Home শ্রাবণ শেষের রোদ্দুর শ্রাবণ শেষের রোদ্দুর পর্ব ২০

শ্রাবণ শেষের রোদ্দুর পর্ব ২০

শ্রাবণ শেষের রোদ্দুর পর্ব ২০
‎আফীফা আফনান

‎মেজাজটা প্রচণ্ড খারাপ হয়ে আছে মেহুলের! ইচ্ছে করছে এখনই গিয়ে আনিকা নামের ওই অখাদ্য মেয়েটাকে ধরে একটা শক্ত আছাড় মারে!
‎​আগামীকালই সে আর তার পুরো মেডিকেল টিম রাজশাহীর ক্যাম্প শেষ করে নিজ শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। আজ এই শহরে তার শেষ দিন, তাই সকাল থেকেই মনটা এক অন্যরকম ফুরফুরে মেজাজে ভরপুর ছিল। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে সেই সুন্দর মেজাজে এক বালতি বিষাক্ত পানি ঢেলে দিল একটা ছোট্ট নোটিফিকেশন!

‎​হোয়াটসঅ্যাপে হঠাৎ ভেসে ওঠা দুটো ছবি—একটি ছবি আরমান আর আনিকার! ছবিটাতে দুজনে একদম গা ঘেঁষে, অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আপত্তিকর ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। আর অন্যটিতে একটা প্রেগনেন্সি কিটের পজিটিভ দাগ ওঠা ছবি। দুটো ছবিটা পাঠানো হয়েছে সরাসরি আনিকার নিজস্ব নম্বর থেকে, ঠিক এমন একটা সময়ে যখন মেহুল হোয়াটসঅ্যাপে অনলাইন ছিল!

‎​মাত্রই একজন পেশেন্ট দেখা শেষ করে দশ মিনিটের একটা শর্ট ব্রেক নিয়েছিল মেহুল। ঠিক তখনই একটা নোটিফিকেশনের শব্দে মোবাইলটি হাতে তুলতেই মেছেজটা চোখে পড়লো তার রাগ লাগলো কিন্তু আরও বেশি মেজাজ বিগড়ে গেল আনিকার পরবর্তী ন্যাকামি দেখে! মেহুল ছবিটা সিন করার সাথে সাথেই আনিকা সেটা ‘ডিলিট ফর এভরিওয়ান’ করে দিয়ে নিচে দ্রুত লিখে পাঠাল—
‎’ওপ্স! সরি রে মেহু, পিকটা ভুল করে তোর চ্যাটে চলে গেছে! প্লিজ কিছু মনে করিস না, কেমন?’

‎​মেহুল খুব ভালো করেই জানে—মেয়েটা দু-দু’বার ইচ্ছে করেই এই জঘন্য কাজটা করেছে তাকে ইচ্ছে করে মানসিক যন্ত্রণা দেওয়ার জন্য! রাগে আর ক্ষোভে পুরো শরীর যেন রি রি করে জ্বলছে তার। ভেবেছিল রাজশাহীর শেষ দিনটা অন্তত হাসিমুখে সুন্দরভাবে পার করবে, কিন্তু এই বদ মেয়েটা এসে পুরো দিনটাই বিষিয়ে দিল!

‎​মেহুল কিছুক্ষণ বুথের ভেতর ঝিম মেরে চেয়ারে বসে রইল। রাগে মাথার রগগুলো যেন দপ দপ করে লাফাতে শুরু করেছে। শেষমেশ আর সইতে না পেরে তাদের সাথে আসা এক জুনিয়র ডাক্তারকে কিছু সময়ের জন্য বুথের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে সে হনহন করে বাইরে বেরিয়ে এলো।

‎​বাইরে যেমন চড়া রোদ, তেমনই বাতাসহীন গুমোট এক পরিবেশ। তার ওপর চারপাশে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের গিজগিজ ভিড়। সব মিলিয়ে মাথার ভেতরে আগুন জ্বলছিল মেহুলের! শরীর আর মনের এই চরম অস্থিরতা কমাতে তার একটু শান্ত ছায়া প্রয়োজন ছিল। তাই সে কোনদিকে না তাকিয়ে সোজা হেঁটে গিয়ে ক্যাম্পের মাঠের একপাশের মস্ত গাছের ঘন ছায়ায় গিয়ে দাঁড়াল।
‎​রাগটা তাকে যেকোনো মূল্যে এখনই কমাতে হবে, নইলে আজকে বড় কোনো অঘটন ঘটে যাবে! হয়তো চট্টগ্রাম গিয়েই আগে আনিকা নামক ননসেন্সকে তুলে আছাড় দিয়ে দিয়ে মেরেই দিবে।

