সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ পর্ব ২
jannatul firdaus mithila
“ আমি আবার আজ্ঞাকারী পুরুষ মেডাম! প্রেমিক হিসেবেও যেমন আজ্ঞাকারী, স্বামী হিসেবেও তেমন আজ্ঞাকারী থাকবো বলে আশাবাদী।আপনি চাইলে পরিক্ষা করে দেখতে পারেন।কী হবে না-কি এক-আধটা পরিক্ষা?”
আহিরা থমকায়। নির্বাক হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে রয় নিজ জায়গায়। চোখদুটো তার কবেই নিচু হয়ে এসেছে! সেটা আদৌও এমনি এমনি না-কি লজ্জায় তা বোঝা বড় মুশকিল। ইফতি কিয়তক্ষন একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো মেয়েটার নতমুখ পানে। পরক্ষণেই বুকের কাছে বেঁধে রাখা হাতদুটো ছেড়ে দিয়ে এগিয়ে এলো নিঃশব্দ পায়ে। দাঁড়ালো আহির অভিমুখে। মাথাটা সামান্য নিচু করে আহির কান বরাবর মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললো,
“ আপনি লজ্জাও পান মেডাম?”
হতভম্ব হলো আহি! তড়িৎ চোখদুটো তুলে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকালো ইফতির দিকে। ভাব এমন এই বুঝি চোখের আগুনে পারলে ভস্ম করে দিবে বেচারা ইফতিকে। ইফতি কেমন দুষ্ট হাসলো। পরক্ষণেই মুখে কপট ভয়ার্ত ছাপ ফুটিয়ে বলতে লাগলো,
“ আরে আরে আস্তে মেডাম! আপনার ঐ চোখের আগুনে আমার মন বেচারা সে-ই কবেই ভস্ম হয়ে গেছে! এখন শুধু বাকি আছে এই দেহটা! আপনি কী চাইছেন,এমুহূর্তে আমার এই রোগা-সোগা দেহটুকুও ঝলসে যাক? না মেডাম! এটলিস্ট এটুকু রেহাই দিন আমায়। দেহটা ঠিকঠাক না থাকলে আপনার বাবার সামনে দাঁড়াব কী করে বলুন তো? সামনে না দাঁড়ালে আপনার হাতটাই বা চাইব কীভাবে?”
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
এহেন কথায় আহির যদিও একটু-আধটু লজ্জা পাওয়া উচিত ছিলো তবে সে-তো আবার অন্য ধারার মেয়ে। লজ্জা -টজ্জার ব্যাপারটা তার ধারে কাছে একটু কমই ভীড়ে। আহি মাথা নাড়িয়ে দু-হাত বাঁধলো বুকের কাছে। তারপর বেশ ভাব নিয়ে ভ্রু কুঁচকে সন্দিহান গলায় বললো,
“ শুধু হাত চাইবেন? তা বলি.. এই গোটা আমি টা-তে কী ফোঁসকা পড়েছে না-কি যে আপনি শুধু হাতটাই নিবেন!”
ইফতি হোঁচট খেলো এহেন কথায়। মুহুর্তেই হতবিহ্বল হয়ে গেলো মেয়েটার ওমন আজগুবি যুক্তিতে।সে তৎক্ষনাৎ নিজের সাফাই দেওয়ার সুরে বলে ওঠে,
“ ছিহঃ ছিহঃ আমিতো কথার কথা বললাম আরকি! আমি আসলে শুধু আপনার হাত না, আপনার পুরো.. ইয়ে না মানে পুরো আপনাকেই চাইবো।”
ছেলেটাকে কথার জালে ফাসাতে পেরে মনে মনে বেশ আপ্লূত আহি। তবে বাইরে থেকে নিজের মুখভঙ্গিতে কপট ভাব ধরে রেখে সে কেমন নাক ফুলিয়ে বললো,
“ হয়েছে হয়েছে! আর সাফাই দিতে হবে না।হুহ্! ”
বলেই সে তৎক্ষনাৎ গটগট পা ফেলে চলে গেলো রুম থেকে। এদিকে তার চলে যাওয়া দেখে ফোঁস করে নিশ্বাস ফেললো ইফতি। আপন মনে বিরবির করে বললো,
“ মেয়ে তো নয়, যেন ধানি লঙ্কা! ইয়া খোদা…এই ধানি লঙ্কার প্রতি ভালোবাসা যেমন দিয়েছো তেমনি একে সামলানোর জন্য তৌফিকটাও দাও!!”
