সাঁঝের মায়া পর্ব ২৫ (২)
দুর এ দিলশাদ্ দুআা
গাড়ি চলছে আঁকাবাকা রাস্তা দিয়ে।রাত হয়েছে বেশ।তারা শহরের কোলাহল ছেড়ে এসেছে বেশ খানিকক্ষণ। রাস্তায় গাড়ির চাকা হাওয়া ছেড়ে দেওয়ায় সব ঠিকঠাক করতে আরও ঘন্টাখানেক সময় নষ্ট হয়েছে।ঈশান ঘড়ি দেখলো।রাত পোনে এগারোটা।বাড়ির ফিরতে আরও ঘন্টার বেশি রাস্তা।বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। বাতাস বইছে।ঝড় নামলো বলে।গাড়ির লুকিং গ্লাসে তাকালো।পিছনে বসা তমা আর তিতির।রেস্তোরাঁ থেকে নিচে নেমে দেখে আগেই পিছনের সিটে উঠে বসে আছে মেয়েটা।তমা বারবার বলা স্বত্তেও সামনে এসে বসলো না।ঈশান চোখমুখ শক্ত করে তাকিয়ে থাকে।জেদ ভরা মুখটা পরখ করে।তমার কাধে মাথা রেখে শান্তির ঘুম ঘুমোচ্ছে। গালে কান্না শুকিয়ে যাওয়ার দাগ।ঈশান ড্রাইভিং এ মন দেয়।শাস্তি দেবে সে তিতিরকে।ভয়াবহ শাস্তি।আরও কাঁদাবে। সে যে যন্ত্রণা ভোগ করছে মেয়েটাকেও ভোগাবে সে।অন্য পুরুষকে নিজেকে স্পর্শ করতে দেওয়ার শাস্তি এতো সহজে কিভাবে না দেয় সে।
ভাবতে ভাবতেই মিনিট দশেকের ভিতর দমকা হাওয়া শুরু হলো।ঈশান বিরক্তসূচক শব্দ করলো।বাড়ির পৌছুতে এখনো ঢের দেরি।ঝড়ের গতি নিমিষেই বেড়ে গেলো।তমা ভয়ে আর্তনাদ করে উঠলো।
____“ঝড় শুরু হলো তো বড় ভাইয়া।কিভাবে যাবো। “
ঈশান নিজেও ভাবছে সে কথা।কারণ বাতাসের তীব্রতায় গাছপাল ভেঙে পরছে আশে পাশে।এর মধ্যে গাড়ি চালানো রিস্ক।ভয়াবহ রিস্ক।রাস্তায় আর গাড়িও তেমন দেখা যাচ্ছেনা।এমন ফাকা রাস্তায় ঝড়ের মধ্যে দুটো মেয়েকে নিয়ে চলাচল আরও ঝামেলাকর।তার সমস্যা মনে না হলেও মেয়েদুটো খুব সম্ভব কান্নাকাটি শুরু করবে।এরই মধ্যে তিতিরের ঘুম ভেঙে গিয়েছে।ফোলা ফোলা চোখ মুখ ডলে সোজা হয়ে বসলো।বাইরে চোখ যেতেই রসগোল্লার মতো বড় বড় হয়ে গেলো চোখজোড়া। প্রচন্ড ঝড় উঠছে।আধো আধো অন্ধকারে গাড়ির ফ্রন্ট লাইটের আলোয় ভয়ংকর দেখাচ্ছে পরিবেশ।প্রকৃতি রুষ্ঠ,অসম্ভব রুষ্ঠ।মুখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট। বাইরে দৃষ্টি রেখেই এক হাতে খামচে ধরলো তমার হাতের এক কবজি।আর্তনাদ করে উঠলো।
___“অ্যাই তমা।বাড়ি যাবো কি করে।”
ঈশান ভ্রু কুচকে দেখে মেয়েটাকে।ঈশান আরশাদ এর সাথে বসে থেকেও মেয়েটা ঝড় দেখে ভয় পাচ্ছে।আশ্চর্য! সে কি সেফ করতে পারবে না নাকি!গাধা মেয়েটার রিঅ্যাকশনেই মেজাজ খারাপ হচ্ছে। এখানে এরকম কাদো কাদো মুখ বানা্নোর কি আছে!এমনিতে তো তার সামনে ভয়ের ছিটেফোটা দেখা যায় না।যেখানে বাড়িময় সবাই তাকে জমের মতো ভয় পায় সেখানে এই বাচ্চা মেয়ে তার সামনে জংগলি বেড়ালের মতো রাগ দেখায়,অথচ সামান্য ঝড়েই এরককম ভয় চুপসে যাচ্ছে!তমা খানিক এগিয়ে এলো সামনের দিকে।
___“ভাইয়া কি করবে এখন।”
___“তোর বোনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেবো গাড়ি থেকে।”
তিতির বিরক্ত হলো।এখানে তাকে টেনে আনার মানে কি!সে কি করলো আবার! তবে বললো না কিছু।কথা বলতে ইচ্ছে করছে না লোকটার সাথে।ঈশান গাড়ি থামালো রাস্তার এক কিনারা ঘেষে।ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যাচ্ছে আশপাশ।মাঝারি একটা ডাল গাড়ির ওপরে শব্দ করে পরতেই দুজনেই চেঁচিয়ে উঠলো উচ্চস্বরে। ঈশান দীর্ঘশ্বাস ফেলে।ধমকে ওঠে,
____”আর একবার চেঁচালে দুটোকেই রাস্তায় ফেলে যাবো বললাম।”
তমা সাথে সাথে চুপ করলেও তিতির চোখ রাঙায়।নড়েচড়ে বসে ঈশানের কথার জবাব দিতে।তমা দ্রুত বাহু চেপে ধরে মেয়েটার।ইশারায় নিষেধ করো কিছু বলতে।তিতির ঝটকা দিয়ে সরিয়ে নেয় সে হাতখানা।ঈশানের সুরে তাল মিলিয়ে একই গলায় সে নিজেও তেতে ওঠে।
___”কথায় কথায় ধমকাবেন না।”
___”কি করবি ধমকালে?”
___”সত্যি সত্যি নেমে যাবো।বাড়ি গিয়ে তখন কি কৈফিয়ত দেবেন?”
___”তোর মামাদের ভয় পাই আমি?কৈফিয়ত দেওয়ার ভয়ে আমি বাড়িই যাবো না তাহলে। এটা মনে হয় তোর?”
___”বাড়ির মেয়েকে রাস্তায় ফেলে গেছেন আপনাকে কেউ কিছু বলবে না মনে করেন!”
___”গিয়ে বলবো তোমাদের মেয়ে তাদের পাতি প্রেমিক এর সাথে ভেগে গেছে।”
তেতে থাকা তিতির ঈশানের এহেন কথায় দ্বিগুণ চটে উঠলো।
___”আপনার সমস্যা টা কি হ্যা।সর্বক্ষণ বাজে বকা স্বভাব না?”
___”স্টুপিড।জাস্ট শাট ইওর মাউথ।”
তিতির আরও কিছু বলার জন্য মুখ খোলে। তমার দেওয়া বাধায় বলে উঠতে পারে না।
ঈশান বিরক্তমুখে ফোন বের করে খোঁজাখুজি করলো কিছু একটা।গাড়িটা স্টার্ট করলো।কিছুদূর গিয়ে মোড় ঘোরালো বায়ের রাস্তায়।তিতির এবার আঁতকে উঠলো,
___”বাড়ির রাস্তা তো সোজা।ওদিক যাচ্ছেন কেনো?”
___“তোকে জঙ্গলে ফেলে আসতে।”.
___“ গাড়ি ঘোরান বলছি।দূর্যোগের মধ্যে আপনার হেয়ালি করতে মন চায় কেনো এতো.”
তমা চুপচাপ বসে আছে।ভাই থাকতে ভয়ের কিছু নেই।তিতিরকে ইশারায় চুপ করতে বললো।তবে তিতির থামার পাত্রী মোটেই নয়।
___“থামাতে বললাম তো।সোজা রাস্তা রেখে এমন রাস্তায় যাচ্ছেন।সমস্যা কি।”
ঈশান তেতে উঠলো এবার।
___“তমা, ওকে চুপ করতে বল।না হলে এবার সত্যি ধাক্কা দিয়ে গাড়ি থেকে ফেলে দেবো।”
তিতিরের মুখ অপমানে ভরে উঠলো।চেচিয়ে উঠলো।
___“বাড়ি গিয়ে আমি সত্যি বড় মামা,নানুআপুকে বলে দেবো।”
ঈশান ফিচেল হাসলো।
___”বল গিয়ে যা,দেখি করে আমাকে।কিছু না করলে তোর কিন্তু খবর আছে বলে দিলাম।”
তিতির কথা বলতে হা করতেই,তাকে আর কিছু বলার সুযোগ দিলো না তমা।মুখ চেপে ধরে চুপ করতে বললো।
প্রকৃতি ভীষন রুষ্ট। আকাশপাতাল এক করে ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে। তমা, তিতির দুজনেই আয়তুল কুরসী পরতে ব্যাস্ত।আজ জান নিয়ে ফিরতে পারলে হয়।গগনবিদারী বজ্রপাত এর শব্দ তো আছেই।মিনিট দশেক এর ভিতর গাড়ি এসে থামলো একটা মাঝারি কটেজের সামনে। তমা মাথা নিচু করে পরার চেষ্টা করলো কটেজের নাম। “দ্যা কজি হেভেন “নামক একটা কটেজ। তিতির ও খেয়াল করলো সেটা।এই নামটা সে শুনেছে।প্রচুর জনপ্রিয় একটা কটেজ।জনমানবশূন্য প্রকৃতির মধ্যে পর্যটকদের জন্য দারুন একটা পাচ তারকা কটেজ।তমা বা তিতির কারোরই যদিও আসা হয়নি এর আগে।
ঈশান ব্যাস্ত হয়ে ফোন প্যান্টের পকেটে রেখে সিট বেল্টে খুলতে খুলতে গাড় বাকিয়ে বললো,
___“দুজন বোস।আমি ভিতরে কথা বলে রুম ঠিক করে আসছি।দেখি পাওয়া যায় কি না।এর মধ্যে আজ বাড়ি ফেরা অসম্ভব। “
ঈশান বৃষ্টি মাথায় দৌড়ে ভিতরে গেলো।ফিরে এলো মিনিট পাঁচেক পর।ছাতা হাতে।যদিও ছাতা খানা উড়ে যেতে চাইছে বারবার।ঈশারায় বেড়িয়ে আসতে।বললো দুজনকে।মাঝারি ছাতাখানার নিচে কোনোমতে দুজনকে নিয়ে ভিতরে আসলো।ভিজে একসাড় তিনজনই।রিসেপশনিস্ট এর থেকে দুটো চাবি হাতে নিয়ে একটা দিলো তমার হাতে।
___“তোর রুম দোতলায়।ডাবল বেডের।সম্ভবত আরেক বেডে অন্য একজন আছে।কোনো সমস্যা হবে না।হোটেল মালিক আমার বন্ধুর বাবা।এরা আজেবাজে মানুষ অ্যলাউ করে না।নিশ্চিন্তে থাক।”
তমা মাথা ঝাকালো।তিতির শীতে কাঁপছে। হাত বাড়ালো ঈশানের দিকে।ঈশান ভ্রু জেড়া তুললো,