‎এসব ভাবতে ভাবতেই ​ঠিক তখনই তার নজর গিয়ে আটকালো ক্যাম্পের সীমানা ঘেঁষে দাঁড়ানো এক ফুচকার ভ্যানের দিকে। মেহুল বুঝতে পারলো মুখের ঝালই পারবে একমাএ তার মনের ঝাল মেটাতে। অতঃপর মেহুল বিন্দুমাত্র দেরি না করে সোজা এগিয়ে গেল ভ্যানটির সামনে। দোকানদারকে বেশ কড়া ও জেদি গলায় নির্দেশ দিল—
‎”ভাইয়া! এক প্লেট স্পেশাল ফুচকা দিন তো। ফুচকাতে টক আর মরিচের ঝাল একদম ডাবল ডাবল দেবেন! যেন খেয়ে নাক, কান দিয়ে ধোঁয়া বের হতে থাকে।”

‎বলেই মেহুল আবারও গাছের ছায়াতে গিয়ে বসলো, এদিকে ​দোকানি একটুপরেই ঝাল-টকে ভরপুর ফুচকার প্লেটটা সামনে রাখতেই মেহুল কোনো রকম তোয়াক্কা না করে একের পর এক ফুচকা মুখে পুরতে লাগল! গালে ও জিভে ঝালের প্রখর দাবানল জ্বলছে, কিন্তু মেহুল থামছে না। একের পর এক ঝাল ফুচকা সাবার হয়ে যাচ্ছে, অথচ ভেতরের মেজাজের পারদ এক চুলও নামছে না! অতিরিক্ত কড়া ঝালের চোটে চোখের কোণে নোনা জল টলমল করে উঠল, নাকের ডগা রক্তিম লাল হয়ে এলো, তবুও সে যেন নিজের ওপর জেদ দেখিয়ে সীমা ছাড়িয়ে ফুচকা গিলে চলেছে।
‎​মেহুল যখন এভাবে নিজের ওপর তোয়াক্কা না করে পাগলের মতো ঝাল ফুচকা খাচ্ছে, ঠিক তখনই পেছন থেকে এক পরিচিত, গম্ভীর ও ভারী স্বর ভেসে এলো—
‎​”এই দুপুরে, তার ওপর এমন গরমে এভাবে লিমিট ছাড়া ঝাল ফুচকা খাওয়া কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্য বিন্দুমাত্র ভালো নয়, ডক্টর মেহুল!”

‎আকস্মিক কন্ঠে ​ঝালে আর রাগে চোখ-মুখ লাল হয়ে যাওয়া মেহুল তড়িঘড়ি করে পেছন ফিরে তাকাল। তখনি সে দেখতে পেলো ​গাছের সুশীতল ছায়ার নিচে, সুপুরুষ অবয়বে তার দিকে স্থির ও গভীর নজরে চেয়ে শান্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে সালমান শাহ নেওয়াজ নামের সেই লোকটি!

‎এদিকে মেহুলকে এভাবে থতমত খেয়ে তাকাতে দেখে সালমানের ঠোঁটের কোণে ফুটে থাকা হালকা হাসিটুকু মেহুলের এমন বিষাদ আর ঝালে লাল হয়ে ওঠা চেহারা দেখে আরও কিছুটা চওড়া হলো। সে ধীরপায়ে আরেকটু এগিয়ে এসে মেহুলের হাতে থাকা প্রায় শেষ হয়ে আসা ফুচকার প্লেটটার দিকে চোখ বুলালো।
‎”যে মানুষ দিনরাত অন্যকে সুস্থতার পাঠ পড়ায়, সেই মানুষ যদি নিজের বেলায় সেসব ভুলে যায়, তবে ব্যাপারটা কেমন দাঁড়ায় বলুন তো ডক্টর?”

‎সালমানের এমন কথার ধাচে ​মেহুল ঝালের চোটে একহাতে নাকের ডগা আর চোখের পানি সামলাতে সামলাতে ক্ষিপ্ত নজর তুলে সালমানের দিকে তাকাল। গালে তীব্র ঝালের উত্তাপ, আর মাথার ভেতরে আনিকার পাঠানো সেই মেসেজের আগুন—দুটো মিলে তার ধৈর্য তখন একদম শূন্যের কোঠায়। অতঃপর ​সে হালকা একটা কাশি দিয়ে, নিজের কণ্ঠস্বরে যতটা সম্ভব ক্ষোভ আর তাচ্ছিল্য ঢেলে বলে উঠল—
‎​”ডাক্তাররা ও তো মানুষ মিস্টার সালমান, মাঝে মাঝে আমাদেরও তো নিয়মের বাহিরে কিছু করার ইচ্ছে থাকতে পারে! নাকি নিয়ম ভাঙার অধিকার শুধু সাধারন মানুষেরই আছে আর আমাদের থাকতে নেই?”

