Home সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি ২য় খন্ড সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি ২য় খন্ড পর্ব ৪৫+৪৬

সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি ২য় খন্ড পর্ব ৪৫+৪৬

সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি ২য় খন্ড পর্ব ৪৫+৪৬
Jannatul Firdaus Mithila

“ অনিক! গাড়ি বের কর!”
তৎক্ষনাৎ দুশ্চিন্তায় পড়ে যায় অনিক।তার রোদ ভাই যেভাবে রেগে গেছে, আজ নিশ্চিত ঐ ছেলেগুলোর কপালে শনি লাগবে! অনিক চিন্তিত মুখে খানিকটা এগিয়ে আসে রৌদ্রের নিকট।ধীর স্বরে বলে,
“ ভাইয়া আমি যাচ্ছি! তুমি নাহয়….”
অনিকের কথা শেষ হবার আগেই ঘাড় বাকিয়ে, শক্ত মুখে তার দিকে ফিরলো রৌদ্র।রৌদ্রের রক্তবর্ণ হয়ে আসা চোখদুটো, শক্ত করে ফুটিয়ে তোলা দৃঢ় চোয়ালখানা দেখে অনিক থমকে দাঁড়ালো একমুহূর্তের জন্য। পরক্ষণেই রৌদ্রের ওপর থেকে দৃষ্টি নামিয়ে, সে মিনমিনে স্বরে বললো,

“ ভাইয়া…না বলছিলাম যে… !”
রৌদ্র এবার চোখ বন্ধ করে নেয়। দাঁতে দাঁত চেপে শক্ত গলায় খেঁকিয়ে ওঠে,
“ তোরে গাড়ি বের করতে বলছিনা?”
এহেন ধমকে চুপসে গেলো বেচারা অনিক।মুখের কথাটা বুঝি মুখেই থেকে গেলো তার! সে ফোঁস করে নিশ্বাস ফেলে। মাথাটা নিচু রেখে দ্রুত কদমে এগিয়ে যায় গাড়ির কাছে। ড্রাইভিং সিটে বসতেই মনে মনে বলে ওঠে,
“ কার জানি আজকে হাত-পা ভাঙে আল্লাহই ভালো জানেন!”
এদিকে রৌদ্র অরিনের অন্যহাতটা আলতো করে ধরে, তাকে বসিয়ে দেয় ব্যাকসিটে।এবং নিজেও মেয়েটার পাশে বসে পড়ে। অনিক তাদের গাড়িতে বসতে দেখে গাড়ি স্টার্ট দেয়।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

গাড়ি চলছে আপন গতিতে। প্রতিটি মুহুর্ত যেমন পেরুচ্ছে, সেই সাথে পাল্লা দিয়ে চিন্তা বাড়ছে অনিকের। ছেলেটা ভাবুকের মতো একহাত মুখের সামনে এনে,অন্যহাতে দক্ষতার সঙ্গে গাড়ি চালাচ্ছে। এদিকে,পেছন সিটে রৌদ্র বসে সাপের মতো ফোঁস ফোঁস করছে।ছেলেটা একটু পরপর অরিনের ব্যাথা লাগা হাতটার পানে তাকাচ্ছে আর নিজের চুল চেপে ধরছে শক্ত হাতে। অরিন ভিতু চোখে এক-আধবার তাকাচ্ছে ছেলেটার পানে।এ মুহুর্তে রৌদ্রের সঙ্গে কথা বলতে কেন যে এতো ভয় লাগছে তার! সেদিন শেষবার যখন তামিমকে মারতে দেখেছিলো, তারপর থেকেই রৌদ্রের এহেন রাগ দেখলে বুক কাপেঁ মেয়েটার!
অরিন হালকা নড়েচড়ে বসে। ধীরে ধীরে একহাত রাখে রৌদ্রের উরুর ওপর। রৌদ্র গাড়ির জানালার ওপর একহাত ঠেকিয়ে, মুখের সামনে ধরে বাইরে তাকিয়েছিলো কটমট দৃষ্টিতে।হঠাৎ অরিনের স্পর্শে আড়চোখে তাকায় রৌদ্র। গম্ভীর কন্ঠে বলে ওঠে,

“ কিছু বলবি?”
অরিন বুঝি সাহস পেলো কিছুটা! সে মৃদু হাসার চেষ্টা চালিয়ে মিনমিনিয়ে বললো —
“ ইয়ে…বলছিলাম যে..এখন নাহয় এসব থাক..আমিতো ঠিক… ”
বাকিটা আর বলতে পারলোনা বেচারি। তার আগেই রৌদ্রের কটমট দৃষ্টি দেখে কথাগুলো গলাতেই আটঁকে গেলো তার! অরিন ফাঁকা ঢোক গিললো খানিকটা।দৃষ্টি নামিয়ে মাথাটা নুইয়ে ফেললো তৎক্ষনাৎ। কিয়তক্ষন বাদেই তার কর্ণকুহরে পৌঁছালো রৌদ্রের দাঁত কিড়মিড় করা কন্ঠ!
“ আমার বউয়ের গায়ে হাত দিয়েছে, এমন বাপের ব্যাটাদের কলিজা কতবড় তা না দেখে ক্ষ্যান্ত হচ্ছি না আমি!”
অরিন ঘাবড়ে গিয়ে, সঙ্গে সঙ্গে মাথা উঠিয়ে রৌদ্রের দিকে তাকায়। দেখতে পায় — ছেলেটার হলদেটে ফর্সা চেহারাটা কেমন রক্তবর্ণ ধারণ করেছে রাগে।দৃঢ় চোয়ালখানা ফুটে ওঠেছে আরেকটু শক্ত হয়ে।না জানি আজ কি না-কি হয়!

প্রায় মিনিট বিশেক পর অনিকের গাড়ি এসে থামলো ভার্সিটির গেটের মুখে। রৌদ্র অরিনের হাতটা ধরে, গাড়ি থেকে বের হলো।অনিকও বের হলো পিছুপিছু। রৌদ্র অরিনের হাতটা ছেড়ে দিয়ে গাড়ির ডিঁকির কাছে গিয়ে দাঁড়ায়।কিয়তক্ষন বাদেই ফিরে আসে একটা লম্বা হকিস্টিক হাতে নিয়ে। রৌদ্র হকিস্টিকটা একহাতে নিয়ে, অন্যহাতের শার্টের হাতা গোটাতে থাকে। অনিক ঘাবড়ে যায় রৌদ্রের হাতে হকিস্টিক দেখে।ছেলেটা আঁতকে ওঠে জিজ্ঞেস করে,
“ ভাইয়া! এটা কোথায় পেলে তুমি?”
রৌদ্র হাতা গোটাতে গোটাতেই বলে ওঠে,
“ ওসব জেনে তোর লাভ নেই!”
বলেই সে অরিনের দিকে তাকায়। অরিনের হাতটা আলতো করে চেপে ধরে বলে ওঠে,

