Home হাওয়াই মিঠাই হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৮

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৮

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৮
তামান্না ইসলাম শিমলা

রাত গভীর হচ্ছে, বাড়ি এসে নিজের ঘরে চুপ করে শুয়ে পরেছিল তনয়া।এখনো সেভাবেই, এ নিয়ে তানিয়ার মনে প্রশ্ন জাগে, তানহাকে জিজ্ঞেস ও করেছিল তবে তেমন কোনো কারন পেল না। রাতের কদখাবার খাওয়ার জন্য তানহা কয়েকবার ডেকে গিয়েছে তবে তনয়া যায়নি, কারন জিজ্ঞেস করলে বলে পেট ব্যথা!
শিহাব ও তানহাকে খেতে দিয়ে তানিয়া নিজেই এবার আসল তনয়ার ঘরে, দরজা খোলা। বিছানায় গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে মেয়েটা, তানিয়া এগিয়ে গেল তার দিকে,বসে তনয়ার মাথার কাছে!
“কি হয়েছে? খেতে যাসনি কেন?”
তনয়া চমকায়,চোখজোড়া লেগে আসছিল হঠাৎ মায়ের কন্ঠস্বর পেয়ে কিছুটা ভরকে গেল। মুখ ঘুরিয়ে পেছনে তাকিয়ে তানিয়াকে বলল,
“ভালো লাগছে না, পেটটা ব্যথা করছে।”
তানিয়া তেমন একটা গুরুত্ব দিল না, খাওয়া দাওয়া নিয়ে মেয়েটার একদম অনিয়ম৷ পেট ব্যথা তো হবেই,
“আমি খাবার আনছি, খেয়ে নে। না খেয়ে থাকলে পেট তো ব্যথা করবেই!”
রুক্ষ স্বরে কথাটি বলে তানিয়া উঠে দাঁড়ায়, যেতে নিলে তনয়া বলে,

“উহু, আমি খাব না, জোর কর না প্লিজ!”
তানিয়া মৃদু বিরক্ত নিয়ে কিছু না বলেই বেড়িয়ে গেল, তনয়া আগের মতোই শুয়ে রইল। বালিশের পাশ থেকে ফোনটা হাতে নিল, ফোনটা বন্ধ করে রেখেছিল। ফোন অন করতেই বারো প্লাস মিসড কলের নোটিফিকেশন ভেসে আসল স্ক্রিনে, নাম্বারটা চিনতে অসুবিধা হল না তনয়ার,এটা তেহরাবের নাম্বার!
বিরক্ত লাগছে সবকিছু, ফোনটা আবারও রেখে দিল। ততক্ষণে তানহাও চলে এসেছে, সবাই যার যার মতো ঘুমানোর জন্য চলে গেছে। তানহা কিছু বলল না, চুপচাপ নিজের জায়গায় শুয়ে পরল।
সময় পার হচ্ছে, সকলেই ততক্ষণে ঘুমে মগ্ন, তবে ঘুম নেই তনয়ার। অজানা কারনে তার আজ ঘুম হারাম, কারনটাও খুঁজে পাচ্ছে না।
ফোনের ভাইব্রেশন হচ্ছে অনেকক্ষণ যাবত, তবে তনয়ার ইচ্ছে করছে না তুলে দেখতে। সে জানে এত রাতে কে ফোন দিতে পারে, তবে এই মুহূর্তে তার বিরক্ত চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। উপায় না পেয়ে কল রিসিভ করে, তবে কোনো কথা বলে না।
“বাইরে আয়, অপেক্ষা করছি!”
তনয়া স্বাভাবিক, সাথে নিশ্চুপ। তেহরাব নিজেকে শান্ত করল, এই মুহূর্তে নিজের মাথা গরম করলে চলবে না। বড় করে শ্বাস নিয়ে নরম কন্ঠে বলে,