‎​সালমান মেহুলের এমন কড়া আর ঝাঁজালো জবাবে বুঝে নিলো তার অপ্সরা কোন কারনে প্রচুর রেগে, তাই সে বিন্দুমাত্র বিচলিত হলো না। বরং সে গাছের ছায়ায় একদম শান্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে পকেট থেকে নিজের সুগন্ধি পরিষ্কার রুমালটি বের করে মেহুলের দিকে বাড়িয়ে দিতে দিতে ​গম্ভীর অথচ পরম মায়াময় কণ্ঠে অত্যন্ত ধীরলয়ে বলল—

‎​”অধিকার অবশ্যই আছে, ডক্টর। তবে রাগ কমানোর জন্য নিজের শরীরের ওপর এমন অত্যাচার করার নিয়ম কোনো চিকিৎসাবিজ্ঞানে আছে বলে তো আমার জানা নেই! রাগের আগুনে নিজেকে পোড়ালে সেই আগুনের ক্ষতি কিন্তু কেবল নিজেরই হয়, যে রাগটি উঠিয়েছে তার কিন্তু বিন্দুমাত্র কিছু যায়-আসে না।”

‎​সালমানের সেই গভীর কথাটি যেন মেহুলের বুকের একদম মাঝখানটায় গিয়ে বিধল! ​মেহুল থমকে গেল। সালমানের বাড়িয়ে দেওয়া সুগন্ধি রুমাল আর তার স্থির চোখের গভীর চাহনির দিকে চেয়ে মেহুলের ভেতরের যুক্তিবোধটা চট করে জেগে উঠল। নিজের ভেতরের তীব্র রাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সে যেভাবে একজন প্রায় অপরিচিত মানুষের সামনে এমন চড়া গলায় কথা বলে চলেছে, তা বুঝতে পেরে চরম অস্বস্তি আর লজ্জায় আচ্ছন্ন হলো সে। নিজের আবেগকে কিছুটা চেপে ধরে, নিজেকে সামলে নিল মেহুল। একটা লম্বা নিঃশ্বাস নিয়ে নিজের ভেতরের প্রবল রাগ আর অস্থিরতাকে কিছুটা দমিত করল। তারপর হাতের রুমাল দিয়ে নাকের ডগার ঘাম আর ঝালের নোনা জলটুকু অলক্ষে মুছে নিয়ে, অতঃপর সালমানের দিকে চেয়ে নিজের কণ্ঠস্বর যতটা সম্ভব স্বাভাবিক ও শান্ত করে বলে উঠল—
‎​”আপনাকে কে বলেছে আমি রেগে আছি, মিস্টার সালমান? রাগ হতে যাবে কেন! আসলে সকাল থেকে টানা পেশেন্ট দেখে মাথাটা ঝিমঝিম করছিল, হঠাৎ করেই খুব ফুচকা খাওয়ার ক্রেভিং হচ্ছিল… তাই একটু ঝাল-টক ফুচকা খেতে চলে এলাম। আর কিছুই না।”

‎​মেহুলের এমন বানানো ও আত্মপক্ষ সমর্থনের উসিলা শুনে সালমানের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে মনভোলা, গাঢ় মুচকি হাসি ফুটে উঠল। সে হালকা একটু সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গভীর চোখে মেহুলকে পরখ করে বিনীত কিন্তু দাপুটে গলায় বলল—
‎​”আপনি মিথ্যা বলাতে ভীষণ কাঁচা, ডক্টর মেহুল! চেষ্টা করেও আপনি একদম মিথ্যা বলতে পারেন না। তবে আমার কথা যদি শুনেন… আমি বলব, মাঝেসাজে আপনার একটু-আধটু মিথ্যা বলা কিন্তু খুব প্রয়োজন!”

‎​সালমানের এই অদ্ভূত আর অপ্রত্যাশিত কথা শুনে মেহুল বেশ অবাক হলো! সে পিটপিট করে চোখের পলক ফেলে, কৌতূহল ও বিস্ময় মেশানো কণ্ঠে শুধাল—
‎​”মানে? মিথ্যা বলা প্রয়োজন মানে? আর কে বলেছে আমি মিথ্যা বলছি? কী বলতে চাইছেন আপনি?”

