রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৩
সিমরান মিমি
গভীর রাত। ঘড়ি’র কাঁটা ঠিক বারোটার ঘরে। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই মিনিটের কাঁটা চল্লিশ কে ছোঁবে। লম্বা যাত্রা শেষে বাড়ি ঢুকেই গোসল ছাড়লো পরশ। মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়ছে ক্রমশ। আজকাল হুট করে দু- তিন দিন পর রুমে ঢুকলে অদ্ভুত এক অসস্তি লাগে। অপরিচিত মনে হয় চিরচেনা জায়গাটা। মাসের পর মাস বদ্ধ, ধুলোবালি, মাকড়সার জাল জড়ানো ঘরের মতো লাগে। সে কারনেই মাথা যন্ত্রণা তীব্র হয়। ঘরের আলো নিভিয়ে দিয়ে অন্ধকারে চোখ বন্ধ করে চেয়ারে বসলো । ঘুম আসছে না। না জানি কতক্ষণ এভাবে যন্ত্রণায় কাতরাতে হবে।
দরজার ফাঁক দিয়ে আলো আসছে। সেটাই তীব্র ভাবে লাগছে চোখের পাতায়। বিরক্তিতে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো সে। হনহন করে বেরিয়ে গেলো বাইরে। আলোটা প্রেমার ঘর থেকে আসছে। তার দরজা পুরোপুরি খোলা, লাইট জ্বালানো। হেঁটে সেদিকে গেলো পরশ। খোলা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে তাকালো ভেতরের দিকে। প্রেমা চিৎ হয়ে বিছানায় শুয়ে আছে। হাতে খোলা বই উঁচিয়ে ধরে পড়ছে। চুলের লম্বা বেনুনী দুটো খাট থেকে গড়িয়ে মাটি ছুঁয়েছে। পরশ ভেতরে ঢুকলো না। কাঠের দরজায় দু- বার টোকা দিলো। মুহুর্তে’ই চমকে পেছনে ফিরলো প্রেমা। বড় ভাইকে দেখেই গায়ে ওড়না দিয়ে উঠে বসলো। হাসার চেষ্টা করে বললো,
– ভাইয়া, তুমি এসে পড়েছো? ভেতরে আসো।
দু-কদম বাড়িয়ে পূর্বের মতোই সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। লম্বা-চওড়া ভাইয়ের সামনে নিজেকে বড্ড ছোট লাগছে প্রেমার। যেনো সে জেরির চেয়েও ছোট।
-পড়ছিলি?
-হ্যাঁ, একটু চাপ ছিলো।
প্রেমা জানে পরশকে। বেশি রাত জাগা মোটেও পছন্দ নয় তার। এমনকি বেশি চেঁচামেচি ও নয়।
– ঘুমিয়ে পড়, সকালে উঠে বাকিটা পড়িস।
পরশের গম্ভীর আওয়াজে দ্রুত মাথা নাড়ালো প্রেমা। বললো,
– জ্বী, এক্ষুণি যাব।
পরশ বোনের দিকে তাকালো। গম্ভীর কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
– রাকিব তোকে বিরক্ত করে?
