রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৪৩
সিমরান মিমি
অনুমতি চাইছো? কেনো, যেতে না দিলে বুঝি যাবে না।”
আচমকাই থমকে গেলো স্পর্শীয়া। পরশের দিকে স্নিগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে পিছু ঘুরলো। এতোক্ষণের কথাবার্তা দুষ্টুমিতে পরিপূর্ণ থাকলেও হঠাৎ পরিবেশ গম্ভীর হয়ে ওঠে। পরশের বাচনভঙ্গি পরিবর্তন হয়, মুখে গাম্ভীর্যতা ছড়িয়ে পড়ে। স্পর্শী ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে পা বাড়ালো। এখানে থাকা আর উচিত হবে না। সে কয়েক কদম এগোতেই পেছন থেকে আকুলতা মাখানো কন্ঠে পরশ ডেকে ওঠে – স্পর্শীয়া!
স্পর্শী থেমে যায়। পেছন ঘুরে চোখে চোখ না রেখেই বলে, বলুন।
পরশ তখনো নির্বিকার হয়ে তাকে দেখছে। লোকটা যেনো নিরুপায়। কন্ঠে অসহায়ত্ব এনে অনুরোধ করে বললো,
– আর কিছুক্ষণ থাকবে?
স্পর্শীয়া চাইলেও এই আকুলতা অগ্রাহ্য করতে পারে না। সে থেমে যায় সেখানেই। এরপর অনেকটা সময় কেটে যায়। নদীর ধারে প্রেমিক-প্রেমিকা দের জন্য বসার ব্যবস্থা আছে। বাঁশের বৈঠক। স্পর্শীয়া সেখানে বসলেও পরশ দাঁড়িয়ে আছে। আজ মন ভীষণ ক্লান্ত। এভাবে আর কতদিন? জীবনটা তো মজা নয়।
“ আমি কি করবো বলতে পারো? ”
বিষন্নতায় ঘেরা কন্ঠস্বর। যেনো অপেক্ষা করতে করতে সে এখন ক্লান্ত। তাই সমাধানের পথ খুঁজতে সমাধানের কাছেই দ্বারস্থ হয়েছে। স্পর্শীয়া চোখ বন্ধ করে বসে ছিলো। পরশের প্রশ্ন শুনে সে চোখ মেললো। ধীর স্থির হয়ে বললো,
– বিয়ে করে ফেলুন।
– এটাই যদি সমাধানের পথ হতো, তবে কি তোমার কাছে জানতে চাইতাম?
পরশের ফিরতি প্রশ্ন। এসব ভালো লাগছে না স্পর্শীয়ার। বড্ড ভয় হয়। বাবাকে পুণরায় হারিয়ে ফেলার শঙ্কা জাগে। সে বিচলিত হয়ে চেঁচিয়ে ওঠে।
– আপনি তো ছেলেমানুষ নন। জেনেশুনেও কেনো ভুল করেছেন? আমার কাছে এসবের কোনো সমাধান নেই।
– এই ভুলের দায় তুমি কি এড়িয়ে যেতে পারবে?
স্পর্শীয়া আবারো চোখ বন্ধ করে নেয়। একটা ভুল, মাত্র একটা ভুলের কারনে আজ এই পরিস্থিতি। কেনো যে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো! স্পর্শীয়া শান্ত হওয়ার চেষ্টা করলো। বললো,
– দেখুন, মানছি আমার ভুল ছিলো। কিন্তু সেটা স্বীকার করার পরেও এই ভুল টাকে জড়িয়ে ধরে এতোদুর আসা আপনার উচিত হয়নি। আমি আপনাকে পছন্দ করি না।
পরশের শান্তভাব ধীরে ধীরে মলিন হয়ে গেলো। চোয়াল শক্ত করে এগিয়ে এলো স্পর্শীয়ার কাছে। শক্ত হাতে চেপে ধরলো নরম হাত। টেনে বসা থেকে উঠালো। পরশের বুকের উপর পড়তে পড়তেও স্পর্শী সামলে নিলো নিজেকে। অবাক নয়নে চেয়ে পুরো ঘটনাটা বুঝে ওঠার চেষ্টা করলো।
– ভুল স্বীকার করলেই তো আর সবটা মিটে যায় না স্পর্শীয়া৷ একদিন নয়, দুদিন নয়, টানা দু – সপ্তাহ জ্বালিয়েছো। নানাভাবে প্রলোভন দেখিয়েছো তোমার প্রেমে পড়ার। এখন আমায় অস্বীকার করলেই তো হবে না। আমি হারতে শিখি নি। আমার তোমায় চাই মানে চাই। তোমার জেদ, রাগ, একরোখামি,খামখেয়ালিপনা , তেজ সব আমার চাই। আমার মানে আমার। বুঝেছো?
