রুপুর বিয়ে পর্ব ২৭
Bobita Ray
রুপু শাশুড়ীমাকে শ্বশুর মশাইয়ের বামহাত জড়িয়ে ধরে আসতে দেখে মুখ টিপে হেসে ফেলল। বলল,
“আপনি কোথাও যাচ্ছেন নাকি মা?”
বীথি রানী রুপুকে দেখে বিধানবাবুর হাতখানা ছেড়ে দিল। চোখে-মুখে বিরক্তি ফুটিয়ে বলল,
“আমি কোথায় যাচ্ছি না যাচ্ছি তা জেনে তুমি কী করবে।”
“আপনাকে খুব সুন্দর লাগছে মা।”
“ঢঙের কথা বাদ দিয়ে পথ ছাড়ো।”
রুপু আবারও হেসে ফেলল। এই মেয়েটাকে ফিচেল হাসতে দেখলে বীথি রানীর গা জ্বলে যায়। রুপু বলল,
“বাবা আপনার সাথে আমার খুব দরকারি একটা কথা ছিল।”
বীথি রানীর ভ্রু’জোড়া কুঁচকে গেল।
বিধান বাবু সরল মনে বলল,
“বলো মা।”
“কথাটা একটু ব্যক্তিগত বাবা৷”
বীথি রানী হড়বড় করে বলল,
“কিসের ব্যক্তিগত কথা। কোন ব্যাক্তিগত কথা-টথা শোনার সময় নেই আমাদের। এই তুমি চলো তো। দেরি হয়ে যাচ্ছে।”
“আহা বীথি একটু দাঁড়াও না। মেয়েটা কী বলতে চায়!’’
বীথি কোন কথা শোনার অবস্থায় নেই। বিধানবাবুর হাত ধরে টানতে টানতে রুপুর চোখের আড়ালে নিয়ে গেল।
বিনয় রুপুর কাছে আসতেই রুপু বিনয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে মন কেমন করা কণ্ঠে বলল,
“আফসোস আমি না তোমার মায়ের মতো হতে পারলাম। আর তুমি না তোমার বাবার মতো হতে পারলে। মাঝে মাঝে নিজের মাকে দেখেও তো কিছু শিখতে পারো।”
বিধানবাবু ভালো বেকায়দায় পড়েছে। বীথি আজ বাড়াবাড়ির চূড়ান্ত করেছে। একটা অল্পবয়সী মেয়েকে আর একটু হলেই গালে কষিয়ে থাপ্পড় মেরে দিতো। মেয়েটার অপরাধ; মেয়েটা গয়না কিনতে এসে গয়না ভালো করে না দেখে বিধানবাবুর সাথে অনেকক্ষণ যাবৎ হেসে হেসে গয়না বিষয়ক গল্প করছে। প্রতিদিন নানান রকমের কাস্টমার আসে। একটা গহনা বিক্রি করতে গেলে একশোটা কথা বলতে হয়। এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। অথচ বীথির কাছে নাকি এই স্বাভাবিক বিষয়টা অস্বাভাবিক লাগছে। মেয়েটার নাকি মতলব ভালো না। গয়না নিতে এসেছে। দর কষাকষি করে দামে পটলে গয়না নিয়ে চলে যাবে। নাহলে না নেবে। এত মাখামাখি ধরনের গল্প করার কী আছে। আজকাল আবার কিছু মেয়ে মিচকে শয়তান হয়েছে। এদের নাকি কচিকাঁচা ভালো লাগে না। বয়স্ক ব্যাটাদের ভালো লাগে। মেয়েটার হাসিমুখের দিকে তাকিয়ে বীথি রানী আর বিরক্ত চাপতে পারল না। বলব না বলব না করেও মুখ ফস্কে বলে ফেলল,
“গয়না নিতে এসেছ। দয়া করে গয়না নিয়ে বিদায় হও। এত গল্প করার কী আছে।”
মেয়েটা বিস্ময় চাপতে পারল না। বীথি রানীকে দেখিয়ে বিধানবাবুকে বলল,
“ইনি কে? আমার সাথে এভাবে কথা বলছে কেন?”
বিধানবাবু কিছু বলার আগেই বীথি রানী ফটাফট বলল,
“যার সাথে তুমি এতক্ষণ রসিয়ে রসিয়ে গল্প করছিলে। আমি তারই সহধর্মিণী বুঝলে। আর না বুঝলেও কিছু করার নেই। তোমার ভাবভঙ্গি দেখে তো মনে হচ্ছে না যে গয়না নেবে। দয়া করে আমাদের আর সময় নষ্ট না করে বিদায় হও।”
“আপনার কী মাথা ঠিক আছে। আপনি এসব কী বলছেন? আর গয়না না নিলে শুধু শুধু এখানে এসেছি কেন!”
