Home রাগে অনুরাগে রাগে অনুরাগে পর্ব ৪৭ (২)

রাগে অনুরাগে পর্ব ৪৭ (২)

রাগে অনুরাগে পর্ব ৪৭ (২)
সুহাসিনি ফাতেহা

উঠো!”
তিতলি ফারাজের দিকে তাকিয়ে থেকেই হ্যালমেট টা মাথায় লাগালো। জীবনে প্রথমবার সে বাইকে করে ফারাজের সাথে ঘুরতে যাচ্ছে। যদিও পূর্বে সে ফারাজের সাথে বাইকে করে কলেজেও গিয়েছে তবে আজকের অনুভূতিটা-ই অন্যরকম। খুশি হবে নাকি ব্যথিত হবে ঠিক বুঝতে পারল না। তবে সে খুব খুশি, ভীষণ খুশি। নিজের প্রিয় মানুষটার সাথে ঘুরতে যাওয়া তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দরতম অনুভূতি। তার জীবনের একটা স্বপ্নের মধ্যেও পড়ে এটা। এইমুহূর্তে ফারাজকে ছাড়া কিছুই ভাবতে পারছেনা। ফারাজ তখনো বাইকের স্টিয়ারিং এ দুহাত চেপে রেখে সামনের দিকে দৃষ্টি নিক্ষিপ্ত করে রেখেছে। ভুল করেও তিতলির দিকে তাকাচ্ছেনা। তিতলি এতক্ষণ ভাবনার মধ্যে থাকায় সেটা খেয়াল করেনি। ফারাজ বাইকে হর্ন দিলো সাথে তিতলিও নিজের আকাশ-পাতাল ভাবনা থেকে বেরিয়ে এলো। দাঁত দিয়ে নখ খুঁটতে খুঁটতে ব্যাগ্র গলায় শুধালো,

“আপনার বউ খুব সুন্দর আর কিউট, তাইনা বলুন?”
ফারাজ কপাল কুঁচকে তিতলির কথা শুনল। তাও পাশে ফিরে তাকালো না। সুদর্শনের সুশ্রী মুখাবয়বে এইমুহূর্তে গম্ভীরতার ছাপ স্পষ্ট! জিভ ঠেলে অধর কোণ ভিজিয়ে নিলো। চঞ্চলা রমণীর বাক্যবাণে গম্ভীরতা ছাড়িয়ে গেল মুহূর্তেই। ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল বাঁকা হাসি। দুষ্টুমির পারদ আকাশ ছুঁই ছুঁই হলো তার। দৃষ্টি সামনে রেখে স্টিয়ারিং এ হাতদুটো আরেকটু চেপে নিজেই তিতলিকে জিজ্ঞেস করল,
“আমার বউ কে শুনি?”
তিতলি মুখশ্রী অন্ধকার করে নিলো এবার। যেন কিছু একটা নিয়ে সে রাগ করেছে। এইযে এখন সে কথা বললো ওনি উত্তরও দিলো তাও তার দিকে তাকালো না। আবার বলছে আমার বউ কে?
তার তো বলতে ইচ্ছে করছে আপনার বউ পাড়ার টুম্পা বৌদি। কিন্তু এটা বললে তো ঘুরেফিরে নিজেকেই টুম্পা বৌদি বলা হবে। কারণ বউ তো সে নিজেই। পরে দেখা যাবে আগামী দুদিন ফারাজ তাকে এই টুম্পা বৌদি বলতে বলতেই জ্বালিয়ে মারবে। নিজের পায়ে নিজে কুড়াল ওতটা বোকা সে নয়। তাই সোজাসাপটা উত্তরে বললো,
“আপনি আমার দিকে তাকাচ্ছেন না কেন?”

