Home লাভ বাই দ্যা ভিলেন লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ১০

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ১০

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ১০
লিজা মনি

সকালের আকাশে হ্রস্ব ও দীর্ঘস্থায়ী আলো একত্রিত হয়ে অর্ধচন্দ্রাকৃতির হালকা রশ্মির মতো নগরের প্রতিটি কোণ ও ছাদে অনিবার্যভাবে বিস্তৃত হচ্ছে। সকালের সৌন্দর্য কখনো নিখুঁতভাবে নির্মল নয় এর গভীরে লুকানো রহস্য ও অপ্রত্যাশিত অন্ধকার।
ভাইপার মেনশনের একটা বদ্ধ রুমে কালো পর্দাগুলো বাতাসে সামান্য দুল খাচ্ছে। রুমের মধ্যে আহত হয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে এনি। নিক এনির সামনে থাকা ডিভানে দুই হাত দুইপাশে রেখে বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে আছে। চিত্রা মাসি এনির কপালে বার বার জল পট্টি দিয়ে দিচ্ছে। জ্বরে গাঁ পুড়ে যাচ্ছে। এনি ঘুমের মধ্যেইও ফুঁপিয়ে উঠছে। শরীরের যন্ত্রনাদায়ক ব্যাথা দিয়ে যেন সে নিজের মৃত্যুকে দেখছে। পায়ের পাতাগুলো পুড়ে লাল হয়ে আছে। এনি যন্ত্রনায় ছটফট করছে। চিত্রা মাসি নিকের নিষ্ঠুরতা দেখে আর চুপ থাকতে পারে নি। ভেতরের ভয়টাকে নিয়েই আতঙ্কে আকুতি করে বলে,

” স.. স্যার মেয়েটা মরে যাবে যদি দ্রুত চিকিৎসা করানো না হয়। এইসব পুড়া, শরীরের ক্ষত স্থানগুলোতে ইনফেকশন হয়ে যাবে। কিছু করুন স্যার।
চিত্রা মাসি সামান্য কেঁদে ও উঠে। কিন্তু পুনরায় আবার ভয় করতে শুরু করে ভেতরে। তার আগ বাড়িয়ে কথা বলাটা নিয়ে স্যার এখন নিশ্চয় রেগে গিয়েছে। কিন্তু চিত্রার ভাবনা ভুল ছিলো। চিত্রা সামনে তাকিয়ে দেখে একটা মেয়ে ডাক্তার এসেছে। সাথে অধিরাজ ও রয়েছে। ডাক্তার ধীর পায়ে এসে এনির পাশে বসে। এনির এমন অবস্থা দেখে কিছুটা আৎকা উঠে। এনির মুখের দিকে তাকিয়ে স্তব্দ হয়ে যায়। নিজের স্তব্দতা কাটয়ে উঠতে না পেরে অন্য ঘোরে চলে যায়। এতটা সুন্দর কোনো মানুষ আদ’ও হয়। এইটা মেয়ে নাকি কোনো পরী! সৌন্দর্যের কারনে শরীরের প্রবাহিত রক্তগুলো ও যেন দৃশ্যমান। এত লাস্যময়ী কেনো এই নারী? ডাক্তারকে এক ধ্যনে এনির দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে নিক বিরক্তি নিয়ে অধিরাজের দিকে তাকিয়ে বলে,

” কাকে নিয়ে এসেছিস তুই? নারী রুপী কোনো পুরুষকে নিয়ে আসিস নি তো?
অধিরাজ থতমত খেয়ে যায়। মিসেস সানা অফ্রিকার একজন অনেক বড় বিজ্ঞ ডাক্তার। ছেলে হওয়ার কোনো চান্স নেই। উনার স্বামী – সন্তান সব আছে। সবাই চিনে উনাকে। তাই উনি মোটেও ছেলে নয়। অধিরাজ আত্নবিশ্বাস রেখে বলে,
” স্যার গঠন- পরিবার সব যাচাই করে তো মেয়েই দেখছি।
নিক রাগে কিড়মিড়িয়ে উঠে,
” যদি মেয়ে হয় তাহলে এইভাবে আরেকটা মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছে কেনো?
– ম্যাডামের দিকে কে তাকায় না স্যার? যে দেখে সেই তো তাকিয়ে থাকে।
অধিরাজ কথাটা বলে থামে। তবে মনে মনে আওড়ায়,
“উনি যদি আজ এত সুন্দর না হতেন তাহলে হয়ত তার জীবনটা অন্য রকম হত। এমন কোমল মেয়ের স্থান এত জঘন্য নরকে কখনো হত না। উনার কোমলতা, সৌন্দর্য আজ উনার জন্য অভিশাপ।
নিক ভ্রুঁ কিঞ্চিত কুচকে ফেলে রাগে থরথর করে কেঁপে উঠে শরীর। সবাই তাকিয়ে থাকে মানে? নিক গম্ভীর হয়ে এনির মুখটার দিকে তাকায়। কিছুক্ষনের মধ্যে একটা বক্রহাসি দিয়ে ঠোঁট বাঁকায়।
ডাক্তারকে এখনও এনির দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে নিজের ধৈর্য হারায়। সামনে থাকা ওয়াইনের গ্লাসটা চেপে ধরে ধমকে উঠে,