সূর্য ধীরে ধীরে পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ছে।তার তেজী আলোটা এখন কেমন নরম হয়ে এসেছে! সোনালি কমলা রঙে মিশে গিয়ে এক অদ্ভুত দীপ্তি ছড়াচ্ছে পশ্চিম দিগন্তে। এয়ারপোর্টের বিশাল কাঁচের দেয়ালে সূর্যের সেই শেষ আলোটা পড়তেই চকচক করছে কাঁচ। দূর থেকে দেখা যাচ্ছে —প্লেনগুলো রানওয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। কেউ নামছে ধীরসুস্থে, কেউ আবার উড়াল দিচ্ছে প্লেনে বসে।
এয়ারপোর্টের চারপাশে মানুষের আনাগোনা। কারও হাতে লাগেজ,তো আবার কারো চোখে বিদায়ের শেষ মুহুর্তের অশ্রু! আবার কারো কারো মুখে প্রিয়জন আসার অপেক্ষা! ঠিক যেমনটা এমুহূর্তে সাব্বির সাহেব, কবির সাহেব এবং তার বাকি দু’ভাইয়ের মুখে ঝলকাচ্ছে। চারজন সে-ই ঘন্টা খানেক আগে থেকে অপেক্ষা করছে। যদিওবা তারা জানেন প্ল্যান ল্যান্ড হতে এখনো বেশ খানিকটা সময় বাকি,তবুও সাব্বির সাহেবের ওতো অধৈর্য্যপনায় অবশেষে বাকিরাও চলে এলেন তারাতাড়ি। বেচারা সাব্বির সাহেব এসেছেন পর থেকে একমুহূর্তের জন্যেও স্থির হননি কোথাও। বারবার জায়গা পরিবর্তন করে হাঁটছেন আর দৃষ্টি ফেলছেন কাঁচের দেয়ালের ওপারে। সঙ্গে আসা কবির সাহেব বারকয়েক তাকে বসতে বললেও তা শুনতে নারাজ সাব্বির সাহেব। তিনি তো অপেক্ষায় আছেন মেয়ের জন্য। ভীষণ অপেক্ষায়!
প্রায় মিনিট বিশেক পর, মাইকে এলান হলো প্ল্যান ল্যান্ডিং এর খবর। তা শোনামাত্রই ধড়ফড়িয়ে কাঁচের দেয়ালের সামনে এগিয়ে আসেন সাব্বির সাহেব। পেছন পেছন বাকিরাও এলেন ধীরেসুস্থে। সাব্বির সাহেবের তৃষ্ণার্ত চোখদুটো মেয়েটাকে একটুখানি দেখার জন্য যেভাবে ছুটছেনা! মনে হচ্ছে মেয়ে বুঝি তার দীর্ঘ এক যুগ পর দে-শে ফিরছে! অবশ্য মেয়ের বাবা বলে কথা। মেয়েদের প্রতি বাবাদের আদরটুকু তুলনামূলক ভাবে একটু বেশিই থাকে।সে কেউ মানুক বা না মানুক! এদিকে সাব্বির সাহেবের এহেন করুণ অপেক্ষা দেখে গলা শুকিয়ে এলো তায়েফ সাহেবের।বেচারা ভাবতে লাগলেন — তার ফুলের মত মেয়ে দুটোর কথা। তারাও তো বড় হচ্ছে! বড়জোর আর ক’টা বছর, তারপর? তারপর তারাও চলে যাবে পরের ঘরে। কথাটা ভাবতেই গাকাঁটা দিয়ে উঠলো তায়েফ সাহেবের।বুকটা কেমন ধড়ফড় করতে লাগলো তার! তিনি মুখ হা করে নিশ্বাস ফেলতে লাগলেন ক্রমাগত। পাশ থেকে তাশরিক সাহেব বেশ খেয়াল করলেন ব্যাপারটা।তিনি অলক্ষ্যে এসে পাশ দিয়ে জড়িয়ে ধরলেন তায়েফ সাহেবকে।চিন্তিত সুরে জিজ্ঞেস করলেন,
“ সেজো ভাই? এই সেজো ভাই? কী হয়েছে তোমার?”
তায়েফ সাহেব সময় নিলেন নিজেকে সামলাতে। পরক্ষণেই ধরে আসা কন্ঠে কোনমতে বললেন,
“ তশু! আমার আহি-মাহিও একদিন আমার ঘর ছেড়ে চলে যাবে তাই-না? আমিও কোনো একদিন মেজো ভাইজানের মতো এভাবেই অপেক্ষা করবো আমার মেয়ে দুটোকে একটুখানি দেখতে। মেজো ভাইজানের ব্যাপারটা নাহয় আলাদা! অরি মামণি আমাদের সাথেই থাকবে।ও দিন-রাত চোখের সামনেই থাকবে আমাদের। তবে আমার মেয়ে দুটো? ওরা তো ঠিকই পরের ঘরে চলে যাবে তাই-না?”
