রুহআবিষ্ট তুমি পর্ব ৭
অধরা মিনহা
ইফরাদ আশ্চর্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল আনতারার দিকে। আনতারার কাছ থেকে এমন উত্তর সে একেবারেই আশা করেনি। তার ধারণা ছিল, আনতারা সহজেই রাজি হয়ে যাবে, বেপর্দা হতে সম্মত হবে। সে মনে মনে চেয়েছিল, আনতারা যে ধর্মের প্রতি এত ভক্তি দেখায়, সেটাকে মিথ্যে প্রমাণ করবে। কিন্তু সবকিছু যেন উল্টো হয়ে গেল।আনতারা তাকে সরাসরি মানা করে দিল। কিন্তু ইফরাদের মনে হলো, যেন কেউ তার মুখে জুতার বাড়ি মেরেছে।
ঠিক তখনি দরজায় নক হয়। ইফরাদ আনতারার দিক থেকে চোখ সরিয়ে দরজার দিকে তাকিয়ে বলে,
— কে?
মেইডের কণ্ঠ ভেসে এলো,
— স্যার, নিচে আপনার ফ্রেন্ডরা ডাকছে। লেইট নাকি হচ্ছে।
ইফরাদ দরজার দিক থেকে চোখ সরিয়ে হাতে থাকা ঘড়ির দিকে তাকায়। সাড়ে দশটা বেজে গেছে। তারপর আবার আনতারার দিকে তাকায়। আনতারা শান্ত দৃষ্টিতে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। ইফরাদ এবার মেইডকে বলে,
— আসছি আমি।
এ কথা বলেই ইফরাদ রুম থেকে বেরিয়ে যায়। ইফরাদ চলে যেতেই আনতারা ধীর পায়ে হেঁটে গিয়ে বেডে বসে। তার চোখ থেকে একফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ে। ইফরাদের কথাগুলো মাথার ভেতর ঘুরপাক খেতে লাগলো। মানুষ কি সত্যিই এমন হতে পারে? যে নিজের স্ত্রীকে পর্দার বাইরে আনতে চায়—ক্ষমতা, নাম আর যশের জন্য? সে বিশ্বাসই করতে পারছে না, শুধুমাত্র ধর্মপ্রাণ হওয়ার কারণে ইফরাদ তাকে তালাক দিতে চায়।
হয়তো ইফরাদের সঙ্গে তার সংসার আর হবে না। অথচ তাদের তো ঠিকমতো সংসারই শুরু হয়নি। তবুও এই সম্পর্কটার প্রতি এক অদ্ভুত মায়া জন্মেছে আনতারার মনে। আনতারা ধীরে ধীরে হাত উঠিয়ে মোনাজাতে বসে। তার চোখ বেয়ে নীরবে জল পড়তে থাকে। কান্নাভেজা কণ্ঠে বলে,
— আল্লাহ, আমি জানি না আমার ভাগ্যে কী আছে। জানি না ইফরাদের সঙ্গে আমার সংসার হবে কিনা। তবে এটুকু জানি, আপনি উত্তম পরিকল্পনাকারী। আপনি আমার ভাগ্যে যা লিখে রেখেছেন, তা নিশ্চয়ই আমার জন্য মঙ্গলজনক, আমি তা বিশ্বাস করি। আল্লাহ, আপনি আমাকে সাহায্য করবেন। আপনি আপনার এই বান্দাকে একা ছেড়ে দেবেন না। আপনি ছাড়া আমার কেউ নেই, রব।
চারপাশে লাল-নীল আলো ঝলমল করছে।
তীব্র শব্দে বাজছে লাউড মিউজিক। আর সেই তালে তালে অনেকেই নাচে মেতে আছে। এক পাশে সাজানো আছে আরামদায়ক সোফা, সামনে ছোট একটা টেবিল। সেই সোফায় বসে ইফরাদ আর রোশান ড্রিংকস করছে।রোশান, নোহা, মাহি আর নিহাল—সবাই নাচে ব্যস্ত।ইফরাদ গ্লাসের পর গ্লাস উইস্কি শট শেষ করে যাচ্ছে, কিন্তু সেসবে তার ধ্যান নেই। তার মাথায় ঘুরছে শুধু আনতারার কথাগুলো। তার মেজাজ প্রচণ্ড খারাপ। তখন সে অপমানটা চেপে গেলেও, এখন মনে হচ্ছে, সবকিছু ভেঙেচুরে ফেলতে ইচ্ছে করছে। তার চোখমুখ শক্ত হয়ে আছে। টেবিলের ওপর রাখা সব উইস্কি শটের গ্লাস শেষ হয়ে গেলে সে ওয়েটারকে ডেকে আবার বিয়ার অর্ডার করে।
পাশে বসে থাকা রোশান ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে থাকে তার দিকে। ইফরাদের চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে, কিছু একটা নিয়ে ইফরাদ ভীষণ রেগে আছে। শেষমেশ চুপ থাকতে না পেরে রোশান জিজ্ঞেস করেই ফেলে,
— কী হয়েছে? এভাবে খাচ্ছিস কেন?
