Home রৌদ্রময় বালুচর রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ১১

রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ১১

রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ১১
সোহানা ইসলাম

এই ভরদুপুর বেলা বড় মাঠে একা হাঁটছে জারা। হঠাৎ করে কারো গলা শুনে পা থেমে যায় তার। তাকে কেউ একজন ডাকছে..?? কিন্তু কে ডাকছে বোঝাতে পারছে না সে। তাই দাড়িয়ে থেকে অপেক্ষা করছে ডাকের জন্য। যদি আবার তাকে কেউ ডাকে, ‘ হয় তো গলা শুনে চিনতে পারবে কে সেই ব্যাক্তি।
“এই হাফ ইঞ্চি মেয়ে এদিকে এসো। ওখানে দাঁড়িয়ে আছো কেনো তুমি.??
” এবার গলা শুনে ঠিক বোঝতে পারছে তাকে কে ডাকছে। কিন্তু তাকে কেনো ঐ খারাপ লোকটা ডাকছে..? খারাপ কোনো উদ্দেশ্য নেই তো এই লোকের…?? কি, করবে সে এখন একা একজন মেয়ে হয়ে..?? এই লোকটা তার পিছনে কেনো পরে আছে..?? মনে মনে হাজার ও কথা চিন্তা করে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকে এক জায়গায়।
“জারা কে ডাকার পরও আসতে না দেখে আরমান নিজেই তার কাছে চলে আসে।”
আরমানের উপস্থিতি বোঝতে পেরে হাতে থাকা ছাতা’টা আরও শক্ত করে চেপে ধরে জারা। মনে সাহস সঞ্চয় করছে সে। তাকে কিছু বলতে বা কোনো ক্ষতি করতে আসলে লোক টাকে ইচ্ছে মতো দিবে হাতের ছাতা’টা দিয়ে।
“এই মেয়ে তোমাকে ডাকছি শুনতে পারছো না আমার কথা। না-কি শুনে ও না শুনার মতো দাড়িয়ে আছো কোন টা..??

——- নিশ্চুপ ——-
” কথা বলছো না কেনো..?? তোমার সাথে আমার কিছু দরকার আছে, এদিকে এসো। কাম ফাস্ট…!!
——— এবার কোনো কথার উত্তর আসে না জারা’র কাছ থেকে — বিরক্ত টা এখন রাগে পরিনত হয় আরমানের। মেয়ে টাকে সে সুন্দর ভাবে ডাকছে কিন্তু তার কথার কোনো উত্তর দিচ্ছে না। তাই জারার দিকে আর একটু এগিয়ে এসে বলে…..
— এই হাফ ইঞ্চি মেয়ে, কানে শু*……লাগিয়ে দিয়েছে একটা।
— আরমানকে তার দিকে আসতে দেখে হাতের ছাতা দিয়ে একবারি মারে তার মাথায়। বারি মেরে আর দাঁড়ায় না সেখানে জারা। দৌড়ে পালিয়ে আসতে গেলে তার হাতে টান পরে কিছু একটার।
” আরমানের এবার রাগ আকাশ ছোঁয়ার অবস্থা। এই মেয়ের সমস্যা কী,, ” সে ঠিক মতো কিছু বলতেই পারে না, তার আগেই তার গায়ে হাত তুলে ফেলছে যখন তখন। খোলা ছাতা হওয়ার কারণে বেশি ব্যথা লাগেনি আরমানের। জারার হাত শক্ত করে চেপে ধরে বলে…..
” বা* এর মা’ই’য়া..!! সমস্যা কী তোর.?? ভালো ভাবে কথা বলতে এসেছিলাম তোর সাথে আমি। আর তুই আমার গায়ে হাত তুলছিস। এই টুকু মেয়ে হয়ে নিজের থেকে বড় মানুষের গায়ে হাত তুলতে লজ্জা করে না। তুই জানিস আমি কে..??