“প্লিজ কথা বল জান, কষ্ট হয় তো। তুই একটিবার আয় আমি সবটা বলছি তোকে!”
“আমি জানতে চেয়েছি কিছু? এভাবে রাত বিরাতে বিরক্ত করাটা বন্ধ করুন দয়া করে, আমি বিরক্ত। আর আমি কিছুই শুনতে চাই না, ফোন রাখুন।”
তনয়ার কঠিন গলা শুনে তেহরাবের মেজাজটাও খারাপ হচ্ছে,নিজেও কিছুটা গম্ভীরতা এনে বলে,
“তুই শুনতে চাস বা না চাস, আমি বলবই। জলদি আয়, এত অপেক্ষা করতে পারব না।”
তনয়া বিরক্তি নিয়ে বলে,
“আমি বলিনি অপেক্ষা করদে, আসতে পারেন আপনি!”
এবার যেন তেহরাবের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছে, ধমকের সুরে বলে,
“তুই আসবি নাকি আমি আসব?”
তনয়ার রাগ হলো, রাগ দেখানোর কথা তার অথচ রাগ দেখাচ্ছে সে। তনয়া কল কাটতে গেলে আবারও ভেসে আসে তেহরাবের ক্ষিপ্ত কন্ঠস্বর,

” মেজাজ এমনি গরম হয়ে আছে তনয়া, তুই যদি এক মিনিটের মধ্যে না আসিস আমিও জানি না আমি কি করব!”
তনয়া ভয় পেল, শুকনো ঢোক গিলে নিজের রাগটা মাটিচাপা দিয়ে বলে,
“আসছি আমি!”
তনয়া বাইরে আসে, মেইন গেট খুলে দেখে তেহরাব গেটের সাথে হেলান দিয়ে সিগারেট খাচ্ছে। তনয়ার রাগটা আরো বাড়ল, মনে মনে গালি দিতে ভুলল না। তনয়ার উপস্থিতি টের পেয়ে তেহরাব খুড়িয়ে খুড়িয়ে তনয়ার সামনে এসে দাঁড়াল, বিষয়টা লক্ষ করল তনয়া। ভ্রু কুঁচকে কিছু জিজ্ঞেস করবে তার আগেই তেহরাব নরম কন্ঠে বলে উঠে,
“জান আমাকে একটু জড়িয়ে ধরবি? প্লিজ একবার? আমার না খুব যন্ত্রণা হচ্ছে, যত ইচ্ছা গালি দে, রাগ হলে আমাকে মার কিন্তু একবার জড়িয়ে ধর জান!”

“মাথা খারাপ আপনার? আমি কেন আপনাকে জড়িয়ে ধরব?”
“কারন আমি বলেছি!”
“আপনি বললেই আমি শুনব কেন?”
“কারন আমি তোর ভবিষ্যত স্বামী!”
তনয়ার মেজাজ বিগড়ে যায়, এমনিতেই বিকেলের ঘটনায় তার মেজাজ খারাপ ছিল তার উপর এখন এসব কথা তার একদম ভালো লাগছে না।
“বাজে কথা বন্ধ করুন, আমি যাচ্ছি!”
“ কোথায় যাবি? তোর শেষ ঠিকানা তো আমার কাছেই জান। তুইযে আমার, সবটুকুই আমার! জান আমার বুকটা খুব ব্যথা করছে, বারবার মনে হচ্ছে আমি তোকে হারিয়ে ফেলছি। কিন্তু তোকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারব না, বিশ্বাস কর তোকে না পলে একদম শেষ হয়ে যাব!”

তনয়ার ভেতরে অজানা অনুভূতি জাগ্রত হল, লোকটা হঠাৎ এভাবে কেন কথা বলছে? কিছু হয়েছে? তনয়া তেহরাবের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়, পা থেকে মাথা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে কথা ঘুরিয়ে বলে,
“পায়ে কি হয়েছে? ”
তেহরাব বিরক্তিতে চ শব্দ উচ্চারণ করল, ডান হাত দিয়ে মাথা চুলকে বলে,
“তেমন কিছু না, মারামারি করতে গিয়ে একটু লেগেছে!”
ব্যস আর কি, খানিকের জন্যমিলিয়ে যাওয়া রাগটা আবারও জাগ্রত হল। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“ঠিকই আছে, যে যেমন তার সাথে তেমনই হওয়া উচিত!”
“কি বলতে চাইছিস তুই? ওই ছেলে গুলো আর আমি এক?”
তনয়ার কন্ঠস্বর নরম হয়,

