হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৪২
তামান্না ইসলাম শিমলা
গুনগুন করতে করতে রুমে আসে তেহরাব, তনয়া বিছানায় বসে আছে। তেহরাব এসে ডিভানে বসল, কেকের প্লেটটা হাতে নিয়ে তনয়াকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“ওখানে বসে আছিস কেন? খাবি না?”
তনয়া তাকাল তেহরাবের দিকে, শুকনো মুখে বলল,
“নাহ, খেতে চলুন!”
তেহরাব কেক মুখে দেয়, খেতে খেতে বলে,
“নাহ খাব না, তুই খেয়ে নে।”
তনয়ার কেন যেন খুব কান্না পাচ্ছে, সব কিছুই কেমন যেন লাগছে। তেহরাব হুট করে তনয়ার দিকে তাকাল, কেমন কাঁদো কাঁদো মুখ। তেহরাব ভাবল হয়তো হয়তো বাবার বাড়ি থেকে নিয়ে আসার জন্য তনয়া রেগে আছে, তেহরাব হাসলো। কেকটা খেয়ে পানি পান করল, উঠে গিয়ে দরজা লাগিয়ে সামনে এসে দাঁড়াল তনয়ার, তনয়া মাথা উচু করে তাকাল।
তেহরাব এক হাত তনয়ার গালে রাখল,
“এখনো রেগে আছিস? আমার বিষয়টাও একটু বোঝার চেষ্ট কর।”
তনয়া উঠে দাঁড়াল, তাকিয়ে রইল তেহরাবের চোখের দিকে। প্রশ্ন করল,
“কোথায় ছিলেন এতসময়?”
“ছাদে।”
তেহরাবের ছোট্ট জবাব, তেহরাব তনয়ার কোমড় জড়িয়ে ধরে নিজের আরো কাছে নিয়ে আসে। আরেক হাত রাখে তনয়ার চুলের ভাজে,
“এখনো মন খারাপ?”
তনয়া জবাব দেয়না, তেহরাব নিজের মুখ এগিয়ে নেয় তনয়ার ঠোঁটের দিকে। তবে তার আগেই তনয়া হাত রাখে তেহরাবের ঠোঁটের উপর, তেহরাব ভ্রু কুঁচকায়।
“কি হয়েছে?”
তনয়ার গলা ধরে আসছে, এক্ষুণি বোধহয় কেঁদে ফেলবে সে।
“ভালো লাগছে না, ছাড়ুন।”
তনয়া নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়, এদিক ওদিক তাকায়। তেহরাবকে গম্ভীর দেখাচ্ছে, তেহরাব এগিয়ে আসে তনয়ার কাছে। তনয়ার বাহু ধরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে প্রশ্ন করে,
“কি হয়েছে তোর? এমন বিহেব করছিস কেন?”
তনয়া মাথা নিচু করে রাখে, মিনমিন করে বলে,
“আমি কেমন বিহেব করলাম, ভালো লাগছে না আমার। ঘুমাব আমি।”
তনয়া যেতে নিলে তেহরাব হাত ধরে ফেলে,
“তনয়া, কি হয়েছে তোর? এমন করছিস কেন? তুই জানিস তো আমি থাকতে পারিনা তোকে ছাড়া, তারপরেও কেন এমন করছিস?”
তনয়া এবার কেঁদে ফেলল, ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“কিছুই হয়নি আমার, প্লিজ ছাড়ুন। ভালো লাগছে না আমার, কিচ্ছু ভালো লাগছে না।”
তেহরাব এবার অস্থির হযে পরল, তনয়া কাঁদছে, সে যে তনয়ার কান্না সহ্য করতে পারছে না।
তেহরাব তনয়ার গালে হাত রাখল, অস্থির চিত্তে বলে উঠল,
“কি হয়েছে বল জান, না বললে বুঝব কি করে? আমি কিছু করিছি? নাকি ওই বাড়িতে থাকতে দেইনি বলে রেগে আছিস? নাকি অন্য কিছু? বল তনয়া, এভাবে কাঁদিস না প্লিজ।”
তনয়া হিচকি তুলতে তুলতে বলে,
“ছাদে কার সাথে কথা বলছিলেন আপনি? হুহ?”