“আমার মাথা একদম ঠিক আছে। তুমি বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোমার মাথা ঘুরিয়ে দেব। বেয়াদব মেয়ে।”
“এই আপনি কাকে বেয়াদব মেয়ে বলছেন। ভদ্রভাবে কথা বলুন। আপনি জানেন আমি কে?”
“তুমি কে আমার জেনে কোন কাজ নেই। দয়া করে আমার বরের মাথা না খেয়ে বিদায় হও।”
মেয়েটা বিধানবাবুর দিকে করুণ চোখে তাকাল। বলল,
“এসব পাগল ছাগলকে এখানে কেন এনেছেন?”
বীথি রানী চাপা কণ্ঠে গর্জে উঠে বলল,
“এই মেয়ে এই তুই কাকে পাগল বললি? তোমার সামনে… তোমার সামনে দাঁড়িয়ে হাঁটুর বয়সী একটা মেয়ে আমাকে পাগল-ছাগল বলল। অথচ তুমি কিছুই বললে না।” শেষের কথাগুলো বলতে বলতে বীথি রানী শাড়ির আঁচলে চোখ মুছল। মেয়েটা অকারণে বীথি রানীকে কাঁদতে দেখে থতমত খেল। বলল,
“সরি। আসলে…”
“তুই আর আমার সাথে একটা কথা বললে তোর সুন্দর গাল ঠাটিয়ে থাপ্পড় মেরে ফাটিয়ে দেব।”
বিধানবাবু বীথিকে টানতে টানতে শো-রুম থেকে বের করে নিয়ে গাড়িতে বসল। বলল,
“তোমার কী হয়েছে বীথি? তুমি এমন করছ কেন?”
বীথি রানী মনে মনে বলল,
“তোমার প্রিয়ারের বউমা আমার চোখ খুলে দিয়েছে। ভাগ্যিস আজ এখানে এসেছিলাম। নাহলে তো জানতেই পারতাম না। তুমি অল্পবয়সী মেয়েদের সাথে গয়না বেচার বাহানায় হা হা হি হি করতে করতে গল্প করো।”
“কী হলো বীথি? চুপ করে আছ কেন? কথা বলো।”
“কী বলব। মেয়েটা দেখলে না কেমন অভদ্র।”
“বীথি বাড়াবাড়িটা কিন্তু তুমি আগে করেছ।”
“আশ্চর্য তোমার কাছে কোনটা বাড়াবাড়ি মনে হলো। পাশে বউ থাকতে একটা অল্পবয়সী মেয়ের সাথে যে পাক্কা পনেরো মিনিট রসিয়ে রসিয়ে গল্প করলে সেটা বাড়াবাড়ি না। সত্যি করে বলোতো, সুযোগ পেলে মেয়েদের গায়েও হাত দাও নাকি।”
বিধানবাবু বিস্ফোরিত চোখে বীথির দিকে তাকাল। অস্ফুট স্বরে বলল,
“ছিঃ ছিঃ এসব কী বলছ বীথি তুমি? এসব শোনাও পাপ।”
“পাপ না ছাই। ঘোর কলি কাল চলছে। এ-যুগে কাউকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা যায় না।”
“আমাদের সংসারটা কিন্তু বিশ্বাসের উপরেই পুরোপুরি টিকে আছে বীথি।”
“বিশ্বাস ভাঙতে কতক্ষণ। দেখা গেল দুষ্ট লোকের প্রচারণায় পড়ে তুমি এই বয়সে গরীব ঘরের একটা সুন্দরী মেয়েকে বিয়ে করে আনলে। তারপর কচি বউ নিয়ে নানান রকম রঙঢঙ করলে। দুহাতে প্রচুর পয়সা কামাচ্ছ। কে জানে হয়ত একদিন গোপন অভিলাষ পূরণ করে ফেলতেও পারো।”
“আমার সম্পর্কে এত নিচু ধারণা তোমার?”