“ চল!”
কথাটা শেষ করে অরিনকে আর কিছু বুঝে ওঠবার সুযোগ অবধি দিলো না রৌদ্র। একপ্রকার টানতে টানতে মেয়েটাকে নিয়ে চললো ভার্সিটির ভেতরে।
ছেলেটা ব্যস্ত পায়ে সামনের দিকে হাঁটছে তো হাঁটছেই! থামাথামির নামগন্ধও নেই! ওদিকে তার পায়ে পা মিলিয়ে এগোতে যেন বড় বেগ পোহাতে হচ্ছে বেচারি অরিনের। রৌদ্র প্রায় প্রতিটি ছেলের দিকে ইশারা করে অরিনকে একাধারে জিজ্ঞেস করে যাচ্ছে — এ-ই কি সেই ছেলে?
অরিন বরাবরের ন্যায় মাথা নাড়িয়ে না জানায়। একদিকে রৌদ্রের ভয়,অন্যদিকে ছেলেগুলোর পরবর্তী অবস্থার কথা চিন্তা করে মনে ওঠা কিঞ্চিত কম্পন — দুটো মিলিয়েই মেয়েটার ক্ষুদ্রাকার দেহখানি বুঝি এই অসাড় হয়ে এলো বলে! রৌদ্র এপর্যায়ে থামলো।মেয়েটাকে একটানে নিজের সামনে এনে দাঁড় করিয়ে শক্ত গলায় বলতে লাগলো,

“ এই এদিকে তাকা!”
অরিন ধীরে ধীরে মাথা তোলে। রৌদ্রের দিকে তাকাতেই রৌদ্র মেয়েটার মুখের সামনে আঙুল উঁচিয়ে হিসহিসিয়ে বলে,
“ একদম কাওকে বাঁচানোর জন্য মিথ্যা বলবি না সানশাইন! আদারওয়াইজ, এর পরিনতি ঠিক কতটা ভয়াবহ হবে তার কোনো গ্যারান্টি আমি দিতে পারবোনা! সো তারাতাড়ি বল, এখানের কোন ছেলেটা!”
অরিন পরপর মাথা ঝাকায়। শুষ্ক ফাঁকা ঢোক গিলে এদিক ওদিক দৃষ্টি ঘুরিয়ে সেই ছেলেদুটোকে খুঁজতে থাকে। কিয়তক্ষন বাদে পেয়েও যায় তাদের। ছেলেদুটো অদূরের বটগাছটার নিচে বসে একমনে সিগারেট টেনে যাচ্ছে! অথচ এটা যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সেই খবরটিও বুঝি নেই তাদের! অরিন এক কদম পিছিয়ে আসে।রৌদ্রের দিকে তাকিয়ে ইশারায় ছেলেদুটোর দিকে আঙুল তাক করে বলে,

“ ঐ যে লাল গেঞ্জি পড়া ছেলেটা আর তার পাশে বসা সাদা শার্ট পড়া ছেলেটা। এরা দুজনেই… ”
বাকিটা আর বলতে পারলোনা মেয়েটা। তার আগেই রৌদ্র অনিকের দিকে তাকিয়ে রাশভারী কন্ঠে বলে ওঠে,
“ অনিক! ওকে নিয়ে গাড়িতে বসা।আর হ্যা, খেয়াল রাখবি — ও যেন একটুর জন্যও বাইরে না বের হয়!”
অনিক বাধ্য ছেলের মতো মাথা নাড়িয়ে অরিনের হাত ধরে, তাকে নিয়ে হাঁটা ধরে গাড়ির দিকে।অরিন যেতে যেতে প্রায় কয়েকবার পেছনে তাকায়।হয়তো মেয়েটা আতঙ্কে আছে তার ডাক্তার সাহেবের পরবর্তী কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে!
এদিকে রৌদ্র শার্টের হাতা গোটাতে গোটাতে এগিয়ে আসে ছেলে দুটোর কাছে।এসেই কোনরূপ আগাম সংকেত ছাড়াই সজোরে লাথি বসিয়ে দেয় লাল গেঞ্জি পরিহিত ছেলেটার পিঠ বরাবর। হঠাৎ আক্রমনে তাল সামলাতে না পেরে ছেলেটা খানিকটা দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে। উবু হয়ে বসে কাতরাতে থাকে সশব্দে। অন্যদিকে,
তার পাশে বসা ছেলেটাও কেমন হতভম্ব হয়ে গেছে এহেন কান্ডে। প্রায় মুহুর্ত খানেক ব্যাবধানে নিজের সকল হতভম্বতা কাটিয়ে ওঠার আগেই— রৌদ্র তার হাতে থাকা হকিস্টিকটা দিয়ে বেধড়ক মারতে থাকে ছেলেটাকে।ছেলেটা নিজেকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে অথচ লাভের লাভ কিছু হলোই না! রৌদ্র বুঝি আজকে আর কোনো কিছুর পরোয়া ছাড়াই পিটিয়ে যাবে এদের। রৌদ্র একের পর এক হিংস্র মারে দাপিয়ে যাচ্ছে ছেলেগুলোর ওপর।ছেলেদুটোর মধ্যে থেকে একজন বহুকষ্টে থেমে থেমে বলে, — কে তুই? এভাবে মারছিস কেনো আমাদের?”
রৌদ্র বুঝি আরেকদফা মেজাজ হারালো। সে রাগে গজগজ করতে করতে বলতে লাগলো,

“ তোর বাপ লাগি! আর আমার বউয়ের গায়ে হাত দেওয়ার মতো দুঃসাহস করেছিস,সেক্ষেত্রে তোদেরকে কোলে বসিয়ে খাওয়াবো না নিশ্চয়ই?”
ছেলেদুটো কি আর বুঝলো রৌদ্রের কথা? কে জানে! তাদের অবস্থা দেখে তো মনে হচ্ছে না তারা কিছু বোঝবার মতো অবস্থায় আছে। রৌদ্র একের পর এক হিংস্র ঘুষি, লাথি মেরেই যাচ্ছে ছেলেদুটোকে।কিয়তক্ষন বাদে রৌদ্র ফের গর্জন তুলে বলে ওঠে,

“ ওঠস না কেন কু*বাচ্চা! আমার বউয়ের গায়ে হাত দিয়েছিলো কে? তারাতাড়ি বল,নাহলে এক্ষুণি কবরে পাঠাবো তোদের দুটোকে।”
ছেলেদুটোর মধ্য থেকে লাল গেঞ্জি পরিহিত ছেলেটা জলদি সরে আসে রৌদ্রের হাত থেকে। খানিকটা দূরে সরে হাঁপাতে হাঁপাতে বলে,
“ ভাই,ভাই আমি না! ওয়ে, ওই রাকিবে হাত ধরসে আজকে একটা মেয়ের!”
ব্যস! এই কথাটাই বুঝি যথেষ্ট ছিলো রৌদ্রের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেবার জন্য। ছেলেটা আগুন চোখে তাকালো মাটিতে গোঙাতে থাকা ছেলেটার পানে। তারপর আর সাত-পাঁচ না ভেবে সে এক ঝটকায় ছেলেটার চুলগুলো হাতের মুঠোতে চেপে ধরে। ছেলেটা আবারও ককিয়ে উঠে ব্যাথায়।রৌদ্র ছেলেটার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিসিয়ে বলে,
“ কোন হাত দিয়ে ধরছিস আমার বউরে? কোন হাতে? কথা বলস না কেন জানোয়ারের বাচ্চা!”

