রোদ্দুর এবং তুমি পর্ব ২১
ফারহানা চৌধুরী
-“অ্যাঁই অরু?”
অরু তাকালো,
-“হ্যাঁ?”
-“তুমি কি প্রেম করছো?”
হঠাৎ প্রশ্নে বিব্রত বোধ করলো অরু,
-“কেন?”
-“এভাবেই জিজ্ঞেস করলাম। বলো না!”
অরু মুচকি হাসে,
-“আ’ম মেরিড।”
-“কি?”
এরিনা হতবাক হয়ে চাইলো। অরু ঠোঁট চেপে তাকালে এরিনা নিজেকে সামলে ঠিক করে বসে,
-“তুমি মজা করছো?”
-“এমা! মজা করার কি হলো?”
-“তুমি সত্যি সত্যি মেরিড?”
-“মিথ্যা মিথ্যাও হয় বুঝি?”
-“ওহ হো, মজা করো না।”
অরু হাসে,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
-“আচ্ছা।”
-“এবার বলো।”
-“আরে বাবা, আমি সত্যিই মেরিড।”
এরিনার হতভম্ব ভাব কাটে না,
-“এইটুকুন একটা মেয়ে, বিয়ে করে নিলে? আশ্চর্য!”
অরু ভোঁতা মুখে চাইলো,
-“করে নিলাম।”
এরিনা এবার হাসিমুখে তাকালো। তার চেয়ার টেনে কৌতুহল নিয়ে প্রশ্ন করে,
-“তোমার হাজবেন্ড কে গো? ট্রিট দাও আগে আমায়। না, তার আগে ছবি দেখাও।”
অরু জোরপূর্বক হাসে,
-“ছবি নেই তো।”
-“তোমার বর, অথচ ছবি নেই তোমার কাছে? এটা কেমন কথা?”
-“সত্যিই নেই৷ তোলা হয়নি কখনো।”
এরিনা বিড়বিড় করে বলল,
-“হাজবেন্ডের পিকচার ওয়াইফের কাছে নেই? অদ্ভুত!”
-“হ্যালো অরুনিকা। হাউ আর ইয়্যু?”
অরু অফিস থেকে বের হয়ে হয়েছিলো লাঞ্চ আওয়ারে। তন্মধ্যেই নিকোলাস পাশে এসে দাঁড়ালো। লোকটার হাসিহাসি মুখমণ্ডল নজর কাঁড়তেই অরু কোনোমতে ঠোঁটে হাসি রেখা টানলো। পলক ঝাপটে সৌজন্য হেসে বলল,
-“আ-আ’ম ওয়েল। হোয়াট এবাউট ইয়্যু?”
প্রশ্রয় পেয়ে হাসি দীর্ঘ হলো নিকোলাসের। অরুর প্রশ্নের প্রত্যুত্তর করলো বড্ড খুশি মনে,
-“আ’ম অলসো ফাইন। লাঞ্চ করেছো?”
অরু মাথা নাড়ালো। নিকোলাস সুযোগ বুঝে প্রস্তাব রাখলো,
-“ইফ ইয়্যু ডোন্ট মাইন্ড, লেটস্ হ্যাভ লাঞ্চ টুগেদার?”
অরু ইতস্তত বোধ করলো। ভেবেচিন্তে বলল,
-“ঠিকাছে৷ তবে, এরিনাকেও ডাকি?”
নিকোলাস তার প্রথম বাক্য শুনেই লাফাতে গিয়েও লাফায় না। সুন্দর করে হেসে বললো,
-“এরিনাকে দেখলাম ও লাঞ্চ করছে। শুধু শুধু ডিস্টার্ব না করি। আমরাই যাই। পাশে একটা ভালো রেস্টুরেন্ট আছে। ওখানে যাই?”
অরু হাসলো,
-“আচ্ছা।”
রেস্টুরেন্টের পরিবেশ মন কেঁড়ে নিতে পারবে ক্ষনিকেই। আশপাশটা সব নজরে পড়ার মতোন। অরুকে নিয়ে নিকোলাস এক কোণ বেছে বসলো। পাশে কাঁচ। বাইরে থেকে ভেতরটা যমন স্বচ্ছ দেখা যাচ্ছে, ভেতর থেকেও বাইরে সবটাই দেখা যাচ্ছে।
নিকোলাস নিজেদের জন্য খাবার অর্ডার করে অরুর দিকে চাইলো। নিজের মতোন একেক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে রইলো অরুকে। অরু সানন্দেই প্রত্যুত্তর করলো। কখনো গম্ভীর মুখে, কখনো হেসে। বেচারি বুঝলোও না তাকে কেউ দূর থেকে বড্ড জহুরি চোখে পর্যবেক্ষণ করছে। বর্তমানে যার আগুনে ঝলসে দেওয়া রাগের কারণ তার এই হাসা-হাসি।
শুভ্র চোখ সরায়। দাঁত পিঁষে হাত মুষ্টিমেয় করলো। অভিক তার এমন কাজের কারণ বুঝলো না। সে কপাল কুঁচকালো,
-“কি হয়েছে?”
