সাঁঝের মায়া পর্ব ২৫
দুর এ দিলশাদ্ দুআা
ঈশানের মাথাখানা দপদপ করছে রাগে।তিতির এর কথা গুলো কেমন তীরের মতো বিধছে গিয়ে বুকের ভিতর।মেয়েটা ধস্তাধস্তি শুরু করে দিয়েছে যাওয়ার জন্য। ঈশান দাঁতে দাঁত চেপে রইলো।ইচ্ছে তো করছে ঠাটিয়ে চড় দিতে একটা।কিন্তু নেহাৎ বাড়ি মেয়ে-বউদের এসব মারধোর করা তার পক্ষে সম্ভব নয়,তাই মেয়েটা বেঁচে যাচ্ছে।
_____থাপ্পড় খেতে না চাইলে যেটা বলছি মান।বাড়িতে থাকবি।”
তিতির এর চোখ ততক্ষণে কঠোরতায় ভরে উঠেছে।ঈশানের এহেন কথায় আরও আত্মসম্মান এ লাগলো।গায়ে হাত তোলার ভয় দেখানো হচ্ছে তাকে!
______“এখন বউ পেটানোর তালিকায় নিজের নাম লেখাবেন নাকি দেওয়ান সাহেব? হুম?এটা তো দেওয়ান বাড়ির ইমেজের সাথে যায় না।”.
তিতিরের সোজাসাপটা খোঁচা আলগোছে এড়িয়ে গেলো ঈশান।সামান্য ঘাড় বাকালো।
____“ মানছিস তাহলে তুই আমার বউ!”
____“অস্বীকার কখন করেছিলাম।”
____“তাহলে যা বলছি মান।”
___“সেটা সম্ভব নয়।”.
____“ তাহলে স্বামী কিভাবে হলাম?বউ হয়ে কথাই মানছিস না।”
তিতির বিদ্রুপ এর হাসি হাসলো মৃদু।
____“কথার জালে আমাকে ফেলতে পারবেন না।আপনি স্বামীর কতটুকু কি পালন করেছেন সেটার হিসেবে বসুন আগে।নিজের আমলনামা ক্লিয়ার করুন।তারপর স্ত্রী হিসেবে আমি আমার হিসেবেও দেবো।”
ঈশান দাঁত কিড়মিড় করে কিছু বলতে যাওয়ার আগেই শব্দ করে বেজে উঠলো ফোনটা।ঈশানের মধ্যে অবশ্য ধরার কোনো তাড়া দেখতে পাওয়া গেলো না।তবে বারবার ক্রমাগত বেজেই যাচ্ছে বিছানার ওপর পরে থাকা সেলফোন টি।অগত্যা ঈশান তিতির কে ছাড়লো।হাত বাড়িয়ে ফোন টা রিসিভ ও করলো।
____“ছবিগুলো অরিজিনাল পেেয়েছি।”
____“অরিজিনাল মানে?”
____“ওগুলোতে তিতির ম্যাডাম নয় মহিলাটি।”.
____ “ যানতাম।”
____“কার ফোন থেকে এসেছিলো ট্রেস হয়েছে?”
____“এখন অবধি নয়।তবে…
_____“তবে?”
____“ছবিগুলো…..
বাকিকথাগুলে ঈশানের কানে ঢুকলো কি না বোঝা গেলো না।দরজা শব্দ করে খুলে গেলো।ঈশান কেমন একটা দূর্বল চোখে তাকালো সেদিকে।তিতির দ্রুত পায়ে বেড়িয়ে যাচ্ছে রুম থেকে।তার গিয়ে আটকানো উচিত। আশ্চর্যজনক ভাবে তার পা চলছে না।এক নিমিষে তিতির চোখের আড়াল হলে।ধুপধাপ সিড়ি বেয়ে নামার আওয়াজ কানে আসলো।ঈশান আটকাতে ছুটলো না।ফোনের ওপাশের ব্যাক্তি অনবরত হ্যালো হ্যালো করেই যাচ্ছে। বাকি কথাগুলো তার কেমন অস্পষ্ট লাগছে।নিজেকে ধাতস্থ করতে বিছানায় বসলো।পুরুষ মানুষের এতো অল্পতে এতো শকট পেলে চলে!