রৌদ্রের এহেন হিংস্র কন্ঠে ভয়ে কেঁপে ওঠে ছেলেটা।সে বুক ভাসিয়ে কেঁদে কেটে অস্থির! অথচ রৌদ্র বুঝি এতটুকুও মায়া দেখালো না তাকে! সে ছেলেটার পিঠ বরাবর শক্ত ঘুষি দিয়ে ফের জিজ্ঞেস করে,
“ কথা বল বাস্টার্ড, নাহলে এক্ষুণি তোকে জ্যান্ত কবর দিয়ে ছাড়বো!”
ছেলেটা ভয়ে ভয়ে নিজের ডান হাতটা উঁচিয়ে তুলে খানিকটা। রৌদ্র তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায় সেই হাতের দিকে।তারপর কোনো কিছু না বলে সেই হাতের কব্জি চেপে হাতটা পেচিয়ে আনে ছেলেটার পিঠ বরাবর। ছেলেটা আবারও কাতরাতে থাকে ব্যাথায়।

অপরদিকে, ক্যাম্পাসের ছাত্রদের বহিরাগত কেও একজন এসে বেধড়ক মারধর করছে — এমন একটা খবর মুহুর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়লো পুরো ক্যাম্পাসে। এদিক ওদিক থেকে বিভিন্ন পাতি-নেতা, সিনিয়র, জুনিয়র ছুটে এলো তাদের ক্যাম্পাসের সম্মান বাঁচাতে। ক্যাম্পাসের এক সিনিয়র ভাই — মহিবুল হাসান রিক্ত। তিনি এহেন খবর শোনা মাত্রই ছুটে এসেছেন নিজের সকল কাজ ফেলে। ওদিকে ভার্সিটির বিভিন্ন দলবল হাতে লাঠি,ব্যাট যে যেটা পেরেছে সেটা নিয়েই রওনা দিয়েছে বহিরাগত আক্রমণকারীকে পেটাতে। তারা বটতলায় আসতেই দেখতে পান — সুঠাম দেহী কেও একজন ইচ্ছেমত খায়েশ মিটিয়ে ছেলেদুটোকে মারছে।ছেলেদুটো দাড়াঁবার সুযোগ অবধি পাচ্ছে না। পারবেই বা কিভাবে? রৌদ্র কি আর ওদের সেই সুযোগ দিচ্ছে? ছেলেদুটোর নাকমুখ ফেটে লোহু বইছে অবলিলায়। সাদা শার্ট পড়া ছেলেটার পড়নের শার্টটা যে সাদা রঙের সেই কথাটা ইতোমধ্যে একেবারেই নিরর্থক মনে হচ্ছে! তার শার্টটা যে সফেদ রঙা — এ যে বোঝা বড় দায় হয়ে পড়েছে এ মুহুর্তে!

কয়েক হাত দূরে দাড়িয়ে, এমন একটা দৃশ্য দেখে মুহুর্তেই থমকে দাঁড়ালো সকলে।রিক্ততো সঙ্গে সঙ্গে পাশে থাকা একজনের হাত থেকে মোটা লাঠিটা নিজ হাতে তুলে নেয়। তারপর জোরালো কদমে এগিয়ে আসে রৌদ্রের কাছে।খানিকটা দুরত্বে দাঁড়িয়েই রৌদ্রের পিঠ বরাবর শক্ত পোক্ত লাঠিটার একটা ঘা দিয়ে বসে রিক্ত।রৌদ্র খানিকটা নড়েচড়ে উঠে এহেন আঘাতে।দাঁতে দাঁত চেপে আগের ন্যায় বসে রইলো ছেলেটা। কিন্তু তার পায়ের নিচে পড়ে থাকা ছেলেটাকে ছাড়লোনা একটুর জন্যও। রিক্ত বেশ অবাক হলো রৌদ্রের এমন ধৈর্য্য এবং শক্তি দেখে।সে খেঁকিয়ে ওঠে বলে,

“ ঐ শালা,কে রে তুই?আমার ক্যাম্পাসে এসে,আমারই ছোটো ভাইদের গায়ে হাত তুলোস! ঐ তাকা এদিকে!”
রিক্তের এমন কথায় ঘাড় বাকিয়ে পেছনে ফিরে রৌদ্র। তার মুখটা সম্পূর্ণ দৃষ্টিগোচর হতেই থমকে গেলো রিক্ত। হাতে থাকা মোটাসোটা লাঠিটাও বুঝি গড়িয়ে পড়লো অবহেলায়।মুখ থেকে তার অস্ফুটে বেরিয়ে এলো —
“ ইফতেখার ভাই!”
রৌদ্র চমকায়নি একটুও।সে আগের ন্যায় মুখটা ঘুরিয়ে নিচে পড়ে থাকা ছেলেটার হাত চেপে ঘুষি মারলো আরেকটা।তারপর ছেলেটার হাতের কব্জি উল্টো দিকে ঘুরিয়ে ভেঙে ফেললো হাতটা। ছেলেটার বুঝি এহেন ব্যাথায় চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলবার জোগাড়!
ওদিকে রিক্ত এখনো হতবিহ্বল হয়ে তাকিয়ে আছে রৌদ্রের দিকে। তার পেছনে থাকা ছেলেগুলো একযোগে এগিয়ে আসতে নিলেই তাদের সামনে সটান হয়ে দাঁড়ালো রিক্ত। বাকিরা বেশ অবাক হলো রিক্তের এমন কান্ডে।একজন তো বলেই বসলো —

“ ভাই যাইতে দেন! ঐ পোলা তো আমাগো ক্যাম্পাসের পোলা দুইটারে মাইরা ফালাইতাছে।”
রিক্ত এবার ঘাড় বাকিয়ে পেছনে তাকায়। সবার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলে ওঠে,
“ জানে মারবেনা কাওকে! এটাই ইফতেখার ভাইয়ের নিয়ম।”
ছেলেগুলো কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে তাকিয়ে রইলো রিক্তের পানে।সকলের মনে একটাই প্রশ্ন — কে এই ইফতেখার?
রিক্ত এবার রৌদ্রের দিকে ছুটে আসে।রৌদ্রের একহাত চেপে ধরে অনুনয় করে বলতে থাকে,
“ ভাই, ভাই আল্লাহর ওয়াস্তে ছেড়ে দেন ভাই।নাহলে সমস্যা হতে পারে আপনার!”
কে শোনে কার কথা! রৌদ্রের মাথায় বুঝি রক্ত চেপে বসেছে এ মুহুর্তে! রৌদ্র বসা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। তারপর আবারও পা দিয়ে বেধড়ক মারতে থাকে জ্ঞানহারা ছেলেটাকে।রিক্ত এবার কোমর চেপে ধরে রৌদ্রের।ছেলেটার কাছ থেকে তাকে সরিয়ে আনতে আনতে বলে,