” আরমানের হুংকার শুনে ভয়ে কান্না করে দেয় জারা। আরমানের কাছ থেকে হাত ছাড়ানোর জন্য মোচড়ামুচড়ি করছে। কিন্তু পারছে শক্ত করে ধরার কারণে।
” এই পর্যন্ত যতবার তোর সাথে দেখা হয়েছে আমার ঠিক ততো বার আমার গায়ে হাত তুলেছিস তুই। এখন বল তোকে কী করা উচিত…?? তোর এই হাত আমি কেঁটে ফেলি কেউ দেখবে না এখানে। আয় আমার সাথে তুই…!!
” জারা এবার সত্যি অনেক ভয় পেয়ে যায়। তার হাত কেঁটে ফেলার কথা বলছে এই লোকটা। আবার নিজের উপর রাগও হচ্ছে, কেনো সে লোকটাকে মারতে গেলো..?? রাগে দুঃখে হা’উ’মা’উ করে কান্না করে দেয় জারা। কান্না করার ফলে হেঁচকি তুলছে বার বার। নাক টানতে টানতে বলে….
” আমার হাত কাঁটবেন না দয়া করে। আমি আর আপনাকে মারব না। সত্যি বলছি,, পাক্কা প্রমিজ। ছেড়ে দিন এবারের মতো আমায়।”
” তোকে আর ছাড়ব না আমি। অনেক বার সুযোগ দিয়েছি তোকে। মেয়ে মানুষের ভিতরে আসলে অনেক পেঁচ থাকে। সব কিছু কে নেগেটিভ ভাবে। ভালো বললে আর বোঝবি না তুই,, এবার তোর হাত কেঁটে গলায় ঝুলিয়ে দিব আমি। ”

— জারা কে টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে নিজের সাথে আরমান। রাগ তার মাথা ফেটে যাচ্ছে। এই হাফ ইঞ্চি মেয়ে তাকে বার বার গায়ে হাত তুলছে কোনো কারণ ছাড়া। আজ একটা শিক্ষা দিয়েই ছাড়বে সে তাকে।
— জারা দেখে আরমান তাকে মাঠের একটা ছোট ঘরের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কলিজা কেঁপে ওঠে তার। এই ঘরে নিয়ে তার হাত কেটে ফেলবে লোকটা। ভয়ে এদিকে সেদিকে তাঁকাচ্ছে, যদি কাউকে দেখতে পায় তো চিৎকার করবে সে। কিন্তু ভাগ্য খারাপ তার,, একটা লোক তো দূরে থাক একটা কুকুরও নেই আশে পাশে। এখন সে নিজেই নিজের উপর নির্ভর। তাকে এই লোকটার কাছে থেকে যে করেই হোক বাঁচতে হবে।
আরমান জারাকে নিয়ে এসে থামে ছোট ঘরটার সামনে। ঘরে দরজা আটকানো। আরমান যখন ঘরের দরজা খুলায় মনোযোগী হয়,, তার সুযোগ টাই কাজে লাগায় জারা। আরমানের হাতে জোরে কাঁমড় দিয়ে দাঁত বসিয়ে ফেলে সে। হাতের ব্যথায় জারা’কে ধাক্কা দিয়ে ধূরে সরিয়ে দেয় আরমান। হাতের দিকে তাকিয়ে দেখে কাঁমড়ের জায়গা থেকে রক্ত পরছে তার। জারা আরমানের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে একছোট্টে চলে আসে গেইটের সামনে। আবারও মাঠ দিয়ে গেলে দেখা যাবে তাকে আবার এই শয়তান লোক টা ধরে ফেলবে।
গেইটের সামনে এসে জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে থাকে জারা। এদিকে মানুষ দেখা যাচ্ছে,, ভয়ের কিছু নেই। লোকটা তাকে কিছু করতে আসলে জনগণের হাতে মার খাওয়াবে সে।
নিজেকে কিছু টা স্বাভাবিক করে আরমানকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকে…..