_____“দ্রুত ছবিগুলো অল সাইবার থেকে ডিলেট করো।কুইক”
____“করছি, কিন্তু কোথাও একটা রয়ে গেছে।ওটা এতো সহজ হবে না।”.
____“ যেভাবে পারো করো।আর ওই পুরুষটার খোঁজ? “
____“এখন অবধি পাই নি।তার কোনো ইনফরমেশন কোনো সাইবারে শো করছে না।পেলে আপনাকে জানাবো।”
ফোন কেটে স্তব্ধ হয়ে বসে রইলো ঈশান।তিতির বোধহয় এতক্ষণে বাড়ি থেকেও বেড়িয়েছে।মাথাটা ব্ল্যাংক লাগছে এই মূহুর্তে।
নিজেদের গ্রামের গ্রামিন রাস্তা পার হয়ে এসেছে তারা বহু আগেই।বাড়ির গাড়ি নিয়ে বের হয়নি।কারণ বাড়িতে কাছের এক ফ্রেন্ড এর কথা বলে বেড়িয়েছে তিতির আর তমা।লোকাল বাস না নিয়ে সিএনজি নিয়েছে।বাসে গেজা গেছি করে যাতায়াত এর অভ্যাস দুজনের কারোর নেই।সন্ধা পেরিয়ে গেছে।পোনে সাতটা বাজে ঘড়ির কাটায়।আকাশে তাঁরা ঝলমল করছে।আবহাওয়া শীতল।টান্ডা বাতাস বইছে।সিএনজি তে বাতাস আরও বেশি লাগছে।শরীর শিরশির করছে।, ঠান্ডা, ঠান্ডা লাগছে।তিতির রোবটের মতো নিশ্চুপ। তমা খেয়াল করলো বেশ কয়েকবার।দু একবার জিজ্ঞেস ও করলো।সে অবশ্য বুঝতে পারছে তিতিরের অস্থিরতার কারণ।
তারা গন্তব্যে পৌছুলো রাত্রির সাড়ে সাতটায়।রেস্তোরাঁয় ঢুকলো,খুব একটা মানুষ জন নেই।অথচ এই সময়ে যেকোনো রেস্তোরাঁয় দারুণ ভিড় থাকে।দু দিন পর রমজান শুরু তাই ভিড় নেই?তা হয় কিভাবে।তাহলে তো আরও বেশি ভিড় থাকার কথা।অতো ভাবাভাবি রেখে আগে থেকে বুক করা টেবিল চেয়ারে বসলো দুজন।রুটটফ একটা রেস্তোরাঁ। এটাও একটা কারণ হতে পারে।কেনোনা আজকাল বৃষ্টির একদম ভরসা নেই।বলা কওয়া ছাড়া হানা দেয়।আয়োজন করে অসময়ে হয়তো কেউ ভিজতে চায়না।তাই রেস্তোরাঁ টির রুটটফে না বসে নিচতলা দিয়ে বসেছে।
তমা তিতিরের মলিন মুখের দিকে তাকালো।আলতো হাত রাখলো তিতিরের বা হাতের ওপর।
____“ডোন্ট বি গিলটি।এখানে তোর কোনো দোষ নেই তিতির।রাহাত ভাই কে যে তুই কখনো ভালোই বাসতি না এটা আমার থেকে ভালো আর কে জানে।হতে পারে রাহাত ভাই বহু বছর তোকে ভালোবাসে।তো?তুই তো তার সম্মান দিতে চেয়েছিলি।কিন্তু ভাগ্য অন্য জিনিস তিতির।তোরা একে অপরের ভাগ্যে ছিলিস না।”
তিতির তাকায় তমার দিকে।
____“হতে পারে… কিন্তু দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে দেখ।খোদা আমাকে শাস্তি কিন্তু ঠিকই দিয়েছে।একদম সাথে সাথে দিয়েছে।আমার দ্বারা রাহাত ভাই বিট্রেইড হয়েছে,আর আমার সাথে ও একই জিনিস ঘটলো।তোর বড় ভাইয়া আমাকে…
তিতির বাকিটা শেষ করতে পারেনা।গলা টা আটকে আসছে।
____“ভুল ভাবছিস তিতির।ওসব কিচ্ছু না।বড় ভাইয়া অমন বল?বিয়ের আগে কোনো মেয়েকে অসম্মান সে করতে পারে?”
____“তোর ভাইয়ের সাফাই তোরা আর করিস না দয়া করে।অসহ্য লাগে।”
তমা চুপ করে।এইসময় টাতে কাউকে কিছু বুঝিয়ে লাভ নেই।
রাহাত এসে যখন পৌছায় তখনআটটা।এরই মধ্যে বাড়ি থেকে বেশ কয়েকবার ফোন এসেছে তিতিরদের কাছে।আর ঘন্টাখানেক এর মধ্যে ফিরবে বলে জানিয়েছে।ড্রাইভার আসবে নিতে।সুতরাং একা যেনো রওনা না দেয়।রাহাত রেস্তোরাঁর দরজায় দাড়িয়ে অদূরে বসে থাকা নারীটিকে দেখে প্রশান্তির হাসি হাসলো।কত্তোগুলো দিন পর ওই চাঁদ বদন মুখখানা দেখলো।মনে হচ্ছে কয়েক যুগ।রাহাতের হাতে বিশাল ফুলের বুকে।
___“পরী.?”
রাহাতের কন্ঠে চমকে ঘাড় বাকিয়ে পিছন তাকালো তিতির।তমা অবশ্য আগেই দেখেছে।তিতির ঝটপট দাড়িয়ে পরলো।তমাও উঠে দাড়িয়েছে।নরম গলায় সালাম দিলো রাহাতকে।
___“তুমি তমা না?”
___“জ্বী।”
___“তিতির বলেছিলো তুমিও আসবে।বসো। দাড়িয়ে আছো কেনো।”
তমা বসলো না বরং চেয়ার ছেড়ে দাড়ালো।
___“আপনারা কথা বলুন ভাইয়া।আমি আশপাশ টা ঘুরে দেখি একটু।”
রাহাত মৃদু হেসে মাথা নাড়লো।মেয়েটা বুদ্ধিমান। তাদের স্পেস দিলো সময় কাটানোর।তমা স্থির দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো তিতিরের দিকে।পার্স টা হাতে সরে এলো সেখান টা থেকে।রাহাত নিজে চেয়ার টেনে কাছাকাছি বসলো তিতিরের।হাতের লাল গোলাপের বুকে টা এগিয়ে দিলো।তিতির মলিন মুখে সেটা হাতে নিয়ে সাইট করে রাখলো টেবিলে।
___“কতদিন পর তোমার মুখটা দেখলাম বলোতো।এতক্ষণে ঠিকঠাক শ্বাস নিতে পারছি।”
তিতির কথা বললো না।তাকাতেই পারছে না অপরাধবোধে।রাহাত মাথা ঝুকে তাকালো তিতিরের দিকে।
___“মিস করেছো আমাকে?”.
____“ রাহাত ভাই আমি… আমার আপনার সাথে কিছু কথা আছে।”
____“শুনবো।সব শুনবো।”.
____“ আপনার মা কেমন আছে?”
____“খানিকটা ভালো।ভুলে যাচ্ছে ধীরে ধীরে সব।চেহারা মনে রাখতে পারে না বেশিরভাগ।।খোদা জানে কতদিন দুনিয়ায় আছেন আর।”
____“রাহাত ভাই?”
তিতিরের আকুল কন্ঠে চমকে তাকালো রাহাত।কন্ঠে বিষাদ মাখা।
____“কিছু হয়েছে পরী?হুম?”
____“আমাকে ক্ষমা করতে পারবেন আপনি?”.
রাহাত অবুঝের মতো তাকিয়ে রইলো।ক্ষমা করার কথা কোত্থেকে আসছে।
____“ ক্ষমা! কেনো?”
___“আমি আপনার হতে পারবনা রাহাত ভাই।”.
রাহাত ঠিকঠাক কথাটা শুনলো কি না বোঝা গেলো না।তবে খেয়াল করলো শ্বাস আটকে আসছে।সে যা শুনলো মেয়েটা কি সত্যি সেটাই বলেছে!