তাশরিক সাহেবের গলা ধরে এলে এমুহূর্তে। সেজো ভাইয়ের প্রতিটি কথাই কেমন বুকে গিয়ে বিঁধল তার।সে খানিক ঢোক গিললো পরপর। সামান্য গলা খাঁকারি দিয়ে স্বান্তনার বাণী আওড়ালো,
“ শক্ত হও সেজো ভাই! নিজেকে সামলাও।মনে নেই বড় ভাইজান কী বলেছিল? তিনি বলেছিলেন — মেয়ের বাবাদের শক্ত হতে হয়। এতটুকু শক্ত, যতটুকু শক্ত হলে মেয়েদেরকে হাসিমুখে বিদায় দেওয়া যায়।”
তায়েফ সাহেব বুঝলেন কি-না কে জানে! তিনি কেমন চোখ বুঁজে নিলেন আলগোছে। মুখটাকে অদূরের আকাশের দিকে তাক করে অস্ফুট স্বরে বললেন,
“ আল্লাহ! ধৈর্য্য দাও!”
হাতে বড় একটা ট্রলি।ট্রলিতে চাপিয়ে রাখা গোটা কয়েকটা লাগেজ। ট্রলির হ্যান্ডেলে একহাত দিয়ে ঠেলছে রৌদ্র। অন্যহাতে অরিনের হাত চেপে এগোচ্ছে সামনে। কিছুটা পথ এগোতেই রৌদ্র পায়ের গতি থামালো। অরিনও দাঁড়িয়ে গেলো সঙ্গে সঙ্গে। সন্দিষ্ট দৃষ্টিতে রৌদ্রের পানে তাকাতেই রৌদ্র হাসলো একটুখানি। শুকনো অধরজোড়া জিভ দিয়ে খানিক ভিজিয়ে নিয়ে বলতে লাগলো,
“ সানশাইন! মনে আছে তো প্লেনে বসে কী বলেছিলাম?”
অরিন গাল বাঁকিয়ে হাসলো।ওপর নিচ মাথা নাড়িয়ে আশ্বস্ত কন্ঠে বললো —“ আলবাত মনে আছে! আপনি যে আমায় হানিমুনে নিয়ে গিয়েছিলেন এটা আমি বাসার কারো সামনে জিকিরই করবোনা।”
রৌদ্র ভ্রু কুঁচকে তাকায়। গম্ভীর মুখে বলে বসে,
“ বলবিনা বলেও এপর্যন্ত সাতবার বলে ফেলেছিস! বাড়ির মানুষের সামনে মুখ ফসকে কথাটা আদৌও বলে বসিস কি-না তা নিয়ে পড়েছি আরেক টেনশনে!”
অরিন ভাবুক হলো এপর্যায়ে।থুতনিতে আঙুল ঠেকিয়ে কী যেন একটা ভেবে বললো,
“ সাতবার বলেছি? কই আমার তো মনে হয় নয়বার বলেছি হানিমুনের কথা!”
তৎক্ষনাৎ মৃদু কপাল চাপড়ায় রৌদ্র। আশেপাশে সর্তক দৃষ্টি বুলিয়ে চুপচাপ এগিয়ে আসে অরিনের নিকট। ঘাড় সামান্য নিচু করে অরিনের কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলে,
“ কী চাই তোর সানশাইন? কী দিলে আপাতত একথাটা পেট থেকে বেরোবে না তোর?”
অরিন বুঝি এতক্ষণ এ কথাটারই অপেক্ষায় ছিলো। সে তৎক্ষনাৎ সুযোগটা লুফে নিয়ে বাঁকা হাসলো। ঘাড় বাকিয়ে রৌদ্রের দিকে চাইলো দুষ্ট চোখে। রৌদ্রের ন্যায় ফিসফিসিয়ে বললো,
“ চিপায় চলো হানি! এসব কথা প্রাইভেটলি বলতে হয়।”
রৌদ্র তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো কিয়তক্ষন। মেয়েটা ইদানিং বেশ বেড়ে গেছে মনে হচ্ছে! বয়সের তুলনায় দ্রুত পেঁকে যাওয়া মেয়েটার ভাবসাব দেখলে মনে হয় — রৌদ্রকে নাকে দড়ি বেঁধে ঘোরানোটাই যেন তার একমাত্র কাজ। রৌদ্র আর কি’বা করবে? চুপচাপ কিছুক্ষণ মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থেকে ট্রলি ঘোরালো রেস্টরুমের দিকে। সেদিকে পা বাড়িয়ে বলে ওঠে,
“ চল!”
অরিনও নিঃশব্দে পা বাড়ায় রৌদ্রের পিছুপিছু। দুজনে রেস্টরুমে এসে দাঁড়ালো পাশাপাশি। রৌদ্র তখন অরিনের দিকে তাকিয়ে তাড়া দেখিয়ে জিজ্ঞেস করে,
“ ঝেড়ে কাশ কী লাগবে?”