তেহরাব থেমে যায়, অবাক নয়নে তাকায় তনয়ার দিকে। তনয়াও অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকিয়ে আছে তেহরাবের দিকে, তেহরাব দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।
“তুই আমাকে সন্দেহ করছিস?”
তনয়া দ্রুত দুদিকে মাথা নাড়ায়,
“সন্দেহ করছি না, তবে আমার মন মানছে না। আপনি কেন অনঢ কাউকে এমন আদুরী নামে ডাকবেন?”
তেহরাবের অধরে ফুটে উঠল কিঞ্চিৎ হাসি, তনয়াকে আলতো করে জড়িয়ে ধরল।
“বুঝেছি, এখন চুপ। কাঁদবি না একদম, কালকে সকালে রেডি থাকবি এক জায়গায় নিয়ে যাব। বুঝলি?”
তনয়া এখনো কেঁদেই চলেছে, এবার তেহরাব একটু গম্ভীর কন্ঠেই ধমকে উঠল,
“আরেকবার কাঁদলে এক্ষুনি ঘরের বাইরে বের করে দিব, চুপ করতে বলিনি?”
তনয়া নাক টেনে বলে,
“কার সাথে কথা বলছিলেন?”
“বলব না।”
“কেন?”
“তোর সতিন, দেখা করবি?”
তনয়া আবারো ঠোঁট উল্টায়, তেহরাব এবার শব্দ করে হেসে উঠে। এই মেয়ের সাথে মজাও করা যাবে না,
“হয়েছে হয়েছে কাঁদিস না আর, কালকে এক জায়গায় যাব। তারপর সব উত্তর পেয়ে যাবি, এখন কান্না থামা।”
তনয়া সেভাবেই দাঁড়িয়ে থাকে, তেহরাব তনয়াকে জড়িয়ে রাখে নিজের সাথে। বিড়বিড় করে বলে,
“আসলেই বাচ্চা!”
সকালের নাস্তা তৈরি করছে তনয়া, তাসলিমার শরীরটা আজ খারাপ। প্রেসার হাই হয়ে গিয়েছে, ইউসুফও তিনদিনের জন্য সিলেট গিয়েছে। তেহরাবেরও ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল তবে যায়নি, এই ছেলেটার ভবঘুরে স্বভাবটা কবে বদলাবে কে জানে। কাজকর্মের দিকে কোনো সিরিয়াসনেস চোখেই পরে না।
খিচুড়ি আর ডিম ভাজি করে টেবিলে এনে রাখল তনয়া, তাসলিমার জন্য খাবার নিয়ে তার রুমে চলে গেল।
তাসলিমা আধশোয়া হয়ে বসে আছে, চোখ জোড়া বন্ধ।
“মা খাবারটা খেয়ে ঔষুধ খেয়ে নিন।”
তনয়ার কন্ঠস্বর শুনে চোখ খুলে তাকাল তাসলিমা, তনয়া এসে খাবারের ট্রে টা বিছানার পাশে থাকা টেবিলে রাখল।
“তনয়া বস, কথা আছে তোর সাথে আমার।”
তনয়া প্রশ্নবিদ্ধ নয়নে তাকায় তাসলিমার দিকে,
“ জ্বি বলুন।”
তাসলিমা দরজার দিকে তাকিয়ে বলল,
“দরজা বন্ধ করে দিয়ে আস।”
তনয়া কিছু না বলে কথা মতো দরজা বন্ধ করে দিয়ে এসে বসে তাসলিমার পাশে।
তাসলিমা তনয়ার দিকে কিছু সময় তাকিয়ে থাকে, অতংপর বলে,