“ ভাই এবারের মতো ছেড়ে দেন ভাই!”
নাহ! এবারেও কাজ হলো না। রৌদ্র এক ঝটকায় রিক্তকে গা থেকে ছুড়ে ফেলে। রিক্তের পানে শক্ত চোখে তাকিয়ে খেঁকিয়ে ওঠে,
“ খবরদার! আমায় ছুবিঁ না!”
কথাটা বলেই সে আবারও হকিস্টিকটা হাতে তুলে নেয়।জোরালো পায়ে যেই-না ছেলেগুলোর দিকে এগোবে, ঠিক সেই সময় একজোড়া নরম হাত তাকে পেছন থেকে এসে জড়িয়ে ধরলো। রৌদ্র থমকায়।হাতের হকিস্টিকটা খানিকটা গড়িয়ে পড়তেই সে আবারও শক্ত হাতে চেপে ধরে সেটা।রৌদ্র শক্ত মুখেই বলতে নেয়,

“ সান…”
“ প্লিজ থামো! আমার…আমার ভিষণ ভয় হচ্ছে রৌদ্র।আমি সত্যিই ভয় পাচ্ছি তোমার এই রুপে। আমার..আমার মাথাটা কেমন যেন ঝিমঝিম করছে। তুমি..একটু থামো না! ”

রৌদ্র থমকে গেলো এক মুহূর্তের জন্য। তার প্রতিটা নিশ্বাসের গতি বুঝি বেড়ে গেলো কয়েকগুণ। বুকের ভেতরটায় কেমন যেন ঢিপঢিপ করছে এখন।রৌদ্র ধীরে ধীরে নিজের বুকের ওপর লেপ্টে থাকা নরম হাতদুটোর দিকে তাকায়। তারপর কে জানে তার কি হলো, সে কেমন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে ঘনঘন নিশ্বাস ফেলতে লাগলো।কিয়তক্ষন বাদেই নিজের হাত থেকে হকিস্টিকটা দূরে ছুড়ে ফেলে, মেয়েটার হাতদুটো আলতো করে বুক থেকে সরিয়ে পেছনে ফিরে রৌদ্র। পেছনে ফিরতেই আরেকদফা কেঁপে ওঠে রৌদ্র নামক শক্ত পোক্ত যুবকটা।অরিনের সারা মুখে লেপ্টে আছে কান্নার ছাপ।চোখদুটোতে এখনো নোনাধরার স্পষ্ট উপস্থিতি! নরম গোলাপি অধরজোড়া কেমন কাপছে তিরতির করে। হয়তো মেয়েটা কিছু বলতে চাচ্ছে তাকে। রৌদ্র এক কদম এগিয়ে আসে অরিনের নিকট, ওমনি খানিকটা পিছিয়ে যায় অরিন।রৌদ্র হতবাক হয়ে গেলো এহেন কান্ডে। মেয়েটা তাকে এতো ভয় পাচ্ছে এখন?
অরিন খানিকটা দূরে দাড়িয়ে কাপছে। তার হাত-পা গুলো কেনো যেন থরথর করে কাপছে।হয়তো রৌদ্রের এহেন হিংস্রতা দেখে ভিষণ আতঙ্কিত হয়ে গেছে মেয়েটা।অরিনের চোখ বেয়ে হুট করেই অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগলো।রৌদ্র অস্থির হলো মেয়েটার কান্না দেখে।সে ছুটে এসে মেয়েটার ছোট্ট মুখখানা নিজের খসখসে দু’হাতের তালুতে নিয়ে নেয়।নরম সুরে বলতে থাকে,

“ হেই! ডোন্ট ক্রায় জানবাচ্চা! আ’ম সরি! আমি..”
নাহ! কোনো কথাতেও থামছেনা অরিনের কান্না। রৌদ্র এবার আরও বিচলিত হয়ে পড়লো। সে আর কিছু না ভেবে চট করে মেয়েটাকে পাঁজা কোলে তুলে নিলো।আশেপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো হতবাক হয়ে এতক্ষণ তাদের এমন কান্ডগুলোই দেখে যাচ্ছিলো। সবাই হয়তো এটাই ভাবছে — এতক্ষণের এই হিংস্র মানুষটা সামান্য একটা মেয়ের চোখের পানিতে এতোটা গলে গেলো? ভাবা যায় ব্যাপারটা?
রৌদ্র অরিনকে কোলে তুলে গাড়ির দিকে এগোচ্ছে।আর একের পর এক অনুনয়ের সুরে বলেই যাচ্ছে —
“ সরি না জানবাচ্চা! প্লিজ কান্না থামা! দেখ আমার কষ্ট হচ্ছে তো!”
এতো শতো কথাতেও কাজ হচ্ছে না তেমন।অরিন এখনো ফুপিয়ে যাচ্ছে আগের মতো। রৌদ্র গাড়ির কাছে আসতেই অনিক তড়িঘড়ি করে ব্যাকসিটের দরজাটা খুলে দিলো।রৌদ্র অনিকের দিকে শক্ত চোখে তাকায়। খেঁকিয়ে ওঠে বলে,
“ তোকে না বলেছিলাম, ও যেন বাইরে না বের হয়? তুই…”

বাকিটা বলার আগেই তার চোখ পড়ে কোলে থাকা অরিনের দিকে। মেয়েটা কেমন ছলছল চোখজোড়া নিয়ে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। হয়তো ভাইকে বকছে বিধায় কষ্ট লাগছে তার! রৌদ্র চট করে মুখের অভিব্যাক্তিতে খানিকটা পরিবর্তন আনলো। তারপর আবারও অরিনের দিকে তাকাতেই দেখতে পেলো — মেয়েটা কেমন বাচ্চাদের মতো ঠোঁট উল্টে রেখেছে। ভাব এমন এই বুঝি হাউমাউ করে কেঁদে উঠবে।রৌদ্র এবার অসহায় মুখে বলতে লাগলো,
“ এই না না! কাঁদিস না সানশাইন! আমি তোর ভাইকে বকবো না।একটুও বকবো না।প্লিজ দোহাই লাগে,তুই কাঁদিস না!”

ওপাশে অনিক বেচারা হতবুদ্ধিভাব নিয়ে তাকিয়ে আছে রৌদ্রের দিকে।কে বলবে এতক্ষণ এই ছেলেটাই কেমন হিংস্র বাঘের মতো ঝাপিয়ে পড়েছিলো ছেলে দুটোর ওপর! রৌদ্র আর কথা না বাড়িয়ে মেয়েটাকে গাড়িতে বসায়। তারপর নিজেও তার পাশে বসে অনিককে বলে ওঠে,
“ গাড়ি আমার হসপিটালে নিয়ে যা!”
অনিক মাথা দোলায়। ড্রাইভিং সিটে বসে আবারও মনোযোগ দেয় গাড়ি চালানোতে।

প্রায় আধঘন্টা পর অনিকের গাড়ি থামায় রৌদ্রের হসপিটালের গেটের কাছে।রৌদ্র ফটাফট নেমে আসে গাড়ি থেকে। তারপর মেয়েটাকে আগের মতো কোলে তুলে হাঁটা ধরে ভেতরের দিকে। অনিক গাড়ির ভেতরে বসেই আড়চোখে তাকিয়ে দেখলো সবটা।পরক্ষণেই তার ঠোঁটের কোণে দেখা মিললো এক চিলতে হাসি। ছেলেটা দু’হাত বুকের কাছে বেধেঁ গাড়ির সিটে মাথা এলিয়ে চোখ বন্ধ করে রাখলো।মনে মনে বলেই ফেললো,
“ তোমাদের জুটি সারাজীবন অটুট থাকুক!”