___”কি?”
___“আমার রুমের চাবি?”
___“সাথে চল।যাচ্ছিই তো আমি।”
___“আমাকে দিন আমি যেতে পারবো।”
___“তুই যেতে পারবি না সেটা কখন বললাম।চল।”
ঈশান তমাকে ঈশারা করে হাঁটা ধরতেই তিতির দ্রুত পায়ে সামনে আসে।ঈশানের কপালের তিনচার খানা ভাজ গাঢ় হয় আরও।তিতির বিরক্ত হয়।
___” আপনি আপনার রুমে যান।আমার রুমের চাবি দিন।আমার রুম অবধি আমি একাই যেতে পারবো।”
ঈশানের মুখের ভঙ্গি এমন হলে যেনো ভয়াবহ কোনো জোকস শুনলো।তমা ঠোঁট টিপে হাসছে তার ভাইবোন দুটোর কাহিনি দেখে।টম অ্যান্ড জেরি লাগছে তার এদের দুজনকে।ঈশান তমাকে ইশার করলো হাটা ধরতে।তমা বিনা বাক্যে ভাইয়ের কথা মেনে হাটা ধরতেই ঈশান তিতির এর দিকে ফিরলো,
___“তোর রুম মানে কি!আমি কি ঝড়ের মধ্যে রাস্তায় থাকবো। চল রুমে।”
তিতিরের চোয়াল ঝুলে পরে।তারা কি একরুমে থাকবে এখন আবার।ব্যাস্ত হয়ে প্রতিবাদ করে উঠলো।
___”আলাদা রুম নেন নি?”
ঈশান স্থির হয়ে দাড়ালো।প্যান্টের পকেটে দু হাত গুজলো।গম্ভীর চোখে পরখ করলো তিতিরকে।ভিজে চুপসে গেছে একদম।শীতে ঠকঠক করে কাঁপছে। দ্রুত রুমে না গেলে ঠান্ডা লেগে যাবে।তার নিজেরই এরই মধ্যে নাক ঝনঝন করছে।খানিক মাথা ঝুকালো।রাশভারি গলায় বললো
___”টাকা কি তোর মামা দেবে?”
গোলগোল চোখে তাকানোয় মুখখানা বাচ্চার মতো লাগছে এখন।বুঝতে হয়তো সময় লাগলো ঈশানের কথায়।তারপর বাঁকা হাসলো।
___”দেওয়ান বাড়ির বড় ছেলে টাকার হিসেব দেখাচ্ছে!”
ঈশান নির্বিকার। স্বাভাবিক গলায় বললো,
___”দেওয়ান বাড়িতে কি টাকার খনি আছে?রোজগার না করলে মাটি ফুঁড়ে টাকা বের হয়?”
___”বাজে বকবেন না।আমার আলাদা রুম চাই।তমার আশেপাশে কোনো রুম দিন।”
___”নেই।”.
___”ঠিক আছে।অন্য ফ্লোর হলেও চলবে।”
ঈশানের চোখ এবার রাগে ভরে উঠলো।মেয়েটা এতো কথা বলতে পারে।
___”তোকে বলছি না রুম নেই আর।”
___”এটায়ও কি তমার রুমের মতো ডাবল বেড?”
ঈশান ফিচেল হাসলো।বাঁকা গলায় বললো,
___”বউ তুই আমার।আলাদা বেডে কি কাজ?”
তিতিরের বিরক্ত হয়।
___”হেয়ালি করবেন না বললাম।বলুন।”
ঈশান সিরিয়াস মুখে তাকায় তিতিরের দিকে।পাশ কাটিয়ে হাঁটা ধরে লিফটের দিকে।তমা লিফটের সামনে এসে অপেক্ষা করছে।তাকে ঈশারায় ঢুকতে বলে নিজেও এসে উঠলো লিফটে।তিতির একপ্রকার ছুটে এসে ঢুকলো।
___”বললেন না?”
ঈশানের তপ্ত দৃষ্টিকে একফোঁটাও গুরত্ব দিচ্ছে না মেয়েটা।ভয়ডর এর বালাই নেই।
___”এই দূর্যোগের মধ্যে তোর এতো ডিম্যান্ড আসছে কোত্থেকে?থাকার জায়গা পাচ্ছিস এটাই যথেষ্ট না?”
কথা সত্যি। এই অবস্থায় যে একটা থাকার জায়গা পাচ্ছে এটা ব্লেসিং।আপাতত চুপ থাকার সিদ্ধান্ত নিলো।দোতলায় এসে তমাকে দেখেশুনে তার রুমে রেখে দুজন এসে পৌছুলো পাঁচ তলায় তাদের কামরার সামনে।ভেজা শরীরে তিতির সিটিয়ে আছে।ঈশান দরজা খুলে ভিতরে ঢুকলো।রিসেপশনিস্ট বারবার বলেইছে হানিমুন স্যুট এটা।সফেদ বিছানায় সুন্দরমতো ফুল দিয়ে হার্ট সেফ করে সাজানো।মোটামুটি বড়সড় ঘর।তিতিরের বেশ পছন্দ হলো ঘরখানা।খুবই ছিমছাম,গোছানো।
___”ভিতরে ঢুকছিস না কেনো! সরে দাড়া।”
তিতির বিনাবাক্যে ধীরস্থির হয়ে পাশ হয়ে দাড়ালো।ঈশান দরজা আটকে পকেট থেকে জিনিসপত্র হাতড়ে বের করতে ব্যাস্ত।তিতির আড়ষ্ট হয়ে দাড়িয়ে আছে।রুম দেখে বুঝতে বাকি নেই এটা হানিমুন কাপলদের জন্য বরাদ্দকৃত রুম।বিছানার ওপরে লাল গোলাপের হার্ট সেপের পাশে সুন্দর মতো ইংরেজি অক্ষরে লেখা “Happy honeymoon “
তিতিরের বুকের ভিতরটা ছটফট করে উঠলো।অজান্তেই অজানা কারণে ছোটখাটো শরীরখানা কেঁপে উঠলো। শীতে নাকি অন্য অনূভুতি তে বোঝা দায়।গায়ের লেপটে।থাকা জামাকাপড় টেনেটুনে কিছুটা আলগা করলো,দারুন অস্বস্তি হচ্ছে।আড়চোখে তাকালো ঈশানের দিকে।উল্টো হয়ে দাড়ানো।ফোন হাতে।গায়ে ব্ল্যাক শার্টটি একদম ভিজের পেশিবহুল শরীরে আষ্টেপৃষ্টে লেগে আছে।
ঈশানের দিকে তাকাতেই চোয়াল ঝুলে পরলো তিতিরের।ঈশান এরইমধ্যে নিজের গায়ের শার্টখানা খুলে ফেলেছে।পানির ফোটা চিকচিক করছে জিম করা পেটানো শরীরে।ঈশান এক হাতে পিছনে দিয়ে ঘাড় ডললো,আড়মোড়া ভাঙলো সম্ভবত। পিঠজুড়ে প্রজাপতির ন্যায় কারুকাজ ফুটে উঠলো এবারে।তিতির জোরে জোরে শ্বাস ফেললো।এলোমেলো দৃষ্টি সরিয়ে নিলো এদিকসেদিক।
___”বাথরুম আছে কি করতে!এখানে চেঞ্জ করছেন কেনো?”
তিতির এর গলা পেয়ে ভ্রু কুচকে পিছন তাকালো ঈশান।ঠোঁটে ঠোঁট টিপে চোরের মতো এদিক সেদিক দৃষ্টি লুকাচ্ছে।পুরো গায়ের জামাখানা সম্পূর্ণ ভেজা,টপটপ করে পানি পরছে।নারী শরীরের ভাজ ফুটে উঠেছে একদম।তবে এই মূহুর্তে অনূভুতি গুলো কে জাগ্রত হতে দিলো না,তমার বলা কথাগুলো মাথায় এসে ভিড় করেছে।ওই ছেলেটা তিতিরকে ছুঁয়েছে। জড়িয়ে ধরছে।ঈশানের হাতের মুঠো শক্ত হয়ে গেলো।চোখের পলকে এসে শক্ত করে চেপে ধরলো তিতিরের বাহু।
___”কোথায় কোথায় ছুঁয়েছে ওই ছেলে তোকে।”
আচমকা আঘাতে ঈশানের এই কথা মোটেই আশা করেনি তিতির।সে কি করে জানলো রাহাত তাকে ছুয়েছে। সেসময়ের কথা মনে পরতেই কান্না পেলো তিতিরের।তবে মুখে প্রকাশ করতে দিলো না।ঈশানের মুখ থেকে নিজের অবাক দৃষ্টি আড়াল করে বাজখাঁই গলায় বললো,
___”আপনার দরকার কি তা দিয়ে?কোথাও ছোঁয়নি। “
আকাশের হাতের বাঁধন আরও দৃঢ় হলো।শক্ত করে চেপে ধরলো তিতিরের ডান হাতের বাহু।ধাক্কা দিয়ে দেয়ালে ঠেকিয়ে অন্য হাত রাাখলো দেয়ালে, তিতিরের মাথার ওপরের দিকে।
___”মিথ্যে বললে খুন করবো।কোথায় ছুঁয়েছে? “
তিতির নিজের গায়ের ওপর থেকে পরে যাওয়া ওড়না টানতে ব্যাস্ত।ভেজা শরীরে বুকের ওপর থেকে ওড়না সরে যাওয়ার থেকে বিব্রতকর বিষয় আর হয়না।ঈশানের তাতে আরও রাগ হলো হয়তো।এক হাতে ঝটকা টানে ওড়না টা টেনে ফেলে দিলো মেঝেতে।উন্মুক্ত হলো তার চোখে তিতিরের সবথেকে সুন্দর অংশ।ঈশান চোখ বুজলো একবার,শ্বাস ফেলে খুললো চোখ সাথে সাথেই।মেয়েটাকে এর আগেও দুদিন বললো বড় গলার জামা না পরতে।কথা শোনেনা।দর্জি চেঞ্জ করতে হবে।