“আগে ছিল না।”
“বীথি তুমি বোধহয় ভুলে যাচ্ছ। এই শো-রুম বাড়ি, ব্যাংক ব্যালেঞ্জ সব তোমার নামে।”
হঠাৎ মনে পড়তেই বীথি স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। ওই ডেঞ্জারাস মেয়েটার পাল্লায় পড়ে সবকিছু মাথা থেকে বের হয়ে গিয়েছিল। বীথি আদর করে বিধানবাবুর হাত ধরতেই বিধানবাবু অভিমানে নিজের হাত গুটিয়ে নিল। বীথি বিধানবাবুর অভিমান গায়ে মাখল না। বিধানবাবুর একহাত চেপে ধরে হাসি হাসি মুখে বলল,
“এ্যাই শোনো? আমি না তোমার সাথে একক্ষণ ফান করছিলাম৷ দেখছিলাম তোমার রিয়াকশন কী হয়।”
“আমাকে এত বোকা ভেব না বীথি।”
“ভগবানের দিব্যি কেটে বলছি। আমি সত্যিই তোমার সাথে ফান করছিলাম। আসলে আমার তোমার সাথে খুব ঘুরতে যেতে ইচ্ছে করছিল। তোমার এত কাজের চাপ। কিছুতেই বলার সাহস পাচ্ছিলাম না। তাই এই কৌশল অবলম্বন করা। জানতাম মেয়েটার সাথে খারাপ ব্যবহার করলে তুমি আমাকে শো-রুম থেকে বের করে নিয়ে আসবে। তাই লোভ সামলাতে পারিনি।”
“এইরকম ফান আর কখনো করবে না বীথি। মেয়েটা ভদ্রঘরের দেখে অল্পতেই ঝামেলা মিটে গেছে। নাহলে আজ ভয়ংকর কাণ্ড ঘটে যেত। তোমার ঘুরতে যেতে ইচ্ছে করলে তুমি আমাকে বলবে। আমি যেভাবেই হোক সময় বের করে তোমাকে ঘুরতে নিয়ে যাব।”
দিনগুলো কেমন হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে৷ রুপু সংসার সামলে মাস্টার্সে ভর্তি হয়ে নিয়মিত ক্লাস করছে। আবার বিভিন্ন জায়গায় চাকরির ইন্টারভিউ দিচ্ছে। অয়ন প্রায়ই বলে তুমি বিসিএসের জন্য প্রস্তুতি নাও বউদি। রুপুর সাহস হয় না। এই পড়াশোনা নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই বলতে গেলে শাশুড়ীর সাথে ঝগড়া লেগে থাকে। বিনয়টা যদি একটুখানি সাপোর্ট করত। তাহলেও নাহয় সাহস করা যেত। কিন্তু বিনয় যে রুপুর পড়াশোনাকেই সাপোর্ট করে না। সেখানে বিবিএস পরীক্ষায় বসার কথা ভাবাও দুঃস্বপ্ন। অয়নটাও বিদেশে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে৷ অয়নের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ভিসা অফিসে দৌড়াদৌড়ি করছে খুব।
বিধানবাবুর ইচ্ছে ছিল। ছোটো ছেলে এ-ই দেশেই কিছু করুক। অয়নেরও নীরব সম্মতি ছিল। হঠাৎ কী হলো ছেলের কে জানে! বিদেশে যাওয়ার জন্য কেমন মরিয়া হয়ে গেছে। এইদেশে নাকি আর মন টিকছে না।
রুপুর আজ একটা পরীক্ষা আছে। রুপু আজ খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠল। সকালের সাথে দুপুরের রান্নাটাও সেরে ফেলতে হবে। রুপু দুটো চুলায় ভাত ও চায়ের জন্য গরম জল বসিয়ে দিল। তারপর একমনে সবজি কাটতে লাগল। অয়ন ঘুম ঘুম চোখে রান্নাঘরে এসে বলল,
“কড়া করে এককাপ চা দাওতো বউদি।”
“হাত-মুখ ধুয়ে এসো। দিচ্ছি।”
অয়ন বাধ্য ছেলের মতো হাত-মুখ ধুয়ে এলো। রুপু চায়ের কাপ অয়নের হাতে দিয়ে বলল,
“বসো এখানে।”
অয়ন চায়ে চুমুক দিয়ে বসল। বলল,
“চা-টা খুব দারুণ হয়েছে বউদি।”
“সে-তো রোজই হচ্ছে। অয়ন তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করব করব করেও করা হচ্ছে না।”
“কী কথা, বলে ফেলো।”
“তুমি নিজের ঘরে না ঘুমিয়ে তিনতলায় কেন ঘুমাও?”
“এমনিই।”
“এই এমনি অভ্যাসটা কী অথৈ যাওয়ার পর পরই তৈরি হলো।”
অয়ন কিছু বলল না। চা খাওয়ায় মনোযোগ দিল। রুপু বলল,
“তুমি কী কোনভাবে আমার বোনের সাথে জেদ করে দেশ ছাড়ছ?”