‎সালমান মেহুলের একদম মুখোমুখি এক পা এগিয়ে এলো। গাছের সুশীতল ছায়ায় দুজনের মধ্যকার দূরত্বটুকু যেন নিমেষেই বিলীন হয়ে গেল। সালমানের গম্ভীর ও ধারালো চোখের চাহনিতে ফুটে উঠল এক অদ্ভুত, নেশাক্ত প্রগাঢ়তা। অত্যন্ত ধীর, ভারী ও মায়াময় নিচু স্বরে মেহুলের দিকে সামান্য ঝুঁকে জবাব দিল—
‎​”মানে… আপনি যখন বানিয়ে মিথ্যে বলার নিষ্ফল চেষ্টা করেন, তখন আপনার চেহারাটা না মারাত্মক সেক্সি আর মোহনীয় হয়ে ওঠে! এই যে মিথ্যা লুকাতে গিয়ে জিভ দিয়ে গোলাপি ঠোঁট জোড়া আলতো করে ভিজিয়ে নেওয়ার দৃশ্য, আপনার পটলচেরা চোখের সেই চঞ্চল চাহনি, আর ঘন ঘন বুকের শ্বাসের এমন মাতাল ওঠা-নামা… বিশ্বাস করুন, এই রূপ যেকোনো পুরুষের হৃদয়স্পন্দন থামিয়ে দেওয়ার জন্য বড্ড বেশি নিখুঁত!”

‎​সালমানের এমন প্রখর, রোমাঞ্চকর আর শিহরণ জাগানো কথায় মেহুলের সমস্ত শরীর যেন এক লহমায় অবশ হয়ে এলো। তার হৃৎপিণ্ডটা তীব্র গতিতে লাফাতে শুরু করল, স্তব্ধ হয়ে গেল মুখের সমস্ত ভাষা! প্রখর রোদের তাপদহন ছাপিয়ে এক নাম না জানা আবেশ মেহুলের পুরো সত্তাজুড়ে আলতো করে ডানা মেলল।

‎মেহুলকে এভাবে স্তব্ধ হয়ে হাঁসফাঁস করতে দেখে সালমানের প্রখর চোখের দৃষ্টি তার ওপরই স্থির হয়ে রইল। মেহুলকে ভালোভাবে পরখ করে নিয়ে সালমান তার পূর্ণ মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য ধীর গলায় আবার বলে উঠল—
‎​”আপনাকে আজ খুব সুন্দর লাগছে… একদম যেন কোনো স্বর্গের অপ্সরা!”

‎​সালমানের এমন সোজাসাপ্টা কথায় চমকে উঠে মেহুল নিজের ভাবলেশহীনতা কাটিয়ে একটু চোখ বড় করে বলল— “এক্সকিউজ মি!”
‎​সালমান ঠোঁটের কোণে হালকা রহস্যময় হাসি ধরে রেখে শুধরে দিল— “মানে… আপনার ড্রেসটা আসলে খুব সুন্দর। আপনাকে ভীষণ মানিয়েছে।”
‎​মেহুল নিজের ধবল এপ্রনটার দিকে একনজর তাকিয়ে বিরক্ত ও অবাক গলায় বলল—
‎”এটা এপ্রন! সব ডাক্তারই ডিউটিতে এলে মোটামুটি এটা পরে। এর মধ্যে সুন্দরের কী পেলেন?”
‎​সালমান তার প্রখর দৃষ্টি মেহুলের চোখে স্থির রেখে জবাব দিল—
‎”অনেক কিছু! যা শুধু দেখার মতো চোখ থাকলেই দেখা যায়, ডক্টর মেহুল।”

‎​মেহুল কিছুটা অস্বস্তি আর বিরক্তি নিয়ে হালকা পিছিয়ে এসে বলল—
‎”আপনাকে আজ খুব অদ্ভুত লাগছে, মিস্টার সালমান…”
‎​সালমান হালকা একটু ঝুঁকে, অত্যন্ত মায়াময় কণ্ঠে শুধরে দিয়ে বলল—
‎”উহু, সালমান নয়… ‘শিশির’। আপনার জীবনের একমাত্র ভোরের শিশির…।”

‎​মেহুল বিষণ্ন ও বিস্ময় চোখে সালমানের দিকে তাকাল। এ পর্যন্ত লোকটার সাথে মেহুলের মাত্র দু-একবার দেখা হয়েছে, আর প্রতিবারই তাকে অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও গম্ভীর বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু আজকের সালমান পুরোই উল্টো! সে যেন এক অন্য মানুষ, যার প্রতিটা কথায় আর চাহনিতে এক প্রচ্ছন্ন অধিকারবোধ আর মাদকতা কাজ করছে।
‎​মেহুল তাকে কিছু কড়া কথা শুনিয়ে দিতে চাইল। কিন্তু পরক্ষণেই তার মনে পড়ে গেল—আর তো মাত্র কয়েকটা ঘণ্টা! তারপরই সে এই শহর ছেড়ে চিরতরে নিজের গন্তব্যে চলে যাবে। এই স্বল্পসময়ের চেনা মানুষের সাথে তর্ক করে কী লাভ? আবার যদি কোন বিপদে ফেলে দেয়!