ঠোঁট কামড়ে হাসল ফারাজ। মেয়েটার অভিমানী কন্ঠসুর শুনে না চাইতেও পর্বত শৃঙ্গের ন্যায় সুউচ্চ দাম্ভিক ঘাড়টা বাঁকিয়ে তাকাল পরপরই। দৃষ্টি করল তীক্ষ্ণ। ঠোঁটের কোণে আচমকা এক চিলতে বাঁকা হাসির রেশ টানল। হ্যাজেল রঙা চোখদুটো সহসাই নিবদ্ধ হলো শাড়ি পরা স্নিগ্ধ রমণীর পেলব মুখখানার পানে। রক্তরঙা লাল লিপিস্টিক মাখা ঠোঁটজোড়া বড্ড টানছে তাকে। সে চাচ্ছিলো না এখন কিছু করতে। কিন্তু বউ নিজে থেকে তাকে সুগার দিতে চাইলে সে-কি থোড়াই না করবে? উঁহু মোটেও নয়। ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসির রেশ ফুটিয়ে ফারাজ বলে উঠলো,
“আমি এখন তাকালে তাকানোটা শুধু তাকানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এই তাকানো থেকেই বহুকিছু হয়ে যাবে। তখন আমাকে দোষ দিতে পারবেনা ওকে।”
কথাটা বলে আচমকা পেশিবহুল হাতের হেঁচকা টানে তিতলিকে নিজের কাছে টেনে আনলো ফারাজ। ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি এগিয়ে নিয়ে তিতলির ঠোঁটের লিপিস্টিক মুছে দিতে উদ্যাত হলো। অন্যহাত তিতলিকে ধরে রেখেছে। নিজের লিপিস্টিক মুছে দিবে বুঝতে পেরে হাতের তালুতে ঠোঁট ঘুরে নিয়ে তিতলি বললো,
“এখন আমরা রুমে না তাই বহুকিছু হয়ে যাওয়ার প্রশ্নই উঠেনা। ওইযে দেখুন নানাভাই আসছে এদিকে…”
ফারাজের আশেপাশে কোথাও মন নেই। তার যে বড্ড নেশা ধরে গেছে। তিতলির কথা আদৌ তার কান পর্যন্ত পৌঁছালো কি-না কে জানে? গভীর গলায় ভাব নিয়ে আওড়ায়,

“আই ডোন্ট কেয়ার!”
“নানা ভাই এসব দেখলে মনেমনে ছিঃ ছিঃ করবে।”
“আই ডোন্ট কেয়ার!”
এত যে আই ডোন্ট কেয়ার কেয়ার করেন,আপনি আমার জন্য কি কি করতে পারবেন,শুনি?
“করে দেখাবো? তুমি চাইলে এক্ষুনি করিয়ে দেখাতে পারি এই মুহূর্তে এখানে বাইকে বসেই।”
“আপনি আমাকে কিছু করে দেখাতে হবেনা। ছাড়ুন।”
ফারাজ তিতলির কথার উত্তর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা না দেখিয়ে আরও ঘনিষ্ঠ হলো এবার। মুখ এগিয়ে আনলো তিতলির ঠোঁটের কাছে। ততক্ষণে হুশিয়ার সাহেব বাড়ির গেইট দিয়ে প্রবেশ করতে করতে বাইকের কাছে এসে থেমে গেলেন। বুড়ো মানুষ চোখে ভালোই দেখেন। ফারাজ আর তিতলিকে একে অপরের সাথে জড়িয়ে থাকতে দেখলো। চুমুও দিবে দিবে ভাব। হুশিয়ার সাহেব লাঠিতে ভর দিয়ে আওয়াজ করে গলা খাকারি দিলেন।
ওদিকে কারও উপস্থিত টের পেতেই তিতলিকে একঝটকায় দুরে সরিয়ে দেয় ফারাজ। টালমাটাল তিতলি নিজেকে সামলে নিয়ে লজ্জায় মুখ নামিয়ে নেয়।
হুশিয়ার সাহেব চোখ ডলতে ডলতে মসকারা করে বললেন,