অরিন দুষ্ট হাসলো। একবার আশেপাশে সর্তক দৃষ্টি বুলিয়ে দেখে নিলো কেউ আছে কি-না। কাউকেই তেমন চোখে না পড়ায় সে কেমন বাঁকা চোখে তাকিয়ে, এগিয়ে এলো দু-কদম। রৌদ্রের একদম কাছাকাছি এসে ছেলেটার বুকের বাঁপাশে হাত রাখলো আলতো করে। অতঃপর ঠোঁটের কোণে আবেদনময়ী হাসির ঝলক টেনে হাস্কি স্বরে বললো,
“ তোমাকে লাগবে হানি!”
রৌদ্র কিয়তক্ষন একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে পরক্ষণেই দুষ্ট হাসলো। অরিনের ঘোলাটে হয়ে আসা চোখদুটোর দিকে স্থির দৃষ্টি রেখে হিসহিসিয়ে বললো,
“ আগে বাসায় চল সানশাইন! যত লাগবে সবটুকুই দিবো।”
অরিনের হাতটা ধীরে ধীরে বুক হতে গড়িয়ে আসছে পেটের ওপর। সেথায় কিছুক্ষণ স্লাইড করতে করতে সে আবারও বললো,
“ আমার বেবি লাগবে ডাক্তার সাহেব! এন্ড ইটস ফাইনাল। ”
তৎক্ষনাৎ মুখাবয়বে পরিবর্তন ঘটলো রৌদ্রের। হাসি হাসি মুখখানা তার মুহুর্তেই গম্ভীর হয়ে গেলো কেন যেন। সে তৎক্ষনাৎ নড়েচড়ে দাঁড়িয়ে গম্ভীর মুখে বললো,
“ আগেও বলেছি এখনও বলছি সানশাইন! তুই এখনো খুব ছোট। বেবি ক্যারি করার জন্য তোর বয়স হয়নি জানবাচ্চা। কেনো বুঝছিস না তুই?”
অরিন আগের ন্যায় নিজ সিদ্ধান্তে অটল থেকে ফের বললো,
“ আমার চাইতেও কমবয়সী মেয়েদের বাচ্চা হচ্ছে ডাক্তার সাহেব! আমি ওতোটাও ছোট নই।”
রৌদ্র এবার ভ্রু কুঁচকায়।দৃঢ় চোয়ালখানা শক্ত করে ফুটিয়ে, দাঁত কিড়মিড় করে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। পরক্ষণেই হাত বাড়িয়ে মেয়েটার কনুই চেপে ধরে গম্ভীর মুখে বললো,
“ বাসায় চল! এখন এসব নিয়ে ডিসকাস করার সময় নয়।”
বলেই সে উদ্যোত হয় অরিনকে নিয়ে সামনে এগোতে। তবে বাঁধ সাধলো অরিন। চট করে রৌদ্রের হাত থেকে নিজের কনুই ছাড়িয়ে নিয়ে শক্ত গলায় বলে ওঠে,
“ নাহ! আমি যাবোনা।প্রতিবার আপনার কথাই শেষ কথা হবে না ডাক্তার সাহেব।”
রৌদ্রের মেজাজ চটলো দ্বিগুণ। সে দাঁতে দাঁত চেপে নাক ফুলিয়ে নিশ্বাস ফেললো দীর্ঘ। পরক্ষণেই শক্ত হাতে নিজের ঘাড় ম্যাসাজ করতে করতে বাঁকা চোখে তাকালো অরিনের দিকে। সময় নিয়ে বললো,
“ তোর মনে হচ্ছেনা তুই বেশি করছিস?”
অরিন মুখ বাঁকিয়ে অন্যত্র তাকায়। এতেই যেন আগুনে ঘি পড়লো রৌদ্রের।ছেলেটা ফোঁস করে নিশ্বাস ফেলে বিরবিরিয়ে বললো,
“ ড্যাম! ফা*ক!”