ইফরাদ বিরক্ত গলায় বলে,
— কিভাবে খাচ্ছি?
রোশান ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে,
— তোর খাওয়া দেখে তো মনে হচ্ছে না বিয়ার খাচ্ছিস, মনে হচ্ছে ক্ষোভে কোনো জ্যান্ত মানুষ গিলে খাচ্ছিস।
ইফরাদ দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
— আমার ইচ্ছে করছে খেয়েই ফেলতে! একদম চিবিয়ে খেতে!
রোশান কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করে,
— কাকে?
ইফরাদ গম্ভীর গলায় বলে,
— ওই মেয়েকে!
এই বলে সে হঠাৎ উঠে দাঁড়ায়। কিন্তু নেশার ঘোরে টালমাটাল হয়ে পড়ে যেতে নেয়। কোনো রকমে নিজেকে সামলে নিয়ে বলে,
— আজকে বাসায় গিয়ে ইচ্ছে মতো মারবো!
রোশান বুঝে যায়, ইফরাদ তার বউয়ের কথাই বলছে। সে টান দিয়ে ইফরাদকে আবার বসিয়ে দেয়, হালকা হেসে বলে,
— মদ খেয়ে বউ পেটালে নারী নির্যাতনের মামলা খাবি!
ইফরাদ হো হো করে হেসে উঠে। বলে,
— কে মামলা করবে? ওই মেয়ের কেউ নেই!
রোশান অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
— মা-বাবা নেই? এতিম?
ইফরাদ অবলীলায় ভঙ্গিতে বলে,
— জানি না।
রোশান বিস্মিত হয়ে বলে,
— তুই ভাই কী! তোর বউ অথচ তুই জানিস না তার মা-বাবা আছে কিনা!
ইফরাদ বিরক্ত হয়ে বলে,
— বললাম না, ওই মেয়েকে আমার বউ না বলতে! ফাজিল মেয়ে একটা!
রোশান শান্ত স্বরে বলে,
— আচ্ছা বলবো না। এখন চুপ থাক, বেশি চড়লে পরে ফেটে যাবি।
ইফরাদ আবার উঠে দাঁড়িয়ে বলে,
— গেলাম আমি। তোরা থাক।
রোশান দ্রুত বলে ওঠে,
— এখনই চলে যাবি? মাত্র তিনটা বাজে। আরেকটু পর যাস, সবাই একসাথে যাবো।
ইফরাদ মাথা নাড়িয়ে বলে,
— না, এখনই যাবো। আজকে ওই মেয়ের একদিন আর আমার যতদিন লাগে।
রোশান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,
— আচ্ছা চল, আমিও যাবো তোর সাথে। একা যেতে পারবি না।
ইফরাদ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলে,
— আমি কি বাচ্চা নাকি? একা যেতে পারবো না?
রোশান বলে,
— আচ্ছা, আমিই বাচ্চা। এখন আমাকে নিয়ে যা তোর সাথে।
এরপর তারা দুজন বাকিদের কিছু না বলেই ক্লাব থেকে বেরিয়ে আসে। বাইরে দুইটা গাড়ি রাখা, একটা ইফরাদের, আরেকটা নিহালের। রোশান ইফরাদের হাত থেকে গাড়ির চাবি নিয়ে নিজেই ড্রাইভিং সিটে বসে। ইফরাদ পাশের সিটে আধশোয়া হয়ে পড়ে, সামনের গ্লাসে পা তুলে রাখে।
প্রায় এক ঘণ্টা পর গাড়ি এসে থামে ইফরাদের বাড়ির সামনে। রোশান গাড়ি থেকে নেমে অন্য পাশে গিয়ে দরজা খুলতে যাবে, ঠিক তখনি ইফরাদ নিজেই দরজা খুলে নামতে যায়। কিন্তু নামার সময় হোঁচট খেয়ে পড়ে যেতে নেয়। গাড়ির গায়ে ভর দিয়ে কোনো রকমে নিজেকে সামলে নেয়।
রোশান দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে ধরতে ধরতে বলে,
— আস্তে ভাই, হাই হয়ে আছিস!
