হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৫৩
তামান্না ইসলাম শিমলা
সকাল থেকেই হৈচৈ লেগে আছে সরকার বাড়িতে। নানা রকম রান্না বান্নার আয়োজন চলছে।তেহরাবেে পক্ষ থেকেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন। সকলে তো সেটাই জানে।
সারাদিনের দৌড়াদৌড়িতে তনয়ার কাছে আসার সময় পাইনি তেহরাব।নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বাবুর্চিদের রান্নার তদারকি করেছে। মেহমানরাও চলে এসেছে।
তনয়া ঢিলাঢালা মেক্সি পরে নিজের ঘরে বসে কুরআন শরীফ পড়ছে। এমন সময় ধরে আসে তানিয়া। তনয়া পড়া শেষ করে কুরআন শরীফ জায়গা মতো রেখে উঠে দাঁড়াল। তনয়া হাসি হাসি মুখ করে এগিয়ে গেল নিজের মায়ের দিকে,
“কেমন আছো আম্মু?”
তানিয়া জবাব দিল না। তনয়া লক্ষ্য করল তানিয়ার চোখ দুটো ছলছল করছে। কি হয়েছে তার মায়ের? মনের ভেতর চলা প্রশ্নটাকে বাইরে আনলো সে,
“কি হয়েছে?”
তানিয়া হুট করেই জড়িয়ে ধরল তনয়াকে। তনয়া খানিক চমকাল! তানিয়া শব্দ করে কেঁদে উঠল,
“মাফ করে দে তনয়া আমাকে মাফ করে দে। অনেক কষ্ট দিয়েছি, অনেক কথা শুনিয়েছি। মাফ করে দে।”
তনয়া নিশ্চুপ! সে বুঝতে পারছে না এসবের মানে।
কিছু জিজ্ঞেসও করতে পারছে না।
“আমি আসলেই মা হিসেবে খারাপ তনয়া। ক্ষমা করে দে সোনা।”
তনয়া হাসলো। জবাব দিল না। শুধু বলল,
“খেয়েছো? আব্বু কই?”
তানিয়া তনয়ার দিকে তাকাল। তনয়ার গালে হাত রেখে বলল,
“আমি জানি আমি অন্যায় করেছি। সব কিছুর জন্য তোকে দায়ী করেছি। তবুও ক্ষমা করে দে।”
“কীসব বলছো? তুমি আবার কি করবে। চলো তো।”
তনয়া যেতে নিলে তানিয়া আটকায়,
“আমি সত্যি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি। আমিই বা কি করতাম? তোর দাদী মেয়ে হওয়া নিয়ে প্রতিদিন কথা শোনাতো। কত বাজে বাজে কথা। তারপর তোর সাথে ওই দুর্ঘটনা, সেসব নিয়েও কত বাজে কথা শুনতে হয়েছে। তোর আব্বু এসব কিছুই জানে না, আড়ালে সব আমাকে হজম করতে হতো। তাই হয়তো জিদের বশে ভুল করে ফেলেছি। ক্ষমা করে দে না মা।”
তনয়া আজ কাঁদতে চাচ্ছে না। মায়ের দিকে তাকিয়ে শুধু বলল,
“মায়ের উপর রেগে থাকা যায়? কীসব বলছো?”
তানিয়া মুখে আঁচল গুঁজে কাঁদছে। কাল পর্যন্ত তার মনোভাব ছিল ভিন্ন। তবে জানতে পারল তেহরাব তনয়াকে তাদের বাড়িতে আসতে দিবে না এবং সেই কারনটা নাকি তিনি তখন থেকেই তিনি ভাবনায়, অনুশোচনায় দগ্ধ। যতই হোক তনয়া তার মেয়ে।
গত রাতে সে নিজেই তেহরাবকে কল করেছিল যাতে তনয়াকে আসতে দেয়। তবে তখন তেহরাব সরাসরি মানা করেছে। কারন জানতে চাইলেও তেহরাব সরাসরি বলে দিয়েছিল,
“ও বাড়িতে তনয়াকে ভালোবাসার কেউ নেই। তবে এ বাড়িতে সবাই আছে, মা আছে, বোন আছে, স্বামী আছে। তনয়া এবাড়িতে চোখের জল ফেলে না, অবহেলা অনুভব করে না। এটাই কি যথেষ্ট নয় কারন হিসেবে.?”