রৌদ্র অরিনকে নিজের কেবিনে নিয়ে আসে।অথচ এরইমাঝে তার দিকে হসপিটালের প্রতিটি মানুষ এভাবে তাকিয়েছিলো যেন তারা কোনো ফিল্ম দেখছে।কিন্তু রৌদ্র তাদের ওমন চাহনিতে তেমন কোনো পাত্তা না দিয়ে মেয়েটাকে কোলে তুলে নিজের মতো হেঁটে চলে এসেছে।
রৌদ্র অরিনকে নিজের ডেস্কের ওপর বসায়।হাত দিয়ে ডেস্কের ওপরের সকল ফাইলগুলো খানিকটা সরিয়ে ফেলে আলগোছে। তারপর মেয়েটার নুইয়ে রাখা মাথাটা আলতো করে নিজের বুকে চেপে ধরে।ঘনঘন নিশ্বাস ফেলে অস্থির গলায় বলতে থাকে,

“ প্লিজ জানবাচ্চা! এভাবে কাঁদিস না।তোর চোখে আমার জন্য ভয় দেখতে চাই না আমি! তুই একটু বোঝ সানশাইন! আমার সত্যি কষ্ট হচ্ছে তোর এমন হাবভাবে!”
অরিন একদম পাথরের ন্যায় বসে রইলো। তার ভেতরে নেই কোনো উদ্বেগ। প্রায় মিনিট খানেক পেরুনোর পরও অরিনকে একইভাবে বসে থাকতে দেখে ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে রৌদ্রের।সে তৎক্ষনাৎ মেয়েটার মুখটা নিজের দু’হাতের আঁজলায় তুলে নেয়। কাঁপা কন্ঠে বলে ওঠে,

“ তাকা আমার দিকে সানশাইন! প্লিজ তাকা।একটু দেখ আমার চোখের দিকে।প্লিজ এভাবে চুপ করে থাকিস না।”
নাহ! অরিনটা এখনো আগের মতোই বসে। রৌদ্র এবার চট করে মেয়েটার পায়ের কাছে হাঁটুমুড়ে বসে পড়লো।অরিনের ঝুলিয়ে রাখা পাদু’টো নিজের বুকে চেপে ধরে রৌদ্র ফের কাঁপা কন্ঠে বলতে লাগলো,
“ তোর পায়ে ধরি বউজান!তবুও তুই প্লিজ এভাবে চুপ করে থাকিস না। তোর চুপ করে থাকা প্রতিটা মুহুর্ত, বিষাক্ত কাঁটার ন্যায় বিঁধে আমার বুকে। তুই একটু দয়া কর আমার ওপর। একটু কথা বল আমার সাথে সানশাইন! একটু কথা বল!”

কথাটা বলেই রৌদ্র বসা ছেড়ে খানিকটা উঁচু হয়।মেয়েটার হাতদুটো নিজের গালের ওপর নিয়ে থাপ্পড় দিতে দিতে ফের বলে ওঠে,
“দরকার হয় তুই আমায় মার! মারতে মারতে একদম জানে মেরে ফেল তবুও আল্লাহর দোহাই লাগে বউজান,তুই আমার সাথে কথা বল! প্লিজ সানশাইন!”
এপর্যায়ে রৌদ্রের কন্ঠ কেমন যেন মোটা হয়ে আসলো।হয়তো গলাটা ধরে এসেছে তার। ছেলেটা অরিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই তার চোখদুটো কেমন ছলছল হয়ে আসে। সে তড়িঘড়ি নিজের দৃষ্টি লুকাতে তৎপর হলো। ঠিক তখনি তার বুকে আছড়ে পড়লো অরিন।দু’হাতে ছেলেটার পিঠ খামচে ধরে মেয়েটা।কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলো,

“ কেনো করলেন এমনটা? কি দরকার ছিলো এতোটা মারপিট করার? আপনার যদি কিছু হয়ে যেতো? আমি.. আমি দেখেছি, ঐ ছেলেটা আপনার গায়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করেছে। আর আপনার হাতদুটো… ঐগুলো এখনও কেমন রক্তে ভিজে আছে।কেনো এতো হিংস্র হয়ে যান আপনি ডাক্তার সাহেব! আমি.. আমি প্রচুর ভয় পাচ্ছি আপনাকে।আমার চোখের সামনে এখনো ভেসে ওঠছে তখনকার সেই ঘটনাগুলো।আমার..আমার বুকটা.. কেমন কাপছে এখনও।”

রৌদ্র অরিনকে নিজের বুকে আরেকটু চেপে ধরে। তার চোখ বেয়ে নিঃশব্দে গড়িয়ে পড়ছে নোনাধরা। রৌদ্র আলগোছে আঙুলের সাহায্যে নিজের চোখের কার্নিশদ্বয় মুছে নিলো।মেয়েটার মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে ধরে আসা গলায় বলতে লাগলো,
“ মাফ করে দে সানশাইন! আর কখনো তোর সামনে এমন কিছু করবো না।”
অরিন সঙ্গে সঙ্গে রৌদ্রের বুক থেকে মাথা উঠায়। ভ্রু কুঁচকে ছলছল চোখজোড়া তার দিকে তাক করে, কাঁদো কাঁদো গলায় বলে ওঠে,
“ তার মানে আমার অগোচরে আবারও করবেন?”
রৌদ্র মাথা নাড়িয়ে হ্যা বলতে নিয়েও থেমে গেলো তৎক্ষনাৎ। মেয়েটার দিকে তাকিয়ে জিভ কেটে বলে ওঠে,
“ ইয়ে না.. মানে…করবো না”
অরিন তখন সাথে সাথে রৌদ্রের একহাত উঠিয়ে নিজের মাথার ওপর রাখলো।শক্ত গলায় খানিকটা জোর দিয়ে বললো,

“ আমায় ছুঁয়ে কথা দিন — আর কখনো এভাবে মারপিট করবেন না আপনি!কথা দিন…”
রৌদ্র পড়লো বিপাকে।তবুও মুখাবয়ব একেবারেই শান্ত তার। মেয়েটার চোখের দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে ভেজা চোখে হাসলো ছেলেটা। অরিনের মাথার ওপর থেকে হাতটা নামিয়ে,মেয়েটার গালদুটোতে আলতো করে চেপে ধরে। তারপর অরিনের নাকের সঙ্গে নিজের নাকটা আলতো করে ঘষে দিয়ে বলে ওঠে,
“ কথা দিচ্ছি আমার বউজানকে… আমি ইফতেখার এহসান রৌদ্র, আর কোনোদিন এভাবে মারপিট করবো না। না আমার বউজানের সামনে আর না তার অলক্ষ্যে!”
অরিন এপর্যায়ে বিজয়ী হাসলো।ফের ছেলেটাকে জড়িয়ে ধরলো গভীরভাবে।রৌদ্রও মেয়েটাকে জড়িয়ে রাখলো বুকের সঙ্গে। অরিনের হাতটা যখন রৌদ্রের পিঠ বেয়ে খানিকটা উপরে উঠলো ওমনি রৌদ্রের মুখ থেকে অস্ফুটে বেরিয়ে আসে মৃদু ব্যাথাতুর শব্দ! — উহঃ
অরিন হকচকিয়ে ওঠে। তৎক্ষনাৎ রৌদ্রকে ছেড়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করে,

