ত্যুর সঙ্গেই কি তবে শেষ হয়ে গিয়েছিল রাহাত আর প্রিয়তার ভালোবাসার গল্পটা? নাকি সেই অসমাপ্ত গল্পের শেষ পাতাটা এখনো কোথাও লুকিয়ে আছে? প্রীতি জানে না। শুধু বুকের ভেতর একটা অদ্ভুত শূন্যতা নিয়ে চুপ করে বসে রইল।