বলেই সে এগিয়ে এসে শক্ত করে চেপে ধরে অরিনের ডানহাতের কনুই। অতঃপর অরিনকে একপ্রকার টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় কাউন্টারের সামনে। সেথায় দাঁড়িয়ে থাকা কর্মরত কর্মীকে পকেট থেকে মানিব্যাগটা বের করে চকচকে তিনটে এক হাজার টাকার নোট এগিয়ে দিয়ে বাঁকা হেসে বলে,
“ ডোন্ট ডিস্টার্ব! ”
কথায় আছে — বুদ্ধিমানকে ইশারাই যথেষ্ট। কর্মীর ক্ষেত্রেও বুঝি তা-ই হলো। সে তৎক্ষনাৎ টাকাগুলো বাহাতে বুকপকেটে গুঁজে অন্যহাতে ইশারা করলো ডানদিকে। রৌদ্রও আর সময় নষ্ট না করে অরিনকে টেনেটুনে নিয়ে গেলো ডানদিকের কমন রুমে। সেথায় ঢুকেই অরিনের হাতটা ছেড়ে দিয়ে দরজাটা লাগিয়ে দিলো বাহাতে। এদিকে অরিন স্তব্ধ! কী থেকে কী হচ্ছে তা-ইতো বুঝে আসছেনা তার। সে আগ বাড়িয়ে রৌদ্রকে কিছু জিজ্ঞেস করবে তার আগেই তার ওপর একপ্রকার ক্ষুব্ধ বাঘের ন্যায় ঝাপিয়ে পড়ে রৌদ্র। একহাতে অরিনের ক্ষুদ্র মুখখানা খানিক উঁচুতে তুলে,পরমুহুর্তেই ঠোঁটের ভাঁজে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো আলগোছে। অরিন চোখ বড়সড় করে তাকিয়ে রইলো। ঘটনার আকস্মিকতায় বেচারি তব্দা খেয়েছে যেন।পলকটাও কেমন পড়ছেনা তার। ওদিকে রৌদ্রের ঠোঁটের পরশ ক্রমশ গাঢ় হচ্ছে। অরিনের নরম অধরযুগলের ওপর ক্ষনে ক্ষনে বসানো দাঁতের স্পর্শ স্পষ্ট জানান দিচ্ছে রৌদ্রের অঘোষিত আক্রোশের কথা। অরিন কেঁপে কেঁপে ওঠছে বারবার। তার কম্পনরত হাতদুটো তৎক্ষনাৎ বুক বরাবর ঠেলতে লাগলো রৌদ্রকে।তবে রৌদ্র আজ আর ছাড়ছেনা।
সে ব্যস্ত নিজের আক্রোশ মেটাতে।তার শক্তপোক্ত দাঁতের লাগামহীন কামড়ে ব্যথায় নীল হয়ে আসছে অরিন।মেয়েটার চোখ বেয়ে তৎক্ষনাৎ গড়িয়ে পড়লো দুফোঁটা অশ্রু। রৌদ্র নিজের কাজ বহাল রেখেই একপলক তাকালো সেদিকে।মুহুর্তেই জিভে কেমন ক্ষারীয় স্বাদ অনুভব হতেই সে সময় নিয়ে ছাড়লো অরিনের ঠোঁটজোড়া। অরিন ছাড়া পাওয়া মাত্রই বুকে হাত ঠেকিয়ে পাগলের মতো নিশ্বাস ফেলতে লাগলো। তার ঠোঁট দুটো যা জ্বলছে না! মনে হচ্ছে কেউ বুঝি ইচ্ছে করে এক মুঠো মরিচগুঁড়া ডলে দিয়েছে তার ঠোঁট বরাবর। রৌদ্র নাক দিয়ে ঘনঘন নিশ্বাস ফেলে ক্ষুদ্র চোখে তাকিয়ে রইলো। হাত বাড়িয়ে মেয়েটার কেটে যাওয়া ঠোঁটের ওপরটা খানিক স্পর্শ করতে নিলেই হকচকিয়ে ওঠে অরিন। ভয়ে কিছুটা পিছিয়ে যায় তৎক্ষনাৎ।
তা দেখে ঠোঁট পিষে হাসলো রৌদ্র। অরিনের থুতনিতে আঙুল ঠেকিয়ে মুখটা সামান্য উঁচু করে নির্বাক চোখে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। তারপর হুট করেই বলা কওয়া ছাড়া অরিনের সদ্য কেটে যাওয়া ঠোঁটটাকে আবারও টেনে ধরলো নিজের ঠোঁটের ভাঁজে। পুরোটা লহু শুষে নিয়ে তবেই ছাড়লো সে। অরিনের বুক কাঁপছে। রৌদ্র হয়তো টের পেয়েছে তা। তবুও নিজের চিরায়ত স্বভাবটাকে যথাসম্ভব খোলসে আবৃত রেখে একহাতে ধীরেসুস্থে অরিনের মাথার হিজাবটা খুলতে লাগলো। অরিন বাঁধা দিলোনা।বাঁধা দিয়ে থোড়াই বাশঁ খাবে? মেয়েটা যে কী করে ভুলে গেলো এই লোকের ঘাড়ত্যাড়ামি সহ্য হয়না! এর সুষ্ঠু নিদর্শন তো সে বিদেশ যাত্রাতেই পেয়েছে বেশ ভালোভাবে। তারপরও যে কেনো এমনটা করতে গেলো! করেছে তো করেছে, এবার সাজা বুঝুক।
প্রায় মিনিট দুয়েকের প্রচেষ্টায় রৌদ্র সক্ষম হলো অরিনের মাথার হিজাবটা খুলে নিতে। হিজাবটা খুলেই সেটাকে ফেলে দিলো নিচে। অতঃপর অরিনের দিকে তাকালো ঘোলাটে চোখে। ঘোলাটে দৃষ্টি অরিনের মুখমন্ডল থেকে নেমে কন্ঠদেশে এসে ঠেকতেই তার ঠোঁটের কোণে দেখা মিললো বাঁকা হাসির রেশ। মেয়েটার সম্পূর্ণ কন্ঠদেশ জুড়ে স্পষ্ট জ্বলজ্বল করছে তারই দেওয়া কালচে হয়ে আসা দাগগুলো। রৌদ্র তৎক্ষনাৎ এগিয়ে এসে মেয়েটার কন্ঠদেশে মুখ ডুবিয়ে দেয়। সেথায় আলতো ঠোঁটের পরশ একেঁ হাস্কি স্বরে বলে ওঠে,
“ জানিস আমি পাগলাটে স্বভাবের মানুষ। তারপরও কেন আমায় পাগল করিস সানশাইন? তোর কাছে এলেই তো নিজেকে সামলাতে হিমশিম খেতে হয় আমার।সেখানে তুই আমাকে বারবার নিজের কাছে টেনে আনলে আমি কীভাবে নিজেকে আটকাই বল?”