“আমার ছেলেটা মানুষ হিসেবে সত্যি ভালো, তবে ওর বাউণ্ডুলে স্বভাবটা পরিবর্তন করা প্রয়োজন তনয়া। ওর রাগ জেদ ছোট থেকেই বেশি, তাই আমিও জোর খাটাতে পারিনি। কিন্তু তোর উপর রাগ জেদ কোনোটাই দেখাতে পারে না, তোর কথা শুনবে। তোর বাবার বয়স হয়েছে, লোকটা আর কত ছুটবে বল? তেহরাবকে তো এবার সংসারের হাল ধরতে হবে, আমরা আজ আছি কাল নেই। আমাদেরও তো ইচ্ছে করে নিজের ছেলের সংসার দেখতে, একটু দায়িত্ব নিতে শিখতে হবে তো ওকে। যতটা দিন আছি শুধু চাই নাতি নাতনিদের নিয়ে হাসি আনন্দে বেঁচে থাকতে।”
তনয়া মাথা নিচু করে বসে আছে, কি বলবে সে? তেহরাবকে সে কম বুঝিয়েছে? লোকটা যে এসবের ধারে কাছে যেতে চেয়েও যাচ্ছে না, আজ যেমন ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল অথচ রাতেই বলে দিল যাবে না।
“আচ্ছা আমি চেষ্টা করব, আপনি চিন্তা করবেন না।”
তাসলিমা মাথা নাড়ে, তনয়া বেরিয়ে চলে আসে নিচে। নিচে এসে দেখে তেহরাব সোফায় বসে টিভি দেখছে, তনয়া কিছু না বলে খাবার টেবিলে এসে খাবার বাড়তে থাকে।
“খেতে আসুন।”
তনয়ার ডাকে তেহরাব খেতে বসে, পাশে বসে তনয়া। তনয়াকে চুপচাপ দেখে তেহরাব ভ্রু কুঁচকায়,
“কি হয়েছে আবার? মুখ এমন করে রেখেছিস কেন?”
তনয়া খাবার মুখে দেয়, গম্ভীর ভাব নিয়েই বলে,
“আপনার তো পড়াশোনা শেষ তাইনা? মিলের দায়িত্বও তো নিয়েছেন শুনেছিলাম, তাহলে গুরুত্ব দিয়ে কাজ কেন করছেন না?”
তেহরাব চোখ মুখ কুঁচকে তনয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে,
“তোকে কে বলেছে আমি কাজ করছিনা?”
তনয়া এবার তেহরাবের দিকে তাকায়, কিছুটা বিরক্ত নিয়েই বলে,
“কোথায় করছেন? সারাদিন তো বাসায়ই থাকেন, আর আজ না ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল? কি হলো? না গিয়ে বাসায় থেকে গেলেন কেন?”
তেহরাব খাওয়ার দিকে মনোযোগ দেয়, খেতে খেতেই বলে,
“তুই বুঝবি না, এসব নিয়ে তোকে ভাবতেও হবে না।”
“ভাবতে হবে না মানে? আমি আপনার স্ত্রী, আপনি আমার স্বামী, এই সংসার, সংসারের সাথে জড়িত সব কিছু নিয়েই আমাকে ভাবতে হবে। “
তেহরাব মৃদু হাসে,
“বাহ বাহ, এখুনি গিন্নি গিন্নি ভাব চলে এসেছে।”
তনয়ার সত্যি মেজাজ খারাপ হচ্ছে,
“আমি মজা করছি না তেহরাব, আপনি একটু সিরিয়াস হোন। বাবার বয়স হচ্ছে তো, আর কত তিনি সব দিক সামলাবেন?”