-“কিছু না।”
শুভ্রর শান্ত স্বরের প্রত্যুত্তর। অভিক তার নিরেট মুখবিবরের দিকে চেয়ে তপ্ত শ্বাস ফেললো। একরাশ হতাশায় জর্জরিত হয়ে বলল,
-“কিছু না হলে, ‘তোর বৌ নিয়ে অন্য লোক ভেগে যাচ্ছে’ এমন টাইপ মুখ করে আছিস কেন?”
লোকটা আগুন চোখে চাইলো। টেবিলে ঝুঁকে এসে, রীতিমতো ধমকের সুরে বলল,
-“ইয়্যু নো হোয়াট? ইয়্যু বেটার শাট ইয়্যুর মাউথ। ইডিয়েট!”
অভিক ত্রস্ত পিছিয়ে গেলো৷ হতভম্ব হয়ে আহত ভঙ্গিতে বলল,
-“আমি তোর বৌ নিয়ে পালাচ্ছি না। তুই এমন টিকটিকির মতো ব্যবহার করছিস কেন? বি রেসপেক্টফুল টু মি! অপমান করিস কেন?”
-“তোর রেসপেক্ট তুই ধুঁয়ে খা। বাসায় একটাকে সহ্য করতে হয়, বাইরে আরেকটাকে৷”
-“বাইরে আরেকটা মানে? এই, এই! তুই ভাই চিট করতেছিস অরুকে? হোয়াট দ্য হেল!”
শুভ্র চটে গেলো এবার প্রচন্ড। দাঁত কিড়মিড় করে বলল,
-“আই সয়্যার অভিক, তুই যদি আর একবারও বাজে কথা বলিস; তোকে আমি রাস্তায় ছুঁড়ে মারবো।”
অভিক আহত হলো,
-“এভাবে বললি! দেখিস, তোর বৌ তোকে সারাক্ষণ ধমকের উপর রাখবে। মিলিয়ে নিস।”
শুভ্র কপাল চাপড়ালো। নিজেকেই পাগল মনে হচ্ছে তার রীতিমতো। মুখ হাতের তালুতে গুঁজে তপ্ত শ্বাস ফেললো। চোখ ঘুরিয়ে তাকালো সামনের দিকে চেয়ারে বসা মেয়েটার দিকে। তাকাতেই রাগে ফুঁসে উঠলো সে। আদিখ্যেতা দেখো! শুভ্রর গা জ্বলে গেল যেন। মুখ ফিরিয়ে বিড়বিড় করলো,
-“আমার সঙ্গে কথা বলতে এলে তো, পেটে বোমা পড়লেও হাসে না। এখন সব হাসি যেন উপচে পড়ছে। যত্তসব, আদিখ্যেতা!”
এরিনা বসেছিলো ডেস্কে। কাজের চাপ রয়েছে আজ। এদিক-ওদিক তাকানোর ফুরসতটুকুনও নেই। তবে এরিনা বসে। কাজ এগোচ্ছে না তার। কেমন থম মেরে বসে আছে। মাথা কাজ করছে না। অসহ্য রকমের অস্বস্তি হচ্ছে। তার কারণ… জানা নেই।
-“এরিনা?”
পুরুষালী কন্ঠস্বর শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে আঘাত হানতেই এরিনা নড়েচড়ে উঠলো। গা এলিয়ে বসে থাকা থেকে উঠে সোজা হয়ে বসলো। ঘাড় ঘুরিয়ে একবার চেয়ে দেখে নিলো আগুন্তককে। পরপর সামনে ফিরে কি-বোর্ডে দক্ষ হাত বুলিয়ে, কাজে নিজেকে ভীষণ রকমের ব্যস্ত দেখানোর ব্যর্থ প্রচেষ্টায় মত্ত হয়ে প্রত্যুত্তর করলো,
-“হু? কিছু বলবেন?”
শান্ত, আগ্রহহীন স্বরে নিকোলাস ইতস্তত বোধ করলো। অস্বস্তিতে জড়িয়ে ছেলেটা বলার মতোন কিছুই খুঁজে পেলো না। কি বলতে এসেছিলো, সেটাও গুলিয়ে ফেলেছে ততক্ষণে। তাকে চুপ থাকতে দেখে এরিনা আড় চোখে তাকালো। চোখ সরিয়েই আবার কাজে ধ্যান বসালো। নিকোলাস ধীর স্বরে জানতে চাইলো,
-“এনিথিং রং? তুমি ঠিক আছো?”
-“আ’ম ফাইন অফকোর্স। কি হবে আমার?”
নিকোলাস অস্বস্তিতে পড়ে গেলো,
-“তোমাকে ডিস্টার্বড লাগছিলো। তাই জিজ্ঞেস করলাম।”
হাস্যহীন জবাব এলো,
-“ওহ।”
নিকোলাস কথা এগোনোর কোনো সুযোগ পেল না। এরিনা কম্পিউটারে হাত রেখেই জিজ্ঞেস করলো,
রোদ্দুর এবং তুমি পর্ব ২০
-“কিছু বলবেন?”
নিকোলাস নিঃশ্বাস ফেলে বলল,
-“অফিস শেষে ফ্রী আছো?”
মেয়েটার চলন্ত হাত ওখানেই থেমে গেলো। হতভম্ব হয়ে পড়লো সে।