ইফরাদ রোশানের হাতটা সরিয়ে দিয়ে কিছুটা জড়ানো গলায় বলে,
— আই’ম ফুললি ওকে।
রোশান শান্ত গলায় বলে,
— চল, ভেতর দিয়ে আসি।
ইফরাদ মাথা নাড়িয়ে বলে,
— উহুম, লাগবে না।
এই বলে সে টলমল পায়ে সামনে এগিয়ে যেতে লাগল। হঠাৎ রোশানের মনে পড়ে, ইফরাদের গাড়ির চাবি তো তার কাছেই রয়ে গেছে! সে দ্রুত দৌড়ে গিয়ে চাবিটা ইফরাদের হাতে দিয়ে দেয়। ইফরাদ চাবিটা পকেটে রেখে ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে থাকে। বাড়ির সামনে কয়েকটা সিঁড়ি আছে। সাত-আটটা সিঁড়ি পেরিয়ে সে মেইন ডোরের সামনে এসে জোরে জোরে দুইবার ধাক্কা দেয়। পেছন থেকে রোশান জোরে ডেকে বলে,
— ডোরবেল চাপ দে, ভাই।
ইফরাদ যেন হঠাৎ মনে পড়ার মতো করে বলে,
— ওহ, হ্যাঁ।
তারপর ডোরবেল চাপে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মেইড দরজা খুলে দেয়। ইফরাদ ভেতরে ঢুকে পড়ে। তাকে ঢুকতে দেখে রোশান আর দাঁড়ায় না। নিজের গাড়িতে উঠে সেখান থেকে চলে গেল।
এদিকে আনতারা ওয়াশরুম থেকে হাত-মুখ ধুয়ে বের হয়েছে। ঘুম থেকে উঠেছে মাত্র পাঁচ মিনিট আগে। আজ সাহরি খাবে, কারণ আজ বৃহস্পতিবার। সে রোজা রাখবে। প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার সে রোজা রাখে। রাতে সে শাহনারাকে বলে রেখেছিল, যেন তাকে অল্প ভাত কিংবা দই-চিড়া দেয়। কিছুক্ষণ আগে শাহনারা একটা ট্রেতে করে ভাত আর গরুর মাংস এনে দরজায় নক করেছিল, তাতেই আনতারার ঘুম ভেঙে যায়।
আনতারা ‘বিসমিল্লাহ’ বলে খাওয়া শুরু করে। ঠিক তখনি রুমের দরজা খুলে টলতে টলতে ভেতরে ঢুকে ইফরাদ। তাকে দেখে আনতারা খাওয়া থামিয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। ইফরাদকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে, সে মারাত্মক নেশাগ্রস্ত। আজ আর আনতারার চোখে জল এলো না। তার মনে পড়ে গেল রাতের সেই কথাগুলো। সে শান্তভাবে চোখ সরিয়ে আবার খাওয়ায় মন দিল। ইফরাদ এসে ধপাস করে বেডে শুয়ে পড়ে। শরীরের অর্ধেকটা বেডের ওপর, বাকিটা বাইরে ঝুলে আছে। কিছুক্ষণ পর সে মাথা তুলে আনতারার দিকে তাকায়। ততক্ষণে আনতারার খাওয়া শেষ।
ইফরাদ ডাক দেয়,
— এই মেয়ে? খাওয়া শেষ?
আনতারা শান্তভাবে বলে,
— জি।
এই বলে সে উঠে দাঁড়ায়। তারপর ওয়াশরুমে গিয়ে হাত ধুয়ে বের হতে যাবে, ঠিক তখনি দেখে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে ইফরাদ। আনতারা বের হতেই ইফরাদ হঠাৎ তার হাত চেপে ধরে। তারপর দরজা খুলে তাকে রুমের বাইরে ঠেলে বের করে দেয়।
ইফরাদ নেশার ঘোরেই শান্ত গলায় বলে,
— বের হও আমার রুম থেকে!
বলেই ইফরাদ দরজা বন্ধ করতে যাবে, ঠিক তখনি আনতারা বাধা দিয়ে বলে,
— রুম থেকে বের করে দিলে ঘুমাবো কোথায় আমি?
ইফরাদ নেশার ঘোরে নির্লিপ্ত গলায় বলে,
— আমি কি জানি।
আনতারা সংযত স্বরে বলে,
— এত রাতে যেহেতু বের করে দিচ্ছেন, তাহলে আপনিই ভালো জানার কথা আমি কোথায় থাকবো!
ইফরাদ উদাস ভঙ্গিতে বলে উঠে,
— করিডরের ফ্লোরে ঘুমাও।
আনতারা কষ্ট চেপে বলে,
— ইফরাদ, আমি আপনার স্ত্রী। আপনার দায়িত্ব।
ইফরাদ চোখ সরু করে তাকিয়ে মাতাল কণ্ঠে প্রশ্ন করে,
— তুমি আমার স্ত্রী হলে, আমি তোমার কী?
আনতারা দৃঢ়ভাবে উত্তর দেয়,
— স্বামী!