“ কি হয়েছে আপনার?”
রৌদ্র মাথা নাড়িয়ে বলে ওঠে,
“ নাহ! কিছু না। ”
রৌদ্রের এহেন কথা একেবারেই বিশ্বাসযোগ্য মনে হলোনা অরিনের। মেয়েটার চোখেমুখে স্পষ্ট লেপ্টে আছে অবিশ্বাসের ছাপ! অরিন তৎক্ষনাৎ রৌদ্রকে ঘুরিয়ে দাঁড় করায়।এপর্যায়ে রৌদ্র কয়েকবার না করলেও শুনলোনা মেয়েটা।অরিন তড়িঘড়ি করে ডেস্ক থেকে নেমে রৌদ্রের সামনে এসে দাঁড়ায়।তারপর ব্যস্ত হাতে ছেলেটার পড়নের শার্টের বোতামগুলো খুলতে লাগলো একে একে। রৌদ্র কয়েকবার বাঁধ সাধলেও শেষমেশ হার তাকে মানতেই হলো। অরিন নিজের কাজটা করে তবেই দম নিলো।অরিন রৌদ্রের শার্টটা গা থেকে নামিয়ে দিলো সযত্নে। রৌদ্রের উম্মুক্ত লোমহীন বুক,চওড়া কাঁধ, ফুলেফেঁপে থাকা মাসেলসগুলো দেখতে পেয়ে পরপর কয়েকটা শুকনো ঢোক গিললো মেয়েটা।রৌদ্র আড়চোখে তাকিয়ে দেখলো মেয়েটার অস্থিরতা। সে মুচকি হাসলো। দুষ্ট কন্ঠে বললো,

“ যেটা পারোনা সেটা করতে আসো কেনো হানি?”
রৌদ্রের মুখে হুট করে তুমি ডাক শুনতেই বুকটায় একরাশ ভালো লাগায় ছেয়ে গেলো অরিনের।সে লাজুক হাসলো খানিকটা। পরক্ষণেই মুখে কপট ভাব এনে বললো,
“ কে বলেছে আমি পারিনা? আমি সব পারি!”
অরিনের এহেন আত্মবিশ্বাস দেখে ঠোঁট কামড়ে হাসে রৌদ্র। সে অরিনের কোমর চেপে ধরে, খানিকটা এগিয়ে আনে তার দিকে। অরিন ভার হয়ে আসা চোখদুটো কোনমতে মেলে তাকিয়ে আছে রৌদ্রের পানে। রৌদ্র কেমন দুষ্ট কন্ঠে বললো,

“ আমার সামান্য বুক দেখেই কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলো হানি, সেখানে বাকিটা দেখলে…… উঁহু উঁহু! ”
রৌদ্রের এমন লাগামহীন কথায় কান দুটো ঝা ঝা করে ওঠে অরিনের।ইশশ্ লোকটা কি ভয়ংকর কথাবার্তাই না বলে! অরিন তৎক্ষনাৎ নিজের মুখটা নুইয়ে ফেলে।লজ্জায় তাকাতে পারছেনা মেয়েটা। ইশশ্! এই মুখ বুঝি আজ আর দেখানো যাবেনা কাওকে!
রৌদ্র আলতো হেসে মেয়েটার নুইয়ে রাখা মাথা বরাবর ঠোঁট ছোঁয়ায়। বেশ খানিকটা সময় নিয়ে শুধায়,
“ তোর সকল লজ্জার অবসান আমার হাতে হোক সানশাইন!”
অরিন মাথা নিচু রেখেই লাজুক হাসলো। কিয়তক্ষন বাদেই কিছু মনে পড়ার ভঙ্গিতে সে রৌদ্রের হাতের বাঁধন থেকে সরে এলো। ব্যস্ত হয়ে বলতে লাগলো,

“ দেখি আপনার পিঠটা আমার দিকে ঘুরিয়ে দাঁড়ান তো!”
রৌদ্র ভ্রু উঁচিয়ে চাইলো অরিনের দিকে। ঠোঁট কামড়ে কিছু একটা ভেবে বলে,
“ তোর দেখতে হবে না। আমি অন্য কাওকে দিয়ে ট্রিটমেন্ট করিয়ে নেবো!”
নাহ! এহেন উত্তর বুঝি মোটেও পছন্দসই হলোনা অরিনের। সে একপ্রকার গো ধরে বলতে লাগলো,
“ আমি না পারলেও আপনি আছেন কি করতে? আপনি আমায় শিখিয়ে দিবেন,আমি সেই মোতাবেক ঔষধ লাগিয়ে দেবো! না-কি আমায় বিশ্বাস করতে পারছেন না আপনি?”
রৌদ্র এপর্যায়ে ঠোঁটের সামনে হাত এনে ভরাট গলায় বললো,

“ নিজের চাইতেও বেশি বিশ্বাস করি তোকে!”
অরিন গালভর্তি হাসি দিলো। বললো,
“ তাহলে আর কি? চলুন,পেছনে ঘুরুন!”
রৌদ্র এবার অরিনের হাতটা ধরে নিজের কাছে টেনে আনে।অরিনের কোমরে একহাত রেখে, অন্যহাত মেয়েটার গালে তুলে দৃঢ় কন্ঠে বলে,
“ আগে কথা দে,তুই ঘাবড়াবি না।ইভেন একটুও কাঁদবি না! যদি এমন কথায় রাজি থাকিস তাহলেই তোর হাতে ট্রিটমেন্ট নিবো।আদারওয়াইজ নো!”