ব্যস এতটুকু কথাতেই তানিয়ার মনে গিয়ে লেগেছে। সে বুঝতে পারে তনয়ার কতটা খারাপ লাগত তার ব্যবহারে। তাই তো সারারাত ঘুম হয়নি তার। অনুশোচনায় পুড়েছে।
“কথা দিচ্ছি মা আমি আর তোকে কষ্ট দিব না। চল তুই।”
তনয়া হাসে,
“কীসব যে বলো। আমি কি সেই কারনে যেতে চাচ্ছি না ভাবছো? ডাক্তার আন্টি বলেছে আমাকে জার্নি না করতে। অবস্থা তো জানোই। আর উনি আর বাবাও চাচ্ছেন না আমাকে যেতে দিতে। তাই এই সিদ্ধান্ত। তুমি চলোতো নিচে, খাবে তো।”
তনয়া জোর করে তানিয়াকে নিয়ে নিচে আসে। আজ অনেকদিন পর নিচে আসা হল তনয়ার। তেহরাব তো তাকে নিজে থেকে আসতেই দেয় না। হয় কোলে বা ধরে ধরে নামাবে। আপাতত বাড়িতে মানুষজন কম। সবাই বাইরে প্যান্ডেলের নিচে খেতে বসেছে।
এমন সময় হাড়তাড় করে বাড়িতে আসে তেহরাব। তানিয়াতে দেখে প্রথমে কিছুটা বিরক্ত হলেও পরবর্তীতে বলে উঠে,
“আরে মা এখানে কি করছেন? যান যান খেয়ে আসুন।”
“তনয়া আগে খাক।”
তানিয়ার কথা শুনে তেহরাব হাসি হাসি মুখ করে বলল,
“আমি আছি তো। আপনি যান। অবশ্যই গরুর গোস্ত মন ভরে খাবেন।”
তানিয়াকে এক প্রকার জোর করেই পাঠিয়ে দিল তেহরাব। তনয়া ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইল, তেহরাব কিছু সময় পর হাতে খাবারের প্লেট নিয়ে তনয়ার কাছে আসলো। বসলো সোফায়, তনয়াও বসলো। তেহরাব প্লেটটা তনয়ার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল,
“আমাকে খাইয়ে দে জলদি।”
তনয়া মুচকি হেসে প্লেটটা হাতে নেয়। তবে আশ্চর্য হয় গরুর গোস্ত না দেখে। ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে,
“গরুর গোস্ত কই?”
তেহরাব ভাবলেশ ভাবে জবাব দেয়,
“তোর কি মনে হয় আমি ওই গরুর গোস্ত তোকে খাওয়াব?”
তনয়া একই ভাবে তাকিয়ে রইল,
“তাহলে…. এই ওয়েট! গরু চুরি করলেন আম্মু এখনো জানে না?”
তেহরাব বাঁকা হাসে। তা দেখে তনয়ার ভ্রু জোড়া প্রসারিত হয় আরো।
“হাসছেন কেন?”
তেহরাব খাবারের দিকে তাকিয়ে বলল,
“চুরি করিনি। কিনে এনেছি নগদ একলক্ষ আটান্ন হাজার টাকা দিয়ে। এবার কথা বাদ দিয়ে খাইয়ে দে।”
তনয়ার চোয়াল ঝুলে পরেছে।
“কিনেছেন মানে? কীভাবে? আম্মু আপনার কাছে……..
তেহরাব আড় চোখে তনয়ার দিকে তাকাল। গম্ভীর গলায় বলল,
“নিজে কিনিনি। অন্য একজনকে দিয়ে কিনিয়েছি। আর একটা কথাও না, খাইয়ে দে।”
তনয়া থেমে যায়। খাবার মুখে তুলে দেয় তেহরাবের। নিজেই খাচ্ছে সাথে। খাওয়ার এক পর্যায়ে তনয়া বলল,
“আম্মু ক্ষমা চেয়েছে। নিজের কাছেই কেমন একটা লাগছে।”
তেহরাব খাওয়ার দিকে মনোযোগ দিয়েই বলল,
“ভুল করেছে বলেই ক্ষমা চেয়েছে। ভাবার কিছু নেই।”
তনয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলল। খাওয়া দাওয়া শেষ করে তেহরাব তনয়ার ওড়নায় নিজের মুখ মুছে বলল,
“মিরপুর যাচ্ছি আমি আর ফাহিম। নয়টার আগেই ফিরে আসবো।”
তনয়া হাত ধুচ্ছিল। তেহরাবের কথা শুনে ভ্রু কুঁচকে নিল।
“মিরপুর কেন?”