চোখে কি কম দেইখলাম? না কম তো দেইখলাম না সবই তো ঠিক দেইখতাছি। নাতি আর নাতবউ ঘুরতে না যাইয়া এহনো….
ফারাজ রয়েসয়ে গম্ভীর মুখে বললো..
“এখনই যাচ্ছিলাম।”
ফারাজের কথায় হুশিয়ার সাহেব এগিয়ে সামনে আসলেন। আলতো হেসে তিতলির মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। তিতলি লজ্জায় লাল নীল গোলাপী হয়ে যাচ্ছে। হুশিয়ার তিতলির মাথায় আদুরে একহাত বুলাতে বুলাতে রসিকতা করে ফারাজকে উদ্দেশ্য করে বলে…
“থামি গেলি ক্যান নাতি? যেইটা শুরু করেছিলি শেষও কইরা নিতি। আজ কাইলকের পোলাপাইনরা মুরব্বি মানে না আর তুই তো হুশিয়ার সাহেবের নাতি তোর নানাও তোর লাহন শুরু কইরা দে..”
ফারাজ কপাল কুঁচকে তাকায় হুশিয়ার সাহেবের দিকে। অসময়ে রসিকতা মোটেও পছন্দ হলো না ফারাজের। তার সবেমাত্র জাগ্রত হওয়া ফিলিংটা দিয়ে বউকে কাবু করতে চেয়েছিল। অনেকটা সফলও হয়েছিল কিন্তু হঠাৎ করে হুশিয়ার সাহেবের এন্ট্রিটা ফারাজের উঠতি রাগের কারণ হলো। ফারাজ উত্তর করলো না হুশিয়ার সাহেবের কথায়। বরং তিতলির লজ্জায় সিঁটিয়ে যাওয়া নত মুখখানার পানে তাকিয়ে থেকে হুশিয়ার সাহেবের উদ্দেশ্য গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলে উঠে…

“তুমি যেহেতু আমাদের দেখেছ তাই তোমার উচিত ছিলো দূর থেকে দেখে আবার বাড়ির বাইরে চলে যাওয়া এতে আমার কাজটাও শেষ হতো নানাভাই। তোমার টাইমিং চেঞ্জ বড্ড খারাপ। আই জাস্ট হেড ইট!”
হুশিয়ার সাহেব থতমত খেয়ে কেশে উঠলেন নাতির কথা শুনে। হাতের বাজার ব্যাগটা নিয়ে আবার বাড়ির ভেতরে চলে গেলেন। নাতিকে চিনতে অসুবিধা হয়ে যাচ্ছে বয়স্ক লোকটার। কত মেয়ে দেখাইছেন তিনি টাঙ্গাইল থেকে পর্যন্ত ঘটক পাঠিয়েছেন। তখন বিয়ে করেনি এখন বউ পাগল হয়ে যাচ্ছে। হুশিয়ার সাহেব মনেমনে খুশি হলেন।
তিতলি মুখ ভেংচি কেটে তখন বাইকে উঠে বসল। খুব ভালো করেই জানে লোকটা মোটেও সুবিধার না। ভালো কথা বললেও শান্তি নেই খারাপ কথা বললেও শান্তি নেই আশ্চর্য! ফারাজ নিজেও বাইকে ঠিক করে বসে একবার ঘাড়টা সামান্য
কাত করে পেছনে তাকাল। আবার সামনে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় হুকুম ছুড়লো,
“শাড়ি ঠিক করে আমাকে ধরে বসো।”
তিতলি চুপচাপ কথা শুনে গেল। শাড়ির আঁচল বড় হওয়ায় একটু ঠিক করে খুঁচে নিলো। ফারাজের কাঁধে একহাত রাখল। মিনমিনে আওয়াজে বললো,

” ধরে বসেছি।”
তিতলির কথাটা বললেও ফারাজ বাইক স্টার্ট দিলোনা। স্টার্ট দিচ্ছেনা কেন? তিতলিও চুপচাপ বসে রইল ওভাবেই। ফারাজ শরীরের থেকে তীব্র পারফিউমের সুবাস ভেসে আসছে নাকে। তিতলি নিশ্বাস আটকে রেখে তা অনুভব করছে। এক অদ্ভুত শিহরণ বয়ে চলেছে দেহে। আজকের অনুভূতি একটু বেশি প্রগাঢ় কী? তারা ঘুরতে যাবে? ইসস্ তিতলির ভাবনার মাঝেই পরপর ফারাজের গমগমে কন্ঠ ভেসে এলো,
“এভাবে না।”
তিতলি আশ্চর্য হলো বোধহয়? আবার কোনভাবে বসতে হবে তাকে? যবে থেকে বাইকে চড়ে তবে থেকেই তো সে এভাবেই বসে। এখন নতুন কোনো স্টাইল বের হয়েছে কি? প্রশ্নবোধক পিটপিট চোখে সামনে চেয়ে থাকার পর হতভম্ব গলায় আওড়ায়,