অরিন কিছুক্ষণ সরু চোখে তাকিয়ে রইলো রৌদ্রের দিকে।পরক্ষণেই কি মনে করে যেন রাজি হয়ে গেলো ফটাফট। রৌদ্র এক ক্ষুদ্র নিশ্বাস ফেলে পেছনে ঘুরলো। ওমনি আঁতকে উঠলো অরিন।ছেলেটার পিঠ বরাবর মোটা হয়ে ফুলে গেছে বেশ খানিকটা জায়গা। কিছু কিছু জায়গা তো ফেটে গেছে। সেখান থেকে রক্তও ঝড়ে পড়ছে খানিকটা। অরিনের ফের মাথা ঘুরে ওঠলো।মেয়েটা যে ব্লাড দেখতে পারেনা! অরিন মাথায় হাত দিয়ে ঝিমুতে লাগলো।চোখদুটো কেমন নিভু নিভু হয়ে আসছে ক্রমাগত। রৌদ্র হয়তো টের পেলো কিছুটা। সে চট করে পেছনে তাকাতেই মেয়েটার এহেন অবস্থা দেখে বিচলিত হলো। তড়িঘড়ি করে মেয়েটাকে নিজের বুকে চেপে ধরে, আলতো করে তার গালে হাত দিয়ে চাপড় মারতে মারতে বললো,

“ জানবাচ্চা! এই! তাকা আমার দিকে।উফ! কে বলছিলো তোকে এসব দেখতে? এই মেয়ে!”
বেশ কিছুক্ষণ ডাকার পরে অরিন ধীরে ধীরে চোখ মেলে। রৌদ্রকে মুখের ওপর এভাবে ঝুঁকে থাকতে দেখে, চোখদুটো ফের ছলছল হয়ে আসে তার। সে কান্না করতেই নিবে ওমনি তার ঠোঁট দুটো আঁকড়ে ধরে রৌদ্র। গভীরভাবে,ভিষণ আশ্লেষে। হুট করে এমন হওয়ায় অরিন কেঁপে ওঠে খানিকটা। সে তার কাঁপা কাঁপা হাতদুটো ধীরে ধীরে উঠিয়ে আনে রৌদ্রের পিঠ বেয়ে ঘাড়ের ওপর। তারপর আলতো করে চেপে ধরে রৌদ্রের ঘাড়। রৌদ্র মেয়েটার কোমর চেপে তাকে খানিকটা উঁচিয়ে তুলে। অরিনের পাদু’টো খানিকটা ঝুলে পড়লো এহেন কান্ডে। রৌদ্র বেশখানিকটা সময় নিয়ে তারপর ছাড়লো মেয়েটার নরম অধরযুগল।অরিন ছাড়া পেয়েই হাঁপাচ্ছে বুকের ওপর হাত নিয়ে। রৌদ্র বাঁকা হাসলো। বিরবির করে বললো,

“ ছিচঁকাদুনে একটা!”
বিরবির করে বলা কথাটাও বেশ কানে এলো অরিনের। মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে ভ্রু কুঁচকায়।রৌদ্রের দিকে শক্ত চোখে তাকিয়ে বলে ওঠে,
“ কি বললেন? আমি…!”
বাকিটা আর বলতে দিলে তো! রৌদ্র আবারও ঠোঁটজোড়া দখল করে নেয় মেয়েটার।এবার যেন খানিকটা জোরালোভাবে আঁকড়ে ধরেছে মেয়েটার অধর।রৌদ্র বেশ আশ্লেষে ব্যস্ত মেয়েটার নরম অধরযুগলের ওপর কৃতিত্ব ফলাতে।একটু পরপর মেয়েটার ঠোঁটদুটো ছেড়ে দিয়ে আবারও কামড়ে ধরে সেই ঠোঁটজোড়া। এহেন কান্ড চললো বেশ কিছুক্ষণ। রৌদ্র এবার আলতো করে মেয়েটার নিচের ঠোঁটটা কামড়ে ধরে। তারপর সেটা ছেড়ে দিয়ে খানিকটা শুষে নেয়। আবারও ঠোঁটটা নিজের ওষ্ঠপুটের মাঝে টেনে নেয় পাগল ছেলেটা।

রৌদ্রের এমন পাগলামিতে অতিষ্ঠ অরিন।নিজেকে এখন কেমন পাগল পাগল লাগছে তার। নিশ্বাস হয়ে এসেছে ঘন।রৌদ্র অরিনের ওষ্ঠপুট ছেড়ে দিয়ে, তার কন্ঠদেশে মুখ গুঁজে। সেথায় মৃদু নাক ঘষে দিতেই অরিনের মুখ থেকে বেরিয়ে আসে মৃদু শীৎকার। রৌদ্র হাসলো খানিকটা। অরিনের ঘাড় চেপে, কন্ঠদেশে মুখ গুঁজে রাখলো কিয়তক্ষন। অরিন এবার ধীরে ধীরে রৌদ্রের উম্মুক্ত লোমহীন বুকের ওপর ধীরে ধীরে আঙুল বুলাতে থাকে। রৌদ্র চট করে চোখদুটো মেলে তাকায়। অরিনের এহেন স্পর্শে তার শরীরের প্রতিটি লোমকূপ দাঁড়িয়ে গেলো বুঝি! ছেলেটা পরপর শুকনো ঢোক গিললো। রয়েসয়ে অরিনের কন্ঠদেশ থেকে মুখ তুলে অরিনের মুখপানে তাকাতেই থমকে গেলো রৌদ্র। একি দেখছে সে? মেয়েটার চোখেমুখে কেমন অন্যরকম মাদকতা লেপ্টে আছে! যেন খুব করে চাইছে সে রৌদ্রকে।রৌদ্র শুষ্ক ঢোক গিলে অরিনকে নিজের বাহুডোর থেকে নামাতে নিলে বাঁধ সাধলো অরিন। ছেলেটার হাত শক্ত হাতে চেপে ধরে অরিন। রৌদ্র সরু চোখে তাকায় অরিনের দিকে। সময় নিয়ে বলে,

“ বউজান! তুই…!”
“ হুঁশ! ”
রৌদ্রের কথার মাঝেই তার ঠোঁটের ওপর আঙুল চেপে ধরে অরিন। রৌদ্র বেশ অবাক হলো মেয়েটার এমন কান্ডে। অরিন ধীরে ধীরে রৌদ্রকে জড়িয়ে ধরে নিজের সঙ্গে। রৌদ্রের বুঝি এবার পাগল হবার যোগাড়। এমনিতেই সে ধৈর্য্যহীন হয়ে যায় মেয়েটার আশেপাশে এলে,তারওপর আজকে মেয়েটার এমন নিঃশব্দ আহবান যেন আরেকদফা ধৈর্য্যহীন করছে তাকে। অরিন কিয়তক্ষন বাদেই রৌদ্রের বুক থেকে মাথা উঠায়। তারপর ছেলেটার দিকে তাকিয়ে আবেদনময়ী হাসলো খানিকটা। রৌদ্রের বুক কেঁপে ওঠে অরিনের এমন হাসি দেখে।অরিন ধীরে ধীরে রৌদ্রের গালের ওপর হাত রাখে।পরক্ষণেই নিজের মুখটা এগিয়ে এনে রৌদ্রের গাল বরাবর ঠোঁট ছোঁয়ায়।রৌদ্র আবেশে চোখদুটো বন্ধ করে নেয়। অরিন এবার নিজের ঠোঁট দুটো রৌদ্রের অন্যগালে ছোঁয়ায়।