____“ পরী?কি হয়েছে বলো?মন খারাপ হু?”
তিতির ছলছল চোখে তাকালো।সামনের মানুষ টার মতো ভালো মানুষ সে এ জীবনে দেখেনি।বিগত ছয়টা বছর তাকে আগলে আগলে রেখেছে।দূরে দূরে থেকেও যে সর্বক্ষণ চোখে চোখে আগলে রাখা যায় রাহাত তার প্রমান।কিন্তু সে কখনো ভালোবাসতে পারলো না মানুষ টাকে।আর না তো ভালোবাসতে চাওয়ার চেষ্টা টাও পূরন হলো।শ্বাস নিলো জোরে জোরে।গলা পরিষ্কার করলো।স্পষ্ট গলায় বললো,
____“আমার বিয়ে হয়ে গেছে রাহাত ভাই।”
রাহাত শব্দ করে চেয়ার ঠেলে উঠে পরলো।বড় বড় হয়ে গেছে চোখজোড়া। বুকের বা পাশটা ছটফট করে উঠেছে কথাটা শুনে।তিতির ঠায় বসে আছে।
____“মজা করছো না?আমাকে এতদিন যোগাযোগ করতে না পারার শাস্তি এটা।হুম?”
তিতির উঠে দাড়ালো।মাথা নিচু করে বললো,
____“মজা না রাহাত ভাই।এটা সত্যি। আমার চারদিন আগে বিয়ে হয়ে গেছে।”
রাহাত শব্দ করে হেসে ফেললো।বুকে আড়াআড়ি হাত ভাজ করলো।হেয়ালি গলায় বললো,
____“ছেলেটা কি শাহরুখ খান?”
তিতির বুঝলো রাহাত বিশ্বাস করেনি।
“আমার কাজিন…ঈশান আরশাদ দেওয়ান। আমার স্বামী। “.
রাহাত থমকে গেলো তিতিরের স্পষ্ট জবাবে।মেয়েটা কি তবে মজা করছে না!ঈশান আরশাদ ওর স্বামী মানে টা কি।এহেন৷ মজা করছে কেনো মেয়েটা।
চোখটোখ কেমন জ্বলছে তার।বুকের ভিতর চিনচিন ব্যাথা করছে।তবে এবারও সে অনূভুতি পাশে রেখে হেসে বললো,
____” তবে আর কি।সংসার করো।বেস্ট অফ লাক।”
তিতির ছলছল চোখে তাকালো রাহাতের চোখে।রাহাত ভাবছে তিতির মজা করছে!এই বিষয়টা কি মজা করার জিনিস!
___“রাহাত ভাই?”
____“অন্য কিছু বলতে পারো।এটা মোটেই মজা লাগছে না পরী।”
____“আমি সত্যি বিবাহিত এখন।”
তিতিরের কন্ঠের দৃঢ়তায় এবার সত্যি সত্যি থমকালো রাহাত।গভীর ভাবে পরখ করলো তার পরীর মুখখানা।এই মুখে সে কখনো মিথ্যা বলতে শোনেনি,তার সাথে এতটাও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়নি যে এহেন মজা করবে মেয়েটা।দু হাতে চেপে ধরলো তিতিরের বাহু।তিতির আচমকা এমন আক্রমণে বড়কে গেলো।ব্যাথাও পেলো।রাহসত চেচিয়ে উঠলো,
____”বিবাহিত মানে কি!নাহ না তুমি মিথ্যা বলছো।অসম্ভব। “
তিতির দু হাতে রাহাতের হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার চেষ্টায়।আসার আগে ঈশানও একই ভাবে চেপে ধরেছিলো।ঈশানের আক্রমণে এখনো বেশ জখম জায়গাটা।একই স্থানে রাহাতের অনিচ্ছাকৃত আঘাত যন্ত্রণা দিচ্ছে খুব।ব্যাথায় টপটপ করে পানি পরছে চোখ থেকে।
____“এটা মজার বিষয় আপনার কাছে।অ্যাম ম্যারেড।ছারুন এবার।”
তিতিরের কঠিন কন্ঠে রাহাত বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো।তিতিরের কথাগুলো সোজা বুকে গিয়ে লাগলো।বিয়ে,বিবাহিত, তিতির,ঈশান,স্বামী এইসব শব্দগুলো কেমন আঘাত করছে মস্তিষ্কে।একপ্রকার ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো তিতিরকে।তিতির খেই হারিয়ে ধাক্কা খেলো পিছনে চেয়ারটার সাথে।
রাহাত দু হাতে মাথা খামচে ধরে আছে।চুল ছিড়ে ফেলবে হয়তোবা।চোখ রক্তিম হয়ে গেছে।উন্মাদের মতো তেড়ে এলো তিতিরের দিকে।তিতির আচমকা ধাক্কায় ব্যাথা পেয়েছে পিঠে।সোজা হওয়ার আগেই আবার রাহাতের দু হাত খামচে ধরলো তার বাহু।যতটা না শারিরীক যন্ত্রনা হচ্ছে তার থেকেও বেশি যন্ত্রনা দিচ্ছে তাকে এই স্পর্শ। সে বিবাহিত। অন্য পুরুষ তাকে ছোঁবে কেনো।তিতিরের শরীর কেমন করে উঠলো।অস্বস্তি তে ছেয়ে গেছে গোটা শরীর।কিন্তু ছাড়লো না তাকে রাহাত।
____“তোমরা মেয়েরাই এমন।সব মেয়ে একরকম।আমাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বাড়িতে এসে বউ সেজে অন্যের নামে কবুল পরা শেষ?চরিত্রহীনার মতো বেইমানি করতে বাধলনা একবারও।”.