এবার তেহরাবকেও কিছুটা গম্ভীর দেখালো, তবে অধরে মৃদু হাসি।
“আমি কোনো দায়িত্ব নিলে তা ঠিক মতোই পালন করি, যেহেতু মিলের দায়িত্ব নিয়েছি তাও ঠিক মতোই পালন করছি। সেটা যেভাবেই করি, আর রইল বাড়িতে থাকার বিষয়টা, আগেও বলেছি আমি ফাইবারে কাজ করি। আর আজ ঢাকা আমি যাইনি, তাই বলে কাজটা যে বন্ধ হয়ে পরে থাকবে তা না। আমার কাজের দিকে আমার যথেষ্ট পরিমাণ মনোযোগ আছে। তোকে এত কিছু নিয়ে ভাবতে হিে না, শুধু আমাকে নিয়ে ভাবলেই চলবে।”
তনয়া আর কি বলবে বুঝতে পারছে না, ইতিমধ্যে তেহরাবের খাওয়া শেষ।
“দ্রুত খাওয়া শেষ করে রেডি হয়ে নে।”
বলেই তেহরাব চলে গেল নিজের মায়ের কাছে, তনয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলল। খাওয়া শেষ করে, সব কাজ শেষ করতে করতে ঘড়ির কাটা ততক্ষণে দশটার কাছাকাছি।
ঘরে এসে দেখে তেহরাব বিছানায় বসে কারো সাথে কথা বলছে,তনয়া কিছু না বলে ওয়াশ রুমে চলে গেল। তৈরি হয়ে এসে মাথা আঁচড়ে নিল, তেহরাব তখনো ফোনে কথা বলছে।
কথা শেষ করে তেহরাব উঠে দাঁড়াল, তনয়াকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করল। তনয়া কিছুটা হকচকিয়ে গেল, কিছু ভুল ত্রুটি হলো নাকি?
তনয়ার ভাবনার মাঝেই তেহরাব বলে উঠল,
“হিজাব বাঁধ, বলেছি না চুল ছেড়ে বাইরে যাবি না।”
তনয়া দ্রুত মাথা নাড়ে, ওয়ারড্রব থেকে একটি৷ হিজাব বের করে দ্রুত বেঁধে নেয়,
“হয়েছে।”
তেহরাব আগের মতোই গম্ভীর, কিন্তু কারন জানা নেই তনয়ার। তেহরাব কিছু না বলে রুম থেকে বেরিয়ে যায়, পেছন পেছন তনয়াও যায়। তেহরাব বাইক নিয়ে তনয়ার সামনে এসে দাঁড়ায়, তনয়া উঠে বসে। জড়িয়ে ধরে শক্ত করে,
“তনয়া!”
তনয়া চমকায়,
“হুহ?”
তেহরাব বাইক স্টার্ট দেওয়ার আগেই বলে,
“মিজু আজ মারা গিয়েছে।”
তনয়া কেমন কেঁপে উঠল, হয়তো মানুষটার নাম শুনেই ভয় করছে।
তনয়া তেহরাবের পিঠে নিজের মাথা ঠেকায়,চোখ বন্ধ করে বলে,
“আমি এসব জানতে বা শুনতে চাই না, চলুন কোথায় নিয়ে যাবেন সেখানে।”
তেহরাব নিজেও বড় করে শ্বাস নেয়, নিজের বুকে থাকা তনয়ার হাতে আলতো করে চুমু খেয়ে বলে,
“যাব তো, আমাদের পৃথিবীতে, শুধু আমি আর তুই। আর কেউ না।”
তেহরাব বাইক স্টার্ট দেয়, হঠাৎ মৃদু হেসে ফিসফিস করে বলে,,
“তুই কি জানিস, তোকে দেখলে আমার হার্টবিট পর্যন্ত গুগল ম্যাপে দেখায়?”
তনয়া ভ্রু কুঁচকে লুকিং গ্লাসে তেহরাবের দিকে তাকায়,
“মানে?”
“Too fast to track”
তনয়া চোখ কুঁচকে তাকায়, বলে,
“আপনি এসব শিখেন কোথা থেকে?”