“- শা*লা ব’দ’মা’ই’শ আমার হাত কাটবি তুই। তোর হাতে কেটে গলায় ঝুলিয়ে দিব এবার আমি।শুনেছি এই মাঠের মালিক এসেছে। তার কাছে তোর নামে নালিশ করব আমি। এই মাঠে যেনো তোদের মতো লু’চ্চা, ব’দ’মা’ই’শ লোক আর না ডুকতে পারে,এই ব্যবস্থাই করব। এই মাঠের মালিকে দিয়ে তোকে জেলের ভাত খাওয়াব আমি দেখেনিস।
” মাঠ থেকে বের হয়ে গেইটে লাগানো বোর্ড থেকে মাঠের মালিকের নাম্বার টা তুলে নেয় মোবাইলে তাড়াতাড়ি করে। (ইমার্জেন্সি সমস্যার হলে যেনো যোগাযোগ করতে পারে তাই এই গেইটের সামনে মালিকের পরিচয় সহ ফোন নাম্বার দেওয়া ছিলো আগে থেকে। তাই নাম্বার নিতে বেশি সমস্যা হয় নি জারার ]
বড় বড় পা ফেলে হেঁটে বাড়ি চলে আসে জারা। ভয়ে এখনো তার হাত পা কাঁপছে। কাঁধের ব্যাগ সোফায় রেখে ফ্রিজ খুলে ঠান্ডা পানি খেয়ে নেয় জারা। কিছু টা সময় জিরিয়ে নিয়ে চলে আসে নিজের রুমে। ঘামে ভেজা কলেজ ড্রেস নিয়েই ঘুমিয়ে পরে সে।

জারা’র কথায় আরমান হ্যাং হয়ে দাড়িয়ে আছে ঠাঁই জায়গায়। এই হাফ ইঞ্চি মেয়ে তাকে কি বলে গেলো এসব। তাকে শা*লা বলে গালি দিলো ভাবা যায় এসব..?? এই মেয়েকে সে কতোই না সহজসরল, ” বোলা বালা, সাধুসন্ন্যাসী ভেবে ছিলো। তাহলে কী এই মেয়েকে এমন সহজসরল হবে ভুল করছে। হাতের ব্যাথায় আর কিছু ভাবতে পারলো না সে। হাতে দাঁত বসিয়ে দিয়েছে একেবারে। রক্ত পরার জায়গায় নিজের অন্য হাত দিয়ে চেপে ধরে
হাঁটা ধরলো বাড়ির দিকে। দুই মিনিটের মাথায় পৌঁছে ও গেলো সে।
“দুপুরে খাওয়ার জন্য সবাই বারান্দায় বসে ছিল। আরমান আসলে এক সাথে খাবে সবাই। কিন্তু আরমানকে এমন এলোমেলো অবস্থা দেখে সবাই চমকে উঠে। আরমানের এক হাতে দিয়ে রক্ত পরছে। বড় ভাইয়ে এমন অবস্থা দেখে জিনিয়া বসা থেকে উঠে এসে দাঁড়ায়। ভাইয়ের রক্তমাখা হাত ধরে জিজ্ঞেস করে….
” ভাইয়া তোমার এমন অবস্থা হলো কীভাবে…?? হাত থেকে রক্ত পরছে কেনো তোমার …??
” কিছু হয় নি আমার, ঠিক আছি আমি। বেন্ডেজ করার মতো কিছু থাকলে নিয়া যাহ।
–·ভাইয়ের কথা মতো চলে যায় বেন্ডেজ করার জিনিসপএ গুলো আনতে জিনিয়া।
” রোহান :- দোস্ত তোর এই অবস্থা হলো কী ভাবে..? কারো সাথে ঝামেলা হয়েছিলো না-কি… ?? তাহলে আমাদের ফোন দিসনি কেনো..?? ঐ বা’ন্দি’র বাচ্চাদের সেখানেই পুঁতে রেখে আসতাম।
” জাহেদ :- হ্যাঁ ভাইয়া, তুমি একবার আমাদের ফোন করতে পারতে। দেখতো নিজের কী অবস্থা করে এসেছো তুমি..???

” আরমান :- হ্যাঁ, ঝামেলা হয়েছিলো।
” রোহান :- কার সাথে ঝামেলা হয়েছে..?? তুই চিনি বা’ন্দি’র বাচ্চাদের কে..?? আমার রাগ হচ্ছে খুব, মন চাচ্ছে সব কটাকে মেরে পুঁতে রেখে আসি কবরে,, যারা তোর এই অবস্থা করেছে।
আরমান এবার গম্ভীর কণ্ঠে বলে….
— হুম চিনি তাকে..!! তোদের ভাবির সাথে ঝামেলা হয়েছে। এখন কী করবি তোরা,,তাকে ..??পুঁতে রেখে আসবি? কবরে পাঠাবি তাকে এখন.. ..?
“আরমানের কথা শুনে রোহান আর জাহেদ দুইজনই একসাথে মূর্তির মতো দাড়িয়ে আছে। আরমান এইটুকু মেয়ের হাতে মার খেয়ে এসেছে।
আশ্চর্যের চরম পর্যায় পৌঁছে যায় তারা ”
” রোহান :- কী বললি তুই..?? ঐ মেয়ের “”… না, মানে ভাবির হাতে মার খেয়ে এসেছি তুই..??
” জাহেদ :- তার মানে তোমার এই অবস্থা ঐ মেয়ে…. দূর বা*ল..!! তোমার এই অবস্থা ভাবি করেছে…??
“‘ আরমান ভোঁতা মুখ করে উত্তর দেয়.” একবার বলেছি শুনতে পাসনি? নাকি মাইক দিয়ে বলতে হবে এখন? ‘”