“তো কি? এসব করে কি পান বলুন তো? কেন এসব মারামারি করেন? এসবে তো আপনারই শত্রু বাড়বে তাইনা? এইযে পায়ে ব্যথা পেয়েছেন, যদি এসব ঝামেলাই না জড়াতেন তাহলে এসব হতো?
কেনো যেচে নিজের ক্ষতি করার রাস্তা তৈরি করছেন?”
তেহরাব মৃদু হাসে, তার মানে এই মেয়ে তাকে নিয়ে চিন্তিত?
“কেন? আমার ক্ষতি হলে তোর কি? তোর কেন রাগ হচ্ছে?
তনয়া ভরকে যায়, লোকটা তার কথায় তাকেই ফাঁসিয়ে দিচ্ছে। এবার কিছুটা রাগ দেখিয়েই বলে,
“তেমন কিছুই না, আপনি বেশি বুঝছেন। আমার কেন রাগ হবে? যা ইচ্ছা করুন। যাচ্ছি আমি!”
বলেই তনয়া চলে যেতে নেয়, কিন্তু তার আগেই তেহরাবের হাতের বাঁধনে নিজের হাত অনুভব করে। অগ্যতা এগোতে পারে না তনয়া, রাগী দৃষ্টিতে তাকায় তেহরাবের দিকে। তেহরাব তনয়ার এমন প্রতিক্রিয়া দেখে মুচকি হাসে, তনয়াকে সামনে দাঁড় করিয়ে তার গালে হাত রাখে। তনয়া কেঁপে উঠে, এই প্রথম কোনো ছেলে তার এতটা কাছে, তনয়া স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে তেহরাবের নিশ্বাস, অনুভব করতে পারছে উষ্ণ শ্বাস। মৃদু কম্পনে হাত পা জমে আসছে, সে তো পেছাতোও পারছে না,সেটুকু শক্তিও আপাতত পাচ্ছে না।
তনয়ার কাঁপাকাপি টের পেল তেহরাব,আরেকটু কাছে এগিয়ে গেল। এবার দুহাত দিয়ে গাল চেপে ধরল, তনয়াতো মাথা নিচু করেই রেখেছিল তবে তেহরাব তার মুখটা উচু করে। চোখে চোখ পরে দুজনার, রাস্তার বাতির মৃদু আলো যেন আজ তাদের জন্যই জ্বলছে।

“ছ.. ছাড়ুন!”
কাঁপা গলায় কথাটি বলল তনয়া, তবে ছাড়ল না তেহরাব। কি করে ছাড়বে, সেও যে নিজের এলোকেশীকে এই প্রথম এতটা কাছ থেকে অনুভব করছে। তনয়ার শরীরের কম্পন, ক্রমাগত বাড়তে থাকা হৃদস্পন্দন স্পষ্ট জানান দিচ্ছে এই মেয়ে তাকে ভালোবাসে। তাই তো এমন অনুভূতি হচ্ছে তার, তাহলে কেন এই মেয়ে বারবার এড়িয়ে যায়? কেন বুঝেও বুঝে না?
“ভালোবাসিস আমাকে?”
তেহরাবের ফিসফিসান কন্ঠস্বর তনয়াকে দ্বিতীয় দফায় কাঁপিয়ে দিল,তনয়া পারছে না নড়তে। নাহলে কখনই দৌড়ে পালিয়ে যেত, চোখ মুখ খিঁচে মাথা নিচু করে নিল, নিজের ওড়না খামচে ধরল। এ কোন পরিস্থিতিতে পরেছে সে, কি করবে কিছুই যে মাথায় আসছে না।
“বল না জান, ভালোবাসিস আমাকে?”

তনয়া মাথা নিচু করেই দুদিকে মাথা নাড়ায়, যার অর্থ দাঁড়াচ্ছে সে তাকে ভালোবাসে না। তেহরাব এক হাত দিয়ে তনয়ার ঘোমটা ফেলে দিল, হাত রাখল চুলের ভাঁজে। তনয়ার গলক শুকিয়ে আসছে।
তেহরাব তনয়ার চুলে ধরে তার মুখটা নিজের কাছে নিয়ে আসে, তনয়া দ্রুত চোখ খুলে তেহরাবের দিকে ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকায়। তনয়ার তিরতির করে কাঁপতে থাকা ঠোঁট জোড়া তেহরাবকে টানছে, খুব বাজে ভাবে টানছে। সে চাইছে না কোনো ভুল করতে, কিন্তু এই মুহূর্তে সে নিজেই নিজের মাঝে নেই।
একহাত দিয়ে তনয়ার কোমর চেপে ধরে, নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়। কিছুটা ঝুঁকে তার এলোকেশীর থরথর করে কম্পনকৃত অধরজোড়া আঁকড়ে ধরে তেহরাব, তনয়া চোখ বন্ধ করে নেয়। এই মুহূর্তে তার প্রাণ পাখিটা উড়ে গিয়েছে, হৃদস্পন্দন থেমে গিয়েছে। শক্ত করে চেপে ধরল তেহরাবের শার্ট, তেহরাব যেন এতে আরো উন্মাদ হয়ে যাচ্ছে। আরো শক্ত করে চেপে ধরল তনয়াকে, তনয়ার গাল বেয়ে গড়িয়ে পরছে অশ্রু।

