Home শেহেজাদার আদর শেহেজাদার আদর পর্ব ১

শেহেজাদার আদর পর্ব ১

শেহেজাদার আদর পর্ব ১
সুমাইয়া ইসলাম নূর

আপনি ঠিকই বলেছিলেন ভাবি আজ আমাকে প্রপোজ করেছে। কিছু টা কাঁপা কাঁপা কন্ঠে কথাগুলো বলল
রুদ্র
বিপরীত পাশের মানুষটি বলল,
— তুমি কি বলছো!
— আমি আর কি বলবো ভাই, আপনি যা শিখিয়ে দিয়েছেন তাই বলেছি। আমার মনে হয় না সে এ বিষয়ে কোনো কষ্ট পাবে।

— good good very good bro
নেক্সট টাইম ভাবির দিকে নজর রাখো, দ্বিতীয়বার একই ভুল যেন করতে না পারে।
— ওকে ভাই…
— আর যদি করে, তুমি ভালো করেই জানো তোমার অবস্থা কী হবে!
রাগে চিৎকার করে বলল বিপরীত পাশের মানুষটি।
— মনে থাকে যেনো!
রুদ্র ভয়ে বলল,
— ওকে ভাই, মনে থাকবে।
কেউ একজন বেলকনিকে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকছে। মনে মনে বলছে—
বড্ড উড়ছো আদর… সমস্যা নাই, যত খুশি উড়ো। তোমার শেষ ঠিকানা তো আমার খাঁচাই।
এই বলে ইনায়ার একটি চুলের ছবিতে ঠোঁট ছুঁয়ে দিল মানুষটি।

কিছু সময় আগে ইনায়া আর তার বেস্ট ফ্রেন্ড কলেজের কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে বসে আছে।
ইনায়া ভাবছে—
আজ বাসায় যাওয়ার সময় কি অকাজ করা যায়! কার বাসায় কলিংবেল বাজিয়ে দৌড় দেবো, নাকি জানালায় ঢিল মারবো?
হঠাৎ ইনায়ার মনে পড়ল—আজ টাকলা হেডুর পড়া মুখস্থ করা হয়নি।
মনোযোগ দিল পড়াই।
হঠাৎ তুবা দেখল কলেজের গেট দিয়ে শোঁ শোঁ করে কিছু দামি বাইক প্রবেশ করছে।

— বেবি, দেখ! তোর জানেমন চলে এসেছে।
— দেখ না… চুপ করবি কুত্তি! টাকলা হেডুর পড়া না হলে আজ কী করবে জানিস তো?
— বালের পড়া…
আর কিছু বলতে পারল না ইনায়া। চোখ তার সামনে সুদর্শন পুরুষের দিকে।
কলেজের সব থেকে ফেমাস বয়—রুদ্র।
আর আমাদের ইনায়ার সাত দিনের ভালোবাসা।
— চল, আজ মনের কথা বলেই দিবো। আমি পারবো না বেবি।
— কি বললি? কই কিছু না তো?
— তহলে চল… হুমম… চল বেবি বলেই আসি।

সাত দিন আগে রুদ্র একটি বকাটে ছেলেকে অনেক ক্যালানি দেয়। কারণ ছেলেটি ইনায়াকে বাজে কথা বলেছিল।
আসলে ছেলেটি ইনায়াকে বলছে না, ইনায়ার পাশের একটি মেয়েকে বলছিল। কিন্তু ইনায়া ভেবে নেয় তাকে বলছে।
রাগে ইনায়া ছেলেটাকে একটি থাপ্পর মারে।
দূর থেকে রুদ্র বিষয়টি লক্ষ্য করে। কাছে এসে জিজ্ঞেস করে—
— কী হয়েছে?
সব খুলে বলার পর, ছেলেটিকে মারে।
ছেলেটি বলে,
— আমি এই মেয়েকে বলিনি, পাশের মেয়েকে বলছিলাম।
তাও রুদ্র ছেলেটিকে মারে—