” ফা**! আর এক মুহূর্ত এই মুখের দিকে তাকালে চোখ তোলে নিয়ে আসব। ইউ আর গুফিং অ্যারাউন্ড হিয়ার ইনস্টেড অব ওয়ার্কিং।যার জন্য আনা হয়েছে সেটা দ্রুত করে দশ মিনিটের মধ্যে রুম ত্যাগ করবে।
নিকের ধমকে ডক্টর কেঁপে উঠে। নিজের হুশে আসতেই গলা শুকিয়ে আসে। নিক হাতের গ্লাসটাকে ভেঙ্গে দুরে ছুড়ে ফেলে দেয়। হাত দিয়ে সামান্য রক্ত ঝরলে টিস্যু পেপার দিয়ে নিজেই মুছে ফেলে। মহিলাটা এইসব দৃশ্য দেখে নিজের নিয়ন্ত্রন হারাতে শুরু করে। শরীর কাঁপছে ভীষনভাবে। নিজেকে নিজে কোনোরকম ধাতস্থ করে এনির পা গুলোর দিকে তাকায়। নিজের নাক- মুখ কুচকে চিত্রার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে,
” উনার এমন কিভাবে হয়েছে?
– জ্বলন্ত কয়লা লেগেছে।
নিকের কন্ঠ পেয়ে ডক্টর সেদিকে তাকায়। এরপর সাহস সঞ্চয় করে প্রশ্ন করে,
” কিভাবে হয়েছে এমন?
নিক ঘাড় কাৎ করে তাকায় ডক্টরের দিকে। ডক্টর ভয়ে আবার ও শিউরে উঠে। নিক নিজের দৃষ্টিতে রাগ মিশিয়ে বলে,

” বরফের উপর দিয়ে হাটছিলো। আর সেখান থেকেই জ্বলন্ত কয়লা লেগেছে।
নিকের এমন উদ্ভট উত্তরে অধিরাজ চোখ বড় বড় করে তাকায়। বরফের উপর কয়লা রাখলে সেটা কি আর জ্বলন্ত কয়লা থাকে! কয়লা নিজেও তো বরফের পরিনত হয়।
ডক্টর নিকের কথাটা বুঝতে না পেরে বলে,
” বরফের উপর জ্বলন্ত কয়লা রাখলে সেটা আর জ্বলন্ত থাকে নাকি?
নিক নিজের ধৈর্য হারিয়ে বলে,

” ডক্টর কি বাল পাকনামি করে হয়েছেন? যখন অন্যকে প্রশ্ন করবেন তখন নিজে কেনো এই বালের পেশা বেছে নিয়েছেন। দ্রুত নিজের কাজ করুন। আর একটা কথা বের হলে জবান বন্ধ করে ফেলব।
ডক্টর এমনিতেই ভয়ে কাঁপছিলো। এইবার নিকের এই পর পর ধমকে যে কোনো সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে। এনির পা টাকে দেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তার বুঝতে বাকি নেই এখানে নরকীয় কোনো ঘটানা ঘটেছে। এনির অবস্থা দেখে সব ভয় ভুলে তার প্রথম লক্ষ্য হয়ে উঠে ক্ষতস্থলকে স্থিতিশীলকরণ। সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং ব্যথানাশকের ব্যবস্থা করা। তিনি প্রতিটি ধাপকে এমন নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে সম্পাদন করেন যেন পুড়ে যাওয়া ত্বকের ক্ষতি সীমিত হয়।
সর্বপ্রথম, আক্রান্ত অংশের উপর জমে থাকা ধূলিকণা, কার্বন কণা বা দাহজাত পদার্থ সম্পূর্ণরূপে অপসারণ করা হয়। যা ক্ষতির গভীরতা বৃদ্ধি করতে পারে। এরপর ক্ষতস্থলকে নিখুঁত জীবাণুমুক্ত দ্রাবক দ্বারা ধুয়ে, প্রতিটি ফোসকা, ছায়ারেখা ও ত্বকের ভেতরের স্তর সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