__”খোল এসব।পরপুরুষ এর ছোঁয়া কাপড় এখনো গায়ে জড়িয়ে আছিস!মানে কি?”
ঈশানের অতি তপ্ত চোখের আগুন ঝড়া দৃষ্টিতে ভয় পেতো তিতির।তবে ভয় প্রকাশ হতে দিলো না।কারণ ততক্ষণে পিঠের চেনখানা ঈশানের জোরেশোরে টানে শব্দ করে খুলে গুছে।তিতির দেয়াল ঘেষে দাড়ালো।ঈশান অবশ্য সেটা হতে দিলো না।শক্ত হাতে কোমড় চেপে এগিয়ে এনে কাধ থেকে জামা নামানোর উদ্বেগ করতেই নিজের সমস্ত শক্তিতে সরিয়ে দিলো ঈশানের হাতখানা।দ্রুত দু হাতে আড়াআড়ি ভাবে আড়াল করতে চাইলো নিজের বক্ষজোড়ার ভাজ।
___”আর কত নিচে নামবেন আপনি হ্যা?এখন আমার অনুমতি ছাড়া আমাকে স্পর্শ করছেন কোন সাহসে।আমার জামাকাপড় খোলার পারমিশন আমি কখন দিয়েছি আপনাকে?”
তিতিরের বজ্রকঠিন কন্ঠে বাঁকা হাসলো ঈশান।বিদ্রুপের হাসি।গা ছমছম করে উঠলো তিতিরের।অন্তরাত্মা ভয়ে কেঁপে উঠলো। ঈশান হাসি থামিয়ে নিজের কঠিন দৃষ্টি মেলালো তিতিরের ওপর।
___” তোকে গভীর ভাবে ছুতেও আমার পারমিশন এর প্রয়োজন পরবে না তিতির।সেখানে জামাকাপড় খুলে ফেলা এমন কি।”
তিতির ভয় পাচ্ছে,শরীর কাঁপছে তার।ঈশানের শরীরে কালো প্যান্ট ছাড়া ওপরের অংশ উদাম।লোমহীন, মাংশল, প্রস্যস্ত বুকখানা দেখে নিজের অবাধ্য বুকটা ছটফট করলো।কেমন দূর্বল লাগছে নিজেকে।নিজেকে ধমক দিলো তিতির।এখন এমন অনুভূতির সময়!ঈশানের দু হাতে ভিতর থেকে সরতে পারছে না।তবে ব্যাঙ্গ করলো সে নিজেও।
___”পরপুরুষ তো আপনিও।আপনি ছুঁয়ে দিচ্ছেন তাতেও আমার অসুবিধা।”
তিতিরের এহেন কথায় ভয়ংকর রাগ হলে ঈশানের।সে পরপুরুষ মানে টা কি!
___” তিন কবুলের বৈধ নারী তুই আমার।আমাকে পরপুরুষ বলছিস!হাহ্।”
___” আজ বাদে কাল ডিভোর্স হবে।প্রথম রাতেই সব ক্লিয়ার হয়েছে।জেনে-বুঝে আমি সেই স্বামীর কাছে শরীরের চাহিদায় সতীত্ব হারাবো!এতো বোকা ভাবেন?নাকি কনট্রোললেস?”
মেয়েটার লিমিট ক্রস করা কথায় মস্তিষ্ক জ্বলে যাচ্ছে।রাগে এবার হিতাহিত জ্ঞান হারালো।
___” এতো নারীবাদি বক্তব্য দিচ্ছিস।সতীত্ব আদৌ আছে তোর?”
তিতির স্তম্ভিত হয়ে গেলো ঈশানের এজাতীয় কথায়।নিজের অসহায় দৃষ্টি মেলালো ঈশানের দিকে।ছলছল করা চোখ বেয়ে এবার টপটপ করে পানি গড়িয়ে পরলো।কি বলে ফেলেছে ভাবতেই মস্তিষ্ক সজাগ হলো ঈশানের।সে কিছু বলার আগেই তিতির মুখ খুললে,
___”মুখে লাগাম টানুন দেওয়ান সাহেব।আমার সতীত্বে প্রশ্ন তোলার আপনি কে?কেউ না।তো জবাব দিতেও আমি বাধ্য নই।না থাকতেই পারে সতীত্ব, আপনার যায় আসার কথা তো না।”
দুজনের কেউ কাউকে একচুল ছাড় দিতে রাজি নয়।কথার পিঠে কথায় পাহাড় জমছে আরও অভিমান এর।রাগে যা তা বকছে দুজনেই।তিতিরের এবারের কথায় দ্বিগুণ রেগে গেলো ঈশান।নিজের শক্ত হাতে চেপে ধরলো দু গাল।হাতের চাপে ফাঁকা হয়ে এলো ভেজা ওষ্ঠজোড়া।নোনাজল গড়িয়ে পরতেই আছে ডাগর ডাগর কাজল কালো আখিজোড়া থেকে।দাঁতে দাঁত চাপলো ঈশান।কিড়মিড় করে উঠলো।
___”মরতে চাস আমার হাতে,হ্যা?আর একবার অন্য পুরুষের কথা মুখে আনলে আজ রাত তো জন্য দীর্ঘ হবে তিতির।”
ঝটকা হাতে সরিয়ে ফেললো ঈশানের হাত।চোখ রাঙালো তিতির।
__” ম্যারেটাল রে*প?”
__” ধরে নে তাই।করলে আটকাতে পারবি।”
___” পুরুষ মানুষের হায়নার হিংস্রতার কাছে আমি কিছুই করতে পারবো না হয়তো।তবে আমার অনুমতি ছাড়া আমার সাথে সেসব করলে মনে রাখবেন সেই দিন আপনার সাথে আমার শেষ দেখা হবে।”
___”ভয় দেখাচ্ছিস?”
___”উহু।আমি সামান্য একজন নারী।আমি ভয় দেখালেই দেওয়ান সাহেব সাহেব ভয় পাবেন কেনো!আমি শুধুমাত্র আমার কথাটা বললাম।”
___”আমি ছুলে এতো সমস্যা। ওই ছেলেকে আটকাসনি কেনো?ওর ছোঁয়া ভালো লাগে না?”
___”লাগতেই পারে।আপনারও তো রুষার ছোঁয়া ভালো লাগে। সে হিসেবে আমার ক্ষেত্রে ভিন্ন হবে কেনো!”
___”তিতির…”
ঈশানের চিৎকারে থরথর করে কেঁপে উঠলো তিতির। অঝোরে পানি গড়িয়ে পরছে।রুষার কথা তো ভুল নয়।সত্যি কথা বললে এতো রাগার কি হলো বুঝলো না তিতির।
___”ভুল বলেছি আমি?আপনি কিভাবে সময় কাটিয়ে আসেন আপনার প্রেমিকার সাথে সে কাহিনি আমাকে শোনাতে পারেন,আর আমি বললে চেঁচাবেন!আশ্চর্য।
___”আমি কাকে ছুঁয়েছি,কিভাবে ছুঁয়েছি সেটার প্রমান তুই দিবি! “
___”আমি কেনো দেবো।আপনার কথা এসব।নতুন তো কিছু বললাম না।”
ঈশান দূরে সরে এলো মেয়েটার থেকে।দুহাতে চুল খামচে রাগ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করলো।ভেজা শরীরটা শুকিয়ে এসেছে তার,পরনে শুধু ভেজা প্যান্ট।আবহাওয়া অত্যাধিক শীতল।হিসেব মতে খুব ঠান্ডা লাগার কথা।কিন্তু লাগছে না।শরীরটা গরম হয়ে যাচ্ছে।
___”কাপড় পাল্টে নে।দ্রুত।এই পোষাক পুড়িয়ে ফেলবো আমি।খুলে দে।ফাস্ট…”
___”পোড়াবেন কেনো!”
___”অন্য পুরুষের ছোঁয়া রাখবো না আমি।”
তিতির অবাক হলো।সামান্য বিষয় নিয়ে এতো রিঅ্যাক্ট করার কারণ খুজে পেলো না সে।সামান্যই তো এটা।যেখানে সে তাকে বউ হিসেবে মানে না,কখনো মানবেও না,আজ বাদে কাল আলাদা পথ হবে দুজনের।সেখানে তাকে কে ছুলো তা নিয়ে ঈশানের এতো মাথাব্যাথা,এতো রাগের ঘটনা মিললো না তার কাছে।ব্যাঙ্গ করলো ঈশানকে,
___”আমাকেও তো ছুঁয়েছে। এখন কি আমার গায়েও আগুন দেবেন?অবশ্য পোড়ানোর তো বাদ রাখেন নি কিছু।এতো আয়োজন তো সব আমাকে পোড়ানোর জন্যই।তাইনা?”