‎​অতঃপর মেহুল আর কোনো কথা না বাড়িয়ে মুখ ফিরিয়ে সোজা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাইল। কিন্তু তাড়াহুড়ো করে পা বাড়াতেই হঠাৎ ওপর থেকে কিছু একটা উড়ে যেতেই মেহুল তা থেকে বাঁচতে একটু ঝুঁকতেই পথে থাকা গাছের একটা উঁচিয়ে থাকা শিকড়ের সাথে পা পেঁচিয়ে ব্যালেন্স হারিয়ে ফেলল সে!
‎​”আহ্!”
‎​ভয়ে চোখ দুটি খামেচে শক্ত করে বন্ধ করে ফেলল মেহুল, নিশ্চিত মাটিতে আছাড় খাওয়ার অপেক্ষায়! কিন্তু মাটিতে পড়ার আগেই এক জোড়া শক্ত, দাপুটে হাত অত্যন্ত দক্ষতায় ব্যাকুল হয়ে আঁকড়ে ধরল তার সরু কোমরটি!

‎​সালমান মেহুলকে এমন নিখুঁত ও ঘনিষ্ঠ ভঙ্গিতে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে আটকে ফেলল যে, দূর থেকে দেখলে যেকোনো অচেনা মানুষ মনে করবে তাদের মাঝে নিশ্চয়ই কোনো দীর্ঘদিনের গভীর, গোপন প্রণেয় জড়িয়ে আছে! এদিকে পতন থেকে বেঁচে যাওয়ার পর মেহুল তখনও চোখ বুজে হাঁপাচ্ছে, আর সালমান তার মুখের এত কাছে থাকা মায়াবী চেহারার দিকে চেয়ে ঠোঁটের কোণে এক দুষ্টু, আত্মতৃপ্তির হাসি ফুটিয়ে তাকে বুকের সাথে একটু চেপে জড়িয়ে রাখল।

‎​কয়েক সেকেন্ড পর মেহুল নিজের পরিস্থিতি উপলব্ধি করতে পেরে চট করে চোখ খুলল। সালমানের এত কাছে থাকার আকস্মিকতায় সে প্রবল শক্তিতে নিজেকে তার আলিঙ্গন থেকে ছাড়িয়ে নিল। লজ্জায় আর অস্বস্তিতে লাল হয়ে উঠে তার অবস্থা এমন ছিলো যে সালমানের দিকে তাকানোর সাহস টুকুও অবশিষ্ট ছিলোনা। তাই সে আর এক মুহূর্তও সালমানের দিকে না তাকিয়ে হনহন করে ক্যাম্পের দিকে হেঁটে চলে গেল।

‎​মেহুল চলে যাওয়ার পরপরই সালমান শান্ত ভঙ্গিতে সোজা হয়ে দাঁড়াল। তার বুকের ভেতর তখনও এক অলৌকিক দোলাচল! সে উপলব্ধি করল, মেহুলের গায়ের মিষ্টি, অনন্য সুবাসটুকু যেন তার পুরো শরীরে, জামা-কাপড়ে এক মায়াবী জাদুর মতো ছড়িয়ে পড়েছে। ভালোবাসার মানুষটিকে আজ জীবনে প্রথমবার এতটা কাছ থেকে ছুঁয়ে দেখার অপার্থিব অনুভূতিতে সালমানের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে গভীর মুচকি হাসি ফুটে উঠল।

‎আ ​ঠিক তখনই মাথার ওপর থেকে গুঞ্জন তুলে একটি হাই-টেক ড্রোন ক্যামেরা ধীরগতিতে তার ঠিক সামনে নেমে এলো। সালমান নিজের হাতের সুগঠিত ভঙ্গি বাড়িয়ে ড্রোনটিকে লুফে নিল। অতঃপর ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে বলে উঠলো, “গুড জব গাইজ, টাইমিংটা কিন্তু পারফেক্ট ছিলো! এর পুরুষ্কার তোমরা শিঘ্রই পাবে।” বলেই কোনো তড়িঘড়ি না করে, শান্ত ও দাপুটে পায়ে রাস্তায় নিজের পার্ক করে রাখা গাড়িটার দিকে হেঁটে গেল।
‎দুপুর তিনটা। মাথার ওপর চড়া রোদ যেন রূপ নিয়েছে কাঠফাটা তাপদহনে! প্রখর সূর্যের উত্তপ্ত রশ্মি ধরনীর প্রতিটি ধূলিকণাকে তপ্ত করে তুলছে। বাতাসে কোনো আর্দ্রতা নেই, চারপাশের বাতাস যেন একেকটা আগুনের হলকা হয়ে শরীরে বিঁধছে। মাথার ওপরের নীল আকাশটা একদম মেঘশূন্য, নিস্তব্ধ আর নিষ্করুণ।