তেহরাব দুষ্টু হেসে বলে,
“তোর সতিন আনতে যাচ্ছি।”
তনয়া দাঁতে দাঁত চেপে শক্ত চোখে তেহরাবের দিকে তাকাল। তেহরাব তনয়ার দিকে ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল,
“আর ইউ জেলাস?”
তনয়া দাঁতে দাঁত চেপেই হাসলো। বিরক্তি নিয়ে বলল,
“একদমই না। যান। “
তনয়া উঠে দাঁড়ায়। পা বাড়ায় নিজের রুমে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। তেহরাব হাসে।
নিজের এলোমেলো চুল গুলোতে হাত বুলিয়ে তনয়াকে উদ্দেশ্য করে বলে,
“দোলনা কিনতে যাচ্ছি।”
তনয়া আর পিছন ফিরে তাকায় না। শুধু মুচকি হেসে চলে যায় উপরে৷ তেহরাবও বেরিয়ে পরে নিজের অনাগত ছেলে মেয়েদের জন্য দোলনা কিনে আনতে।
অপারেশন থিয়েটারের সামনে দাঁড়িয়ে আছে তেহরাব। চিন্তায় হাত পা ক্রমশ কাঁপছে।
কিছু সময় আগেই তনয়াকে অটিতে নেওয়া হয়েছে। নরমাল ডেলিভারি তো হবেই না, উল্টো সিজারের ডেটের দু সপ্তাহ আগেই অপারেশন করতে হচ্ছে।
বাচ্চা দুটোর একজন অক্সিজেন পাচ্ছে না ঠিক মতো।
এ নিয়ে কোনো রিস্ক নিতে চায় না তেহরাব।
তেহরাবের আশে পাশে তনয়ার মা বাবা, তার মা বাবা, ফাহিম,ইরাসহ আরো অনেকেই।
তেহরাবকে এতটা চিন্তা করতে দেখে ফাহিম এগিয়ে আসলো।
“তুই বস তো। এত টেনশন কেন করছিস?”
তেহরাব পাত্তা দিল না। ঘন্টাখানেক পেরিয়ে গেছে তনয়াকে নেওয়া হয়েছে অথচ এখনো কোনো খবর নেই। এমন সময় অটির দরজা খুলে বের হলেন আয়া মহিলা। তার হাতে সাদা তোয়ালের মাঝে একটি বাচ্চা। তেহরাবের বুকের ভেতর ধুকপুক আওয়াজ হচ্ছে। পেছর পেছন বের হলেন আরেকটি নার্স। তার হাতেও একটি বাচ্চা। আয়া মহিলা হাসি হাসি মুখ করে তেহরাবের কাছে এগিয়ে আসলো,
“কীগো বাচ্চার বাপ এক লগে দুই ছাওয়ালের বাপ হইয়া গেলা। বকশিস দেও বাজান এবার।”
তেহরাবের হাত কাঁপছে। সে থ মেরে তাকিয়ে আছে বাচ্চাটির দিকে। তেহরাবকে এভাবে মুর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাসলিমা নিজেই বাচ্চাটিকে কোলে তুলে নেয়। নার্সের কাছ থেকে অপর বাচ্চাটিকে তানিয়া নিজের কোলে নেয়। মাশা-আল্লাহ!
তেহরাব পকেট থেকে এক হাজার টাকার দুটি নোট বের করে আয়া মহিলার হাতে দেয়। মহিলা বাচ্চাদুটো ও তাদেরকে দোয়া দিতে দিতে চলে যায়। তেহরাব শুধু চিন্তাগ্রস্ত চেহারায় নার্সের দিকে তাকাল।
“তনয়া?”