তিতিরের নরম মুখের ভঙ্গি এবার পালটালো।রাহাতের কথা আত্মসম্মান এ আঘাত দিলো তাকে।বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বেইমানি মানে কি!গায়ের সকল জোর খাটিয়ে ধাক্কা দিলো রাহাতকে।লোকটা পুরো পাগলের মতো করছে।চোখমুখ উদভ্রান্তের মতোন।
____“ আপনি আমাকে এভাবে কখনো বলতে পারেন কল্পনা নাতেও আশা করিনি আমি।ছিহ্ রাহাত ভাই।আমি বেইমান?চরিত্রহীন? “
তিতিরের এহেন চিৎকার এ হুশে ফিরলো রাহাত।চমকে গেলো।কি বলে ফেলেছে তিতির কে এটা।তার পরীকে চরিত্রহীন বলেছে মানে!মাথা খারাপ হয়ে গেছে তার।না হলে..চোখমুখ থেকে রাগ কেটে তখন রাজ্যের অসহায়ত্ব। ব্যাস্ত হয়ে এগিয়ে গেলো তিতিরের দিকে।দু হাত বাড়িয়ে জড়িয়ে নিতো চাইলো তিতিরকে।তিতির ছিটকে পিছিয়ে গেলো।
____“ছোবেন না দয়া করে।আমাকে এ ধরনের কথা বলার আগে একবার মনে হলো না পুরোটা শোনা দরকার আপনার?এই আপনার ভালোবাসা?যাকে ভালোবাসতেন তার কথা দুদন্ড শোনার সময় নেই,ধৈর্য নেই।তার এক্সপ্লেইনেশান শোনার দরকার নেই।”
____“পরী…আমি…”
____“আমাকে শেষ করতে দেবেন দয়া করে।”.
রাহাত দু পা পিছিয়ে এলো।তিতিরকে বলা এতো বিশ্রী কথার অনুতাপে পুড়ছে সে।
____“আপনাকে এ জীবনে কখনো বলেছিলাম ভালোবাসি?বলেছিলাম?বলিনি।এতগুলো বছরে একটা বার আপনাকে এমন সেমন ইশারা ইঙ্গিত দিয়েছিলাম আমি,সিডিউস করেছিলাম?ভালোবাসা ভিক্ষা চেয়েছিলাম? না তো?আশেপাশে হাজার হাজার মেয়ের আপনার পিছনে লাইন।সে লাইনে আপনি আমাকে দেখেছিলেন কখনো?তাহলে আমাকে ভালোবাসলেন কেনো?আমি তো বাসিনি আপনাকে ভালো।”
তিতিরের কথা গুলো পাথর হয়ে শুনছে রাহাত।মেয়েটার সব কথা শুনতে চায় এখন সে।
তিতির দু হাতে চোখ মুছলো নিজের।একই স্বরে বললো,
____”আপনি আমাকে ভালো বেসেছিলেন।কি দেখে,কেনো জানিনা।সব কুনজর, বাজে জিনিস থেকে বাচিয়েছেন অনেকবার।একপ্রকার আগলে রেখেছিলেন।আমি এক জীবনে আপনার থেকে সম্মান এখন অবধি কোনো পুরুষকে করিনি।তাই আপনি যখন ভালোবাসি বলেছিলেন আমি চাচ্ছিলাম আপনি সেটা ানা বলেন।কারণ আপনার প্রতি আমার সম্মান, কৃতজ্ঞতা ছিলো।ভালোবাসা নয়।এটা কিন্তু আপনিও জানতেন।তাই বিয়ের প্রস্তাব আপনি দেয়ার পর নিজেই বলেছিলেন এটাকে অ্যারেন্জ ম্যারেজ মনে করতে।আমার জীবনে কেউ ছিলো না।আপনার মতো ভালোমানুষ এর ভালোবাসা কে অসম্মান করতে মন সায় দেয়নি আমার।কিন্তু বাড়িতে গিয়ে যখন বুঝলাম পরিস্থিতি অন্য। আমার নানুর শেষইচ্ছা এটা,আমার মৃত মায়ের শেষ ইচ্ছা এটা। আমি পরিবার এর বিরুদ্ধে যেতে পারিনি।তবে দোষ আমাকে দেয়ার আগে নিজের খামখেয়ালির কথা ভাবলেন না তাইনা?আপনাকে ওই কয়টা দিনে হাজার হাজার বার কল করেছি আমি।আপনাকে দেওয়া কথার খেলাপ করতে চাইনি।আমি চেয়েছিলাম আপনি আসুন আমার বাড়িতে,কথা বলুন।তারপর যা হওয়ার হবে।আমার দিক থেকে অন্তত আমি সচ্ছ থাকতে চাই।দিন শেষে কাউকে ঠকিয়েছি বলে যেনো আমার দিকে কেউ ঋআঙুল তুলতে না পারে…অথচ সেটাই করলেন আপনি।একতরফা আমাকে দোষ দিয়ে গেলেন।”
রাহাতের গাল বেয়ে নোনা জল গড়িয়ে পরলো।তিতিরের দোষ নেই।আর না তো তিতিরের এতক্ষণ বলা একটা কথাও ভুল।মেয়েটা তাকে কখনো ভালোবাসতে পারেনি।তারপরও তার ভালোবাসাকে স্বকৃীত করতে চেয়ছিলো।তার ভুলে হারালো তার পরীটাকে।
____“আমার যা বলার বলা হয়ে গেছে রাহাত ভাই।আমি অনুতপ্ত। আমার দেওয়া কথা আমি রাখতে পারিনি।তার জন্য ক্ষমা চাচ্ছি।তবে আপনি য বললেন সেটা যদি সত্যিই আপনার ধারনা হয়ে থাকে সেই ধারনার জন্য আমি আপনাকে ক্ষমা করবো না।আমি নিজের চরিত্র নিয়ে একটা বাজে কথা শুনতে রাজি নই।”
তিতির টেবিলের ওপরের ফোন হাতে ঘুরতেই ধপ করে শব্দ হলো।অনূভব করলো তার পা আষ্টেপৃষ্টে ধরে ফেলেছে কেউ।হতভম্ব হয়ে গেলো তিতির।ঝট করে ঘুরে দাড়ালো।কিন্তু পায়ের বাঁধন আলগা হলো না।রাহাত হাটু গেড়ে পা জড়িয়ে বসা মেঝেতে।