চমকে উঠলো প্রেমা। চোখের আকৃতি বড় হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। ঢোক গিলে ভাবলো ভাইয়ের কথা। এর মধ্যেই পৌছে গেল খবর, কিভাবে? কিন্তু এসব কিছুতেই বড় ভাইকে বলা যাবে না। যদি কাজ থেকে বের করে দেয় রহিম চাচাকে? প্রেমার বড্ড মায়া ওই পরিবার টার উপর। কতটা যত্ন করে তাদের। এইতো সারা দিন গেটের সামনে পাহারা দেয় রহিম চাচা। বাজার ও করে দেয়। আবার তার স্ত্রী সেই সকালে এসে বাড়ির বড় বড় ভারী কাজ গুলো করে দেয়। এমন লোকদের দু একটা ভুল ত্রুটি মেনে নিতে হয়। তাছাড়া রাকিব তো ছোট। তার’ই ব্যাচমেট। বললো,
– না ভাইয়া।
পরশ কপাল কুঁচকে তাকালো। ঘাবড়ে গেলো প্রেমা। কিছুটা আমতাআমতা করে বলল,
– আমি ওকে বারণ করে দিয়েছি, শাসিয়েছিও। আর এমন করবে না।
কিছু বললো না পরশ। চুপ করে বেরিয়ে এলো বাইরে। দরজার সামনে যেতেই গমগমে কন্ঠে বললো,
– আমার ঘরে আলো পড়ছে। লাইট নিভিয়ে ফেল।
দ্রুত মাথা নাড়িয়ে সায় জানালো প্রেমা। পরশ যাওয়ার দু মিনিটের মধ্যেই মশারী টাঙিয়ে লাইট নিভিয়ে ফেললো।
সকালের শুরুটা আজ প্রতিদিনের ন্যায় অন্যরকম। একটু চুপচাপ, শান্ত। শুধুমাত্র প্লেট- চামচের টুংটাং আওয়াজ বিনা শব্দের অস্তিত্ব নেই। পিয়াশা রান্নাঘরে বসে পরোটা ভাজছে। সেগুলো হাতে হাতে ডাইনিং টেবিলে এগিয়ে দিচ্ছে তানিয়া। মাত্র’ই এসে চেয়ারে বসেছে পরশ। দৃষ্টি তার প্লেটের দিকে নিবদ্ধ। রোজকার নিয়ম ভেঙে মায়ের কোমল হাতের স্থানে আজ অন্য আরেক হাত পরোটা দিচ্ছে প্লেটে। এই হাতের চামড়ায় বয়স্কের ছাপ নেই। ফর্সা, ধারালো নখ ওয়ালা হাত। পরশ ঘাড় ঘুরিয়ে পাশে তাকালো। হাতের মালিক কে দেখেই কিঞ্চিৎ অবাক হলো। বললো,
– তুমি কখন এসেছো?
-পরশু।
পরশের সাথে তার বাবার একটা বিষয়ে খুবই মিল। দুজনেই বাড়ির তৈরী রান্না পছন্দ করেন, বিশেষ করে পিয়াশার হাতের। এমনকি ইলেকশন চলাকালীন বাড়িতে আসতে না পারলেও কেউ না কেউ তার খাবার নিয়ে যেতো সদরে। তবে মাঝেমধ্যে এর অন্যথা হয়। ঢাকা বা অন্য কোথায় যাওয়া হলে মায়ের রান্না জোটে না। কিন্তু তখন ও যে বাইরের রান্না খায় তা নয়। পরিচিত রাজনৈতিক নেতাদের বাড়ি যাওয়ায় তারাই খুব যত্নের সাথে ঘরের রান্না খাওয়ায়। একটু খটকা লাগলো তানিয়ার। এক্ষুনি যেনো প্রশ্ন না করে সেই ভাবনায় নিজেই বলে ওঠে,
– খাবার টা কিন্তু খালামনি ই বানিয়েছে। আমি শুধু সার্ভ করছি। প্রবলেম হলে বলতে পারেন, প্লেট চেঞ্জ করে দেবো।
সুক্ষ্ম খোঁচাটা খুব তাড়াতাড়ি ই ধরে ফেললো পরশ। কিন্তু কোনো উত্তর না করে খেতে লাগলো। পরোটা ছিঁড়ে দু টুকরো মুখে নিতেই থেমে গেলো। দৃষ্টি না সরিয়েই গমগমে কন্ঠে বললো,