অরিন নিশ্চুপ! রৌদ্রের ঠোঁট,জিভের অবাধ্য বিচরণে আপাতত কুপোকাত সে। তার সম্পূর্ণ কায়াজুড়ে মুহুর্তেই খেলে গেলো এক ছটাক বিদ্যুৎ! নিজেকে ঠিকঠাক সামলাতে না পেরে সে তৎক্ষনাৎ খামচে ধরে রৌদ্রের ঘাড়।রৌদ্র হাসলো বোধহয়। পরমুহূর্তেই অরিনের কোমর আঁকড়ে তাকে উঁচিয়ে তুললো সামান্য। অরিনের চোখে চোখ রেখে তাকে নিয়ে বসালো পাশের সিঙ্ক কাউন্টারের ওপর। তারপর আবারও ঝাপিয়ে পড়লো অরিনের মাঝে। অরিনের নরম গোলাপি অধরজোড়ার ওপর একপ্রকার কর্তৃত্ব চালাচ্ছে রৌদ্র।ঠোঁটের কাজ বহাল রেখে রৌদ্রের ব্যস্ত হাতদুটো ধীরেসুস্থে মেয়েটার পরনের জামাটা নামিয়ে দিলো কাঁধ হতে। পরক্ষণেই আলতো করে ঠোঁট বসালো অরিনের উম্মুক্ত কাঁধে। তার হাতদুটোর স্পর্শ মেয়েটার কোমল স্থানে পড়তেই অরিনের কন্ঠফুড়েঁ অস্ফুটে বেরিয়ে আসে মৃদু শীৎকার ধ্বনি। যা মুহুর্তেই আরেকধাপ পাগল করে তুললো রৌদ্রকে। সে আশ্লেষে কাছে টেনে নেয় দূর্বল অরিনকে।
অরিন থামাচ্ছেনা তাকে! তাছাড়া এই পাগলকে থামাবার মতো সাধ্যি আছে তার? রৌদ্রের হাতদুটো আবারও মত্ত হলো তাদের বেহায়া স্পর্শে মেয়েটাকে নিঃশব্দে গুড়িয়ে দিতে। সম্পূর্ণ কায়াজুড়ে রৌদ্রের অবাধ বিচরণে কাঁপছে অরিন। তার ঠোঁট দুটো কেমন তিরতির করে কাপঁছে।রৌদ্র এবার মুখ তুললো অরিনের কন্ঠা হতে। ঘোলাটে চোখে তাকালো কাপত্রয়ী মেয়েটার পানে। অরিনের তিরতির করে কাপতেঁ থাকা রক্তা*ক্ত ওষ্ঠদ্বয় ব্যাপকভাবে উম্মাদ করছে তাকে।রৌদ্র আর সামলাতে পারলোনা নিজেকে। তৎক্ষনাৎ মেয়েটার কন্ঠা একহাতে আলতো করে চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বলে,
“ সরি হানি! বাট আই ব্যাডলি নিড ইউ রাইট নাও!”
অরিন নিভু নিভু চোখে তাকায় একপলক। মুখ খুলে কিছু বলবে তার আগেই তার চোখ আটকালো রৌদ্রের হাতের দিকে। যা আপাতত ব্যস্ত হয়েছে তার প্যান্টের জিপ খুলতে! অরিন তৎক্ষনাৎ হকচকিয়ে ওঠে। ভয়ার্ত কন্ঠে মিনমিনিয়ে বলে,
“ ডাক্তার সাহেব! এটা এয়ারপোর্ট।”
“ হু দা হেল ফা*কিং কেয়ারস এবাউট দেট?”