সাময়িকভাবে হতভম্ব হয়ে যায় স্পর্শী। আতংকে ভরা চোখ নিয়ে দেখতে থাকে পরশকে। আজকের পূর্বে এতোটা হিংস্রতা কখনোই দেখায় নি। বরং দেখা হলে বেশ শান্ত ভাবে কথা শুনিয়ে দিতো। অপমান করলেও ঠোঁটে থাকতো হাসি। অথচ সেই মানুষটা আজ দুহাতে তার কাঁধ চেপে ধরে আছে। পুরুষ রেগে গেলে কি হিতাহিতজ্ঞান থাকে? না থাকে না। রাগের বশে পুরুষের থাবা হয় ভয়ানক। শরীর বিষিয়ে ওঠে। স্পর্শীর দু কাধ যেনো অবশ হয়ে উঠলো। তবুও চোখ ছলছল করলো না। চাহনি আগের চেয়েও অধিক কঠোর করে পরশের দিকে তাকালো। দুহাত দিয়ে সর্বোচ্চ শক্তিতে পরশের বুকে স্বজোরে ধাক্কা দিলো। এরপর আঙুল উঁচিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
– একদম অধিকার দেখাতে আসবেন না। আপনার সাথে কোনো ধরণের সম্পর্ক নেই আমার।
পরশ খেঁকিয়ে উঠলো। খোলা মাঠে বাতাসের তীব্রতার সাথে পাল্লা দিয়ে চেঁচিয়ে বললো,
– আছে। আলবাৎ আছে। তুমি আমাকে ভালোবাসো। শুধু স্বীকার করছো না।
– আমি আপনাকে ভালোবাসি না!!!
– বেশ! তাহলে আমার এক কথায় তুমি এতো দূর কেনো আসলে? কিসের সম্পর্কের ভিত্তিতে এসেছো?
স্পর্শী উত্তর খুঁজতে ব্যস্ত। কিন্তু আজ যেনো তার মস্তিষ্ক সঙ্গ দিচ্ছে না। সবটা জড়িয়ে যাচ্ছে। সে ঢোক গিয়ে গলা ভিজিয়ে নিলো। কোনো রকমে ভাবনা চিন্তা হীন বলে উঠলো,
– আপনি আমার বাবার শত্রু! আমাকে অকারণেই ঝামেলায় জড়াচ্ছেন। আর সেটার ব্যাপারেই কথা বলতে এসেছি।
পরশ হো হো করে হেসে উঠলো। এরপর তাচ্ছিল্য করে বললো,
– শত্রু! একজন শত্রুর এক কথায় বাড়ির কাউকে না জানিয়ে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার দূরে নির্জন, সুনসান জায়গায় চলে এলে? ভয় করলো না? একবারও ভাবলে না এই শত্রু এই মুহুর্তে তোমার সাথে যা খুশি তাই করতে পারে!