তারপর কপালে,নাকে,থুতনিতে। অরিনের করা প্রতিটি স্পর্শ বেশ গভীরভাবে অনুভব করছে রৌদ্র। রৌদ্র চোখদুটো ধীরে ধীরে মেলে তাকায় অরিনের দিকে। তার চোখেমুখে স্পষ্ট লেপ্টে আছে একরাশ মাদকতা! অরিন ঠোঁট কামড়ে হাসলো।রৌদ্রের কোল থেকে নেমে, রৌদ্রের একহাত টেনে তাকে কেবিনের বড় সোফায় এনে বসিয়ে দিলো। রৌদ্রও কেমন মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় এগিয়ে গেলো মেয়েটার সাথে সাথে। অরিন রৌদ্রকে সোফায় বসায়।তারপর সে নিজেও রৌদ্রের কোলের ওপর উঠে বসে।
রৌদ্র নেশালো দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো অরিনের দিকে। অরিন মুচকি হেসে রৌদ্রের দিকে এগোয়। ধীরে ধীরে রৌদ্রের কন্ঠদেশে মুখ গুঁজতেই খানিকটা শিউরে ওঠে রৌদ্র। ছেলেটা তৎক্ষনাৎ নিজের চোখজোড়া বন্ধ করে নেয়। তার হাতদুটো উঠে আসে অরিনের কোমরের ওপর। অরিন রৌদ্রের কন্ঠদেশে মৃদু কামড় বসায়। রৌদ্রের মুখ থেকে তৎক্ষনাৎ বেরিয়ে আসে,

“ উমম!”
অরিন হয়তো হাসলো খানিকটা। সে আবারও নিজের নরম অধরযুগলের উষ্ণ স্পর্শ একেঁ দিলো দাঁত বসানো জায়গায়। রৌদ্র সঙ্গে সঙ্গে অরিনের ঘাড় চেপে ধরে। হিসহিসিয়ে বলে,
“ সানশাইন! প্লিজ ডোন্ট ডু দেট! আ’ম লুজিং মাই কন্ট্রোল!”
অরিন রৌদ্রের কন্ঠদেশে পরপর কয়েকটা চুমু খেয়ে বলে ওঠে,
“ আমি হয়তো সেটাই চাইছি!”

রৌদ্র তখন অরিনের ঘাড় চেপে ধরে, তার মুখটা নিজের সামনে আনে।মেয়েটার আদুরে মুখটার ওপর আছড়ে পড়া অবাধ্য চুলগুলো আলতো হাতে কানের পিঠে গুঁজে দিয়ে হাস্কি স্বরে বললো,
“ আমায় এভাবে সিডিউস করিস না সানশাইন! এটা কিন্তু মোটেও তোর হেলথের জন্য ভালো হবে না!”
অরিনের বুঝি আজ সাহস বেড়ে গিয়েছে কয়েকগুণ। সে রৌদ্রের দিকে গভীর চাহনি দিয়ে বলে,
“ হেলথের জন্য খারাপ হলেই বা কি? হেলথ ঠিক করে দেওয়ার জন্য আমার পার্সোনাল ডক্টর আছে না?”
রৌদ্র ঠোঁট কামড়ে হাসলো এহেন কথায়। মেয়েটার গলা আলতো করে চেপে ধরে, তার মুখটা নিজের মুখের একেবারে কাছাকাছি এনে হাস্কি স্বরে বললো,

“ বেশ সাহস হয়েছে দেখছি! ভয় লাগছে না তোর?”
অরিন চোখে হাসলো খানিকটা। রৌদ্রের ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে থেকে বললো,
“ ভয় পেয়ে লাভ কি? যখন আপনাতেই আমার সকল গন্তব্যের অবসান!”
রৌদ্র গভীর চোখে তাকিয়ে রইলো অরিনের পানে। কি বললো মেয়েটা? এতবড় একটা কথা এতো সহজে মুখ ফুটে বলে দিলো কিভাবে? রৌদ্র মুচকি হাসলো। অরিনের কোমরটা আরেকটু চেপে ধরে বললো,
“ আর তিনটা দিন অপেক্ষা করতে পারবিনা সানশাইন? একচুয়েলি এখন এসব করাটা রিস্ক!”
এহেন কথায় মুহুর্তেই মুখের আদলে পরিবর্তন ঘটলো অরিনের। সে চোখমুখ কুঁচকে তাকায় রৌদ্রের দিকে।বলে,
“ কি রিস্ক হ্যা? রিস্ক হলেও আপনি আছেন তো! এতেই হবে আমার!”
রৌদ্র পড়লো আরেক বিপত্তিতে।সে মেয়েটার গালে আলতো হাত রেখে বলে,
“ জানবাচ্চা! এমনটা করতে নেই কলিজা! ব্যাথা লাগবে তো!”
অরিন বুঝি একদমই ইচ্ছুক না রৌদ্রের কোনরূপ কথা শুনতে। সে একপ্রকার গো ধরে বলতে লাগলো,

“ লাগুক ব্যাথা! আপনি ঔষধ দিয়ে দিবেন। ”
“ না কলিজা! এ ব্যাথা সে ব্যাথা নয়।এ ব্যাথা বড় ব্যাথা!”
অরিন ফের চোখমুখ কুঁচকে তাকায়। বলে ওঠে,
“ কি খালি ব্যাথা ব্যাথা করছেন? এখন এসব বাদ দিন তো!”
এই বলে সে রৌদ্রের বুকে ঠোঁট ছোঁয়ায়।ওমনি বেচারা রৌদ্র খানিকটা নড়েচড়ে উঠে।অরিন থামলো না।সে নিজের হাতটা রৌদ্রের প্যান্টের ওপর রাখতেই তৎক্ষনাৎ তার হাতদুটো চেপে ধরে রৌদ্র। ছেলেটা ঘনঘন নিশ্বাস ফেলে বলতে থাকে,
“ সানশাইন! প্লিজ থেমে যা।তুই এভাবে অধৈর্য্য হলে আমি কিভাবে ধৈর্য্য ধরে থাকবো বল? প্লিজ একটু সামলা নিজেকে!”

অরিন তৎক্ষনাৎ রৌদ্রের হাতদুটো সরিয়ে দেয় নিজের হাতের ওপর থেকে। বলে ওঠে,
“ কি সমস্যা আপনার হ্যা? প্রতিবার মাঝপথে এসে এমন নাটক করা, মোটেও ভাল্লাগে না আমার!”
“ আচ্ছা সরি বউজান আর করবো না কখনো! এবার থাম প্লিজ!”
অরিন ফের রৌদ্রের বুকের ওপর উঠে বসে। ব্যস্ত গলায় বলে,
“ আরেকবারও থামাতে আসবেন না আমায়!”
রৌদ্র উঠে বসে চট করে। অরিনের হাতদুটো শক্ত হাতে চেপে ধরে বলে,

সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি ২য় খন্ড পর্ব ৪৪

“ প্লিজ সানশাইন, বোঝার চেষ্টা করো বউজান! এখন আদর দিলে ক্ষতি হবে তোমার!”
“ কোনো ক্ষতি হবে না। আমি জানি! এই আপনি হাতটা ছাড়ুন তো!”
রৌদ্র এবার ভ্রু কুঁচকায়।সরু চোখে তাকিয়ে বলে,
“ তুই জানিস মানে? এই ডাক্তার কি আমি না-কি তুই?”
অরিন এবার বেশ খানিকটা ভাব নিয়ে বলে ওঠে,
“ দেখুন! আপনি ভুলে যাবেন না — আমি ডাক্তার না হলেও ডাক্তারের বউ!”

সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি ২য় খন্ড পর্ব ৪৭