-তুমিও বসো।
চমকে তাকালো তানিয়া। কিছুটা অগ্রাহ্য করে বললো,
– পরে বসবো।
পিয়াশা গরম পরোটা নিয়ে ডাইনিং এর দিকে এলো। টেবিলে রেখে সকলের পাতে আরো একটা করে দিলো। তানিয়ার অমত শুনে পরশ সন্তুষ্ট হলো না। হয়তো তার জন্য অসস্তি হচ্ছে বসতে। পুণরায় বলে উঠলো,
– সমস্যা নেই বসতে পারো।
পিয়াশা এসে বসলো চেয়ারে। তানিয়া নিজেও বসলো। তবে খেতে খেতে হাস্যরস করে গম্ভীর স্বরে বলে উঠলো,
– এতো আতিথেয়তা! চিন্তা নেই, ভোট দিয়ে দিবো।
টেবিল জুড়ে প্রত্যেকে শব্দ করে হেসে দিলো। তবে পরশের মধ্যে কোন হেলদোল দেখা গেলো না। সে চুপচাপ খাচ্ছে। খাওয়ার এক পর্যায়ে তানিয়া আরো গম্ভীর হয়ে উঠলো। পরশের দিকে সরাসরি দৃষ্টি ফেলে বলে উঠলো,
-পাভেল ভাইকে বলবেন তানিয়া দেখা করতে এসেছে। কালকের মধ্যে যেনো আসে।
পিয়াশার মুখ মলিন হয়ে গেলো। কিছুটা করুন দৃষ্টিতে তাকালো ছেলের দিকে। পরশের খাওয়া শেষ। বের হতে হবে এক্ষুণি। টিসু দিয়ে হাত মুছতে মুছতে বললো,
– তোমার ফোন নেই? প্রেমার আছে, ওটা দিয়ে কথা বলো।
ঠোঁট টিপে অগোচরে হাসলো তানিয়া। এরপর মুখভঙ্গি স্বাভাবিক করে খেতে আরম্ভ করলো। আমজাদ শিকদার এতোক্ষণে মুখ খুললেন। গলা পরিস্কার করে গম্ভীর কন্ঠে পরশের উদ্দেশ্যে বললেন,
– পরশ, আর্শিয়ার ব্যাপারে কি ভাবলে? শামসুল কে আর সহ্য হচ্ছে না।
শামসুল সরদারের নাম শুনতেই চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো পরশের। চোখের সামনে ভেসে উঠলো একটা মলিন, মায়াবী মুখ। যার অশ্রুসিক্ত, করুন চেহারা ঘুমাতে দেয় না তাকে। বাবার উদ্দেশ্যে জবাব দিলো,
– চেষ্টা করছি, ইলেকশন টা শেষ হোক। কোর্টের শুনানি নির্বাচনের পরেই।
– ক্লাস মিস দিয়েছিস কেনো?
পেছন থেকে মাথায় টোকা দিয়ে কথাটা বললো স্পর্শীয়া। চমকে পেছনে তাকালো পাভেল। খানিকটা আগ্রহ এবং উত্তেজনা নিয়ে দেখলো স্পর্শীকে। সিলভার কালারের থ্রিপিস পড়েছে সে। ফর্সা ত্বকটা এই পোশাকের মধ্যে আরো বেশি আকর্ষনীয় লাগছে। পাভেলের চিল চাহনি স্পর্শীর হাতের দিকে। মুঠো করে রেখেছে আঙুল। খানিকক্ষণ উঁকি ঝুকি দিয়েও দেখতে সক্ষম হলো না। বিরক্ত হয়ে অন্যদিকে তাকালো। উত্তেজনা দমাতে না পেরে শেষ মেশ বলেই উঠলো,
– তোর এনগেইজমেন্টের আংটি দেখা তো।
ঠোঁট টিপে অন্যদিকে তাকালো স্পর্শী। হাত টা বাড়িয়ে পাভেলের দিকে ধরলো। আঙুলে হালকা গড়নের সুন্দর একটা সোনার আংটি। হৃৎপিন্ড টা থমকে গেলো। কিছুটা করুন চাহনি দিয়ে পাভেল স্পর্শীকে দেখলো। থমথমে কন্ঠে বললো,
– সুন্দর দেখাচ্ছে। কিন্তু হুট করে ড্রেস আপে এতো চেঞ্জ কেনো?