হঠাৎ করে শব্দ করেই কেঁদে উঠল তনয়া, তেহরাবও বেরিয়ে আসল নিজের ঘোর থেকে। এ কি করে ফেলল সে? চট করে তনয়াকে ছেড়ে দুপা পিছিয়ে আসল, তনয়া মুখে হাত দিয়ে কান্না করতে লাগল। তেহরাবের তো এবার নিজের উপর রাগ হচ্ছে, সে কেন নিজেকে সামলাতে পারল না? রাগ আর উত্তেজনায় বাইকে ঘুষি বসিয়ে দিল সে, তনয়া শব্দ পেয়ে ভরকে যায়। কান্না মিশ্রিত নয়নে তাকায় তেহরাবের দিকে, তেহরাব চোখ বন্ধ করে নিজের মাথার চুল নিজেই খামচে ধরল।
“সরি জান, আমি সত্যি এসব করতে চায়নি। প্লিজ ভুল বুঝিস না আমাকে!”
তনয়া কিছু বলে না, সে এখনো ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে। যা তেহরাবের সহ্য হচ্ছে না, তার এলোকেশী তার সামনে কাঁদবে সে কি করে সহ্য করবে?
তেহরাব তনয়ার হাত ধরে অসহায় কন্ঠে বলে,

“প্লিজ জান, কান্না করিস না, আমি সরি তো। আমি আর কখনোই এমন করব না। প্লিজ জান কান্না করিস না!”
হঠাৎ তনয়া তেহরাবকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল, আরো শব্দ করে কেঁদে উঠল৷ তেহরাব আশ্চর্য হল, তনয়া নিজে থেকে তাকে জড়িয়ে দরল? এটাও সম্ভব? সব কিছু বুঝে উঠতে কিছুটা সময় লাগল তেহরাবের, অতঃপর নিজেে এক হাত তনয়ার পিঠে রাখল। এতে যেন তনয়ার কান্নার গতি বৃদ্ধি পেল, তেহরাবের বুকের ভেতর অদ্ভুত যন্ত্রণা হচ্ছে, সাথে ভালো লাগাও কাজ করছে।
“জান কাঁদছিস কেন? কি হয়েছে?”
তনয়া জবাব দেয় না, নিজের মতো কাঁদছে সে। তেহরাবও আর বাঁধা দেয় না, এভাবেই কিছুটা সময় অতিবাহিত হয়, আস্তে আস্তে কান্নার গতিও কমে আসে। তনয়া ছেড়ে দেয় তেহরাবকে, নিজের চোখের পানি কোনো রকম মুছে আমতা আমতা করে বলে,
“ আমার একটা কথা রাখবেন তেহরাব ভাই?”
তেহরাব জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকায় তনয়ার দিকে, তনয়াও এবার তাকায়৷ দুজনের চোখাচোখি হয়,
“কি কথা?”
তনয়া বড় করে শ্বাস নিয়ে চোখ সড়িয়ে নেই,
“আপনি আর কোনোদিন আমার সামনে আসবেন না, কোনোদিনও না। আমাকে বাঁচতে দিন তেহরাব ভাই, আমি আর সহ্য করতে পারছি না।”