“তোমার বোন আমার কে? যে তার সাথে জেদ করে আমার দেশ ছাড়তে হবে।”
“কেউ না?”
অয়ন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“না, কেউ না।”
রুপু অয়নের মুখের দিকে তাকিয়ে হাসল। বলল,
“অথৈ খুব সেনসেটিভ একটা মেয়ে অয়ন। তারথেকেও ধ্রুব সত্যি হলো আমাকে মেয়েটা প্রচণ্ড ভালোবাসে।
ও প্রতিনিয়ত আমাকে যেভাবে তোমার মায়ের সাথে বাকযুদ্ধ করে এই বাড়িতে টিকে থাকতে দেখে গেছে। ও আর নতুন করে আমার ঝামেলা বাড়তে চায়নি।”
“তুমি যদি একটু বুঝিয়ে বলতে..”
“আমার বোঝানোতে কাজ হবে না অয়ন। তোমার মা আমার বোনকে একা পেয়ে তোমার সাথে জড়িয়ে খুব নোংরা নোংরা কথা বলেছে। কথাগুলো ওর মনে এতটাই হিট করেছে। ও আর দ্বিতীয়বার এই-বাড়িতে আসার কথা ভাবারও সাহস পায় না।”
“আমি তো ওকে এখানে রাখব না বউদি।”
“বিয়ের আগে তো কতকিছু শোনা যায়। বিয়ের পরেই আসল ব্যাপারটা বোঝা যায়, জানো? তাছাড়া আমরা দুইবোন বাবাকে ছুঁয়ে কথা দিয়েছিলাম। আমরা কোনদিন রিলেশন করে বিয়ে করব না। বাবা আমাদের যেখানে বিয়ে দেবে। আমরা হাসিমুখে সেখানেই বিয়ে করব। আমি আমার কথা রেখেছি। আশা করছি অথৈও রাখবে।”
“আমি তোমার বোনকেই বিয়ে করব বউদি৷ এবং প্রস্তাবের মাধ্যমেই করব।”
“এটা কী আদৌও সম্ভব অয়ন।”
অয়ন কিছু বলতে পারল না। বুকচিরে গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলল। বলল,
“তোমার বোন মুখে যাই বলুক না কেন! আমি ওর চোখের ভাষা বুঝি। ও.. ও আমাকেই পছন্দ করে।”
“তোমার মতো ছেলেকে একদেখায় সবাই পছন্দ করবে অয়ন।”
“টিটকারি করছ?”
“সত্যি বলছি।”
“সেদিন আমার জোড়াজুড়িতে ও আমার সাথে দেখা করতে এলো ঠিকই কিন্তু আমাকে কী পরিমাণ অপমান করেছে। তোমার কোন ধারণাও নেই বউদি।”
“আমি সবটা জানি অয়ন।”
“আমি ওর অপমানের যোগ্য জবাব দেব বউদি।”
“দিও। তোমার ফ্লাইট কবে?”
“এই মাসের ২৯ তারিখে।”
“অথৈ কী জানে তুমি চলে যাচ্ছ।”
“না।”
“আমি কী ওকে বলব?”
“না।”
“না বলে চলে যাবে।”
“জানি না।”
“তুমি দেশে এসে যদি দেখো ওর বিয়ে হয়ে গেছে।”
অয়নের বুকের পাঁজর ভেঙে এলো। মুখটা শুকিয়ে একটুখানি হয়ে গেল। তবে মুখে কিছু বলল না। রুপু বলল,
“চা খাওয়া শেষ হলে যাও একটু ঘুমানোর চেষ্টা করো। রাত জাগতে জাগতে তোমার অবস্থা কাহিল হয়ে গেছে অয়ন।”
অয়ন উঠে চলে গেল। তার মিনিট দশেক পর বীথি রানী রান্নাঘরে এলো। বলল,
“নবাবের বেটি আজ সাত-সকালে রান্না ঘরে যে?”
“সাত-সকালে কী আমার মেজাজ খারাপ না করলেই আপনার চলছিল না মা?”
“না চলছিল না। দেখি আমাকে এককাপ চা দাও।”
রুপু শাশুড়ীর হাতে চা দিতে গিয়ে চায়ের চাপ ইচ্ছে করে ফেলে দিল। এমনভাবে ফেলল যে-কেউ দেখে বলবে, তাড়াহুড়োয় কাপটা হাত ফস্কে পড়ে গেছে। কাপটা দু টুকরা হয়ে ভেঙে যেতেই বীথি রানী রে রে করে উঠল। বলল,
“ইচ্ছে করে.. ইচ্ছে করে কাপটা ভাঙলে তুমি তাই না?