ঈশান ঘুরে দাড়ালো।মেয়েটা এখনো দেয়াল সেটে দাড়িয়েই আছে।ওড়না টা অবহেলায় মেঝেতে পরে আছে।কোমড় ছড়ানো ভেজা চুল খুলে গেছে।তিরতির করে কাপছে ভেজা ওষ্ঠজোড়া।ঠান্ডা লাগছে হয়তো।বুকের ভেতরটা অস্থির লাগছে।তাদের প্রথম রাতেও পরিস্থিতি অনেকটা এমনই ছিলো তাইনা!সেদিনও আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নেমেছিলো,প্রকৃতি তছনছ করা ঝড় ছিলো।সেই সাথে ঝড় উঠেছিলো দুই মানব মানবির অবাধ্য মনে।সেদিন নিজের করা কঠর সংযোম এর কথা মাথায় আসতেই মাথা শূন্য হয়ে গেলো।মেয়েটা সেদিন নিজ ইচ্ছায়, নিজের অজান্তে কি পাগলামিই না করছিলো।যা সর্বনাশ হওয়ার সেদিনই বোধহয় হয়ে যেতো।একটা মূহুর্তের পর কেউই আর নিজের মধ্যে ছিলো না।নেহাৎ খোদার মর্জি ছিলো না হয়তো।না হলে… ঈশান ঠোঁট কামড়ে ধাতস্থ করে নিজেকে।মেয়েটা দু হাতে বক্ষজোড়া আড়াল করছে।ঈশানের হাসি পেলো।সেদিনই তো ওই ছোট্ট আবেদনময়ী নারী অঙ্গের সবটুকু মাপঝোঁক হয়ে গেছে তার,মেয়েটা বড্ড অবুঝ।
___”তুই পোড়াচ্ছিস আমাকে।সেদিন এর মতো।”
ঈশান এর কন্ঠ আচমকা কেমন অন্য শোনাচ্ছে।তিতিরের বুকের ভিতর কেমন একটা করছে।
___”কাপড় পাল্টে আয়।নাকি সেদিন এর মতো আমি পাল্টে দেবো।”
কান ঝনঝন করে উঠলো।অসভ্য লোকের অসভ্য কথাবার্তা। এলোমেলো দৃষ্টি ফেলে দ্রুত ছুটলো বাথরুমের দিকে।দরজা আটকে জোরে জোরে শ্বাস ফেললো। এতক্ষণ কিভাবে যে দাড়িয়ে ছিলো লোকটার সামনে একমাত্র সেই জানে।তিতিরের শরীর টা এবার ঠান্ডায় কেঁপে উঠলো।মাথাটা টনটন করছে,কিছুক্ষণ এর মধ্যে মাথাব্যাথা শুরু হলো বলে,নির্ঘাত আজকেও কঠিন জ্বর আসবে।বৃষ্টির পানি তার একদম সয়না।তা যদি আবার হয় অসময়ের বৃষ্টি।
দ্রুত গায়ের জামা টা খুলে ফেললো।গায়ে থাকা আর বাকিসব বস্ত্রগুলো ঠায় নিলো বাথরুমের মেঝেতে।শাওয়ার ছেড়ে গোসল করে নিলো সময় নিয়ে।হঠাৎ কিছু একটা খেয়াল হতেই আরেকদফা আৎকে উঠলো।সে এখন পরবে টা কি।অসহায় চোখে তাকালো ভিজে চুপচুপে গায়ের পোষাকগুলোর দিকে।বাথরুম দুটো তোয়ালে ছাড়া এই মূহুর্তে আর কিচ্ছু নেই।সর্বনাশ এবার।কান্না পেয়ে গেলো তিতিরের।অতক্ষণ দাড়িয়ে থেকে গায়ের জামাকাপড় যতটুকুি হোক, পানি অনেকটা শুষে নিয়েছিলো তাও।এখন তো ভিজে একসাড়।
প্রায় ঘন্টাখানেক হলো বাথরুমে তিতির।ঈশান এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার হাঁচি দিয়েছে।বৃষ্টির পানি ধুয়ে মাথায় স্বাভাবিক পানি না দেওয়া পর্যন্ত হচ্ছে না।তারমধ্যে উদাম গায়ে ভেজা প্যান্ট জড়িয়ে বসে আছে।মেয়েটার বের হওয়ার নামগন্ধ নেই।আরেকদফা হাঁচি দিলো সে।নাক ডলে ফোন খানা টেবিলে রেখে উঠে এসে দাড়ালো বাথরুম এর দরজার সামনে।বাজখাঁই গলায় ডাকলো তিতিরকে,
___”ঘুমিয়েছিস তুই বাথরুমে?ঘন্টার পর ঘন্টা কি করিস এতো!”
ঈশানের গলা পেয়ে লাফিয়ে বাথটাবের কিনারা থেকে উঠে দাড়ালো সে।মাথা নিচু করে নিজেকে পরখ করলো একবার।একটা সুতোও নেই।এই অবস্থায় বাইরে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।মাথায় তোয়ালেটা জড়ানো।গায়ের জামাগুলো যতটুকু সম্ভব পানি নিঙরে মেলে দিয়েছে।খুব ভালো করে তার জানা আছে এই কয়েকমিনিটে একফোটা পানিও শুকায়নি।তিতিরের জবাব না পেয়ে দরজায় আঘাত হানলো ঈশান।শব্দ করে কষাঘাত করলো।
___”কানে যাচ্ছে না আমার কথা হু?”
তিতির অস্থির হাতে অন্য তোয়ালে খানা গায়ে জড়ালো।আয়নার পরখ করলো নিজেকে।এমন অবস্থায় সে বের হতে হবে ভাবতেই গালখানা লজ্জায় রক্তিম হয়ে উঠলো।অনবরত দরজায় কড়া নেরেই যাচ্ছে ঈশান।
___”আমাকে তুই নিউমোনিয়ায় মারতে চাস নাকি?”
তিতির বিরক্ত হয়।লোকটার খালি অশুভ কথাবার্তা।
___”আমি বের হবো কি করে?”
___”পা নেই?পা দুটো কি আলমারিতে তোলা?”
___”বাজে বকবেন না।”
___”তুই বাজে না বকে বের হ জলদি।”
___”এই অবস্থায় সম্ভব নয়।সময় লাগবে আমার।”
___”বের হওয়ার কথা আর একবার বলতে হলে দরজা ভেঙে ঢুকবো কিন্তু তিতির।তখন কিন্তু পানিতে চুবাবো তোকে।”
তিতিরের মেজাজ খারাপ হয়।কথাবার্তার কি ছিড়ি।লোকটা তার ওপর গাধা একটা।সে কি জানেনা জামাকাপড় নেই তিতিরের।কি পরে বের হবে।
___”জামাকাপড় নিয়ে আসুন যান।”
ঈশানের এতক্ষণে বোধগম্য হলো পুরো বিষয়খানা।সত্যি তো জামাকাপড় নেই তো কারোরই।নিজেকের খেয়াল করে নিলো।ভেজা কাপড়ে মেয়েটা থাকতে পারবে না।এবার খানিকটা নরম শোনালো তার কন্ঠ,
___”তোয়ালে নেই ওখানে?”
___”আ..আছে।”
___“ওটা গায়ে জড়িয়ে বের হ।”
___”অসম্ভব। “
___”অসম্ভব কে ঠেলা মেরে সম্ভব করে বের হ।ঠান্ডায় হাত-পা হিম হয়ে আসছে।”
তিতির সাত পাঁচ ভেবে আর কোনো পথ খুজে পায়না। এই অবস্থায় বের হওয়া ছাড়া।আত্মা শুকিয়ে আসছে তার।ধরাস ধড়াস করছে বুকের বা পাশ।কি লজ্জায় না পরবে সে।
___”তিতির,বের হবি তুই?”
___”আপনি দয়া করে সরে দাড়ান দরজা থেকে, আর অন্য দিকে ঘুরে দাড়ান।”
ঈশান বিরক্তিসূচক শব্দ করে।ধমকে ওঠে,
___”ঘুরে দাড়ালাম।তারপর কি অদৃশ্য হয়ে যাবি ঘরে এসে!নাকি আমি অন্ধের মতো চোখবুঁজে থাকবো সারাক্ষণ? কোনটা?”
___”সে যা করার করবো আমি।আপনি যা বললাম শুনুন।
ঈশান দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঘুরে দাড়ায়।গলা উচোয়।
___ঘুরেছি,দ্রুত বের হ।এমনিতেও দেখা বাদ নেই কিছু। অযথা নাটক মেয়ে মানুষের। “
প্রথম কথাটা কানে আসতেই দ্রুত ছিটকিরি খুলে বের হওয়ার উদ্বেগ করে তিতির।তবে লাইনের শেষ কথাগুলো কানে আসতেই লজ্জায় আড়ষ্ট শরীরে নিয়ন্ত্রণ হারায় চমকে গিয়ে।ধড়াস করে পা পিছলে মেঝেতে পরে মেয়েটা।আচমকা ঘটে গেলো সবটা।ব্যাথায় গুঙিয়ে উঠলো সে।ঈশানের কানে গেলো শব্দটা।হুড়মুড়িয়ে ঢুকে এলো বাথরুমে।মেঝেতে সটানে পরে আছে তিতির। তবে সেটা নিয়ে টেনশন করার আগেই হার্ট একটা বিট মিস করলো অন্য কারণে।এক ঝটকায় ঘুরে দাড়ালো।তিতিরের গায়ের তোয়ালে টা আলগা হয়ে গেছে।ঈশানের ঘোরার সাথে সাথে খুলে মেলে গেলো মেঝেতে।তিতির ব্যাথা ভুলে হতভম্ব হয়ে গেলো।নিজের শরীরের তাকিয়ে চিৎকার করে উঠলো।
___”অসভ্য লোক আপনি।অসভ্য।”
ঈশান বুঝলো না এখানে সে অসভ্য টা হলো কি করে।পরে গেলো ও,খুলে গেলো ওর তোয়ালে সে কি দোষ করলো।