তারা ঝলমলে আকাশ।সাড়ে আটটা বেজে গেছে।রাত গভীর হচ্ছে ধীরে ধীরে। যদিও শহুরে আবহাওয়ায় এখন সবে সন্ধে।তিতিররা এসেছে পাঁচতলা একটা রেস্তোরাঁয়।শহরের সর্বাধিক জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ এটি।সেখানকারই চারতলার করিডরের টেবিল চেয়ারে কফির মগ নিয়ে বসে আছে তমা।একতলা থেকে শুরু করে একদম পাঁচতলা অবধি মানুষে গিজগিজ করছে।আশ্চর্যজনক ভাবে রুটটফে মানুষ নেই।এমন টা ভাবতে ভাবতে এখানে ওয়েটার কে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলো ইমতিয়াজ রাহাত নামক একজন ব্যাক্তি বিশেষ কারনে আজকে রেস্তোরাঁ টির রুটটফের ভাগটা বুক করে নিয়েছে। কফিতে চুমুক দিলো তমা।দীর্ঘশ্বাস ফেললো।রাহাত ভাই সত্যি পাগলের মতো ভালোবাসে তিতিরকে।তাতে একফোঁটা সন্দেহ নেই।কিন্তু জীবন কখন কাকে কোথায় এনে দাড় করায় সেটা কি তারা মানুষজাতী জানে!জানেনা।বাইরে তাকায় তমা।নিচ দিয়ে রাস্তা দিয়ে সাড়ি সারি গাড়িঘোড়া ছুটে চলছে।রমজানের আগে মানুষজনের ব্যাস্ত আনাগোনা শহর জুড়ে।ফোনে টুংটাং মেসেজের শব্দে অলস ভঙ্গিতে ফোন হাতে নিলো।সবেই কফিতে চুমুকটা দিয়েছে বেচারি।মেসেজ এর দিকে চোখ যেতেই মাথায় উঠলো কফি।কেশে উঠলো।ছলকে পরলো গায়ের ওপর।তাড়াতাড়ি হাতের কাপ টেবিলে রেখে ট্যিসু দিয়ে জামাকাপড় মুছে ফেললো।কাঁপা হাতে মেসেজটা আবার বের করলো।ঈশানের মেসেজ।তমা রিপ্লাই করতে সাহসই পাচ্ছে না।রিপ্লাই করতে হাত বাড়াতেই আবার কল ভেসে উঠলো ফোনে কপাল চাপড়ালো তমা।রিসিভ করলো।গলা কাঁপছে তার।
___“বড় ভাইয়া।”
___“লোকেশন সেন্ট কর।”
___“ভা..ভাইয়া…”
___“যেটা বললাম কর।”
___“আমরা আর মিনিট পাঁচেক এর মধ্যে রওনা দিবো ভাইয়া।বাড়ি থেকে গাড়ি এসে যাবে।”
___“তমা…”
ঈশানের বাড়ি কন্ঠে থতমত খায় তমা।ঈশানকে তারা কমবেশি সবাই যমের মতো ভয় পায়।ব্যাস্ত গলায় বললে,
___“দিচ্ছি ভাইয়া,দিচ্ছি।”
___“আর আমি আসার আগে এক পা বের হবি না ওখান থেকে।”
তমা ফোন কাটলো।সর্বনাশ হলো বলে।ঈশান এসে যদি রাহাত কে তিতিরের সাথে দেখে খুনাখুনি হতেই পারে।অসম্ভব নয়।ঈশানের রাগ সে জানে।তাছাড়া তিতির তো খেপে আছেই ঈশানের ওপরও।আর তিতির এর বিয়ের কথা শুনে রাহাত ভাই কেমন করছে খোদা জানে।তিনজন একসাথে হলে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ ঘটে যাবে।তমা কফির বিল দ্রুত মিটিয়ে ছুটলো একপ্রকার ছাদের দিকে।
রাহাত এর এমন কাজে আকাশ থেকে পরেছে তিতির।লোকটা পা জড়িয়ে বসে পরেছে মেঝেতে।তিতিরের হাত থেকে শব্দ করে পরলো পার্স আর ফোনটা।সেদিকে নজ র দিলো না।বরং দ্রুত সরাতে চাইলো রাহাততে।টেনে তুলতে চাইলো।রাহাতের শক্তপোক্ত ভাড়ি শরীর একচুল নড়লো না।রাহাত উল্টো আরও শক্ত করে ধরলো তিতিরের পা।রাহাতের স্পর্শ তার শরীর সইতে পারছে না।গা গোলাচ্ছে। কারণ কি!ঈশানের মুখটা ভেসে উঠছে তার।স্বামী হয়ে লোকটা যা করেছে তার সাথে, অন্য মেয়েকে নিয়ে।একই কাজ সে কখনো করতে পারবে না।অতদূর যাওয়া তো দূর ভাবতেও পারেনা।অন্য পুরুষ তাকে ছোঁবে কেনো।না মানলো ঈশান তাকে স্ত্রী হিসেবে।কিন্তু বিয়েটা তো বৈধ।পবিত্র, সে পবিত্র। অন্য পুরুষের ছোঁয়ায় সে নিজেকে অপবিত্র করবে কেনো।তবে রাহাতের প্রতি একরাশ মায়া কাজ করলো তার।লোকটা পাগলের মতো হু হু করে কেঁদে যাচ্ছে তার পা চেপে।
____“রাহাত ভাই।পাগল হলেন আপনি?উঠুন প্লিজ।”
রাহাত উঠলো না।দু দিকে বাচ্চাদের মতো মাথা নাড়লো।
____“পরী,যা বলেছি ভুলে যাও হ্যা?আমি রেগে বলেছি আমাকে ছেড়ে যেতে।ছেড়ে যাবে না কেমন?আমি না মরে যাবো,শেষ হয়ে যাবো।ছেড়ে যাবে না কেমন?”