এয়ারপোর্টের এক্সিট দিয়ে একে একে বেরিয়ে গেলো সকল যাত্রী। অধীর আগ্রহে অপেক্ষারত সাব্বির সাহেব এদিক ওদিক এলোমেলো দৃষ্টি ফেলছেন। তবে নাহ! মেয়ে কিংবা মেয়ের জামাই দুজনেরই কোনরূপ পাত্তা নেই। কোথায় আছে ছেলেমেয়ে দুটো কে জানে! চিন্তিত সাব্বির সাহেব উদাস মুখে বড় ভাইয়ের দিকে চোখ ফেললেন। মুখ ভার করে বলতে লাগলেন,
“ ভাইজান! ওরা এখনো এলোনা যে!”
কবির সাহেবও একইরকম চিন্তিত। তবে বাইরে থেকে মুখভঙ্গি যথেষ্ট গম্ভীর রেখে মাথা নাড়লেন শুধু। একহাতে আলতো করে ভাইয়ের কাঁধ জড়িয়ে বললেন,
“ আহা! এসে পড়বে তো।এতো টেনশন নেওয়ার কী আছে?”
চিন্তিত সাব্বির সাহেব মুখে হাসলেও মনে মনে বেশ বিচলিত।
অন্যদিকে, ক্লান্ত দেহটা নিয়ে একেবারে নেতিয়ে পড়েছে অরিন। রৌদ্রও মেয়েটার ওপর ভর ছেড়ে ঘনঘন নিশ্বাস ফেলছে ক্রমাগত। ঘর্মাক্ত গা বেয়ে টুপটুপ করে ঝড়ে পড়ছে ঘামের কণা। রৌদ্র সময় নিয়ে সরে এলো অরিনের কাছ থেকে। পরনের প্যান্টটা টেনেটুনে ঠিকঠাক করে নিলো আলগোছে। পরমুহূর্তেই মেঝেতে অবহেলিত আকারে পড়ে থাকা শার্টটা তুলে গায়ে জড়ালো রৌদ্র। পরিশেষে নিঃশব্দে এগিয়ে এলো অরিনের কাছে। নেতিয়ে পড়া মেয়েটাকে যত্নের সাথে কাপড়গুলো পড়িয়ে দিলো রৌদ্র। পাশের সিঙ্ক থেকে পানি দিয়ে অরিনের মুখটাও ধুয়ে দিলো যত্ন করে। অরিন মাথা নুইয়ে বসে আছে। রৌদ্র মেয়েটার কপাল বরাবর শব্দ করে চুমু খেয়ে, দুষ্ট কন্ঠে বলে ওঠে,
“ ইট ওয়াজ সাচ আ ওয়ান্ডারফুল এক্সপেরিয়েন্স হানি! আই রিয়েলি ইনজয়েড ইট।আ’ম শিওর ইউ ডিড টু!”
এহেন বাক্য কর্ণকুহরে পৌঁছাতেই কানদুটো ঝা ঝা করে উঠলো অরিনের। নুইয়ে রাখা মাথাটা তার আরও খানিকটা নুইয়ে গেলো তক্ষুনি। রৌদ্র আড়চোখে দেখলো সবটা। সে আলতো করে হাত রাখলো মেয়েটার দুগালে।মুখটা সামান্য উঁচু করে বাঁকা হেসে বললো,
“ এবার বলো হানি! বাসায় গিয়ে বলবে আমরা লান্ডান কেনো গিয়েছিলাম?”
অরিন ভুলবশত ওপর নিচ মাথা নাড়াতে গিয়েও তৎক্ষনাৎ নিজেকে শুধরে নিয়ে ডানে-বামে মাথা নাড়ালো। রৌদ্র হাসলো ঠোঁট পিষে। অরিনের কেটে যাওয়া ঠোঁটের দিকে সুক্ষ্ম দৃষ্টি ফেলে বলে ওঠে,
“ এখন কী বাসায় যাবে? না-কি আরেকবার চলবে?”
তৎক্ষনাৎ হকচকিয়ে ওঠে অরিন। চকিত দৃষ্টি ফেলে চেচিয়ে উঠে একপ্রকার। বলে,
“ এই না না! একদম না।চলুন চলুন।”
রৌদ্র অন্যত্র মুখ ঘুরিয়ে নিঃশব্দে হাসলো। অরিন তড়িঘড়ি করে সিঙ্ক থেকে নেমে এসে দৌড়ে চলে গেলো বাইরে।রৌদ্রও কিয়তক্ষন নিজেকে ঠিকঠাক করে নিয়ে অবশেষে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে।
দূর্বল চোখজোড়া নিয়ে এক্সিটের বাইরে তাকিয়ে আছেন সাব্বির সাহেব। ঠিক এমন সময়, পেছন থেকে ভেসে আসে তার আদুরে মেয়ের কন্ঠ।
“ বাবাই!”