___”নাটক করবি না বললাম।তোয়ালে জড়া শক্ত করে।”.
তিতির ফুপিয়ে কেদে উঠলো।ঈশান পারছে না ঘুরতে।বুকের বা পাশের অঙ্গটা বেড়িয়ে এলো বলে।এক হাত বুকে রাখলো।ভাগ্যিস সম্পূর্ণ খোলার আগেই ঘুরে দাড়িয়েছিলে।না হলে কি হতো আজকে খোদা জানে!বউয়ের ওইরুপ দেখে নিজে আত্মসংযমে এক বালতি জল কি ফেলতো না সে?সর্বনাশ টা কি করেই ফেলতো না!এই যেমন কিছু না দেখেই শরীর টা যেমন করছে।বাকিটা আর ভাবতে পারলো না সে।ধমক দিলো তিতিরকে,
___”দেখিনি বাবা কিচ্ছু। আর জ্বালাতন করিস না প্লিজ।মাফ কর আমাকে। “
তিতিরের কান্নার গতি বারে।সে জ্বালাতন করে সবসময়!আবার গায়ের তোয়ালে টা জড়ায়।ইশশ কোমড়টা বোধহয় ভেঙেই গেছে আজকে।ওঠার চেষ্টা করে।অবশ হয়ে গেছে পা দুটো।মৃদু আর্তনাদ করে ওঠে।
___”আহ্”
ঠোঁট কামড়ে ধরে ঈশান।একদম রিপিট টেলিকাস্ট হচ্ছে সেদিনের ঘটনা।আজকে মেয়েটা এমন সেমন করলে তার মরণ নিশ্চিত।
__”উল্টাপাল্টা সাউন্ড করবি না।উঠে দাড়া।”
তিতির দাত কামড়ে ওঠার চেষ্টা করলো।কিছুতেই ঈশানের সাহায্য নেবে না সে।কিন্তু সম্ভব হলো না।কিছুতেই উঠতে পারলো না।
___”আপনি বাইরে যান।আমি আসছি।”
___”এখন উঠতে তোর সমস্যা কি।”
___”সময় লাগবে উঠতে।যান।”
ঈশান বিরক্ত মুখে ঘুরে তাকালো।বক্ষজোড়ার ওপরের উন্মুক্ত অংশ,আর হাটুর নিচে খোলা অংশ জ্বলজ্বল করছে।নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করলো খুব করে।তিতির কিছু বলার আগেই পাজাকোলে তুলে নিলো।চেচিয়ে আকড়ে ধরলো ঈশানের ঘাড়।ঈশানের উদামের শরীরের স্পর্শ লাগছে উন্মুক্ত অংশজুড়ে। দুটো মানবহৃদয়েই কঠিন শিহরন বয়ে গেলো।কেঁপে উঠলো গোটা দুই শরীর।লজ্জায় লালনীল হতে ব্যাস্ত তিতির।এই লোকটার থেকে একশ হাত দূরে থাকতে চায় সে,অথচ ভাগ্যের দোষে অর্ধনগ্ন হয়ে তার কোলে উঠতে হচ্ছে বারংবার।
___”তোকে কোলে করে বাথরুম থেকে ঘরে নেওয়ার চুক্তি নিয়েছি আমি বোধহয়।”
___”কি?”
___”দুদিন একসাথে থাকতে হলো।দুটো দিনই একই অবস্থা। বাথরুমে এসে কিছু না কিছু কাহিনি বাঝিয়ে বসে থাকিস।তোকে কোলে করে ঘরে নিতে হয় আমাকে।যন্ত্রণা একটা।”
তিতির গাল ফুলালো।সে কি ইচ্ছে করে এসব করে নাকি।
___”বিছানায় যাবো।ব্যাথা করছে।”
আবার একই কথা।এমন অবস্থায় কোলে উঠে যদি সে নারী বিছানায় যাওয়ার জন্য বায়না করে তার স্বামী নামক পুরুষ হৃদয় কি পরিমান তোলপাড় করে তা কি এ মেয়ে বোঝে!
___”চড় দিয়ে দাত ফেলে দেবো বেয়াদব।”
এবারের ধমকের মাথামুণ্ডু খুজে পেলো না তিতির।
___”আমি কি করলাম।”
___”চুপ।”
গটগট করে এনে ফেললো বিছানায়।তিতির কাঁদো কাঁদো মুখে ধীরে সু্স্থে পা চাপিয়ে বসে চাদর দিয়ে ঢাকলো উন্মুক্ত পাজোড়া।ঈশান তাকালোও না আর তার দিকে।দ্রুত তারও পোষাক পাল্টানো দরকার।সে উদ্দেশ্য রওনা হতেই থমকালো পা জোড়া।দুটো তোয়ালেই তিতিরের কাছে।
___”তোয়ালে টা খোল।”
রসগোল্লার মতো বড় করে ফেললো তিতির চোখজোড়া। এ লোক বলে কি।আত্মরক্ষার ভঙ্গিতে আড়াআড়ি হাত রাখলো প্রথমে বুকের ওপর।তারপর একই গতিতে চাদর খানা টেনে শরীর আড়াল করলো।
___”অসভ্য লোক।”
কপালে ভাজ পরলো ঈশানের।
___”অসভ্য অসভ্য করে মুখে ফেনা তুলছিস।অসভ্যতামি করেছি কিছু এখনো?করবো?”
___”করছেন না বুঝি।তোয়ালে খুলবো মানে কি!”
বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে এই এক সমস্যা। বোঝে হয়তো একদম কম নয়তো একপাতা বেশি।তিলকে তাল করা জন্মগত স্বভাব এমনিতেই নারীদের।তারমধ্য যদি হয় বাচ্চা বউ তাহলে তো কথাই নেই।দাত খিচালো ঈশান।
___”গায়ের টা না।মাথার টা।আমি পরবো কি?কিছু ছাড়া দেখতে চাস।”
হতভম্ব তিতির দুদিকে সজোরে মাথা নাড়লো।
___”,সেটা কখন বললাম আমি।নিন।”
মাথার তোয়ালে খানা খুলে বাড়িয়ে দিলো ঈশানের দিকে।
তোয়ালে খানায় তিতিরের চুলের সেই মাতাল করা ঘ্রান। ঈশানের গোসল করে বের হতে মিনিট পনেরো সময় লাগলো।ভেজা কাপড় মেলে কোমড়ে তোয়ালে জড়িয়ে বের হলো।নেশাগ্রস্ত লাগছে তার নিজেকে।তোয়ালে টার ঘ্রানে।আগুন লেপটে আছে যেনো।এক হাতে চুলগুলে ঝাড়তে ঝারতে ঈশান এসে দাড়ালো ড্রেসিং টেবিলের সামনে।তিতির তখনকার মতোই চাদর গলা অবদি টেনে বসে আছে।ভেজা চুলগুলো বিছানা ছুঁয়েছে। তিতির নিজের দৃষ্টি সংযত করতে মরিয়া।ঈশানকে এমন অবস্থায় সে এর আগেও একদিন দেখেছিলো।বিয়ের আগের দিন সম্ভবত। কোমড়ের বেশ নিচে তোয়ালেখানা।পেটের ছয়খন্ডের কারুকাজ ভি শেপ হয়ে তোয়ালের ভিতরে আড়াল হয়েছে। ভাবতেই শরীর গরম হয়ে ঘেমে উঠলো চোখের পলকে।অসহ্য অনূভুতি। রাগ,অভিমান,আত্মসম্মান সব বিসর্জন দিয়ে বেহায়ার মতো আত্মসমর্পণ এর অনূভুতি যাকে বলে আরকি।
মুষুল ধারে বৃষ্টি কমার নামগন্ধ নেই একবিন্দুও।আকাশ ভেঙে বৃষ্টি হচ্ছে। নিজের ফোনখানা চার্জে দিয়ে বাড়িতে এরমধ্যে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে তাদের কথা।তমার বাড়িতেও আলাদা জানাতে হয়েছে।সমস্যা হয়নি মোটেই।ঈশান সাথে আছে সেখানে মেয়েদুটোকে নিয়ে টেনশন করা সময় নষ্ট বই কিছু নয়।এরইমধ্যে হোটেল বেয়ারা কে দিয়ে নিজের গাড়ি থেকে ল্যাপটপখানা আনিয়ে নিয়েছে ঈশান।সোফায় বসে সেটাতেি দৃষ্টি তার।তিতির ফোনে তমার একেরপর এক উল্টাপাল্টা মেসেজের জবাব দিতে ব্যাস্ত।তমার একেকটি মেসেজে নিজের অজান্তেই বারংবার দৃষ্টি চলে যাচ্ছে ঈশানের দিকে,আর রক্তিম মুখখানা আরও রক্তিম হচ্ছে। তিতির ফোন বন্ধ করে ফেলে।তমার এসব বাজে কথায় আর কিছুক্ষণ উত্তর দিলে নিজের হুশ হারিয়ে বসবে সে। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সময় দেখে।রাত্রির পোনে একটা।বেশ রাত হয়েছে।কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে তার ঘুম ধরছে না।এই অবস্থায় ঘুম ধরবে আশা করাই ভুল।ঈশান কে দেখে তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে রীতিমতো। লোকটা এমন বিপদ্দজনক ভাবে আছে।অতি সুদর্শন পুরুষ মানুষ এমন করে সামনে থাকলে নিজেকে কিভাবে সামলাতে হয় জানা নেই তার।ঈশানকে দেখলো আড়চোখে।সম্ভবত লোকটার ভালোরকম ঠান্ডা লেগে গেছে।বেশ কয়েকবার হাঁচি দিচ্ছে।মুখটা লাল লাগছে।তার নিজেরও জ্বর জ্বর লাগছে এরইমধ্যে। ঈশানের মধ্যে শুতে আসার কোনো লক্ষন দেখা যাচ্ছে না।এতে সে নিশ্চিন্ত হবে নাকি মানুষ টার জন্য টেনশন করবে বুঝতে পারছে না।রাগটাগ ঠেলে এসে ঘুমাতে বলবে কিনা ভেবে পাচ্ছে না সে।ঘরের মধ্যে কয়েকটা সোফা।কিন্তু দূর্ভাগ্যবশতঃ সবগুলো সোফাই সিংগেল হিসেবে।এখানে ঈশানের মতো বড়সড় দেহের অধিকারী একজন পুরুষের কল্পনাতেও শোয়ার উপযোগী নয়।কপাল চেপে আছে ঈশান।তিতির খুব করো নিজের মন টা অন্য দিকে সরাতে চাইলো।সম্ভব হলো না।ধীর গলায় বললো,
___”আপনি শুয়ে পড়ুন এসে।”
ঈশান মাথা তুলে তাকালো তিতিরের দিকে।গুটিশুটি মেরে বেড়ালছানার মতো বসে আছে চাদর জড়িয়ে। মুখটুখ রক্তিম।জ্বর আসছে হয়তো।নিজের অবস্থা বেশ বেগতিক।সত্যি ঘুম দরকার। কিন্তু…বিছানা টা পরখ করলো ঈশান।তিতিরের সাথে এক বিছানা খুব রিস্কি।বিশেষ করে আজকে।একে তো আবহাওয়া সুবিধার নয়,আর না তো তিতির সুবিধাজনক আছে।একে তো ওরকম নারীদেহ পাশে রেখে ঘুম অসম্ভব, যাও দৈবভাবে সম্ভব হয়ে যায় তারপরও রাতে একটা ভয়ংকর দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা শতভাগ।জেগে থেকেই এই ছোটখাটো তোয়ালে দুজনেরই গায়ে থাকতে চাচ্ছে না।সকালে উঠে কার ওপর কাকে কোন অবস্থায় দেখবে ভেবেই শরীর ঝাঁকি দিয়ে উঠলো ঈশানের।তিতির তখনও আগ্রহ চোখে তাকিয়ে আছে ঈশানের জবাবের অপেক্ষায়। ঈশানকে কিছু বলতে না দেখে আবার ডেকে উঠলো,