ডাক্তার খুব যত্নে ক্ষতস্থলে অ্যান্টিসেপ্টিক প্রয়োগ করে। এনি ছটফট করছে। দুই হাত দিয়ে বিছানার চাঁদর খামছে ধরে আছে। চোখ দিয়ে ভেসে পড়ছে নোনা জল। এনি সহ্য করতে না পেরে সামান্য আর্তনাদ ও করে উঠে মাঝে মাঝে। চিত্রা মাসি নিজেও কাঁদছে। এনির হাতটাকে শক্ত ভাবে চেপে ধরে আছে। সবার ভিতরকেই নাড়িয়ে তুলছে এনির এমন নরকীয় অবস্থা।
কিন্তু… কিন্তু গ্যাংস্টার বস নিক জেভরানের কি এতে কিছু যায় আসে? উনার হৃদয় ও কাঁদছে? এনি তো এখন তার বিবাহিতা স্ত্রী। স্ত্রী হিসেবে না হোক একজন মানুষ হিসবে ও কি এনির এমন করুন আর্তনাদ তার ভিতর কাঁপিয়ে তুলছে না? উহুম কাঁপছে না। কারন উনার কোনো হৃদয়.. মায়া.. মমতা কিছুই নেই। তাই তো কেমন নিষ্ঠুর ভাবে বসে আছে। চোখে আরও বিরক্তি উপছে পড়ছে।
ডক্টর এনিকে শান্তনা দিয়ে বলে,

” হয়ে আসছে ম্যাডাম । আরেকটু সহ্য করে নিন।
ডক্টর সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎসকে চিহ্নিত করে। এবং প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক বা ব্যথানাশক ক্রিম ব্যবহার করে প্রদাহ ও তীব্র ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করেন। ক্ষত গভীর অনেক গভীর তাই তিনি ড্রেসিং বা আংশিক ত্বক প্রতিস্থাপন প্রয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। যেখানে ক্ষতস্থলকে স্থায়ীভাবে আচ্ছাদিত ও সুরক্ষিত রাখা হয়। প্রতিটি স্তর আলাদাভাবে দেখা হয়। উপরের লাল ফোলা অংশ, মধ্যস্তরের ধূসর বা সাদা ক্ষয়প্রাপ্ত অংশ, এবং নীচের স্থিতিশীল ত্বক, যাতে কোনো অংশ সংক্রমণ বা স্থায়ী ক্ষতি সৃষ্টি না করে।
তিনি কিছুক্ষন সময় নিয়ে ক্রমাগত এনির পায়ের রক্তসঞ্চার, তাপমাত্রা, ফোসকা অবস্থান ও ত্বকের স্থিতিশীলতা পর্যবেক্ষণ করেন। প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি ড্রেসিং পরিবর্তন, প্রতিটি ক্রিম প্রয়োগ সবই একটি সুক্ষ্ম পরিকল্পিত ক্রমে হয়।!
ডক্টর পায়ের ড্রসিং শেষে চিত্রার কাছে কয়েকটি মেডিসিন দিয়ে বলে,

” এইগুলো সময় মত ব্যবহার করবেন আর খাওয়াবেন। পুড়ে যাওয়া ত্বক দ্রুত আরোগ্য লাভ করবে। সাথে সংক্রমণ এড়াবে অতি দ্রুত। আর সর্বোচ্চ সম্ভব দাগবিহীন পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়। প্রয়োজন হলে আবারও ডাক্তারের শরনাপন্ন হবেন।
চিত্রা চোখ মুছে সম্মতি জানায়। ডক্টর এইবার এনির শরীরের ক্ষত দেখার জন্য কিছুটা ভয় নিয়ে বলে,
” উনার জামাটা খুলতে হবে। কারন উনার ক্ষত পিঠে।
নিক সামান্য তাকায় ডক্টরের দিকে। ডক্টর আমতা আমতা করে বলে,
” স্যার উনি আপনার ওয়াইফ আপনি থাকতেই পারেন। বাট আমি আপনার এসিস্টেন্ট কে বলছি।
— ওয়াইফ নয় রক্ষিতা! রক্ষিতা এই মেয়ে আমার। যা করার সামনেই করুন। ওদের আবার মান – সম্মান থাকে নাকি।

নিকের তাচ্ছিল্য আর তিরস্কার পূর্ন কথা এনির কর্নকুহরে প্রবেশ করতেই চোখ বন্ধ করে ফেলে। কলিজাটা যেন ছিঁড়ে যাচ্ছিলো। তবুও সে চুপচাপ থাকে মৃত লাশের মত। নিজের শরীর নিজের ওই ঘৃনায় গা গুলিয়ে উঠে।
ডাক্তারের ভেতরটা স্তব্দ হয়ে যায়। রক্ষিতা! তাও আবার এমন নিষ্পাপ মেয়ে! অধিরাজ নিকের ইশারা পেতেই রুম থেকে বেরিয়ে যায়। অধিরাজ চলে যেতেই ডাক্টর এনির জামায় টান দিতেই এনি হাত দিয়ে বাঁধা দেয়। আটকে দেয় ডক্টরের হাত। ক্ষতে পচন ধরে মরে যাবে তবুও এই জানোয়ারের সামনে ড্রেস খুলা যাবে না। এনি ছোট ছোট চোখ করে তাকায় ডক্টরের দিকে। ডক্টর এনির চোখের ভাষা বুঝে। তবে সে নিরুপায় হয়ে তাকিয়ে থাকে। তার ও কিছু করার নেই। সে গ্যাংস্টার বস নিক জেভরানকে হিসেব হীনভাবে ভয় পায়। এই মুহূর্তে সে নিজেও আতঙ্কে আছে। এনির বাঁধা তোয়াক্কা করে ধীর হাতে শর্টসটা খুলে ফেলে। এনি চোখ বন্ধ করে লজ্জায় দুই হাত দিয়ে আকড়ে ধরে নিজের শরীর। লজ্জায় আর ঘৃনায় চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে। শরীরে শক্তি নেই যে লড়াই করবে।