‎​এমনই এক প্রখর রোদ আর তপ্ত বাতাসের তোয়াক্কা না করে মেহুল আর হুমা দাঁড়িয়ে আছে এক বহু পুরোনো, জীর্ণ দোতলা বাড়ির সামনে। টানা ছয়টি দিন ধরে অজস্র চেষ্টা আর কাঠখড় পুড়িয়ে হুমার মাধ্যমে শেষমেশ এই বাড়িটির সঠিক ঠিকানা বের করতে সমর্থ হয়েছে মেহুল। আজ সেই ঠিকানায় সে এসে উপস্থিত।
‎​বাড়িটি রুপকার ডুপ্লেক্স শৈলীর। যদিও বয়সের ভারে আর অযত্নে চুনকাম খসে পড়েছে, তবু তার গঠন আর আভিজাত্য এখনো যেন এককালের প্রতাপ ও গৌরবের কথা মাথা উঁচিয়ে জানান দিচ্ছে। এই বাড়িটার ইটের ভাঁজে ভাঁজে জড়িয়ে আছে তার জন্মপরিচয়, তার অতীত আর রক্তসম্পর্কের শেকড়। এটা তার বাবার বাড়ি—নিজের নাড়ির টানের শেষ ঠিকানা! অথচ আজ জীবনের প্রথমবার সে এই বাড়ির প্রবেশদ্বারের সামনে দাঁড়িয়েছে এক সম্পূর্ণ পরবাসীর মতো। অচেনা, অচেনাক্রান্ত চোখে তার দৃষ্টি আটকে আছে বাড়িটার বন্ধ কাঠের দরজায়।

‎​এদিকে এই তপ্ত দুপুরে রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে মেহুলকে এমন অদ্ভুত, উদাস চোখে বাড়িটির দিকে অপলক চেয়ে থাকতে দেখে হুমা অস্থির হয়ে উঠল। থ্রি-পিসের ওড়নার আঁচল দিয়ে মুখের ঝরঝরে ঘাম মুছতে মুছতে সে মেহুলের পাশে এসে দাঁড়িয়ে বেশ কৌতূহল নিয়ে শুধাল—
‎”অ্যাই মেহু! এভাবে কী দেখছিস তুই বাড়িটার দিকে বল তো? এখানে কি তোর পরিচিত কেউ থাকে? কোনো রিলেটিভের বাসা নাকি এটা?”

‎​মেহুল তার চোখের স্থির দৃষ্টি বাড়িটির ওপর থেকে এক চুলও না সরিয়ে, ধীর ও থমথমে গলায় জবাব দিল—
‎”হয়তো… আবার হয়তো কেউ না।”
‎​হুমা বিরক্তি ও বিস্ময় নিয়ে মেহুলের দিকে তাকাল, “কী সব উল্টোপাল্টা বকছিস তুই?! আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না! উফ, কী ভীষণ গরম আজ! তুই কি এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবি নাকি ভেতরে যাবি?”
‎​মেহুল নিষ্পলক চোখে চেয়ে থেকে খুব নিচু স্বরে বলল, “নাহ।”
‎​হুমা এবার কপালে হাত দিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল, “তাহলে এই চড়া রোদে আমরা এখানে দাঁড়িয়ে কী করছি বল তো? চল না কোথাও গিয়ে ছায়ায় বসি! যা খিদে লেগেছে আর সূর্যের তাপ দেখেছিস? আল্লাহ মনে হয় পুরো দুনিয়ার রোদ আজ এই রাজশাহীর ওপর ঢেলে দিচ্ছেন!”

‎​মেহুল একবার হুমার লাল হয়ে যাওয়া ঘামে ভেজা মুখের দিকে তাকাল। অতঃপর মনের গহীনে জমে থাকা হাজারো না-বলা আক্ষেপ নিয়ে শেষবারের মতো চোখ জোড়া ফেরাল সেই পুরোনো প্রাসাদসম বাড়িটার দিকে। এক পলক বাড়িটিকে বুকের গভীরে গেঁথে নিয়ে সে ধীরপায়ে হুমার সাথে সামনের দিকে পা বাড়াল। তবে কিছুটা পথ হাঁটতে না হাঁটতেই মেহুল বারবার ব্যাকুল হয়ে পেছনের দিকে ফিরে ফিরে দেখতে লাগল—যদি ভাগ্যক্রমে ভেতর থেকে কোনো পরিচিত মুখ বের হয়! যদি জীবনের প্রথমবার নিজের রক্তসম্পর্কের কাউকে একনজর দর্শন করা যায়!