স্পর্শী পড়নের থ্রিপিস দেখলো। কিছুটা চমকে যাওয়ার ন্যায় বললো,
– ওহহ, এটা? ওই বিয়ে হচ্ছে তো। ভাবলাম এবার থেকে ভদ্র বউ হবো। আচ্ছা, আমার কি মাথায়ও ওড়না দেওয়া উচিত?
একবার ও ফিরে তাকালো না পাভেল। এই মুহুর্তে দমকল কল দেওয়া খুবই প্রয়োজনীয়। ভেতরটা জ্বলছে দাবানলের মতো। এই আগুন একবার বাইরে ছড়িয়ে পড়লে পুরো জাহাঙ্গীর নগরের ৬৯৭.৫৬ একর জ্বলে ভস্ম হয়ে যাবে।
স্পর্শী বড় বড় কদম ফেলে পাভেলের সাথে পা মেলালো। হাতে আলতো থাবড় মেরে বললো,
– ঠ্যাং ভেঙে দেবো। এতো জোরে হাটিস কেনো? আমায় চোখে পড়ে না?
– আমাকেও তো তোর চোখে পড়ে না।
আনমনে বলে উঠলো পাভেল। স্পর্শী উত্তর দিলো না। বরং কথা ঘুরিয়ে বললো,
– দেখ, ওই মেয়েটা সুন্দর না?
উত্তর দিলো না পাভেল। খানিকক্ষণ হাঁটার পর ধীর কন্ঠে বললো,
– তুই কি সত্যিই বিয়ে করছিস?
– প্রেম করার বয়স নেই আর। করলে বিয়েই করবো।
পাভেল চোখ মুখ কুঁচকে তাকালো। কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবারো বলে উঠলো,
– ছেলে কি করে?
স্পর্শী কিছুটা ভাব নিয়ে উত্তর দিলো,
– সরকারি চাকরি…. শিক্ষক।
মুহুর্তে’ই নাক ছেটালো পাভেল। চোখ মুখ বিকৃত করে বললো,
– ইছ্!! তুই বিয়ে করবি শিক্ষক, জানিস এরা কত আনরোমান্টিক হয়?
চোখ দুটো ছোট ছোট করে তাকালো স্পর্শী। পাভেল ভড়কে গিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে বললো,
– আমার মতো রোমান্টিক ছেলে কারোর নজরে পরে না। পড়বেই বা কিভাবে? টাক ওয়ালা, ভুঁড়িওয়ালা ছেলেগুলোর তাহলে কি হবে?
স্পর্শী নিরব। তার কোনো আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। পাভেল তাকিয়ে দেখলো তার পাশে কেউ নেই। স্পর্শী দাঁড়িয়ে আছে কিছুটা দূরে। তাকিয়ে আছে বটতলার দিকে। এগিয়ে গেলো সে। “এখানে কি দেখছিস?” বলতেই সে থামিয়ে দিলো তাকে। বললো,
– চুপ, ওইটা দিশা না?
বটতলায় অনেক গুলো ছেলে মেয়ে। তাদের থেকে কিছুটা দূরত্বে হাতে হাত রেখে হাটছে একজন ছেলে এবং মেয়ে। কিন্তু পাভেল কি করে চিনবে কোনটা দিশা। বললো,
– আরে দিশা-ফিশা কোনটা, সেটা আমি কি জানি?
দ্রুত ফোন বের করলো স্পর্শী। কয়েকটা এংগেল থেকে দারুণ কিছু ছবি তুলে তা সেন্ড করে দিলো সোভামের হোয়াটসঅ্যাপে। লিখলো,
– তোর গার্লফ্রেন্ড তোর মতোই বাটপার।
এরপর এগিয়ে গেলো দিশাদের দিকে। কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে ছোট্ট করে বলল,
– হাই!
চমকে পেছনে তাকালো দিশা। স্পর্শীকে দেখতেই তার চোখের মনি বেরিয়ে পড়ার উপক্রম। আনমনেই ছেড়ে দিলো ছেলেটার হাত। স্পর্শী সময় ব্যয় না করে হেসে বললো,
– আপু হয়তো জানতেন না, এটা আমার ক্যাম্পাস। ঠিক বলেছি না?