___”ঈশান ভাই..?”
ব্যাস আগুনে ঘি পরলো আবার।চোখের পলকে ঈশানকে আবিষ্কার করলো তিতির তার সামনে।কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে হেলে গেলো বিছানায়।ঈশান ঝুকে আছে তার ওপর।
___”তোর ভাই আমি?”
___”নন?”
___“কবুলের পর ভাই থাকে কেউ?”
তিতিরের রাগ হয়।দিনের মধ্যে একশ বার কবুলের দোহাই দেয়।যেটা কোনো মূল্যই নেই তাদের সম্পর্কে। এক বাধাধরা জোরজবরদস্তির সম্পর্ক।সেখানে কি ডাকলো,কি বললো সেটা নিয়ে এতে রিঅ্যাক্ট এর কি আছে!
___”আপনার সাথে আমার কবুলের পরের সম্পর্কও হয়নি ঈশান ভাই।সুতরাং আগে যা ছিলাম আমরা,যা ডেকেছি সেটা এখনও ডাকলে দোষের বলে মনে করি না আমি।”
তিতির ভেবেছিলো ঈশান তার এই কথায় আবার রেগে যাবে।আশ্চর্যজনক ভাবে ঈশানের মুখে রাগের ছিটেফোঁটা দেখা গেলো না।বরং উল্টো কেমন একটা হাসি হাসলো।এই হাসিতে হৃদয় কেপে ওঠে,ধরফর করে বুকটা।
___”কবুলের পরের সম্পর্ক হোক সেটা চাস?”
___”আমাকে কি ভাবেন আপনি?”
___”বাচ্চা।”
___”সে আপনি যা খুশি ভাবতে পারেন।তবে আমি সেই কোয়ালিটির নারীদের মধ্যে মোটেও পরিনা যারা শুধুমাত্র দেহের চাহিদা মেটাতে সর্বস্ব বিলিয়ে দেবো এমন পুরুষের কাছে যে পুরুষ তাকে বৈধ স্বীকৃতি দেয়নি।সুতরাং আপনার প্রেমিকার সাথে আমাকে গোলাবেন না।বিয়ের আগে এ ধরনের সম্পর্ক তো দূরে থাক,বিয়ে হলেও আমি কারোর মনের বিরুদ্ধে সে ধরনের সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইবো না।”
___”বড্ড বড়মানুষের মতো কথা বলিস আজকাল।”
___”ঘুমিয়ে পরুন।”
___”পাশে শোবো?”
তিতির চুপ করে।তোতলায় এবারে।
___”বড় বিছানা,ওপাশ টায় শুয়ে পরুন।শরীর খারাপ হলে মামনীর কাছে জবাব দিতে হবে আবার।আমার জন্যই হলো কি না আজ এসব।”
ঈশান কিছু বলেনা।বুকের দ্রিমদ্রিম শব্দ উপেক্ষা করে ধীরেসুস্থে বিছানায় উঠে আসে।তিতির ততক্ষণে আরও খানিকটা সরে এসেছে বসেছে।
___”খিদে পায়নি?”
ঈশানের এই কথায় নিজের পেটে হাত চলে যায় তিতিরের।সত্যি তো সেই দুপুরে খেয়েছে।খিদে পায়নি মানে!জব্বর খিদে পেয়েছে।তবে মুখে বললো না।মাথা নাড়লো দুদিকে।
___”আমার মন বলছে খিদে পেয়েছে তোর।”.
___”আন্দাজ শক্তি ভালোনা আপনার।”
ঈশান জবাব দেয় না।মেয়েটার মুখটা শুকনো লাগছে।রাতে খায়নি তারা কেউই।ফোন করে খাবার চেয়ে নিলো হোটেল থেকে।মিনিট দশেক এর মধ্যে এসে পৌছুলো রুম বেয়ারা রাতোর খাবার নিয়ে।তিতির বিছানা থেকে ওঠার সাহসই করছে না।লজ্জায় মরে যাবে এতবার এভাবে লোকটার সমানে আসলে।ঈশান খাবারের ট্রেখানা নিয়ে এসে বসলো বিছানায়।বাড়িয়ে ধরলো তিতিরের দিকে।
___”নে…”
তিতির অবাক দৃষ্টি তে তাকিয়ে।তার জন্য খাবার এনেছে ঈশান!সে কিভাবে টের পেলো তার খিদে পেয়েছে।
___”খিদে নেই।আপনি খেয়ে নিন।”
___”কথা বাড়াবি না।”
___”জোর করবেন না।খাবো না বললাম তো।”
ঈশান ধমকে উঠলো এবার।নিজেরও খিদে তো পেয়েছেই।অগত্য আর মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারলো না।চাদরের তলা থেকে হাত বাড়াতে গেলো।তবে আবার তোয়ালে খানা আলগা বোধ করতেই হাত ভিতরে নিয়ে নিলো।অসহায় চোখে তাকালো ঈশানের দিকে।ঈশান তার দিকেই স্থির দৃষ্টিতে তাকানো।
___”আপনিই খান।”
___”হা কর দেখি।”
হঠাৎ নিজের মুখের সামনে ভাতের লোকমা দেখে বাকহারা হয়ে গেলো তিতির।চোখ বড় বড় করে ফেললো।ঈশান সুন্দরমতো ভাত মেখে ধরে আছে তার মুখের সামনে।
___”হা টা করেছিস আরেকটু বড় করে কর।মুখে দিতে পারি খাবারটা।”
___”আ..আ..আমি..”
___”চুপ।হা কর।”
তিতির হা করে।ধীরেসুস্থে একেরপর এক লোকমা তুলে দিচ্ছে ঈশান তার মুখে।তিতির রীতিমতো স্তম্ভিত, বাকরুদ্ধ। ঈশানের এই ব্যবহার এর সাথে সে পরিচিত নয়।না তো আশা করে। হঠাৎ চোখে পানি চলে এলো,টইটম্বুর পানির তোড়ে ঝাপসা হয়ে এলো আখিজোড়া।তাদের প্রথম রাতে ঈশানের বলা প্রতিটা কথা কানে বেজে উঠলো।এসব ভালোবাসা না,একদম নয়।ভালো তো ঈশান অন্য নারীকে বাসে।এসব কি তাহলে়!এই যত্ন,এই মান অভিমান,অন্য পুরুষ ছোঁয়ায় এতো জেলাসি!কেনো এসব!অহংকার! দেওয়ান সাহেবের স্ত্রী, নিজে স্বীকৃতি না দিলেও সমাজ তো জানে।। সেই অহংবোধ থেকে হয়তো।
তিতিরের চোখজোড়া আচমকা কঠিন হয়ে আসে।মুখ সরিয়ে নেয়।
___”খাবোনা।আপনি খেয়ে নিন।”
আচমকা এমন কঠিন গলায় চমকে উঠলো ঈশান।দু চোখের মাঝে ভাজ পরলো।চোখ সরু হয়ে এলো।
___”আরেকটু।”
তিতির অন্য দিকে ফেরে।এতো যত্ন তার জন্য নয়।ঈশানের জীবনে সে কয়েকদিনের অতিথি। উহু,অতিথি নয়,বোঝা হয়তো।এসব দয়া ছাড়া আর কিছু না।এসবে দূর্বল হলে চলবে কেনো!বাঁকা চোখে তাকালো ঈশানের দিকে।বাঁকা হাসলো।
___”মিথ্যা যত্নে অভ্যস্ত নই আমি।আমার জীবনে অনেক মানুষ এসেছে, সবার মন থেকে দেওয়া ভালোবাসায় অভ্যস্ত আমি।এসব করবেন না দয়া করে।সত্যর থেকে মিথ্যার ছলনা ভয়ংকর।আপনি খেয়ে নিন।”
ঈশান চুপচাপ শুনলো। তিতিরের অভিমান ধরতে না পারার মতো বোকা সে নয়।একদম নয়।আচ্ছা তার বুকের বা পাশে হঠাৎ এমন চিনচিন করে উঠলো কেনো।ভার লাগছে বা পাশটা।সে কি বলে দেবে সবটা!কি বলবে এখনি।সে নিজেই তো নিশ্চিত নয়।তাহলে!ঈশান দীর্ঘশ্বাস ফেলে।সে কি প্রেমে পরলে এবার!ভালোবেসে ফেললো এই মেয়েটাকে। চোখ বুজে স্থির করে নিজেকে।সামান্য এই কয়টা দিনে কাউকে ভালোবাসা যায়!কই রুষা কে তো এতগুলো বছরেও ভালোবেসে উঠতে পারিনি,এমন অনূভুতি কখনো হয়নি।তাহলে এই মেয়েটার কাছে আসলে তার এমন অবস্থা হয় কেনো।এমন অভিমান করলে তার বুকটা জ্বলে কেনো।ভালোবাসা বলে এটাকে?এই অনূভুতি প্রথম,নতুন।যা কেবল এই মেয়েটার কাছেই হয়।ঈশান এক হাতে গাল ধরে ঘুরিয়ে আনে তিতির কে।
___”হা কর।”
___”খাবোনা বললাম তো।জোর করছেন কেনো।খেয়েছি আমি।”
___”ভালোবেসে খাওয়ালে খাবি?”
বিদ্যুৎ স্পৃষ্টের মতো কেঁপে ওঠে তিতিরের শরীর।অবাকের চূড়ান্ত হয় সে।ঈশান দুই ব্রু নাচায়।
___”কি বললাম?”
তিতির নিজের মনকে সাতপাঁচ বোঝালো।এহেন ছলনায় পা সে দেবে না, কখো না।
___”রুষা বোধহয় এমন আহ্লাদে অভ্যস্ত তাইনা?”
___”বারবার রুষাকে টানছিস কেনো!”
___”কাউকে যদি টানার থাকে সে তো রুষাই।কবুল পড়লাম আমি আপনার নামে,বিয়ে নামক বৈধ কলঙ্ক মাখলাম আমি গায়ে অথচ আপনাকে পেলো সেই নারী।তাকে টানবো না মানে!”