নিক আচমকা তাকায় এনির দিকে। কিছুক্ষন কপাল কুচকে তাকিয়ে থেকে সাথে সাথে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। ডিভান থেকে উঠে বেরিয়ে যায় রুম থেকে। নিককে যেতে দেখে ডক্টর শান্তির নিশ্বাস ফেলে। এতক্ষনে যেন জান ফিরে এসেছে। শ্বাস আটকে মরে যেত আর কিছুক্ষন থাকলে। তিনি এনির শরীরে ভালোভাবে স্ক্যান করেন কাচের ক্ষুদ্র টুকরো আছে কি না। সব ক্ষত পরিষ্কার করে মেডিসিন লাগিয়ে দেয়। এনির পুরো মুখ নীল হয়ে যাচ্ছে ব্যাথায়।
চিকিৎসা শেষ করে ডক্টর যাওয়ার আগে এনির দিকে তাকিয়ে বলে ,
‘ আপনার এতটা সুন্দর হওয়া উচিত হয় নি। সামান্য অসুন্দর হলে কি এমন ক্ষতি হত!
এনি শীতল চোখে তাকায় ডক্টরের দিকে। এনির চোখের নীল মনি তিনি এতক্ষনে খেয়াল করেন। কতটা লাস্যময়ী এই মেয়ে! তবে তিনি আর কিছু বলেন না। তপ্ত শ্বাস ফেলে বেরিয়ে যায়।
এনি ব্যাথাতুর নিস্তেজ শরীরটাকে বিছানায় এলিয়ে দেয়। চিত্রা নাক টেনে বলে,
” আপনি রেস্ট নিন মেডাম। আমি এখন’ই আসছি।

শহর: লুয়ান্ডা, আফ্রিকা
তারিখ: ২৮ আগস্ট, ২০১৩
লুয়ান্ডার নিস্তব্ধ রাতের অন্তরালে যখন শহরের প্রতিটি নিঃশ্বাস ঘন অন্ধকারে ঢেকে যায় তখন স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা প্রবেশ করে এক আবাসিক স্থাপনায়। এবং সেখানে তাদের চোখের সামনে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে এমন এক ভয়ঙ্কর পরিস্হিতি। যা নিঃশব্দ আতঙ্কের প্রতিচ্ছবি হয়ে দুলতে থাকে সবার মনে।একজন মাতার দেহ এবং তার দু’জন সন্তানের অচেতন দেহ। দেহখে গুলো রক্তাক্ত হয়ে ছড়ানো আছে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতায়। সময় নিজেই মৃত্যুর কাছে কৃতজ্ঞতাসহ হোঁচট খাচ্ছে।

নারীর মুখে বিরক্তি ও ভয় মিশ্রিত এক অর্ধখোলা দৃষ্টি। আর নিস্তেজ দেহে লুকিয়ে থাকা নিঃশ্বাসের অদৃশ্য খাঁজ বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। প্রত্যেকটি কোণ, প্রতিটি দেয়াল, প্রতিটি ছায়া স্থির হয়ে আছে মৃত্যুর বেদনাদায়ক প্রতিস্বরে। যারা জীবনের অল্পতম আলো ছোঁয়ার সুযোগ পায়নি বালিশের পাশে নিখুঁত শিথিলতায় পড়ে আছে শিশু দুইটার দেহ। দেহগুলো রক্তমাখা পরিবেশে তাদের কোমলত্ব অদ্ভুতভাবে প্রহরীহীন।
পুলিশের তদন্ত এখনও ধূসর রহস্যের অন্তরালে আটকে আছে। হত্যাকারীর পরিচয়, কার্যপ্রণালী, উদ্দেশ্য সবই তাদের জানা। BBC নিউজ চ্যানেলের সহকারীর পরিবার এরা। সহকারী ও কয়েকদিন আগে নিখোঁজ হয়েছেন। এখন আবার তার পরিবার! কে করছে এইসব? প্রতিটি পদক্ষেপে এমন নিখুঁত পরিকল্পনা লুকানো যা অভিজ্ঞতম গোয়েন্দাকেও হতবুদ্ধি করে দেয়। কোনো আলামত, কোনো আঙ্গিক, কোনো চিহ্ন সবই যেন অদৃশ্য হয়ে গেছে। একপ্রকার ধোঁয়ার আড়ালে মৃত্যুর নৃত্য চলছে।
প্রতিবেশীদের ফিসফিসভরা বিবৃতি,,