‎​এদিকে মেহুল আর হুমা যখন হেঁটে রাস্তার গলি ধরে সামনের দিকে এগিয়ে গেল, ঠিক তখনই তাদের ঠিক পেছনে একটা স্পোর্টস বাইক এসে সশব্দে থামল।
‎​বাইক আরোহী যুবকটি মাথা থেকে নিজের কালো হেলমেটটি খুলে বাইকের ওপর রাখল। সে কবির!
‎​কবিরের প্রখর নজর গিয়ে পৌঁছাল মেহুলদের বিদায় নেওয়া অবয়বের দিকে, আর তার ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা সেই পুরোনো ডুপ্লেক্স বাড়িটার ওপর। তার চোখেমুখে তখন অপার বিস্ময় আর গভীর কৌতূহল! এই বাড়িটি কবিরের খুব চেনা, অত্যন্ত পরিচিত এক স্থান। নিজের প্রয়োজনে কত শত বার সে এই বাড়ি ভেতরে পদার্পণ করেছে!

‎​কিন্তু মেহুল আর তার বান্ধবী হুমা এই নির্জন, পুরোনো বাড়ির সামনে ঠিক কী কাজে এসেছে?—এই একটা প্রশ্ন কবিরের মাথায় তীব্রভাবে ঘূর্ণিপাক খেতে লাগল!
‎​চোখের সামনে থেকে দুটো মেয়েকে দূরে সরে যেতে দেখে কবির চট করে নিজের পকেট থেকে হাই-রেজুলেশন স্মার্টফোনটি বের করে নিল। লেন্সটা জুম করে দ্রুত আঙুল চালিয়ে সেই পুরোনো বাড়িটির পটভূমিতে হেঁটে যাওয়া মেহুল ও হুমার কয়েকটি স্পষ্ট ছবি পেছনের দিক থেকে ক্লিক করে নিল।
‎​ছবিগুলো সেভ করে পকেটে রেখেই কবির আর এক মুহূর্ত বিলম্ব করল না। বাইকে স্টার্ট দিয়ে, দূর থেকে তাদের অলক্ষে অনুসরণ করার জন্য নিঃশব্দে আবার তাদের পিছু নিল!

‎​জেলা সার্কিট হাউসের কেন্দ্রীয় সম্মেলন কক্ষে এখন রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা।
‎​টেবিলের চারপাশে গম্ভীর মুখে বসে আছেন শহরের প্রধান প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা। জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), র‍্যাবের উচ্চপদস্থ আধিকারিক থেকে শুরু করে গোয়েন্দা বিভাগের বাঘা বাঘা অফিসারদের উপস্থিতি পুরো ঘরের আবহাওয়াকে ভীষণ ভারী করে তুলেছে। পেছনের দিকে প্রেস ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের উপচে পড়া ভিড়, ক্যামেরার ফ্লাশলাইটের ঝলকানি আর মাইক্রোফোনের ঘনঘটা।

‎​বিষয়টা অত্যন্ত সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর! গত কয়েকদিন ধরে এই রাজশাহী শহর থেকে আচমকা একাধিক দুগ্ধপোষ্য ও ছোট ছোট বাচ্চা নিখোঁজ হওয়ার গুরুতর খবর সামনে এসেছে। নিঃশব্দে এক অশুভ ও বিষাক্ত শিশু পাচারকারী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যা পুরো শহরের আইনশৃঙ্খলা আর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে!

‎গত কালকেই​ নাকি হসপিটাল থেকে বাচ্চা চুরি গিয়েছে যার ফলে জনগণের ভেতর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। আর জরনগনের ক্ষোভ শান্ত করতে এবং প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করতে এই জরুরি সাংবাদিক সম্মেলন ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছেন এলাকার জনপ্রিয় ও প্রতাপশালী এমপি মিনহাজ শাহ নেওয়াজ।

‎​মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে দাপুটে ও দৃঢ় কণ্ঠে বক্তব্য রাখছেন এমপি মিনহাজ সাহেব—
‎”রাজশাহীর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। যে অশুভ চক্রই এই ঘৃণ্য কাজে জড়িত থাকুক না কেন, তাদের মূল উপড়ে ফেলা হবে! পুলিশ ও র‍্যাব ইতোমধ্যে শহরজুড়ে বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু করেছে—”

‎এদিকে ​সভার একেবারে প্রথম সারির এক কোণে গম্ভীর অবয়বে বসে আছে সালমান শাহ নেওয়াজ। কিন্তু বাবার এমন গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য বা চারপাশের প্রশাসনের এই তুমুল কোলাহলের মাঝেও সালমানের মনটা যেন অন্য কোনো রহস্যময় জগতে ঘুরে বেড়াচ্ছিল! তার তীক্ষ্ম মনের ভেতরে ঘুরপাক খাচ্ছিল মেহুলের চেহারা আর তার মায়ের সেই পুরোনো অ্যালবামের ছবি আর রহস্যাবৃত এক নাম—’জাবেদ’! কোন অতল অতীতে ঢাকা পড়ে আছে তাদের পরিবারের এই গোপন সত্য?