— তুই একে বা কেন বলবি?
এ ঘটনার পর থেকে আমাদের ইনায়া রানি রুদ্রের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে।
রুদ্র শুধু কলেজের একজন সাধারণ ছাত্র নয়—সে যেন পুরো কলেজের সাহসের প্রতীক। লম্বা গড়ন, আত্মবিশ্বাসী —সব মিলিয়ে তাকে দেখলেই আলাদা করে চোখে পড়ে।
কলেজে নতুন কোনো ছাত্রী ভর্তি হলে খুব দ্রুতই একটা নাম তার কানে আসে—রুদ্র। কারণ এই কলেজে এমন খুব কম মেয়ে আছে, যে কোনোদিন রুদ্রের কথা শোনেনি। অনেকেই তাকে দূর থেকে দেখেই মুগ্ধ হয়ে যায়। কারও কাছে সে স্বপ্নের নায়ক, আবার কারও কাছে সাহসের প্রতীক।
কিন্তু রুদ্রের আসল পরিচয় শুধু তার চেহারা বা জনপ্রিয়তায় নয়। কলেজে কোথাও অন্যায় দেখলে সে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। সিনিয়রদের অন্যায় র‍্যাগিং হোক, কোনো দুর্বল ছাত্রকে অপমান করা হোক, কিংবা কারও প্রতি অবিচার—রুদ্র সব সময় সামনে এসে প্রতিবাদ করে।
আর এই সব আরাল থেকে কেও একজন রুদ্রকে সাপোর্ট করে।
রুদ্রর এই কলেজে ভর্তি হওয়া শুধুমাত্র ইনায়ার জন্য তাকে সবসময় ফলো করার জন্য…

ইনায়া ধীরে ধীরে ছেলেটার দিকে এগোচ্ছে।
প্রতিটি ধাপ যেন তার হৃদয়ের গতি আরও দ্রুত করে দিচ্ছে। বুক কাঁপছে, হাতগুলো অচেতনভাবে হালকা কাঁপছে।
নিঃশ্বাস টেনে মনে মনে নিজেকে সাহস দিচ্ছে—
“এবারই বলব… এবারই।”
ইনায়া ধীরে ধীরে রুদ্রের সামনে দাঁড়াল।
হৃদয় দ্রুত ধড়ফড় করছে। হাতগুলো মিলেমিশে কাঁপছে।
এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে নিঃশ্বাস টেনে সাহস জোগাল।
— রুদ্র ভাইয়া…
কণ্ঠটা নরম, কম্পমান—
— আমি… আমি আপনাকে… ভালোবাসি।
রুদ্র চোখ বড় করে তাকাল।

— আমি তোমার অনুভূতিটিকে বুঝতে পারছি। কিন্তু জানো, আমার হৃদয়… ইতিমধ্যেই অন্য কারোর প্রতি আগ্রহী। তোমার কষ্টের জন্য দুঃখিত। কিন্তু আমি চাই তুমি সত্যটা জানো।
— শোন মেয়ে, তুমি এখনো অনেক ছোট। পড়াশোনায় মন দাও।
ইনায়া কিছুটা শান্ত হয়ে গেল। তার চোখে পানি জমে গেল।
ইনায়া আর এক মুহূর্ত সেখানে দাঁড়ালো না। দৌড়ে চলে গেল।
এদিকে তুবা কিছুটা রাগ দেখিয়ে বলল—
— আমার বেবির সাথে এটা ঠিক করলেন না! ধুর বাল! কাকে কি বলছি বেবি!
— দারা, আমি আইতেছি মন্টুর দোকানের মলম নিয়ে। তোর মনের ব্যথা এখনই দূর করে দেবো।
বলতে বলতে তুবা ইনায়ার কাছে চলে আসে।
ইনায়া বলল—

— সব সময় ফাজলামি ভালো লাগেনা, তুবা।
তুবা বলল—
— এইজন্য কবিরা বলে গেছে, জীবনে কারো ভালো করবা না। পারলে কুত্তার মুখে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিবা!
— তুবার বাচ্চা আাআা!

শেহেজাদার আদর পর্ব ২