“এতো নিস্পাপ পরিবার, কে এভাবে নির্বিচারে মৃত্যুর হাতে তুলে দিতে পারে?
শহরের আবহকে আরো ভীতসন্ত্রস্ত করে তোলে। বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন,,
” হত্যাকারীরা এক প্রকার পেশাদারী নিখুঁততা নিয়ে কাজ করেছে। প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি ছায়া, প্রতিটি স্থিরতা নিয়ন্ত্রিত। হত্যাকাণ্ডটি যেন কেবল ভয়ের ক্যানভাসে আঁকা হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন,
“এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য অমোচনীয়. প্রতিটি ঘর, প্রতিটি কোণ, প্রতিটি আলমারির অন্তর্গত প্রতিটি সূক্ষ্ম দিক আমরা পরীক্ষা করছি। হত্যাকারীর পরিচয় আমাদের কাছে এখনো অজানা।
শহরের সেই অংশে আতঙ্ক, অস্থিরতা, নিঃশব্দ হাহাকার সব মিলিয়ে এক অমোচনীয় ছায়া বিস্তার করছে। যা প্রত্যেক প্রহরে নতুন ভয়ের জন্ম দিচ্ছে। মাতার মৃত্যু, শিশুদের নিঃশ্বাসহীন দেহ সবই শহরের ইতিহাসে অমোচনীয় কালো দাগ হয়ে থেকে যাচ্ছে। যার ছায়া দীর্ঘদিন পর্যন্ত এখানে প্রতিফলিত হবে।
তিন জন লাশ গুলোকেই পুলিশের তদন্তে নিয়ে আসা হয়। পুলিশ সুপার নিজের কেবিনে বসে গভীর চিন্তায় মগ্ন। হুট করে মাথায় কিছু একটা আসতেই অবাকতার সাথে সামনে তাকায়। এরপর পাশে থাকা একজন পুলিশকে আদেশ দিয়ে বলে,

” ল্যাবে যাব। গাড়ি বের করো দ্রুত। মহিলাটিকে আমার অতি পরিচিত মনে হচ্ছে। উনি আরও একবার এসেছিলেন আমার কাছে। চেহেরাটা খুব পরিচিত বোধ করছি। পুনরায় মহিলাটিকে দেখা যাক।
— ইয়েস স্যার।
পুলিশ সুপার সহ দুইজন পুলিশ মিলে বিশ মিনিটের ব্যবধানে ল্যাবে যায়।
— হাই Acp স্যার।
— হাই। একটা কাজে এসেছি। মহিলার মুখটাকে দেখাও তো পুনরায়।
— নিশ্চয়।
এরপর ডাক্তার মহিলার মুখের উপর থেকে কাপড় সরিয়ে দেয়। পুলিশ সুপার কিছুক্ষন তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে তাকিয়ে থাকে। এরপর মুহূর্তেই থমথমে খেয়ে যায়।
কিছুক্ষন নিরব থেকে পাশে থাকা পুলিশের উদ্দ্যশ্যে বলে,
” উনি তো BBC নিউজের প্রধান সহকারীর স্ত্রী, রাইট!
— জি স্যার।
— তোমার মনে আছে দুই দিন আগে একটা মহিলা এসেছিলো। আর উনার অভিযোগ উনার স্বামীকে কেউ খুন করেছে। আর সেটা হলো আন্ডারগ্রাউন্ড গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান! নিজের স্বামীর খুনের শাস্তি চাইতে এসেছিলো।
পুলিশ সুপারের প্রতিটা বয়ান শুনে বাকি পুলিশ দুইটার গলা শুকিয়ে আসে। একজন কাঁপা গলায় বলে,

” উ.. উনার সাহস আছে বলতে হবে। তাহলে কি স্যার খুন গুলো সত্যি গ্যাংস্টার বস করেছে?
– প্রমান নেই। নিক জেভরানের কাজের কোনো সূত্র থাকে না। আজ পর্যন্ত কেউ পায় নি। আমরা পাব কি না তাও সন্দেহ।
– এখন তাহলে কি হবে স্যার? যদি সত্যি নিক জেভরান এই পরিবারকে হত্যা করে থাকে তাহলেও তো কারোর সাহস নেই আওয়াজ তুলার। প্রতিটা আইন ক্ষমতা দিয়ে কিনে রেখেছে। আর তার চেয়ে বড় সত্য উনার কাজে কোনো প্রমান থাকে না। এখন কি এই ঘটনা এইভাবেই চাপা পড়ে যাবে?
পুলিশ সুপার কিছুক্ষন মৌন থেকে বলে,
” দেখা যাক কি হয়।