হঠাৎই ইফরাদ ধমকে উঠে,
— তাহলে এই ফাজিল মেয়ে, আমার সাথে বেয়াদবি করেছো কেন?
আনতারা অবাক হয়। বলে,
— আমি কখন আপনার সাথে বেয়াদবি করলাম?
ইফরাদ গম্ভীর স্বরে বলে,
— সন্ধ্যা বেলা! এটা এখন তোমার শাস্তি! আমি তোমাকে আমার রুমে ঢুকতে দেবো না।
বলেই ইফরাূ আনতারাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ঠাস করে দরজা বন্ধ করে দেয়। আনতারা কিছুক্ষণ দরজায় ধাক্কা দিয়ে খুলতে বলে। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে ভাবে, হয়তো ইফরাদ ঘুমিয়ে পড়েছে। সে চলে যেতে নিলে, তখনি ভেতর থেকে ইফরাদের কণ্ঠ শোনা যায়,
— এই মেয়ে, দরজা খুলবো একটা শর্তে।
আনতারা থেমে ফিরে তাকিয়ে বলে,
— কী?
ইফরাদ বলে,
— সরি বলবে। বলবে, ‘ইফরাদ, আমার ভুল হয়েছে। আমি আর কখনো বেয়াদবি করবো না। যদি করি ইফরাদ, আপনি আমার মাথাটা কেটে ফেলে দিবেন।’
কথাগুলো শুনে আনতারা হতবাক হয়ে গেল। ইফরাদের কথা শুনে মনে হচ্ছিল, যেন কোনো বাচ্চা এমন কথা বলছে। সে বুঝল, না বললে দরজা খুলবে না ইফরাদ।
তাই উপায় না দেখে দরজার কাছে মুখ নিয়ে আনতারা বলে,
— ইফরাদ, আমার ভুল হয়েছে। আমি আর কখনো বেয়াদবি করবো না। যদি করি, আপনি আমার মাথাটা কেটে ফেলে দিবেন।
শেষ কথাটা বলতে গিয়ে আনতারার অদ্ভুতভাবে হাসি পেয়ে গেল। কথাগুলো তার কাছে শিশুসুলভ লাগছিল।
কিছু সেকেন্ড পর দরজা খুলে দেয় ইফরাদ। তারপর আনতারার দিকে তাকিয়ে বলে,
— মনে আছে, সন্ধ্যায় আমার রুমেই আমাকে কত ফর্মালিটি করে ঢুকতে হয়েছিল?
আনতারা আস্তে করে বিরবির করে বলে,
— আস্ত খবিশ।
ইফরাদ নেশার ঘোরেই তার হাত ধরে জিজ্ঞেস করে,
— কী বললে?
আনতারা হাত ছাড়িয়ে নিতে নিতে বিস্মিত গলায় বলে,
— ছাড়ুন ইফরাদ! হারাম পানীয় খেয়ে এসেছেন! যদি হারাম পানির একটু ছিটেফোঁটা আমার শরীরে লাগে, তাহলে এখনই গোসল করতে হবে।
ইফরাদ হাত ছাড়প না। বরং আরও কাছে ঝুঁকে বাকা হেসে বলে,
— যদি না ছাড়ি? কিছু করি আমি? তাহলেও তো গোসল করতে হবে এই রাতে।
আনতারা ঘাবড়ে গিয়ে বলে,
— কী বলছেন, ইফরাদ? পাগল হয়েছেন?
ইফরাদ আরও ঝুঁকে এসে তাদের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে বলে,
— মিথ্যে বলছি না, মাই জানা!
এবার আনতারা জোরে জোরে হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করতে লাগল,
— ছাড়ুন, ইফরাদ! আপনি নেশা করে আছেন! নিজের মধ্যে নেই!
হঠাৎই ইফরাদ আনতারার হাত জোরে ধাক্কা মেরে ছেড়ে দেয়। তারপর সরে গিয়ে জোরে হাসতে শুরু করে।
— তুমি কী ভেবেছো? নেশা করেছি বলে মেয়ে দেখলেই গলে যাবো? নিজের হুশে থাকবো না? আমি নেশা করলেও নিজের ওপর কন্ট্রোল আছে! তোমার মতো মেয়েদের দেখে আমি গলে যাই না!
একটু থেমে ইফরাদ ধপাস করে বেডে শুয়ে পড়ে। তারপর তাচ্ছিল্যের সুরে বলে,
রুহআবিষ্ট তুমি পর্ব ৬
— আর আরেকটা কথা, তুমি কোনো মাধুর্যবতী সুন্দরীও না যে ইফরাদ রিদান চৌধুরী সবকিছু ভুলে তোমার রূপে গলে তোমাকে বউ হিসেবে মেনে কাছে টেনে নেবে! তাই এসব ভুলভাল বিলাসবহুল চিন্তা মাথায় এনো না।