‎​ঠিক তখনই সালমানের কোটের পকেটে থাকা ফোনটা সাইলেন্ট মোডে মৃদু কম্পিত হয়ে উঠল।
‎​সালমান ধীরহাতে পকেট থেকে ফোনটা বের করল। স্ক্রিনে ভেসে উঠেছে কবিরের নম্বর থেকে আসা পর পর কয়েকটি ছবি ও মেসেজ!
‎​সালমান স্ক্রিনে ট্যাপ করে হোয়াটসঅ্যাপ নোটিফিকেশনটা খুলতেই তার দু-চোখের মণি যেন এক লহমায় স্থির হয়ে গেল!
‎​কবির প্রথম ছবিতে পাঠিয়েছে—সালমানের জীবনের সাথে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা তাদের আদী পুরোনো ডুপ্লেক্স বাড়িটির ছবি! আর সেই বাড়ির মূল ফটকের সামনে মধ্যদিনের তপ্ত রোদে অপলক দৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে আছে মেহুল!

‎​কিন্তু পরের ছবিগুলো দেখেই সালমানের চোখের কোণে ঘন মেঘ নেমে এলো! পরের ছবিটা শহরের এক অভিজাত রেস্টুরেন্টের। সেখানে মেহুল বসে আছে, আর তার ঠিক মুখোমুখি টেবিলে বসে কথা বলছে এক অচেনা দম্পতি—যাদের পুরুষটি অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত, সরকারি উচ্চপদস্থ কোনো অফিসারের মতো আর নারীটিও বেশ আভিজাত্যপূর্ণ। কবিরের পাঠানো স্পষ্ট অ্যাঙ্গেলের ছবিতে সেই দম্পতির মুখ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে!

‎​ছবিগুলোর নিচে কবিরের ছোট একটি টেক্সট ভেসে উঠল—
‎’ভাই, ভাবি আজ দুপুরে হঠাৎ আপনাদের ওই বাড়ির সামনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারপর উনি সোজা এই রেস্টুরেন্টে গিয়ে ওই দম্পতির সাথে দেখা করেন। এখন বাড়ির দিকে যাইতেছে।”

‎​ছবিতে থাকা সেই দম্পতির মুখের দিকে অপলক চেয়ে রইল সালমান। তার সুগঠিত কপালের রগগুলো মুহূর্তে ফুটে উঠল!
‎​মেহুল কেন সালমানের অতীতে জড়িয়ে থাকা ওই নিভৃত বাড়ির সামনে যাবে? ওই বাড়ি তো তার মায়ের, তাহলে মেহুলের সেখানে কি কাজ? ও জানলো কিভাবে, ওর তো জানাশোনা থাকার কথা নয়! আর রেস্টুরেন্টের ওই দম্পতিই বা কারা? কেন মেহুল তাদের সাথে দেখা করছে? ​শহরে একের পর এক বাচ্চা চুরির সক্রিয় চক্র, সালমানের জীবনের সাথে জড়িত সেই বাড়ি, মেহুলের সেখানে ব্যাকুল উপস্থিতি, আর এই অজানা দম্পতির সাথে হঠাৎ গোপন বৈঠক—সবগুলো বিন্দু যেন এক অলৌকিক অদৃশ্য সুতোয় যুক্ত হতে শুরু করল!

শ্রাবণ শেষের রোদ্দুর পর্ব ১৯ (২)

‎​এক নিমেষে রাজনীতি, সভা আর প্রশাসনের সমস্ত কোলাহল সালমানের মস্তিষ্ক থেকে মুছে গেল। তার প্রখর ও ধারালো বুদ্ধিমত্তা তাকে এক অশুভ, বিষাক্ত ও প্রগাঢ় রহস্যের তীব্র গন্ধ এনে দিল! অতঃপর ​সালমান চেয়ার থেকে ধীরপায়ে উঠে দাঁড়াল। তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক বিপজ্জনক, রহস্যময় অবয়ব। সঙ্গে সঙ্গে কবিরের নাম্বারে আরেকটি মেছেজ গেলো—
‎”তোর ভাবিকে এক পলকের জন্যও চোখের আড়াল করবিনা কবির, ওর প্রতি মিনিটের খবর আমার চাই মানে চাই!”

শ্রাবণ শেষের রোদ্দুর পর্ব ২০ (২)