বলতে বলতে পরশ স্পর্শীর দিকে দু কদম এগিয়ে গেলো। তা দেখে মেয়েটা দ্রুত আশেপাশে তাকালো। যে কজন লোক দেখা গেছিলো, তারাও ধীরে ধীরে চলে গেছে। কেউ কেউ দূরের কাশবনের দিকে গেছে, আবার কেউতো পাশের সরষে বাগানে ফটো তুলতে ব্যস্ত। স্পর্শীয়া কিঞ্চিৎ ঘাবড়ালো। পরশের কন্ঠস্বর তার সুবিধার লাগছে না। যতই হোক, পুরুষ তো! এদের বিশ্বাস নেই। কখন না জানি ভেতরের জানোয়ার টা বাইরে চলে আসে।
স্পর্শীয়া বেঞ্চের উপর থেকে ফোন হাতে নিলো। যে কোনো সময়ে যেনো দৌড় দিতে পারে সেই প্রস্তুতি নিয়ে পরশের কথার জবাব দিলো। বললো,
– আমি ভয় পাই নাকি আপনাকে? মেয়েরা দূর্বল নয়।
পরশ জোরে একটা শ্বাস নিলো। স্পর্শীয়া উপরে উপরে যতই সাহসী ভাব দেখাক না কেনো, কিন্তু সে যে ঘাবড়ে আছে তা তার ভাবভঙ্গি দেখলেই বোঝা যাচ্ছে। এই মুহুর্তে পরশকে চতুর্দিক থেকে হতাশারা ঘিরে ধরলো। সে ক্লান্ত ভঙ্গিতে স্পর্শীয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,
– আর কতদিন জ্বালাবে আমায়, বলতে পারো? কেনো পরিবারের কথা ভেবে আমায় অবহেলা করছো স্পর্শীয়া! তুমি শুধু একবার হ্যাঁ বলো, আমি সবটা সামলে নেবো।
স্পর্শীয়া দ্বিধায় ভুগছে। এই লোকটা নিজে থেকে একটা আন্দাজ করে নিয়েছে। তাকে কে বলেছে স্পর্শী তাকে ভালোবাসে? যত্তসব ঝামেলা। নেহাত প্রথম দিকে যেচে বাঁদরামি করেছিলো। নাহলে থোতা মুখ সেই কবেই ভোঁতা করে দিতো। সে পুণরায় নাছোড়বান্দা কন্ঠে বললো,
– আপনার প্রতি আমার কোনো অনুভূতি নেই। একটু তো বুঝুন।
পরশ নিষ্পলক ভাবে তাকালো। বললো,
– বেশ! তাহলে আমার আগে তুমি বিয়ে করবে। তারপর আমি মেনে নেবো আমার ভাবনা ভুল।
স্পর্শীয়া আশ্চর্য হয়ে গেলো। কপালে ভাঁজ ফেলে বললো,
– আশ্চর্য! আমি কেনো বিয়ে করতে যাবো?
– কেনো? তোমার তো কোনো পারসোনাল পছন্দ নেই। তাহলে বিয়ে করতে সমস্যা কোথায়? বয়সও তো কম হলো না। আর কতদিন অপেক্ষা করবে, কার জন্যই বা করবে?
চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেলো স্পর্শীর। হা হুতাশ করে বললো,
– এই এই আপনি আমার বয়স নিয়ে খোঁটা দিচ্ছেন? বুড়ো লোক! আমি বিয়ে করবো না। কাউকে করবো না। তাতে আপনার প্রবলেম কোথায়?