নার্স মেয়েটি হাসলো।
“ঠিক আছে।আপাতত অবজারভেশনে রাখা হবে জ্ঞান ফিরতে ফিরতে কালকে সকালে।”
নার্সটি চলে যায়। তেহরাব মাথা ঘুরিয়ে এক পলক বাচ্চা দুটোর দিকে তাকায়। আনমনে হাসে, বলে উঠে,
“আমি পরিপূর্ণ ভাবে সুখী।”
তেহরাব বাচ্চা দুটোকে কোলে নিল না। সে নিতে পারে না। হুট করে যদি হাত থেকে পরে যায়… নাহ এর থেকে ভালো কার মা শাশুড়ীর কাছেই থাকুক। ওদিকে ইউসুফ বাচ্চা দুটোর কাছে গিয়ে আযান দিচ্ছে। চোখ জোড়া বন্ধ করে নিল তেহরাব। সে সুখী!
পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী ব্যক্তি সে।
“আল্লাহ ধন্যবাদ তোমাকে।”
ফজরের আযান কানে ভাসতেই টিপটিপ করে চোখ মেলে তাকায় তনয়া। তাকানোর শক্তি পাচ্ছে না সে। তবুও তাকাল, ঝাপসা দৃষ্টিতে আশে পাশে চোখ বুলালো।
কানে এসে লাগল বাচ্চা দুটোর কান্নার আওয়াজ। সামনের বেডেই তার মা ও শাশুড়ি মিলে বাচ্চা দুটোকে ফিডান খাওয়ানোর চেষ্টা করছে। তবে বাচ্চা দুটো খাচ্ছে না উল্টো কাঁদছে।
তনয়ার নজর গেল দরজার দিকে। রেগেমেগে কেবিনে এসেছে তেহরাব,
“কি সমস্যা? কাঁদছে কেন ওরা? খাওয়াও না কেন? নার্সকে ডাকো ডাক্তারকে ডাকো।”
তেহরাবের রাগ দেখে তাসলিমা বিরক্তি নিয়ে বলে,
“এই তুই যা তো। পুলাপান কাঁদবেই এতে অস্থির হওয়ার কিছু নেই।”
তেহরাব আর কিছু বলতেই যাবে তার আগেই তনয়া মিনমিনে স্বরে বলে,
“মা আমাকে একটু দেখাও।”
তেহরাব তনয়ার কাছে দৌড়ে আসে। তনয়ার জ্ঞান ফিরেছে। তৎক্ষনাৎ তনয়ার কপালে চুমু খেয়ে বলে,
“খারাপ লাগছে জান? ডাক্তার ডাকব?”
তনয়া লজ্জায় পরে গেল। কেবিনে যে তার মা ও শাশুড়িও আছে।ইশশ!
তনয়ার মাথা ঘুরাচ্ছে। তবুও মৃদু কন্ঠে বলল,
“একটু বসিয়ে দিবেন? বাচ্চা দুটোকে একটু কোলে নিব।”
তেহরাব তনয়ার বেডটা উঁচু করে দিল। এখন তনয়া আধশোয়া অবস্থায়।
“আম্মু ওদের দাও তনয়ার কাছে।”
তানিয়া এগিয়ে আসে। তনয়ার কোলে দিতেই বাচ্চাটা কান্না থামিয়ে দেয়। তনয়া হাসে।
তাসলিমার দিকে তাকিয়ে বলে,
“ওকেও দিন।”
তাসলিমা কিছু না বলে তাকেও দিয়ে দিল। দুজনেই এখন চুপ। তনয়া দুজনকে দেখেই হাসছে। প্রাপ্তির হাসি!
ছেলেটা একদম তেহরাবের মতো হয়েছে। আর মেয়েটা? সেও বাবার মতো। তনয়ার অভিমান হল। তেহরাব বাচ্চা দুটোর ছোট ছোট হাত দুটো ধরে হাসছে। তনয়া দেখল তানিয়া ও তাসলিমা কেবিন থেকে চলে যাচ্ছে। তারা যেতেই তনয়া ছোট্ট ছোট্ট করে বলল,
“এত কষ্ট করে পেটে ধরলাম আমি আর চেহারা হয়েছে আপনার মতো। এবার কি আন্দোলনের নামা উচিত নয়?”
তেহরাব হাসে। তনয়ার কপালে অধর ছোঁয়ায়।
“দেখ তনয়া আমরা পরিপূর্ণ, আমার সুখী। এই দেখ আমাদের ছোট্ট ছোট্ট দুটো পুতুল, এরা তোকে আম্মু আম্মু করে ডাকবে। আর আমাকে? আমাকে কি বলবে? বাবা? আব্বু? নাকি পাপা?”