জঙ্গলের মধ্যে অবস্থিত একটা পুরনো বাংলো। সেখানে মাটির নিচে আবদ্ধ আছে বদ্ধ ঘর। গা ছমছমে পরিস্থিতি চারপাশে। সেই কক্ষখানি এক অদ্ভুত নীরবতার অভিশাপে আবদ্ধ। যেখানে বাতাসের প্রতিটি স্রোত অতিমাত্রায় গুমোট হয়ে শ্বাসরোধী অস্বস্তি সঞ্চারিত করে। দেয়ালসমূহে জমাটবাঁধা আর্দ্রতার দাগ ও ছত্রাকের ঘনস্তর আর অদৃশ্য অন্ধকারের ছোপে মিলেমিশে এমন এক নিস্তব্ধ ঘোর রচনা করেছে যা উপস্থিত যে-কোনো প্রাণকে অকারণ আতঙ্কের ছায়ায় আচ্ছন্ন করে তোলে। জানালার সঙ্কীর্ণ ফাঁক দিয়ে প্রবেশিত ক্ষীণ আলোর রেখাটি ধূলিকণার দমকা নৃত্যে এতটাই নির্বাক ও ক্লান্তস্বরূপ। আলো নিজেও সেখানে প্রবেশ করতে অনিচ্ছুক। চারিদিকে এমন এক কৃত্রিম নিস্তরঙ্গতা বিরাজ করছে যা শূন্যতার অতল গহ্বর থেকে উদ্ভূত হয়ে বারবার আত্মার ভেতরে ধ্বনিত হয়।

এ রুমে প্রবেশ করলে মনে হয় সময়ের স্বাভাবিক প্রবাহ হঠাৎ থেমে গেছে। প্রতিটি মুহূর্তই দমবন্ধ করা দীর্ঘশ্বাসে প্রসারিত হয়ে অসহনীয় গুমোটে রূপান্তরিত হয়েছে। এখানে নীরবতাই হলো একমাত্র শাসক আর তার তীব্র শাসনে মানুষের মানসপটে কেবল অনির্বচনীয় শঙ্কার দমকা ছায়া ভেসে ওঠে। ঘড়ি নেই, আয়না নেই, রুমে এক গুমোট অন্ধকার। সেখানে বসে আছে একটা ব্যক্তি। সামনে মানুষের রক্তাক্ত মৃত দেহ। লোকটা দেহটাকে দেখে একটা পৈশাচিক হাসি দেয়। তার শরীর ঢেকে আছে একটা কালো পোশাকে । লাশটাকে দেখে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে। কি সেই ভয়ানক আর বিশ্রি হাসি। লোকটা কুকুরের মত জিহ্বা বের করে নিজের ঠোঁট ভিজিয়ে নেয়। কেমন লালা পড়ছে মুখ থেকে। ধীরে ধীরে লাশের উপর সামান্য চকলেট ক্রিম ঢেলে দেয়। এরপর জিহ্বা বের করে লেহন দিতে থাকে। রক্ত আর চকলেটে মাখা- মাখি হয়ে যায় পুরো শরীর। আর লোকটা সেই গুলো পিশাচের মত খেতে থাকে। পুরো শরীরের রক্ত নিজের জিহ্বা দিয়ে খেয়ে থাকে। এরপর একটা ছুঁরি দিয়ে হাত কেটে নেয়। সেখান থেকে নির্গত হতে থাকে তাজা রক্ত। লোকটা জিহ্বা বার করে গিলতে থাকে সেই লাল রক্তগুলো। যেন কত স্বাদ আর কত তৃপ্তি।

নির্জন অন্ধকারে বাতাসে ঘন কুয়াশার মতো ভয়াল নীরবতা নেমে এসেছে। কক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর এক গা-ছমছমে আবহ বিরাজ করছে। প্রতিটি দেয়াল রক্তাক্ত বিভীষিকার সাক্ষ্য বহন করছে ধীরে ধীরে। লোকটার চাহনি বিকৃত উল্লাসে ভরপুর। নিথর লাশের শীতল দেহকে ধারালো ছুরির আঘাতে খণ্ডবিখণ্ড করছে। মাংস ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা তাজা রক্ত সে পেয়ালার মতো তার ঠোঁটে তুলছে।তৃষ্ণার্ত পশুর ন্যায় এক চুমুকে গিলে নিচ্ছে সেই উষ্ণ তরল।
তার মুখমণ্ডলে বিকৃত আনন্দের রূপ। ঠোঁটের কোণে রক্তের দাগ। সেই রক্তাক্ত চাহনিতে যেন শয়তানি উল্লাসের ঝলক। মৃতদেহের প্রতিটি চিৎকারহীন ক্ষতস্থান থেকে নির্গত লাল স্রোত তার কাছে ভোগের এক অদ্ভুত উল্লাস। লোকটা কোনো মানুষ নয় কোনো অন্ধকার শক্তির রূপান্তরিত রাক্ষস,। মৃত্যুকে পানীয় আর যন্ত্রণাকে উৎসব বানিয়ে নিয়েছে।