তেহরাব অনুভব করে তার বুকের ভেতরে চিনচিন ব্যথা করছে, কি চায় এই মেয়ে?
“কথা দিন আমাকে, আপনি আর আমার সামনে আসবেন না।”
তেহরাব হাসে, এ হাসি তাচ্ছিল্যের।
“ কি সহ্য হয় না? আমাকে? নাকি আমার প্রতি অনুভূত হওয়া তোন অনুভূতি?”
তনয়া চমকায়, তেহরাব আবারো হাসে,
“তুই জানিস আমি তোকে কতটা বুঝি? তোর প্রতিটা দৃষ্টির মানে আমি বুঝি, তুই আমাকে ভালোবাসিস সেটা আমিও জানি৷ তাহলে কেন পালাতে চাইছিস আমার থেকে?”
তনয়া চোখ সড়িয়ে নেই, বহু কষ্টে নিজের কান্না আঁটকে রেখেছে সে।
“কেন এমন করিস? আমাকে কষ্ট দিতে খুব ভালো লাগে তোর? তুই এখনো ছোট্ট নেই, যথেষ্ট বুঝদার একটা মেয়ে!”
তনয়া নিজেও এবার হাসে,

“বুঝদার বলেই বলছি আমার পিছু ছেড়ে দিন, আমি কখনোই আপনার হব না। আপনি ভালো কিছু ডিজার্ভ করেন, আমার মতো সামান্য মেয়ের পিছু নিয়ে নিজের জীবন নষ্ট করবেন না দয়া করে!”
“তুই আমাকে ব্যতিত সব বুঝিস, আমি কি ডিজার্ভ করি না করি তার থেকে বড় বিষয় আমি তোকে চাই। সুচনা আর সমাপ্তি, আমি শুধু তোকেই চাই।”
“আমাকে আপনি পাবেন না, এটা সম্ভব নয়।”
তেহরাব ভ্রু কুঁচকায়,
“কেন সম্ভব নয়? তুই আমার বা তোর মা বাবাকে নিয়ে ভাবছিস নিশ্চয়? সবটা আমি ম্যানেজ করে নেব জান, তোকে এসব নিয়ে কিচ্ছু ভাবতে হবে না।”
তনয়া নিশ্চুপ, তেহরাব আবার বলে,
“প্লিজ আমাকে আর পুড়াস না, আমি মরে যাব।”
“তেহরাব ভাই!”

তনয়া কিছুটা শব্দ করেই বলে উঠে, তেহরাব অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে৷ এই দৃষ্টি সে নিতে পারছে না, নিজের মাথার ঘোমটা ঠিক করে চলে যায় তনয়া, যাওয়ার আগে তেহরাবকে উদ্দেশ্য করে বলে যায়।
“আমি কোনোদিনও চাই না আপনার সাথে আমার জীবন যুক্ত হোক, আর না কখনো চাইব!”
তনয়া প্রস্থান করে, শেষোক্ত কথাটি তেহরাবকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মারছে৷ যন্ত্রনা হচ্ছে, তনয়া কেন এমন করছে? মেয়েটার চোখে সে স্পষ্ট নিজের জন্য ভালোবাসা দেখেছে, তারপরেও কেন সে তাকে চায় না?

“আমি কি অনেক বেশি খারাপ জান? আমাকে কি ভুল করেও চাওয়া যায় না? কেন কষ্ট দিচ্ছিস আমাকে?”
এই প্রশ্নের উত্তরতো সয়ং তনয়াই দিতে পারবে না, এই মুহুর্তে নিজের প্রশ্নের জবাব ছাড়াই তাকে প্রস্থান করতে হবে।
খুড়িয়ে খুড়িয়ে বাইকের কাছে আসলো, উঠে বসল বাইকে। পা টা আবারও ব্যথা করছে, করবেই বা না কেন? হাঁটুতে তিনটে সেলাই পরেছে, তবুও তার এলোকেশীর সামনে নিজেকে যথাসম্ভব স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করে গিয়েছে।
বাইক স্টার্ট দেওয়ার আগে কাউকে একটা কল করল তেহরাব, ওপাশ থেকে তৎক্ষনাৎ রিসিভ করল।

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৭

“অস্ত্র আর গাঁজার প্যাকেট গুলো সাবধানে রাখিস, আর ওদেরকে পাহারা দে। রাতটা কোনোরকমে পার হোক, সকালেই আসছি আমি।”
কল কেটে দেয় তেহরাব, বড় করে শ্বাস নিয়ে শেষবারের মতো তাকায় মাস্টার বাড়ির গেটের দিকে। বুকটা চিনচিন করছে, আজকের রাতটাও তার নিদ্রাবিহীন যাবে। সে কি শান্তিতে একটু ঘুমাতে পারবে না? তার এলোকেশীর বুকে মাথা রাখতে পারবে না?

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৯