রাহাতের আর্তনাদে বুক ভাড়ি হলো তিতিরের।লোকটা বাচ্চাদের মতো করছে পুরো।নিজের চোখ দিয়ে গরিয়ে পরা নোনাজল হাতের উল্টো পিঠে মুছলো তিতির।
___“আমি আমার কথা রাখতে পারিনি রাহাত ভাই।আমাকে আপনি ক্ষমা করে দেবেন।”
রাহাত আরও জোরে আর্তনাদ করে বসলো।তিতিরের পা ছেড়ে সটানে দাড়িয়ে। জাপটে বুকে চেপে ধরলো তিতিরকে।
____“না না এভাবে বলবে না।আমি বাচবনা তোমাকে ছাড়া। সম্ভবি না একদম।পরী,দেখো শ্বাস নিতে পারছি না।ঈশান তোমাকে কি ভালোবাসে?বলো?আচ্ছা ধরলাম ভালোবাসে।কিন্তু আমি তো আরও আগে থেকে বাসি বলো?যা বলবে যেভাবে বলবে,সেভাবে থাকবো আমি।সেভাবেই ভালোবাসবো।আমাকে ছেড়ে যেয়ো না হ্যা?যেয়োনা কিন্তু।”
তিতিরের শরীর অবশ হয়ে আসছে। গা গোলাচ্ছে এবার।রাহাত তাকে ছাড়ছে না।অথচ তার শরীর ঝলছে যাচ্ছে মনে হচ্ছে। ধস্তাধস্তি করছে সরে যেতে।ঈশানের মুখটা ভেসে উঠছে তার সামনে।স্বামী নামক বৈধ পুরুষের অস্তিত্ব ভাসছে সবখানে।হোক সে স্বামী তাকে স্বীকৃতি দেয়নি,হোক সেও দূরে চলে যাবে বলেছে তবুও রাহাতে স্পর্শ সে মানতে পারছে না।হু হু করে কেঁদে ফেললো তিতির।রাহাত চমকে ছেড়ে দিলো।
____“পরী কাঁদে না। প্লিজ।সরি।খুব সরি।ব্যাথা দিয়ে ফেলেছি হ্যা।আর দেবোনা।ছেড়ে যেয়োনা।হ্যা?অ্যাই পরী।”
তিতির দু হাতে মুখ চেপে কেঁদেই যাচ্ছে।রাহাত আবার এগিয়ে আসতেই বেশখানিকটা হুড়মুড়িয়ে পিছিয়ে গেলো সে।গায়ের ওড়না টা সুন্দরমতো দ্রুত হাতে টেনে ঢেকে ফেললো গোটা শরীর।একহাত সামনে বাড়িয়ে থামতে বললো রাহাতকে।কান্নামাকা গলায় বললো,”
____নিজেকে সামলান রাহাত ভাই।আমি এখন অন্য কারোর বিবাহিত স্ত্রী। অন্য কারোর স্পর্শ আমার শরীরে।আমার এখন আপনার সমানে দাড়ানোও পাপ।সেখানে আপনি আমাকে স্পর্শ করছেন।দয়া করে আর ছোবেন না।”
রাহাতের বুকটা ঝাঁঝরা হয়ে গেলো যেনো।তার পরীর শরীরে অন্য পুরুষের স্পর্শ মানে কি।এ কথা তাকে শুনতে হলো?এখন মানতেও হবে!মরে গেলো না কেনো এ কথার শোনার আগে সে।এতগুলো বছর ধরে পাগলের মতো ভালোবেসে,চাতকপাখির মতোন আগলে রেখে কয়েকটা দিনের ভুলের জন্য খোদা তাকে গোটা জীবনের জন্য কেড়ে নিলো মেয়েটাকে।তার পরীটা অন্য পুরুষের হয়ে গেলো।
____“ ও খোদা,দম বন্ধ হয়ে আসছে আমার।মরে যাচ্ছি কি আমি?তিতির,অ্যাই তিতির…পরী?মরে যাচ্ছি,শেষ হয়ে যাচ্ছি।একটু দয়া করো আমাকে।ছেড়ে যেয়োনা।বাচবনা তো আমি।আল্লাহ… “
তমা এসেছে দাড়িয়েছে সিড়ির গোরায়।খোলা আকাশের নিচে ফেইরি লাইটের ঝলমলে আলোয় এক অসহায় প্রেমিক পুরুষ উন্মাদের মতো করছে।কাঁদছে, ভালোবাসা ভিক্ষা চাচ্ছে।তিতির পাথর হয়ে দাড়িয়ে আছে।সেও কাঁদছে। কারোর কিচ্ছু করার নেই এখন।তমা দীর্ঘশ্বাস ফেলে।ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে দাড়ায় তিতিরের পিছনে।মেঝেতে পরে থাকা রাহাতের সেলফোন খানা অনবরত বেজে যাচ্ছে।তমা তাকালো সেদিকে।নাম্বার টা রাহাতের মা নামে সেভ করা।তমা ফোনটা হাতে এগিয়ে গেলো রাহাতের দিকে।রাহাত কোনোদকে খেয়ালে নেই। সে তো তিতিরের জন্য কাঁদতে ব্যাস্ত।ফোনে এবার ভেসে উঠলো একসাথে কয়েকটা মেসেজ নোটিফিকেশন। না চাইতেও পরে ফেললো তমা। চমকে তাকালো রাহাতের দিকে।
গলা চিড়ে আর্তনাদ করে বসলো,
____”রাহাত ভাই আপনার মা…”
রাহাতের এক নিমিষেই কান্না থামলো।তমার হাত থেকে ছো মেরে ফোনটা নিলো।স্তব্ধ হয়ে দেখলো। পাগলের মতো তিতিরের দিকে এগিয়ে গেলো।