— রোহান আর জাহেদ আরমানের ভোঁতা মুখ দেখে হো ‘ হা ‘ হা করে হেঁসেই ফেলে। কি যে আনন্দ লাগছে তাদের । যে তাদের কথায় কথায় পেঁচ ধরে অপমান করে,, সে মানুষ ও আজ একটা মেয়ের হাতে মার খেয়ে এসেছে।
” জাহেদ :- মানতে হবে আমাদের ভাবির পাওয়ার আছে। ঠিক মানুষকেই আমাদের ভাবি বানিয়েছো তুমি । ভাবি কে ভাবি মানতে আর কোনো অসুবিধে নেই আমাদের। ধন্যবাদ ভাইয়া…!!
” রোহান :- ঠিক বলেছিস তুই। আমাদের আরমানকে একেবারে নাকানি-চুবানি খাইয়ে ছেড়ে’ছে। একদম ঠিক মানুষে চোস করেছে সে। একেই বলে রতনে রতন চিনে..!! বলে আবারও হাসতে থাকে দুইজন মিলে।
তাদের কথার মাজে সেখানে এসে উপস্থিত হয় জিনিয়া। ঔষধ, মলম সব একবারে নিয়ে চলে এসেছে। রোহান ও জাহেদ কে এমন হাসতে দেখে জিজ্ঞেস করে…..
“–– কী হয়েছে..?? তোমরা এমন করে হাসছো কেনো…?? ভাইয়ার এই অবস্থা দেখে তোমাদের হাসি পাচ্ছে…??

— জিনিয়ার কথার কোনো রুপ প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে চলে আসে সেখান থেকে রোহান। —
” রোহান কে এভাবে চলে যেতে দেখে মনে তীব্র ব্যাথা অনুভব করে জিনিয়া। সে তো আজ নিজে থেকেই কথা বলতে চেয়েছে তার সাথে, তাহলে এমন ভাবে চলে গেলো কেনো…?? বুক পিঞ্জরে চিনচিন ব্যাথা নিয়েই,, ঠোঁটের কোণে মিথ্যা হাসি নিয়ে বড় ভাইকে হাতে মলম লাগিয়ে বেন্ডেজ করে দেয়।
আজ চার হলো কেউ কারো সাথে কথা বলে না।
তাই তো জিনিয়া নিজে তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করলো ছোঁত ধরে। কিন্তু কথার উত্তর না দিয়ে চলে গেলে।তার যে কষ্ট হয় লোকটা কি বোঝে না। আচ্ছা, তার সেইদিনের কথায় এতো কষ্টই পেয়েছে মানুষ টা।

যে কারণ এমন করে অবহেলিত পাতায় রেখে দিয়েছে তাকে এখন । এসব নিয়ে ভেবে নিজেই নিজের ভাব’নাকে ধীক্ষা যাচ্ছে জিনিয়া। সে তো আর মানুষ টা কে বলে’ নি সে তাকে ভালোবাসে। এখন সে তার সাথে কথা বললেই কী আর না বললেই কী…?? তার দেওয়া অপমানের কারণেই তো এখন রোহান
তার সাথে কথা বলে না। তারই তো সব দোষ..!!
— দুপুর ঘড়িয়ে সন্ধা হয়ে আসছে প্রায় । ৫: ৪৮ বাজে। কলেজ থেকে এসেই যে দুপুরে ঘুমিয়েছে জারা সেই ঘুম থেকে মাএ উঠলো সে। উঠে ফ্রেশ না নেয়। গোসল সেরে পাতলা সুতি সেলোয়ার-কামিজ পরে নেয়। ড্রইং রুমে এসে কোনো রকম খাবার টা খেয়ে আবার রুমে চলে আসে জারা। রুমে এসে এক থেকে দেড় ঘন্টা পড়ে। পড়ার টেবিল সুন্দর করে গুছিয়ে রেখে বিছানায় এসে সুয়ে পরে জারা।
দুপুরের সব ঘটনা কখন বলবে তার দুই বান্ধবী’কে তার জন্য মন আনচান আনচান করছে। তাই ফোন দেয় তার দুই বান্ধবী কে।