পরশ মৃদু হাসলো। বললো,
– আমি জানি, তুমি অন্যকাউকে বিয়ে করতে পারবে না। কারন, তুমি আমায় ভালোবাসো।
স্পর্শী দাঁতে দাঁত চেপে ধরলো। বললো,
– কচু বাসি আপনাকে।
– তুমি নিজেই একবার ভেবে দেখো না। একবার ভাবো আমার সাথে তোমার বিয়ে হচ্ছে, অন্যবার ভেবে দেখো এক বুড়ো – বড় বড় গোঁফওয়ালা চল্লিশ বছর বয়সী কাকা টাইপ লোকের সাথে তোমার বিয়ে হচ্ছে। দেখবে, তখনই প্রমাণ পেয়ে যাবে। আমাকে ছাড়া কাউকে তোমার মনেই ধরবে না।
চোখ ছোটো ছোটো করে তাকালো স্পর্শীয়া। সূর্য প্রায় ডুবু ডুবু। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সন্ধ্যা নেমে যাবে। সে পরশকে অবজ্ঞা করে পাশ কাটিয়ে চলে এলো। বিরক্তিকর কন্ঠে বললো,
– এতো ভাবাভাবির সময় নেই। সরুন আপনি।
জায়গাটা অতিশয় নির্জন। ভেতরের এই চিকন রাস্তায় খুব একটা গাড়ি আসা-যাওয়া করে না। স্পর্শীয়া প্রায় দশ মিনিট দাঁড়িয়ে রইলো একটা অটোর অপেক্ষায়। কিন্তু পেলো না। বাইকের সাথে হেলান দিয়ে তখনো বসে আছে পরশ। ঠোঁটে তাচ্ছিল্যের হাসি। শেষ বারের মতো সাবধানী বার্তা দিয়ে বললো,
– আর মাত্র তিন মিনিট অপেক্ষা করবো। এর মধ্যে বাইকে উঠলে উঠবে, না উঠলে নাই। এমনিতেও এলাকা টা সুবিধার না। একটু পরেই ডাকাত নামবে। ভর সন্ধ্যায় বিনা পরিশ্রমে এমন একজনকে পেলে ওদের ভোজন ভালোই হবে।
তৎক্ষণাৎ ঢিল ছুড়ে মারলো স্পর্শী। ক্ষিপ্ত কন্ঠে শাসিয়ে বললো,
– আমার সাথে অসভ্যতা করলে একদম খবর করে ছাড়বো আপনার। ইচ্ছে করে এমন একটা সুনসান জায়গার এড্রেস দিয়েছেন। যাতে বিপাকে ফেলা যায় আমায়। তাইতো।
পরশ মাছি তাড়ানোর ন্যায় হাত নাড়ালো। আরামসে হেল দিয়ে বললো,
– গাড়ি আনো নি কেনো তাহলে? সিএনজিতে কেনো এসেছো? যেনো যাওয়ার সময় আমার বাইকে বসার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারো, তাই?
খেকিয়ে উঠলো স্পর্শী। বললো – আপনার মতো একটা ছারপোকার সাথে দেখা করতে বাড়ির গাড়ি আনবো? মাথা খারাপ আমার?
পরশ শুনেও শুনলো না। শুধু রিমাইন্ডার দেওয়ার ন্যায় বাইকে বসতে বসতে বললো,
– আর মাত্র চল্লিশ সেকেন্ড ডাকাত সর্দারনী। এরপর আপনাকে সেই ডাকাতের কোলে ফেলেই আমি পিরোজপুর চলে যাবো।
অগত্যা বাধ্য হয়ে স্পর্শীয়া থমথমে পায়ে এগিয়ে এলো। এই লোকের সাথে সে বেশিদুর যাবে না। এই তো সামনের স্ট্যান্ডে নেমেই সিএনজি ধরবে। মুখচোখ শক্ত করে বাইকের পেছনে বসতেই পরশ গা জ্বালানো কন্ঠে বলে উঠলো,
– আমার গায়ে যেনো একদম টাচ না লাগে। পরনারীর ছোঁয়া আমার ভালো লাগে না।
স্পর্শীয়ার ইচ্ছে করলো জোরে একটা খামচি দিতে। কিন্তু তা সে দিলো না। রাগ নিয়ে বললো,
– আমি কিন্তু নেমে যাবো?
স্পষ্ট হুশিয়ারি! পরশ আর কিচ্ছু বললো না। গাড়িতে সচারাচর একটা হেলমেট ই থাকে। সে চুপচাপ সেটা এগিয়ে দিলো। স্পর্শীয়া হেলমেট পড়তে পড়তে জিজ্ঞেস করলো,
– আপনি পড়বেন না?
পুণরায় গা জ্বালানো উত্তর দিলো পরশ। বললো,
– সরদারের মেয়েকে বাইকের পেছনে উঠিয়েছি, এটা লোকে দেখলে মানসম্মান থাকবে না।
স্পর্শীয়া হাসলো। টিটকারি মেরে বললো,
– সরদারের মেয়ের পেছনে চরকির মতো ঘোরার সময় মান সম্মান বুঝি খুব বেড়ে যায়?