বারবার একই কথায় ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে ঈশানের বুকটা।হাত পা বাধা তার।না হলে মনের ভিতর এখন চলছে,মস্তিষ্ক তাকে যা করতে বলছে করে ফেলতো।সেদিন তো জ্ঞানে ছিলো না মেয়েটা,তাই ওই পাতলা ঠোটজোড়া স্পর্শ করতে দুবার ভাবেনি।কিন্তু আজ ভাবতে হচ্ছে, চাইলেও আকড়ে ধরতে পারছে না ওই কমলার কোষের ন্যায় গোলাপি ওষ্ঠ।থামাতে পারছে না নিজের বুকের ঝড়।ঈশান আরশাদ দেওয়ান এই প্রথম কারোর সামনে অসহায় বোধ করছে,যাকে কৈফিয়ত দিতে না পারার যন্ত্রণায় ছটফট করছে।তাও নাকি হাটুর বয়সী একটা মেয়ের। উহু সাধারণ মেয়ে নয় এ আবার।বিয়ে করা বউ।যাকে কিনা বিয়ের প্রথম রাতেই ডিভোর্স দেবে বলেছে।
___”কথা বলিস না প্লিজ।”
ঈশানের ব্যাকুল কন্ঠে মুখ তুলে তাকায় তিতির।মায়া হচ্ছে তার।নিজের জন্যও,সামনের মানুষ টার জন্যও।ঈশশ কি সুন্দর একটা সংসার হতে পারতো তারও।স্বপ্নের মতো।ওই সুদর্শন পুরুষ টা একান্তই তার হতে পারতো। একদম ব্যাক্তিগত।
তিতির কথা বলেনা।কাত হয়ে চাদর টেনে হাটু ভাজ করে শুয়ে পরে।ঈশান নিজের হাতে থাকা প্লেটে তিতিরের এটো খাবার টুকু খেয়ে শেষ করে।তিতিরের অবশ্য সেসব অদেখাই থাকে।ঈশান বেশ সময় নিয়ে বাকি কাজ সেরে বিছানায় আসে।পাশাপাশি শোয়ার সাহস করতে ইচ্ছে হচ্ছে না।ভয় হচ্ছে
তবে কাছ থেকে মেয়েটার শরীরের মিষ্টি ঘ্রান নেওয়ার লোভটা সামলে উঠতে পারলো না। নিঃশব্দ শুয়ে পরলো তিতিরের পাশে।মেয়েটা কি ঘুমিয়ে গেছে!এই অবস্থায় কিভাবে কারোর ঘুম ধরতে পারে।তার তো ধরছে না।জলন্ত আগুনের পাশে ঘুম ধরে না,পুড়তে মন চায়।
ঈশান কিন্তু মোটেই দুরত্ব রাখলো না,বেশ খানিকটা ঘেষে আসতেই ছিটকে আরও সরে যেতে গিয়ে প্রায় বিছানা থেকে পরে যাওয়ার অবস্থা।তিতির চেচিয়ে উঠতেই কোমড় ধরে টেনে আনলো নিজের কাছে।বুকের সাথে এসে ঠেকলো তিতিরের নরম মুখখানা নরম ওষ্ঠের ছেয়ায় ছন্নছাড়া হলো হৃদয়।
তিতির নড়াচড়া করছে না।পারছে না।শরীর অবশ হয়ে গেছে।কোমড়ে শক্ত হাতের স্পষ্ট, নাকে এসে লাগছে ঈশানের শরীরের কড়া পারফিউম এর ঘ্রান।কই এখন তো পারফিউম তো লাগাতে দেখলো না এখন।তিতির দূর্বল হয়ে যাওয়া শরীর সরিয়ে নিতে চায়।ঈশান ছাড়ে না।বুকটস ঠান্ডা করা দরকার।বুকের বা পাশটায় চেপে ধরবে কি মেয়েটার মাথাটা।তাহলে শান্ত হবে কি বুকটা?
তিতির ছটফটিয়ে উঠলো।সরে যেতে চায় সে।তিতির খুব কষ্টে নিজের গলা কঠিন করলো,
___”ছাড়ছেন না কেনো?সরুন প্লিজ।”
___”একটু শান্ত হতে দে।”
___”এভাবে শান্ত হওয়া যায়না সরুন।”
___”তুই কি করে বুঝলি যায়না।”
তিতির কি বলবে ভেবে পায়না।এমন বুকের মধ্যে জড়িয়ে রাখলে নিজেকে আটকানো যায়!
___”আমি এসবে অভ্যস্ত নই।দয়া করে সরুন।”
___”আমিও অভ্যস্ত নই।”
___”মিথ্যাটা কি রোজকার স্বভাব…?”
___”মিথ্যা মেনেই থাক কিছুক্ষণ। “
তিতিরের শরীর কাপছে। নারী সত্তা জেগে উঠেছে বহু আগেই।ঈশানের স্পর্শে পাগলপ্রায় লাগছে নিজেকে।চোখ বুজে আসে তার।তবে সায় দেয় না সেসবে।একপ্রকার জোর করে সরে আসে অনেকটা।
___”যা করার করেছেন। আর আমাকে অসম্মানিত করবেন না। দোহাই লাগে আপনার।”
ঈশানের ভ্রু কুঞ্চিত হয়।তবে রাগ করে না।তিতিরের এ ধরনের কথা বলার যুক্তি অবশ্যই আছে।দায়ী সে নিজে।তিতির ছাড়িয়ে নিলে ছাড়িয়ে নিতে দেয়।তবে সরে শোয় না।তিতির রোবটের মতো সোজা হয়ে শোয়া।গলা অবধি চাদর টানা।কোনোরকমের নড়াচড়া করছে না।তিতির নিজের ওপর বিরক্ত। বুকের হাতুড়ি পেটানো শব্দটা মনে হচ্ছে পুরো ঘরময় হচ্ছে। আড়চোখে তাকালো ঈশানের দিকে।মাথা হাতের তালুতে ভর দিয়ে কাত হয়ে তার দিকেই শুয়ে আছে।
___”সরে শুচ্ছেন না কেনো।এতো বড় বিছানা।
ঈশান হাসে আচমকা।তিতিরের কানের কাছে মুখ নেয়।হাস্কিস্বরে বলে ওঠে,
___”সেদিন তো হুশে ছিলো না।আজতো আছিস।”
কান দিয়ে গরম ধোয়া বের হয় তিতিরের।ঝাঁকি দিয়ে ওঠে শরীর।লজ্জায় রাঙা হয় দুধেআলতা মুখখানা।পাতলা ঠোঠ খানা দাতের দংশনে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে।
___”দরকার হলে তেলাপোকার সাথে রাত কাটাবো।তবু আপনার সাথে না।কাছে আসবেন না।”
ঈশান সটানে শুয়ে পরে।আফসোসের সুরে বলে,
___”রুচি খারাপ। এতো ড্যাশিং পুরুষ রেখে… ঈশশশ আফসোস হচ্ছে তোর জন্য। “
তিতির লজ্জায় কিচ্ছু বলতে পারেনা।এরই মধ্যে ঈশানের গলার স্বর আরও ধীর হয়।দ্বিগুণ মাতাল স্বরে।বলে ওঠে,
___”আজ আদর চাইতে পারিস।দিন দুনিয়া ভুলিয়ে আদর দেবো।”
তিতির শুধু পারছে না এখান থেকে ছুটে দূরে পালিয়ে যেতে।ঈশান এর একটা কথাও সে আর শুনতে পারছে না।কিছু করতে হচ্ছে না,কথাগুলো কানে আসতেই দিনদুনিয়া ভুলে বসছে সে।বুকের বা পাশটা চেপে রেখে নিঃশব্দ শুয়ে থাকে সে।সকাল হওয়াটা ভীষন প্রয়োজন। রাত চোখের পলকে কেটে গেলে কেমন হতো!কেটে যাক রাতটা এক সেকেন্ডে।ঈশান ও চুপ এখন।ঘরের মধ্যে খানে পিনেতন নিরবতা বিরাজ করছে।কেউ কথা বলছে না।অথচ বাইরের ঝড়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বারছে নরনারীর বুকের ঝড়।গলা শুকিয়ে আসছে ঈশানের।অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গুলো ছটফট করছে।বারবার কেউ একজন কানে কানে বলে যাচ্ছে দখল করে নে নিজের জিনিস।তোরই তো সে।এতো হিসেব নিকেশ কিসের।যা হওয়ার হবে।কিন্তু পারছে না ঈশান।বুকে পাথর চেপে পাশাপাশি শুয়ে দুজন।
___”তিতির?”
তিতির জেগে আছে।তবে জবাব দিলো না।তাকালো স্বাভাবিক ভাবে।
___”ঘুমিয়েছিস?”
___”উহু।”
___”আমার ওপর রেগে খুব?”
___”অধিকারবোধ ছাড়া রাগ অভিমান খাটে না।”
___”আছে তো অধিকারবোধ।”
___”কিসের?”
___”বউয়ের।”
তিতির কথা বলতে পারে না।হাজার টা কথা শোনাতে ইচ্ছে হয় তার।কিন্তু গলায় আটকে আসে।ভালো নাবাসলে এসবের মানে কি!