ঘরজুড়ে লাশের গন্ধ, রক্তের কটু ধোঁয়া, আর উন্মত্ততার বিকৃত হাসি মিলেমিশে এমন এক বিভীষিকাময় পরিবেশ তৈরি করেছে। যেখানে মানবতার প্রতিটি রেখা মুছে গিয়ে কেবলমাত্র নরকের গর্জন শোনা যায়। ছুঁরি দিয়ে পুরোটা শরীর খন্ড- বিখন্ড করে ফেলে। কাচা মাংশগুলো একটা পাত্রে তুলে নেয়। বাঁকা হেসে মাংশগুলোর দিকে তাকিয়ে একটা আবদ্ধ ফ্রিজে ভরে রাখে। কত শত লোকের মৃত দেহের অংশ যে এই ফ্রিজে আছে তার কোনো হিসেবে নেই। নেই কোনো আকার, গননার পরিমান। শুধু এখানে লেগে আছে রক্তের দাগ। লোকটা ধীর পায়ে বেসিনের কাছে যায়। পানি ছেড়ে হাত ধৌত করে রক্তগুলো পরিষ্কার করে ফেলে। এরপর লাশ রাখা স্থানটাকে দেখে বিকৃত হেসে অন্য রুমে চলে যায়। সেখানে গিয়ে একটা গোলাকৃতি বারান্দায় বসে পড়ে। উপরে খোলা আকাশ সামনে শত শত ওয়াইনের বাহার। একটা ওয়াইনের বোতল নিয়ে আকাশের দিকে তাকায়। এরপর এক চুম্বকে শেষ করে পুরোটা ওয়াইন। একের পর এক ওয়াইনের বোতল শেষ করতে থাকে। ঠিক ততক্ষন খায় যতক্ষন সে মাতাল না হচ্ছে। একসময় নিজের অচেতন শরীরটাকে এলিয়ে দেয় চেয়ারের দিকে। অর্ধ- অচেত্ন হয়ে বিরবির করে উঠে,
” মানসিক শান্তি।

রাত নয়টার কাছা- কাছি। মেডিসিনের রিয়্যাকশনে এনির এতক্ষনে গভীর ঘুমে মগ্ন ছিলো। সামান্য কারনেও চোখ মেলে তাকাতে পারি নি। দীর্ঘক্ষন ঘুমের কারনে শরীরটা আর ও নিস্তেজ হয়ে আছে। নিজের শরীরে ব্যাথা অনুভব করতে না পেরে একটু শান্তি অনুভব করছে। তখন মনে হচ্ছিলো কলিজাটাকে কেউ ছিঁড়ে নিচ্ছে। এনি শান্তির নিশ্বাস ফেলে। পুরো রুম কেমন আবছা অন্ধকার হয়ে আছে। রুমে এমনিতেই সব জিনিস পত্রের রং কালো তার উপর লাইট অফ। ফলে এনির কাছে কেমন ভুতুরে মনে হচ্ছে। সে ভেবে পায় না একটা লোকের কালো রং পছন্দ মানা যায় তাই বলে তার বাড়ি থেকে শুরু করে প্রতিটি জিনিসের রং কালো হবে! আর হতেও পারে। এই লোক কোনো স্বাভাবিক মস্তিষ্কের নাকি? সাইকো!
এনি বিরবির করে শুয়া থেকে উঠতে যাবে এমন সময় পায়ে সামান্য টান অনুভব করে। মুখ থেকে আচমকা আর্তনাদ বেরিয়ে আসে। চোখ- মুখ খিঁচে ফেলে ব্যাথার কারনে। কিছুক্ষন নিস্তব্দ থেকে চোখ মেলে তাকাতেই আৎকে উঠে। একটা বিশাল ছায়া তার সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছে। এনি ভয়ে সামান্য ঢোক গিলে। সামান্য গলা ভিজিয়ে বলে,

” ক.. কে?
কোনো রেসপন্স নেই। ছায়াটা ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। এনির রুহ বেরিয়ে আসার উপক্রম। ছায়াটা যখন একদম তার কাছা- কাছি আসে ঠিক তখন ওই ভুত বলে চিৎকার দিয়ে উঠে। কিন্তু চিৎকারটা ভালোভাবে দিতে পারে নি। ঠিক তার আগেই শক্ত – পোক্ত হাতের আঙ্গুল দিয়ে তার দুই ঠোঁট চেপে ধরে। কারোর হাতের স্পর্শ ঠোঁটে লাগতেই এনি শিউরে উঠে। ভয়ে প্রায় কান্না করার মত অবস্থা। আঙ্গুলের স্পর্শ একটু হালকা হতেই এনি ভাঙ্গা গলায় বলে,
” এক পাগলের ভাত নাই আবার আরেক পাগলের আমদানি। সাক্ষ্যাত নরপশুর সাথে আছি আমি। সামান্য ভুত হয়ে আমাকে ভয় দেখাতে কেনো এসেছেন?
— শিষষষষ!
আবার ও সেই দৃঢ় আঙ্গুলে দিয়ে চেপে ধরে। এনি সামান্য পিছিয়ে যায়। ছায়াটা এনির মুখের সামনে মুখ নিয়ে হিসহিসিয়ে বলে,
” নরপশুর রুপ দেখবে বেবিগার্ল? আজ ফার্স্ট নাইট আমাদের।
এনির ভিতর কেঁপে উঠে। আতঙ্কে জমে যায় সে। বিছানার চাদর খামছে ধরে কিছুটা পিছিয়ে যায়। নিকের মুখ থেকে মদের গন্ধ পেয়ে এনির নাড়ি- ভুড়ি বেরিয়ে আসার উপক্রম। সামান্য সিগেরেটের গন্ধ সহ্য করতে পারে না সেখানে মদ তো বমি চলে আসে। এনি নিজের নাক চেপে ধরে অন্ধকারে আরও পিছিয়ে যায়। নিক এনিকে হেচকা টানে নিজের সামনে নিয়ে আসে।
– পালালে তো চলবে না। ফার্স্ট নাইট তো কাটাতে দিবে। আর বাঁধা দিলে হাত পা কেটে ফেলব।
এনি ছটপফটিয়ে উঠে,