দিশা দিশা হারিয়ে ফেললো। শুধু চুপ করে তাকিয়ে রইলো স্পর্শীর দিকে। ঘাম হচ্ছে অনেক। পাশের ছেলেটাও কিছুটা সন্দেহ নিয়ে তাকিয়ে আছে। স্পর্শী পুণরায় বাহবা দিয়ে বললো,
– তবে এই কাজ টা খুব ভালো করেছেন আপু। আমার ভাই এমনিতেই অনেক ছোট। এসব প্রেম, বিয়ের কিইবা বোঝো। কতদিনই বা ওয়েট করবেন?
-উনি কে?
স্পর্শীর দিকে ইশারা করে বলে উঠলো ছেলেটা। প্রশ্ন শোনার পর পরই সেখান থেকে পাভেল কে নিয়ে চলে এলো স্পর্শী। বেচারি ফাঁদে পড়ে গেছে। এখন হয়তো নানা মিথ্যা কথা বলে সামলাতে হবে ছেলেটাকে। সামলাক না, যা ইচ্ছা তাই করুক। শুধু সেগুলো কানে না এলেই হয়। সেখান থেকে বেরিয়ে কিছুটা সামনে আসতেই পাভেল বললো,
– তোর ভাইয়ের গার্লফ্রেন্ড নাকি?
– হু!
পাভেল আফসোস করে উঠলো। হায় হায় করে বললো,
– সব মেয়েরাই কেনো এমন ঠকবাজ হয়?
কথাটা বলার সাথে সাথেই দাঁড়িয়ে পড়লো স্পর্শী। শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো পাভেলের দিকে। থতমত খেয়ে গেলো পাভেল। আমতা-আমতা করে বলে উঠলো,
– আরে বাবা তুই বাদে। তুই কি সব মেয়েদের মধ্যে পড়িস নাকি? তুই তো আস্ত একটা চার ডানা ওয়ালা পরী। চল চড়ুই, তোকে ফুসকা খাওয়াই।
– তুমি কেনো আমার রুমে ঢুকেছো, রুহান ভাই?
আর্শির চিৎকারে চমকে গেলো রুহান। পিছু ঘুরতেই দেখলো তাকে। সদ্য গোসল সেরে বেরিয়েছে সে। চুলে তোয়ালে পেঁচানো। চোখের পাপড়িগুলোও এখনো ভেঁজা। ঠিক যেনো বৃষ্টিতে ভেঁজা কোনো স্নিগ্ধ বেলী ফুল। রুহান এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। হাতে আর্শির ফোনের চার্জার। বললো,
– ফোনের চার্জার টাতে চার্জ হচ্ছে না। তাই নিতে এলাম। ক্ষেপে যাচ্ছিস কেনো?
আক্রোশে ফেঁটে পড়লো আর্শি। ধপাধপ পায়ে বেরিয়ে এলো দরজার দিকে। বাড়ির সকলকে শুনানোর প্রয়াসে সেখান থেকেই আরম্ভ করলো তর্ক। বললো,
রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ২
– চার্জার নষ্ট বলে এসেছো মানে কি? এই বাড়িতে এতো গুলো ফোন! আর কারো কি চার্জার নেই?আমার কাছেই কেনো আসতে হয়? হুট হাট যার ইচ্ছা সে ঢুকে পড়ো আমার রুমে। আমার কি কোনো প্রাইভেসি নেই এই বাড়িতে। তাহলে আলাদা রুম দিয়েছো কেনো থাকতে? ড্রয়িংরুমের একপাশে বিছানা পেতে দিতা। আমার কোনো সুযোগ – সুবিধাই কেউ দেখছো না। এতোই যদি প্রবলেম হয় তাহলে বের করে কেনো দিচ্ছো না? লাস্ট বার সাবধান করছি। আমাকে আমার মতো থাকতে দাও। কোর্টে যেনো মত বদলাতে না হয়।