“তাহলে কোনভাবে?”
নিরুদ্বেগ ভঙ্গিতে সময় নিয়ে জবাব দেয় ফারাজ,
“আই ক্যান্ট ফিল ইউ । হোল্ড মি টাইট এরাউন্ড মাই টামি অ্যান্ড সিট।”
ফারাজের কথার জবাব না দিয়ে তিতলি তাই করলো। দুহাত দিয়ে তৎক্ষণাৎ শক্ত করে জড়িয়ে ধরল ফারাজের শক্তপোক্ত পেটানো পেট। যেটুকু সামান্য দুরুত্ব ছিলো তা নিমিষেই মিশে একাকার হয়ে গেল। তারপর সরল গলায় বললো,
“এই যে দেখুন একদম শক্ত করে ধরলাম.. পেট জড়িয়ে দুইহাত দিয়ে ধরেছি। এখন কি ফিল হচ্ছে?”
ফারাজ চোখ ছোট করে তাকাল নিজের পেটে জড়িয়ে ধরে রাখা তিতলির ফর্সা তুলতুলে নরম দুহাতের পানে। হাত একটা নিচে একটা উপরে। ঠোঁট কামড়ে হেসে পাতলা অধর নেড়েচেড়ে ফারাজ বললো,
“এখন তো অন্যকিছুও ফিল হচ্ছে হাতটা বেশি নিচে নেমে গেলোনা?”
তিতলি এবার হতভম্বতার চরম সীমানায় পৌঁছে গেলো যেন। মনে মনে নিজেকে নিজে একশকটা গালি দিলো, আসতাগফিরুল্লাহ! তার হাতটা আরেকটু উপরে তুলে নিলো সে। ভুল করে চলে গেছে। মনে মনে আওড়াচ্ছে,
“আপনার কথা শেষ হতে হতে আমার মনে হয় ঘুরতে যাওয়া হবেনা। আমারই ভুল হয়েছে ঝিলিক আপুদের সাথে চলে যাওয়া-ই উচিত ছিলো।”

তবে মুখে বললো,
“আপনার মতো মানুষ আমি জীবনেও দেখিনি!”
“আমাকে তুমি কতটুকু-ই বা চিনতে পেরেছ হুম? আমার আরও অনেক রুপ দেখা বাকি তোমার।এটুকুতেই এ অবস্থা হলে চলবে?”
ফারাজ কথাটুকু শেষ করে বাইক স্টার্ট দিলো। তিতলি শক্ত করে ফারাজের পেট জড়িয়ে ধরে রাখে। বাইক চলার সাথেসাথে মুক্ত বাতাসে দুচোখ বন্ধ করে প্রশান্তির সমেত পড়ে রইল এভাবেই।

দীর্ঘ ত্রিশ মিনিট অবশেষে স্বপ্নবিলাস পার্কে এসে পৌঁছালো তারা। টাঙ্গাইলে অনেকগুলো পার্কের মধ্যে স্বপ্নবিলাস পার্কও অন্যতম একটা স্থানের মধ্যেই পড়ে। বলা যায় পরিবার বন্ধুবান্ধব কাপলদের ঘুরার জন্য একটা জনপ্রিয় পার্ক। বিকেল টাইম হওয়ায় মানুষজনের আনাগোনা মাত্রাতিরিক্ত বেশি। এমন কোনে জায়গা নেই যে মানুষ জনের চিহ্ন নেই। প্রতিটি কোণায় কোণায় মানুষজনে ভরপুর।
আলভী, অয়নদের গাড়ি আরও ত্রিশ মিনিট আগেই চলে এসেছে। তারা ইতিমধ্যেই ঘুরাঘুরি শুরুও করে দিয়েছে চারপাশে। নিধি,ঝিলিক, আয়েশা ওরা নিজেদের মতো সেলফি তুলতে ব্যস্ত।