– উহু! লোকে তো আর দেখছে না। যা দেখার সরদারের মেয়ে দেখছে।
স্পর্শীয়া হা হয়ে গেলো। আনমনেই বলে ফেললো,
– যা দেখার দেখছে মানে কি হ্যাঁ? যত্তসব অসভ্যের মতো কথা। আপনি নাকি আবার এমপি!
পরশ ব্রেক কষলো। চোখ ছোটো ছোটো করে তাকিয়ে পিছু ঘুরে বললো,
– আমি আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছি স্পর্শীয়া। তোমার চিন্তাভাবনা এতোটা নেতিবাচক কেনো? আমি কি দেখার কথা বলেছি?
জিভে কামড় বসালো স্পর্শী। উফফফ! মুখ ফসকে কি সব বলে ফেলেছে! সে দ্রুত কথা ঘুরাতে চাইলো। বললো,
– এতো কথা কেনো বলছেন? চুপচাপ বাইক চালান না! অদ্ভুত!
এরপর আর দুজনের মধ্যে কোনো কথা হলো না। অন্ধকার বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাইক চলছে। চিকন রোড পেরিয়ে বাইক এসে পড়েছে মেইন রোডে। আজ গাড়ি চলাচল বুঝি একটু কমই। প্রায় দু মিনিট পর পর একটা করে গাড়ি দেখা যাচ্ছে। স্পর্শীয়ার বাইকে চড়ার তেমন অভ্যাস নেই। মনে হচ্ছে এই বুঝি পড়ে যাবে। অনেকক্ষণ ধরে সে খেয়াল করছে পেছনে। বাইকের আয়নায় দেখা যাচ্ছে বিশাল একটা ট্রাক। পেছন থেকেই বেশ দুরত্ব নিয়ে আসছে। কেমন ঘাবড়ে গেলো সে। মনে হচ্ছে এই বুঝি পড়ে যাবে রাস্তায়। আর বাইক টা এসে তক্ষুণি পিষে যাবে তাকে। সে সময় নিয়ে পরশের দিকে তাকালো। অনেকক্ষণ ভেবে চিনতে নরম গলায় বললো,
– আমি কি আপনাকে একটু ধরে বসবো। ভয় করছে।
পরশ কয়েক সেকেন্ডের জন্য গতি কমালো। বার কয়েক পিছু ফিরে চিন্তিত কন্ঠে বললো,
– আমায় শক্ত করে ধরে বসো। সামনে অনেক গুলো স্পিডবেকার আছে।
স্পর্শীয়া আর হীনমন্যতায় ভুগলো না। তৎক্ষণাৎ নিজের মতো করে পরশের পেটে হাত দিয়ে জড়িয়ে বসলো। আর অন্যহাত দিয়ে বাইকের পেছনটা ধরলো। কিন্তু এতেই কি বিপদ কেটে যাবে? আদৌ কেঁটেছে কি? নাহ! পুণরায় গতি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পেছনের বিশালাকার ট্রাকটা এসে তুলে দিলো বাইকের উপর। রাস্তার সঙ্গে মিশিয়ে দিলো পুরোটা। যেনো বহুদিনের শোধ তুলেছে। এরপর সেকেন্ড সময়ও ব্যয় করলো না।
রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৪২
ড্রাইভার পূর্বের চেয়েও গতি বাড়িয়ে দিলো পালানোর উদ্দেশ্যে। তবে তার পাশে থাকা যুবক একবার উঁকি দিয়ে তাকালো পেছনে। বাইকের ভাঙা টুকরোগুলো দেখা যাচ্ছে। আর লাশ? তার কি আদৌ কোনো অস্তিত্ব আছে? হয়তো ছিন্নভিন্ন মাংস গুলোও মিশে গেছে রাস্তার সাথে। শুধু দৃশ্যমান হচ্ছে তাঁজা রক্ত! অন্ধকারে ঠিকভাবে রঙটাও বোঝা যাচ্ছে না। আশেপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা তো দূর রাস্তার পাশের ল্যাম্পপোস্টের আলোটাও ভীষণ হালকা। রাতের শুরুর এই দূর্ঘটনার রহস্য সম্পর্কে হয়তো রাতের পাখিরাও অজ্ঞ!