আমি চা খেতে চেয়েছি। দিতে যখন এতই অসুবিধে হচ্ছিল। দিতে না। আমার উপরে জেদ করে কাপটা ভাঙলে কেন তুমি? ভাঙবেই তো। কাপটা তো আর তোমার বাবার বাড়ি থেকে আনোনি। জিনিসের প্রতি মায়া দয়া থাকবে কী করে। খবরদার আর একটা কাপেও হাত দেবে না তুমি। ভাঙার যখন এতই শখ। নিজে উপার্জন করে কিনে যতখুশি ভাঙবে।”
রুপু স্টিলের গ্লাসে চা দিতেই বীথি রানী হতভম্ব হয়ে গেল। বলল,
“তুমি..তুমি আমাকে কাপ থাকতে এই গ্লাসে চা দিচ্ছ কেন?”
“বাহ্ রে আপনিই তো একটু আগে আমাকে কাপ ধরতে নিষেধ করলেন। পরের জিনিস ধরার আমার এত শখ নেই।”
“মুখে মুখে তর্ক না করে আমাকে কাপে চা দাও।”
রুপু কাপে চা ঢালতে ঢালতে বলল,
“মা আজ আপনি একটু রেডি হয়ে থাকবেন তো। আমার সাথে এক জায়গায় যেতে হবে।”
“কোথায় যেতে হবে?”
“আমার ক্যাম্পাসে।”
“আজব তোমার সাথে আমি কী করতে যাব।”
“কী করতে যাবেন মানে! আমার বান্ধবীরা আপনাকে দেখতে চেয়েছে। ওরা বাড়িতেই আসতে চেয়েছিল। আপনাদের টাকা খরচ হবে দেখে আমি মানা করে দিয়েছি। ওরা তো আর জানে না। আমার শাশুড়ী কী কিপটের কিপ্টে।”
“কোথাও যাব না আমি, তোমার সাথে। নিশ্চয়ই ওদের কাছে আমার নামে বানিয়ে বানিয়ে বদনাম করেছ তুমি। নাহলে এত মানুষ রেখে আমাকে দেখতে চাইবে কেন! ওরা তো এটাও জানে না। তুমি কী ধুরন্ধর… কী ধুরন্ধর।”
“সাহস থাকলে চলুন আমার সাথে। আমি যে ধুরন্ধর এই কথাটা ওদের বলে আসবেন।”
“আমার এত ঠেকা পড়েনাই। সময় হলে ওরা এমনিই জেনে যাবে।”
“বলেছি যখন তখন আমার সাথে আপনাকে যেতেই হবে মা। আপনি না গেলে আপনার বড়ছেলেকে আমি নিয়ে যাব। এবং আমরা পাঁচ বান্ধবী মিলে আপনার ছেলের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে থুক্কু ফাইভ স্টার হোটেলে বসে দুপুরে লাঞ্চ করব। বলা যায় না। আমার বান্ধবীদের বিদায় দিয়ে রাতটাও থেকে আসতে পারি।”
বীথি রানী চা খাওয়া ভুলে বিস্ফোরিত চোখে রুপুর দিকে তাকিয়ে রইল। ডাইনিটা সবসময় বীথি রানীর কলিজা ধরে টানাটানি করে। একবার রুপুর বান্ধবীদের সাথে দেখা হোক। এমন গল্প ফেঁদে বসবে বীথি রানী। পরবর্তীতে মেয়েগুলো এই ডাইনির কাছ থেকে একশো হাত দূরে থাকবে। সুযোগ যখন এসেছেই। রুপুর স্যারদের সাথেও দেখা করবে আসবে বীথি রানী। বলবে,
রুপুর বিয়ে পর্ব ২৬
“আমার বউমাকে পড়ালেখা শেখানোর নাম করে কী শিক্ষা দেন আপনারা। সারাদিন আমার সাথে ঝগড়া করে। আমাকে ঠিকমতো খেতে দেয় না। আমার ছেলেটাকে আমার কাছে আসতে দেয় না। এইসব করতে কী এখান থেকে শিখিয়ে দেন নাকি। কথাগুলো বলতে হবে নরম স্বরে কেঁদে কেঁদে। তারপরই আসল খেলা জমবে। বলা যায় না। শাশুড়ীর সাথে খারাপ ব্যবহার করার অপরাধে রুপুকে টিসি দিয়ে বেরও করে দিতে পারে।