” জারা.. মিম আর ফিহা কে দুপুরের ঘটনা এক এক করে সব খুলে বলে। জারা মুখ থেকে এমন সাংঘাতিক কথা শুনে পিলে চমকে উঠে দুইজনের।
” ফিহা :- জানু তুই ঠিক আছি তো..?? লোকটা তোর কোনো ক্ষতি করতে পারেনি তো..??
” মিম :- হ্যাঁ জানু বল, লোক টা তোর কোনো ক্ষতি করেনি তো…?? আমাদের কাছে কিছু লোকাস না কিন্তু…??
” জারা :- না লোকটা আমার কোনো ক্ষতি করে পারেনি,, আমি কামড় দিয়ে পালিয়ে এসেছি।
” মিম :- এই শয়তান লোক টার একটা ব্যবস্থা করতে হবে। অনেক বার বেড়েছে লোকটা।
” ফিহা :- ভিনদেশি হয়ে আমাদের গ্রামে
ব’ দ’মা’ই’শি করতে এসেছে। এটাকে একটা শিক্ষা দিতে হবে।
” জারা :- আমি মাঠের মালিকের ফোন নাম্বার নিয়ে এসেছি,,ভাবছি এই ঘটনাটা জানিয়ে রাখব একবার।
” মিম :- শুনেছি বড় মাঠের মালিক নাকি এখানে এসেছে। ব্যাপার টা জানিয়ে রাখলে মন্দ হয় না।
” ফিহা :- আচ্ছা জানু,, তুই তাহলে ফোন করে কথা বল দেখ কী বলে…?? কথা বলে আমাদের আবার জানাতে ভুলিস না কিন্তু। রাখছি এখন।
❝ আল্লাহ হাফেজ ❞

জারা মোবাইল হাতে নিয়ে বসে আছে। ফোন করার সাহস পাচ্ছে না । এতো বড় মাপের মানুষ কী তার ফোন ধরবে…?? ফোন দিবে দিবে করেও দিচ্ছে না সে। কিন্তু বিষয় টা জানানো৷ খুব দরকার। তাই মোবাইল টা নিয়ে এবার সাহস করে কল ঢুকিয়েই ফেলে জারা।
‘ রিং হচ্ছে। এখন কলটা ধরলেই হয়। কিন্তু কেউ ফোন টা তুলছে না। কয়েক বার দেওয়ার পর শুধু রিং হতে হতে কেটে যাচ্ছে বার বার।
” এবার বিরক্ত লাগছে জারার। এতো বার ফোন দিলো একবার ধরে কী ক্ষতি হয়। কলটা রিসিভ করলে কি তার জাত যাবে না কি…?? মানলো তারা বড়লোক মানুষ, তাই বলে ফোন ও ধরবে না..??
আর একবার ফোন দিবে যদি ধরে তো ভালো তার নয়তো আর ফোন দিবে না সে। মনে মনে কথা গুলো ভেবে আবারও কল করে….

রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ১০

” অনেক ক্ষন যাবত মোবাইল বাজতে দেখে বিরক্তে কপাল কুঁচকে যায় আরমানের। মোবাইল টা হাতে নিয়ে দেখে একটা আননোর নাম্বার থেকে কল আসছে। আননোর নাম্বার দেখে আর কল বেক করল না। হাত থেকে মোবাইল টা রাখতে যাবে এমন সময় আবার কল বেজে ওঠে।
ধরবে না ধরবে না করেও কি মনে করে যেনো কল টা রিসিভ করে মোবাইল টা কানে ধরে আরমান।
” মোবাইল কানে ধরতেই ওপাশ থেকে মধুর কেন্ঠ বেসে আসে মিষ্টি এক সালাম —–
” আসসালামু আলাইকুম ”

রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ১২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here