তেহরাবকে ভাবুক দেখাল। তনয়া পলকহীন চোখে তাকিয়ে আছে সেই ভাবুক মুখশ্রীর দিকে।
“আচ্ছা ওদের নাম কি রাখব? নামের কথা তো ভুলেই গিয়েছিলাম।”
তনয়া তাকিয়ে থাকে তেহরাবের দিকে। দেখছে তেহরাবের পাগলামি। লোকটাকে এত খুশি সে কখনো দেখেনি। যতই বলুক বাচ্চা কাচ্চা ছাড়াও তার চলবে তবে কোথাও না কোথাও অপ্রাপ্তি অনুভব করত হয়তো। তবে আজ আর সেই অপ্রাপ্তি নেই। আজ সব আছে। তনয়া নিজেও মানে তারা সুখী।
“আমার মেয়ের নাম আমি তিতলি রাখলাম। সুন্দর না? দেখ তনয়া আমার মেয়ে কেমন হাসছে। আচ্ছা ও কি আমার কথা বুঝতে পারছে?”
তনয়া নিজেও বাচ্চাটির দিকে তাকায়। সত্যি হাসছে। তনয়া দুজনের কপালেই চুমু খেল,
“হয়তো শুনছে। আমাদের ছেলের নাম কি হবে? আরিশ?”
তেহরাব তনয়ার দিকে তাকাল।
“যা খুশি। তনয়া!”
তনয়া হুমি নেয়।
“হু?”
“ভালোবাসি।”
“আমিও ভালোবাসি। আপনাকে সাথে আমাদের আরিশ তিতলিকে।”
তেহরাব হুট করেই তনয়ার ঠোঁটে চুমু খায়।
“ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি। আমিও ভালোবাসি।”
তনয়া হাসে। তার চোখের কোণে অশ্রু, এই অশ্রু সুখের। হঠাৎ কান্না শুরু করে দিল আরিশ। তনয়া চমকায়। তিতলি ঘুমাচ্ছে। তনয়া বুঝতে পারছে না কি করবে। বাচ্চার কান্নার শব্দ শুনে তাসলিমা তানিয়া দুজনেই কেবিনে আসে।
“তেহরাব বাইরে যা তো।”
তেহরাব মায়ের দিকে তাকিয়ে কপাল কুঁচকে নেয়।
“কেন? আমি যাব কেন?”
তাসলিমা তেহরাবের বাহু ধরে উঠাতে উঠাতে বলে,
“তনয়া বাচ্চাদের খাওয়াবে। তুই যা।”
তেহরাব আশ্চর্য হয়ে বলে,
“আজব। খাওয়াক আমি কি না করেছি নাকি?”
তাসলিমা চোখ গরম করে তাকাল। তেহরাবকে আর কিছু বলতে না দিয়ে তাসলিমা বের করে দিল। তনয়া মিটমিট করে হাসছে। একটু বাদে নার্স এসে কেবিন লক করে দিল।
তেহরাব কোমরে হাত দিয়ে বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে বলে,
“সব বৈষম্য আমার সাথেই। বউ আমার, বাচ্চা আমার, আর আমাকেই ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিচ্ছে।”
তেহরাব বিরক্ত নিয়ে চলে যেতে নিলে ইউসুফের সাথে ধাক্কা লাগে।
হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৫২
“আস্তে হাঁট। এভাবে তুফান তুলছিস কেন?”
তেহরাব ইউসুফের দিকে তাকিয়ে মুখ ভেঙিয়ে বলে,
“তোমার বউকে বলবে সে যেনো জি বাংলার শাশুড়িদের মতো আমার উপর অত্যাচার না করে। বেশি করলে বউ নিয়ে পালাব।”
বলেই তেহরাব চলে গেল। ইউসুফ কিংকর্তব্যবিমূঢ়ের ন্যায় দাঁড়িয়ে রইল। তাকিয়ে রইল তেহরাবের যাওয়ার দিকে। তেহরাবের কথার আগা মাথা কিছুই মাথায় ঢুকেনি তার। কি বলে গেল তেহরাব?