তেহরাব কাঁধ ঝাঁকায়,
“তুই তো আর সহজে পটিস না, একটু গবেষণা করতে হয়। এতদিন হয়ে গেল বিয়ের তাও কত কাঠখড় পুড়িয়ে। অথচ বউ আমাকে বুঝেই না।”
তনয়া মুখ ভেঙায়,
“কি বুঝি না আমি? কোন জিনিসটা বুঝি না?”
তেহরাব আফসোসের সুরে বলে,
“এইযে কত কষ্ট করে গবেষণা করি তোকে ভালোবাসি বলে, আর তুই কিনা ভাবিস তেহরাব পাগল।”
তনয়া মুখে হাত দিয়ে হাসি চাপার চেষ্টা করে, কিন্তু পারে না,
“আপনার এই গবেষণা কোনোদিন আপনাকে নোবেল এনে দেবে মনে হয় না!”
তেহরাব গম্ভীর ভঙ্গিতে বলে,
“নোবেল চাই না, তোর হাসিটাই আমার পুরস্কার। সারাজীবন আমার হয়ে থাক, এভাবেই হাসি খুশি থাক!”
তনয়া কিছু না বলে তেহরাবকে আবারো জড়িয়ে ধরে,স্মিত হেসে বলে,
“আপনি থাকতে আপনার তনয়ার জীবনে আর কোনো দুঃখ আসবে না, আছেন তো আপনি? সারাজীবন এভাবেই থেকে যাবেন তো? বদলে যাবেন না দয়া করে, তাহলে এই বোকা তনয়া আর পথ খুঁজে পাবে না। “
তেহরাব তনয়ার কথায় নিঃশব্দে মাথা ঝুকিয়ে দেয়। তেহরাবের চোখ দুটো হঠাৎই গভীর হয়ে উঠল, যেন তনয়ার ভেতরটা পড়ে নিতে চাইছে খুব করে।ধীরে ধীরে বলল,
“তুই যদি পথ হারাস, আমি তো আছি না তোকে খুঁজে নিতে, হাত ধরে ফিরিয়ে আনতে? আমি বদলাব না, কারণ তোর জন্য বদলানোর মতো কিছু রাখিনি নিজের ভেতর। সবটা জুড়েই তুই, সবটাই তোর।”
তনয়া এবার একটু নাক সিঁটকে বলল,
“অতো ভালোবাসবেন না, আমি মাথায় চড়ে বসে যাব কিন্তু। তারপর আর এই তনয়াকে পছন্দ হবে না।”
তেহরাব হাসে,
“বসে যা, দরকার পরলে আরো দশ বারোটা মাথা কিনে আনব!”
তনয়া গাল ফুলিয়ে বলে,
“আপনি একদমই ভালো না, বড্ড অসভ্য। তা কি আপনি জানেন?”
তেহরাব চোখ টিপে, বাঁকা হেসে বলে,
“শুধু তোর জন্যেই, অন্য কেউ থাকলে আমি ভয়ানক গম্ভীর থাকতাম!”
“আমার বদলে অন্য কেউ বুঝি আসতে পারত?”
তেহরাব এবার মুচকি হাসে,
“তা কখনোই না, তেহরাব পুরোটাই তোকে ঘিরে, অন্য কেউ আসা তো দূরে সেই পর্যন্ত তেহরাব বেঁচে থাকত কিনা সেটাই সন্দেহ। “
তনয়া চোখ বন্ধ করে নেয়, লম্বা শ্বাস নিয়ে শুধু বলে,
হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৪১
“ভালোবাসি, ভালোবাসি আপনাকে। খুব খুব খুব বেশি ভালোবাসি।”
তেহরাব মৃদু হাসে, বলে,
“আমি তবে অল্প ভালোবাসি, চলবে?”
“খুব চলবে।”
“কতদূর?”
“শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত।”