____“পরী আমার মা…আমার মা ভালো নেই তিতির।আমি কোনদিকে যাবো এখন বলো।তোমাকে হারাতে পারবনা আমি।আমার মা…আমি কিন্তু আসবো আবার তোমার কাছে।অপেক্ষা করবে কিন্তু। পালাবে না কিন্তু। “
উন্মাদের মতো ছুটে বেড়িয়ে গেলো রাহাত।তিতির এর মাথা ঘুরছে।ঝড় বয়ে গেলো একপ্রকার। তাল হারিয়ে পিছিয়ে হেলে যেতেই আগলে ধরলো তমা।দ্রুত বসালো চেয়ারে।বুকের মধ্যে জাপটে ধরলো বোনটাকে।
____“ঠিক আছে। তিতির…কিচ্ছু হয়নি।এভরিথিং ওকে।”
তিতির শব্দ করে কাঁদছে এবার।কান্নার পানিতে নিমিষে ভিজে উঠলো তমার জামাকাপড়। তমার মাতায় হাত বুলাচ্ছে।
___“কিচ্ছু হয়নি বোন বললাম তো।তোর কোনো দোষ নেই।যা হচ্ছে তোর কোনো কিছুতে হাত নেই।”
____“আমি সব এলোমেলো করে ফেললাম তমা।রাহাত ভাইয়ের মা…”
মেয়েটা ফুপিয়ে ফুপিয়ে উঠছে।তমার শক্ত করে ধরলো।
____“উহু এসব বলেনা।খোদা যা পরিকল্পনা করে রেখেছে সেটাই হচ্ছে। “
___“আমার শরীর…”
___“কি হয়েছে?হুম? “
___“আমাকে স্পর্শ করলো কেনো অন্য কেউ।রাহাত ভাই… আমাকে..”
তমা চমকে উঠলো। সে অনেক পরে এসেছে।তার আগে কি ঘটেছে তা সম্পর্কে অবগত নয় সে।ব্যাস্ত হয়ে উঠলো,
___”কিছু করেছে তোর সাথে। “
___“আ..আমাকে জড়িয়ে ধরলো কেনো তমা?আমি বি..বাহিত.. “
তমার কি বলবে ভেবে পেলোনা।জঘন্য একটা মূহুর্তের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে মেয়েটা।বরাবরই এসব বিষয়ে সে সতর্ক।বিয়ের আগে কোনো ধরনের সম্পর্কে জরাতে চাইতো না কখনো।তার ওপর এখন বিবাহিত, তার পরে অন্য পুরুষ তাকে জড়িয়ে ধরেছ।বিষয়টা স্বাভাবিক লাগলেও তমা চেনে বোনকে।তিতিরের জন্য এটা বিশাল বড়।
____“কিচ্ছু হয়নি তিতির।শান্ত হ।এসব কিচ্ছু না।ঈশান ভই আসছে।”
তিতির মুখ তুললো।চোখমুখ লাল হয়ে গেছে।
গাড়ি পার্কিং করে হন্তদন্ত হয়ে ছুটতেই ধাক্কা লাগলো এক আগন্তুক এর সাথে। ঈশান নিজের ওপরই বিরক্ত হলো।দোষ টা তারই।ব্যাস্ত হয়ে নিজের ফোন টা তুললো রাস্তা থেকে।
___“অ্যাম এক্সট্রেমলি সরি।”
আগন্তুক এক সেকেন্ড দাড়ালো না।বড্ড তাড়ায় বুঝি।ঈশান তার পায়ের কাছে পরে থাকা লোকটার মানিব্যাগটা পেলো।দ্রুত হাতে তুলে দেওয়ার জন্য ঘুরলো।কিন্তু ততক্ষণে চোখের আড়াল হয়েছে আগন্তুক। এবার ঈশান বিরক্ত হলো লোকটার ওপর।এতো তাড়াহুড়ো করে কি লাভ হলো,সেই তো মানিব্যাগটাই ফেলে গেলো।দুদিকে হতাশার মাথা নেড়ে মানিব্যাগ টা খুললো।কোনো আইডি কার্ড আছে কিনা দেখা দরকার।মানিব্যাগ টা খুলে চোখ বড় হয়ে গেলো,হাতে মুঠো শক্ত হয়ে এলো।একপাশে সুন্দর মতো আটকে আছে এক রমনীর ছবি।ঈশান ছবিটা হাতে নিলো।উদাস হয়ে তিতির তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে।ছবিটি সম্ভবত হঠাৎ তোলা।ছাদের কার্নিশ ধরে দাড়িয়ে আছে মেয়েটা।গায়ে ক্রপ টপ আর স্কার্ট।গোসল করে ছাদে উঠেছিলো হয়তো।নিজের অজান্তেই অস্ফুটস্বরে বেড়িয়ে এলো একটা নাম।
___“রাহাত।”
দাঁতে দাঁত চেপে ছবিটা একটানে ছিড়ে ফেললো ঈশান।মানিব্যাগে আর কিচ্ছু নেই।ছুড়ে ফেলে দিলো রাস্তাতেই।মাথাটা গরম হয়ে ছিলো আগে থেকেই,আর একধাপ হলো।গটগট পায়ে ঢুকে এলো রেস্তোরাঁ তে।তমা জানিয়েছে তারা রুটটফে।লিফটে উঠে মিনিট পাঁচেক এর মধ্যে এসে দাড়ালো ছাদে।