___”আমাকে দূর্বল করছেন কেনো?”
___”ক্ষতি কি?”
___”অনেক ক্ষতি।আপনার আমার গন্তব্য আলাদা।খুব দ্রুত আলাদা পথে চলতে হবে আমাদের।আমাকে দূর্বল করে মায়ায় জড়াতে বাধ্য করবেন না।এরইমধ্যে যা হওয়ার হয়ে গেছে।আর সমস্যা বাড়াবেন না।এই সম্পর্ক থেকে দ্রুত মুক্তি দেবো আমি আপনাকে।”
দম নিলো তিতির।ঈশানের সাড়া না পেয়ে পাশে তাকাতেই রক্তবর্ণের চোখ দেখতে পেলো।তার দিকেই তাকানো।আর কিছু বলতে যাওয়ার আগেই নিজের ওষ্ঠজোড়া দখলে গেলো ঈশানের। এতো চমকানো এ জীবনে চমকায়নি তিতির।দুজনের দৃষ্টি মিলিত হয়েছে।ঈশান এক হাতে তিতিরের চোখজোড়া বন্ধ করে দিলো।তিতিরের ছটফট করতে থাকা হাত জোড়া একহাতে পেঁচিয়ে মাথার ওপর শক্ত করে চেপে ধরলো।ঠোঁট জোড়ার ওপর বোধহয় কাটাকুটি খেলতে ব্যাস্ত ঈশান।শ্বাস নিতে াপরছে না মেয়েটা।ঈশান নিতেই দিচ্ছে না।ক্রমাগত দলিতমথিত হচ্ছে নরম পাতলা ওষ্ঠজোড়া।আলতো চুমুর রেশ মাত্র নেই।কামড়ে ধরছে বারংবার।তারপর শুষে নিচ্ছে জায়গাটা।তিতির খেয়াল করলো নিজের শরীর নিজের সাথে বেইমানি করছে তার।সায় দিচ্ছে ঈশানের কাজে।নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না কিছু।ঈশান এক সেকেন্ড এর জন্য ছাড়লো।তিতির শ্বাসকষ্টের রুগীর মতো জোরে শ্বাস নিতে গিয়েও নিতে পারলো না।আবার আক্রমণ করে বসলো ঈশান।আগের বারের চেয়ে দ্বিগুন আক্রশে।ছটফটে শরীর তামলো তিতিরের।ষ্থির হলো।নিজের অজান্তেই পাগলের মতো সাড়া দিয়ে ফেললো ঈশানের সাথে। যদিও ঈশানের গতির সাথে পেরে উঠছে না মেয়েটা।ঈশান মোটেই ভদ্রসভ্য আদর করছে না।শরীর থরথর করে কাঁপছে। ঈশানের হাতের স্পর্শ বেগতিক হলো এবার।তিতির খেয়াল করলো চাদের নিচে তার ছোটখাটো শরীরের তোয়ালে খানা এরই মধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।ঈশান একপ্রকার খামচে ধরলো তিতিরের নরম লতানো কোমড়।বিচরন করতে শুরু করলো গোটা পেট।তিতির কাঁপছে, পা ছোড়াছুড়ি করছে এহেন স্পর্শে।আচমকা ঈশানের হাত উঠে এলো বক্ষজোড়ার ওপর।বেঁকে উঠলো গোটা শরীর।বিছানা থেকে কয়েক ইঞ্চি উচুতে উঠে গেলো কোমড়া খানাহাত বাড়িয়ে চেপে ধরলো বিছানার সাথে। ঠোঁট ছেড়ে মুখ নামালো কন্ঠ দেশে। সেখানে চুমুর রেশ মাত্র টের পাচ্ছে না তিতির।কয়েক মিনিটের ব্যবধানে উপলব্ধি করলো গোটা গলা,বুকের ওপরের অংশ জ্বলে যাচ্ছে তার।দুজনই হাপাচ্ছে পাগলের মতো।ঈশান নিয়ন্ত্রণে নেই,তিতিরও না।তবে ঈশান নিজের ঠোট আরেকটু নিচে ছোয়াতেই চোখ খুলে ফেললো তিতির।কি ঘটাতে যাচ্ছে ভেবেই ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে চাইলো ঈশানকে।
ঈশান শুনতে চাচ্ছে না।পুনারায় হাত চেপে ধরে গেলেই আতর্নাদ করে উঠলো তিতির।
___”পিরিয়ড…
ঈশান হুট করে থেমে গেলো।মুখ তুল তাকালো।তিতির চোখে পানি নিশে তাকিয়ে আছে তারই দিকে।
___”আজ কয়দিন?”
তিতিরের লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে। কাঁপা গলায় বললো,
___”চ..চ..চার”
ফোঁস করে শ্বাস ছাড়লো ঈশান।শরূরের ভার ছেধে দিলো তিতির এর ওপর।মাথা রাখলো তিতিরের বুকে।চাদর দিয়ে ঢাকা।সে অবশ্য চাদরের বাইরে।অনূভব করলো তিতিরের ঘোড়ার বেগে ছোটা হার্টবিট।নিজের অবস্থাও একই।
হাঁপাচ্ছে দুজন।
___”মাথাটা চেপে ধর তোর বুকে।প্লিজ তিতির।মরে য়াচ্ছি।”
তিতির খুব করে চাইলো সেটা নাকরতে।আত্ম-সম্মানের কাছে সচ্ছ থাকতে চাইলো।সম্ভব হলো না।নারীসত্তার টানে কাঁপা কাঁপা হাতটা গিয়ে রাখলো ঈশানের মাথায়।ঈশান ততক্ষণে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে তিতিরের মেদহীন কোমড়।তিতির শক্ত করে চেপে ধরলো নিজের বুকে ঈশানকে।সত্যি শান্তি লাগছে।আচমকা কণ্ঠস্বর কেমন একটা শোনালো ঈশানের।অস্বাভাবিক হাস্কিস্বরে বললো,
___”অ্যাম নট টাচ এনি আদার ওমেন বিফোর ইউ,তিতির।গড স্যোয়ার।”
তিতির চমকায় ঈশানের কথা শুনে।অন্য কোনো নারীকে এর আগে ছোঁয় নি মানে কি!
___”রু..রুষা?”
___”হুশশশশ্। জাস্ট কিপ সাইলেন্ট।আমসর শরীর টা জ্বলছে।আজকে ধরা দিলিনা তুই।ঝলসে যাচ্ছি তিতির আমি।ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি।কি করি বলতো।তোকে খুব দরকার ছিলো আমসর আজকে।পাগলের মতো আদর করতে ইচ্ছে করছে।গোটা শরীর সাড়া দিচ্ছে।ফিল করতে পারছিস না?”
কিছু একটা অনুভব করতেই ঠাটিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললো।এমন পরিস্থিতি প্রথম,তার মস্তিষ্ক নিতে পারছেনা।
___”আপনি দয়া করে সরে যান।সম্ভব নয় কিছু।”
___”উহু কিচ্ছু করবোনা।বুকে মাথা রাখ তো আয়।”
ঈশান এবার সটানে শোয়।তিতিরকে ছাড়ে না।নগ্ন শরীরখানা চাদের ভাজে।সেভাবেই জড়িয়ে আনে নিজের বুকে।তিতিরের মাথাটা চেপে রাখে তার বুকে।
___”দেখলি কতটা চাইছি তোকে।”
ঈশানের বুকের ঝড় নিঃশব্দে শুনে গেলো তিতির।তার কি এই মূহুর্তে নিজের ওপর রাগ হওয়া উচিত নয়।সে পুরুষ তাকে মানেই না,বিয়ের প্রথম রাতে বিচ্ছেদ চায়,মুক্তি চায়।কোন আবেগে তার কাছে এভাবে ধরা দিচ্ছে সে।তারই বুকে শান্ত বিড়ালছানার মতো পরে আছে।আজকে তার সমস্যা টা না থাকলে কি বাধা দিতো ঈশানকে!বারবার নিজেকে বুঝিয়ে কি লাভ হচ্ছে তার।সেই তো দূর্বল হয়েই পরছে।এই যেমন সব বুঝেও এই বুকটা ছেড়ে একচুল সরতে ইচ্ছে হচ্ছে না তার।ঈশান তার আধভেজা চুলে হাত বুলাতে ব্যাস্ত।সে তার বৈধ পুরুষের উদাম বুকে মুখ গুজে পরে আছে।গোটা শরীরে একটা সুতোও নেই।ঈশান নিজের পায়ে আকড়ে ধরে আছে তিতির এর নরম মোমের মতো পা জোড়া।সে মোটেই ছাড়াতে ছোটাছুটি করছে না।কোথায় গেলো তার আত্মসম্মান, তসর এত বড় বড় কথা।কান্না পাচ্ছে তার।কঠিন বেড়াজালে আটকে গেছে সে।ঈশান তাকে ছেড়ে গেলে বাঁচতে পারবে সে!
সাঁঝের মায়া পর্ব ২৫
পারবে না বোধহয়। তবে সে সেটা বুঝতে দিলে তবে তো!হারিয়ে যাবে সে, ঈশান টেরও পাবে না। মনেই থাকবে না তিতির নামের কেউ তার জীবনে ছিলো।অস্তিত্ব ছিলো তার।খুব জলদি চলে যাবে।নিজে আরও নির্লজ্জ হয়ে সতীত্ব খোয়ানোর আগেই হারাবে।আজই শেষ এই প্রশ্রয়।এ ভুল আর দ্বিতীয় বার হবে না।কিছুতেই নয়।মুখ ঘষলো উদাম বুকে।প্রান ভরে টেনে নিলো ঈশানের শরীরের ঘ্রান।মাতাল হয়েছে সে।ঈশানের শক্তহাতের ছোয়া তার সর্বাঙ্গে। ঈশান চোখবুজে পরে আছে নিজেও।তিতিরকে নড়াচড়া করতে দিচ্ছে না।বারবার এ বড় কঠিন অত্যাচার।পুরুষ মানুষের জন্য তো আরও দ্বিগুন। এ যন্ত্রণার শেষ কোথায়!