” ছাড়ুন আমাকে। খবরদার কাছে আসার চেষ্টা করবেন না। খুন করে ফেলব আপনাকে।
নিক ঠোঁট কামড়ে হেসে এনির দিকে তাকায়। এরপর এনির উড়ুর উপর শুয়ে নিজের বক্ষের দিকে ইশারা করে বলে,
” এখানে এখানে ভিষন কাঁপছে। একটু ছুঁয়ে দে বেবিগার্ল। গড প্রমিস একদম কাঁপাকাঁপি বন্ধ হয়ে যাবে। আর যদি বন্ধ না হয় তাহলে রিভলভার ঠেকিয়ে রেখে দিব।
এনি চমকে তাকায় নিকের দিকে। সে আজ অবাকের চরম পর্যায়ে গিয়েছে। এতটা নরম তো গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান নয়। মাতাল হয়ে এইসব কি বলছে? সজ্ঞানে থাকলে নিশ্চয় এনিকে জোর করত। তাকে আবার ও মানসিক নির্যাতন করে রক্তাক্ত করে ফেলত!
তার উড়ুর উপর মাথা রাখাটা একদম সহ্য হয় নি। এমন একটা জানোয়ারের স্পর্শ পেলেই তার গা গুলিয়ে আসে। এনি নিজের উড়ু সরিয়ে নেয়। নিক মাথা তুলে তাকায় এনির দিকে। মুখে রাগের আভাস। এনি কাঁপা গলায় বলে,
” আমাকে বাড়ি যেতে দিন ? আমি আপনার কাছে থাকতে চাই না।
— কেনো?

এনি নিশ্বাস টানে। কিভাবে শান্তভাবে আবার প্রশ্ন করছে কেনো। মাতলামো করার জন্য কি তাকেই পেয়েছিলো? সজ্ঞানে থাকলে নিশ্চয় নির্যাতনের শিকার হত! এনি বিরক্তি নিয়ে বলে,
” আপনারা পশু। আর কোনো পশুর সাথে আমি থাকতে চাই না। আপনাদের এই পশুত্ব একদিন ধ্বংস হবে।
নিক শব্দ বাঁকা হেসে উঠে। তবে অন্ধকারে এনি নিকের মুখটা ভালোভাবে দেখতে পায় নি। নিক এনির দিকে তাকিয়ে শক্ত গলায় বলে,
” আমার রক্ষিতা! স্টপ ইয়োর ইমোশনাল ড্রামা মাই ফা**কিং বেবিগার্ল। এইসবে আমার কিছু যায় আসে না।
— পতনের জন্য অভিশাপের প্রয়োজন পড়ে না। মানুষের বুক চিঁড়ে আসা আর্তনাদ ‘ই যথেষ্ট নিক জেভরান।
পুরো ঘরে পিনপিন নিরবতা। এনি ভয় পেয়ে যায়। যদি রেগে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাহলে কিভাবে সামলাবে সে সবকিছু!

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৯

নিক শুনেছি কি না বুঝা গেলো না। আচমকা এনিকে নিজের বাহু বন্ধী করে নেয়। এনি ভয়ে কেঁপে উঠে। সে বর্তমানে নিকের শক্তপোক্ত বুকের নিচে। এনির যেন শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। এনি ছটফট করে উঠে। এখন ‘ই সুযোগ পালানোর। লোকটা এখন মাতাল আর অর্ধ- অচেতন। চাইলে ও কিছু করতে পারবে না। এনি ছুটার জন্য ধ্বস্তাধ্বস্তি শুরু করে দেয়। নিক গম্ভীর গলায় আওয়াজ তুলে বলে,
” যত নড়া- চড়া করবে তত চেপে ধরব। কন্ট্রোলল্যাস হলে আমাকে সামলাতে হবে। মরে গেলেও কিন্তু আমার করুনা পাবে না। কারন আমার হৃদয়ে করুনা বলতে কোনো শব্দ নেই।

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ১১