তিতির চুপচাপ বসে আছে।পাশের খানিক দূরে চেয়ারে বসা তমা।তমা ঈশানকে দেখে দাড়িয়ে পরলো।ভয়ে গলা শুকিয়ে গেছে তার।ঈশান দ্রুত পায়ে এসে দাড়ালো তিতির এর সমানে।ভীষন রেগে আছে সে।না করার পরও মেয়েটা এসেছে ওই ছেলেটার সাথে দেখা করতে।খুন করতে ইচ্ছে হচ্ছে তার।নিজের সামনে চেনা পরিচিত সেই ঘ্রান,মানুষটার অস্তিত্ব টের পেয়ে মুখ তুললো তিতির।ঈশান রক্তচক্ষু নিয়ে দাড়িয়ে আছে।তাকে মেরে ফেলবে এমন মনে হচ্ছে। তিতিরের নির্বিকার রুপে মেজাজ হারালো ঈশান।থাপ্পড় মারার জন্য হাত তুললো তবে ততক্ষণে তমা এসে জাপটে ধরেছে ভাইয়ের হাত।
____“ভাইয়া কি করছো টা কি।”
নিজের একই দৃষ্টি ঈশান নিক্ষেপ করলো তমার দিকে।তমা ভয় পেলেও ভাইয়ের হাত ছাড়লো না।
ঈশান হেচকা টানে ছাড়িয়ে নিলো তমার হাত।জোরে জোরে শ্বাস নিলো।রাগ কনট্রোল এ আনতে চাইলো।তিতির কে কিছু বলতে যাবে সেসময় হঠাৎ এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটিয়ে বসলো তিতির।দু হাত বাড়িয়ে শক্ত করে আকড়ে ধরলো ঈশানের কোমড়।মুখ গুজলো ঈশানের পেটে।
একমুহূর্তের জন্য থ বনে গেলো ঈশান।তমাও চমকেছে।তবে সেখানে দাড়িয়ে থেকে কাবাব মে হাড্ডি হওয়ার মতো ভুল মোটে করলোনা।আবার নেমে চলে যাওয়ার সাহসও করলো না।ঈশান মেয়েটাকে আবার মারধোর করলে কে আটকাবে।সরে গিয়ে ঘুরে দাড়িয়ে রইলো রেলিঙ ঘেষে।
ঈশানের দু হাত দু পাশে ঝুলছে।তার কয়েক সেকেন্ড যেনো হার্টবিট থেমে গেছে।খেয়াল করলো প্রচন্ড রেগে মেয়েটাকে আঘাত করে এসেছিলে,অথচ মুখ দিয়ে একটা কথা বলছে না।পা শক্ত হয়ে আটকে গেছে মেঝেতে।তিতির চেয়ারে বসা।বেশ শক্ত করে জড়ানো ঈশানের কোমড়।শরীরে কারেন্ট শকট লাগছে ঈশানের।মুখ গুজে আছে যে মেয়েটা।কাদছে কি!শার্ট ভিজে যাচ্ছে।ঈশান মেয়েটার মুখ তুলতে চাইলো।তিতিরের শরীর কেঁপে কেঁপে উঠছে। ঈশানের মনটা নরম হলো।শীতল,শান্ত গলায় ডাকলো।
___“তিতির…”
___“পাঁচ মিনিট প্লিজ।”
___“তিতির…”
___“ছেড়ে তো যাবেনই।একটু শ্বাস নিতে দিন। দয়া করুন।আর বলবো না কখনো।এই প্রথম এই শেষ।”
ঈশানের বুকের ভিতর কি যেনো হলো।ধকধক, ধকধক শব্দ জোরালো হলো।মেয়েটার কি হলো বুঝতে পারছে না।আবার টেনে সোজা করার চেষ্টা করলো।
তিতির সোজা হলো।ফর্শা পুতুলের মতো মুখটা রক্তিম।ফোলা ফোলা মুখটা কান্নার জন্য আর ফোলা লাগছে।কি মায়াবীই না লাগছে।তিতির এবার মুখ তুলে চমকে উঠলো,কি করে বসেছে সে এখন।খেয়াল হতেই দাড়িয়ে পরলো চেয়ার থেকে।দু হাতে ঝটপট চোখ মুছলো।তমাকে খুজলো।তমা খানিক দূরেই।সামনে ঈশান।নিজেকে শতবার ধিক্কার জানালো সে।আবেগের বশে নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দিচ্ছিলো এই বেইমান লোকটার কাছে।
দু কদম পিছিয়ে সরে গেলো।
____“তমা আমি নিচে যাচ্ছি।আয় প্লিজ।”
তিতির একছুটে নেমে গেলো।ঈশান ঠায় দাড়িয়ে। স্তম্ভিত, হতভম্ব। কি হলো বুঝতে খানিক সময় লাগলো তার।তমা ততক্ষণে এসে দাড়িয়েছে ভাইয়ের পাশে।ঈশান তাকিয়ে আছে তিতিরের প্রস্থান এর পথে।সে কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই একএক করে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা জানালো ঈশানকে।ঈশানের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না।তমা ঢোক গিললো,
সাঁঝের মায়া পর্ব ২৪ (২)
___”ভাইয়া তিতিরের কোনো দোষ নেই।”
___“গাড়িতে গিয়ে বোস।”
___“ভাইয়া…”
___“এবার তুই থাপ্পড় খেতে না চাইলে গাড়িতে গিয়ে বোস ওকে নিয়ে।”