তড়িৎ পেছনে ফিরলেন সাব্বির সাহেব। সামনে থেকে মেয়েকে দৌড়ে আসতে দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলেননা বেচারা। নিজেও ছুটে গেলেন মেয়ের কাছে। দু’হাতে মেয়েকে বুকের মাঝে লুকিয়ে নিয়ে চুপচাপ মেয়েকে জড়িয়ে রাখলেন কিয়তক্ষন।খা খা করতে থাকা বুকটা তবে এতক্ষণে ঠান্ডা হলো তার। তিনি সময় নিয়ে মেয়েকে বুক থেকে সরালেন। মেয়ের হাসিমুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। তবে তার দৃষ্টি গিয়ে ঠেকলো মেয়ের কেটে যাওয়া ঠোঁটের দিকে। সাব্বির সাহেব আঁতকে ওঠেন তা দেখে। চিন্তিত মুখে মেয়েকে জিজ্ঞেস করলেন,
“ মা! তোমার ঠোঁট কাটলো কীভাবে?”
হাসি হাসি মুখখানা তৎক্ষনাৎ থমথমে হয়ে গেলো বেচারি অরিনের। সে নজর ঘুরিয়ে একপলক পেছনে তাকাতেই দেখে — রৌদ্র তার চাচাদের সাথে কুশলাদি বিনিময়ে ব্যস্ত! অরিন তখন ফোঁস করে নিশ্বাস ফেললো। কথা কাটাতে মিথ্যা বললো,
“ ঘুমের ঘোরে দাঁতের সাথে লেগে গিয়ে ব্যাথা লেগেছে আব্বু!”
সাব্বির সাহেব ভ্রু গোটালেন।এ আবার কেমন যুক্তি তাই হয়তো ভাবছেন তিনি। তবে তিনি মেয়েকে আর ঘাঁটলেন না এ নিয়ে। বরঞ্চ মনের মাঝে জমিয়ে রাখা বাদবাকি কথাগুলো মেয়ের সঙ্গে বলতে লাগলেন হাসিমুখে। ওদিকে রৌদ্র পেছনে দাঁড়িয়ে বাকিদের সাথে কথা চালালেও তার নিখাঁদ দৃষ্টি এখনো নিবদ্ধ অরিনের দিকে। তাশরিক সাহেব কথাবলার একপর্যায়ে খেয়াল করলেন ব্যাপারটা। খানিক টিপ্পনী কেটে বললেন,
“ এহেম এহেম! বলি রোদ! মেয়েটা কিন্তু অন্য কোথাও যাচ্ছে না। ও আমাদের সাথে, আমাদের বাড়িতেই যাচ্ছে। তাই দেখাদেখির পর্যায়টা নাহয় বাড়িতে গিয়েই কমপ্লিট করিস।কেমন?”
রৌদ্র ধীরেসুস্থে নজর সরিয়ে আনলো অরিনের ওপর থেকে। স্মিত হেসে হাত বাড়িয়ে মাথা চুলকিয়ে বলে ওঠে,
“ ওকে!”
এহেন কথায় তায়েফ সাহেব এবং তাশরিক সাহেব দুজনেই গা দুলিয়ে হাসছেন।ঠিক তখনি তিনজনের হাসিঠাট্টার মাঝে এসে উপস্থিত হলেন গম্ভীর মুখো কবির সাহেব। রৌদ্র তৎক্ষনাৎ সটান হয়ে দাঁড়িয়ে বাবাকে সালাম দিয়ে কুশলাদি জিজ্ঞেস করলো।কবির সাহেব গম্ভীর মুখেই প্রতিত্তোর করলেন। কিয়তক্ষন বাদে তিনি কেমন সন্দিহান গলায় জিজ্ঞেস করেন,
সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ পর্ব ১
“ ফ্লাইট তো প্রায় দেড় ঘন্টা আগে ল্যান্ড হলো।সবাই বেরিয়ে গেলো অথচ তোমাদের আসতে এতো লেট হলো যে? তা কোনো সমস্যায় পড়েছিলে না-কি?”
রৌদ্র ভীষণ ভদ্রলোক! ভদ্রতার সাথে ডানেবামে মাথা নাড়িয়ে শান্ত কন্ঠে বললো,
“ না আব্বু! কোনো সমস্যায় পড়িনি। একচুয়েলি একটা জরুরী ফাইল ঘাঁটছিলাম তাই লেট হয়ে গেলো!”