ফারাজ বাইক থামালো পার্কের একেবারে মেইন গেইটে। তিতলি মুগ্ধতার চোখে দেখে যাচ্ছে এখানকার সবকিছু। টাঙ্গাইলে তার নতুন আসা স্বপ্নবিলাস পার্কেও নতুন আসা তবে ফেসবুকে প্রায়সময় স্বপ্নবিলাস পার্কের পিক দেখেছে। মূলত আজকে স্বপ্নবিলাস পার্কে ঘুরতে আসা হচ্ছে শুধু তার জন্য। আলভীরা সবাই অন্য একটার যেতে চেয়েছে। ফারাজকে বলে তিতলি এই পার্কের নাম বলেছে। তারপর সবাই একসাথে কথা বলে স্বপ্নবিলাস পার্কেই আসলো শেষমেশ। যদি সবাই অন্য পার্কে যেত তাহলে ফারাজ আর তিতলি এখানে আসতো শুধু।
তিতলি শাড়ি ধরে আগেভাগে নেমে গেলো বাইক থেকে। নিজেকে উপন্যাসের নায়িকা আর ফারাজ কে নায়ক ভাবতে শুরু করেছে। কমবেশি ফেসবুকে তার উপন্যাস পড়া হয়। কত যে উপন্যাস পড়েছে তার কোনো হিসেব নেই। মাঝেমাঝে ভাবতো উপন্যাসের নায়কদের মতো যদি কেউ তাকে ভালো বাসতো। কি একটা পোড়া কপাল তার উপন্যাসের নায়কদের মতো রোমান্টিক হাসবেন্ড পেয়েছে ঠিকই ভালোবাসি ভালোবাসি বলে কান পচানোর মতো হলোনা। তিতলির ভাবনার মাঝেই পরপরই ফারাজও নেমে আসলো বাইক থেকে। নেমে ভ্রুজোড়া কুঁচকে এদিক-ওদিক নজর বুলিয়ে নিলো একবার। পরিবেশটা ঠিক কেমন তা আন্দাজ করছে যেমন। ওদিকে তিতলির কোনো হুঁশ নেই। ফারাজ তিতলির ডান হাত শক্ত করে নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে মৃদুস্বরে বললো,

“চলো।”
তিতলি ঘোরের মধ্যে থেকেই নিজের হাতের মুঠোয় ধরে রাখা ফারাজের হাতের দিকে তাকিয়ে থেকে আচমকা বলে উঠলো,
“আপনি উপন্যাসের নায়ক? আর আমি নায়িকা তাইনা বলুন?”
কপালে সূক্ষ্ম ভাঁজ পড়ল ফারাজের। বিদ্বিষ্ট চাহনি গভীরতা পেল তার। নিরবে শুনে যাচ্ছে সব। দূর্দম্য পায়ের গতি তার এগোচ্ছে অদূরে খালি জায়গার পানে। খালি জায়গা বলতে ওখানে মানুষ জন কম দেখা যাচ্ছে। ফারাজ গমগমে আওয়াজে বলে,
“সো হোয়াট? উপন্যাসও পড়ো? এজন্যই মাথার ভেতরে সব… ”
তিতলি ফারাজের কথা শেষ হবার অপেক্ষা না করে সামনে এগোতে এগোতে নিজে নিজেই নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে যাইচ্ছে তাই বলতে থাকল,

রাগে অনুরাগে পর্ব ৪৭

“কেন? উপন্যাস পড়া কি পাপ? আপনি কখনো পড়ে দেখেছেন? সঙ্গিন প্রণায়সক্তি, প্রেমঘোর, জীবনে অনেক উপন্যাস পড়া শেষ এখন ভাবছি আমি নিজেই আপনাকে আর আমাকে নিয়ে একটা রোমান্টিক উপন্যাস লিখবো।
নাম দেবো মাই হাসবেন্ড!”

রাগে অনুরাগে পর্ব ৪৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here